Category: রাজণীতি

  • ধুনটে যুবদল নেতার বাড়িতে আগুন, বিএনপি প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা

    ধুনটে যুবদল নেতার বাড়িতে আগুন, বিএনপি প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা

    বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতে ঘটা আগুন লাগানোর এ ঘটনা পরিদর্শনে যাওয়ার সময় বিএনপি প্রার্থী জিএম সিরাজের গাড়ির বহরে আজ মঙ্গলবার হামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁর গাড়িবহরের তিনটি গাড়ি,২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জি এম সিরাজ। আজ বেলা ১২টার দিকে ধুনট শহর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর ধুনট উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা শুরু করেছে।

    গতকাল সন্ধ্যার দিকে এলাঙ্গী বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় ছাত্রদলের দুই কর্মী রাঙ্গামাটি গ্রামের নাদিম হোসেন (২৬) ও মাসুদ রানাকে (২২) এলাঙ্গী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মারধর করে। এরপর একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এলাঙ্গী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা রাঙ্গামাটি গ্রামের মুরাদ হোসেনের বসতবাড়িতে পেট্রল ঢেলে দিয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে উঠেছে । এতে যুবদল নেতার একটি মোটরসাইকেল, নগদ টাকা সহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে যায়। এ ছাড়া দুটি দোকানঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে ধুনট উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে যায়।
    ধুনট শহরে বিএনপি প্রার্থীর বহরে হামলার দৃশ্য। ছবি: প্রথম আলোধুনট শহরে বিএনপি প্রার্থীর বহরে হামলার দৃশ্য।

    ঘটনাটি দেখার জন্য আজ দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সাংসদ জিএম সিরাজ যুবদল নেতা মুরাদ হোসেনের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শনের জন্য রওনা হন।

    এ সময় জিএম সিরাজ শতাধিক মোটরসাইকেল ও তিনটি গাড়ি নিয়ে ধুনট শহরের কলাপট্টি এলাকায় পৌঁছালে একদল ব্যক্তি হাতে লাঠি-সোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা জিএম সিরাজের ব্যক্তিগত জিপ গাড়িসহ দুটি মাইক্রোবাস ও ১০-১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
    পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হামলায় জিএম সিরাজ ও তাঁর নেতা-কর্মীরা ধুনট শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয়।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে দুপুর ১টার দিকে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি প্রার্থী জিএম সিরাজ। এ সময় তিনি বলেন, ‘এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের মুরাদ হোসেনের বাড়িতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করেছে। এই ঘটনা দেখতে যাওয়ার সময় ধুনট শহর এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আমার গাড়ির বহরে হামলা চালিয়ে আমার ব্যক্তিগত জিপ গাড়িসহ দুটি মাইক্রোবাস ও কমপক্ষে ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ইটপাটকেলের আঘাতে আমার দলের ১০-১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে।
    ধুনটে যুবদলের নেতা মুরাদ হোসেনের ভষ্মীভূত বাড়ি। ছবি: প্রথম আলোধুনটে যুবদলের নেতা মুরাদ হোসেনের ভষ্মীভূত বাড়ি।

    উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহসীন আলম বলেন, বিক্ষুব্ধ জনগণ এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত ছিল না। বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার করছে।

    ধুনট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুকুল ইসলাম বলেন, এলাঙ্গী ইউনিয়নের মুরাদ হোসেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ওই রাতেই পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থীর গাড়ির বহরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • প্রচার শুরুর পরদিনে আ.লীগ–বিএনপি সংঘর্ষ, নিহত ১

    প্রচার শুরুর পরদিনে আ.লীগ–বিএনপি সংঘর্ষ, নিহত ১

    নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের সংঘর্ষে যুবলীগের এক নেতা নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের নুরু পাটোয়ারীর হাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তির নাম মো. হানিফ (২৪)। এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

    একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পরই গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন প্রার্থীরা। প্রচার শুরুর পরদিন নির্বাচনী সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।

    জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী–৪ আসনের নৌকার প্রার্থী একরামুল হক চৌধুরী বলেন, মো. হানিফ যুবলীগের নেতা। তিনি এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে নুরু পাটোয়ারীর হাট–সংলগ্ন একটি বাড়িতে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বৈঠকে বসেন। এ সময় একই এলাকার আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা নৌকার পক্ষে স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেন। মিছিলটি ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে মো. হানিফ গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

    পুলিশ জানায়, ওই সংঘর্ষে যুবলীগের নেতা হানিফ গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, হানিফের এক পায়ে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যকার সংঘর্ষে যুবলীগের নেতা মো. হানিফ মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    তাৎক্ষণিকভাবে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির নেতৃস্থানীয় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা যায়নি। উভয় পক্ষের একাধিক নেতাকে ফোন করা হলেও তাঁরা কেউই সাড়া দেননি।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন একরামুল হক চৌধুরী।

  • আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি: মির্জা আব্বাস

    আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি: মির্জা আব্বাস

    বাসার সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘোরাঘুরির করার অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, এমবস্থায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। শুধু তাই নয়, আমি আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।

    মঙ্গলবার দুপুর রাজধানীর শাহজাহানপুরের নিজ বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আত্মীয়-স্বজন, নেতাকর্মী কেউ আমার বাসায় আসতে পারছে না।

    গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত আমার নির্বাচনী এলাকার ২০-২৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী উন্মুক্তভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। অথচ আমাকে প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে।এমতাবস্থায় আমি নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

    শুধু মির্জা আব্বাসের সঙ্গে নয়, ঢাকা-৯ আসনে তার স্ত্রী বিএনপির প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন দলটির স্থানীয় কমিটির এই সদস্য। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিকভাবে কারো প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিক আছে, কিন্তু আমরা তো কারো প্রতিপক্ষ না। তাহলে কেনো আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে।’

    এ সময় মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী আফরোজা আব্বাস, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • মেয়ের জন্য ভোট চাইলেন কাদের সিদ্দিকী

    মেয়ের জন্য ভোট চাইলেন কাদের সিদ্দিকী

    কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন,আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, হোক।  আমি কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে চাই না। ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছিলেন ঠিক সেইভাবে আমার মেয়ের জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।  এই নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনঃ উদ্ধারের জন্য আপনারা আমার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকীকে ধানের শিষ প্রতীকে ভোট দিবেন।

    আজ মঙ্গলবার উপজেলার ইন্দ্রজানি, তৈলধরা, হামিদপুর, বাশারচালাসহ কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ করতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। এ সময় বীরকন্যা কুঁড়ি সিদ্দিকী বলেন, আমার বাবাকে ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে আসতে দেওয়া হয়নি। তাই আগামী ৩০ তারিখ নির্বাচনে ধানের শিষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তার জবাব দিবেন আপনারা।

    এ সময় নাসরিন কাদের সিদ্দিকী, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম সরকার লাল, উপজেলা কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জুলফিকার শামীম, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবিব, যুব আন্দোলনের আহবায়ক হাবীবুন নবী সোহেল, আবু জাহিদ রিপন, অধ্যাপক নাজমুল তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র কোনো দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না: রাষ্ট্রদূত

    যুক্তরাষ্ট্র কোনো দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না: রাষ্ট্রদূত

    যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ ছাড়া আসন্নে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহিংসতা থেকে দূরে থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বৈঠকের বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য এসেছিলাম। আমরা বলেছি, সব দল যেন অবাধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এবং রাজনীতি করার সুযোগ পায়। তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচার চালানোর এবং শোভাযাত্রা করার সুযোগ পায়। কারণ, বিতর্কের মধ্যে দিয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র আরও বিকশিত হয়। গণমাধ্যম, বিরোধী দল যেন তাদের মত ব্যক্ত করতে পারে।’ নির্বাচনে সবার শান্তিপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ‘সবাই; রাজনৈতিক দল হোক, আর যে-ই হোক, যেন শান্তিপূর্ণ আচরণ করে। সবাই যেন সহিংসতা থেকে দূরে থাকে। কেননা সহিংসতা গণতন্ত্রের পথে বাধা হিসেবে থাকে। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সহিংসতা শুধু তাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ করে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না। আমরা শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মূল্যবোধকে সমর্থন করে।

    রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটার অংশ নেবে। আমরা সবাই এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি—অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার। এ বিষয়কে যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহিত করে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলকে সহায়তা করবে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)। পাঁচ সদস্যের প্রাক মূল্যায়ন দল অক্টোবরে পাঠিয়েছিল এনডিআই। এ মাসেও এমন একটি দল পাঠানো হয়। এনডিআইয়ের অংশীদার ‘দ্য এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন’। তারা দুজন আন্তর্জাতিক নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত করেছে এবং স্বল্পমেয়াদ ও দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। এ ছাড়া মার্কিন দূতাবাস পৃথক পর্যবেক্ষক দল নিয়োগ করবে সারা দেশে। যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ১৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষকের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অর্থায়ন করবে। তাঁরা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) হয়ে কাজ করবে।

    আগামী ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। নির্বাচনে ১ হাজার ৮৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা প্রচারকাজ শুরু করে দিয়েছেন। তবে ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারকাজ শুরু হতে না হতেই বিভিন্ন জেলায় সহিংস ঘটনার খবর ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। বিএনপির নেতারাও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

    ব্যালট বাক্সসহ জেলায় জেলায় নির্বাচনী উপকরণ পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের তিন দিন আগে পাঠানো হবে ব্যালট পেপার। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন ৪০ হাজার কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৪ থেকে ১৬ জনের দল মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর ছয় লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন থাকবে।

  • বরিশালে বিএনপি’র দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ১০

    বরিশালে বিএনপি’র দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ১০

    স্টাফ রিপোর্টার/শামীম ইসলাম:

    বরিশাল এয়ারপোর্টে বরিশাল-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জয়নুল আবেদীনকে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    এ ঘটানায় প্রায় ১০ জন বিএনপির কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

    জানা যায়, সোমবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকা থেকে নভো-এয়ার ফ্লাইটে ৩টার সময় বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল আবেদীন বিমানবন্দরে আসার খবর শুনে বাবুগঞ্জ-মুলাদীর বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সেলিমা রহমান ও জয়নুল আবেদীনের সমর্থকরা জড়ো হয়।

    জয়নুল আবেদীন বিমান থেকে নামার পরে দুই গ্রুপের সমার্থকরা তাকে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আনুমানিক ১০ জন আহত হয়।

    আহতদের নাম জানা যায়নি। তবে এয়ারপোর্ট থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

  • বরিশালে মনোনয়ন বঞ্ছিতদের ক্ষোভে জ্বলছে বিএনপি

    বরিশালে মনোনয়ন বঞ্ছিতদের ক্ষোভে জ্বলছে বিএনপি

    মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষের কারণে বরিশালে বিএনপির জন্য অশুভ সংকেত দেখা দিয়েছে। মনোনয়ন বঞ্ছিতরা নয়া পল্টনে তালা ঝুলানোর পরেও কোন সুফল না পেয়ে এবার তৃণমূল পর্যায়ে ধানের শীষের প্রার্থীর বিপক্ষে কিংবা মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে বিএনপির নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সংকট প্রকাশ্যে বের হয়ে এসেছে।

    সূত্রমতে, বরিশালের যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন তারা দলের দুর্দীনের সঙ্গী। বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েও তারা দলের হাল ছাড়েননি। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে তারা আন্দোলনের মাঠে থেকে কারাবরন করেও জনবিচ্ছিন্নদের কাছে মনোনয়ন বঞ্ছিত হয়েছেন। তাদের স্থলে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও নির্বাচনী এলাকায় ঢুকতে পারেননি।

    বরিশালে উল্লেখযোগ্য মনোনয়নবঞ্চিতদের মধ্যে রয়েছেন ওয়ান ইলেভেনের পরীক্ষিত নেতা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বরিশাল-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান। তারস্থলে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সংস্কারপন্থি নেতা জহির উদ্দিন স্বপনকে। বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দরা জানান,বিগত এক যুগেরও অধিক সময় ধরে তিনি (স্বপন) দলীর নেতাকর্মীদের তোপের মুখে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঢুকতে পারছেন না। জনবিচ্ছিন্ন জহির উদ্দিন স্বপনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও অদ্যবর্ধি তিনি নির্বাচনী এলাকায় আসতে পারেননি। এজন্য নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতৃবৃন্দরা প্রার্থী পরিবর্তন করার দাবি তুলে দলের মহাসচিবের কাছে আবেদন করেও কোন সুফল পায়নি।

    বরিশাল-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা উত্তর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মেজবা উদ্দিন ফরহাদ। শরিকদের মধ্যে আসন বন্টন করার ক্ষেত্রে দলের শক্তিশালী প্রার্থী মেজবা উদ্দিন ফরহাদকে বাদ দিয়ে ওই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে নুরুর রহমান জাহাঙ্গীরকে। একইভাবে পটুয়াখালী-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন।

    পরীক্ষিত এ নেতাকে বাদ দিয়ে তারস্থলে দলের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেয়া গোলাম মাওলা রনিকে। ঝালকাঠী-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু। তাকে বাদ দিয়ে ওই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বিএনপি নেত্রী জেবা খানকে।

    বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যারা মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন তারা জেল-জুলুম ভোগ করা ও সংকটে দলের জন্য ত্যাগ শিকার করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। শরিকদের মধ্যে আসন বন্টন করার ক্ষেত্রেও দলের শক্তিশালী প্রার্থীদের কোরবানি করা হয়েছে। বিএনপির নির্দিষ্ট আসনের নিশ্চিত প্রার্থীকে বাদ দেয়া হয়েছে। সেখানে শরিক দলের ভুঁইফোড় ও সংস্কারপন্থি জনবিচ্ছিন্নদের মনোনয়ন দেয়ায় দলের তৃণমূলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নির্বাচনের আগেই মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে বিরাজমান ক্ষোভ ও অসন্তোষ দলের জন্য অশুভ সংকেত বহন করছে। অতি দ্রুত এসব ক্ষোভ ও অসন্তোষ দূর করা না হলে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • বিএনপি একটি ‘কল্লা নাই ওয়ালা’ দল: আলাউদ্দিন নাসিম

    বিএনপি একটি ‘কল্লা নাই ওয়ালা’ দল: আলাউদ্দিন নাসিম

    ফেনীর ফাজিলপুর ফরহাদ নগর জিন্নাহ হাই স্কুল মাঠে আজ মঙ্গলবার ফেনী-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নিজাম হাজারীর সমর্থনে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এই আসনের নৌকার প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী।

    বিশেষ অতিথির ভাষণে আলাউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিম বলেন, ‘বিএনপির মাথা দুইটা- একটি লন্ডনে থাকে, আরেকটি জেলখানায়। এখন নতুন একটা মাথা বের করেছে যেটি বাতিল মাল। তারা (বিএনপি) এখন মাথা ছাড়া দল। কল্লা নাই ওয়ালা দল।

    সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জাহানারা বেগম সুরমা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজম আহমেদ চৌধুরী, ফেনী পৌরসভার মেয়র আলাউদ্দিন, আবদুল করিম, খায়রুল বাশার তপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মজিবুল হক রিপন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ জ ম নাসির বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়া আজ ৪৭ বছর। ১০ বছর আগে দেশের অবস্থা কী ছিল? আমরা ছিলাম গরীব দেশের নাগরিক। বিদেশে আমাদের যেসব ভাইয়েরা কাজ করতেন তাদের মিসকিন বলা হতো। এখন আমাদের মিসকিনের দেশ বলে না। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ।

    বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি। আপনাদের আমলে দেশ দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার বন্ধ করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিকভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। দেশে আগে কত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকতো, কত ঘণ্টা লোড শেডিং হতো। তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

    সিটি মেয়র আরও বলেন, আমি নিজাম হাজারীকে নিয়ে গর্ব করি। তার ব্যবহারের জন্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তার গলায় আবার বিজয়ের মালা উঠবে।

    তিনি বলেন, আজ সারা দেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রগতির জোয়ার, উন্নয়নের জোয়ার বইছে। জনগণ আবারও শেখ হাসিনাকে নৌকায় ভোট দিবেন। আমরা আমাদের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দেব। আজ থেকে প্রতিটি কর্মীকে ৪ জনকে বুঝাবেন নৌকায় ভোট দিতে।

    নিজাম হাজারী বলেন, আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সকলের সাথে সমান আচরণ করব। সব পার্টির লোক নির্বিঘ্নে, নিরাপদে থাকবেন।

    বিকালে বালিগাঁও ইউনিয়রে সিন্দুরপুর হাই স্কুল মাঠে জনসভাতেও অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

  • মামলায় নাকাল বিএনপি, আ.লীগ প্রার্থীরা স্বস্তিতে

    মামলায় নাকাল বিএনপি, আ.লীগ প্রার্থীরা স্বস্তিতে

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর জেলার ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র হিসেবে ৫৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ৪৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়জন এবং বিএনপির ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও বিএনপির ছয়জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা রয়েছে।

    মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। দিনাজপুরের ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হলেন দিনাজপুর-১(বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-২(সেতাবগঞ্জ-বিরল) আসনে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ (দিনাজপুর সদর) আসনে ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, দিনাজপুর-৫(ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এবং দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ-বিরামপুর-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনে শিবলী সাদিক।

    বিএনপির প্রার্থীরা হলেন দিনাজপুর-১ আসনে মো.তোফাজ্জল হোসেন, মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনে মো. সাদিক রিয়াজ, মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, মোফাজ্জল হোসেন, দিনাজপুর-৪ আসনে আক্তারুজ্জামান মিয়া, হাফিজুর রহমান সরকার, দিনাজপুর-৫ আসনে এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, এস এম জাকারিয়া এবং দিনাজপুর-৬ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন এবং লুৎফর রহমান।

    বিএনপির ছয়জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনসহ বিভিন্ন ধারায় ২৮টি মামলা রয়েছে।

    বিএনপির প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁর নামে বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন ধারায় মোট ১৬টি মামলা রয়েছে।

    এর মধ্যে ১২টি মামলা বিচারাধীন, তদন্তাধীন রয়েছে তিনটি, শুনানি চলছে একটির। দিনাজপুর-৩ আসনে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।

    একই আসনে বিএনপি–মনোনীত অপর প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের দিনাজপুর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলাসহ মোট দুইটি মামলা রয়েছে।

    দিনাজপুর-৪ আসনে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধি আদালতে একটি মামলা রয়েছে। এই আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী মো. লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধেও দুটি মামলা রয়েছে। দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বোচাগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে।

    অন্যান্য দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা

    জাপার ছয়জন প্রার্থী, জাগপার একজন, ওয়ার্কার্স পার্টির দুইজন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দুইজন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের একজন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একজন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। এ ছাড়া বাংলাদেশ মুসলিম লীগের পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে একজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে একজন এবং স্বতন্ত্র সাতজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে।

  • ‘মার্কা দেখে ভোট দেওয়ার দিন শেষ,জনপ্রিয়তায় আমিই এগিয়ে’

    ‘মার্কা দেখে ভোট দেওয়ার দিন শেষ,জনপ্রিয়তায় আমিই এগিয়ে’

    বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলম। আজ সোমবার হাইকোর্টের নির্দেশনায় প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন, ‘প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তা আমার প্রার্থিতা বাতিল করে। আপিল করলে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) প্রার্থিতা বাতিল করেছিল। পরে হাইকোর্টে আপিল করলে আজ হাইকোর্ট আমার প্রার্থিতা গ্রহণের জন্য ইসিকে নির্দেশ দেন ও আমাকে প্রতীক বরাদ্দেরও নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় (বগুড়া-৪) গিয়ে প্রচারণা চালাব।

    বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী মোশারফ হোসেন এবং আওয়ামী লীগ–সমর্থিত জাসদের প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন।

    হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন,‘ মার্কা দেখে ভোট দেওয়ার দিন শেষ। মার্কা বা দল কোনো ফ্যাক্টর নয়। ব্যক্তিই ফ্যাক্টর। নির্বাচনী মাঠে ব্যক্তি হিসেবে আমিই জনপ্রিয়তায় এগিয়ে ও শক্তিশালী প্রার্থী। ভোটারেরা সঙ্গে থাকলে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

    ২ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিলেও তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

    হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পাটির ‘লাঙ্গল’ মার্কায় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হিরো আলম । এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গত ২৮ নভেম্বর নন্দীগ্রাম উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মোছা. শারমিন আখতারের কাছে বগুড়া-৪ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

    বগুড়া সদরের এরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা হিরো আলম শৈশবে চানাচুর বিক্রি করতেন। পরে তিনি সিডি বিক্রি এবং ডিশ সংযোগের ব্যবসা দেন। নিজেই মিউজিক ভিডিও তৈরি করে ডিশ লাইনে সম্প্রচার শুরু করেন। এভাবে হিরো আলমের তৈরি মিউজিক ভিডিও এবং ইউটিউব সিনেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি আলোচনায় আসেন। তিনি ‘মার ছক্কা’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। বলিউড পরিচালক প্রভাত কুমারের ‘বিজু দ্য হিরো’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান।

    ২০১৬ সালে হিরো আলমের সঙ্গে ছবি তুলে ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপর বিবিসি হিন্দি, জি নিউজ, এনডিটিভি, ডেইলি ভাস্কর, মিড-ডের মতো ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো হিরো আলমকে নিয়ে প্রতিবেদন করে। সেখানে হিরো আলমকে বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকা বলে উল্লেখ করা হয়।

    গুগলে কাকে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়, তার একটি তালিকা করে ইয়াহু ইন্ডিয়া। জরিপে দেখা গেছে, ‘সুলতান’ ও ‘দাবাং’ তারকাখ্যাত সালমান খানের চেয়েও বেশিবার খোঁজা হয়েছে হিরো আলমকে।

    সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিল্পী ও ভক্ত হিরো আলমের ভাস্কর্য তৈরি করেন।