Category: শিক্ষাঙ্গন

  • অতিরিক্ত ফি আদায় : বরিশাল বিএম কলেজে দুদকের হানা

    অতিরিক্ত ফি আদায় : বরিশাল বিএম কলেজে দুদকের হানা

    ইসরাত জাহান সুমাইয়া:

    বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কর্মকর্তারা হানা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে দুদক অভিযোগের ভিত্তিতে কলেজের প্রশাসনিক শাখায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিকুর রহমান শিকদার।

    তিনি জানান, ভর্তির সময় সেমিনার ফি রাখা হয়ে থাকে। বিগত সময়গুলোতে প্রতিবছরের সেমিনার ফি প্রতিবছর রাখার কারণে ফরম ফিলআপের সময় গিয়ে শিক্ষার্থীদের কষ্ট হয়। তাই এবার শুরুতেই চার বছরের সেমিনার ফি একত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে। যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে। তবে কেউ বাড়তি টাকা রাখার বিষয়ে দুদকে অভিযোগ দিয়েছেন। যে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা বিষয়ে খতিয়ে দেখতে কলেজে আসেন। আমরা তাদের একত্রে সেমিনার ফি রাখার বিষয়টি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য উপস্থাপন করেছি।

    বিএম কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি এই কলেজে কারো কাছ থেকে বিধি বহির্ভূতভাবে বাড়তি টাকা রাখার কোনো সুযোগ নেই। অপরদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, বিগত সময়ে অনুষদ অনুযায়ী সেশন ফি প্রতিবছরেরটা প্রতিবছর রাখা হলেও এবারই প্রথম একবারে ৪ বছরেরটা রাখা হচ্ছে। এতে অনুষদ অনুযায়ী কারো ২ হাজার বা কারো আরো বেশি টাকা একত্রে দিতে হবে।

    দুদক বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ পরিচালক দেবব্রত মন্ডল জানান, আমাদের একটি টিম বিএম কলেজে গিয়েছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।

  • বুয়েটে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ, আবরারের ১৯ ঘাতককে বহিষ্কার

    বুয়েটে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ, আবরারের ১৯ ঘাতককে বহিষ্কার

    অনলাইন ডেস্ক:

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত সব আসামিকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।সেইসঙ্গে বুয়েটে সব ধরনের রাজনীতি (ছাত্র-শিক্ষক) নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি। এছাড়া বুয়েট র‌্যাগিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন ভিসি।

    এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের দশ দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে বুয়েটের অডিটরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে এ ঘোষণা দেন ভিসি। এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টায় বৈঠক শুরু হয়।

    বৈঠকে ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এসময় আবরার হত্যাকাণ্ডের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন ভিসি।

    এছাড়া আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং হত্যা মামলার সকল ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলেও জানান তিনি।

    বৈঠকে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইয়াজ হোসেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাসুদসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে আবরার ফাহাদ স্মরণে এক নীরবতা পালন করা হয়।

    বৈঠকের শুরুতেই উপাচার্য এ বহিষ্কারের খবর জানান। এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ১৯ জন।

    আবরারের খুনিদের ফাঁসিসহ শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি নিয়ে বুয়েটের ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ ব্যাচের সঙ্গে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

  • দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

    দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

    অনলাইন ডেস্ক:

    বুয়েটের ভিসির দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। শুধু আশ্বাস নয় দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

    ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের এই ঘোষণার পর অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়ে যান শিক্ষকরা।

    এরপর অডিটরিয়াম থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন।

    ‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’,। ‘খুনিদের ঠিকানা এই বুয়েটে হবে কেন?’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বিথা যেতে দেব না’,। ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’,? ‘এক আবরার কবরে, লক্ষ আবরার বাইরে’,। ‘ফাঁসি ছাড়া যাবো না’,। ‘স্থায়ী বহিষ্কার, বহিষ্কার, খুনিদের বহিষ্কার করো,’- বলে স্লোগান দিচ্ছেন তারা,

    আগামী ১৪ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত রাখারও দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

    শুক্রবার বুয়েট ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে ভিসি ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আলোচনা হয়। সেখানে দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা হয়।

    বৈঠকে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম চলতে পারে, একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। দাবি বাস্তবায়নে আপনাদের যতটুকু সময় দরকার আমরা দিতে রাজি আছি। তার আগ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। আবরার খুনের বিচার না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করে তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়া যাবে না বলে দাবি করেন তারা।

    এর জবাবে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। তারপরও কেন বুয়েটের পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছো? কেন ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনে বাধা সৃষ্টি করছো?

    তিনি বলেন, যে কোনোভাবেই ভর্তি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নিতে হবে। আমরা তোমাদের আন্দোলনের সঙ্গে সম্মতি জানিয়েছি। তোমাদের আন্দোলন বন্ধ করতে বলছি না, আমরা শিক্ষকরা তোমাদের পাশে রয়েছি। তবে কেন বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনে বাধা সৃষ্টি করছো?

    ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনে বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে তিনি ছাত্রদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা ড. মিজানুর রহমানের পরামর্শে সাড়া দেননি।

    বৈঠকে বক্তব্যের শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নেন ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। বলেন, ‘আমার কিছুটা ভুল হয়েছে, আমি তোমাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার ভুল আমি স্বীকার করেছি, তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দাও।’

    ‘আবরার আমার সন্তানের মতো ছিল। তোমাদের যেমন কষ্ট লাগছে তার মৃত্যুতে আমারও অনেক খারাপ লেগেছে। এটি আমি মেনে নিতে পারিনি। তার মৃত্যুতে দুঃখ তোমরা পেয়েছ, আমিও পেয়েছি। আমরা সকলেই মর্মাহত।’

    আবরার ফাহাদ হত্যায় বুয়েটের অভিযুক্ত ১৯ জনকে অস্থায়ী বহিষ্কার এবং বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। জানিয়েছেন, আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। মামলার খরচ বুয়েট কর্তৃপক্ষ বহন করবে। বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে সরকারকে চিঠি দেয়া হবে।

    উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জের ধরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

    আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল রয়েছে বুয়েট ক্যাম্পাস।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ক্যান্টিনের ফ্রিজ থেকে ২০ হাজার টাকার ইলিশ লোপাট!

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ক্যান্টিনের ফ্রিজ থেকে ২০ হাজার টাকার ইলিশ লোপাট!

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনের ফ্রিজ থেকে ছাত্রদের কেনা বিশ হাজার টাকার ইলিশ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে। মা ইলিশ রক্ষায় মাছ বিক্রি ও ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগের দিন মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) রাতে দাম কম হওয়ায় প্রায় বিশ হাজার টাকার মাছ কিনে ক্যান্টিনের ফ্রিজে রেখেছিলেন হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী।

    শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সকালে তারা গিয়ে ফ্রিজে কোন মাছ পাননি। এ ঘটনায় শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিন ব্যবস্থাপক ফজলুল হক ওই শিক্ষার্থীদের ইলিশ মাছ পুনরায় কিনে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

    শেরেবাংলা হলের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, গত মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শরিফুল ইসলাম, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ইমরান হোসেন ও মোক্তার হোসেন প্রায় ২০ হাজার টাকার মাছ কিনে ক্যান্টিনের ফ্রিজে রেখেছিলেন।

    এ ব্যাপারে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগের রাতে তারা কয়েকজনে মিলে বিভিন্ন বাজার ঘুরে ইলিশ মাছ কিনে ক্যান্টিনের ফ্রিজে রেখেছিলেন। পূজার ছুটিতে ওই মাছ নিয়ে তাদের বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল।’

    শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সকালে ক্যান্টিনে গিয়ে তিনি ফ্রিজে কোনো মাছ পাননি।

    এ ব্যাপারে মোক্তার হোসেন জানান, পূজার ছুটিতে কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে বরিশালের ইলিশ নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি মাছ কিনে ফ্রিজে রেখেছিলেন। কিন্তু ক্যান্টিনের ফ্রিজ থেকে সে মাছ উধাও হয়ে গেছে।’

    শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিন ব্যবস্থাপক ফজলুল হক জানান, ছুটির কারণে ক্যান্টিন কয়েক দিন বন্ধ ছিল। তিনিও ছুটি কাটাতে বরিশালের বাইরে ছিলেন। তাই ফ্রিজে রাখা মাছগুলো কি হয়েছে তা বলতে পারবেন না। তবে যতগুলো মাছ লোপাট হয়েছে তা সবই তিনি কিনে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

    এ ব্যাপারে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, ‘ক্যান্টিনে মাছ রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। অবশ্যই এটি শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারে না। এরকম ঘটনা আগে ঘটেনি। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়াও হয়নি।’

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা কালীন কেন এতো ইলিশ ছাত্ররা রেখেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।’

  • বুয়েটের অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ঘোষণা

    বুয়েটের অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ঘোষণা

    আবরার ফাহাদ হত্যায় বুয়েটের অভিযুক্ত ১৯ জনকে অস্থায়ী বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। বুয়েটের অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় এ কথা জানান তিনি। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হন।

    এদিকে বুয়েট ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রবেশ করলেও অডিটোরিয়াম ভরে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বাইরে রাস্তায় অবস্থান করছেন।

    শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বুয়েটের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    এর আগে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে উপাচার্য অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। তিনি ও ডিএসডব্লিউ পরিচালকসহ সাতজন মঞ্চে বসেন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনরাও বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।

    শিক্ষার্থীরা জানান, বৈঠকে ১০ দফা দাবি ও আবরার হত্যার ঘটনায় উঠে আসা ইস্যুগুলো নিয়ে ভিসির কাছে জবাব চাওয়া হবে।

    এর আগে বৈঠকে অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে সারিবদ্ধভাবে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। অডিটোরিয়ামে প্রবেশের জন্য সাংবাদিকদের প্রেস কার্ড দেন শিক্ষার্থীরা।

    উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জের ধরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

    আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল রয়েছে বুয়েট ক্যাম্পাস।

    অভিযুক্ত ১৯ বুয়েট শিক্ষার্থীর পরিচয়

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় সোমবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে করা এই মামলায় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯ জনের নাম।

    মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে মেহেদী হাসান রাসেল (২৪) কে। তিনি ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক। তার বাবার নাম রুহুল আমিন, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা থানার সূর্যদিয়া রাংগারদিয়ায়। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ৩০১২ নম্বর রুমের শিক্ষার্থী তিনি।

    দুই নম্বর আসামি মুহতাসিম ফুয়াদ (২৩) ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সহসভাপতি। তার বাবার নাম আবু তাহের। গ্রামের বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়ার দৌলতপুর লাঙ্গলমোড়ায়। একই হলের ২০১০ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থী।

    মামলার তিন নম্বর আসামি অনিক সরকার (২২) ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। তার বাবার নাম আনোয়ার হোসেন। গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর থানার বড়ইকুড়িতে। তিনি একই হলের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

    এ মামলার চার নম্বর আসামি ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (২২)। তার বাবার নাম মাকসুদ আলী। গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পবা থানার চৌমহনীর কাপাসিয়ায়। একই হলের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

    পাঁচ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ আছে ইফতি মোশারফ সকালের (২১) নাম। তিনি ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার উপসমাজসেবা সম্পাদক। বাবার নাম ফকির মোশারফ হোসেন। স্থায়ী ঠিকানা রাজবাড়ী সদরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৯৫ নম্বর বাসা। একই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষের ও বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তিনি।

    মামলার ছয় নম্বর আসামি মনিরুজ্জামান মনির (২১) ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাহিত্য সম্পাদক। বাবার নাম মাহতাব আলী। গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার ভাঙ্গারীপাড়ায়। একই হলের পানি সম্পদ বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। সাত নম্বর আসামি- মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (২২)। ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার ক্রীড়া সম্পাদক। বাবার নাম শহিদুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর থানার শঠিবাড়ী এলাকায়। একই হলের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ৮ নম্বর আসামি হলো মাজেদুল ইসলাম (২১)। তার সাংগঠনিক পরিচয় এখনো জানা যায়নি, ঠিকানাও অজ্ঞাত। শেরেবাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ম্যাটেরিয়াল অ্যান্ড ম্যাটার্লজিক্যাল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র তিনি।

    নয় নম্বর আসামি মোজাহিদুল ওরফে মোজাহিদুর রহমান (২১)। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সদস্য, ঠিকানা অজ্ঞাত। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ৩০৩ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থী ও ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচ। ১০ নম্বর আসামি হলো- তানভীর আহম্মেদ (২১)। সাংগঠনিক পরিচয় ও ঠিকানা অজ্ঞাত। একই হলের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ১১ নম্বর আসামি হলো হোসেন মোহাম্মদ তোহা (২০), সাংগঠনিক পরিচয় ও ঠিকানা অজ্ঞাত। একই হলের ২১১ নম্বর কক্ষের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ১২ নম্বর আসামি হলো- জিসান (২১), সাংগঠনিক পরিচয় ও ঠিকানা অজ্ঞাত। একই হলের ৩০৩ নম্বর কক্ষের ছাত্র ও ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

    এ মামলার ১৩ নম্বর আসামি আকাশ (২১) শেরেবাংলা হলের ১০০৮ নম্বর কক্ষের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তবে সাংগঠনিক পরিচয় এখনো জানা যায়নি। ১৪ নম্বর আসামি শামীম বিল্লাহর (২০) সাংগঠনিক পরিচয় এবং ঠিকানাও অজ্ঞাত। একই হলের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ১৫ নম্বর আসামি শাদাত (২০) একই হলের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। ১৬ নম্বর আসামি হলো এহতেশামুল রাব্বি তানিম (২০), ছাত্রলীগের বুয়েট শাখা কমিটির সদস্য। তিনি একই হলের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

    মামলার ১৭ নম্বর আসামি মোর্শেদের (২০), সাংগঠনিক পরিচয় ও ঠিকানা অজ্ঞাত। একই হলের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তিনি। ১৮ নম্বর আসামি হলো- মোয়াজ (২০)। একই হলের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

    ১৯ নম্বর আসামি হলো- মুনতাসির আল জেমি (২০), ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার সদস্য। ঠিকানা অজ্ঞাত। একই হলের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট, ক্যাম্পাসে থাকেন না প্রভোস্টরা

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট, ক্যাম্পাসে থাকেন না প্রভোস্টরা

    আবাসন ব্যবস্থা না থাকার দোহাই দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) হোস্টেলগুলোতে থাকছেন না প্রভোস্টরা। তারা সবাই ক্যাম্পাস থেকে দূরে নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গেই বসবাস করছেন।

    জানা গেছে, শুধু প্রভোস্টই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ছাত্রাবাস দুটিতে নির্ধারিত আবাসিক শিক্ষক মাঝে মধ্যে থাকলেও ছাত্রী হোস্টেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ছাড়া আর কেউই থাকেন না। এতে যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল ফোনেই যোগাযোগ রাখতে হয় প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।

    তবে প্রভোস্টরা বলছেন, যেখানেই থাকেন না কেন, নিজ নিজ জায়গা থেকে তারা শতভাগ দায়িত্ব পালন করছেন। আর যা কিছুই হোক না কেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যাম্পাসে অল্প সময়ের মধ্যেই চলে আসেন। যদিও, এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয় তাদের জন্য।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য একমাত্র হোস্টেল শেখ হাসিনা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রী হোস্টেলে এ অব্দি বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও বর্তমান সময়ে প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকদের কেউই থাকেন না। কিন্তু, তাদের থাকার জন্য ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। আর শিক্ষকেরা না থাকায় মধ্যরাতে বা যেকোনো সময় যদি হোস্টেলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে তাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে যেতে হয় অভিভাবকহীন সহপাঠীদেরই। তখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেও কিছু করার থাকে না। আবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে একজন নারী চিকিৎসক রয়েছেন, তাকেও নিয়মিত পাওয়া যায় না।

    এ হলের শিক্ষার্থীরা জানান, পাঁচতলা হোস্টেলের চারদিকে সীমানা প্রাচীর যথেষ্ট নয়, ফলে দিনের বেলাতেই ঘটছে চুরির ঘটনা। কিছুদিন আগেই হোস্টেলের তৃতীয় তলা থেকে শিক্ষার্থীদের মোবাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি হয়েছে। পুরো হলের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এতে এত বড় হোস্টেল পরিষ্কার রাখাই দায় হয়ে পড়েছে। আবার, যেখানে রাতের বেলা হোস্টেলের ভেতরে নারী নিরাপত্তাকর্মী থাকার কথা, সেখানে ভেতরের গেটে থাকছেন পুরুষ আর বাইরের গেটের দায়িত্বে নারী দিয়ে রাখা হচ্ছে।

    ছাত্রদের দুটি হলের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, এ হলে শুরু থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আবাসিকের শিক্ষার্থী নন, এমন ছাত্ররাও এসে মারামারিতে অংশ নিয়েছেন। সবশেষ মাস খানেক আগে এ হলের বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র রাজু গাজীকে মারধর করা হয়। এর আগে, হলের ভেতরেই মারধরের শিকার হন শিক্ষার্থী রাজীব মণ্ডলসহ আরও একজন।

    শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এ হলেই কয়েক মাস আগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন লোকমান হোসেন নামে এক ছাত্র। এছাড়া, শেরেবাংলা হলে না থাকলেও ওই হলের নিচতলার ১০০১ নাম্বার কক্ষটি অবৈধভাবে দখল করে রয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। মূলত, এ কক্ষটি নাট্যকলার শিক্ষার্থীদের জন্য দেয়া হয়েছিল।

    এসব ছাড়াও, উভয় হোস্টেলেই বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ছাত্রদের।

    তারা জানান, আবাসিক শিক্ষকদের জন্য কক্ষ বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে বঙ্গবন্ধু হলে তাদের কেউই নেই। শেরেবাংলা হলে আবাসিক শিক্ষক ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইয়াসিফ আহমদ ফয়সল থাকছেন নিয়মিত। যদিও, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। এ হলে কাগজে কলমে সহকারী আবাসিক শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের থাকার কথা থাকলে তারা বাবা অসুস্থ থাকায় তিনি থাকছেন না।

    তবে, অন্যদের চেয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অনেকটাই ভালো রয়েছে মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধু হলে প্রভোস্টের দায়িত্বে থাকা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহাত হোসাইন ফয়সাল বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিটি হলের নিচতলায় প্রভোস্টের অফিস কক্ষে আবাসিক শিক্ষকেরা জায়গা ভাগাভাগি করে থাকছেন। সব শিক্ষার্থী হয়তো বিষয়টি খেয়াল করতে পারেনি। যেমন, বর্তমানে সহকারি আবাসিক শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বঙ্গবন্ধু হলে থাকছেন।

    তিনি বলেন, কোনো হলের জন্যই প্রভোস্ট বা আবাসিক শিক্ষকদের আলাদা আবাসন ব্যবস্থা ক্যাম্পাসের ভেতরে নেই। তাই, বাধ্য হয়েই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাইরে থাকতে হচ্ছে। আবাসন ব্যবস্থা হলে এ সমস্যা থাকবে না বলে জানান তিনি।

    এর আগে, মাদক ও চুরির দুটি বিষয়ে জানার পরপরই সমাধানে নেমে পড়েন জানিয়ে রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, হোস্টেলে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে চলে আসি ও সমস্যা সমাধানে কাজ করি। এর জন্য রাত বা দিনের হিসাব করা হয় না।

    এদিকে, শেখ হাসিনা হলে কাগজে-কলমে প্রভোস্ট চিন্ময়ী পোদ্দার বলেন, আবাসন সংকটের কারণে প্রভোস্টরা হোস্টেলে থাকতে পারেন না। আর আবাসিক শিক্ষকদের জন্য হলের ভেতর সামান্য ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকা যাবে না। কারণ, এটি ছাত্রী হোস্টেল। তবে, ছাত্রীদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে আবাসিক শিক্ষকেরা সচেষ্ট রয়েছেন বলে জানান তিনি।

    এ বিষয়ে প্রক্টর সুব্রত কুমার দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করেছে অল্প কিছু দিন হয়েছে। এখনো অনেক প্রকল্প চলমান। উপাচার্য-প্রক্টর-প্রভোস্টদের থাকার জন্য আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। আর যা-ও বা তৈরি হয়েছে, সেখানে এখনো অ্যালোটমেন্ট (বরাদ্দ) দেয়া হয়নি। তবে, আবাসন ব্যবস্থা হলে অবশ্যই প্রক্টর-প্রভোস্টরা ক্যাম্পাসে থাকবেন। এর আগ পর্যন্ত হোস্টেলগুলোতে প্রতিমুহূর্তের খোঁজ-খবর রাখছেন তারা। যে কোনো সমস্যা সমাধান অল্প সময়েই করা হচ্ছে।

    এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকেরা বলছেন, শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, হোস্টেলে আবাসিক শিক্ষকেরা নিয়মিত থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনাতেও আগ্রহী হবেন। পড়াশোনা সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয়ে তারা সহায়তাও পাবেন। তাই, আবাসিক শিক্ষকদের হোস্টলে থাকা জরুরি।

    জানা যায়, শেখ হাসিনা হলে কাগজে-কলমে প্রভোষ্টের দায়িত্বে রয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দিলআফরোজ খানম, হাউজ টিউটর বা আবাসিক শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন চিন্ময়ী পোদ্দার, সুমি রানী সাহা, খাদিজা আক্তার, সহকারী হাউজ টিউটর ইশরাত জাহান সঞ্চারী, মার্জিয়া নমি, নাহিদা সুলতানা, তাসমিন জাহান, সেকশন অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন চিত্রা দেবী মণ্ডল। তবে, দিলআফরোজ খানম দীর্ঘদিন ছুটিতে থাকায় প্রভোষ্টের দায়িত্ব পালন করছেন চিন্ময়ী পোদ্দার।

    বঙ্গবন্ধু হলে প্রভোষ্টের দায়িত্বে রয়েছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহাত হোসাইন ফয়সাল, আবাসিক শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন সমীরণ রায়, মো. মাসুম সিকদার, এটিএম রফিকুল ইসলাম, ড. মো. নাজমুল কায়েস, সহকারী আবাসিক শিক্ষক মাহামুদুল হাসান সোহাগ, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. ইমরান হোসেন, মোর্শেদ আহমেদ অভি ও সেকশন অফিসার মো. হুমায়ুন কবির।

    শেরেবাংলা হলে প্রভোস্টের দায়িত্বে রয়েছেন অর্থ ও ব্যাংকিং বিভাগ সহকারী অধ্যাপক মো. ইব্রাহীম মোল্লা, আবাসিক শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন ইয়াসিফ আহমদ ফয়সল, সহকারী হাউজ টিউটর অপূর্ব রায়, সেকশন অফিসার হাবিবুর রহমান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম তালুকদার।

  • শোকর‌্যালিতে আবরার হত্যার বিচার না চাওয়ায় তীব্র সমালোচিত ছাত্রলীগ

    শোকর‌্যালিতে আবরার হত্যার বিচার না চাওয়ায় তীব্র সমালোচিত ছাত্রলীগ

    অনলাইন ডেস্ক:

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে শোকর‌্যালি করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

    বৃহস্পতিবার বেলা বারোটার দিকে আবরার হত্যার প্রতিবাদে শোকর‌্যালি বের করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

    তবে তাদের এ শোকর‌্যালিও সমালোচনার বেড়াজালে আটকে গেছে

    গতকাল দুপুরেশোকর‌্যালির ছবি ও সংবাদ প্রকাশের পরপরই তা নিয়ে সরব হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক।

    সেখানে ইতিবাচক ও প্রশংসার চেয়ে নেতিবাচকই মন্তব্য জমা পড়েছে ঢের বেশি। এই শোকর‌্যালি হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির জন্য।

    এর পেছনে রয়েছে দুটি কারণ। একটি হলো, ফেসবুকে শোকর‌্যালিটির যে ছবি ভাইরাল হয়েছে সেখানে দেখা গেছে, র‌্যালির ব্যানারের কোথাও আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়া হয়নি। শুধুমাত্র শোক প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে শুধু লেখা হয়েছে – তোমার মর্মান্তি হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

    দ্বিতীয়ত বৃহস্পতিবার এ শোকর‌্যালির কারণে ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা। র‌্যালি জন্য আটকা পড়ে রোগীবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স।

    বৃহস্পতিকার টিএসসিতে সড়ক দ্বীপের পাশে তাদের শোকর‌্যালিতে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স অনেকক্ষণ আটকে থাকার পরেও সেটিকে বেরিয়ে যাওয়া জন্য কোনো জায়গা করে দিতে দেখা যায়নি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের।

    নেটিজেনদের প্রশ্ন, এ কেমন র‌্যালি যেখানে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি করা হয়নি? তাহলে ছাত্রলীগের শোকর‌্যালি কি বার্তা দিচ্ছে?

    অনেকে বলেছেন, একটি হত্যাকাণ্ড দিয়ে পুরো সংগঠনকে দায়ী করা বোকামো। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এ শোকর‌্যালির ব্যানার দেখে আমরাও বোকা হয়ে গেছি। যেখানে দেশব্যাপী এ বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইছে সেখানে ছাত্রলীগের শোকর‌্যালিতে এ বিষয়ে কোনো কথাই লেখা নেই।

    এক ছাত্রলীগ কর্মী লিখেছেন, সাধুবাদ জানাতে গিয়েও পারলাম না এমন ব্যানার দেখে।

    যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স আটকে কোনো র‌্যালি হয়নি, যদি আটকে থাকে, তাহলে হয়তো যানজটের কারণে আটকা পড়েছে।

    তবে এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেরই কাছেই তিরস্কৃত হয় শোকর‌্যালি।

    নেটিজেনরা বলেন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে জয় ও লেখক ভট্টাচার্যরা। এ বিষয়ে ছাত্রলীগকে সর্তক হওয়া প্রয়োজন ছিল।

    এদিকে আবরার হত্যার বিচার চেয়ে ছাত্রলীগের শোকর‌্যালিকে তাদের শোডাউন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গণপদযাত্রা অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ডাকসু ভিপি বলেন, আবরারকে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। আর সেই ছাত্রলীগই আবরার হত্যার বিচার দাবিতে শোকর‌্যালি করছে, এর চেয়ে উপহাস আর কী হতে পারে?

  • আবরার হত্যার আগে থেকেই ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ ছিল বুয়েট ছাত্রলীগের

    আবরার হত্যার আগে থেকেই ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ ছিল বুয়েট ছাত্রলীগের

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে মেরে হল থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিন।

    আবরারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার একদিন আগে (৫ অক্টোবর) শেরে বাংলা হলের ১৬তম ব্যাচের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এ নির্দেশ দেন তিনি।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠন করা ফেসবুক গ্রুপে ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে এ নির্দেশ দেন তিনি।

    ‘এসবিএইচএসএল ১৬+১৭’ নামে ওই ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আবরারকে মেরে বের করে দেয়ার কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    গ্রুপটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হলের ১৫ ও ১৬তম ব্যাচের নেতাকর্মীদের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হতো একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    জাগো নিউজের হাতে এ রকম কথোপথনের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের চারটি স্কিনশর্ট এসেছে। ওই ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে নেতাকর্মীদের কথোপকথন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ১৬তম ব্যাচের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মেহেদি হাসান রবিন লিখেন, ‘১৭ এর আবরার ফাহাদ; ১৬তম ব্যাচকে ম্যানশন করে লিখেন, মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত@১৬; এর আগেও বলছিলাম; তোদের তো দেখি কোনো বিগারই নাই; শিবির চেক দিতে বলছিলাম; দুইদিন সময় দিলাম।’

    abrar-11

    রবিন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে আরও লিখেন, ‘দরকারে ১৬ ব্যাচের মনিরের সঙ্গে কথা বলিস। ও আরো কিছু ইনফো দিবে শিবির ইনভলমেন্টের ব্যাপারে।’

    ‘ওকে ভাই’ জবাব দেন ১৬তম ব্যাচের মনিরুজ্জামান মনির।

    রবিনের নির্দেশ পাওয়া পরদিন রোববার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৫২ মিনিটে মনির গ্রুপে লিখেন, ‘নিচে নাম সবাই’। এখানে উল্লেখ্য যে, মিজান আবরারের রুমমেট। এ ধরনের কথোপকথনের সূত্র ধরে মিজানকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

    ওই কথোপকথনের পরপরই রাত ৮টা ১৩ মিনিটে আবরার ফাহাদকে তার রুম থেকে ডেকে নিয়ে যায় তানিম, বিল্লাহ, অভি, সাইফুল, রবিন, জিওন, অনিক। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর শেরেবাংলা হলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে যা ধরা পড়েছে।

    এরপর রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে ‘এসবিএইচএসএল ১৬+১৭’ গ্রুপে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা লিখেন, ‘আবরার ফাহাদ কি হলে আছে?’ জবাবে শামসুল ও সজিব জানান, ‘২০১১ তে আছে।’ জানা গেছে ২০১১ কক্ষটি অমিত সাহার।

    ম্যাসেঞ্জারে অন্য আরেকটি ব্যক্তিগত কথোকথন পাওয়া গেছে, যা ছিল অমিত সাহা ও ইফতি মোশাররফ সকালের মধ্যে। এতে অমিত সাহা লিখেছেন, ‘আবরার ফাহাদ রে ধরছিলি তোরা’। ইফতি জবাবে লেখেন, হ। পুনরায় অমিত প্রশ্ন করেন ‘বের করছস?’ জবাবে ইফতি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘কী? হল থেকে নাকি স্বীকারোক্তি?’ এবার অমিত লিখেন, ‘স্বীকার করলে তো বের করা উচিত।’

    এরপর ইফতি জবাবে বলেন, ‘মরে যাচ্ছে; মাইর বেশি হয়ে গেছে’ জবাবে অমিত সাহা লিখেন, ‘ওওও. বাট তাকে তো লিগ্যাললি বের করা যায়’ এরপর একটি ইমোজি সেন্ড করেন ইফতি। পরবর্তীতে এই দুজনের আর কোনো কথোকথন পাওয়া যায়নি।

    abrar-22

    ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে কথোপকথনের প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। আমরা হত্যা সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছি। কথোপকথনের বিষয়টিও যাচাই-বাছাই চলছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে হয়তো অমিত সাহা উপস্থিত ছিল না। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে আবরার হত্যায় তার প্রত্যক্ষভাবে না থাকলেও পরোক্ষ দায়-দায়িত্ব রয়েছে। তদন্ত, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তা উঠে এসেছে।

    তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী বলতে পারি, অপরাধের সাথে জড়িত কেউ ঘটনাস্থলে থেকেও করতে পারে আবার ঘটনাস্থলে না থেকেও করতে পারে। অনেক ঘটনায় দেখা গেছে ঘটনাস্থলে না থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এক্ষেত্রে তেমনই কিছু ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, আবরার হত্যায় জড়িতরা কে, কি নামে, কোন দলের তা দেখা হবে না। আইনে সুযোগও নেই। কারো সামাজিক অবস্থানও তদন্তে আমলে নেয়া হচ্ছে না। ডিবি পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে এ ঘটনা তদন্ত করছে।

    আবরারের বাবার এজাহার দায়েরের আগেই ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৯ জনের নামে মামলা করার পর আদালতে সোপর্দ করে ১০ জনকে মোট পাঁচদিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়। এজাহারের পর খুবই দ্রুততার সাথে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার মোট ১৬ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১২ জন হচ্ছেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন ও হোসেন মোহাম্মদ তোহা।

    গ্রেফতারদের মধ্যে এজাহারবহির্ভূত চারজন হলেন- ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান ও শামসুল আরেফিন রাফাত।। প্রাথমিক তদন্তে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

  • পরিবার চাইলে আবরার হত্যা মামলার আইনজীবী হবেন সুমন

    পরিবার চাইলে আবরার হত্যা মামলার আইনজীবী হবেন সুমন

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় তার পরিবার চাইলে আইনজীবী হিসেবে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

    বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) তিনি এ ঘোষণা দেন। সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, মামলায় তার পরিবার যদি আমার কাছে আসেন আমি সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো। এ মামলায় আমি বাদী হওয়ার সুযোগ নেই। আমি আইনজীবী হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য যদি কোনোভাবে ওনারা আমাকে চান আমি অবশ্যই থাকবো।

    ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হওয়া লাগবে। তাতে ছাত্রদের যে আশা, দ্রুত আসাসিমেদর ফাঁসি হওয়া, এতে আমার মনে হয় ছাত্ররা অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিচার দেখে যেতে পারবেন।

    ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর হাতে নির্দয় পিটুনির শিকার হয়ে মারা যান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ ব্যাচ) ছাত্র আবরার ফাহাদ। এ ঘটনায় গ নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করতে ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এ মামলায় দু’দিনে গ্রেফতার ১৬ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ১৩ জনকে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া বাকি তিনজনকে (ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা এবং ফাহাদের রুমমেট মিজান ও তোহা) এখনও আদালতে হাজির করা হয়নি।

    বাকিরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন, গ্রন্থনা ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না, মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মুজাহিদুর রহমান ও মেহেদী হাসান রবিন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামসুল আরেফিন রাফাত (২১), ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মনিরুজ্জামান মনির (২১) ও একই ব্যাচের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মো. আকাশ হোসেন (২১)।

    তবে এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, যুগ্ম-সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগাঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক সেফায়েতুল ইসলাম জিওন, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপদফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, ছাত্রলীগ সদস্য মুনতাসির আল জেমি, মুজাহিদুর রহমান ও এহতেমামুল রহমান রাব্বিকে বহিষ্কার করেছে।

  • আবরারকে হত্যা করা হয়েছে স্বীকার করলেন বুয়েট ভিসি

    আবরারকে হত্যা করা হয়েছে স্বীকার করলেন বুয়েট ভিসি

    অনলাইন ডেস্ক :

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মৃত্যুকে অবশেষে হত্যা বলে স্বীকার করলেন বুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টায় তার কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের জবাবে এ কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। এজন্যই প্রশাসন ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সকল দাবি সকালেই মেনে নিয়েছি। এখন এগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের উচিত আন্দোলন থেকে সরে আসা। তিনি ছুটি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে আবরার ফাহাদকে রোববার রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।