Category: রাজণীতি

  • বরিশাল বিভাগে মিলেছে ৩৭ রাজাকারের অস্তিত্ব!

    বরিশাল বিভাগে মিলেছে ৩৭ রাজাকারের অস্তিত্ব!

    অনলাইন  ডেস্ক ::: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজাকারের নামের তালিকা ঘোষণা করেন।

    মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা প্রথম পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের নামের তালিকা প্রকাশ করেছি। ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধিনতাবিরোধীরা রাজাকার-আল বদর নামে সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের আগে তাদের নামের তালিকা প্রণয়ন করা ছিল আমরা প্রতিশ্রুতি। সংসদেও এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম। এরই আলোকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মেহেরপুর জেলায় সর্বোচ্চ ১৬৯ জন রাজাকারের নাম, চাঁদপুরে ৯ জন, শরীয়তপুরে ৪৪ জন, বাগেরহাটে এক জন ও নড়াইলে ৫০ জনের নাম পাওয়া গেছে। তবে যশোরের শার্শা উপজেলা, গাইবান্ধা, শেরপুর, মাগুরা ও খাগড়াছড়ি জেলায় কোনো রাজাকার নেই বলে জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখনো জীবিত রয়েছে এমন রাজাকারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে শার্শা উপজেলা যেখানে রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর সম্মুখযুদ্ধে শতাধিক শহিদ হওয়ার ঘটনা রয়েছে।

    অন্যদিকে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির ট্রুথ কমিশন ফর জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, মাগুরা জেলায় রাজাকারের সংখ্যা ২১ জন, ঢাকা জেলায় চার জন, গাজীপুর জেলায় সাত, টাঙ্গাইল জেলায় ১৪ জন, ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলায় ১৮ জন, নান্দাইল উপজেলায় ১১ জন, ফুলপুর ও হালুয়াঘাট উপজেলায় ৪৩ জন, গফরগাঁও উপজেলায় ১৫ জন, মুক্তাগাছা উপজেলায় ২০, ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ৪০ জন, ত্রিশালে ৪৩ জন, ভালুকায় ১৯ জন, শেরপুর সদরে ৩১ জন, নালিতাবাড়ী উপজেলায় ৪৯ জন, জামালপুর সদরে ১১ জন, নেত্রকোনা সদরে ১৩ জন, আটপাড়ায় সাত জন, বারহাট্টায় ১১ জন, কলমাকান্দায় আট জন, পূর্বধলায় সাত জন, কেন্দুয়ায় ১০ জন, মোহনগঞ্জ উপজেলায় ২৪ জন, দুর্গাপুরে ১৬ জন, মদনে সাত জন, কিশোরগঞ্জ জেলায় ৩১ জন, গাজীপুর জেলায় সাত জন, ফরিদপুর জেলায় ১৭ জন, মাদারীপুর জেলায় ১৪ জন, শরীয়তপুর জেলায় এক জন, গোপালগঞ্জ জেলায় সাত জন, রাজশাহী জেলায় ১৪ জন, পাবনা জেলায় তিন জন, সিরাজগঞ্জ জেলায় আট জন, বগুড়া জেলায় ১৪ জন।

    এছাড়া নওগাঁ জেলায় চার জন, নাটোর জেলায় ছয় জন, কুড়িগ্রাম জেলায় এক জন, দিনাজপুর জেলায় ২৮ জন, ঠাকুরগাঁও জেলায় চার জন, লালমনিরহাট জেলায় সাত জন, মাগুরা জেলায় ১৮ জন, ঝিনাইদহ জেলায় তিন জন, মেহেরপুর জেলায় তিন জন, যশোর জেলায় চার জন, বাগেরহাট জেলায় ৯ জন, বরিশাল জেলায় এক জন, পটুয়াখালী জেলায় তিন জন, পিরোজপুর জেলায় ১৮ জন, বরগুনা জেলায় ১১ জন, ঝালকাঠি জেলায় চার জন, মৌলভীবাজার জেলায় তিন জন, সিলেট জেলায় পাঁচ জন, সুনামগঞ্জ জেলায় ১৩ জন, নোয়াখালী জেলায় তিন জন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এক জন।

    তবে এই হিসাব পুরো জেলা বা উপজেলার নয় বরং আংশিক।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রেকর্ড সংগ্রহ করে রাজাকারদের তালিকা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকার সময় অনেক রাজাকার-আলবদরের রেকর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

    আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, রাজাকারদের নাম-পরিচয় নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্যই তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে।

    মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, আমরা নতুন করে কোনো তালিকা করিনি। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং যেসব পুরনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল সেটুকু প্রকাশ করেছি। তৎকালীন বিভিন্ন জেলার রেকর্ড রুম থেকে এবং বিজি প্রেসে ছাপানো তালিকাও সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলছে। যাচাই-বাচাই করে ধাপে-ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছিল। ওই সময় গ্রামে-গঞ্জে বেসিক ডেমোক্রেসি মেম্বার ছিল, তাদের রাজাকার বাহিনীতে লোক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। গ্রামের এসব মেম্বার এবং বিভিন্ন দল (যেমন জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, জামাতে ওলামা, কনভেনশন মুসলিম লীগ) যারা পাকিস্তানের সমর্থক- ওই রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়।

    এসব দলের নেতা রাজাকার বাহিনীর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তবে রাজাকার বাহিনী তৈরির পেছনে ছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনী এবং তাদের জেনারেলরা।

    ওই সব বেতনভুক্ত রাজাকার এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যাদের বিরুদ্ধে দালাল আইনে মামলা হয়েছিল, তাদের নিয়েই রাজাকারের তালিকা চূড়ান্ত করেছে সরকার।

  • উন্নত দেশের মতো শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী

    উন্নত দেশের মতো শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক :: পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুদক্ষ ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়তে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে যুগোপযোগী করতে চাই এবং একটা পেশাদার প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উন্নত ট্রেনিং দিয়ে একটি উন্নত দেশের মতো শক্তিশালী বাহিনী গড়তে চাই।

    আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০১৯ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০১৯ এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন একটা চমৎকার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে। তিনি ১৯৭৪ সালে আমাদের প্রতিরক্ষা নীতিমালা দিয়ে গেছেন। তারই আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে এগিয়ে যাচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য নতুন আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় থেকে শুরু করে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা, আমরা বিভিন্ন জায়গায় সেনানিবাসও গড়ে তুলেছি নতুন কয়েকটি। যেটা দেশের জন্য যখন প্রয়োজন আমরা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন এবং সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি। কারণ আমরা চাই একটা পেশাদার প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠা করতে।

    পরিবর্তনশীল বিশ্বে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ট্রেনিং এবং সমরাস্ত্র সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট সচেতন এবং আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে আমরা সেটা জোগাড় করে দিচ্ছি এবং তৈরি করছি।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জনগণের পাশে থেকে অবদান রাখায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, এদেশের জনগণের সেবা করা আমাদের সবারই দায়িত্ব। কারণ জনগণের অর্থেই আমাদের বেতন-ভাতা, যা কিছু, সবই সাধারণ মানুষের অর্থে। কাজেই তাদের জীবন সুন্দর করাটাই আমাদের লক্ষ্য।

    দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ এবং সফলতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ। ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সে ৮৫ জন এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে ৩৮ জন অংশগ্রহণ করেন। এসব প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

    চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, তানজানিয়া, যুক্তরাজ্য, মালি, নাইজার এবং বাংলাদেশের প্রশিক্ষণার্থীরা ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সে অংশ নেন।

  • বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় ২৯তম শেখ হাসিনা

    বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় ২৯তম শেখ হাসিনা

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বিশ্বের প্রভাবশালী ১শ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস ম্যাগজিন। এই তালিকার শীর্ষ একশ নারীর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। তালিকার ২৯তম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘকালীন সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি চতুর্থবারের মতো জয়ী হয়ে টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত নির্বাচনে তার দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংসদের ৩শ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতেই জয় লাভ করে।

    ১৯৮১ সাল থেকে টানা প্রায় ৩৮ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর থেকেই শক্ত হাতে দলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন শেখ হাসিনা। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতি জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ফোর্বসের তালিকায় প্রভাবশালী শীর্ষ ১০ নারীর তালিকায় আছেন অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ক্রিস্টিনে লেগারদে, নেন্সি পেলোসি, আরসুলা ভন দের লেয়েন, মেরি বারা, মেলিন্ডা গেটস, আবিগেইল জনসন, আনা পেট্রিসিয়া বোটিন, গিনি রোমেটি এবং মেরিলিন হিউসন। ২০১৮ সালে ফোর্বসের প্রভাবশালী ১শ নারীর তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল ২৬তম।

  • বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভায় মহানগর আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অভিনন্দন

    বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভায় মহানগর আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অভিনন্দন

    বঙ্গবন্ধু পরিষদ বরিশাল মহানগর কমিটির এক সভা সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বিকেলে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সমীরকৃষ্ণ বণিকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা ৮ ডিসেম্বর বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে অনুষ্ঠিত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর সভাপতি ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক অঅবদুল­াহ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

    সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষুধা, দারিদ্র্য সন্ত্রাস ও দূণীর্তিমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে।

    সভায় অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আবদুস সালাম, শহীদুল ইসলঅম মন্টু, ডা. শেখ হুমায়ন কবির, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জুরান চন্দ্র চক্রবর্তী, মোঃ ইউনুস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • পিরোজপুরে ছাত্রলীগ নেত্রী মৌলির জানাজায় জনতার ঢল

    পিরোজপুরে ছাত্রলীগ নেত্রী মৌলির জানাজায় জনতার ঢল

    সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ফারমিন আক্তার মৌলির (২৩) মরদেহ জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

    বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার আমতলা মাদরাসা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মৌলির মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুর সোয়া ২টায় উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়।

    এদিকে, ফারমিন আক্তার মৌলির মৃত্যুতে বুধবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নাজিরপুর উপজেলা সদরের সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, মৌলিকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এবং জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের ঢল নামে। আমতলা মাদরাসা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মৌলিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া হয়ে নিজ বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুরে ফেরার পথে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মৌলি। তিনি নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন খানের দ্বিতীয় মেয়ে। জেলা ছাত্রলীগেরও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সভাপতি ছিলেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা থেকে বাসে নাজিরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাজনৈতিক কাজে গোপালগঞ্জে নামেন মৌলি। সেখান থেকে মো. রাকিবুল হাসান নামে তার এক আত্মীয়কে ফোন করে নিয়ে তার সঙ্গে নাজিরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শীতের পোশাক পরতে নামেন তিনি।

    তাকে বহন করা মোটরসাইকেলচালক রাকিবুল হাসান জানান, নাজিরপুর-ঢাকা মহাসড়কের বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার কুইনা বাসস্ট্যান্ডের কাছে মুক্তিযোদ্ধা ইস্রাফিল ভুঁইয়ার বীর নিবাসসংলগ্ন রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যান। তখন মৌলি মাথায় শীতের মাফলার পেঁচাচ্ছিলেন।

    হঠাৎ দেখি একটি অ্যাম্বুলেন্স ও মাহেন্দ্র যাচ্ছিল। এ সময় মৌলির চিৎকারের শব্দ শুনে ফিরে দেখি রাস্তার ওপর গুরুতর আহত হয়ে পড়ে আছেন মৌলি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৌলির বাবা নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারেফ হোসেন খান বলেন, মৌলি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়ে ওই দিন নাজিরপুরের বাসায় আসছিল। পথিমধ্যে ঘটে গেল দুর্ঘটনা।

    ‘মৌলির মৃত্যুর সংবাদটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো’ উল্লেখ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।

    তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম রেজাউল করিম। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক মো. আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

  • মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র শোক

    মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র শোক

    বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ: ছত্তার (টেনু)’র ইন্তেকালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    এক শোক বিবৃতিতে তিনি প্রবীন নেতা ছত্তারের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

  • সাদিকের জয়ে যৌবন ফিরে পেল বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ!

    সাদিকের জয়ে যৌবন ফিরে পেল বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ!

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সম্মেলনে একেএম জাহাঙ্গীর হোসেনকে সভাপতি ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় খুশির জোয়ারে ভাসছে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ।\

    আওয়ামী লীগ নেতারাও এ জয়ে অনেক খুশি। তাদের বিজয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হাজারো নেতাকর্মীরা। মহল্লায় মহল্লায় চলছে মিষ্টি বিতরণের ধুম। সকলের মনে বইছে খুশির আমেজ।

    এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বোমা ফাটিয়ে ও তারাবাতির আলোর জলকানিতে এ খুশির জানান দিচ্ছে নেতাকর্মীরা।

    নেতাকর্মীরা বলেন, সাদিক আবদুল্লাহ‘র জয়ে আমরা সোনায় সোহাগা। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ যেন আবার যৌবন ফিরে পেল।

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেয়া পর থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের বিচ্ছিন্ন নেতাকর্মীদের একত্রিত করে বরিশালকে আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এরপর ২০১৮ সালে ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নগর পিতা হিসেবে আসীন হয়ে সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়র্ডের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সু-সংগঠিত করার পাশাপাশি দলের কান্ডারী হিসেবে সর্বস্থরে বেশ সুনাম অর্জন করেন। এবং নেতাকর্মীদের একত্রিত করে তার রাজনৈতিক হাত আরো শক্তি করে।

    এক সময় বরিশালকে বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত ছিলো। যা এখন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বদৌলতে আওয়ামী লীগের দূর্গে পরিণত হয়েছে। আর এই জনপ্রিয়তাই আজ মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়ী হতে বড় পুঁজি হিসেবে কাজ করেছে।

    এ দিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে করা হয় ওয়ার্ড ভিত্তিক সম্মেলন। ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলন কোনো বাধা-বিপত্তি কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ২৮ দিনের মাথায় গত ১৫ নভেম্বর শেষ হয়। আর এবারই প্রথম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি ও সম্পাদকের পদে যারা রয়েছেন তারা যেমন নতুন, তেমনি সম্পাদক পদপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ, যা নিয়ে তৃণমূলের কর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, পাশাপাশি গঠিত কমিটি নিয়ে কোনো ক্ষোভ বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

    এছাড়া বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন সফল করার লক্ষে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ রাত দিন পরিশ্রম করে গেছেন। ত্রি বার্ষিক সম্মেলন সফল করার লক্ষে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

  • অবশেষে বরিশালে সাদিকই সফল

    অবশেষে বরিশালে সাদিকই সফল

    নানান গুঞ্জন ও আলোচনা টপকে শেষান্তে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র হাতে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব অর্পন করা হয়েছে। অকেটা আচমকা এই ঘোষণা আসে রোববার বহুল কাঙ্খিত মহানগরের সম্মেলনের প্রথম পর্ব শেষে মধ্যহ্নভোজের সময়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি মহানগরের সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর এবং সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র সেরনিয়বাত আব্দুল্লাহ’র নাম চ‚ড়ান্ত করে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা দিয়ে কৌতুহলের অবসান টানেন। সাদিক আব্দুল্লাহ পুর্বের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। একেএম জাহাঙ্গীর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকলেও এবার তিনি ছিলেন একেবারে আলোচনার বাইরে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সাদিক আব্দুল্লাহ এমন ঘোষণার আলোকেই জাহাঙ্গীরকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে।

    গত বেশ কয়েকদিন ধরে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নতুন নেতৃত্ব নিয়ে। বিভিন্নমুখী গুঞ্জন ও মহল বিশেষের অনুমান ছিল সভাপতি হিসেবে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এবং সাধারণ সম্পাদকের পদে সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র নাম অকেটাই চ‚ড়ান্ত। আবার কেউ কেউ ভিন্নমত পোষণ করে সদর আসনের সাবেক সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ অথবা পুর্ব কমিটির সভাপতি গোলাম আব্বাছ চৌধুরী দুলালের সম্ভবনাকেও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বিশেষ করে বরিশাল আ’লীগের বিভাজন রাজনীতির অবসান টানতে একটি সমন্বয়ের আলোকে নতুন নেতৃত্ব আসা নিয়ে জোর আলোচনা ছিল। কিন্তু হিসেব নিকেশ পাল্টে যায় সম্মেলনের মধ্যহ্নভোজের সময়। অকেটা আচমকা ঘোষণা আসে নতুন নেতৃত্বের। সেখানে সাদিক আব্দুল্লাহ’কে সাধারণ সম্পাদক এবং সিনিয়র নেতা একে এম জাহাঙ্গীরকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে অপুর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দিয়ে ওবায়দুল কাদের ঐক্যের রাজনীতি ধরে রাখার তাগিদ দেন। অবশ্য সাদিক আব্দুল্লাহ সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে যেমন প্রত্যাশি ছিলেন তেমন তার বিপুল অনুসারীরাও আকাঙ্খা পুরণে মুখিয়ে ছিলেন। ফলশ্রুতিতে রোববারের সম্মেলন নিয়ে এক ধরনের আকস্মন সৃষ্টি করে নতুন নেতৃত্ব জানার অপেক্ষায়।

    এই সম্মেলনকে ঘিরে বর্ণিল সাজে সেজেছে কীর্তনখোলার পশ্চিম তীর বরিশাল নগরী। দেয়ালে দেয়ালে ব্যানার-বিলাবোর্ড, হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের মুহূমুহূ শ্লোগান, বিভিন্ন জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সকালে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে সম্মেলনস্থল পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। সেখানে উপস্থিত হন বিমানযোগে আসা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্মেলনের শুরু থেকে ঘোষণার পুর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত যেমন উম্মাদনা তেমন চাপা উত্তেজনা ছাপিয়ে তুমুল আলোচনা ও কৌতুহলী হয়ে ওঠে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার বিষয়টি।
    এমন প্রশ্নের উত্তর মেলাতে বিশালাকায় সম্মেলনস্থলে বক্তদের উন্নয়ন ও রাজনীতির আলোচনা অপেক্ষা যেন একটি ঘোষণা শোনার আকাঙ্খায় আকস্মরণীয় করে তোলে মহানগর আ’লীগের এই আয়োজন।

    বরিশাল রাজনীতির ইতিহাসে এই ধরনের আয়োজন এবং উৎসহ এটাই প্রথম বলে রাজনৈতিক বোদ্ধারা অভিমত পোষণ করেছেন। সম্মেলন শুরুর পূর্ব রাত থেকেই যেন ঈদের আমেজ বইছে বিভাগীয় এই শহরে। ছোট গণপরিহন শহর অভ্যন্তরে নেই বললেই চলে। বাণিজ্যিক দোকানপাট অনেকটাই বন্ধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান সুদৃঢ় করার দৃশ্য বলে দেয় ক্ষমতাসীন দলীয় সহযোগী সংগঠনের এই আয়োজনকে ঘিরে প্রশাসনের গুরুত্ব। এরুপ আবহের মাঝে সম্মেলনের প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের দুপুর পৌঁনে দুইটায় মঞ্চে দাড়িয়ে আ’লীগের সাংগঠনিক ইতিহাস, রক্তঝরা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের আত্মত্যাগ, বরিশাল উন্নয়ন ও বিএনপির রাজনীতির সমালোচনার মধ্যদিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন। নাতিদীর্ঘ অর্ধঘণ্টার এই শীর্ষ নেতার বক্তব্যে যেমন ছিল আবেগ তেমন ছিল উৎসব্যাঞ্জক উক্তি। স্মরণ করিয়ে দেন দলীয় বিভেদ ঠেলে সামনে এগিয়ে যেতে ঐক্যের গুরুত্ব। অনেকটা সাহিত্যিক ভঙ্গিমায় ওবায়দুুল কাদের দিক-নির্দেশনাময় বক্তব্য দিতে তার অতিথিতার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। এর আগে অন্তত ১২ জন বক্তা তাদের বক্তব্য রাখেন। এর মধ্যে রয়েছেন আ’লীগের কেন্দ্রীয় আমির হোসেন আমু, আব্দুর রহমান, বিপ্লব বড়ুয়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ মল্লিক এবং আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম, বাহাউদ্দিন নাসিম, গোলাম রাব্বানী চিনু, সাম্মী আক্তারসহ পটুয়াখালীর আফজাল হোসেন অন্যতম। অবশ্য অনুষ্ঠানস্থলে কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন অপু, আনোয়ার হোসেন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য উপস্থিত ছিলেন। অনেকটা সঞ্চালকের ভুমিকায় থাকা নগর আওয়ামী লীগ নেতা ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে অতিথিবৃন্দের তদারকি এবং মঞ্চে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে দেখা যায়। এসময় পদপ্রত্যাশি সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজকেও মঞ্চে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়।

    সর্বশেষ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বকারী বরিশাল আওয়ামী লীগের মহানগরের বর্তমান সভাপতি গোলাম আব্বাছ চৌধুরী দুলাল সমাপনি বক্তব্য দিয়ে আয়োজনের প্রথম পর্যায়ের সমাপ্তি টানেন। সেই সাথে সম্মেলনকে ঘিরে চাপা উত্তেজনা অথবা শ্বাসরুদ্ধকর একটি পরিস্থিতির অবসান ঘটে। সমাপ্তির এই পর্বে একই সাথে দুটি কৌতুহলী প্রশ্নের উত্তর মিলে যায়।
    প্রথমমত মহানগরের সভাপতি পদপ্রত্যাশি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম আমন্ত্রিত তালিকায় না থাকায় সম্মেলনে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু তাকে অতিথির প্রথম সারির আসনে উপবিষ্ট থাকতে দেখা গেছে। দ্বিতীয়ত নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে কোন পন্থা অবলম্বন না করেই ঘোষণা দেওয়া হয়।

    বেলা আড়াইটা নাগাদ অনুষ্ঠানমালার প্রথম পর্ব শেষে শুরু হয় মধ্যহ্নভোজের আয়োজন। বিভিন্ন সূত্র জানায়- অতিথি ও ডেলিগেটসহ কর্মী-সমর্থক মোট ৪০ হাজার মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়।

    প্রত্যাশা অনুযায়ী এই বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ ছিল বরিশাল আওয়ামী লীগ সু-সংগঠিত হওয়ার লক্ষ্যণীয় বিষয়টি। অনুষ্ঠানে কয়েকজন বক্তা এর পেছনে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র অবদান থাকার কথা উল্লেখ করে ভুয়াসী প্রশংসা করেন।

    সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা উপজেলা বাস ট্রাকযোগে কর্মী-সমর্থকরা সম্মেলনস্থলে আসতে শুরু করে। নগরীর ত্রিশটি ওয়ার্ড থেকে আ’লীগ নেতৃবৃন্দের তদারকিতে সমরুপে কর্মী-সমর্থকরা ঢোল তবলা নিয়ে ভিন্ন এক সুর বাজিয়ে মাতিয়ে তোলে সড়কপথ। এসময় কিছুটা সংঘাতময় পরিস্থিতির অবতারণা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে জাহিদ ফারুক শামীম ও সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র কর্মীদের মধ্যে দল ভারী করা নিয়ে টানাটানিতে উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় কোন বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু গোটা সম্মেলনস্থল নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল নেতারা সতর্ক এবং কৌশলের আশ্রয় নেওয়ায় সেখানে বিভেদ নন, যেন ঐক্যের বাতায়ন সৃষ্টি করেছিল।

    দলের স্থানীয় দায়িত্বশীল সূত্র জানায়- দুপুর সাড়ে ৩টার পর সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের কার্যক্রম শুরুর পরে প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে কী না তা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। সেক্ষেত্রে কণ্ঠ ভোটের বিষয়টিও আলোচনা ছিল। কারও কারও ধারনা ছিল- শেষ বিকেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে প্রধান অতিথি নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা দিতে পারেন। কিন্তু ওবায়দুল কাদের কোনরুপ বিতর্কে না গিয়ে অনেকটা হাসিরছলে নয়া নেতৃত্বের ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখেন। বিশেষ করে সাদিক আব্দুল্লাহ’র নেতৃত্ব পাওয়ার বিষয়টি চ‚ড়ান্ত হওয়ার পরপরই সম্মেলনস্থল গোটা বরিশালে এক ধরনের আনন্দের ধারা বয়ে যায়। তার অনুসারীরা তাৎক্ষণিক শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানিয়ে আতোষবাজি ফুটিয়ে আন্দন্দ প্রকাশ করেন। পক্ষান্তরে পদপ্রত্যাশি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম ও সদর আসনের সাবেক সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ নিশ্চিুপ থেকে নিজেদের বাসবভনমুখী হন। এই দুই নেতা নতুন নেতৃত্ব অথবা তাদের বঞ্চিত হওয়ার বিষয় নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। তাদের অনুসারী ও সমর্থকেরা হতাশ ও ভেঙে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    দলের সুশীল অংশ মনে করছে- কোনরুপ বিতর্ক বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে নয়া নেতৃত্ব ঘোষণার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড দুরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু বরিশালে বিভাজনের রাজনীতির গতিপথ কোন দিকে ধাবিত হতে সেই প্রশ্নটি এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।’

  • আসছে রদবদল, পদ হারাবেন ব্যর্থ মন্ত্রীরা

    আসছে রদবদল, পদ হারাবেন ব্যর্থ মন্ত্রীরা

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘মন্ত্রিসভায় যারা ভালো করবে না তাদের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হবে। এছাড়া যারা নিজ নিজ কাজে ব্যর্থ হয়েছেন তাদেরও সরিয়ে দেয়া হবে।’

    সোমবার (০৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

    আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিল নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলের সভাপতি পদে পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। নেত্রী তো বারবার বিদায় নিতে চেয়েছেন। তিনি যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেয়া যায় না।’

    সাধারণ সম্পাদক পদে নিজের দায়িত্ব সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে দলের দায়িত্ব পালন করব। দায়িত্ব পালনে আমি কোনো চাপের মুখে নেই। আমি শারীরিকভাবেও সুস্থ আছি।’

    একসঙ্গে মন্ত্রণালয় ও দল চালাচ্ছেন এতে আপনার কোনও সমস্যা হয় না? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কাজ একটা ট্র্যাকে চলে এসেছে। দলের কাজেও একটা গতি এসেছে। টিম তৈরি করেছি, তারা কাজ করছে। শুক্র ও শনিবার ছাড়া প্রতিদিনই আমি ফাইল সই করি। আমি বিমানবন্দরেও ফাইল সই করেছি। কাজেই একসঙ্গে দায়িত্ব পালনে আমি তো কোনও সংকট অনুভব করছি না।’

  • আগামী সপ্তাহেই অনলাইন নিউজপোর্টালের নিবন্ধন: তথ্যমন্ত্রী

    আগামী সপ্তাহেই অনলাইন নিউজপোর্টালের নিবন্ধন: তথ্যমন্ত্রী

    আগামী সপ্তাহ থেকে অনলাইন নিউজপোর্টালগুলোর নিবন্ধন দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

    সোমবার (০১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।