Category: রাজণীতি

  • রাজশাহীতে আ.লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা নিহত

    রাজশাহীতে আ.লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা নিহত

    রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) এনামুল হক ও দলের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এসময় অাহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
    শনিবার দুপুরে তাহেরপুরের হরিতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানান বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ। এ ঘটনায় পুলিশ তিন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত দুইজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
    নিহত যুবলীগ নেতার নাম চঞ্চল চন্দ্র। তিনি তাহেরপুর পৌরসভার হলদারপাড়ার নরেন চন্দ্রের ছেলে। চঞ্চল চন্দ্র পৌরসভা যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চঞ্চল। তার পিঠে একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা যায়।
    বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ জানান, বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মেয়র আবুল কালাম আজাদের সমর্থকরা জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও এমপির সমর্থক গুলবার রহমানকে মারপিট করে জখম করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনার জের ধরে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে তাহেরপুর হরিতলা এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
    তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে এমপির সমর্থক গুলবার ও কাওসার আলী এবং মেয়রের সমর্থক চঞ্চল চন্দ্রকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবলীগ নেতা চঞ্চল মারা যান। এ ঘটনায় তাহেরপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তাহেরপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মাহাবুর রহমান বিপ্লবসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
  • বরিশালের ৬ আসনে ৫ প্রার্থী ‘স্বশিক্ষিত’

    বরিশালের ৬ আসনে ৫ প্রার্থী ‘স্বশিক্ষিত’

    আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ৬ আসনে ৫১ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এদের মধ্যে ১৬টি দলের ৪৩ জন ও ৮জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।

    যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যানারে। তবে প্রতিটি আসনে বিএনপির দু’জন করে মনোনয়ন দাখিল করায় সর্বোচ্চ ১২ জন প্রার্থীই এ দল থেকে মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

    মনোনয়ন দাখিলকারী প্রার্থীদের মধ্যে হলফনামায় মোট পাঁচজন নিজেদেরকে উল্লেখ করেছেন স্বশিক্ষিত হিসেবে। এছাড়া দু’জন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পাস এবং তিনজনের লেখাপড়া থেমেছে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পাসের পর। বাকিদের মধ্যে চারজন প্রকৌশলী, পাঁচজন এলএলবি, সাতজন গ্রাজুয়েট ও বাকীরা স্নাতকোত্তর। আর মোট প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন পড়াশোনা করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষায়।

    বরিশাল-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুস সোবাহান বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার(সিভিল)ও একইদলের অপর প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন এমএসএস পাস, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলহাজ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও জাকের পার্টির মো. বাদশা মিয়া স্বশিক্ষায় শিক্ষিত এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদার এইচএসসি পাস।

    বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহে আলম এমএসসি পাস, বিএনপির সৈয়দ শহিদুল হক জামাল স্বশিক্ষিত ও একইদলের অপর প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ এসএসসি পাস, জাতীয় পার্টির মো. মাসুদ পারভেজ এমএ (মাস্টার্স) পাস, এনপিপির সাহেব আলী স্বশিক্ষিত, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির জহরুল ইসলাম এসএসসি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন কামিল মাস্টার্স পাস।

    এদিকে এই আসনে পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে এ কে ফাইয়াজুল হক ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ) পাস, এম মোয়াজ্জেম হোসেন এমবিএ পাস, মো. শাহ আলম মিয়া বিএ পাস, মো. আনিসুজ্জামান ও সৈয়দা রুবিনা আক্তার এলএলবি পাস।

    বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির সেলিমা রহমান সমাজবিজ্ঞানে এমএসএস ও একই দলের জয়নুল আবেদীন এমএ পাস ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম কামিল পাস, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. নুরুল ইসলাম বিএবিএড পাস, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান এলএলবি পাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান বিএসসি পাস, বিকল্পধারা বাংলাদেশের এনায়েত কবির উচ্চ মাধ্যমিক ও জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

    বরিশাল-৪ আসনে বিএনপির মেজবাউদ্দীন ফরহাদ এমকম ও একই দলের জেএম নুরুর রহমান এলএলবি পাস, আওয়ামী লীগের পঙ্কজ নাথ বিএসসি অনার্স পাস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাহাবুবুল আলম মাস্টার্স পাস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ মো. নুরুল কারীম দাওরা হাদিস পাস, বিএনএফ’র এনামুল হক বিএসএস (অনার্স) পাস, ইসলামী ঐক্যজোটের সাইফুল্লাহ দাওরা হাদীস পাস এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রুহুল আমিন স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

    বরিশাল-৫ সদর আসনে বিএনপির মজিবর রহমান সরওয়ার এলএলবি ও একই দলের অপর প্রার্থী মো. এবায়েদুল হক চাঁন উচ্চ মাধ্যমিক পাস, আওয়ামী লীগের জাহিদ ফারুক স্নাতক (বিএ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শামীমা নাসরিন এমএ পাস, জাতীয় পার্টির এ কে এম মুরতজা আবেদীন এম এ পাশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতী সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম কামিল পাস ও বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আবদুস ছাত্তার এমএ পাস।

    বরিশাল-৬ আসনে জাতীয় পার্টির নাসরিন জাহান রতনা স্বশিক্ষিত, জাতীয় পার্টির (জেপি) খন্দকার মাহাতাব উদ্দিন বিএসসি পাস, বিএনপির আবুল হোসেন খান এমএসএস ইন সোসিওলজি ও একই দলের আবুল হোসেন খান এমএসএস পাস, গণফোরামের মো. ফোরকান আলম খান এমএসসি ইঞ্জিনিয়ার, জাসদের মো. মোহসীন ডিপ্লোমা ইন কমার্স, গণফোরামের হিরণ কুমার দাস এলএলবি পাস, ইসলামী আন্দোলনের মো. নুরুল ইসলাম (আল আমীন) কামিল পাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী তালুকদার (ফারুক) এমবিএ পাস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হোসেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের এ কে এম নুরুল ইসলাম স্নাতকোত্তর পাস।

  • তোমার একটি ভোট পুরো দেশকে পাল্টে দিতে পারে : ফেরদৌস

    তোমার একটি ভোট পুরো দেশকে পাল্টে দিতে পারে : ফেরদৌস

    তোমার একটি ভোট পুরো দেশকে পাল্টে দিতে পারে’ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে এমনটাই বললেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস।  রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সামাজিক সংগঠন ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক সেমিনারে তরুণ ভোটারদের ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    ফেরদৌস বলেন,‘আমরা জানি অনেক তরুণ ভোটার ভোট দিচ্ছেন এবার। এই সংখ্যা ২ কোটির উপরে। যাদের অনেকের বয়স ১৮-১৯ বছরের মধ্যে। অনেক টিনেজার আছেন, যারা ভাবেন আমি একটি ভোট না দিলে কী হবে। কিন্তু তাদের এটা বোঝাতে হবে যে তোমার এক একটি ভোট অসম্ভব মূল্যবান। একেকটি অস্ত্রের মতো। তোমার একটি ভোট পুরো দেশকে পাল্টে দিতে পারে।

    তিনি আরো বলেন,‘ আমরা দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা করছি, অনেক তারকারাও যুক্ত হয়েছেন। কারণ দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আমি তোমাদের অনুরোধ করব, ৩০ তারিখে তোমরা সবার আগে ভোট দেবে এবং যে কালো দাগটি হাতে দেয়া হয় সেটিসহ সেলফি তুলে পোস্ট করবে, উদযাপন করবে। সেটি হবে সেদিনের সবচেয়ে বড় প্রচারণা।

    এ আলোচনায় অংশ নেন দেশের অভিনেতা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। তরুণরাও আসন্ন নির্বাচনে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

  • সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কী হবে?

    সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কী হবে?

    নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসবে কি না কিংবা দেশীয় পর্যবেক্ষকদের মূর্তির ভূমিকা পালনের শর্ত নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে অল্পস্বল্প বিতর্ক শোনা যাচ্ছে। এই বিতর্কের দুটো দিক প্রাধান্য পাচ্ছে। একটি হচ্ছে সাংবাদিকদের প্রতি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা, যা অনেকটাই দেশীয় পর্যবেক্ষকদের অনুরূপ। ফলে ভোটের দিনে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে সম্প্রচারমাধ্যমসহ সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন দলের প্রতি আনুগত্য ও পক্ষপাতের কারণে খবর এবং টক শোতে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ঘাটতি।

    গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার কিছু নেই। মুক্ত সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কয়েক বছর ধরেই দেশের ভেতরে ও বাইরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হচ্ছে এবং এসব দাবিতে সংগ্রাম চলছে। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধী ও নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের অঙ্গীকার করার জন্য সম্পাদক পরিষদও সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আপাতত নির্বাচনী হাওয়ায় সংবাদমাধ্যমও কিছুটা স্বাধীনতা ভোগের সুযোগ নিতে পারছে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার যথার্থ ব্যবহার হচ্ছে কি? কেননা, নির্বাচনের সময় সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। দলীয় আনুগত্যের কারণে সাধারণ মানুষকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য থেকে বঞ্চিত করা কিংবা পক্ষপাতমূলক নীতি অনুসরণ করা সংবাদমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি বিশ্বাসভঙ্গেরই নামান্তর।

    এ প্রসঙ্গে আরও আলোচনার আগে নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের গৌরবময় ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা একটু স্মরণ করতে চাই। বিভিন্ন দেশের নির্বাচন পরিচালনার নীতির ওপর ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের এই প্রশংসার উল্লেখ রয়েছে (কোডস অব কনডাক্ট ফর ইলেকশনস, এ স্টাডি প্রিপেয়ার্ড ফর দ্য ইন্টারন্যাশনাল পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন, গাই এস গুডউইন গিল)। এতে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের বিষয়ে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করে বলা হয়: বাংলাদেশ টেলিভিশন নির্বাচনী প্রচারের সময়ে প্রধান দলগুলোকে নীতিনিষ্ঠভাবে সমান সময় বরাদ্দ করেছে। অধিকাংশ পত্রিকা প্রকাশ্যে কোনো দলের পক্ষে ছিল না। একজন রাজনৈতিক নেতার খবর প্রকাশে ঠিক যতটা জায়গা তারা খরচ করেছে, ঠিক ততটাই দিয়েছে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষার কাগজগুলোই (দু–একটি ব্যতিক্রম ছাড়া) ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য কোনো কিছুর পক্ষে সম্পাদকীয় অবস্থান নেয়নি।

    আইপিইউর প্রকাশনায় ১৯৯১ সালের কথাও এসেছে। কেননা, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ৬৭টি রাজনৈতিক দল আলোচনায় বসে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি আচরণবিধি তৈরি করেছিল। ওই আচরণবিধিতে মাত্র ১৬টি দফা ছিল, যেগুলো এখনো সমভাবে প্রযোজ্য। তবে ওই আচরণবিধি তৈরির পেছনে ছিল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে নির্বাচন সমন্বয় কমিটি গঠন। কোনো ধরনের ভুল–বোঝাবুঝি থেকে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলে তা নিরসনের জন্য ওই কমিটিতে তা আলোচনার ব্যবস্থা ছিল। এসব ইতিহাস এখন আমাদের কাছে অনেকটাই বিস্মৃত, আর নতুন প্রজন্মের কাছে অজ্ঞাত। কেননা, স্বৈরশাসক এরশাদের প্রায় এক দশকের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণ–অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যতটা নৈকট্য তৈরি হয়েছিল, গত ২৮ বছরে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দূরত্ব, অবিশ্বাস এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্বেষের জন্ম হয়েছে। তা ছাড়া গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের প্রথম দেড় দশকে রাজনীতিতে যে ভারসাম্য বজায় ছিল, গত এক দশকে উপরিকাঠামোতে তা অনেকটাই বদলে ফেলা হয়েছে।

    সংবাদমাধ্যমের চিত্রটাও এখন অনেক আলাদা। ১৯৯৬ সালেও বেসরকারি খাতে সম্প্রচারমাধ্যমের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু এখন বেসরকারি খাতই প্রধান হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক স্বার্থে দলীয় আনুগত্যের নিরিখেই বেসরকারি খাতে টিভি চ্যানেল এবং রেডিওর সম্প্রসারণ ঘটেছে। সংবাদপত্রের সংখ্যা বৃদ্ধিও সংবাদমাধ্যমে বহুত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক আনুগত্য একটা বড় বিচার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমালোচনা তা সে যত বস্তুনিষ্ঠই হোক না কেন, তা দমনে একেবারেই নতুন কৌশলের চর্চা—যেমন বেসরকারি বিজ্ঞাপনদাতাদের বিজ্ঞাপন প্রকাশে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ—নৈমিত্তিক রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক কারণে বিশেষ সুবিধাভোগীদের অনেকের পক্ষেই তাই দলীয় স্বার্থের বাইরে বেরিয়ে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার নীতি অনুসরণ সম্ভব কি না, তা একটা বড় প্রশ্ন।

    নির্বাচনের সময় সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রচার, সম্পাদকীয় ও মন্তব্যকে সুস্পষ্টভাবে আলাদা রাখা গণমাধ্যমের বিশেষ দায়িত্ব। নির্বাচনের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও দল যাতে সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করা সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর যেমন দায়িত্ব, ঠিক তেমনি সাংবাদিকদের দায়িত্ব পেশাদারির পরিচয় দেওয়া। এই নিরপেক্ষতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমসুযোগ দেওয়ার বিষয়টি শুধু রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে, বিষয়টি এমন নয়।

    বিশ্বের বহু দেশে ব্যক্তিমালিকানার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এসব নিয়ম মেনে চলতে হয়। সম্প্রচারমাধ্যম, অর্থাৎ টিভি ও রেডিওর ক্ষেত্রে ব্রিটেনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে এই ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ করতে হয়। ফ্রান্সে এই নীতি লঙ্ঘন করলে টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স বাতিলের বিধান আছে। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের বিজ্ঞাপন গ্রহণের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। বাংলাদেশে যেহেতু কোনো আইনে এ ধরনের নীতিমালা নেই, সেহেতু ‘যেমন খুশি তেমন নীতি’ অনুসরণের চর্চা প্রকট হয়ে উঠছে। অথচ এই খাতের উদ্যোক্তারা এবং সম্পাদকীয় নেতৃত্ব স্ব-উদ্যোগে পুরো সম্প্রচারশিল্পের জন্য এ ধরনের নীতিমালা তৈরি করে নিতে পারেন।

    প্রতিবেশী দেশ ভারতে নির্বাচন কমিশন সংবাদমাধ্যমের জন্য আলাদা কোনো নীতিমালা না করলেও তাদের সামগ্রিক আচরণবিধিতে তফসিল ঘোষণার পর সরকারি টাকায় কারও স্তুতি, সরকারের কোনো অর্জন কিংবা কার্যক্রম প্রচার করতে পারে না। আমাদের সংবাদমাধ্যমে এগুলো এখন অবাধেই চলছে। অবশ্য বেসরকারি খাতের নানা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ধরনের প্রচার বেশি হচ্ছে বলেই মনে হয়। তবে তা রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ব্যয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। এতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ক্ষমতাসীনেরাই।

    নির্বাচনী প্রচারে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর নীতিগুলোর বিচার-বিশ্লেষণ ভোটারদের জন্য খুবই জরুরি। সুতরাং, সম্প্রচারমাধ্যমে এসব বিষয়ে বিতর্কের আয়োজন সব দেশেই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের বিতর্ক আজ অবধি সম্ভব হয়নি। তবে প্রথম দুটি নির্বাচনে আলাদা করে দুই দলের নেতারা বাছাই করা প্যানেলের মুখোমুখি হয়েছিলেন। উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের বিতর্ক আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে থাকে নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত নিরপেক্ষ একটি কমিশন।

    বাংলাদেশে অবশ্য অতীতে নির্বাচন কমিশন নেপথ্যে কিছুটা ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু এ রকম কোনো চিন্তা এবার তাদের আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বরং সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বাছাই করা শ দেড়েক তরুণের সঙ্গে একটি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন, যেটি চলতি মাসের কোনো একসময়ে টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করবে। গণভবনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই। এই অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিগুলোর কতটা বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ ও নিবিড় পর্যালোচনা সম্ভব হয়েছে, তা সম্প্রচারের পরই বোঝা যাবে। তবে এটি যদি দলীয় কোনো প্রচারমূলক অনুষ্ঠান হয়, তবে তা নতুন কিছু প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

    আওয়ামী লীগের প্রচার বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের আঙ্গিক কেন বাছাই করে নিলেন, তা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে উন্মুক্ত জনবিতর্কে অন্য অনেক রাজনীতিকের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো করেন। আজ থেকে ১৭ বছর আগে ২০০১–এর অক্টোবরে নির্বাচনের সময় তিনি বিবিসি রেডিওতে টেলিফোনে সরাসরি শ্রোতাদের অনেক কঠিন কঠিন সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন। সঞ্চালক হিসেবে কয়েকটি প্রশ্নে আমারই অস্বস্তি হচ্ছিল। অথচ তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেগুলোর উত্তর দিয়েছিলেন। সে সময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে একই ধরনের অনুষ্ঠান করতে চাইলেও আমরা ব্যর্থ হয়েছিলাম।

    সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে কমিশনের তরফে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়নি। তবে কমিশনের সচিব ভোটের দিন সাংবাদিকেরা কী করতে পারবেন আর কী পারবেন না, তার কিছু ফিরিস্তি দিয়েছেন। তাঁর ওই সব বক্তব্য থেকে ধারণা হয় যে নির্বাচন বোধ হয় শুধু ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ। কেননা, তাঁর নির্দেশনাগুলো সবই ভোটকেন্দ্রভিত্তিক। পর্যবেক্ষকদের মতোই সাংবাদিকদের জন্যও নির্দেশনা হচ্ছে তাঁরা কোনো ভোটকেন্দ্রে একটানা অবস্থান করতে পারবেন না, ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে পারবেন না, সেখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না ইত্যাদি।

    ভোটকেন্দ্রে একটানা অবস্থান করতে না দেওয়া এবং সরাসরি সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো বিশেষভাবে সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, আমরা জানি ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক ক্যামেরা নিয়ে বসে থাকার কারণে ভোটার উপস্থিতির হার নিয়ে তৎকালীন কমিশনের মিথ্যাচার ধরা পড়ে গিয়েছিল।

    সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে বাক্স ভর্তি করার ছবি কিংবা ব্যালটে আগে থেকে সিল মারা থাকার ছবিগুলোও সরাসরি সম্প্রচারের কারণেই সবাই জানতে পেরেছেন। সরাসরি সম্প্রচার বা একটানা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকা বন্ধের চেষ্টার উদ্দেশ্য তাই সৎ বলে মনে হয় না।

    ভোট গ্রহণের কাজে যাতে বাধা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য একসঙ্গে বহু সাংবাদিকের একই কেন্দ্রে অবস্থান হয়তো যৌক্তিক নয়, কিন্তু ভিড় নিয়ন্ত্রণ আর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা এক নয়। একইভাবে শান্তিপূর্ণ ভোট হলে ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে কেউ সরাসরি সম্প্রচার করবেন সেটা যেমন প্রত্যাশিত নয়, তেমনি গোলযোগ হলে কেন্দ্রের বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকে সেই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারে বাধা দেওয়াও যৌক্তিক নয়। কোনো অনিয়ম, গোলযোগ সরাসরি সম্প্রচার করলে তার হয়তো কিছু প্রভাব জনজীবনে পড়তে পারে, কিন্তু সত্য প্রকাশ এবং প্রচারের ক্ষেত্রে তা কোনো বাধার কারণ হতে পারে না।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কমিশন যে মতবিনিময় সভা করেছিল তার আলোকে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ বা অবাধ তথ্যপ্রবাহে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি, কমিশন অতীতের ভালো নজিরগুলোর দিকে ফিরে তাকাবে এবং ভোটের আগে যেমন সব পক্ষের জন্য সুষম সুযোগ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেবে, তেমনি ভোটের দিনে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে না।

  • নৌকা-ধানের শীষ ‘মোর দেন সেম’: সিপিবি

    নৌকা-ধানের শীষ ‘মোর দেন সেম’: সিপিবি

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রথম দল হিসেবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি—সিপিবি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। বড় দলগুলোর সমালোচনা করে তারা বলেছে, তারা অযৌক্তিক, অবান্তর বিষয়গুলো নিয়েই বেশি আলোচনা করে। ফলে নির্বাচনের কোনো ‘হেলদি পরিবেশ’ থাকে না।

    আজ শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে দলীয় কার্যালয়ে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এই ইশতেহার ঘোষনা করেন। তিনি বলেন, দেশ বহুদিন ধরে দ্বিদলীয় দুঃশাসনের বৃত্তে আটকা পড়েছে। ফলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। নৌকা বা ধানের শীষ নীতি–আদর্শের বালাই না করে নিজেদের সুবিধামতো রাজনীতি করে, তারা ‘মোর দেন সেম’ (একই জিনিস)। এই বৃত্ত ভাঙতে রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক অবস্থা পাল্টে দিতে হবে ।

    মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে গেছে। এই পরিবর্তন যে সম্ভব, তা সাম্প্রতিক অনেক ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন, যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর বিদ্রোহ, সুন্দরবন ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন প্রমাণ করেছে সঠিক নির্দেশনা পেলে এই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

    সিপিবির ইশতেহারে ৩০টি ধারা ও ১৫১টি উপধারা রয়েছে। তাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংবিধান, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও রাজনীতির সংস্কার সাধন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন, নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়গুলো রয়েছে।

    এ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও বৈষম্য হ্রাস, ঘুষ-দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে শূন্যসহিষ্ণুতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ, বিকল্প অর্থনৈতিক নীতি ও ব্যবস্থাপনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-দুর্বৃত্তায়ন-মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কৃষি, কৃষক, গ্রামীণ মজুরের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবনমান উন্নয়ন, দেশীয় শিল্পের বিকাশ, শ্রমিক ও কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা ও চিকিৎসার নামে ব্যবসা বন্ধ, তারুণ্যের সম্পদ কাজে লাগানো, শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধ-দুস্থদের অধিকার নিশ্চিত করা, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো রয়েছে।

    ইশতেহারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, সম্প্রচার নীতিমালার সংস্কার, স্থানীয় সরকারের হাতে বাজেটের নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে সংসদকে তদারকি ও আইন প্রণয়ন সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, রুটিন কাজের নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান সংবিধানে যুক্ত করা, নিচ থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রম পরিচালনা, ‘কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা স্কিম’ চালু, ন্যায়পাল চালু ও দুদককে শক্তিশালী করা, উৎপাদক সমবায় ও ক্রেতা সমবায় গঠন করে তাঁদের মধ্যে সরাসরি মার্কেটিং চালু করা, আমূল ভূমি সংস্কার, নতুন শ্রম আইন প্রণয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, ইউনিয়নে মাতৃসদন, শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা কেন্দ্র ও গণস্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র গড়ে তোলা, জাতিসংঘ পানি প্রবাহ আইন ১৯৯৭ এ অনুস্বাক্ষর করা এবং জোট-নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।

    ইশতেহার প্রকাশ উপলক্ষে আজকের সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমাদের ইশতেহার গ্রাম অভিমুখী, গরিববান্ধব। লুটপাট করে যাঁরা সম্পদের মালিক বনেছেন তা পুনর্বণ্টন করে গরিব জনগণের স্বার্থে এবং জাতির উন্নয়নে ব্যয় করব। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। আমাদের সমস্ত কার্যক্রম চলবে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের ভিত্তিতে। রাজনীতিতে কেবল সংসদের ওপর ভিত্তি করে কার্যক্রম চলবে না। সংসদ আইন প্রণয়ন করবে, তদারকি করবে। কিন্তু রাষ্ট্রের বিশাল অংশের কাজ হবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে।

    এক প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আর অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন এক না। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিস্থিতি দেশে নেই। তিনি বলেন, দেশের সামাজিক ব্যবস্থা কী হবে; রাজনীতি, অর্থনীতি কেমন হবে, সেগুলো নিয়ে বড় দলগুলো আলোচনা করে না। তারা অযৌক্তিক, অবান্তর বিষয়গুলো নিয়ে তর্কবিতর্ক করে থাকে। তারা এসব নিয়ে কথা বললে হেলদি ডিবেট হবে।

    এ সময় সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, সহসাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, আহসান হাবিব লাবলু, জলি তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত

    তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত

    বিশ্ব ইজতেমায় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আজ শনিবার ভোর থেকে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দানের ১ নম্বর প্রবেশফটকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে ৫০ থেকে ৬০ জন আহত হন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহত ব্যক্তিদের টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও উত্তরার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন রয়েছে। মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা টঙ্গীর বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইকে তাঁদের পক্ষের মুসল্লিদের ইজতেমা ময়দান দখলের আহ্বান জানাচ্ছেন এবং তাঁদের অনেকে প্রতিপক্ষের কাছে আটক রয়েছেন বলে দাবি করছেন।

    ভোরে বিশ্ব ইজতেমা পরিচালনাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। মাওলানা জুবায়ের ও দিল্লির মাওলানা সাদের অনুসারী দুই পক্ষের হাজার হাজার মুসল্লি পৃথকভাবে টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দান ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আবদুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে আশুলিয়ার দিকে সড়কে অবস্থান নেন। এতে আজ শনিবার টঙ্গী ও রাজধানীর বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কামারপাড়া থেকে একদল মুসল্লি লাঠিসোঁটা হাতে ইজতেমা ময়দানের ১ নম্বর প্রবেশদ্বারে প্রতিপক্ষের অনুসারীদের ওপর হামলা চালান। মুহূর্তের মধ্যে স্থানটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আধা ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন দুই পক্ষকে একে অপরের থেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখেছে পুলিশ।

    গাজীপুরের দিকে যান চলাচল ধীরগতিতেই রয়েছে। তবে ঢাকাগামী যানবাহন আগের চেয়ে কিছুটা বেশি গতিতে চলাচল করছে।

    আহত একজনকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: ড্রিঞ্জা চাম্বুগংসংঘর্ষের পর সরেজমিনে দেখা যায়, মাওলানা সাদের অনুসারীরা ময়দানের ভেতর প্রবেশ করে তা দখলের চেষ্টা করছেন। তাঁদের হাতে লাঠিসোঁটা। ইজতেমা ময়দান দখলের জন্য গতকাল থেকে মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে যেসব মুসল্লি মাওলানা জুবায়েরের পক্ষে এসেছিলেন, তাঁদের যানবাহন আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    মাওলানা জুবায়েরের একজন অনুসারী মো. শাওন দাবি করেন, মাওলানা সাদের অনুসারীরা লাঠিসোঁটার পাশাপাশি রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ হামলা চালান। লাঠির আঘাতে তাঁর হাত কেটে গেছে। তিনি জানান, রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ভূঁইয়া কালেকশন নামে তাঁর দোকান রয়েছে। তিনি গতকাল এখানে এসে যোগ দেন।

    এই দুই পক্ষের বিরোধিতার কারণে আসছে বছরের বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত ঘোষণা করে সরকার। ১৫ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষ ছাড়াও পুলিশের আইজি, ধর্মসচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী জানুয়ারি মাসে বিশ্ব ইজতেমা হওয়ার কথা ছিল।

    প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারের ওই ঘোষণার পর থেকে সময়ে–সময়ে দুই পক্ষ জায়গায় জায়গায় অবস্থান নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। সবশেষ আজ ভোর থেকে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    আহত একজনকে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: ড্রিঞ্জা চাম্বুগংচাম্বুগংটঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম জানান, ইজতেমার ময়দানের ভেতর ও প্রধান প্রবেশপথগুলো মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা দখল করে আছেন। অন্যদিকে, মাওলানা সাদের অনুসারীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আবদুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে আশুলিয়ার দিকে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। কয়েক হাজার মুসল্লি সড়কে অবস্থান নেওয়ায় রাস্তা সরু হয়ে যান চলাচল করছে ধীরগতিতে। এতে সেখানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    জাহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইজতেমার মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।

    ঘটনার জের ধরে রাজধানীতে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দর চত্বরে ফুটওভার ব্রিজের কাছে এখনো একটি পক্ষ অবস্থান নিয়ে আছে। জানা গেছে, তাঁরা মাওলানা জুবায়েরের অনুসারী। ঢাকা থেকে মাওলানা সাদের অনুসারীরা যেন টঙ্গীতে গিয়ে তাঁদের পক্ষের মুসল্লিদের সঙ্গে যোগ দিতে না পারেন, সে কারণে তাঁরা প্রতিটি যানবাহন থামিয়ে দেখেন। যাত্রীদের মধ্যে মুসল্লি কেউ থাকলে তাঁকে নামিয়ে দেন। ফলে সেখান থেকে টঙ্গীগামী যানবাহন একটি একটি করে চলাচল শুরু করে। বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া মুসল্লিদের অনেকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন।

    উত্তরা জোনের ট্রাফিকের সহকারী কমিশনার জুলফিকার জুয়েল বলেন, ফজরের নামাজের পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

  • ভোট সামনে রেখে রাজশাহীতে নামল কিউআরটি

    ভোট সামনে রেখে রাজশাহীতে নামল কিউআরটি

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন করেছে রাজশাহী নগর পুলিশ। নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, দাঙ্গা দমনসহ যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বিশেষ এই দলটি।

    ১২ সদস্যের এই দলে রয়েছেন ২ জন এসআই, ১ জন সার্জেন্ট, ৩ জন এএসআই ও ৬ জন কনস্টেবল। বৃহস্পতিবার বিকেলে দলটির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নগর পুলিশ কমিশনার একেএম হাফিক আক্তার।

    QRT-Team

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী সোয়াটের আদলে ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) গঠন করে আরএমপি। জঙ্গি দমন, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিশেষ পারদর্শী এ দলগুলো। দেশে এবং বিদেশে সিআরটি ও কিউআরটি সদস্যদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

    আরএমপি কমিশনার একেএম হাফিক আক্তার বলেন, পুলিশি সেবাকে জনগণের দ্বোরগড়ায় পৌঁছে দিতে নগর পুলিশ বদ্ধপরিকর। এরই অংশ হিসেবে আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। দ্রুততার সঙ্গে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিউআরটি নগর এলাকায় কাজ করবে। নগরীর নিরাপত্তায় সবার সহায়তা চান আরএমপি কমিশনার।

  • নিজের মেয়ের মতো নারায়ণগঞ্জকে সাজাতে চান শামীম ওসমান

    নিজের মেয়ের মতো নারায়ণগঞ্জকে সাজাতে চান শামীম ওসমান

    নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, আগামীতে আবারও নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জকে আধুনিক একটি এলাকাতে উন্নীত করা হবে। আমার আশা আমি আমার মেয়েকে যখন বিয়ে দিবো তখন তাকে যেভাবে সাজাবে ঠিক একইভাবে আমি নারায়ণগঞ্জকে সাজাবো।

    শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

    শামীম ওসমান বলেন,আমার কাছে এখন রাজনীতি এবাদত। আর সেই এবাদতের অংশ হিসেবে আমি আল্লাহকে খুশি করতে চাই। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আমি অনেক কিছু পেয়েছি। আমার দাদা, বাবাসহ ৩ ভাই সবাই এমপি হয়েছি। আমি এখন উন্নয়ন করতে চাই।

    তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা ভোটার তারা নিশ্চয় বুঝেন। তাই আপনাদের কাছে ভোট চাইবো না। আপনারাই বুঝেশুনে ভোট দেবেন। কাদের দ্বারা উন্নয়ন হবে কাদের দ্বারা কাজ হবে সেটা বুঝেই ভোট দেবেন।

    ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফউল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে এ সময় ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী, থানা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক খোকন, প্রচার সম্পাদক মোমেন শিকদার, কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান, কাশিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপির ভোটে আসা অপ্রত্যাশিত: হাউস অব কমন্স

    বিএনপির ভোটে আসা অপ্রত্যাশিত: হাউস অব কমন্স

    বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর ধারে-কাছেও নেই বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্স। এক প্রতিবেদনে হাউস অব কমন্স এই মন্তব্য করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন তীব্র রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণকে অপ্রত্যাশিত বলছে হাউস অব কমন্স।

    বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন পরিস্থিতি সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের এই প্রতিবেদন ‘রিসার্চ ব্রিফিং’ নামে পরিচিত। দেশটির এমপিদের অবগতির জন্য এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এতে গত বুধবার বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এক রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও স্থান পেয়েছে।

    ১৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে কোনো পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, ইইউ’র এমন সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি দেওয়া হয় যে, আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে ইইউ দুই সদস্যের ‘এক্সপার্ট মিশন’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে কমনওয়েলথ এখনো কিছু বলেনি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের আয়োজনসহ কোনো দাবি পূরণ না হওয়া স্বত্বেও বিএনপি অপ্রত্যাশিতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে নির্বাচন তুলনামূলক বিশ্বাসযোগ্য হবে। কিন্তু ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিতের বিষয়টি অনেক দূরে।

    নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বহু আগ থেকেই যে বিরোধীদের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে—সেই প্রসঙ্গটিও বাদ যায়নি প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন’ (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। বিএনপি এর বিরোধিতা করে আসছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিয়মের প্রতি (রুলস অব গেইম) সার্বিক আস্থার মাত্রা তলানিতে রয়ে গেছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রচারকালে বা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপর সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা শুরু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার বলেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের ১৫ দিন আগে সেনা নামবে।

    হাউস অব কমন্সের এই প্রতিবেদনে বিএনপির দাবি-দাওয়া, খালেদার মামলা ও সাজা, সংলাপের আয়োজনসহ সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে। দলগুলোর আদর্শিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে বিএনপি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকে স্বাগত জানিয়েছে। এর বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির জোরালো দাবিদার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সম্প্রতি রক্ষণশীল ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সখ্য। এ অবস্থা উল্টো পথে মোড় নেওয়ার মতো।

    এ ছাড়া এই প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। আছে কোটা বিরোধী আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে পুলিশি বলপ্রয়োগ এবং ছাত্রলীগের হামলার প্রসঙ্গও। প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে এক শ দিনের বেশি কারাবন্দী রাখার বিষয়টিও আছে প্রতিবেদনে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন চেষ্টায় বাধা পড়ার বিষয়ে আছে বিস্তারিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী-জঙ্গি উৎপাতের ঘটনা কমলেও ঝুঁকি শেষ হয়ে যায়নি।

  • ভোটের মাঠে এবার সিদ্দিকী পরিবারের মেয়ে

    ভোটের মাঠে এবার সিদ্দিকী পরিবারের মেয়ে

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনায় রয়েছে টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী সিদ্দিকী পরিবার। এতদিন এ পরিবারের চার ভাইয়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও এখন যোগ হয়েছে আরও একটি নাম কুঁড়ি সিদ্দিকী। তিনি কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে। টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের এমপি প্রার্থী হয়েছেন মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী।

    একই দল ও আসন থেকে বাবা-মেয়ের এ প্রার্থিতা নিয়ে সাধারণ ভোটারসহ রাজনৈতিক অঙ্গনজুড়ে রীতিমত চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আর তার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী সখীপুর-বাসাইল আসন থেকে ঐক্যফ্রন্টের দুই এমপি প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করে এ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।

    বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্নার কার্যালয়ে তারা বাবা-মেয়ে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে ইতোপূর্বে টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে ঋণখেলাপী অভিযোগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এটি দলীয় একটি বিশেষ কৌশল বলেই মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    এ প্রসঙ্গে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক জানান, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের ঐক্যফ্রন্টের এমপি প্রার্থী হিসেবে শুধু বাবা-মেয়েই মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি, আসনটির তৃতীয় প্রার্থী হিসেবে তিনিও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    Siddiky2

    তিনি আরও জানান, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি জেলায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ৪০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে জেলার টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তেই আসনগুলোতে একক প্রার্থী নির্ধারণ হবে বলেও জানান তিনি।

    এছাড়াও টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তার ভাই শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী।

    অপরদিকে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে করছেন তাদের ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী।