Category: রাজণীতি

  • করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবেলায় অনলাইনে সক্রিয় আওয়ামী লীগ

    করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবেলায় অনলাইনে সক্রিয় আওয়ামী লীগ

    বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ রোগের দেশে প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সবাইকে সচেতন করে তুলতে এবং সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে অনলাইনে সক্রিয় রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

    দলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল ফেইসবুক পাতা থেকে নানা তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি চালানো হচ্ছে সহায়তা কার্যক্রম।

    এছাড়া অনলাইনে পাওয়া মানুষের বিভিন্ন আবেদন ও প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বারে দ্বারে সহায়তাও পৌঁছে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো।

    মহামারী চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে কীভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা যায়, তা নিয়ে নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’ নামে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান।

    কোভিড-১৯ কে ‘প্যানডেমিক’ ঘোষণার পাশাপাশি ‘ইনফোডেমিক’ হিসেবেও ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

    আর এই ‘ইনফোডেমিক’ মোকাবেলায় অনলাইনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তৎপর রয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    আওয়ামী লীগের ওয়েব টিম এবং গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) সমন্বয়ক প্রকৌশলী তন্ময় আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মহামারীর প্রভাবের শুরু থেকেই সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।

    “আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ওয়েব ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ থেকে সরকারি নির্দেশনা, স্বাস্থ্য নির্দেশনা ও জরুরি সেবা প্রদানের তথ্যসহ মানুষকে নিরাপদ রাখার জন্য সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছি।”

    তিনি বলেন, “মানুষকে উজ্জীবিত রাখতে সারাদেশে আওয়ামী লীগের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার খবরও প্রচার করার পাশাপাশি মানুষ যেনো হতাশ না হয়ে পড়ে সেজন্য এই মহামারী চলাকালে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো স্পষ্ট করে মানুষকে জানাতে কাজ করে যাচ্ছি আমি ও আমার দল।”

    মহামারীর মধ্যে ভার্চুয়াল এ কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েব টিম ও সিআরআইয়ে ধন্যবাদ জানিয়েচেন জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “করোনা মোকাবেলায় সরকারের সকল পদক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক ভাবে প্রচারের পাশাপাশি করোনাকাল ও পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠান ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’ আয়োজন করায় আমি এএলবিডি ও সিআরআই টিমকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানচ্ছি।”

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নিজস্ব ওয়বসাইট, ফেইসবুক, ট্যুইটার ও ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, যা সিআরআই কর্তৃক পরিচালিত।

    “এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও সরকারের কাজগুলো মানুষের মাঝে তুলে ধরা হয়। তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষের কাছে মূহূর্তেই এই মাধ্যমে তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।”

    জনসাধারণের কাছে আওয়ামী লীগের কাজের বিবরণ পৌঁছানোর জন্য নিজস্ব ওয়েবসাইট, ফেইসবুক, টুইটার ও ইউটিউব চ্যানেল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে আয়োজন করা ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদ বিডিনিউজ টোযেন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সকল স্তরের মানুষের মতামত নিয়ে কাজ করতে চাই। আর তার প্রতিফলন এই অনুষ্ঠান।

    “যদি খেয়াল করে দেখেন, এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব, সরকারি নীতি নির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, একাডেমিক, স্বেচ্ছাসেবী, তরুণ উদ্যোক্তা সকলকে নিয়ে আলোচনা করছি।”

    তিনি বলেন, “দেশের যে কোন জরুরি পরিস্থিতিতে বারবার নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের সকলের বৈঠকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু করোনা এমনই এক জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করেছে, যে আমরা সবাই একত্রে বসে কিছু নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছি না। আর সে কারণেই এ ধরণের অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম যে কতটা কার্যকরী তা বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত।”

    আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পরিচালনাকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘গুজব’ মোকাবেলায় ‘সঠিক’ তথ্য দিতে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পাতায় ৪৫৫ পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে।

    আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেইসবুক পাতায় প্রচারিত করোনাভাইরাস সচেতনতা, করণীয় ও সরকারি নির্দেশনাগুলো ৯ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    জনগণকে সচেতন করতে আওয়ামী লীগের ফেইসবুক পাতার পাশাপাশি ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত নতুন নতুন ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত সচেতনতা, করণীয় ও সরকারি নির্দেশনামূলক ভিডিও দেখা হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৬৫ হাজার বারের বেশি।

    সারাদেশ থেকে মেইলের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমের খবর।

    এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ‍ওয়েবসাইটে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের ত্রাণ বিতরণ ও মানবিক সহযোগিতার ৬৬৭ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    এছাড়া মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিতে আওয়ামী লীগের ফেইসবুক পাতায় যুক্ত করা হয়েছে মেসেঞ্জার বট (BOT)। শুধু এই মেসেঞ্জার বটের সাহায্যে তথ্য সহায়তা গ্রহণ করেছেন ৪৫ হাজার ৬৮৬ জন। যে কেউ চাইলে এই মেসেঞ্জার বটের সাহায্যে জিজ্ঞাসা ও তথ্যগুলো পেতে পারেন।

    করোনাভাইরাসের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে এবং সরকার ও দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতার তথ্য নিয়ে ভিডিও তৈরি ও প্রচারের জন্য ইউটিউবে তৈরি করা হয়েছে দুটি প্লে লিস্ট। তাতে এখন পর্যন্ত রয়েছে ৬৮টি ভিডিও।

    তরুণদের যুক্ত করতে ও সচেতনতা সকলের কাছে পৌঁছে দিতে আওয়ামী লীগের ফেইসবুক পাতায় আয়োজন করা হয়েছে দুটি লাইভ শো।

    গত ১৫ মে রাতে প্রচারিত ‘করোনা মহামারী মোকাবিলায় জনসচেতনতা’ এবং ১৯ মে রাতে ‘করোনাভাইরাস সংকটে মানবিক সহায়তা’ শীর্ষক লাইভ অনুষ্ঠান দুটি প্রায় ৫ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি মানুষ দেখেছে।

  • শেখ হাসিনার পক্ষে নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    শেখ হাসিনার পক্ষে নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নগরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ শান্তি সমৃদ্ধি এমন প্রত্যাশায় সর্ব স্থরের জনগনকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলকে বৈশ্বিক দূর্যোগ পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের উৎসব উদযাপনের আহবান জানান সাদিক আবদুল্লাহ।

  • ঈদের আনন্দ সকলে ভাগাভাগি করে উপভোগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

    ঈদের আনন্দ সকলে ভাগাভাগি করে উপভোগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

    যতদিন করোনাভাইরাস মহামারী না যাচ্ছে, ততদিন এই করোনাকে সঙ্গী করেই বাঁচতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে করোনাভাইরাসের এই মহামারী সহসা দূর হবে না। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না। যতদিন না কোন প্রতিষেধক টীকা আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করেই হয়তো আমাদের বাঁচতে হবে। জীবন-জীবিকার স্বার্থে চালু করতে হবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।’

    ২৪ মে, রবিবার দেশের উদ্ভূদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    এসময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় সকল দেশই ইতোমধ্যে লকডাইন শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে তো নয়ই।’

    তিনি বলেন, ‘রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বিশেষ তহবিল বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা কার্যকর করা হয়েছে। যারা কাজে যোগ দিতে পারেননি, তাঁরাও শতকরা ৬০ ভাগ বেতন পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে বেতনভাতা পরিশোধ করা শুরু হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘দোকান-পাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় একদিকে মালিকদের আয় যেমন বন্ধ হয়েছে, তেমনি কর্মচারীরাও বিপাকে পড়েছেন। বেশিরভাগ দোকান মালিকের কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার সামর্থ্য নেই। ফলে তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঈদের আগে স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য নিয়মনকানুন মেনে কিছু কিছু দোকানপাট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছি। যাঁরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন এবং যারা দোকানে কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন, আপনারা অবশ্যই নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন। ভিড় এড়িয়ে চলবেন। আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। মনে রাখবেন আপনি সুরক্ষিত থাকলে আপনার পরিবার সুরক্ষিত থাকবে, প্রতিবেশি সুরক্ষিত থাকবে, দেশ সুরক্ষিত থাকবে।’

    বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি বাংলাদেশের জনগণসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ঈদ মোবারক।

    আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতীয় চার নেতার প্রতি। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। শ্রদ্ধা জানাই সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

    আমি স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালরাতে ঘাতকদের হাতে নিহত আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই- মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের ছোট্ট শেখ রাসেলকে- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা বধু- সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ সকল শহিদকে।

    প্রিয় দেশবাসী,

    কথায় আছে ‘বিপদ কখনও একা আসে না’। করোনাভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে গত বুধবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগাম বিভাগসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ‘আমপান’ আঘাত হানে।

    আল্লাহর অশেষ রহমত এবং আমাদের আগাম প্রস্তুতির কারণে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে যাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে জন্য বিভিন্ন দ্বীপ, চরাঞ্চল এবং সমুদ্র-উপকূলে বসবাসকারী ২৪ লাখেরও বেশি মানুষকে এবং প্রায় ৬ লাখ গবাদিপশু আমরা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি।

    সর্বাত্মক প্রস্তুতি সত্বেও গাছ ও দেয়াল চাপায় বেশ কয়েকজন মানুষ মারা গেছেন এবং বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আমি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আমরা ইতোমধ্যেই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছি এবং ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।

    প্রিয় দেশবাসী,

    ঈদুল ফিতর মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে সকল ধর্ম এবং বর্ণের মানুষ এ উৎসবে সমানভাবে সামিল হয়ে থাকেন। ঈদের আনন্দ সকলে ভাগাভাগি করে উপভোগ করেন।

    কিন্তু এ বছর এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। করোনা নামক এক প্রাণঘাতী ভাইরাস সারা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তার উপর ঘূর্ণিঝড় আমপানের তাণ্ডবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এবছর আমরা সকল ধরনের গণ-জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছি। কাজেই স্বাভাবিক সময়ের মত এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করা সম্ভব হবে না।

    ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    ইতঃপূর্বে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা দিবস এবং বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানও জনসমাগম এড়িয়ে রেডিও, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে।

    সবাইকে আমি ঘরে বসেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানাই, এই দুঃসময়ে আপনি আপনার দরিদ্র প্রতিবেশি, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর কথা ভুলে যাবেন না।

    আপনার যেটুকু সামর্থ্য আছে তাই নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তাহলেই ঈদের আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে আপনার ঘর এবং হৃদয়-মন।

    প্রিয় দেশবাসী,

    পবিত্র ঈদুল ফিতরে উপলক্ষে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের যাঁরা সামনে থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

    শুভেচ্ছা জানাই পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ সরকারের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।

    অনেকক্ষেত্রে করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থাও তাঁদের করতে হচ্ছে। সংবাদকর্মীগণ সংক্রমনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরছেন এবং মানুষকে সচেতন করতে সহায়তা করছেন। তাঁদেরও ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

    এসব কাজ করতে গিয়ে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মী এবং সংবাদকর্মী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

    বেশ কয়েকজন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যাংক ও সংবাদকর্মী ইতোমধ্যে মারা গেছেন। আমি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে বসবাসকারী সাড়ে ৬ শোরও বেশি বাংলাদেশী ভাইবোন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমি সকলের রুহের মাগফিরাত এবং আত্মার শান্তি কামনা করছি।

    ইতোমধ্যে আমরা চিকিৎসা সক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি করেছি। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাসপাতালকেও আমরা করোনাভাইরাস চিকিৎসায় সম্পৃক্ত করেছি।

    জরুরিভিত্তিতে ২ হাজার ডাক্তার এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। হাসপাতালগুলোতে সকল ধরনের রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    প্রিয় দেশবাসী,

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে সারা বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। অগণিত মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও এই মহামারী মানুষের রুটি-রুজির উপর চরম আঘাত হেনেছে।

    সংক্রমন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য জরুরি কিছু সেবা ছাড়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে অফিস-আদালত, কল-কারখানা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। হারিয়েছেন তাঁদের রুটি-রুজির সংস্থান।

    এসব কর্মহীন মানুষের সহায়তার জন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খাদ্য সহায়তা ছাড়াও দেওয়া হচ্ছে নগদ অর্থ। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

    ১০ কেজি টাকা দরে বিক্রির জন্য ৮০ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মে মাসে দরিদ্র পরিবারের জন্য অতিরিক্ত ৫০ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে তাঁরা এই চাল কিনতে পারবেন। কাজ হারিয়েছেন কিন্তু কোন সহায়তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত নন এ ধরনের ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে মোট ১২ শো ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে।

    কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য দু-দফায় ১৭ কোটিরও বেশি এবং সারা দেশের মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিনদের জন্য ১২২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সহায়তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    যতদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, ততদিন এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অনেক সদাশয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দরিদ্র জনগণের সহায়তায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণে এগিয়ে এসেছেন। আমি তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    প্রিয় দেশবাসী,

    অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে পুনরায় সচল করতে আমরা ইতোমধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। যা জিডিপি’র ৩.৬ শতাংশ।

    রপ্তানিমুখী শিল্প, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কৃটির শিল্প, কৃষি, মৎস্যচাষ, হাঁসমুরগী ও পশুপালন খাতসহ ১৮টি অর্থ‣নতিক খাতকে এসব প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় আনা হয়েছে।

    কাজ হারানো যুবক ও প্রবাসী ভাইবোনদের সহায়তার জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনকে ৫০০ কোটি টাকা করে সর্বমোট ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    এই দুর্যোগ মুহূর্তে বোরো ধানের বাম্পার ফলন আমাদের জন্য আর্শীবাদ হয়ে এসেছে। এ বছর প্রায় ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। ইতোমধ্যে বোরো ধান কাটামাড়াই প্রায় শেষ।

    এই দুর্যোগ মুহূর্তে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য আমি কৃষক ভাইবোন এবং কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন ও ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

    কৃষকগণ যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পান সেজন্য ইতোমধ্যেই আমরা ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করেছি। চলতি মওসুমে ২২.২৫ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে যা গত বছরের তুলনায় ২ লাখ মেট্রিক টন বেশি।

    ধান কাটা-মাড়াইয়ে সহায়তার জন্য আমরা কৃষকদের ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টর এবং রীপার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। এজন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

    আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলাম ধান কাটা-মাড়াইয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে।

    আমার নির্দেশ শিরোধার্য্য করে নিয়ে তারা কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে কৃষকলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধান কাটায় সহায়তা করেছে।

    এ জন্য কৃষকদের কোন অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। কৃষকেরা দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পেড়েছেন। আমি এসব ছাত্রলীগকর্মীসহ যাঁরা কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের অভিনন্দন জানাই।

    প্রিয় দেশবাসী,

    ঝড়-ঝঞ্ছা-মহামারি আসবে। সেগুলো মোকবিলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যে কোন দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সঙ্কট যত গভীরই হোক জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা উৎড়ানো কোন কঠিন কাজ নয়।

    এই সত্য আপনারা আবারও প্রমাণ করেছেন। আপনাদের সহযোগিতা এবং সমর্থনে আমরা করোনাভাইরাস মহামারীর আড়াই মাস অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সমর্থ হয়েছি।

    যতদিন না এই সঙ্কট কাটবে, ততদিন আমি এবং আমার সরকার আপনাদের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।

    প্রয় দেশবাসী,

    দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দ উৎসবের জন্য মহান আল্লাহতায়ালা ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এক মাসের কষ্ট আর ক্লান্তিকে ভুলে গিয়ে এদিন আনন্দ ও খুশিতে মেতে উঠার দিন।

    এ বছর আমরা সশরীরে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হতে বা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে না পারলেও টেলিফোন বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আত্মীয় স্বজনের খোঁজখবর নিব।

    এভাবেই সকলের সঙ্গে একযোগে আল্লাহ প্রদত্ত এই মহান নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবো।

    বিদ্রোহী কবি, মানবতার কবি, ইসলামীভাবের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গানের কয়েকটি চরণ উদ্ধৃত করে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি:

    ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

    তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।

    তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ

    দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ

    ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

    আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। ঘরে বসেই ঈদের আনন্দ

    উপভোগ করুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আবারও সবাইকে ঈদ মোবারক।

    খোদা হাফেজ।

    জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

    বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

  • নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা

    নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা

    পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।এক শুভেচ্ছা বার্তায় মেয়র পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে নগরবাসীর জীবন আনন্দে উদ্ভাসিত হোক এই কামনা করেছেন। একই সাথে করোনা ভাইরাসের কারণে সবাইকে বাড়িতে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • শেষ রাতে মেয়র সাদিকের ডাক, টুটুল দিলেন সাড়া

    শেষ রাতে মেয়র সাদিকের ডাক, টুটুল দিলেন সাড়া

    শাকিব বিপ্লব :: এবার ঈদে কাপড় নয় অন্তত খাবার প্রয়োজন, এমন বান্তবতা বিবেচনায় ঈদপূর্ব দরিদ্র মানুষের ঘরে আবারও ত্রাণ পৌঁছে দিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। গতকাল শুক্রবার মধ্য রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নগরীর বৃহৎ এলাকা কাউনিয়ায় ৯টি ট্রাকযোগে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর পর তার অনুসারী দলীয় নেতৃবৃন্দ বাড়ি বাড়ি কড়া নেড়ে মেয়র সাদিকের পাঠানো উপহার গ্রহনের আহবান রাখেন। ঘুম ভেঙে অপ্রত্যাশিত এই ডাকে চমকে উঠা পরিবারগুলো ত্রাণের খাবার পেয়ে সন্তুষ্টির ঢেঁকুর গিলে অভিনন্দন জানান এই নেতাকে দুর্যোগে পাশে আসায়। অবশ্য সাদিক আবদুল্লাহ নিজে মাঠে না এসে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সেল ফোনের লাইভে পর্যবেক্ষন করছিলেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য প্রাপ্ত।

    গত শুক্রবার রাত ২ টার পর এই ত্রাণ দেওয়ার পদক্ষেপে এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা ঘটে সিটি কর্পোরেশনের সবুজ রঙের মিনি ট্রাক যেভাবে উপস্থিত হয়, সে দৃশ্য যেনো দুর্গতদের মাঝে সহায়তার প্রদীপ জ্বালানোর আদলে রূপ নেয়। এক বাড়িতে ডাকা-ডাকি শুনে আরেক বাড়ির পড়শিরাও ছুটে আসে ট্রাকের ধারে। এ সময় ওয়ার্ড আ.লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ যার যার দরজায় দাঁড়ানোর অনুরোধ রেখে ত্রাণ প্রাপ্তিতে আশ্বস্ত করে শৃঙ্খলা বজায় রাখেন বলে শোনা যায়।

    দলীয় সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে ত্রাণ থেকে বঞ্চিত এবং ঈদকে সামনে রেখে অত্র এলাকায় অন্তত ৬ হাজার পরিবারকে পুনরায় ত্রাণ সামগ্রী দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ। ঈদের ৩ দিন পূর্বে অর্থাৎ শুক্রবার এই ত্রাণ দেয়া শুরু হলো। এই কার্যক্রম আজ শনিবার রাতেও চলবে। প্রথমদিনে প্রায় ৩৬’শ পরিবারের মাঝে চাল-ডাল-আলু-সাবান একাত্রিত বস্তাভর্তি এই সামগ্রী আকস্মিক দেয়ার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ঘটে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে। দ্বিতীয় দিনে আজ রাতে আরও ৫’শ পরিবারকে টার্গেট করে ত্রাণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু কখন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে, এ বিষয়টি কৌশলগত কারণ অর্থাৎ বিশৃঙ্খলতা রোধে আগে-ভাগে জানানো থেকে বিরত থাকা হচ্ছে।

    কাউনিয়া এলাকার ২নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি মোঃ পান্না, সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন জিয়া ও ছাত্রনেতা রইজ আহমেদ মান্না ও যুবলীগ নেতা শেখ তরিকুল ইসলাম সুজা এই ত্রাণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে বঞ্চিতদের তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি উপস্থিত হন। রাত ২টার পরই হঠাৎ শুরু হয় ত্রাণ বিতরণ পর্ব। এ সময় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক সহোচর ও ব্যবসায়ীক নেতা নিরব হোসেন টুটুল গোটা বিষয়টি মনিটর্রিং করেন। এই রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব প্রতিটি জায়গায় অবস্থান নিয়ে ত্রাণ সঠিকভাবে বা আগে-পরে পেয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হন। বলা বাহুল্য যে, মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ করোনা দুর্যোগে এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করে অনন্য এক নজির স্থাপন করেছেন বরিশাল প্রেক্ষাপটে। সেক্ষত্রে তিনি প্রকাশ্যে না আসলেও নিরব হোসেন টুটুলকে আস্তার যায়গায় রেখে সার্বিক তত্বাবাধায়নের দায়িত্ব দিয়ে সফল হয়েছেন। ইতোপূর্বে তার রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানমালাসমূহে সাফল্যের ক্ষেত্রেও টুটুলের অবদান রয়েছে বলে দলীয় নেতাদে অভিমত পাওয়া যায়। এবার ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা রোধ এবং সুষ্ট তদারকিতে সাদিক আবদুল্লাহ সমূহ অনেক বিতর্ক এড়াতে সক্ষম হয়েছেন বলে মন্তব্য রয়েছে।

    ধারণা করা হচ্ছে, কাউনিয়া এলাকায় ত্রাণ বিতরণের প্রথম পর্বে কিছু বিশৃঙ্খলায় এক ব্যক্তি একাধিক বার ত্রাণ পাওয়ার অভিযোগ এবং রেশন কার্ড বিতরণ নিয়ে বিতর্ক ওঠায় সম্ভবত আবারো টুটুলকে ভরসার প্রতীক হিসেবে গতকাল গভীর রাতে ডাক দেন কাউনিয়ায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম স্ব-চোঁখে দেখে বঞ্চিতদের হতাশা অবসনকল্পে। কথা অনুযায়ী কাজ অর্থাৎ গভীর রাতে নেতা সাদিক আবদুল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত নিরব হোসেন টুটুল ঠিকই দক্ষতার ধারাবাহিকতা রাখেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র জানায় , প্রথমে ৭টি গাড়িভর্তি ত্রাণ দেয়ার পর আরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে এবং সময় থাকায় ভোরে ফজরের আযানের পূর্ব আরও ২ ট্রাক খাবার সামগ্রী নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় আ.লীগ নেতা জিয়া উদ্দিন এই প্রতিবেদককে জানান, এবারের ঈদের আনন্দের বদলে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকাই বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সেমাই-চিনি-দুধের বদলে চাল-ডাল দরিদ্র মানুষের কাছে বড় প্রয়োজনীয়তা আমলে নেন মেয়র ও নগর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ। যার ফলস্রুতিতে নতুন করে এই ত্রাণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    তার এই উদ্যোগে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যাক্তিবর্গ। সাদিক আব্দুল্লাহ যে কৌশলী তারও প্রমান রাখলেন ঈদপূর্ব এমন উদ্যোগ নিয়ে। এদিকে নতুন করে ত্রাণ দেওয়ার খবরে আজ শনিবার সকালে বহু মানুষ স্থানীয় আ.লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করতে শোনা গেছে, যেনো আজ ত্রাণ প্রাপ্তির তালিকায় তাদের নাম স্থান পায়।

  • ঝালকাঠিতে বিভিন্ন সংগঠন ও মহুরিদের ঈদ উপহার দিলো আ’লীগ নেতা রিজভী

    ঝালকাঠিতে বিভিন্ন সংগঠন ও মহুরিদের ঈদ উপহার দিলো আ’লীগ নেতা রিজভী

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি//আরিফুর রহমান আরিফ: ঝালকাঠিতে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন মানচিত্র, শ্রমিক সংগঠন ও মহুরিদের মাঝে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক,কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস. এম. রুহুল আমীন রিজভী ঈদের খাদ্য সামগ্রী উপহার দেন । শুক্রবার (২২ মে) তাঁর নিজ উদ্যোগে ঈদের খাদ্য সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়। প্রতিটি খাবারের প্যাকেটে রয়েছে মুরগি, পোলার চাল, তেল, আলু,দুধ, চিনি, সেমাই। এর আগে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ১৭৭ জন নানা শ্রেনিপেশার মানুষের মাঝে পুরো এক মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন এছাড়াও পৌরসভার ৫৬৭ পরিবার ও সিটি ক্লাবের সকল সদস্যদের ঈদের খাদ্য সামগ্রী উপহার দেন। এস. এম. রুহুল আমীন রিজভী বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে আমার ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ রয়েছে তা নাহলে জেলার প্রতিটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতাম। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ও শিল্প মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক শিল্প ও খাদ্য মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপির পক্ষ থেকে সামান্য উপহার দিয়েছি। ঈদের উপহার পেয়ে নানা শ্রেনিপেশার মানুষেরা তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

  • ঝালকাঠির সিটি ক্লাব ও পাঠাগারের সদস্যদের ঈদের খাদ্য সামগ্রী উপহার দিলেন রিজভী

    ঝালকাঠির সিটি ক্লাব ও পাঠাগারের সদস্যদের ঈদের খাদ্য সামগ্রী উপহার দিলেন রিজভী

    দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ঝালকাঠি সিটি ক্লাব ও পাঠাগারের সদস্যদের ঈদের খাদ্য সামগ্রী উপহার দিলেন জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক,কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস. এম. রুহুল আমীন রিজভী। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২১মে) ঈদের খাদ্য সামগ্রী উপহার দেওয়া হয় ।ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হক খলিফা উপস্থিত থেকে সদস্যদের খাদ্য সামগ্রী উপহার দেন।সদস্যরা উপহার পেয়ে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

  • সকলের দোয়া প্রত্যাশী, শরীফ মাহমুদ অপু (ডেংগু + করোনা, রিপোর্ট পজিটিভ )

    সকলের দোয়া প্রত্যাশী, শরীফ মাহমুদ অপু (ডেংগু + করোনা, রিপোর্ট পজিটিভ )

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফ মাহমুদ (অপু) একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।গতকাল রাতে তার ফেইসবুক এর স্টাটাস এ ডেঙ্গু ও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এর তথ্যটি নিশ্চিত করেন ।

    তার ফেসবুক স্টাটাস হুবহু তু্লে ধরা হল :-

    ভূপেনের ” সাগর সঙ্গমে সাঁতার কেঁটেছি কত কখনতো হই নাই ক্লান্ত” এই গানটি থেকে আমি শক্তি সঞ্চয় করে জীবন সংগ্রামে নব উদ্যমে এগিয়ে চলি। সৃষ্টিকর্তা আমাকে সংগ্রামে কখনো হারতে দেননি। এর পেছনে অবশ্য মানুষের আশির্বাদ/ দোয়া’ই প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এবার একসঙ্গে ডেঙ্গু ও করোনা’র সঙ্গে লড়তে হবে। আল্লাহই জানেন এবার ফলাফল কি হবে। কিন্তু আমিতো ক্লান্ত হবার লোক নই। আমার সন্তান দুইটির জন্য/ মানুষের জন্য আমাকে বাঁচতে হবে। গত ৪ দিন আগে আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের বাসায় থেকে প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার (Rozina Islam) আপার সাথে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’র সঙ্গে সম্পাদকীয় পরিষদের একটি সভা আয়োজনের বিষয়ে ফোনে কথা বলছিলাম। আপা আমার কন্ঠ শুনে জানতে চাইলেন আমার শরীর খারাপ কী না। আমি বললাম একটু গা টা গরম লাগছে। উনি সাথে সাথেই বললেন অপু ভাই আপনি এক মিনিটও দেরি না করে এখনই বাসায় চলে যান। একটু পর উনি আবারও জানতে চাইলেন বাসাতে কী না। এরপর বললেন একদম আইসোলেশনে চলে যান। আর যত দ্রুত সম্ভব করোনা পরীক্ষা করান। আমি বাসায় ঢুকেই আলাদা রুমে চলে গেলাম। করোনা পরীক্ষা করার জন্য যোগাযোগ করলাম। নমুনা দিলাম। আজ রিপোর্ট এসেছে করোনা পজিটিভ। এর পূর্বে ডেঙ্গু ও পজিটিভ এসেছিল। করোনাকালে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় প্রায় প্রতিদিন অফিস করছেন। স্যারের সঙ্গে অফিস করার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করোনা সেলেও দায়িত্ব পালন করেছি। তাছাড়া নিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ত্রাণ ও ঈদ উপহার প্রদান করলাম। এসব ব্যস্ততার মধ্যে আমাকে শেষ পর্যন্ত করোনা ধরেই ফেললো। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় আইসোলেটেড হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে আপনাদের সেবায় আবারও ব্যস্ত হতে পারি। বেঁচে থেকে আবারও দায়িত্ব পালন করতে চাই। আপনাদের সকলের জন্য ও শুভকামনা । ঘরে থাকবেন। সাবধানে থাকবেন।

  • সকলের দোয়া প্রত্যাশী, শরীফ মাহমুদ অপু (ডেংগু + করোনা, রিপোর্ট পজিটিভ )

    সকলের দোয়া প্রত্যাশী, শরীফ মাহমুদ অপু (ডেংগু + করোনা, রিপোর্ট পজিটিভ )

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফ মাহমুদ (অপু) একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।গতকাল রাতে তার ফেইসবুক এর স্টাটাস এ ডেঙ্গু ও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এর তথ্যটি নিশ্চিত করেন ।

    তার ফেসবুক স্টাটাস হুবহু তু্লে ধরা হল :-

    ভূপেনের ” সাগর সঙ্গমে সাঁতার কেঁটেছি কত কখনতো হই নাই ক্লান্ত” এই গানটি থেকে আমি শক্তি সঞ্চয় করে জীবন সংগ্রামে নব উদ্যমে এগিয়ে চলি। সৃষ্টিকর্তা আমাকে সংগ্রামে কখনো হারতে দেননি। এর পেছনে অবশ্য মানুষের আশির্বাদ/ দোয়া’ই প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এবার একসঙ্গে ডেঙ্গু ও করোনা’র সঙ্গে লড়তে হবে। আল্লাহই জানেন এবার ফলাফল কি হবে। কিন্তু আমিতো ক্লান্ত হবার লোক নই। আমার সন্তান দুইটির জন্য/ মানুষের জন্য আমাকে বাঁচতে হবে। গত ৪ দিন আগে আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের বাসায় থেকে প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার (Rozina Islam) আপার সাথে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’র সঙ্গে সম্পাদকীয় পরিষদের একটি সভা আয়োজনের বিষয়ে ফোনে কথা বলছিলাম। আপা আমার কন্ঠ শুনে জানতে চাইলেন আমার শরীর খারাপ কী না। আমি বললাম একটু গা টা গরম লাগছে। উনি সাথে সাথেই বললেন অপু ভাই আপনি এক মিনিটও দেরি না করে এখনই বাসায় চলে যান। একটু পর উনি আবারও জানতে চাইলেন বাসাতে কী না। এরপর বললেন একদম আইসোলেশনে চলে যান। আর যত দ্রুত সম্ভব করোনা পরীক্ষা করান। আমি বাসায় ঢুকেই আলাদা রুমে চলে গেলাম। করোনা পরীক্ষা করার জন্য যোগাযোগ করলাম। নমুনা দিলাম। আজ রিপোর্ট এসেছে করোনা পজিটিভ। এর পূর্বে ডেঙ্গু ও পজিটিভ এসেছিল। করোনাকালে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় প্রায় প্রতিদিন অফিস করছেন। স্যারের সঙ্গে অফিস করার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করোনা সেলেও দায়িত্ব পালন করেছি। তাছাড়া নিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ত্রাণ ও ঈদ উপহার প্রদান করলাম। এসব ব্যস্ততার মধ্যে আমাকে শেষ পর্যন্ত করোনা ধরেই ফেললো। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় আইসোলেটেড হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে আপনাদের সেবায় আবারও ব্যস্ত হতে পারি। বেঁচে থেকে আবারও দায়িত্ব পালন করতে চাই। আপনাদের সকলের জন্য ও শুভকামনা । ঘরে থাকবেন। সাবধানে থাকবেন।

     

  • ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণ করে দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণ করে দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের আজ (বৃহস্পতিবার) থেকেই ঘর নির্মাণ, অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ইতিমধ্যে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও পরিচালকরা ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের জন্য জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঈদের ছুটির সময়ও সক্রিয় থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

    লকডাউন পরিস্থিতে সরকারি ছুটির দিনেও সবসময় খোলা ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। অনলাইন এবং অফলাইনে নিয়মিত ফাইল দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন।

    এছাড়াও মন্ত্রিসভা, একনেক, বাজেট, ৬৪ জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত সভা, সর্বশেষ গতকাল (বুধবার) জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিমুহূর্তে তথ্য নিচ্ছেন। তার নির্দেশে ঈদের ছুটির মধ্যেও অফিসের সবাই সক্রিয় থাকবেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই করোনা এবং ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সব জেলা উপজেলা কর্মকর্তাদের সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, সকাল থেকেই সচিব ও পরিচালকরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে গত দুইদিন ধরেই উপকূলীয় এলাকার লোকজনদের নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, তাদের খাবার ব্যবস্থা করা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ব্যস্ত সময় পার করেছেন। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ করে ত্রাণ বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, কৃষি ও গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন, সড়ক বাঁধ ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজও চলছে।