Category: রাজণীতি

  • জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে ইসির প্রজ্ঞাপন জারি

    জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে ইসির প্রজ্ঞাপন জারি

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। গত রবিবার এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে— গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। দলটির নিবন্ধন নম্বর ছিল ১৪। ২০০৯ সালে হাই কোর্টে দায়ের করা ৬৩০ নম্বর রিট পিটিশনের রায়ে আদালত জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করায় আরপিও ৯০এইচ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হলো। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

  • এবার প্রধানমন্ত্রীকে বি. চৌধুরীর চিঠি

    এবার প্রধানমন্ত্রীকে বি. চৌধুরীর চিঠি

    রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে বসার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিকল্পধারা বাংলাদেশ।

    মঙ্গলবার বিকেলে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি. চৌধুরী) সভাপতিত্বে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম বৈঠকে গৃহীত এক সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করা হয় এবং এরই আলোকে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেন বি. চৌধুরী।

    প্রেসিডিয়াম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে চিঠি নিয়ে গেছেন বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রউফ মান্নান ও সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক।

    প্রেসিডিয়াম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেজর আবদুল মান্নান, শমসের মবিন চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার মিলন, আবদুর রউফ মান্নান, প্রেসিডেন্টের বিশেষ আমন্ত্রণে ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ ইউসুফ, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক।

    প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, আমরা খুশি হয়েছি আপনি নির্বাচন সম্পর্কীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা আপনাকে যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    বি. চৌধুরী চিঠিতে আরও লিখেছেন, আমরা লক্ষ্য করে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি যে, আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি, রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই, সেই প্রস্তাবটি আপনি গ্রহণ করেছেন।

    চিঠিতে তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ, বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপে বসার জন্য আপনার সময় ও সুবিধা মতো আমাদের আমন্ত্রণ জানালে আমরা খুশি হবো।

    যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বলেন, জাতির এই রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সবার শুভেচ্ছা ও সৌহার্দের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে বিশ্বাস করি।

  • ড. কামালের নেতৃত্বে সংলাপে যাচ্ছেন ফখরুলরা

    ড. কামালের নেতৃত্বে সংলাপে যাচ্ছেন ফখরুলরা

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেবে। বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ সংলাপ হবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের।

    মঙ্গলবার বিকেলে মতিঝিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে একথা বলেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র আ স ম আব্দুর রব।

    তিনি বলেন, সংলাপে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায় থাকতে পারেন। এছাড়া গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য এবং ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নেবেন।

    আ স ম রব বলেন, সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ৭ দফার ভিত্তিতে অালোচনা হবে। আমরা সংলাপের আহ্বান করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলাম। তিনি আমাদের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে গণভবনে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সংলাপে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে অালোচনা হতে হবে। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে এটা নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর আমরা পরবর্তীতে রাজশাহী, বরিশালসহ পুরো দেশে জনসভা করবো। সুশীল সমাজ, ওলামা মাশায়েখ, পেশাজীবীদের সঙ্গেও আমাদের বৈঠক হবে।

    jagonews

    টানা দুই মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হওয়া নিয়ে রব বলেন, খালেদা জিয়া তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। মাত্র দুই কোটি টাকার জন্য তিনি যে মামলার শিকার তা অন্যায়। তার বিরুদ্ধে রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত। এটা চলতে পারে না। সংলাপ ব্যর্থ হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কেউ কিছু বললে সেটা ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য হবে না বলেও জানান তিনি।

    খোলা মন নিয়ে সংলাপ হলে আমরা আশাবাদী। বিএনপি সংলাপ নিয়ে অাশাবাদী নয় এমন বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বৈঠক থেকে বের হয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না একথা বলেন।

  • বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মসজিদ বানাবে সৌদি

    বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মসজিদ বানাবে সৌদি

    বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মসজিদ নির্মাণ করতে চায় সৌদি সরকার। সৌদি সরকারই এ মসজিদ নির্মাণের সমস্ত ব্যয় বহন করতে ইচ্ছুক।

    সোমবার রাতে রাজধানীর হোটেল রেডিসনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ ইচ্ছা প্রকাশ করেন সফররত সৌদি প্রতিনিধি দল।

    উক্ত বৈঠকে মসজিদটি সৌদি বাদশাহর নামে নির্মাণ করতে চায় সৌদি সরকার বলে জানান সৌদি প্রতিনিধি দল।

    মসজিদটি নির্মাণের জন্য জমি নির্বাচন, আর্কিটেকচারাল ডিজাইন ও আনুষঙ্গিক খরচের বাজেট দিলে তারা মসজিদ নির্মাণের সমুদয় অর্থ বহন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলটি।

    সৌদি সরকারের ইচ্ছাপ্রকাশের এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান।

    রাজউকের সঙ্গে আলাপ করে পূর্বাচলে পাঁচ-ছয় বিঘা জমি খুঁজে করবেন বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মোট ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণকাজ শুরু হয়ে গেছে জানিয়ে সৌদি প্রতিনিধি দলের সামনে একটি ভিডিও উপস্থাপন করে বাংলাদেশ প্রতিনিদি দল।

    এসময় বাংলাদেশ সরকার এসব মসজিদ নির্মাণে সৌদি সরকারের আর্থিক সহায়তা কামনা করে।

    ভিডিওটি দেখার পর সৌদি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ উদ্যোগেকে স্বাগত জানায় এবং তারা এ ব্যাপারে এক মাসের মধ্যে কত অনুদান দেবেন তা জানিয়ে দেন।

    তবে তারা এ মুহূর্তে রাজধানী ঢাকায় কয়েক বিঘা এলাকাজুড়ে সৌদি বাদশাহর নামে একটি বড় মসজিদ স্থাপনের আশা ব্যক্ত করেন।

    উক্ত সভায় বাংলা‌দেশ সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যস‌চিব মো. ন‌জিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাম‌রিক স‌চিব মেজর জেনা‌রেল মিয়‌া মো. জয়নুল আবে‌দিন, ধর্মস‌চিব মো. আনিছুর রহমান, অর্থ মন্ত্রণাল‌য়ের অর্থ বিভা‌গের ভারপ্রাপ্ত স‌চিব আবদুর রউফ তালুকদার, ব‌হিঃসম্পদ বিভা‌গের অতি‌রিক্ত স‌চিব মোহাম্মদ শামসুল আলম, ধর্ম মন্ত্রণাল‌য়ের অতি‌রিক্ত স‌চিব ডা. মোয়া‌জ্জেম হো‌সেন, ইসলামী ফাউ‌ন্ডেশ‌নের মহাপ‌রিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল‌য়ের মহাপ‌রিচালক মো. আ‌জিজুর রহমান।

    সফররত সৌ‌দি প্র‌তি‌নি‌ধি দ‌লের সদস্যরা হলেন, সৌ‌দি অর্থ মন্ত্রণাল‌য়ের উপ‌দেষ্টা ফাহাদ আল ওতাইবি, সৌ‌দি ইসলা‌মিক অ্যা‌ফেয়ার্স, দাওয়াহ ও গাই‌ডেন্স বিষয়ক মন্ত্রণাল‌য়ের অফিস ডাই‌রেক্টর শেখ আহ‌মেদ আলী রু‌মি, অর্থ মন্ত্রণাল‌য়ের প্র‌কৌশলী মুতলাক আল খাতা‌নি, অর্থ বিভা‌গের প্র‌তি‌নি‌ধি টার‌কি আল আলা‌বি ও বাংলা‌দেশে সৌ‌দি দূতাবা‌সের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স।

  • চাচা কী খাবেন জেনে এসো: প্রধানমন্ত্রী

    চাচা কী খাবেন জেনে এসো: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সংলাপের জন্য আগামী ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের কাছে আমন্ত্রণের চিঠিটি পৌঁছে দেন।

    এই উদ্দেশ্যে গতকাল সোমবার রাতেই আবদুস সোবহান গোলাপকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। গোলাপের হাতে চিঠি দিয়ে বলেন, সকাল বেলাই যেন এই চিঠি ড. কামাল হোসেনের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেন, ‘চাচার কাছে জানতে চাইবে উনি কী খাবেন।

    আজ সকাল সাড়ে ৭টায় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ড. কামাল হোসেনের বেইলী রোডের বাসায় যান এবং বাসায় গিয়ে তিনি ড. কামালের কাছে প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি হস্তান্তর করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক তিনি ড. কামাল হোসেনকে বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী আপনাকে নৈশভোজ করতে বলেছেন এবং জানতে চেয়ে আপনি কী খেতে চান আর আপনারা কতজন আসবেন। ড. কামাল হোসেন এসময় গোলাপকে বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্টু (গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু) জানিয়ে দেবে।

    উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকাকালীন সময়ে ড. কামাল হোসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনমন্ত্রী ছিলেন। পরে ড. কামালকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও অর্পণ করেন বঙ্গবন্ধু। সেই সূত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে চাচা বলে ডাকতেন।

    পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেন। এরপর দলীয় সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি যখন প্রথমবারের মতো দেশে ফিরে আসেন তখনও শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেনকে চাচা বলেই ডাকতেন। পরবর্তীতে অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সম্মান এবং শ্রদ্ধার জায়গা থেকে কখনোই সরে আসেননি।

    বর্তমানে আওয়ামী লীগ বিরোধী জোটের নেতা হওয়ার পরও ড. কামালকে সসম্মানে আমন্ত্রণ জানানোর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা আবারও তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন।

  • আমাদের কপাল খুলে গেছে: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

    আমাদের কপাল খুলে গেছে: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

    সংলাপের প্রশ্নে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা চা খাওয়ানোর দাবি করেছিলাম, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ডিনার করাবেন। আমাদের কপাল খুলে গেছে। দেশবাসীর কপালও খুলে গেছে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নাগরিক ঐক্যে যোগদান উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর তোপখানা সড়কের বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের মিলনায়তনে এর আয়োজন হয়।

    গত রোববার সন্ধ্যায় সংলাপ চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং সাধারণ সম্পাদক বরাবর দুটি চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। চিঠির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য সংযুক্ত করা হয়। সংলাপের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে ডেকেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে।
    ওই সংলাপে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি জানি না। বেলা তিনটায় মিটিং। তখন ঠিক হবে কে যাবে না যাবে। যদি যাই তবে সাত দফা নিয়ে আলাপ করব।’

    জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশবাসী পরিবর্তন চাইছে। দেশবাসী এই অনাচার আর চায় না। হাজার হাজার মানুষ গায়েবি মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছে। এটা প্রমাণ করে, এখানে ইসলামাবাদের শাসন কায়েম হয়েছে।

    আজকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘সংলাপে ডেকেছেন, সেই সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা নিয়ে কথা বলুন। আমরা আপনাদের সব ধরনের সহযোগিতা করব। আমরা আপনাদের সঙ্গে কোনো ছলচাতুরি করতে যাচ্ছি না, আন্তরিকভাবেই সংলাপ করতে চাই, একটা সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিয়েই আমরা কথা বলব।’

    সংলাপ নিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা সংলাপে যাব। এর মধ্যে কোনো রিজারভেশন নেই। আমরা ডাকলেই যাব, কোনো অ্যাজেন্ডা ছাড়াই যাব। আমরা সাত দফা নিয়ে যাব। সাত দফাই মানতে হবে। কোনো রকম দ্বিধা–দ্বন্দ্বের কিছু নেই, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি আমাদের দাবি।’

    মান্না বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা নেহাতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা বলতে চাই, যা–ই করব আন্তরিকভাবে করব। আমাদের এই আন্দোলন প্রতিহিংসার নয়। আমরা কারও গণতান্ত্রিক আন্দোলন কেড়ে নেব না। আমরা কারও ওপর আক্রোশ করব না, তবেই এটা ঠিক বিচার হবে।
    আলোচনার শুরুতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব নঈম জাহাঙ্গীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় শুভেচ্ছা জানানো হয়। তিনি নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ‘স্বাধীনতা পার্টি’ নামের একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন।

    নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, নাগরিক ঐক্য কোনো বড় সংগঠন নয়, তবে এটি স্বৈরশাসন, হত্যা, গুম, খুন, অন্যায়সহ যত আচরণ হয়, হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার। দেশের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ করার কর্মসূচি দেওয়া হয়। দেশে একটা অনির্বাচিত সরকার, অথচ তারা নির্বাচিত বলে দাবি করছে। এই সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। লক্ষ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে, কোনো জবাবদিহি নেই।

  • সকালে ড. কামালের বাসায় যাচ্ছে আওয়ামী লীগের চিঠি

    সকালে ড. কামালের বাসায় যাচ্ছে আওয়ামী লীগের চিঠি

    সংলাপের আহ্বান জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের দেয়া চিঠির জবাব দেবে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় আওয়ামী লীগের চিঠি নিয়ে যাবেন দলটির দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের চিঠি নিয়ে আগামীকাল সকালে ড. কামালের বাসায় যাব।

    এর আগে, গত রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে সাত দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য সংবলিত চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফীকুল্লাহ চিঠি পৌঁছে দেন।

    চিঠিটি গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী ও সদস্য এস এম কামাল হোসেন।

  • প্রধানমন্ত্রীকে ড. কামালের চিঠি

    প্রধানমন্ত্রীকে ড. কামালের চিঠি

    সংলাপ চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং সাধারণ সম্পাদক বরাবর দুটি চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রোববার সন্ধ্যা সাতটার পর রাজধানীর ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চিঠি দুটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    চিঠি দুটি পৌঁছে দেন ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় কমিটির সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক ও আ হ ম শফিকুল্লাহ। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ চিঠি দুটি গ্রহণ করেন।

    চিঠি দেওয়ার পর জগলুল হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দুটি চিঠি নিয়ে এসেছি। একটি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং অপরটি সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বরাবর দিয়েছে। আমাদের সাত দফার বিষয়ে তাঁদের চিঠি দিয়েছে।’

    চিঠির বিষয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ সাংবাদিকদের বলেন ‘ওনারা দুটি চিঠি দিয়ে গেছেন। এখনো চিঠি খুলিনি, চিঠিতে কী লেখা তা আমি জানি না। কিছুক্ষণ পর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আসবেন। ওনার কাছে চিঠি দেওয়া হবে। কাল অপর চিঠিটি সভানেত্রীকে (শেখ হাসিনা) দেওয়া হবে। সভানেত্রীর সঙ্গে বসে চিঠির বিষয়ে আলোচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত পরে অবগত করা হবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠিতে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো চিঠিতে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর স্বাক্ষর রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর কাছে ড. কামাল হোসেনের লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘যে সকল মহান আদর্শ ও মূল্যবোধ আমাদের জনগণকে মুক্তির সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল, তার অন্যতম হচ্ছে ‘গণতন্ত্র’। গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষে জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং জনগণকে শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনা করবে। এটাই আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার।’

    ‘আপনি নিশ্চয়ই একমত হবেন যে, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনকে মহোৎসব মনে করে। এক ব্যক্তির এক ভোটের বিধান জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধুই নিশ্চিত করেছেন। যা রক্ষা করা সকলের সাংবিধানিক দায়িত্ব।’

    চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, ‘ইতিবাচক রাজনীতি একটা জাতিকে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করে ন্যায়সংগত অধিকারগুলো আদায়ের মূলশক্তিতে পরিণত করে-তা বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন। নেতিবাচক রুগ্‌ণ রাজনীতি কীভাবে আমাদের জাতিকে বিভক্ত ও মহাসংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাও আমাদের অজানা নয়। এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো আজ আমাদের জাতীয় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটি অর্থবহ সংলাপের তাগিদ অনুভব করছে এবং সেই লক্ষ্যে আপনার কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।

  • রাজধানীতে পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীর ঠিকানা

    রাজধানীতে পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীর ঠিকানা

    আজ রোববার বিকালে ঢাকার বেইলি রোডে- ‘‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে’’ উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি  হিসেবে ‘‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে’’  শুভ-উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী  “শেখ হাসিনা।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্যশান্তি চুক্তির রুপকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বাবায়ক (মন্ত্রী)” আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ” এমপি,  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি  আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ,পার্বত্যচট্টগ্রাম এর আদিবাসী সংস্কৃতির অবিসংবাদিত নেতা সন্তু লারমা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • রাজধানীতে আড়াইশ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: গণপূর্তমন্ত্রী

    রাজধানীতে আড়াইশ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: গণপূর্তমন্ত্রী

    গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকাতে ঝূঁকিপূর্ণ নির্মাণাধীন ভবনের সংখ্যা ২৫৫টি। এর আগে এ সংখ্যা ছিল ৩২১টি; যার মধ্যে পুনঃসংস্কারের কারণে বাদ দেয়া হয় ৬৬টি। ইতোমধ্যে বিদ্যমান ঝূঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে দায়িদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের ২৩তম অধিবেশনে আজকের বৈঠকে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সদস্য এম আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

    জেলা শহর ফ্যাট নির্মাণের কোন প্রকল্প নেই

    লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকারিভাবে ঢাকায় রাজউক উত্তরা (৩য়পর্ব) প্রকল্পে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য  ৮৫০ বর্গফুটের এক হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের ব্যবস্থা রয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৯০ একর জায়গা সংরক্ষণ করা হয়েছে, যেখানে ছোট আকারে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। তবে জেলা শহর কিংবা সিটি করপোরেশন এবং পৌর সভাগুলোতে স্বল্প ব্যয়ে ফ্ল্যাট নির্মাণ সংক্রান্ত কোন প্রকল্প নেই জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হাতে। তবে সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকেও চাহিদার ভিত্তিতে এ ধরণের প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে।

    গণপূর্তমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি সড়কের দুই নম্বর রেলগেট এরাকায় ১৬৫টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে, যা আগামী ২০২০ সালের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই ধরণের প্রকল্প খুলনার কেডিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘আহসানাবাদ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন’ প্রকল্পে ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য জায়গা সংরক্ষণ করা রয়েছে।