Category: রাজণীতি

  • ‘শান্তিতে বিজয় ‘শান্তি উৎসবে একই মঞ্চে বরিশালের তিন প্রার্থী

    ‘শান্তিতে বিজয় ‘শান্তি উৎসবে একই মঞ্চে বরিশালের তিন প্রার্থী

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল – ৫ আসনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও জাতীয় পার্টি’র তিন মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতিতে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে বরিশালের রজনীগন্ধা কমিউনিটি সেন্টারে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হল ‘শান্তিতে বিজয় ‘শান্তি উৎসব’।

    ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত “শান্তিতে বিজয়” ক্যাম্পেইনের “শান্তি উৎসব” আয়োজনে অংশ নেন বরিশাল জেলার প্রধান তিনটি দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, যুব প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকগণসহ ভোটারদের একটি অংশ। এক জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে প্রায় ৩০০ মানুষের এ আয়োজনের অংশ হিসেবে ছিল শান্তি র্যায়লী, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ সেশন, ভিডিও প্রদর্শনী, শান্তির অঙ্গীকার পাঠ, শান্তির পক্ষে ভোট ও দেশাত্মবোধক গান।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ -এর মনোনীত প্রার্থী কর্ণেল অবসরপ্রাপ্ত জাহিদ ফারুক শামিম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -এর মনোনীত প্রার্থী এ্যাড, মজিবর রহমান সরোয়ার, এবং জাতীয় পার্টি -এর মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. মুর্তাজা আবেদীন। সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোঃ হানিফ, ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস হোসেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা/স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের রিজিওনাল ম্যানেজার দিপু হাফিজুর রহমান।

    অনুষ্ঠানে তিন প্রার্থীই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণার পক্ষে মতামত প্রদান করেছেন এবং তাঁরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দেন। বক্তব্য শেষে তাঁরা তরুণ ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দেন। শেষ পর্বে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রফেসর মোঃ হানিফ এবং তিনিই সকল অংশগ্রহণকারীকে শান্তির অঙ্গীকার পত্র পাঠ করান।

    ইউএসএআইডি এবং ইউকেএইড এর যৌথ অর্থায়নে এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের Strengthening Political Landscape (SPL) প্রকল্পের আওতায় “শান্তিতে বিজয়” ক্যাম্পেইনটি পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহনশীল রাজনীতির চর্চা বৃদ্ধিতে, ‘শান্তিতে বিজয়’ ক্যাম্পেইনটি বাংলাদেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সাধারণ জনগণকে সচেতন করবে ও তাদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ তৈরি করবে।

    আজকের “শান্তির উৎসব” অনুষ্ঠানে বরিশাল – ৫ আসনের আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি’র তিন মনোনীত প্রার্থী রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সমর্থনে একসাথে বেলুন উড়িয়ে শান্তির অগ্রযাত্রার প্রতীক – শান্তি র্যা লীর উদ্বোধন করেন।

    ‘শান্তিতে বিজয়’ ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হল দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনীতির পক্ষে একাত্ম হওয়ার মঞ্চ তৈরি করা। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করার জন্য সারাদেশে ‘শান্তিতে বিজয়’ ক্যাম্পেইনের আওতায় আয়োজিত হচ্ছে শান্তি-শোভাযাত্রা, নির্বাচনী প্রার্থীদের সাথে মুখোমুখি সংলাপ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে গোলটেবিল বৈঠক ও কর্মশালা।
    সেই সাথে দেশের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে শান্তিতে বিজয় কর্মসূচি। এই অনুষ্ঠানগুলোতে ছাত্র/ছাত্রী, শিক্ষক এবং স্থানীয় নাগরিকবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধগণ একত্রিত হয়ে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার স্বপক্ষে একসাথে কাজ করার জন্য তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক নেতাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছেন।
  • ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখুন: হাসানাত আব্দুল্লাহ

    ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখুন: হাসানাত আব্দুল্লাহ

    পার্বত্য শান্তিচুক্তির আহবায়ক (মন্ত্রী), আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ-এমপি বলেছেন ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। জঙ্গীবাদ, রাজাকার, সন্ত্রাসবাদীদের ভোট দিলে কেউ নিস্তার পাবে না। আমার শেষ জীবনে এসে আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারা স্বাধীনতা বিরোধীদের ভোট দিবেন না। ওদের ভোট দিলে স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে আবার জাতীয় পতাকা উড়বে। স্বাধীনতার জন্য জীবন দানকারী সকল শহীদ, মা বোনদের ইজ্জত কলঙ্কিত হবে।

    ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে ২১ হাজার নেতাকর্মী হামলা, মামলা ও গুম-খুনের শিকার হয়েছিল। এই সরকারের আমলে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং বিএনপি কোন নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়নি।

    সোমবার বিকেলে উজিরপুর উপজেলা হলরুমে বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

    উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস.এম জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যাডঃ তালুকদার মোঃ ইউনুস, জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল-২ আসনের নৌকা প্রাতীকের প্রার্থী মোঃ শাহে আলম তালুকদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বলরাম পোদ্দার, উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল, গোলাম ফারুক, সৈয়দা রুবিনা আক্তার মেরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আঃ মজিদ সিকদার বাচ্চু, পৌর মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারী, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম সালে মঞ্জু মোল্লা, সম্পাদক মাওলাদ হোসেন ছানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবিদ আল হাসান প্রমূখ।

    যুবদল নেতা আনিস সরদারের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী প্রধান অতিথির হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।

  • গৌরনদীতে নেতাকর্মীদের সাথে ৭৪তম জন্মদিন এর কেক কাটলেন হাসানাত আবদুল্লাহ

    গৌরনদীতে নেতাকর্মীদের সাথে ৭৪তম জন্মদিন এর কেক কাটলেন হাসানাত আবদুল্লাহ

    স্টাফ রিপোর্টার/শামীম ইসলাম:

    পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী মর্যাদা), বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ৭৪ তম জন্মদিন আজ সোমবার (১০ই ডিসেম্বর)।

    আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর জন্মদিন উপলক্ষ্যে, শুভেচ্ছা গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয় দলীয় নেতা-কর্মীদের অকৃত্তিম ভালবাসা আর ফুলেল শুভেচ্ছায় ও কেক কেটে তার জন্মদিন পালন শেষে, দলীয় নেতা কর্মীরা তাদের প্রাণপ্রিয় নেতা জাতির পিতার ভাগ্নে, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় ভাই, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের সন্তান, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’কে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

    এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ তাঁর জন্ম দিনে,দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

    এ সময় নেতা কর্মীরা এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক, পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি জোবায়েরুল ইসলাম সান্টু(ভূঁইয়া), ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সাহিদা আক্তার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক মোঃ লুৎফর রহমান দীপ প্রমুখ।

  • বরিশালে উৎসবের আমেজে নির্বাচনি প্রচার শুরু

    বরিশালে উৎসবের আমেজে নির্বাচনি প্রচার শুরু

    প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনি প্রচার শুরু হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক পাওয়ার পরপরই নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রার্থীদের মিছিল ও জনসংযোগ শুরু করতে দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। দলীয় মনোনয়নের প্রার্থীদের প্রতীক আগে থেকে জানা থাকায় কর্মীরা আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন।

    প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই নির্বাচনি প্রচারণায় নেমে পড়েছেন বরিশালের ৬টি আসনের প্রার্থীরা। সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং তার বড় ছেলে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন সদর আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম।

    গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণকালে তার সঙ্গে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রচারণাকালে জাহিদ ফারুক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বরিশালকে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজাতে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    বিকাল সোয়া ৩টার দিকে নগরীর পশ্চিম কাউনিয়ার নিজ বাস ভবন চত্বর থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন সদর আসনে বিএনপি’র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। গণসংযোগকালে জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় ছাড়াও লিফলেট বিতরণ করেন তিনি। এ সময় বরিশালের উন্নয়ন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ধানের শীষে ভোট প্রার্থণা করেন বিএনপির এই নেতা। বিগত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগনের ভোট কেড়ে নেওয়ায় ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি’র পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সরোয়ার।

     এছাড়া বিকালে নগরী থেকে প্রচারণা শুরু করেন চরমোনাই অনুসারী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল করিম। তিনি লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি ভোট প্রার্থনা করেন। এসময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন। এছাড়াও বরিশালের অন্যান্য আসনের প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন। চলছে প্রার্থীদের পক্ষে মাইকিং।
  • মির্জা ফখরুলের কাপড় খুলে নিলেন মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীরা!

    মির্জা ফখরুলের কাপড় খুলে নিলেন মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীরা!

    মনোনয়নের পেছনে বিস্তর টাকা পয়সা খরচা করে এবং দলীয় শীর্ষ নেতাদের চাহিদা মোতাবেক ডোনেশন দিয়েও বঞ্চিত হন বেশ কিছু প্রার্থী। সেই ক্ষোভে গত কয়েকদিন ধরে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা,ভাঙচুর, নেতাদেরকে লাঞ্ছিত করছেন বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা।

    এরই মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতেও হামলা হয়। গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে পরনের কাপড় ছিঁড়ে মির্জা ফখরুলকে লাঞ্ছিত করার খবর পাওয়া গেছে।

    রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে মির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলা চালালে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায় এবং চালক হেলাল আহত হন।

    ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে কাজী মনিরুজ্জামান মনিরকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের সমর্থকরা। তৈমুর মনোনয়ন না পাওয়ায় তার সমর্থকরা চেয়ারপারসন কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়ে। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতেও তারা হামলা করে।

    শনিবার রাত আড়াইটায় মির্জা ফখরুল গুলশানের চেয়ারপার্সনের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়। অনেকক্ষণ কার্যালয়ে অবরূদ্ধ থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সাড়া না পেয়ে সুযোগ বুঝে বের হয়ে গাড়িতে ঢুকতে গেলেই অপেক্ষমান বিএনপি কর্মীরা তাকে ধরে ফেলে এবং লাঞ্ছিত করে। গাড়ি থেকে তাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এতে তার শার্ট ছিঁড়ে যায়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ৩টার দিকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মী দল- চেয়ারপার্সনস সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) একটি মানববেষ্টনী তৈরি করে তাকে ঘিরে গুলশান-২ নম্বর চত্বরের দিকে নিয়ে যান। সে সময় মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত গাড়িটি কার্যালয় থেকে খালি বেরিয়ে মূল সড়ক থেকে ফখরুলকে তুলে নিয়ে যায়।

    এর আগে সন্ধ্যা থেকে দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা আন্দোলন করে। মধ্যরাতে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গেইট ভেঙে তারা কার্যালয়ের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করে। গেটের অপর পাশ থেকে সিএসএফের কর্মকর্তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

    জানা গেছে, মনোনয়নবঞ্চিত এহছানুল হক মিলনের অনুসারীরা ফখরুলের পথ আটকে তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখেন। আর তাদের সঙ্গে যোগ দেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান সেলিম ও মানিকগঞ্জে প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে অ্যাডভোকেট খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুর কয়েক হাজার নেতাকর্মী। তারা গুলশান কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। তাদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে কার্যালয়ের ২য় তলার জানালার কাঁচ ভেঙে যায়।

    বাইরে যখন বিক্ষোভ চলছিল, সেসময় ভেতরেই ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খানসহ সিনিয়র কয়েক নেতা।

    পরিস্থিতি শান্ত করতে দেলোয়ারের দুই ছেলে ও মেয়েকে কার্যালয়ের ভেতরে ডেকে নেয়া হয়। এ সময় নজরুল ইসলাম খান তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দেলোয়ারের সন্তানরা নজরুল ইসলাম খানের কাছে জানতে চান, এ দলে কি তার বাবার কোনো অবদান নেই? মনোনয়ন তো দূরের কথা, তাদের কেন কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হল না। এ সময় নজরুল ইসলাম খান তাদের শান্ত হতে বলেন। বাইরে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের চলে যেতে বলেন। কার্যালয়ের নিচ তলায় তাদের অপেক্ষা করতে বলেন নজরুল।

    এরপর তৈমুর আলম খন্দকারকে ভেতরে ডাকেন নজরুল ইসলাম খান। তার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় তৈমুর ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমি কার্যালয়ের বাইরে আছি। মহাসচিবসহ আপনারা কীভাবে বাইরে বের হন, তা আমি দেখে নেব। এ বলে তিনি নিচে চলে আসেন।

    দুপুরে চাঁদপুর-১ আসনের মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এহছানুল হক মিলনের অনুসারীরা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। মূল গেটে প্রতিবাদ মিছিল লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হয়। এ সময় মিলনের স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বিক্ষোভে অংশ নেন চাঁদপুরের কচুয়া থানা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    বেবী সাংবাদিকদের বলেন, বিগত সময়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এরপর প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য ১২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে বিএনপির নেতা আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুসারী নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন কার্যালয়ের ফটকের তালা খুলে দেন। এরপর তারা দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে দেখা করে তারা তাদের ক্ষোভের কথা জানান।

    বিক্ষোভরত মিলনের একাধিক সমর্থক অভিযোগ করেন, এহছানুল হক মিলনের জায়গায় চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনকে এলাকায় কেউ চেনেন না। সারা জীবন তিনি মালয়েশিয়ায় ছিলেন। এহছানুল হক মিলন পাঁচ বছর দেশের বাইরে থাকলেও তার সঙ্গে এলাকার মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এখনও তিনি জেলে আছেন, তার ত্যাগকে মূল্যায়ন করা হয়নি।

    মনোনয়নবঞ্চিতদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,ধানের শীষ’ প্রতীকে যারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তাদের পক্ষেই নেতাকর্মীরা ‘একট্টা’। মনোনয়ন নিয়ে ছোটখাটো দুই-একটি প্রতিক্রিয়া- এটা কি নতুন কিছু? এটা নতুন নয়। বরং যাদের দেয়া হয়েছে, তারা অত্যন্ত জনপ্রিয় তাদের এলাকায়। আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে এলাকায় তাদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত নিবিড়। যোগ্যদেরই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

  • আজ ১০ই ডিসেম্বর আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর জন্মদিনে বরিশালে মিলাদ ও দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্টিত

    আজ ১০ই ডিসেম্বর আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর জন্মদিনে বরিশালে মিলাদ ও দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্টিত

    আজ ১০ই ডিসেম্বর বরিশাল বাসির আনন্দের দিন, এই দিন এ জন্মগ্রহন করেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে-কৃষক কুলের নয়নের মনি-শহীদ আঃরব সেরনিয়াবাত এর সুযোগ্য উত্তরসূরী,দক্ষিণবঙ্গের সিংহ-পুরুষ,ও আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবক সাবেক চীফহুইপ,কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য,পার্বত্য শান্তিচুক্তির সফল প্রনেতা ও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক, বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ এর  সভাপতি জননেতা(মন্ত্রী), আলহাজ্জ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর আজ শুভ জন্মদিন।

    Image may contain: 13 people

    এই উপলক্ষে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ এর আয়োজনে বাদ আসর-সেরনিয়াবাত ভবনে দোয়া ও মিলাদ এর আয়োজন করা হয়।
    উক্ত দোয়া ও মোনাজাত এ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন,বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও সদর-৫আসনের নৌকার প্রার্থী কর্নেল(অবঃ)জাহিদ ফারুক শামীম।

    উক্ত দোয়া ও মিলাদ এ বরিশাল এর সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মী অংশগ্রহন করেন।বিসিসি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে,সকল নেতাকর্মীকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর-৫ আসনের দলীয় প্রার্থী কর্ণেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম কে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে জননেত্রী- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে এই বরিশাল সদর-৫ সংসদীয় আসনের এমপি উপহার দিবো এবং প্রথম বারের মতো বরিশালে মেয়র ও এমপি দুটোই হবে নৌকার মার্কার ও আওয়ামীলীগের-ইনশাআল্লাহ, ও বিসিসি মেয়র তার পিতার আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর জন্য দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থতা কামনা করে,সবাই কে নিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া ও প্রার্থনা করেন।

    সদর আসনের নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম তার বক্তব্যের মাধ্যমে নেতাকর্মীর উদ্দেশ্য বলেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, বরিশাল সদর-৫ আসনের নৌকা মার্কার নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কালিবাড়ি রোডস্থ এই ঐতিহাসিক-সেরনিয়াবাত ভবন হবে নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়।

    Image may contain: 2 people

    অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আঙয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড: এ.কে.এম জাহাঙ্গীর,সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু,বিসিসি কাউন্সিলর, জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দু সহ সর্বস্থরের নেতাকর্মী।

    সম্পাদনায়:-মুহা:পলাশ চৌধুরী

  • মাশরাফির আসনে প্রার্থী দিল জাতীয় পার্টি

    মাশরাফির আসনে প্রার্থী দিল জাতীয় পার্টি

    নড়াইল-২ (সদর ও লোহাগড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এ আসনে মাশরাফির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়বেন সাতজন। এ আসনে নিজেদের পৃথক প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি।

    মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন রোববার মাশরাফির আসন থেকে পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নড়াইলের দুটি আসন থেকে জাতীয় পার্টি মহাজোটের বাইরে পৃথক প্রার্থী দিয়েছে।

    এবার নড়াইলের দুটি আসন থেকে মোট ১২ জন নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে নড়াইল-১ আসনে পাঁচজন এবং নড়াইল-২ আসনে সাতজন নির্বাচন করছেন।

    জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন রোববার নড়াইল-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ হাফিজুর রহমান প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া দুটি আসন থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চার প্রার্থী বাদ পড়েছেন।

    নড়াইল-২ আসনে নির্বাচনে লড়ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজা, ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনপিপির চেয়ারম্যান এ জেড এম ড. ফরিদুজাজামান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ, ইসলামী আন্দোলনের এসএম নাছির উদ্দিন, এনপিপির মনিরুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফকির শওকত আলী।

    জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুটি আসন থেকেই নির্বাচন করছেন আমাদের প্রার্থীরা। মহাজোটের প্রার্থীর বাইরে গিয়ে লড়ব আমরা।

    নড়াইল-১ আসনে নির্বাচন করছেন মহাজোটের প্রার্থী বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তি, বিএনপির প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মিল্টন মোল্যা, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. খবির উদ্দিন ও এনপিপির প্রার্থী মো. মুনসুরুল হক।

  • এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসনে লড়ছে ইসলামী আন্দোলন

    এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসনে লড়ছে ইসলামী আন্দোলন

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে এককভাবে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ধর্মভিত্তিক এই রাজনৈতিক দল এবার ২৯৮ আসনে লড়বে।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০০৮ সালে ১৫২ জন প্রার্থী নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন তারা বয়কট করে। এবার তারা দলীয় হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে।

    এবারের নির্বাচনে দলটি ৩০০ আসনেই তাদের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে দলটি একজন বিকল্প প্রার্থী দেয়।

    রিটার্নিং কর্মকর্তারা দলটির ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন। আপিলে বৈধতা পেয়েছেন ১৬ জন প্রার্থী।

    এখন ২৯৮ আসনে দলটির প্রার্থী ২৯৮ জন।নির্বাচন কমিশন অবৈধ ঘোষণা করায় যশোর-৩ ও হবিগঞ্জ-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রার্থী নেই।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আশরাফ আলী আকন বলেন, বিভিন্ন জোটে ডাক পেলেও তারা এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    জোটের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আশরাফ আলী বলেন, ‘ক্ষমতার ভাগাভাগির রাজনীতি করি না। এ দেশে জোটের ফলাফল ভালো না। শেষ পর্যন্ত টেকে না। আমরা জোটে নয়, আদর্শে বিশ্বাস করি।

    সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সরকার গঠন করতে পারবে বলে আশা আশরাফ আলীর। তাঁর ভাষ্য, সুষ্ঠু ভোট হলে তাঁরাই জিতবেন। তবে সুষ্ঠু ভোট হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা সন্দিহান।

    নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে হতাশার কথা জানিয়ে আশরাফ আলী বলেন, ইভিএমের ব্যাপারে প্রায় সব দলেরই আপত্তি আছে। কিন্তু তারপরেও ইসি ইভিএম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    সরকারি দল সুবিধা পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আশরাফ আলী। তাঁর দাবি, নিয়মের বাইরে গিয়ে সরকারি দল প্রচার চালাচ্ছে। তারা সরকারি সুবিধা নিচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসন তাদের পক্ষে রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনী অবস্থা দেখবে।

  • ১৩ প্রার্থীর দায়দেনা ৬২ কোটি টাকা

    ১৩ প্রার্থীর দায়দেনা ৬২ কোটি টাকা

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসন থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র হিসেবে ৫১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ রয়েছে। আর অপর দুজনের ব্যক্তিগত ধারদেনা রয়েছে। সব মিলে ওই ঋণ-দেনা ও ধারের পরিমাণ প্রায় ৬২ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্যাংকে ঋণ থাকা ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগের। ব্যক্তিগত ধার নেওয়া প্রার্থী দুজনও আওয়ামী লীগের। এ ছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির একজন, গণফ্রন্টের একজন, বিএনএফের একজন, বিএনপি ও জামায়াতের তিনজন এবং একজন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ রয়েছে।

    খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে সাতজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংকঋণ আছে শুধু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অশোক কুমার সরকারের। তাঁর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বটিয়াঘাটা শাখায় আড়াই লাখ টাকার সিসি ঋণ রয়েছে।

    খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল ও গণফ্রন্টের মনিরা বেগমের ব্যাংকঋণ আছে। শেখ সালাহউদ্দিন ২৯ কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বেসিক ব্যাংক লিমিটেড থেকে ঋণ নিয়েছেন। তবে কোন শাখা থেকে ওই ঋণ নেওয়া হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি। আর মনিরা বেগমের দায় রয়েছে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের কাছে। দায়ের পরিমাণ ৪৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

    খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাতজন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের কোনো ব্যাংকঋণ না থাকলেও বিভিন্ন লোকের কাছে দায় রয়েছে ৭ লাখ টাকার। ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের শেয়ার মার্কেটের বিনিয়োগের বিপরীতে গৃহীত মার্জিন ঋণ নেওয়া আছে ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

    খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের আবদুস সালাম মুর্শেদীর কোনো ব্যাংকঋণ নেই। তবে তাঁর স্ত্রী শারমিন সালামের কাছে ১ কোটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তাঁর দায় রয়েছে। এ ছাড়া তিনি সেলটেক প্রাইভেট লিমিটেডের ফান্ড থেকে ৫ কোটি ও মেয়ে শেহরিন সালাম ঐশীর কাছে ৭৩ লাখ টাকা দায় আছেন।

    এ ছাড়া এই আসনের বিএনপির শরীফ শাহ কামাল তাজের ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড গুলশান শাখা থেকে ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া আছে। বিএনএফের শেখ হাবিবুর রহমান ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে ৪০ লাখ টাকা, ডিবিএইচ ব্যাংক লিমিটেড থেকে ৪ লাখ টাকা ও আইপিডিসি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত দায় রয়েছে ৫ লাখ টাকা।

    খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যাংকঋণ রয়েছে। আর তাঁর ব্যক্তিগত ধার আছে ৩৫ লাখ টাকা।

    খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মো. আক্তারুজ্জামানের প্রাইম ব্যাংক খুলনা শাখায় ১ কোটি ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে। তিনি এই ঋণ নিয়েছেন ঠিকাদারি কার্যাদেশের বিপরীতে। আর বিএনপির প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ (জামায়াত) তামিম এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে ইসলামী ব্যাংক দৌলতপুর শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলামের মধুমতি ব্যাংক খুলনা শাখায় ১৮ কোটি ৫২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক খুলনা শাখায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল কাদেরের ইসলামী ব্যাংকে ঋণ ৫৬ হাজার টাকা।

  • খালেদা জিয়া মামলা নিয়ে কানামাছি খেলেছেন: কাদের

    খালেদা জিয়া মামলা নিয়ে কানামাছি খেলেছেন: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া ১৫৪ বার আদালতে হাজিরা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত না করালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হয়তোবা এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এই মামলা নিয়ে কানামাছি খেলেছেন।

    আজ রোববার দুপুরে ফেনী পৌরসভা চত্বরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

    এ সময় সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, খালেদা জিয়া জেলে। এ অবস্থায় নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ আছে কি? জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি আদালতের বিষয়। এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলাটি গত ১০ বছর আদালতে ছিল। বেগম জিয়া এ মামলা নিয়ে কানামাছি খেলা করেছিলেন।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশাপ্রকাশ করে বলেন, পঁচাত্তরের পর এবারই প্রথম উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হচ্ছে।সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনেকের মধ্যে শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা ছিল, সেটা অনেকটাই কেটে গেছে। এবার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতদের মধ্যে যাঁরা মনোনয়নপত্র দাখিল করছেন, দলীয় শৃঙ্খলা মেনে নিয়ে তা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। এরপরও যাঁরা প্রত্যাহার করবেন না, তাঁদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। দলের ও জোটের যাঁরা মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন, মহাজোট সরকার আবার ক্ষমতায় এলে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির সংকট তাদের অভ্যন্তরীণ। গুলশান কার্যালয় ও পল্টন কার্যালয়ে মনোনয়নবঞ্চিতদের হামলা তাই প্রমাণ করে। বিএনপি নিজেদের সংকটের জন্য নির্বাচন থেকে সরে গেলে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের কী করার আছে।

    নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, এলাকায় তিনিসহ মন্ত্রীরা কোনো সরকারি সুযোগ–সুবিধা নেন না। এমনকি নির্বাচনী এলাকায় গাড়িতে পতাকাও থাকে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এবার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করছে। আওয়ামী লীগ কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে।

    জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী, মহাজোট মনোনীত প্রার্থী ও জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, ফেনী অঞ্চলের নারী সাংসদ জাহানারা বেগম, ফেনী পৌরসভার মেয়র হাজী আলাউদ্দিন, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম মিয়াজী, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শহীদ খোন্দকার,সদর উপজেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি করিম উল্যাহ প্রমুখ।