Category: রাজণীতি

  • ব্যারিস্টার মইনুলের বিচারের দাবিতে সচেতন নারী সমাজের মানববন্ধন

    ব্যারিস্টার মইনুলের বিচারের দাবিতে সচেতন নারী সমাজের মানববন্ধন

    শামীম ইসলাম:

    ঐক্য ফ্রন্ট নেতা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন কর্তৃক সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির প্রতি মানহানিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বরিশালে মানববন্ধন হয়েছে। সচেতন নারী সমাজের আয়োজনে আজ শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর সদর রোডে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    মহিলা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা বেগমের সভাপতিত্বে কর্মসূচী চলাকালে বক্তব্য রাখেন- বিসিসি কাউন্সিলর কোহিনুর বেগম, সদর উপজেলা পরিষেদের ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম, মহিলা পরিষদের নিগার সুলতানা হনুফা,নারগিস জাহান,ফেরদৌস জাহান মুন্নি,কামরুন নহার রোজি,গায়েত্রি সরকার পাখি ও রেশমি বেগম সহ অন্যরা।

    এসময় বক্তারা বলেন,বাংলাদেশে অর্ধেকই নারী আর নারী পুরুষের সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। অথচ ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের মত উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি প্রকাশ্যে কুরুচীপূর্ণ মন্তব্য করে নারী সমাজের অপমান করেছে। তাই আমরা ব্যারিস্টার মাইনুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে করে বাংলাদেশের নারী সমাজকে কুটক্তি করতে সাহস না পায়।

  • তারেককে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব : জয়

    তারেককে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব : জয়

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চেষ্টা হচ্ছে বিএনপিকে বাঁচিয়ে দেয়া বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

    শনিবার রাজধানীর হোটেল রেডিসনে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘২১ শে আগস্ট : বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান-ভবিষ্যৎ’বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এমন অভিযোগ করেন।

    তিনি বলেন, আমার দুঃখ, বাংলাদেশকে যেটা থেকে আসলে রক্ষা করা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে এই যে জঙ্গি দল বিএনপি। তাদের হাত থেকে রক্ষা করার এখন বাধা দিচ্ছে এই ঐক্যফ্রন্ট।

    জয় বলেন, জিয়াউর রহমান যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের চেষ্টা হচ্ছে বিএনপিকে বাঁচিয়ে দেয়া এবং রিহ্যাবিলেট করা। এই সুশীলরা এখন ঐক্য করেছে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, একুশে আগস্টের হত্যাকারী তারেক রহমান, তাকে কী আমরা ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই? আমাদের সুশীলরা তো মনে হচ্ছে সেটাই চায়। না, সেটা আমরা হতে দিব না। বাংলার মানুষ যতদিন আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে যাবে এ রকম জঙ্গি ও খুনি দলের স্থান বাংলাদেশে হবে না। এদের বিচার হতে থাকবে। তারেক রহমানকেও আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব। এটা আমাদের ওয়াদা।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। বিএনপি সুশীল এক হয়েও আওয়ামী লীগকে ভোটে হারাতে পারে না। আওয়ামী লীগ এখন কাউকে ভয় পায় না। আওয়ামী লীগকে সরানো এত সহজ নয়। এ রকম ঘটনা বাংলাদেশের মাটিতে আমরা আর কোনো দিন হতে দেব না। যারা এই ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।

    জয় বলেন, বিএনপি যদি আমাদের মতো ১০ বছর ক্ষমতায় থাকতো তাহলে কী আওয়ামী লীগের একটা নেতাকর্মী বেঁচে থাকতো? একটা নেতাকর্মীও বেঁচে থাকতো না। আপনারা কী মনে করেন, এই সুশীলরা যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলে। আমার চরিত্র যদি তারেক রহমানের হতো তাহলে কী আজকে বেগম জিয়া শুধু মাত্র জেলে থাকতো? না। এই কথা তাদের মনে রাখা উচিত। আওয়ামী লীগ বিএনপি না, আমাদের চরিত্র তাদের মতো না। আমরা খুনি না, আমরা সন্ত্রাসী না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে স্বাধীনতার দল।

    তিনি বলেন, সুশীলরা নিরপেক্ষতার কথা বলে। সন্ত্রাস, মানুষ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কী কোনো নিরপেক্ষতা হতে পারে? তাহলে তারা নিরপেক্ষতা বলতে কী বোঝাতে চাইছে? যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে লজ্জা পায় তারা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয়। তারা বলে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। কিসের থেকে রক্ষা করতে হবে? বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে আছে, একুশে আগস্টের মতো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে না, এখান থেকে রক্ষা করতে হবে?

    জয় বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়েছে, যারা মানুষ হত্যা করেছে তাদের কোনো ছাড় হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে থাকব। নির্বাচন নিয়ে তারা আমাদের ভয় দেখাতে চায়। যারা একটি ভোট পায় না তাদের আমরা ভয় পাই না। আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। এই সুশীল বাবুদের হুমকিতে আওয়ামী লীগের কিছু যায় আসে না। আমরা পরোয়া করি না।

  • লাখো জনতাকে শপথ বাক্য পাঠ করালেন শামীম ওসমান

    লাখো জনতাকে শপথ বাক্য পাঠ করালেন শামীম ওসমান

    লক্ষ লক্ষ জনতার সমাগমে জনসমুদ্রে রূপ নেয় নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের উদ্যোগে আয়োজিত “জেগে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ, জেগে উঠো শেখ হাসিনার বাংলাদেশ” শীর্ষক মহাসমাবেশ।

    লাখো লোকের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন শহরের ফতুল্লার ইসদাইর অক্টোফিস একে এম সামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় দুপুরের আগেই। সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা বিকাল ৪টায়। কিন্তু জেলার ৭টি থানা থেকে একের পর এক মিছিল আসতে শুরু করে দুপুর ১২টার পর থেকেই। দুপুর ১টার মধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে যায় লাখো লোকের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একে এম সামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম।

    সমাবেশস্থল পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মিছিলগুলো অবস্থান নিতে শুরু করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন পাগলা সড়ক। একই অবস্থা সৃষ্টি হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে। জায়গা না পেয়ে আশেপাশের বাড়ির ছাদে অবস্থান নেয় সাধারণ মানুষ।  স্টেডিয়ামের বাইরে শহরের মূল পয়েন্ট চাষাঢ়া থেকে উত্তরে ২নং রেলগেইট, পূর্বে খানপুর, পশ্চিমে ফতুল্লার পঞ্চবটি ও দক্ষিণে শিবু মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার এলাকায় অবস্থান নেয় লাখো মানুষ। এতে বন্ধ হয়ে যায় সকল প্রকারের যান চলাচল। এক পর্যায়ে মঞ্চ থেকে মাইকে ঘোষণা আসে, মাঠে আর জায়গা নেই। যে যেখান যে এলাকার রাস্তায় অবস্থান করছেন সেখানেই অবস্থান নিন। শনিবার বিকালে শহরের ইসদাইর অক্টোফিস সামসুজ্জোহা স্টেডিয়ামে মহাসমাবেশে এই বিপুল সংখ্যক লোকের সামগম ঘটে।

    বিকাল তিন টায় সমাবেশের মঞ্চে উঠে মাইকে শামীম ওসমান উপস্থিত লাখো লাখো জনতার জনসমুদ্রে বজ্রে কণ্ঠে হাত মুঠ করে শপথ বাক্য পাঠ করান জনতাকে। এক সাথে লাখো কণ্ঠে শপথ বাক্যে শামীম ওসমান পড়েন “আমরা মহান সৃষ্টিকর্তার নামে শপথ করছি যে, জাতির জনকের কন্যা, বিশ্ব মানবতার নেত্রী, দেশ রত্ন শেখ হাসিনার ডাকে স্বাধীনতা বিরোধী, আগুন সন্ত্রাসী ও দেশ বেঁচে খাওয়া জ্ঞানপাপীদের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকব।

    আমরা আরো শপথ করছি যে, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষায়  এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে  অবিচল থাকব।

    শপথের পরেই শামীম ওসমান নিজ কন্ঠে স্লোগান তোলেন জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। স্লোগানের আগে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, “আসুন দেশব্যাপী স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বিরুদ্ধে স্লোগান ধরি। স্লোগান ধরুন “ জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু”। দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে স্লোগান। লাখো লাখো কণ্ঠের প্রতিধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠে আশপাশের এলাকা।
    শামীম ওসমান ওই সময় বক্তব্যে বলেন, ‘শকুনোর আকাশে উড়তাছে। যতবার নারায়ণগঞ্জ জেগেছে ততবার সারা বাংলাদেশ জেগেছে। এটা ইতিহাসের সাক্ষী। এ নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক আন্দোলন হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্য হয়েছে। তিনি ভেবেছেন আমরা স্টুপিড। কারণ তিনি বলছেন ২০ দলের সাথে ঐক্য হয়েছে, কিন্তু জামায়াতের সাথে ঐক্য হয় নাই। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হয়েছে কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে না। তিনি ভেবেছেন আমরা আহাম্মক। আমরা লেমন জুস খায়। কারণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। আমার লজ্জা লাগে। কারণ ছোটকালে তাঁর কোলে পিঠে উঠেছিলাম।’

    শামীম ওসমান বলেন, ‘ওরা নির্বাচনের জন্য জোট করেনি। এর ভিন্ন চিত্র। কারণ নারায়ণগঞ্জে পার্টি সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদেরের গণসংযোগ ছিল। সেদিন তিনি আসেননি। অথচ সেদিন নারায়ণগঞ্জের মুন্সীখেলায় বাসে চড়ে সন্ত্রাসীরা আসছিল। বাস থামানোর কারণে পুলিশকে গুলি করে দেয়। এটা ছিল পরিকল্পিত। কারণ একটি মটরসাইকেলে করে ৪ জন পালিয়ে যায়।

    শামীম ওসমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সামনে কঠিন সময় আসছে। দেশ কী আফগানিস্তান হবে নাকি দেশ এগিয়ে যাবে। সে সিদ্ধান্ত দেশের মানুষকে নিতে হবে।’

    তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল আর ড. কামালেরা এখন নির্বাচনের জন্য মাঠে নামে নাই। তারা মাঠে নেমেছেন নির্বাচনকে বানচাল করতে। বিএনপি জানে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সে কারণেই নির্বাচন থেকে সরে যেতে। আর সে কারণেই তারা এমন কিছু ব্যক্তিত্বকে কাছে টেনে নিয়েছে যারা ওয়ের্স্টান কান্ট্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের ব্যবহার করে কিছু একটা করতে।

    শামীম ওসমান বলেন, ‘ড. কামালদের বলছি যদি মনে করেন আমাদের উপর আঘাত করবেন করেন আপত্তি নাই। কিন্তু আমার দেশের একজন জনগণের উপর আক্রমণ হলে নারায়ণগঞ্জবাসী আর বসে থাকবে না। তখন সবাই আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী ঢাকায় গিয়ে উঠবো। দেখবো তখন কে ঠেকায়? একদিন নেত্রীর কথায় ধৈর্য ধরেছি। কিন্তু আর না। জনগণের উপর হামলা করলে বসে থাকবো না। আমার কোন নেতাকর্মীর উপর হামলা করলে আমরা আর লেমন চুসবো না। আমরা জানি বিদেশ থেকে টাকা আসছে। অনেক কিছু হচ্ছে। বিদেশে আর দেশে বসে অনেক পরিকল্পনা করছে।

    তিনি বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন বাংলাদেশের মানচিত্রের উপর আঘাত করবেন, নেত্রীর উপর হামলা করবেন, তাহলে আপনারা টিকতে পারবেন না। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আমরা পরাধীন হওয়ার জন্য রাজনীতি করতে আসি নাই। তখন কোন নির্দেশের জন্য বসে থাকবো না।’

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি সকলকে অনুরোধ করবো। আপনারা প্রস্তুত থাকেন। এ লড়াইয়ে আমরা জিতবো। আবারো প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা। আবারো ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ। সকলকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে। শত্রু কিন্তু আমাদের ভেতরেও আছেন। শুনতে পাই যুদ্ধাপরাধী অনেক পরিবারের সঙ্গে আমাদের অনেকের লোকজন যোগাযোগ রাখছেন। বলছেন পরিকল্পনা করছেন শামীম ওসমানকে ঠেকাতে।

    বক্তব্যের শেষে বলেন, ‘আবার কবে দেখা হবে জানি না। ভুল হলে আল্লাহরা ওয়াস্তে মাফ করে দিবেন। চেষ্টা করেছি উন্নয়ন করতে, আপনাদের পাশে থাকতে। আমি আপনাদের কাছে ঋণী হয়ে গেলাম। ঋণী হয়ে থাকলাম।’

    এদিকে বিকাল সমাবেশ শেষ হওয়া পর্যন্ত সমাবেশস্থলে একের পর এক মিছিল আসতেই থাকে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সমাবেশস্থল থেকে শহরের খানপুর , ২ নং রেলগেইট, শিবু মার্কেট, ফতল্লার পঞ্চবটি এলাকায় রাস্তায় বসে মাইকে বক্তব্য শুনছে জনতা। প্রায় ৯-১০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে মহাসমাবেশে আগতদের অবস্থান। তবে সমাবেশের কারণে ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড ও ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ পাগলা পুরাতন সড়কের পাগলা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

    নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) শরফুদ্দিন জানান, সমাবেশের কারণে লিংক রোড়ের সাইনবোর্ড ও পুরতান পাগলা সড়কের পাগলা পর্যন্ত প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার এলাকার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। সমাবেশ শেষ হলে এই যানজট আর থাকবে না।

    সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলাল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রমুখ।

  • ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ

    ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ

    স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় দল (পার্লামেন্টারি পার্টি) এর যৌথসভায় এ আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    শেখ হাসিনা বলেন, ইনশাল্লাহ ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীও আমরা উদযাপন করতে পারবো। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকবে। আমরা না থাকলে কেউ ভালোভাবে পালন করবে না।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আমাদের সাথে আছে। জনগণের শক্তি নিয়েই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। জনগণের ভোটেই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। জনগণের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস আছে।

    আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, যে উন্নয়নের ছোঁয়া সকলের জীবনে উন্নতি এনেছে, নিশ্চয়ই সকলে তা উপলব্ধি করবেন। আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দেবেন, আওয়ামী লীগকে জয়ী করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য, আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী আমরা পালন করবো। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করবো।

    তিনি বলেন, আমাদের সৌভাগ্য আমরা যখন স্বাধীনতার ২৫ বছর পালন করি তখনও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিলো।

  • আইন হলে ইভিএমে ভোট: সিইসি

    আইন হলে ইভিএমে ভোট: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে কোনো আইন নেই। এ–সংক্রান্ত আইন হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। আজ শনিবার সকালে খুলনায় অনুষ্ঠিত ইভিএম মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসব কথা বলেন।

    সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আগ্রহ থাকলেও ইভিএমে ভোট নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘোরতর আপত্তি রয়েছে বিএনপির। এর মাধ্যমে সরকার ভোট কারচুপি করবে বলে দাবি করেছে দলটি।

    দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন চলছে এখন। আগামী সোমবার অধিবেশন শেষের মধ্য দিয়ে এই সংসদের মেয়াদ শেষ হবে। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার লক্ষ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব করেছে ইসি। সংসদে আরপিও সংশোধনী পাস হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করতে চায় ইসি। সে ক্ষেত্রে আগামী দুই দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশনে আরপিও সংশোধনী পাস না হলে অধ্যাদেশ জারি ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। ২০১১ সালের পর কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প পাস করা হয়। নির্বাচনী ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ইভিএম কেনা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় মোট দেড় লাখ ইভিএম কেনা হবে।

    সিইসি কে এম নুরুল হুদা ইভিএম মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বলেন, ইভিএম নিয়ে বিতর্ক ছিল, আছে, থাকবে। উন্নত দেশেও এ নিয়ে বিতর্ক আছে। তথ্যের বিভ্রাট হলে তখন বিতর্ক হয়। তারপরও ইভিএমকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ইভিএম দিয়েই এবারের নির্বাচন করা হবে।

    ইভিএমের সুবিধা সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইভিএম সাশ্রয়ী, এতে নির্বাচনের ৬০ শতাংশ ব্যয় কমে যাবে। এতে ইন্টারনেট সংযোগ নেই বলে হ্যাকিং করা সম্ভব নয়। যন্ত্রটি এমন যে কেউ যদি চুরি করে নিয়ে যায়, তাহলেও ভোট কারচুপির সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা থাকবে। তাই আগে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ইভিএমে ভোটারের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ভোট দিতে হয়। পৃথিবীর ৬০০ কোটি মানুষের কারও সঙ্গে কারও আঙুলের ছাপ মেলে না।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হেলাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর ও জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ।

    আজও ইভিএমের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, বিভিন্ন দেশে প্রত্যাখ্যাত ও বিতর্কিত ইভিএম ব্যবহার করে ইসি পাতানো নির্বাচন করতে চাইছে। জনগণের সব মতামত উপেক্ষা করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে দেশের আটটি অঞ্চলে ইভিএম মেলা করছে ইসি। ভোট কারচুপির জন্য সরকারি হুকুমেই এটা করা হচ্ছে।

  • ২৫ গ্রাম মাদক সঙ্গে থাকলে সাজা মৃত্যুদণ্ড

    ২৫ গ্রাম মাদক সঙ্গে থাকলে সাজা মৃত্যুদণ্ড

    ইয়াবা, কোকেন, হেরোইন ও পেথিড্রিন জাতীয় মাদকের ব্যবহার, পরিবহন, চাষাবাদ, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি বা বাজারজাত করার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড। মাদকের পরিমাণ ২৫ গ্রাম বা তার বেশি হলেই এই সাজা দেওয়া যাবে।

    এই বিধান রেখে আজ শনিবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১৮ সংসদে পাস হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

    বিলের ওপর দেওয়া বিরোধী দলীয় সদস্যদের সংশোধনী, জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ হয়।

    জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করে জাতীয় পার্টির সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, এটি নিষ্ঠুর আইন। ২৫ গ্রাম পরিমাণের মাদক পেলেই সাজা হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড। অনেক বাহক নিজেও জানে না সে হেরোইন বহন করছে। এর সঙ্গে পুলিশও জড়িত। ‘মৃত্যুদণ্ড’ বা ‘যাবজ্জীবন’ এর আগে সর্বোচ্চ বলে কোনো শব্দ নেই। যে কারণে বিচারকের পক্ষে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। বেশ কয়েকটি ধারায় এই শাস্তির কথা বলা আছে। সুতরাং আইনটি পাসের আগে জনমত যাচাই করা দরকার।

    জবাবে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ১৯৯০ সালের আইনে বলা আছে, ৫০ গ্রাম মাদক পাওয়া গেলে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। ১৯৯০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৯৬ জনকে বিভিন্ন অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কারোরই মাদক আইনে মৃত্যুদণ্ড হয়নি। তাই এবারের আইনে ইয়াবার ব্যবহারের বিষয় এবং মাদকে অর্থলগ্নিকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত আইনের ৯ ধারায় বলা আছে, অ্যালকোহল ব্যতীত অন্যান্য মাদকদ্রব্যের উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার হয় এমন কোনো দ্রব্য বা উদ্ভিদের চাষাবাদ, উৎপাদন, বহন, পরিবহন বা আমদানি-রপ্তানি, সরবরাহ, বিপণন, গুদামজাত, সেবন বা ব্যবহার, অর্থ বিনিয়োগ বা পৃষ্ঠপোষকতা করা যাবে না। বিলের ৩৬ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি আইনের এই বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    বিলের ১১ ধারায় বলা হয়েছে, অনুমতি (পারমিট) ব্যতীত কোনো ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করতে পারবেন না। চিকিৎসার প্রয়োজনে সিভিল সার্জন বা সরকারি মেডিকেল কলেজের কমপক্ষে সহযোগী অধ্যাপকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো মুসলমানকে অ্যালকোহল পানের পারমিট দেওয়া যাবে না। তবে মুচি, মেথর, ডোম, চা শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তাড়ি ও পঁচুই এবং পার্বত্য জেলা বা অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যগতভাবে তৈরি করা মদ পান করার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

    ২৪ ধারায় বলা আছে, তদন্ত কর্মকর্তার যদি এই মর্মে সন্দেহ হয় যে, কোনো ব্যক্তি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মাদকদ্রব্য লুকিয়ে রেখেছেন। সেই ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তা সন্দেহজনক ব্যক্তির শরীরে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, অ্যান্ডোসকপি এবং রক্ত ও মলমূত্র পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

    ৩৩ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি মাদকদ্রব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থেকে অবৈধ অর্থ ও সম্পদ সংগ্রহে লিপ্ত রয়েছেন; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার এমন সন্দেহ হলে তিনি সন্দেহজনক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব বা আয়কর নথি পরীক্ষার প্রয়োজনে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও মাদকদ্রব্যের উপজাতের অপব্যবহার হচ্ছে। এ সব দ্রব্য কোনো কোনোটি জীবন বিধ্বংসী। ইয়াবার আগ্রাসন ভয়াবহভাবে বেড়েছে। ইয়াবা ব্যবসার জন্য শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। ‘শিশা বার’-এর অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড সার্বিক আইনশৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া মাদক সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন। মাদক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি এই ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক ও অর্থলগ্নিকারীদেরও আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি। তাই মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে দেশের জনগণকে রক্ষা করতেই এই বিলটি আনা হয়েছে।

    এ ছাড়া শনিবার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বিল ২০১৮ সংসদে পাস হয়েছে।

  • ‘যে শাস্তি পাবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না’

    ‘যে শাস্তি পাবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না’

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চট্টগ্রামের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ড. কামাল হোসেন সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন সবাই চায়। জনগণ হাত তুলে রায় দিয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত অমান্য বা উপেক্ষা করলে, যে শাস্তি আপনারা পাবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না।

    চট্টগ্রামে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয় আজ শনিবার বিকেলে। সেখানেই এ কথা বলেন ড. কামাল হোসেন। চট্টগ্রাম নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন সংলগ্ন নুর আহমেদ সড়কে ঐক্যফ্রন্টের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন।

    ড. কামাল হোসেন সমাবেশে বলেন, সরকার হলো সেবক। আর জনগণ হলো দেশের মালিক। আজ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা করতে দেওয়া হয়নি। এ জন্য মানুষের কষ্ট হচ্ছে। এটার কৈফিয়ত আদায় করতে হবে। তাঁদের শাস্তি দিতে হবে, যাঁরা এ কাজটা করেছেন। লালদীঘি ময়দান কেন দেওয়া হয়নি-এটার জবাব দিতে হবে। এটা কারওর বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়। জনগণ এটার মালিক।

    আজকের জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাসদের (জেএসডি) আ স ম আবদুর রব এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, মঈন খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুলতান মো. মনসুরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
    গতকাল শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নুর আহমদ সড়কে জনসভা করার অনুমতি দেয়।

    গত রোববার ঐক্যফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছিল। পুলিশ প্রশাসন গতকাল লালদীঘি ময়দানের পরিবর্তে নুর আহমদ সড়ক ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এজন্য কিছু শর্ত আরোপ করে পুলিশ।
    এর আগে সিলেটে গত বুধবার ঐক্যফ্রন্ট সমাবেশ করে। আজ চট্টগ্রামে ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় জনসভা। বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জাসদ-(জেএসডি) নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়।

  • সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ঢল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে

    সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ঢল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে

    দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সীমিত থাকবে। পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ করা হবে। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হবে পর্যটকদের রাত্রিযাপন।

    পাশাপাশি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপে কিভাবে পর্যটকের ঢল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে রক্ষা করতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

    শনিবার সকালে কক্সবাজারে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

    শহরের হিল ডাউন সার্কিট হাউজে ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিরল জীববৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশ সংরক্ষণ’ শীর্ষক কর্মশালাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতর।

    মন্ত্রী আনিসুল আরও বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে আর কোন নতুন স্থাপনার অনুমোদন দেয়া হবে না। বর্তমান সময়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন ব্যবসা রমরমা। কিন্তু এর সুফল পাচ্ছে না স্থানীয়রা। এই দ্বীপের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য, এবং দীর্ঘমেয়াদের তিন ধাপের পরিকল্পনা নেয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষা করে দ্বীপকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।

    দেশের মহামূল্যবান এই দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে রাতে বাতি জ্বালানো নিষিদ্ধ করা। দ্বীপের সৈকতে মোটরসাইকেল, দুই চাকার অযান্ত্রিক সাইকেলের চলাচল নিষিদ্ধ করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প স্থাপনের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ উল্লিখিত কারণে দ্বীপের কোন ধরনের ক্ষতি হচ্ছে তা প্রজেক্টরের সাহায্যে দেখানো হয়।

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ্ আল মোহসীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মুজাহিদ হোসেন ও ড. নুরুল কাদির, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাাহিদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

  • ৭ দফা দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবো: মির্জা ফখরুল

    ৭ দফা দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবো: মির্জা ফখরুল

    সরকারের কাছে ঐক্যফ্রন্টের দেওয়া ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মামলা অনেক হয়েছে, ভৌতিক মামলা অনেক দিয়েছেন। কিন্তু ৭ দফা দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না। আমাদের চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার আগে বলে গেছেন, ‘আমি যদি নাও থাকি, জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে পতন ঘটাতে হবে।

    শনিবার বিকেল ৪টার দিকে নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনের সড়কে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘সরকার নিজেরা নাশকতা-সহিংসতা করে। তারপর বিরোধীদলের ওপর দোষ দেয়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বন্দী করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, জনগণকে জিম্মি করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। বন্দুক, পিস্তল দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বপ্ন পাকিস্তানিরাও দেখেনি। আমরা অন্যায়ের কাছে মাথানত করব না।

    জনগণ এবার আর ভাঙা নৌকায় উঠবে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নেই। তারা মামলা দিয়ে জনগণের আন্দোলন বন্ধ করতে চায়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন জনগণের মুক্তির আন্দোলন। এ আন্দোলন তখনই থামবে যখন এ সরকার পতন হবে।

  • উন্নয়ন ধরে রাখতে আরেকটিবার নৌকায় ভোট দিন: প্রধানমন্ত্রী

    উন্নয়ন ধরে রাখতে আরেকটিবার নৌকায় ভোট দিন: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সারাবিশ্বে বাংলাদেশে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আমরা সম্মান লাভ করেছি। এই উন্নয়ন ধরে রাখতে আরেকটিবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিন, নৌকায় ভোট দিন।

    শনিবার বিকেলে বরগুনার তালতলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন। এর আগে ওই এলাকার বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, নৌকা মানেই উন্নয়ন। এই নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ কখনো ঠকেনি। যখনই ভোট দিয়েছে উন্নয়ন হয়েছে। নৌকার ফলেই সমগ্র বাংলাদেশে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। দক্ষিণবঙ্গ একসময় উপেক্ষিত থাকলেও এখন এখানেও উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার সরকারের নানা প্রকল্প ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা ওয়াদা করুন, যাকেই আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় পাঠাবো, তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে আওয়ামী লীগকে দেশের সেবা করার সুযোগ দেবেন। তখন হাত তুলে ওয়াদা করেন উপস্থিত জনতা। জবাবে শেখ হাসিনা জনতাকে ধন্যবাদ জানান।