Category: রাজণীতি

  • অস্বচ্ছলদের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী ঈদ শুভেচ্ছা

    অস্বচ্ছলদের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী ঈদ শুভেচ্ছা

    ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। করোনার কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন নির্বাচনী এলাকার অস্বচ্ছল পরিবারের সঙ্গে। ব্যক্তিগত ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৩৩৩টি অস্বচ্ছল পরিবারকে দিচ্ছেন তিনহাজার করে নগদ টাকা। যা তিনি ঈদ শুভেচ্ছা হিসেবেই বিতরণ করছেন।

    মঙ্গলবার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাদের কাছে এজন্য ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন। তারাই এই টাকা বিতরণ করবেন।

    এর আগে ৬ মে ঈদুল ফিতরের ঈদকে সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকার পাঁচহাজার মানুষকে ‘ঈদ উপহার’ পাঠানো শুরু করেন মন্ত্রী। যা গতকাল শেষ হয়েছে। উপহার প্যাকেটে ছিল- চাল, ডাল, তেল, চিনি, সেমাইসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী।

    করোনাভাইরাস ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ছুটির মধ্যে কর্মহীন হয়ে বেকায়দায় পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। রাজধানীতে ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ এসব মানুষের খাবার জুটছে নানাজনের দেওয়া ত্রাণে। এপ্রিলের শুরু থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকার নিম্নআয়ের মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন। এরইমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের ঘরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী।

    এছাড়া মন্ত্রীর নিজ এলাকায় বিতরণের জন্য বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। যেগুলো প্রতিটি ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলা নগর ও রমনার একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসন। তিনবার এই আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। পরের বছরের ১৪ জুলাই পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পান।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আবারও তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এলাকার মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা থেকে এলাকার কিছু মানুষকে সামান্য ‘ঈদ শুভেচ্ছা’ দিয়েছি। সরকার থেকে প্রতিবছর সংসদ সদস্যদের জন্য একটা বাজেট থাকে। সেটাই আমি এলাকার মানুষকে দিয়ে দিয়েছি। তাছাড়া যে পাঁচহাজার ঈদ সামগ্রী দিতে চেয়েছিলাম সেগুলো এরই মধ্যে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে।’

  • দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন মেয়র তাপস

    দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন মেয়র তাপস

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দায়িত্ব নিচ্ছেন নতুন নির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। নির্বাচিত হওয়ার প্রায় সাড়ে তিন মাস পর আগামীকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে নগরপিতার আসনে বসবেন তিনি।

    এদিকে, গত ১৩ মে শেষ অফিস করেছেন বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন। ওইদিন অফিস রুমে রাখা জাতীয় পতাকা ছুঁয়ে বিদায় নেন তিনি। যদিও দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা ছিল বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকনের। তবে তিনি শনিবার নগর ভবনে আসছেন না বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাই নবনির্বাচিত নগরপিতাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হক দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন।

    এ বিষয়ে নবনির্বাচিত মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী (মিডিয়া ও জনসংযোগ) তারেক সিকদার এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘বিশ্বমহামারি করোনার কারণে আমরা বড় ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা করছি না। তবে ৩টায় মেয়র নগর ভবনের অফিস থেকে ZOOM এর সাহায্যে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সংযুক্ত হবেন।’

    মেয়র ফজলে নূর তাপস তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী তারেক সিকদারের মাধ্যমে আরো জানান, নগর ভবনের সীমিত সম্পদকে কাজে ব্যবহার করে তিনি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করবেন। বিশেষ করে করোনা মোকাবিলা, ডেঙ্গু, বর্জ ব্যবস্থাপনায় থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা।

    তাপসের নির্বাচনী ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তাঁর উন্নয়নের পাঁচটি রূপরেখা।

    প্রথম হচ্ছে ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা এবং পুনরুদ্ধার করা।

    দ্বিতীয় হলো সুন্দর ঢাকা, সবুজায়ন করা, বায়ুদূষণ রোধ করা।

    তৃতীয় হলো সচল ঢাকা। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মানুষ কীভাবে পৌঁছাবে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করা।

    চতুর্থ হলো সুশাসিত ঢাকা। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে নাগরিকদের নগরের সুবিধাগুলো দেওয়া। সুশাসিত ঢাকার আওতায় ঐতিহ্যবাহী ঢাকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কায়েম করে সুশাসন নিশ্চিত করা; যেটা আগে হতো।

    পঞ্চম হলো দুর্নীতিমুক্ত নগর উপহার দেওয়া।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শনিবার বিকেলে ৩টায় নতুন মেয়র ঢাকা দক্ষিণের দায়িত্বগ্রহণ করবেন। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

    দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম অফিসের দিন নতুন মেয়রকে ডিএসসিসির সব দায়-দেনা, স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পত্তি, বিভিন্ন ব্যাংকের স্থিতি, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মকাণ্ড, রাজস্ব আদায়, বর্জ্য, স্বাস্থ্যসেবার তথ্যাদিসহ করপোরেশনের বিভিন্ন শাখার হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হবে।

  • ৪০ জনের নামের পাশে এক মেম্বারের মোবাইল নম্বর!

    ৪০ জনের নামের পাশে এক মেম্বারের মোবাইল নম্বর!

    বাগেরহাটের শরণখোলায় করোনায় কর্মহীন নিম্ন মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্রদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সহায়তার তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ার পর তা সংশোধনে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। যেহেতু মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করার কথা, তাই এই সুযোগে এক ইউপি সদস্য তার নিজের মোবাইল নম্বরটি জুড়ে দিয়েছেন ৪০ জন সুবিধাভোগীর নামের পাশে।

    এছাড়া তালিকায় চৌকিদার, সরকারি বিভিন্ন সুবিধাভোগকারী ও সচ্ছল ব্যক্তির নাম রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অনিয়মে জড়িতদের নাম জানাতে প্রথমে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করলেও পরে উপজেলা প্রশাসন তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করে। ৪০ জন সুবিধাভোগীর নামের তালিকায় নিজের মোবাইল নম্বর জুড়ে দেয়া ইউপি সদস্য হচ্ছেন শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাকিব হাসান। তিনি এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।

    জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত তালিকা উপজেলা পরিষদে জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে খোন্তাকাটা ইউনিয়নে অনিয়মের মাত্রা একটু বেশি বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। সুফলভোগীদের নামের পাশে তাদের প্রত্যেকের  মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করার কথা থাকলেও কিছু ইউপি সদস্য অসৎ উদ্দেশ্যে সেখানে তাদের নিজেদের মোবাইল নম্বর দিয়েছেন।

    মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করায় তারা এই অপকৌশলের আশ্রয় নেয়। তাছাড়া তালিকায় অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল ও সরকারি অন্যান্য সুবিধাভোগীদের নামও দেওয়া হয়। এসব অনিয়ম ধরা পড়ার পর সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে।

    শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত তালিকায় সুবিধাভোগীদের নামের পাশে  বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্যদের ফোন নম্বর ছিল। এক মেম্বারের ফোন নম্বর ছিল ৪০ জনের নামের পাশে।

    এছাড়া স্বচ্ছল ও সরকারের অন্যান্য সুবিধাভোগ করছে এমন ব্যক্তিদের নামও ছিল তালিকাতে। এসব অনিয়ম নজরে আসার পর সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে সঠিক তালিকা করা হয়েছে। আগামী ১৭ মে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা পাঠানো হবে।

    অনিয়মকারী ইউপি সদস্যদের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বিদেশে বসে গুজব ছড়ালে পাসপোর্ট বাতিল!

    বিদেশে বসে গুজব ছড়ালে পাসপোর্ট বাতিল!

    চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বিদেশে বসে গুজব ছড়িয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলে সেইসব ব্যক্তিদের পাসপোর্ট বাতিল করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন পত্রিকায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গুজব ও ভুয়া খবর প্রচারকারীদের পাসপোর্ট বাতিলের কথা ভাবছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

    বুধবার (১৩ মে) দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে কারা এগুলো করছে তা নিয়ে কাজ করছি। একইসঙ্গে প্রযুক্তিগতভাবেও তা মোকাবিলা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

    আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘অতীতেও গুজবের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেগুলো তদন্ত করেছে। অনেককেই আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনে অহেতুক গুজব যেন কেউ না ছড়ায়—এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে ওই টিভির সংবাদে বলা হয়, লন্ডনের টাওয়ার হেমলেটসে অবস্থিত অনলাইন টেলিভিশন চ্যানেল সংগ্রাম টিভি নিয়মিত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে আসছে। রুমি জালাল উদ্দিন দিবা রাত্রি ২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ নামে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে স্বশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের দিয়ে গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছেন।

  • অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃ’ত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ

    অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃ’ত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ

    জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃ’ত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত এবং তার শোকাহত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃ’ত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তার মৃ’ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

  • বরিশালে করোনা মোকাবেলায় মানবতার ফেরিওয়ালা উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু

    বরিশালে করোনা মোকাবেলায় মানবতার ফেরিওয়ালা উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু

    মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর সংক্রমণ এড়াতে গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় জনজীবন বিপর্যস্ত। দেশের অধিকাংশ জেলা-উপজেলা এখন লকডাউনের আওতায়। নিম্ন আয়ের মানুষেরা রয়েছেন দুবেলা-দুমুঠো সাহায্যের অপেক্ষায়। সমাজের কম সৌভাগ্যবান নাগরিকগণ জনপ্রতিনিধিদের সাহায্যের অপেক্ষায় আশা করে আছেন। প্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে এবং আত্মরক্ষার্থে নিজ ঘরে অবস্থান করছেন।বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি এবং নেতাকর্মীরা যখন হোম কোরাইন্টাইনে নিজেদের আত্মরক্ষায় ব্যস্ত। অনেক জনপ্রতিনিধির আনাগোনা দেখা গেলেও তারা খোঁজ রাখছেন না অসহায় জনগনের।

    অনেকেতো জনগনের জন্য দেয়া সরকারি ত্রাণ লুটপাটেও কুন্ঠা বোধ করছেন না। যা সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাধে আমরা সবাই অবগত।এতসব হতাশার মাঝেও জনগনের আশার আলো হয়ে পাশে আছেন বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু।এই প্রতিকূল অবস্থাতেও থেমে নেই তিনি, জনগনের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন সকাল থেকে রাত অবধি।কেবলমাত্র সরকারি ত্রাণ সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে আর্থিক সহযোগিতায় বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকা ত্রাণ বা সহযোগিতা হিসেবে সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষকে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিয়েছেন সাইদুর রহমান রিন্টু।

    এ পর্যন্ত তিনি সরকারি ত্রান-সাহায্য তহবিল থেকে প্রায় ৬ হাজার এবং নিজ অর্থায়নে ৪ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু দৈনিক খবর বরিশালকে বলেন, এপর্যন্ত সরকারি সব রকমের ত্রাণ সহায়তা স্থানীয় প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে নিয়ে সঠিকভাবে বন্টনের চেষ্টা করেছি। অন্যান্য সময়ে সরকারি সাহায্যের জন্য শুধুমাত্র অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিত করা হতো। বর্তমান পরিস্থিতে গাড়িচালক, শ্রমিক-দিনমজুর, ইমাম-মুয়াজ্জিন, প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষসহ বিশেষ করে যারা মধ্যবিত্ত শ্রেণি সংকটে রয়েছেন।

    আমরা দরিদ্র জনগোষ্ঠির পাশাপাশি তাদের কথাও মাথায় রেখে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করছি।তিনি আরও জানান, করোনা ভাইরাস মোকাবেলা ও সাধারণ মানুষের খাদ্য চাহিদা পুরনে এই মহামারী বিপর্যয় উত্তরনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের সব আবাদযোগ্য জমি যাতে কৃষি চাষ ও সবজির আবাদ করা হয় সেই লক্ষ্যে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৬০০ জন হতদরিদ্র সাধারণ কৃষক-কৃষাণিকে শাক-সব্জির বীজ বিতরণ করেছি যা পরবর্তী খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় অবদান রাখবে আশা করি।

    শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা আশ্রাফ আলী মিয়া বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান দিনরাত জনগনের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।বর্তমান সময়ে পত্রিকার মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের সরকারি ত্রান-সাহায্য আত্বসাতের ঘটনা। সেই সকল পরিষদের সাথে তুলনা করলে বলতে হয় আমরা অনেক ভালো আছি। যেকোনো সমস্যায় উনাকে কাছে পাচ্ছি।সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্যও তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। জনগনকে সচেতন করার লক্ষ্যে নিয়মিত মাইকিং, ফেসবুকিং ও উঠোন বৈঠক করে প্রচারণা করে যাচ্ছেন।

    প্রাণঘাতী করোনা তাকে দমাতে পারেনি বরং তার কর্মব্যস্ততা বাড়িয়েছে। করোনায় নিজের প্রাণনাশের আতঙ্ক থাকলেও জনগনের সুরক্ষায় মানবতার ফেরিওয়ালা এই চেয়ারম্যান ছুটে চলেছেন বরিশাল সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে। তাইতো সদর উপজেলার মাটি ও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন সদা হাস্যজ্বল সাদা মনের মানুষ আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু।উল্লেখ্য,সাইদুর রহমান রিন্টু ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।এ নিয়ে দুই বারের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এছাড়াও তিনি এবারের সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

  • করোনা যুদ্ধের নেতৃত্বেও অসধারণ আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী

    করোনা যুদ্ধের নেতৃত্বেও অসধারণ আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী

    করোনাভাইরাস এখন বিশ্ব মহামারী। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২১০টি দেশ ও অঞ্চল। চীন থেকে ইতালি, যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র- কোথাও বাদ যায়নি ফ্লু জাতীয় এ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর থাবা। গোটা বিশ ঘুরে গত ৮ মার্চ শনাক্ত হয় বাংলাদেশে। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। স্বীকার করতেই হবে, কঠিন এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার যেভাবে লড়াই করে যাচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে তৃতীয় বিশ্বের জন্য তো বটেই, উন্নত অনেক রাষ্ট্রের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ। ছোট্ট একটি বিষয় টানলেই এ বক্তব্যের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যাবে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে অবশ্য পালনীয় হিসেবে ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এ সকল নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- এই ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, করোনা উপসর্গ দেখা দিলে লুকিয়ে না রেখে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ, ত্রাণকার্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা।

    পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তালিকা করে তাদের কাছে খাদ্য পৌঁছানো, উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে জমি পতিত ফেলে না রাখা, নববর্ষে সকল জনসমাগম বর্জন করা, বাজার মনিটরিং, গণমাধ্যম কর্মীদের যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং গুজব ছড়ানো প্রতিরোধসহ জনগণ এবং প্রশাসনের জন্য ৩১ দফা নির্দেশনা রয়েছে।

    করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-

    ১) করোনাভাইরাস সম্পর্কে চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ভাইরাস সম্পর্কিত সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

    ২) লুকোচুরির দরকার নেই, করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

    ৩) ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) সাধারণভাবে সকলের পরার দরকার নেই। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য পিপিই নিশ্চিত করতে হবে। এই রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত পিপিই, মাস্কসহ সকল চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত রাখা এবং বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

    ৪) কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় নিয়োজিত সকল চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, এ্যাম্বুলেন্স চালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।

    ৫) যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে আছেন, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে।

    ৬) নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

    ৭) নদীবেস্টিত জেলাসমূহে নৌ-এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে।

    ৮) অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে হবে।

    ৯) পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। সারাদেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

    ১০) আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। জাতীয় এ দুর্যোগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সকল সরকারি কর্মকর্তাগণ যথাযথ ও সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন- এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

    ১১) এাণ কাজে কোন ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

    ১২) দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক যেন অভুক্ত না থাকে। তাদের সাহায্য করতে হবে। খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত তালিকা তৈরি করতে হবে।

    ১৩) সোশ্যাল সেফটিনেট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    ১৪) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড- যেন স্থবির না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ নজর দিতে হবে।

    ১৫) খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, অধিক প্রকার ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে। কোন জমি যেন পতিত না থাকে।

    ১৬) সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। যাতে বাজার চালু থাকে।

    ১৭) সাধারণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।

    ১৮) জনস্বার্থে বাংলা নববর্ষের সকল অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে যাতে জনসমাগম না হয়। ঘরে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নববর্ষ উদযাপন করতে হবে।

    ১৯) স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের সকল স্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রশাসন সকলকে নিয়ে কাজ করবে।

    ২০) সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

    ২১) জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন ওয়ার্ড ভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করে দুঃস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করবেন।

    ২২) সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন: কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা/ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, পথশিশু, স্বামী পরিত্যক্তা/বিধবা নারী এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখাসহ ত্রাণ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

    ২৩) প্রবীণ নাগরিক ও শিশুদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    ২৪) দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি) যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সকল সরকারি কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

    ২৫) নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও নিয়মিত বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    ২৬) আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করবেন না। খাদ্যশস্যসহ প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

    ২৭) কৃষকগণ নিয়মিত চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।

    ২৮) সকল শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পর্যায়ে নিজ নিজ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখবেন।

    ২৯) শিল্প মালিকগণ শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখবেন।

    ৩০) গণমাধ্যম কর্মীরা জনসচেতনতা সৃষ্টিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অসত্য তথ্য যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

    ৩১) গুজব রটানো বন্ধ করতে হবে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে নানা গুজব রটানো হচ্ছে। গুজবে কান দিবেন না এবং গুজবে বিচলিত হবেন না।

    কভিড-১৯-এ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যেখানে সংক্রমণ সংখ্যা ও তাদের অর্থনীতি নিয়ে তটস্থ হয়ে পড়েছে; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে বাংলার দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের মতো দেশ যখন বেসরকারি খাতের কর্মীদের যথাক্রমে ৮০% ও ৬০% ভাগ বেতন প্রদানের কথা জানিয়েছেন; বাংলাদেশ তখন আপৎকালীন ৫ হাজার কোটি বরাদ্দের মাধ্যমে সব গার্মেন্ট শ্রমিকের বেতন ১০০% দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এরপর আরও চারটি খাতে ঘোষণা করেন ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ। সব মিলিয়ে পাঁচটি প্যাকেজে বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৯২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫০ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সহায়তার পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয়সংক্রান্ত পরিকল্পনাও সর্বত্র প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

    এ তো গেল আর্থিক প্রণোদনা; আরও কী কী কারণে করোনা-সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা অনন্য ও অন্যান্য রাষ্ট্রের জন্য উদাহরণ- সে ব্যাখ্যায় পরে আসব; তার আগে জানি, এই জাতীয় মহামারী দমনে সরকার তথা মানুষের হাতে কতটুকু ক্ষমতা থাকে?

    এছাড়া, বাংলাদেশে করোনা আসার আগেই জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি হয়েছিল। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি এবং ওসিসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি; জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ ১১ সদস্যের আর একটি কমিটি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে সভাপতি হয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি, এডিবি, ইউনিসেফ, ইউএসএআইডি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রতিনিধিসহ ৩১ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিগুলো যখন যেখানে যে উদ্যোগ প্রয়োজন, তা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করছে।

    বৈশ্বিক এই মহামারী বাংলাদেশ থেকে দূর করতে বীরচিত্তে একের পর এক উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছেন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। প্রায় প্রতিনিয়ত ভিডিও কনফারেন্স করছেন মন্ত্রিপরিষদ, বিভাগ, জেলা এমনকি অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এ ছাড়া ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে স্থগিত করেছেন বিশ্বনেতাদের নিয়ে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান; যা শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের আবেগের অনুষ্ঠান তো বটেই, গোটা বাঙালি জাতির কাছেও প্রাণের উৎসব ছিল। বাতিল করেছেন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন, বাঙালির পয়লা বৈশাখ। ছোটখাটো আরও অনেক আনুষ্ঠানিকতা তো রয়েছেই।

    ২৫ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রথমবারের মতো করোনা ইস্যুতে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন দেশে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৯। অথচ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই বক্তৃতার দুই-তৃতীয়াংশই ছিল কভিড-১৯ সমস্যা ও উত্তরণের উপায় নিয়ে। সেদিনই তিনি আহ্বান জানান, করোনাভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। ওইদিন বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি। যা আজও চলছে। ৫০ লাখ কার্ডধারীর সংখ্যা বাড়িয়ে আরও ৫০ লাখ কার্ডধারী অর্থাৎ ১ কোটি মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

    রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সেদিন ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা। যা দ্বারা কেবল শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করার কথা বলা হয়। রপ্তানি আয় আদায়ের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয় দুই মাস থেকে ছয় মাস। একইভাবে আমদানি ব্যয় মেটানোর সময়সীমা বাড়ানো হয় চার থেকে ছয় মাস। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়। এর বাইরেও বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল পরিশোধের সময়সীমা সারচার্জ বা জরিমানা ছাড়া জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধ সাময়িক স্থগিত করার কথাও তিনি বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ১৩ এপ্রিল। এদিন করোনা আক্রান্ত রোগী, চিকিৎসক, দিনমজুর, মধ্যবিত্তসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কৃষি খাত- সব ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা প্রণোদনা ঘোষণা করেন। চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী- যারা মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করে সামনে থেকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের জন্য তিনি বিশেষ সম্মানীর কথা জানান। বরাদ্দ দেন ১০০ কোটি টাকা। চিকিৎসক, নার্স ছাড়াও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বিশেষ বিমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে তা ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ লাখ করা হবে। স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমা বাবদ বরাদ্দ রাখেন ৭৫০ কোটি টাকা।

    বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমসমূহ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি করোনাভাইরাসের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বেশ কয়েকটি কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে- (১) স্বল্প-আয়ের মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করার জন্য ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ। যার মূল্যমান ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। (২) শহরাঞ্চলে বসবাসরত নিন্ম আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ওএমএসের আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় কার্যক্রম চালু। আগামী তিন মাস ধরে চলা এ কার্যক্রমের আওতায় ৭৪ হাজার মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে। এজন্য ভর্তুকি দেওয়া হবে ২৫১ কোটি টাকা। (৩) দিনমজুর, রিকশা বা ভ্যানচালক, মোটরশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, পত্রিকার হকার, হোটেল শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশার মানুষ যারা দীর্ঘ ছুটি বা আংশিক লকডাউনের ফলে কাজ হারিয়েছেন; তাদের নামের তালিকা ব্যাংক হিসাবসহ দ্রুত তৈরির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন হলে এককালীন নগদ অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এ খাতে বরাদ্দ হয় ৭৬০ কোটি টাকা। (৪) সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত ‘বয়স্ক ভাতা’ ও ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা’ কর্মসূচির আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০ উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করার কথা বলা হয়। বাজেটে এর জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৮১৫ কোটি টাকা। এবং (৫) জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত অন্যতম কার্যক্রম গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন। এ বাবদ সর্বমোট বরাদ্দ হয় ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

    শিল্প খাতে যেসব আর্থিক প্যাকেজ গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে : ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা, অতি-ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বিশেষ তহবিল বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা। করোনা দুর্যোগকালীন অসহায়, দিনমজুর, নিন্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য এমন গোছানো চমৎকার প্রণোদনা প্যাকেজ বিশে^র আর কটি দেশে ঘোষিত হয়েছে; তা নিশ্চয়ই ভাববার বিষয়।

    বাস্তবিক অর্থে সংক্রামক রোগ কোনো যুদ্ধ ক্ষেত্র নয়। যখন এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তখন সেটাকে মহামারী বলে। বাংলাদেশে তা দ্রুত বাড়ছে। তার পরও গোটা বিশ্বের সঙ্গের তুলনা করলে আমাদের মৃত্যুর হার এখনো অনেক কম। লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সসহ জননেত্রী শেখ হাসিনার নানামুখী নির্দেশনায় তা এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে। বলতেই হয়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি (শেখ হাসিনা) যেভাবে প্রতিনিয়ত প্রতিটি বিভাগ ও জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আগলে রেখেছেন; তা সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত প্রশংসনীয়, অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। পৃথিবীর আর কোনো রাষ্ট্রনেতা এভাবে নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন কিনা, তা আমার জানা নেই। ব্যক্তি শেখ হাসিনা নিজেই তৃণমূল পর্যন্ত সম্পৃক্ত আছেন। মুহূর্তে সমস্যা জানা ও সমাধানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আপৎকালে প্রশাসন পরিচালনায় এটা একটি অভিনব দৃষ্টান্ত।

    বিনা মূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ; ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয়; নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে অর্থ বিতরণ; বয়স্ক ভাতা ও বিধবা বা স্বামী নিগৃহীতাদের ভাতার আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকায় শতভাগে উন্নীত করা; এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গৃহীত অন্যতম কার্যক্রম গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ-সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের এই কর্মসূচিগুলো করোনা পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা। ১০ টাকায় চাল পেতে নতুন ৫০ লাখ রেশন কার্ডসহ মোট ১ কোটি রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে ১ কোটি পরিবারের ৫ কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। চলতি মে মাস থেকে ৫০ লাখ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। ২৬ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৬৮ কোটি টাকার নগদ অর্থসহায়তা এবং ১ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যসাহায্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নিন্ম আয় ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে। অন্যদিকে, শিশুখাদ্য-সহায়ক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। দেশব্যাপী এ পর্যন্ত ৪ কোটি ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে সরকার।

    ডাইনামিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ইতিমধ্যে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন; যা জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। পোশাকশ্রমিকদের শতভাগ বেতন নিশ্চিত করতে তিনি ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কৃষি ও কৃষকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছেন তিনি। আগামী বাজেটে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বোরো মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া সহজ শর্তে, জামানত ছাড়াই নিন্ম আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। সারাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা ভাইরাস দুর্যোগে সব ধরনের ঋণের সুদ আদায় দুই মাস বন্ধ রাখবে ব্যাংকগুলো।

    করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সম্মুখ সারির যোদ্ধা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রত্যক্ষভাবে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ পুরস্কার ও প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন তিনি। এজন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ডাক্তার, সব ধরনের স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবির সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বিশেষ বিমার ব্যবস্থা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা।

    এই চরম দুঃসময়েও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কথা ভুলেননি মাদার অব হিউম্যানিটি শেখ হাসিনা। সার্বিক পরিকল্পনায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও তিনি অন্তর্ভুক্ত করেন।

  • স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুরোধ সরকারের

    স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুরোধ সরকারের

    করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাছের মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে।

    ধর্ম মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই অনুরোধ জানিয়েছে।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সারা দেশে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকার সার্বিক বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এ সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলেমারা পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে থেকে কিছু শর্তে মসজিদে সুস্থ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে জামাতে নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়।

    ইতিমধ্যে (আজ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে উন্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরে ঈদের জামায়াত পরিহারের নির্দেশনা দিয়ে বিদ্যমান বিধিবিধান অনুযায়ী ঈদের জামাত আয়োজনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। ইসলামি শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

    এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা মানতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এর মধ্যে রয়েছে ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা, মসজিদের প্রবেশমুখে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা, প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে আসা এবং অজুর সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। ঈদের নামাজের জামাতে আসা মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে ও এক কাতার অন্তর কাতার করতে হবে।

    শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহারের অনুরোধ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

    এ ছাড়া করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঈদের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করতে খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা হয়েছে। খতিব, ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি উল্লিখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • বরিশালে শিশুর ফোন কলের পর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর উদ্যেগে খাদ্য পৌছে গেলো ঘরে

    বরিশালে শিশুর ফোন কলের পর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর উদ্যেগে খাদ্য পৌছে গেলো ঘরে

    বাবা ক্ষুদ্র চা দোকানী। মা একটি টেইলার্সের শ্রমিক। তাদের আয়ে বাসাভাড়া সহ ২ বোন ও বাবা-মায়ের ভরনপোষন। ১০ম এবং ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ুয়া দুই বোনের লেখাপড়ার খরচও চলে বাবা-মায়ের আয়ে। করোনার কারনে গত প্রায় ২ মাস ধরে কাজ বন্ধ বাবা-মায়ের।

    চারিদিকে জনপ্রতিনিধি সহ বিত্তবানরা অনেক খাদ্য সহায়তা প্রদান করলেও ইজ্জতের কারনে চাইতে না পাড়ায় এই পরিবারটির ভাগ্যে জোটেনি কিছুই। এ কারনে ওই পরিবারে মেনে আসে চরম বিপর্যয়। অনাহারে-অর্ধাহারে কাটছিলো তাদের দিনকাল।

    এ অবস্থায় নগরীর ৯৯ নম্বর বগুড়া নথুল্লাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ুয়া ছোট মেয়েটি এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্যের মুঠোফোন নম্বর নিয়ে সাহস করে ফোন দিলেন তাকে।

    বুধবার রাত ৮টার দিকে ওই শিশুর ফোন পেয়ে তাদের পরিবারের দুরাবস্থার কথা শোনেন সদর আসনের সাংসদ ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম।

    নিজে ঢাকায় থাকলেও ব্যক্তিগত একান্ত সচিবের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর বৈদ্যপাড়া মোড়ে ওই শিশুটির ভাড়া বাসায় খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী।

    খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি পিয়াজ, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি ছোলা ও ১ কেজি চিড়া।

  • ৫০ লাখ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

    ৫০ লাখ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

    প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা পাচ্ছে করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবার। প্রতি পরিবারে ধরা হয়েছে ৪ জন সদস্য, সেই হিসেবে এই নগদ সহায়তায়  উপকার ভোগী হবে প্রায় ২ কোটি মানুষ।

    এ জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। কাল ১৪ মে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল সকাল সাড়ে দশটায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
    জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, গ্রামের মেম্বার, শিক্ষক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এই তালিকা তৈরি করেছেন।

    ভাতা পাওয়ার তালিকায় আছেন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক,  দোকানের কর্মচারি, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোলট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকের পরিবহন শ্রমিক ও হকারসহ নিম্ন আয়ের নানা পেশার মানুষ।

    তালিকাভুক্তদের মধ্যে নগদ, বিকাশ, রকেট, এবং শিউরক্যাশের মাধ্যমে সরাসরি চলে যাবে এই টাকা, ফলে বাড়তি কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না তাদের। টাকা পাঠানোর খরচ সরকার বহন করবে। এই টাকা উত্তোলন করতে ভাতাভোগীদের কোন খরচ দিতে হবেনা। এই ৫০ লাখ পরিবারের বাইরে আরও ৫০ লক্ষ পরিবারের প্রায় ২ কোটি সদস্য আগে থেকেই রয়েছে ভিজিএফ কার্ডের আওতায়। এছাড়াও রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিক্ষা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা।