Category: রাজণীতি

  • বরগুনায় বিএনপি প্রার্থীসহ ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল

    বরগুনায় বিএনপি প্রার্থীসহ ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল

    বরগুনার দুটি সংসদীয় আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার বরগুনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ।

    মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন রোববার বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়।

    যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন- বরগুনা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. মতিউর রহমান তালুকদার, বরগুনা-২ আসনের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী মো. সালাহ উদ্দিন ও এনপিপির প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান।

    বাতিল হওয়া এ তিন প্রার্থীর মধ্যে মতিউর রহমান তালুকদারকে একটি জিআর মামলায় বরগুনার আদালত তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে বরগুনার জজ কোর্টে আপিল করেন তিনি। পরে কারাদণ্ড বাতিল করে মামলা নিষ্পত্তির জন্য মতিউর রহমান তালুকদারকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

    তিনি নিম্ন আদালতে হাজির না হয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করে কারাদণ্ড স্থগিত করেন। অন্য দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে সঠিকভাবে তথ্য-উপাত্ত না দেয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া তিন প্রার্থী তাদের মনোনয়প্রত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করবেন বলে জানান।

  • বেছে বেছে মনোনয়ন বাতিল করা হচ্ছে: রিজভী

    বেছে বেছে মনোনয়ন বাতিল করা হচ্ছে: রিজভী

    লিস্ট বা তালিকা করেই মনোনয়ন বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বেছে বেছে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র বাতিল ‘সরকারের পরিকল্পনার অংশ’।

    আজ রোববার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, কেবল খালেদা জিয়া নয়, ‘বেছে বেছে’ তাদের জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুরভিসন্ধিমূলক।

    দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে বিপুল জনপ্রিয়তা, সেই জনপ্রিয়তা থেকে তাকে দূরে সরানোর যে মাস্টারপ্ল্যান সরকার করেছে, সে নীল নকশার অংশ বলে আমরা মনে করি।’জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

    আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদ নির্বাচনের জন্য তার নামে ফেনী ও বগুড়ার তিনটি আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়।এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র দুই মামলায় দণ্ডিত হওয়ার কারণে বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

    বগুড়া ৬ আসনেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ঢাকা-৬ আসনে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন, ঢাকা-২ আসনে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ থেকে সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান আবু আশফাক খন্দাকার এবং দিনাজপুর-৩ আসনে জাহাঙ্গীর হোসেনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এভাবে বেছে বেছে আমাদের জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে।এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ধারাবাহিক ঘটনা। সরকার পরিকল্পনা করেছে একতরফা নির্বাচন করবে, গায়ের জোরে নির্বাচন করবে এবং জোর করে ক্ষমতায় থাকবে।

  • বরিশালের ৪৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে উচ্চগতির ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা

    বরিশালের ৪৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে উচ্চগতির ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা

    উচ্চগতির ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা পাচ্ছে বরিশালের ৪৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

    আজ ২ ডিসেম্বর থেকে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বরিশালের ৪৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উচ্চগতির ফ্রি ওয়াই-ফাই প্রদান করার ঘোষনায় আনন্দিত বরিশালের শিক্ষার্থীরা।

    সূত্র জানায়, সরাদেশে উচ্চগতির ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রদান করবে সরকার। ৫৮৭টি সরকারি কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ট্রেনিং ইসস্টিটিউটের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৪৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৭, বরিশাল বিভাগে ৪৫, খুলনা বিভাগে ৮৩, রাজশাহী বিভাগে ৮৫, রংপুর বিভাগে ৫৬ এবং সিলেটে বিভাগে ৩৩ টি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধার আওতায় আসছে।

    সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলতি বছরের ১২ জুন প্রকল্পটি গৃহীত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর একবছর পর্যন্ত বিনামূল্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ এমবিপিএস হারে ব্যান্ড উইডথ সরবরাহ করা হবে। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এ ব্যান্ডউইডথের ভাড়া বহন করবে। দেশের আটটি বিভাগে সরকারি কলেজ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তিনটি লটে একযোগে অপটিক্যাল ক্যাবল ¯’স্থাপন ও ইকুইপমেন্ট ¯’স্থাপন কাজটি সম্পন্ন করা হবে।

    এ প্রসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, শিক্ষায় ডিজিটাল রপান্তরের অংশ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনায় প্রাথমিকভাবে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উ”চগতির ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। পর্যায় ক্রমে দেশের সব বেসরকারি কলেজ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

  • ৫ বছরে বরিশালের ৪ এমপির আয়-সম্পদ বেড়েছে

    ৫ বছরে বরিশালের ৪ এমপির আয়-সম্পদ বেড়েছে

    আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসন থেকে মোট ৫১ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যার মধ্যে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটি আসনেই বর্তমান সংসদ সদস্যরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

    যাদের প্রত্যেকেরই গেল পাঁচ বছরে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে অনেকটাই। পাশাপাশি বেড়েছে বাৎসরিক আয়ের পরিমাণও।

    রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রার্থীদের উল্লেখ করা তথ্যানুযায়ী, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির (জাপা) নাসরিন জাহান রতনা পেশায় ব্যবসায়ী হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় বাৎসরিক আয় ৫৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯৬ টাকা দেখিয়েছেন। যা দশম সংসদ নির্বাচনের হলফনামা ছিল ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৫ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে তার আয় বেড়েছে তিন গুণ।

    এছাড়া বর্তমান হলফনামা অনুযায়ী একশ’ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছাড়াও তিন কোটি ৪৩ লাখ ২৭ হাজার ২৯৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রার্থীর নিজের এবং তার স্বামীর নামে ৩৭ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার ৫৬২ টাকার সম্পদ রয়েছে। আর দশম সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী তখনও তার একশ’ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। তবে সম্পদ ছিল কম, তখন প্রার্থীর নিজের নামে ছিল দুই কোটি দুই লাখ ২২ হাজার ১৮০ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং তার স্বামীর নামে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ১১ হাজার ১২০ টাকার সম্পদ।

    বর্তমানে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া একটি ফ্লাট ছাড়াও প্রার্থীর নিজের নামে ৩৭ লাখ ১৪ হাজার ৬৬৭ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে এবং পৈত্রিক সূত্রে ৩০ কাঠা জমি ছাড়া প্রার্থীর স্বামীর নামে দুই কোটি ৪৫ লাখ ৯১৭ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। বিগত নির্বাচনী হলফনামাও পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া একটি ফ্লাটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও সে সময় প্রার্থীর নিজের নামে ৩৭ লাখ ১৪ হাজার ৬৬৭ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং পৈত্রিক সূত্রে ৩০ কাঠা জমি ছাড়া প্রার্থীর স্বামীর নামে দুই কোটি ৪৫ লাখ ৯১৭ টাকার স্থাবর সম্পদ ছিল। এই হিসেবে যদিও কোনো পরিবর্তন ঘটেনি স্থাবর সম্পত্তিতে।

    বর্তমানে দায়ের খাতায় এক কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণ রয়েছে প্রার্থীর এবং বিগত নির্বাচনেও এক কোটি ৫৫ লাখ ৬২ হাজার টাকার ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

    বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের পঙ্কজ নাথ পেশায় নিজেকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করে বছরে মোট আয় দেখিয়েছেন ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ১৭ টাকা ও প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ছয় লাখ ১৩ হাজার ৬০৬ টাকা। আর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হলফনামার হিসেব অনুযায়ী তার মোট আয় ছিল ২১ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৫ টাকা এবং তার ওপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ছিল দুই লাখ ৮৮ হাজার ৩৭২ টাকা।

    তার আয় বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদেরও পরিমাণ। বর্তমান হলফনামায় পঙ্কজ নাথ দেখিয়েছেন এক কোটি ৩২ লাখ আট হাজার ৪৮৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও বিয়ের উপহার হিসেবে ৬০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার এবং তার স্ত্রীর নামে ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ২২ টাকার অস্থাবর সম্পদ। আর বিগত হলফনামায় ছিল ৪৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও বিয়ের উপহার হিসেবে ৬০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার এবং স্ত্রীর নামে সাত লাখ ১১ হাজার ৩১৩ টাকার সম্পদ।

    অপরদিকে, স্থাবর সম্পদের মধ্যে বিগত নির্বাচনী হলফনামায় নিজের নামে ১৯ লাখ ২৪ হাজার টাকার প্লট এবং স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৯১৩ টাকা ফ্লাটের কথা উল্লেখ করেছেন। আর বর্তমানে নিজের নামে ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্লট, ৩তলা একটি ভবন এবং স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৯১৩ টাকা ও ফ্লাটের কথা উল্লেখ করেছেন।

    দায়ের ক্ষেত্রে বিগত নির্বাচনে ২৩ হাজার ৬৭৯ টাকা ঋণের কথা উল্লেখ করলেও বর্তমানে আট লাখ টাকা ঋণের কথা উল্লেখ করেছেন।

    বরিশাল-৩ আসনে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান পেশা হিসেবে বর্তমান হলফনামায় কিছু না উল্লেখ করলেও বাড়ি ভাড়া ও এমপি হিসেবে মোট ভাতাসহ বছরে তার আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৪০ টাকা। যা বিগত নির্বাচনের সময় ছিল চার লাখ আট হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে পাঁচ বছরে তার আয় বেড়েছে প্রায় সাত গুণ। একইভাবে তার কয়েকগুণ বেড়েছে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ।

    বর্তমানে অস্থাবরের মধ্যে রয়েছে ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ২৬৭ টাকার সম্পত্তি ও ২০ তোলা অলঙ্কার এবং তার স্ত্রীর ৩১ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৫ টাকার সম্পত্তি ও ৩০ ভরি অলঙ্কার। আর দশম নির্বাচনী হলফনামায় তার নিজের অস্থাবরের মধ্যে ছিল চার লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পত্তি এবং তার স্ত্রীর নামে চার লাখ ২৯ হাজার ৫শ’ টাকার সম্পত্তি।

    বর্তমানে স্থাবর সম্পদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর যৌথভাবে আবাসিক দালান রয়েছে, যার মূল্যে একজনের ভাগে ৩০ লাখ ৭২ হাজার ৬শ’ টাকা দেখানো হয়েছে। বিগত সময়েও স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথভাবে আবাসিক দালান দেখানো হয়েছিল এবং যৌথভাবে অকৃষি জমি, যার মূল্যে এক লাখ ৫২ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।

    দায়ের ক্ষেত্রে বিগত হলফনামা অনুযায়ী ২০ লাখ ৬২ হাজার ৬শ’ টাকা ঋণ ছিল, আর বর্তমানে হাউজি বিল্ডিং ফিন্যান্স ও দু’টি ব্যাংকে ২৪ লাখ ১০ হাজার ৮৬৮ টাকা লোন রয়েছে এই প্রার্থীর।

    এদিকে, বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে কৃষিখাত, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া, ব্যবসা থেকে তার ও তার ওপর নির্ভরশালীদের বছরে আয় দুই কোটি ৪৮ লাখ ৫৮ হাজার ১৩৭ টাকা। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী কৃষিখাত, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার-সঞ্চয়পত্র/ব্যাংকে আমানত থেকে তার বছরে আয় ২৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৮ টাকা।

    বর্তমানে প্রার্থীর নিজের তিন কোটি ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ২২২ টাকার ও তার স্ত্রীর নামে তিন কোটি ২৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীর ছিল এক কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৪ টাকার সম্পদ ও তিন হাজার ৫শ’ মার্কিন ডলার এবং তার স্ত্রীর নামে ৩০ লাখ ৬৩ হাজার ২১২ টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছিল।

    বর্তমানে প্রার্থীর দুই কোটি ৭২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৮ টাকার ও তার স্ত্রীর ৩০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। ২০১৪ সালের হিসেবে প্রার্থীর ছিল এক কোটি ২১ লাখ ১১ হাজার ৪৯০ টাকার ও তার স্ত্রীর চার লাখ ৯০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ। এছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া যৌথ মালিকানার দু’টি পুরোনো বাড়ির একাংশ উভয় নির্বাচনের হলফনামায়ই উল্লেখ করেছেন প্রার্থী।

  • বরিশাল-২ অাসনে নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী

    বরিশাল-২ অাসনে নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী

    আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নারীসহ ৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

    তাঁরা হলেন শের-ই-বাংলার দৌহিত্র বানারীপাড়া উপজেলা আ’লীগের সদস্য এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার মিরা ও ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। এরা তিনজনই নৌকার টিকেট বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দলীয় হাইকমান্ড থেকে প্রথমে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.তালুকদার মো. ইউনুসের নাম ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে তা পাল্টে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহে আলম তালুকদারকে দেয়া হয়েছে।

    তবে আ’লীগের বিদ্রোহীদের এসব প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের কেউ বর্তমানে আওয়ামী লীগের দলীয় কোথাও কোনো পদে নেই।

    বিদ্রোহীদের ব্যাপারে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। কারণ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, বিদ্রোহীরা আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত হবেন। সেটা ঠিক থাকলে এক কথা, না থাকলে দল অন্য সিদ্ধান্ত নেবে।

    এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দা রুবিনা আক্তার মিরা বলেন, আমি ও আমার পরিবার দলের জন্য অনেক ত্যাগ করেছি। বিনিময়ে কিছুই পাইনি। এখন আমার পাওয়ার সময়। আর সেজন্যই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। তাই নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্তই আছি। দলের বিদ্রোহী হলে বহিষ্কার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কোনো দলীয় পদ নেই, তাই বহিষ্কার নিয়ে ভাবছি না।

    কথা বলার জন্য শের-ই বাংলার দৌহিত্র এ কে ফাইয়াজুল হক রাজুর মুঠোফোনে শনিবার রাতে একাধিকবার কল করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর এক ঘনিষ্ঠজন জানান, রাজু ভাই নৌকার টিকেট না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠেও থাকবেন।

    এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মিজদ সিকদার বাচ্চু বলেন, এই মুহুর্তে কাউকেই আমরা দলের বিদ্রাহী প্রার্থী হিসেবে মনে করছি না। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত তিনজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাদেরকে এখনও আমরা দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বলছি না। শেষ পর্যন্ত তারা যদি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকেন তাহলে তাদের ব্যাপারে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশানুযায়ী কঠিন সিন্ধান্ত নেয়া হবে।

    উল্লেখ্য এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২ হাজার ৩৬৯ জন। নতুন ভোটার ৪৩ হাজার ২৭৯। এর মধ্যে উজিরপুর উপজেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ১ জন ও বানারীপাড়া উপজেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৮ জন ভোটার। নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬ জন। এ আসনের উজিরপুরে ৮৩টি ও বানারীপাড়ায় ৫৩টি সহ মোট ১৩৬টি ভোট কেন্দ্র।

    তবে এ আসনে একক কোনো দলের আধিপত্য নেই বলে নব্বইয়ের পর ৬টি নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি ও জেপির (মঞ্জু) প্রার্থীরাও বিজয়ী হয়েছেন। দেশের প্রথম নির্বাচনে এ আসন থেকে জেতে আওয়ামী লীগ। এরপর তা ফিরে পেতে লেগেছে ৩৬ বছর।

    স্বাধীনতা পর এই আসনে সবচেয়ে বেশি ৪ বার সংসদ সদস্য পেয়েছে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ ৩, ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিএনপি জিতেছে দুই বার।

  • ২রা ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২১ বছর পূর্তি

    ২রা ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২১ বছর পূর্তি

    পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ২১ বছর পূর্তি।প্রায় দুই দশকেরও বেশি পার্বত্য চট্টগ্রামে তৎকালীন শান্তি বাহিনীর রক্তের হোলি খেলার অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি।১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষে তৎকালিন চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লার সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

    শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে শান্তি বাহিনীর শীর্ষ গেরিলা নেতা সন্তু লারমা তার বিপুলসংখ্যক সহযোগীদের নিয়ে অস্ত্র সমর্পণের মধ্য দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। সরকার তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ প্রদান করে।

    শান্তি চুক্তির পর কেটে গেছে বিশটি বছর। একের পর এক চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে পাহাড়জুড়ে। এরপরও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কম বেশি বিতর্ক রয়েছে। সরকারের দাবি চুক্তির অধিকাংশ ধারাই ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। অবশিষ্ট কিছু ধারা বাস্তবায়নাধীন। তবে জেএসএসের এ শান্তি চুক্তি সম্পাদনের বিরোধিতায় রয়েছে সংগঠনটির বিবদমান একটি গ্রুপ। পরবর্তীতে যারা ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট) নামে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করে। যারা এ দিনটিকে ‘গণগ্লানি দিবস’ নামে আখ্যায়িত করেছে। অপরদিকে, বাঙালীদের সংগঠন সম অধিকার আন্দোলন এ দিনটিকে কালো দিবস আখ্যা দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় পালন করবে নানা কর্মসূচী।

    শান্তি চুক্তির পর জেএসএসের সামরিক উইং শান্তি বাহিনী বিলুপ্ত ঘোষিত হয়েছে। এ উইংয়ের সদস্যদের অনেককে সরকার নানাভাবে পুনর্বাসিত করেছে। এর পাশাপাশি পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য গত বিশ বছরে যে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে নানা স্থাপনা প্রতিষ্ঠা হয়েছে তা অভাবনীয় হলেও জেএসএসবিরোধী গ্রুপের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ অব্যাহত রেখেছে। যে কারণে গত দুই দশকে জেএসএস ও ইউপিডিএফের বিভক্ত চার গ্রুপ নিজেদের ও আইনশ্ঙ্খৃলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন পয়েন্টে সংঘর্ষে জড়িয়ে এ পর্যন্ত সাত শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক প্রাণ হারিয়েছে। অন্তর্কোন্দলে জড়িয়ে থাকা এসব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগ রয়েছে। মূলত গেরিলা যুদ্ধের অবসান ঘটে শান্তি প্রতিষ্ঠা হলেও জেএসএস ও ইউপিডিএফের অন্তর্কোন্দলে এখনও প্রতিনিয়ত রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে সবুজের পাহাড়। ফলে সামগ্রিক অর্থে শান্তির সুবাতাস বয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এতে ঝরছে তাজা প্রাণ। চুক্তির পর একে একে কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস (সন্তু), জেএসএস (এমএন লারমা), ইউপিডিএফ (প্রসিত) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষের অবসান ঘটছে না। এতে করে পাহাড়জুড়ে পাহাড়ী-বাঙালীদের মাঝে আতঙ্কের অবসান এখনও ঘটেনি।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ তিন পার্বত্য জেলায় ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে পার্বত্য শান্তি চুক্তির একুশ বছর পূর্তি পালনের ব্যাপক কর্মসূচী নেয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেএসএস (সন্তু) ও জেএসএস (লারমা) গ্রুপ পৃথক পৃথক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। অপরদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সম্পাদনকে দল ও সরকারের জন্য বড় সাফল্য- এ বিবেচনায় তিন পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগও নানা কর্মসূচী পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। শান্তি চুক্তির অন্যতম ফসল প্রতিষ্ঠিত পার্বত্য জেলা পরিষদ দিনব্যাপী আনন্দ উল্লাসের পাশাপাশি বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তিন পার্বত্য জেলায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামে স্থানীয় সেনা রিজিওন যে কনসার্টের আয়োজন করেছে তাতে দেশবরেণ্য শিল্পীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হবেন। এর পাশাপাশি শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তি জেএসএসের উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায়ও পালনের কর্মসূচী নেয়া হয়েছে।

    এদিকে বাঙালীদের সংগঠন সমঅধিকার আন্দোলন চুক্তি সম্পাদনের এ দিনটিকে কালো দিবস আখ্যায়িত করেছে। তাদের উদ্যোগে তিন পার্বত্য জেলায় প্রতিবাদ দিবস পালন করবে। সম অধিকার আন্দোলনের পক্ষ থেকে চুক্তি বাতিলের পরিবর্তে কিছু ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করে এর সংশোধন চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া চুক্তির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ইউপিডিএফ দিনটিকে গণগ্লানি দিবস পালন করে আসছে। এ উপলক্ষে তাদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

    পার্বত্য শান্তি চুক্তির শর্তানুযায়ী ১৯৯৮ সালের ৬ মে প্রতিষ্ঠা করা হয় স্থানীয় সরকার পরিষদ। আইন সংশোধনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম আইন সংসদে পাস হয়। গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এরপর গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ। এরপর একে একে চলে আসছে উন্নয়নের এক মহাযজ্ঞ। যার প্রেক্ষাপটে গত ২০ বছরে চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি পূর্ণ বাস্তবায়ন, ১৫টির আংশিক বাস্তবায়ন এবং ন’টি ধারার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় হস্তান্তরযোগ্য ৩৩টি বিষয়ের মধ্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৩০টি, খাগড়াছড়িতে ৩০টি এবং বান্দরবান জেলা পরিষদে ২৮টি বিষয় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    চুক্তির পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন সাািধত হয়েছে এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। যার প্রেক্ষাপটে পাহাড়ের মানুষ অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে। স্বাধীনতার আগে পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে ছিল ৪১ কিলোমিটার সড়ক। যা বর্তমানে ১ হাজার ৫৩৫ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ব্রিজ ও কালভার্ট। পাশাপাশি তিনটি স্থলবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। এসবের পাশাপাশি টেলিযোগাযোগের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি ১২০টি এনজিও কাজ করছে সামগ্রিক উন্নয়নে। এসবের পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিপুলসংখ্যক উন্নয়ন পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। যা পাহাড়ী-বাঙালী নির্বিশেষে সকলের জন্য বড় ধরনের সুফল বয়ে এনেছে।

    এরপরও পাহাড়ী কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে এক ধরনের অস্থির ও ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। অভ্যন্তরীণ পক্ষ-বিপক্ষ গ্রুপের সশস্ত্র তৎপরতা, অপহরণ, খুন, গুম, চাঁদাবাজি ইত্যাদি ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটে চলেছে। যা সবুজ পাহাড়ের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এদিকে, সন্তু সমর্থিত জেএসএস এ দিনটিকে ‘প্রতিশ্রুতি নয়, চুক্তির প্রকৃত বাস্তবায়ন চাই’- এ স্লোগানে নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। জেএসএস এর কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সচিব চাকমা জানিয়েছেন, চুক্তির একুশ বছর পূর্তি সামনে রেখে তাদের সংগঠন আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবে।

    এছাড়া ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে হবে আলোচনা সভা। এর পাশাপাশি খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানেও নানা কর্মসূচী পালিত হবে। পক্ষান্তরে, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সম্পাদনকে আওয়ামী লীগের জন্য বড় সাফল্য দাবি করে তিন পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগ ও পার্বত্য জেলা পরিষদ পালন করবে নান কর্মসূচী। বিপরীতে বাঙালীদের সম অধিকার আন্দোলন পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তুতি নিয়েছে।

  • স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি জামায়াত শিবির ও হেফাজত

    স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি জামায়াত শিবির ও হেফাজত

    মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত এক প্রস্তাবে জামায়াত ইসলামী , ইসলামী ছাত্রশিবির ও হেফাজতে ইসলামকে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে থামাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধিসভায় গত ২০ নভেম্বর প্রস্তাবটি এনেছেন ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি জিম ব্যাঙ্কস। প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তা পাঠানো হয়েছে প্রতিনিধিসভার পররাষ্ট্র-বিষয়ক কমিটিতে।

    ‘বাংলাদেশে ধর্মের নামে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলোর কারণে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সৃষ্ট হুমকির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ’ শীর্ষক উত্থাপিত ওই প্রস্তাবে গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন এবং তাদের সঙ্গে অংশীদারি বন্ধ করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    ওই প্রস্তাবের চারটি দফার প্রথমটিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের প্রতি জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও হেফাজতে ইসলামের মতো কট্টর গোষ্ঠীগুলোর হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে এসব গোষ্ঠীগুলোকে থামাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃতীয় দফায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধকে গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি। চতুর্থ দফায় জামায়াত, শিবির ও হেফাজতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন এবং তাদের সঙ্গে অংশীদারি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য উল্লেখ করে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গত জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি,জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। তাদের হামলায় হিন্দুদের ৪৯৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিন্দুদের ৫৮৫টি দোকানে হামলা বা লুট হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙচুর হয়েছে ১৬৯টি মন্দির।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সম্প্রতি হামলার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত। এ ছাড়া বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও আহমদিয়া মুসলমানদের ওপর ধর্মীয় উগ্রবাদীরা হামলা চালিয়েছে। হেফাজতে ইসলাম অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে পুরোপুরি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে আন্দোলন চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে। এতে বলা হয়েছে, দাবি মানা না হলে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদের হুমকি দিয়েছে হেফাজত।

  • রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরপ্রতীক তারামন বিবির দাফন সম্পন্ন

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরপ্রতীক তারামন বিবির দাফন সম্পন্ন

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় একাত্তরের রণাঙ্গনের বীরকন্যা বীরপ্রতীক তারামন বিবির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে বাদ জোহর মরহুমাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। পরে উপজেলার কাচারীপাড়া গ্রামে তার পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।

    এসময় উপস্থিত থেকে বীর প্রতীক তারামন বিবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী বীর বিক্রম, মুক্তিযোদ্ধা মেজর তাজ, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম টুকু, গণজাগরন মঞ্চের উদ্যোক্তা ইমরান এইচ সরকার, সাবেক এমপি জাকির হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

    বীর প্রতীক তারামন বিবি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস, ডায়েবেটিস আর শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছিলেন। গত ৮ নভেম্বর রাজীবপুর থেকে নিয়ে ময়মনসিংহ সিএমএইচে (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) ভর্তি করা হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয় তারামন বিবিকে। সেখানে চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে সপ্তাহখানেক আগে তাকে রাজীবপুরের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তারামন বিবির শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হয়। তখন তাকে রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বাড়িতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। কিন্তু রাত দেড়টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তারামন বিবি।

  • জনগণের রায় আওয়ামী লীগের পক্ষেই আসবে: হানিফ

    জনগণের রায় আওয়ামী লীগের পক্ষেই আসবে: হানিফ

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বর্তমান কমিশনের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের রায় দেবে এবং সেই রায় আওয়ামী লীগের পক্ষেই আসবে।

    শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথ সভায় তিনি এ কথা বলেন। শহর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি উপলক্ষে এই যৌথ সভার আয়োজন করা হয়।

    হানিফ বলেন, বিএনপি প্রতিদিনই বলছেন এই নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের আস্থা নেই। তাদের আস্থা আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশনের ওপর। নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে গেলে সেই নির্বাচন ভাল আর বিপক্ষে গেলে সেই নির্বাচন খারাপ, এই হলো বিএনপির চরিত্র।

    ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ কয়টি আসন পাবে সে বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে মির্জা ফখরুল সাহেব নিজের আসনে জয়লাভ করতে পারবে কিনা সেই বিষয়ে মাথা ঘামান।

    কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খানের সভাপতিত্বে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    এসময় জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রিন্স সালমান ও পুতিনের ‘হাই-ফাইভ’ বিনিময়

    প্রিন্স সালমান ও পুতিনের ‘হাই-ফাইভ’ বিনিময়

    আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এয়ারসে শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রভাব প্রতিপত্তিশীল ১৯ দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের নিয়ে গঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে গিয়ে আধুনিক স্টাইলে ‘হাই-ফাইভ’ বিনিময় করেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মোহাম্মদ বিন সালমান।

    শুক্রবার জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের প্লিনারি সেশনে তারা পাশাপাশি আসনে বসেছিলেন এই ‘হাই-ফাইভ’ বিনিময়ের পাশাপাশি মন খুলে হাসি-আড্ডায় মেতে উঠেন। খবর- বার্তা সংস্থা রয়টার্স’র।

    এর আগে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

    সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগি অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে হত্যার শিকার হন। সেই হত্যাকাণ্ডে ক্রাউন প্রিন্স জড়িত থাকতে পারেন বলে সংশয় রয়েছে। এ ওই সম্মেলনে ক্রাউন প্রিন্সের দিকে বাঁকা চোখে তাকাচ্ছেন অন্য নেতারা। কিন্তু তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশ করলেন পুতিন।