Category: রাজণীতি

  • সম্প্রসারিত হচ্ছে মন্ত্রিসভা

    সম্প্রসারিত হচ্ছে মন্ত্রিসভা

    টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে সরকার পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ সরকার। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলছে। এই বাজেট বাস্তবায়নে ও দেশের উন্নয়নে মন্ত্রীসভায় কিছু দক্ষ লোককে স্থান দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

    তিনি বলেন, সম্প্রসারিত হচ্ছে মন্ত্রিসভা। আগামী শনিবার (১৩ জুলাই) শপথ গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে ।মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।’ তবে কতজন শপথ নেবেন বা কাকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে কিছু জানাননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

    মন্ত্রিসভায় যে ১২ জন শপথ নিতে যাচ্ছেন

    টানা তৃতীয় দফা সরকার গঠন করেছেন আওয়ামী লীগ। সরকার গঠনের ৬ মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন ১২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে সাবেক মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের তিন প্রবীণ সদস্য রয়েছেন। বাকিরা নতুন মুখ। এ মাসের মধ্যেই নতুন মন্ত্রীরা শপথ নেবেন বলে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

    সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল আনছেন। চীন থেকে দেশে ফেরার পর তিনি নতুন মন্ত্রীদের তালিকা করার কাজে হাত দিয়েছেন। সরকার গঠনের প্রথম বছরই ৫ লাখ কোটি টাকার উপরে বাজেট পাস করা হয়েছে। এ বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ ও কর্মদক্ষ ১০ থেকে ১২ জনকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করছেন শেখ হাসিনা। বাজেট অধিবেশন সমাপ্তির পরপরই যে কোনো মুহূর্তে নতুন মন্ত্রীদের শপথ হতে পারে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বর্তমান মন্ত্রীদের দাপ্তরিক কার্যক্রম (পারফরম্যান্স) মূল্যায়ন করছেন। নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের পর অনেক মন্ত্রীর দপ্তর বদল হতে পারে।
    সম্প্রতি মন্ত্রিসভার পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়ে আভাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীন থেকে ফেরার পর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার রদবদল করা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।

    মন্ত্রিসভায় যারা আছেন, তাদের কারও বাদ পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম এমন আভাস দিচ্ছে সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রীদের তালিকা করছেন। এ তালিকায় প্রাধান্য পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের দুর্দিনে দুঃসময়ে অবদান রাখা প্রবীণ নেতা, কোনো এলাকা থেকে বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এছাড়াও মহিলা সংসদ সদস্যরাও মন্ত্রী করার প্রাধান্যের তালিকায় রয়েছেন।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবীণ ও সিনিয়র সংসদ সদস্য তাদের বায়োডাটা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে জমা দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত নিয়েই তারা বায়োডাটা জমা দিয়েছেন।

    মন্ত্রিসভায় আরও কয়েকজন মহিলা সংসদ সদস্য স্থান পাচ্ছেন। চীন সফরের আগে মহিলা এমপিদের একটি তালিকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সবার আমলনামা বিশ্লেষণ করে দেখছেন তিনি। দলে অবদান ও সর্বোচ্চ ত্যাগীরাই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন। এবারের মন্ত্রিসভায়ও চমক থাকবে। অনেকের ভাবনায় নেই এমন সংসদ সদস্যরাও শপথের ডাক পাবেন।

    সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার শ্রীবৃদ্ধি করতে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খোন্দকার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রায়ত এক মন্ত্রীর স্ত্রীরও ভাগ্য খুলছে এ দফায়।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি তারা নিয়ে রাখছেন। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথের ফোল্ডার তৈরি করছেন। এ ফোল্ডারের সংখ্যা ১৬-এর কাছাকাছি। এ সপ্তাহের মধ্যে তারা ফোল্ডারগুলো হাতে পাচ্ছেন। আগের ফোল্ডারগুলো পুরোনো হয়ে যাওয়ায় শপথের সময় মন্ত্রীদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে কারণে নতুন ফোল্ডার তৈরির কাজ চলছে।

    এদিকে দ্বিতীয় দফায় নতুন মন্ত্রীর তালিকায় কিছু মন্ত্রীর নামের গুঞ্জন সচিবালয়ে রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, চট্টগ্রামের ফজলে করিম এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি. আবদুস সবুরের নাম রয়েছে।

    এছাড়া দ্বিতীয় দফায় মন্ত্রীদের শপথ নেওয়ার পরে কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর বদলের গুঞ্জনও রয়েছে। নাম প্রকাশ না করে মন্ত্রীদের ঘনিষ্টজনরা বলছেন, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং পানিসম্পদ উপ-মন্ত্রী এনামুল হক শামীমকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। আর বর্তমান পানি প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুককে বিমান মন্ত্রণালয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এছাড়া ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পূর্ণ নতুন মন্ত্রী দেওয়া হতে পারে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে দিয়ে তার স্থানে আসতে পারেন বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয় মেয়াদে শপথ নেন শেখ হাসিনা। তাকেসহ নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন উপমন্ত্রী ও সাতজন উপদেষ্টা রয়েছেন।

    মে মাসে তিনজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বভার কমেছে। মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এতে টেকনোক্র্যাট কোটায় ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মোস্তফা জব্বারকে কেবল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জুনাইদ আহমেদ পলককে একই দায়িত্বে রাখা হয়েছে।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা তাজুল ইসলাম এখন কেবল স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যও এখন কেবল পল্লী ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

  • আমাদের যা আছে পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই

    আমাদের যা আছে পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সারা বিশ্বে পর্যটন একটি বর্ধনশীল খাত। এ ব্যাপারে আমাদের পিছিয়ে থাকা চলবে না। এ খাতকে সমৃদ্ধ করতে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশকে আকৃষ্ট করে তুলতে হবে। আমাদের যেসব ঐতিহ্য এবং কালচার আছে সেগুলোকে আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। আমাদের যা আছে তা পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই।’

    বৃহস্পতিবার সকালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল ঢাকায় ‘ঢাকা ইজ দ্য ওআইসি সিটি ট্যুরিজম ২০১৯’ দু’দিনব্যাপী ওআইসির অফিসিয়াল সেলিব্রেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

    তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে ৮০ মাইল লম্বা সমুদ্র সৈকত যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নেই। সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, সুন্দরবন ছাড়াও আমাদের রয়েছে অনেক প্রাচীন ও প্রত্নতত্ত্ব এবং ইসলামিক স্থাপনা। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে প্রাচীন শহর ঢাকা অবস্থিত।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওআইসি রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা একসঙ্গে থেকে নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করব। সবার সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কাজ করব। কারো সঙ্গে কোনো সমস্যা হলে নিজেরাই সমাধান করব।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওবায়দুল মুক্তাদির বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য দেন ওআইসির সহকারী মহাসচিব মুসা ইলিকায়া। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ঢাকায় আছে আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হোসনি দালান, আমাদের মসলিন, জামদানি, ঢাকার বাকরখানি, পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, ইকোপার্ক, সাফারি পার্ক, ইত্যাদি। পর্যটকরা বাংলাদেশে এসে এগুলো উপভোগ করতে পারেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল কাবা শরিফের আদলে। পরবর্তীতে আমরা প্রয়োজনে এটাকে আরো বর্ধিত করি। সে সময় সৌদি বাদশা বায়তুল মোকাররমের উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা করেছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘ইসলামিক পর্যটনকে বাণিজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বেসরকারি খাতকে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া ভিসা সহজীকরণ করা, ব্র্যান্ডিং করতে হবে। হালাল খাদ্য ইসলামিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। পর্যটন খাতের উন্নয়নের জন্য আমরা ২০১০ সালে নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। সারাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তুলছি।

    কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ফুটবল স্টেডিয়াম করা হয়েছে। প্রয়োজনে পর্যটকদের জন্য সেখানে আরও ভালো স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। যে স্থাপনায় থাকবে আন্তর্জাতিকমানের হল রুম। কক্সবাজারের মতো এত সুন্দর সি বিচ পুথিবীর কোথাও নেই। তিনি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ করার জন্য আহ্বান জানান।

  • অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিচারপতি সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিচারপতি সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    অনলাইন ডেস্ক :

    ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) ঋণ জালিয়াতি ও চার কোটি টাকা আত্মসাতে জড়িত থাকা ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এসকে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বুধবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকায় মামলাটি দায়ের হয়। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন এ মামলার বাদী।

    দুদক সচিব দিলোয়ার বখত মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এস কে সিনহা ছাড়া মামলার বাকি আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

    ফারমার্স ব্যাংকের দুটি একাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ‘প্রমাণ’ পাওয়ার কথা গতবছর অক্টোবরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে চার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিলেন কথিত ব্যবসায়ী শাহজাহান ও নিরঞ্জন। সেই টাকা রনজিৎ চন্দ্র সাহার হাত ঘুরে বিচারপতি এস কে সিনহার বাড়ি বিক্রির টাকা হিসেবে দেখিয়ে তার ব্যাংক হিসাবে ঢুকেছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে দুদক।

    ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহা। পরে বিদেশ থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

  • ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে এরশাদকে: জিএম কাদের

    ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে এরশাদকে: জিএম কাদের

    জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। তাই আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডাকা হলে তিনি চোখ মেলতে চেষ্টা করেছেন।’ বুধবার বেলা ১টায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

    জিএম কাদের ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকদের বরাতে বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের রক্তচাপ এবং অক্সিজেন গ্রহণ স্বাভাবিক আছে, ফুসফুসের সংক্রমণ কমেছে।

    কিন্তু কিডনি পুরোপুরি কাজ না করায় তাকে ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। হেমো ডায়া ফিল্টারেশনের মাধ্যমে তার রক্তের বর্জ্য বের করা হচ্ছে এবং হেমো ডায়া পারফিউশনের মাধ্যমে সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘গত ৩ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত এরশাদের শারীরিক অবস্থা সার্বিকভাবে অপরিবর্তিত আছে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে। এভাবে ৭ থেকে ৮ দিন তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে ধীরে ধীরে উন্নতির আশা করছেন চিকিৎসকরা।

    এ সময় জিএম কাদের সিএমএইচ এর চিকিৎসায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিএমএইচ-এ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশ্বমানের চিকিৎসা চলছে।’ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবং সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি, রোহিঙ্গাসহ জঙ্গি সন্দেহে ৪ জনকে গ্রেফতার

    শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি, রোহিঙ্গাসহ জঙ্গি সন্দেহে ৪ জনকে গ্রেফতার

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেয়া রোহিঙ্গাসহ জঙ্গি সন্দেহে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে কুয়ালালামপুর থেকে। এদের মধ্যে এক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় হত্যার হুমকি দিয়েছিলো বলে জানিয়েছে কুয়ালালামপুর পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দেশটির গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুইজন মিয়ানমার, একজন ভারত আর একজন ফিলিপিনোর নাগরিক।

    জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে রোহিঙ্গা যুবক আবদুল খালেক। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক সে।

    দেশটির পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল দাতুক সেরি আব্দুল হামিদ এক বিবৃতিতে জানান, গত ২৪ জুন হুমকিদাতা ঐ রোহিঙ্গা যুবক, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির সদস্য। এরই সূত্র ধরে, দেশটির বিভিন্ন জায়গা থেকে গত ২৪ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই ৪ জঙ্গিকে আটক করে মালয়েশিয়ার কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।

  • নরসিংদীতে নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা

    নরসিংদীতে নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা

    নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টার পরিদর্শন করেছেন নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা।

    বুধবার দুপুরে জিনারদী ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টার পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে ৪৫ মিনিট অবস্থান শেষে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওয়না হন ডাচ রানি।

    এদিকে ডাচ রানির পলাশে আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। রানির সফরকে কেন্দ্র করে পুরো পলাশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

    Queen2

    ডাচ রানির জিনারদী ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টার পরিদর্শন কালে আরও উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হাসান, পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা ইয়াসমিন প্রমুখ।

    বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন এবং অর্থনৈতিক খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চারদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা।

  • জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের দেশ সবচেয়ে বড় হুমকিতে : প্রধানমন্ত্রী

    জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের দেশ সবচেয়ে বড় হুমকিতে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের দেশ সবচেয়ে বড় হুমকিতে রয়েছে। যে হারে তাপমাত্রা বাড়ছে তাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে। এতে আমরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবো। খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে। শুধু বাংলাদেশ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের ছোট ছোট দেশও হুমকির মধ্যে আছে। এদেরকে রক্ষা করতে হবে।

    বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মিটিং অব দ্য গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, বন্যা লেগেই আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ সমস্যাগুলো আরও বাড়ছে। আমরা এসব সমস্যা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ফান্ড করেছি। এ ফান্ডে প্রায় ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আমরা প্রত্যেকটি পরিকল্পনা মাথায় রাখছি। ইতোমধ্যে ৫০ লাখের বেশি সৌর প্যানেল দিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বছরে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করছি। এছাড়া ডেল্টা প্লান ২১০০ গ্রহণ করেছি। ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ যেন টিকে থাকতে পারে সে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ থেকে বাচার জন্য সাইক্লোন সেল্টার বানিয়েছি। এসব স্থানে মানুষ নিজে এবং গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিতে পারে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর সমুদ্র ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষ এবং গবাদিপশুকে বাঁচানোর জন্য মুজিব কেল্লা স্থাপন করা হয়। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দেড় লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। এবার ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হোনে। আমাদের সরকারের সতর্কতার কারণে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর পরও ১০ জন মারা যায়।

    শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারাদেশে ২০ ভাগ বনায়ন তৈরি করতে চাই। এ জন্য বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে গ্রীণ বেল্ট গড়ে তোলার জন্য। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বন্যা, খরা, লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান আবিষ্কার করেছি।

    দুর্গত এলাকার মানুষ দুর্যোগের সময় যেন খাদ্যদ্রব্য মজুত রাখতে পারে, সে জন্য সাইলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনি বিভিন্নভাবে মানুষকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  • সবক্ষেত্রেই মূল সমস্যা অস্বীকার করে সরকার: শহিদুল আলম

    সবক্ষেত্রেই মূল সমস্যা অস্বীকার করে সরকার: শহিদুল আলম

    গত বছরে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ভুল খবর প্রচারের অভিযোগে ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং ১০০ দিনের বেশি সময় কারাগারে থাকেন তিনি। গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা সহ অন্যান্য যেসব বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের সমালোচনা করা হয় সেগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে সরকার মূল সমস্যাকে অস্বীকার করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের আলোকচিত্র সাংবাদিক শহিদুল আলম।

    যুক্তরাজ্য এবং কানাডা সরকারের যৌথ আয়োজনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে দু’দিনের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ লন্ডনে শুরু হচ্ছে- বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের সাথে শহিদুল আলমসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা আছে- সেই প্রশ্ন গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকবার সামনে এসেছে, যে বিষয়টি লন্ডন সম্মেলনে আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

    বাংলাদেশের আলোচিত ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলম বিবিসি বাংলাকে জানান, বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতায় কতটুকু স্বাধীনতা আছে, সেই বিষয়টি আলোচনা করা হবে এই সম্মেলনে।
    বাংলাদেশে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সমালোচনা এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার বিষয়গুলোকে এই সম্মেলনে তুলে ধরবেন বলে জানান শহিদুল আলম।

    “রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে আদালত, পুলিশের মত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থাকে, যেগুলোকে এক এক করে ভাঙা হয়েছে। গণমাধ্যম এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে না পড়লেও দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমকেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না।” শহিদুল আলমের মতে, বাংলাদেশে কয়েকটি কণ্ঠ ছাড়া কোনো গণমাধ্যমই সরকারের সমালোচনা করতে পারছে না।

  • সরকারের সকল সেবা ডিজিটাল করা হলে দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না : জয়

    সরকারের সকল সেবা ডিজিটাল করা হলে দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না : জয়

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি (আইসিটি) উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, দুর্নীতিরোধে সরকার সকল সেবা ডিজিটাল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    আজ বুধবার নগরীর আগারগাঁওয়ের বিআইসিসি অডিটোরিয়ামে জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ: সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি একথা বলেন।

    সজীব ওয়াজেদ বলেন, সরকারের সকল সেবা ডিজিটাল করা হলে দুর্নীতির কোন সুযোগ থাকবে না।

    তিনি আরো বলেন, ১ হাজার ৫শ’ সরকারি সেবার ৩শ’টি ইতোমধ্যে ডিজিটাল করা হয়েছে। বাকি সকল সেবাকে ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া চলছে। যখন সরকারের সকল সেবা ডিজিটাল হতে থাকায় ক্রমান্বয়ে দুর্নীতিও কমে আসছে।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান এতে সভাপতিত্ব করেন।

    সজীব ওয়াজেদ জয় দেশকে এগিয়ে নিতে পুরোনো আইন ও নীতি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা এখন বিশ্বায়নের যুগে বাস করছি। বেশি বেশি বিদেশী বিনিয়োগের জন্য আমাদের অর্থনীতি আরো উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরো বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকেরই সাধারণ ধারণা আমাদের দেশে কোন বিদেশী কোম্পানির বিনিয়োগ করার মানেই হলো তারা কেবল মুনাফাই অর্জন করবে। কিন্তু বিদেশী কোম্পানিগুলো কেবল মুনাফাই অর্জন করে না তারা কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করে। আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করা উচিত।

    তিনি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এসব দেশে যে কোন বিদেশী কোম্পানি সহজেই বিনিয়োগ ও ব্যবসা করতে পারে, যা ওই সব দেশের অর্থনীতির গতিকে ত্বরান্বিত করে। আমাদেরও এভাবেই কাজ করা উচিত।

    তিনি বলেন, কেবলমাত্র সরকার সবকিছু করতে পারবে না। সরকার সবকিছু করতে চাইলে সেখানে সিস্টেম লস থাকবে। কিন্তু বেসরকারি খাতে সিস্টেম লস খুব একটা হয় না।

    জয় বলেন, এগিয়ে যেতে হলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে বরং তাদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করা উচিত।

    তিনি বলেন, এটা সম্ভব হলে আমরা দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবো। কিন্তু এজন্য আমাদের আইন ও নীতির পরিবর্তন করতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য টেলিকমিউনিকেশন নীতির পরিবর্তন করা হবে।

    আইসিটি খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন দিক তুলে ধরে জয় বলেন, আইসিটি খাতে খুব স্বল্প সময়ে এতো দ্রুত উন্নয়ন খুব কম দেশই অর্জন করতে পেরেছে।

    কর্মশালায় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নতুন প্রজন্মকে মানব সম্পদ হিসেবে তৈরি করতে তাদেরকে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বলেন, পার্লামেন্ট এবং আইসিটি বিভাগকে ডিজিটাল করতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

  • অস্থির পেঁয়াজের বাজার: ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসছে মন্ত্রণালয়

    অস্থির পেঁয়াজের বাজার: ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসছে মন্ত্রণালয়

    হঠাৎ দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। রাজধানীর খুচরা বাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫ টাকার ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। ৩০ টাকার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। পেঁয়াজ বাজারের এ অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আগামী সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    পেঁয়াজের দাম বাড়ার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্য তালিকায়ও দেখা গেছে। তালিকা অনুযায়ী এক সপ্তাহ আগে যেখানে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫-৩০ টাকা, বুধবার (১০ জুলাই) সেটা বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৮-৩৫ টাকা। বুধবার তা বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়।

    ক্রেতাদের অভিযোগ, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, পেঁয়াজ রফতানিতে ভারত প্রণোদনা তুলে নিয়েছে। অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিতে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় প্রভাব পড়ছে দামে।

    হঠাৎ করে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীলতার বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, যে কোনো মূল্যে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হবে।

    পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে। এজন্য এক সপ্তাহের মধ্যেই পেঁয়াজ আমদানিকারক, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

    তিনি বলেন, মূলত ভারত থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা যায় কিনা সেটাও ভেবে দেখা হবে।

    তিনি আরও বলেন, অফ সিজনে যে কোনো পণ্যের দাম একটু বাড়ে। তবে চেষ্টা করবো কোরবানির ঈদে পেঁয়াজের বাজার যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ২৪ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। কোরবানির ঈদে বাড়তি প্রায় দুই লাখ টনের চাহিদা তৈরি হয়। মোট চাহিদার প্রায় ১৭ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি সাত লাখ টন ভারত থেকে আমদানি করা হয়।

    এনবিআরের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। সে হিসাবে পেঁয়াজ ঘাটতি হওয়ার কথা নয়।

    কিন্তু পেঁয়াজের চাহিদা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও একশ্রেণির ব্যবসায়ীর অনৈতিক তৎপরতায় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের অসহনীয় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

    মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এ খাতের গুটিকয়েক সিন্ডিকেট। অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিতে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার উছিলায় পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাই ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে।

    জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা মূলত ভারত থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করেন। এ ছাড়া মিসর, চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকেও খুব কম পরিমাণে পেঁয়াজ আমদনি হয়। তবে আমদানিতে সময় বেশি লাগায় ব্যবসায়ীরা মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে আগ্রহ দেখান না।

    পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের পাশাপাশি সারা বছর পেঁয়াজের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

    কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়ে যাওয়া অযৌক্তিক। ভোক্তার স্বার্থে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

    পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রাখতে করণীয় বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ

    বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন বলছে, পেঁয়াজের কার্যকর বা সঠিক মূল্য স্থিরে নতুন ব্যবসায়ীদের অবাধ প্রবেশে সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে আরও ভালো অবকাঠামোগত সুবিধা ও লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে এটা করা যেতে পারে।

    কার্যকর নজরদারি এবং নিম্ন মূল্যের নিলাম, গোপন আঁতাত ও দাম বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম ঘাটতি তৈরির মতো অন্যায় কাজ ও বাজার মধ্যস্থতাকারীদের বহু ভূমিকা পালন করা থেকে বিরত রাখতে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা জোরদারে পদক্ষেপ নিতে হবে।

    বাজার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা আরোপ ও ব্যবসায়ীদের আচরণের প্রতি তীক্ষ্ণ নজরদারি রাখা যেতে পারে। স্বাধীন বা উদার পরিবেশ সৃষ্টিতে আমদানি উৎস বহুমুখী করা উচিত, যাতে আরও বেশি ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানির ব্যবসায় করতে পারেন।