Category: শিক্ষাঙ্গন

  • বুয়েটের শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ

    বুয়েটের শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট ড. মো. জাফর ইকবাল খান পদত্যাগ করেছেন।

    বুধবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ৩০০ শিক্ষকের সমন্বয়ে এক বৈঠকে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বৈঠকে হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বুয়েট ভিসির পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে বুয়েট শিক্ষক সমিতি।

    রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, বুয়েটের শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থী, সিসিটিভি ফুটেজ ও আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।

    সূত্র জানায়, ফাহাদকে জেরা ও পেটানোর সময় হলের ওই কক্ষে অমিত সাহা, মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশাররফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় ফাহাদকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। তারা সবাই মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী।

    হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

    আবরার হত্যার ঘটনায় গতকাল গ্রেফতার ১০ আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী।

  • আবরার হত্যার প্রতিবাদে বরিশাল বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    আবরার হত্যার প্রতিবাদে বরিশাল বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    ইসরাত জাহান সুমাইয়া:

    শিবির সন্দেহে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ক্যাম্পাসে মিছিল ও সড়কে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন। আজ মঙ্গলবার ( ৮ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসে হত্যাকাণ্ড, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আবরার হত্যার বিচার চাই, ভাইকে হত্যার বিচার চাই’, ‘ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস রুখে দাঁড়াও ছাত্রসমাজ’ প্রভৃতি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড বহন শেষে ক্যাম্পাসের বিজয় চত্বর থেকে মিছিল শুরু করে ছাত্র ইউনিয়ন, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় ছাত্র সমাজ, ছাত্র অধিকার আন্দোলন।

    এসময় ইসলামী ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের বেশ কিছু কর্মিরা মিছিলে যোগদান করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে। এসময় হত্যাকাণ্ডের জন্য বক্তারা ছাত্রলীগকে দায়ী করে হত্যার বিচার চেয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জামাল, কলেজ শাখার যুগ্ম আহবায়ক রাহুল দাস, ছাত্র সমাজের নজরুল ইসলাম, ইশা ছাত্র আন্দোলনের আবু বকর, আল মামুন, রেজাউল করিম, ছাত্র অধিকার আন্দোলনের রনি খোন্দকার, তামিম প্রমুখ।

  • গ্রামের বাড়িতে চিরনিদ্রায় আবরার

    গ্রামের বাড়িতে চিরনিদ্রায় আবরার

    অনলাইন ডেস্ক :

    ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তৃতীয় জানাজা শেষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডস্থ আল -হেরা জামে মসজিদের পাশের সড়কে ফাহাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    সোমবার রাত ১০টার দিকে বুয়েট ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    এরপর ফাহাদের মরদেহ তার বাবা বরকতুল্লাহর কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। রাতেই তিনি সন্তানের মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

    বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত রবিবার মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল সোমবার বুয়েট ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

    ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনকে আসামি করে গতকাল রাতে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বরকতুল্লাহ। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি ও চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    এদিকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুয়েট শাখার ১১ জন নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ।

    ফাহাদের সহপাঠীদের অভিযোগ, ফেনী নদীর পানি বণ্টন ও বন্দর ব্যবহারসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

  • আবরারের কোনো শত্রু ছিল না : মা

    আবরারের কোনো শত্রু ছিল না : মা

    অনলাইন ডেস্ক ::

    এমন শান্তশিষ্ট ছেলের কোনো শত্রু থাকতে পারে এ কথা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন। তিনি বলেন, ছেলে আবরার ফাহাদের কোনো শত্রু ছিল না। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমর্থক। ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    সোমবার সকালে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। পরিবারের সদস্যরা বুঝে উঠতে পারছেন না এত মেধাবী ও শান্তশিষ্ট ছেলেটিকে কারা কী কারণে হত্যা করল।

    বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ওই হলের নিচতলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

    আবরারের বাবার নাম বরকতুল্লাহ। তিনি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের নিরীক্ষক কর্মকর্তা ছিলেন। মা রোকেয়া খাতুন একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়। ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সেও ঢাকা কলেজের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। বুয়েটের শেরে বাংলা হলের কাছেই তার হোস্টেল। কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাসার পাশেই তাদের বাড়ি।

    পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ দিন আগে ছুটিতে দুই ভাই বাড়িতে এসেছিলেন। এ মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত বাড়িতে থাকতে চেয়েছিলেন আবরার। তবে সামনে পরীক্ষা, তাই পড়াশোনার চাপ আছে একথা বলে রোববার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন আবরার। ছোট বেলা থেকেই আবরার ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন আবরার। এইচএসসিতে ভালো ফলাফল করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হন আবরার। চান্স পেয়েছিলেন মেডিকেল কলেজেও।

    ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মা রোকেয়া খাতুন বলেন, রোববার সকালে আমি তাকে নিজে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। সে ঢাকায় রওনা দেয়। মাঝে তিন থেকে চারবার ছেলের সঙ্গে মুঠোফোনে আমার কথা হয়। বিকেল ৫টায় হলে পৌঁছে ছেলে আমাকে ফোন দেয়। এরপর আর কথা হয়নি। রাতে অনেকবার ফোন দিয়েছিলাম, ও আর ফোন ধরেনি।

    ছোট ভাই আবরার ফায়াজ বলেন, ফোন না ধরায় আমি ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ভাইয়াকে নক করি। ভাইয়া সে সময়ও ফেসবুকে অ্যাকটিভ ছিল, তবে সাড়া দেয়নি।

    চাচা মিজানুর রহমান বলেন, আবরার ফাহাদ শিবিরের কর্মী বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটা বানোয়াট, আবরার একজন উদারমনা ও প্রগতিশীল ছেলে। আমরা গোটা পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক। হানিফ সাহেবের সব প্রোগ্রাম আমরা যাই। তবে আবরার তাবলিগে যেত। বুয়েটে ভর্তির পরও দুই তিনবার সে তাবলিগে গিয়েছিল।

    এর আগে গত ৫ অক্টোবর এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নিজের ফেসবুকে দুটি সমালোচনামূলক পোস্ট দেন আবরার।

  • ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ছিল আবরারের

    ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ছিল আবরারের

    অনলাইন ডেস্ক ::

    ‘ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন ছিল আবরার ফাহাদের। মৃত্যু তার সেই স্বপ্নকে পূরণ হতে দিল না।’

    সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারের মামাত ভাই জহুরুল ইসলাম কথাগুলো বলছিলেন।

    জহুরুল ইসলাম বলেন, অনেক মেধাবী ছাত্র ছিল আবরার। কুষ্টিয়া থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করে, এরপর ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হয়। তার মৃত্যুতে শুধু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নয়, এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    তিনি বলেন, খুবই ভালো স্বভাবের ছিল আবরার। বাড়িতে থাকাকালীন বাইরে খুব কম যেত, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ছাড়া বাইরের লোকের সঙ্গে খুব কম মিশত। বইপড়া ছিল তার একমাত্র পছন্দের কাজ। তার সংগ্রহে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বিভিন্ন ধরনের বাংলা-ইংরেজি বই রয়েছে।

    জহুরুল ইসলাম জানান, আবরারকে কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে। মরদেহ নিতে তার বাবা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

    তিনি জানান, আবরারের বাবা মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, মা গৃহিণী। পরিবারে তাদের দুই সন্তান। আবরারের ছোট ভাই ঢাকা কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

  • ‘শিবির সন্দেহে’ বুয়েট ছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা

    ‘শিবির সন্দেহে’ বুয়েট ছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা

    অনলাইন ডেস্ক :

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলের ভেতর থেকে আবরার ফাহাদ (২১) নামের এক ছাত্রর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। ফাহাদ কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বরকত উল্লাহ ছেলে।

    বুয়েটের দায়িত্বরত চিকিৎসক মাসুক এলাহী বলেন, ‘রাতে আমি ডিউটিতে ছিলাম। রাত ৩টার দিকে ছাত্রদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শেরেবাংলা হলের ১ম ও ২য় তলার মাঝামাঝি জায়গায় ফাহাদকে পড়ে থাকতে দেখি। তখন তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

    চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাতে বুয়েট কর্তৃপক্ষর মাধ্যমে খবর পেয়ে শেরেবাংলা হল থেকে ওই ছাত্রর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

    ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • অভিভাবকহীন হচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা

    অভিভাবকহীন হচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি অভিভাবকহীন হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। ট্রেজারার অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব হাসান টানা চার মাস ধরে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন। আজ সোমবার তার ট্রেজারার পদের মেয়াদ শেষ। নিয়োগ হয়নি নতুন ট্রেজারার। রেজিস্ট্রার পদ শূন্য প্রায় এক বছর। ফলে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করার মতো পদাধিকারী কেউ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি এখন পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল। এর ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে আগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। তবে শিগগিরই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

    গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কটূক্তি করার অভিযোগে ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়েন তৎকালীন ভিসি ড. এস এম ইমামুল হক। মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় মাস আগে তিনি ছুটিতে যেতে বাধ্য হন। ২৫ জুন থেকে ভিসির রুটিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ট্রেজারার এ কে এম মাহবুব হাসান।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ কে এম মাহবুব হাসান ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর ট্রেজারার পদে যোগদান করেন। সে হিসাবে তার চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে আজ। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির আগে গত বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবস পার করেন তিনি।

    সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রেজারার পদ শূন্য থাকলে বিধি অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। নারীঘটিত কারণে রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম এক বছর আগে প্রথমে সাময়িক ও পরে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হন। বিষয়টি নিয়ে তিনি মামলা করায় নতুন রেজিস্ট্রারও নিয়োগ হয়নি। ফলে ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার পদ শূন্য হওয়ায় ভিসির রুটিন দায়িত্ব পালন করার মতো পদাধিকারী কেউ নেই।

    আগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ পরীক্ষা গ্রহণের প্রধান হলেন ভিসি। পদটি শূন্য হওয়ায় কীভাবে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে এ বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

    জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া জানান, শেষ কর্মদিবস হওয়ায় বৃহস্পতিবার শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ট্রেজারারকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বিদায় জানান। এখন ভিসি, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার- তিনটি পদই শূন্য। এমন অবস্থায় ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিগগির নতুন ভিসি নিয়োগ হবে।

    একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, শিগগির নতুন ভিসি পাচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ভিসির একটি প্যানেলও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভারত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর নাম চূড়ান্ত করা হবে।

    ওই সূত্রগুলো জানায়, সম্ভাব্য ভিসির তালিকায় যাদের নাম আছে তারা হচ্ছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কিউ এম মাহবুব, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান ও আইন বিভাগের অধ্যাপক রহমত আলী, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবু নাঈম শেখ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক মাহবুব আলম এবং ভূতত্ত্ব ও খনিজবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আক্তার।

  • ঢাবিতে চান্স পাওয়া সেই যমজ ২ বোনের দায়িত্ব নিলেন ডিসি

    ঢাবিতে চান্স পাওয়া সেই যমজ ২ বোনের দায়িত্ব নিলেন ডিসি

    অনলাইন ডেস্ক ::

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) চান্স পাওয়া যমজ দুই বোন সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়ার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুনুর রশীদ।

    শনিবার দুপুরে সার্কিট হাউসে মেধাবী ওই দুই শিক্ষার্থী ও তাদের মায়ের সঙ্গে কথা বলে পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাস দেন ডিসি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, মোহাম্মাদ শাহজাহান, রাহাত উজ্জামান, শিক্ষার্থীদের মা শাহিদা বেগম ও কাউন্সিলর মোল্লা নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

    একই সঙ্গে ওই দুই শিক্ষার্থীকে দুটি মোবাইল ফোন উপহার দিয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন।

    সরদার নাসির উদ্দিন বলেন, বাগেরহাটে এরকম দুই মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে বিষয়টি জানতে পেরে সকালেই তাদের বাড়ি যাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়কে বিষয়টি জানাই। দুই শিক্ষার্থী যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে বলেছেন এমপি তন্ময়।

    দুই শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, দেশ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষও মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে। তাই দুই শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার জন্য আমরা জেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করব। পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হবে তারা।

    দুই শিক্ষার্থীর মা শাহিদা বেগম বলেন, অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মধ্যে দুই মেয়েকে পড়ালেখা করিয়েছি। ওরা পড়ালেখা করতে চায়। ওরা সুযোগ পেয়েছে আমারও ইচ্ছা পড়ালেখা চালিয়ে যাক। তবে আমার যে সামর্থ্য তাতে দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো অনেক কষ্টের। দুই মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর অনেক চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় এখন একটু ভারমুক্ত হয়েছি।

    সুমাইয়া বলেন, শৈশব থেকেই দরিদ্রতার মধ্যে বেড়ে উঠেছি আমরা। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত আমরা টিউশনি করিয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছি। স্বপ্ন দেখেছি যেন আমরা দুই বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পারি। সে স্বপ্ন আমাদের পূরণ হয়েছে।

    সুরাইয়া বলেন, ঢাবিতে সুযোগ পাওয়ার পর একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছিল মনের মধ্যে। ডিসি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র মহোদয়সহ অনেকের সহযোগিতার আশ্বাসের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সবার কাছে দোয়া চাই। যাতে ভালো লেখাপড়া করে দেশের সেবা করতে পারি আমরা।

    প্রসঙ্গত, বাগেরহাট সদর উপজেলার হরিণখানা এলাকার দিনমজুর বাবা মহিদুল হাওলাদারের যমজ মেয়ে সুরাইয়া ও সুমাইয়া। অর্থাভাবে টিউশনি করিয়ে পড়াশোনা চালিয়েছেন তারা।

    এরপরও মাধ্যমিকে বাণিজ্য বিভাগে সুরাইয়া ৪.৮৬, সুমাইয়া ৪.৯১ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে দুই বোনই গোল্ডেন এ-প্লাস পান। ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় গ-ইউনিটে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (গ-ইউনিট) বাণিজ্য অনুষদে সুমাইয়ার মেধাক্রম ৮৪৬ এবং সুরাইয়ার মেধাক্রম ১১৬৩। ঢাবিতে তাদের ভর্তির শেষ দিন ৩১ অক্টোবর।

  • ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে চিন্তায় পড়েছেন জমজ দুই বোন

    ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে চিন্তায় পড়েছেন জমজ দুই বোন

    সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়া। তারা জমজ বোন। দুজনেই মাধ্যমিকে পেয়েছেন এ প্লাস। উচ্চ মাধ্যমিকে পেয়েছেন গোল্ডেন এ প্লাস। এখন সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে পড়ার।

    দিনমজুর বাবা মহিদুল হাওলাদার আর গৃহিণী মা শাহিদা বেগমের জমজ এ সন্তান প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পেলেও ভর্তিসহ পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ নেই তাদের। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ মিললেও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে স্বপ্ন পূরণের। তারা বলছেন, অর্থনৈতিক সমস্যাই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (গ ইউনিট) বাণিজ্য অনুষদে সুমাইয়ার মেধাক্রম ৮৪৬ এবং সুরাইয়ার মেধাক্রম ১১৬৩। বাগেরহাট জেলা সদরের পৌরসভার হরিণখানা গ্রামে বেড়ে ওঠা তাদের। তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শেষ দিন ৩১ অক্টোবর।

    সুমাইয়া ও সুরাইয়া বলেন, শৈশব থেকেই দারিদ্রতার মধ্যে বেড়ে উঠেছি। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত আমরা টিউশনি করিয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছি। স্বপ্ন দেখেছি যেন আমরা দুই বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পারি।

    তাদের মা শাহিদা বেগম বলেন, অর্থনৈতিক দৈনদশার মধ্যে দুই মেয়েকে পড়ালেখা করিয়েছি। ওরা পড়ালেখা করতে চায়। ওরা সুযোগ পেয়েছে আমারও ইচ্ছা পড়ালেখা চালিয়ে যাক। তবে আমার যে সামর্থ্য তাতে দুইজনকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো অনেক কষ্ট। তারপরও চেষ্টা করছি সকলের সাহায্য নিয়ে যদি দুজনকে ভর্তি করতে পারি। তাহলে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবে ওরা।

    দুই বোনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে পারছি না আমরা। এ কারণে পরিবারের সবাই চিন্তাই আছি।

    ভর্তি প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেছেন ইউসুফ আলী শিমুল। শিমুল বলেন, ওরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবার পর তাদের বাড়িতে প্রথম যখন গেছি আমার কান্না পাচ্ছিলোবাড়ির অবস্থা দেখে। ভাবছিলাম এমন অসচ্ছল পরিবার থেকে সৃষ্টিকর্তার রহমত আর ওদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা ছাড়া প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশব্বিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া সম্ভব না।

    আমি অদের কিছুদিন গাইড দেবার সুযোগ পেয়ে নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমার চাওয়া টাকার অভাবে যেন এমন মেধাবীদের স্বপ্ন পূরণে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই দুই বোনের স্বপ্ন পূরণ হবে।

    তাদের বিষয়ে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রইস সরদার বলেন, মেয়ে দুটি খুবই মেধাবি। অত্যন্ত গরিব পরিবারের তারা। ওদের বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। কেউ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে হয়তো তারা লেখাপড়াটা চালিয়ে যেতে পারবে।

  • শিশু শিক্ষার্থীদের চোর উপাধি দিলেন সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ

    শিশু শিক্ষার্থীদের চোর উপাধি দিলেন সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের চোর উপাধি দিলেন অধ্যক্ষ মেজর সাইদুর রহমান। চোর উপাধি দিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি। স্কুল-কোচিংও বন্ধ করে দিয়েছেন প্রায় ৩০ শিক্ষার্থীর। পাশাপাশি বার্ষিক পরীক্ষার পরে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার হুমকিও দেন তিনি। এ ঘটনায় অভিভাবকরা অধ্যক্ষের কাছে মাফ চেয়েও রক্ষা করতে পারেননি তাদের সন্তানদের।

    এ নিয়ে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর নগরীর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বই মেলায় একটি স্টল বসানো হয়। ওই স্টল থেকে শিক্ষার্থীরা বই ক্রয় করে। দু’দিনব্যাপী বই মেলা শেষ হওয়ার পরে স্টল মালিক দোকান থেকে বই খোয়া যাওয়ার বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানান। এরপরই অধ্যক্ষ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীদের তার কক্ষে ডেকে নেন। ডেকে নিয়ে বই চুরি হওয়ার বিষয়টি জানতে চান শিক্ষার্থীদের কাছে।

    এসময় শিক্ষার্থীরা বই চুরির বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে শিক্ষার্থীদের ব্যাগে থাকা বইয়ের রশিদ চাওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা রশিদ না দেখাতে পারায় পরের দিন অর্থাৎ ১ অক্টোবর অভিযুক্ত অন্তত ৩০ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কলেজে ডাকেন অধ্যক্ষ। অভিভাবকদের ডেকে সকল শিক্ষকদের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ মেজর সাইদুর রহমান সরাসরি ওই শিক্ষার্থীদের চোর বলে আখ্যা দেন। চোর আখ্যা দিয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে এবং কোচিংএ না আসার জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়ে দেন। এছাড়াও বার্ষিক পরীক্ষার পরে তাদের ছাড়পত্র দিয়ে দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন অধ্যক্ষ। এসময় অভিভাবকরা অধ্যক্ষের কাছে হাত-পা ধরে মাফ চাইলেও সন্তানদের রক্ষা করতে পারেননি অধ্যক্ষের এমন সিদ্ধান্ত থেকে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, আমাদের কোমলমতি সন্তানদের অহেতুক স্কুল ও কোচিংএ যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

    আমাদের সন্তানরা কোনো অপরাধ করেনি। কারা বই চুরি করেছে তার দায়ভার আমাদের সন্তানদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা বলেন, আমাদের সন্তানরা বই ক্রয় করেছে কিন্তু দোকনদার রশিদ দেননি। দোকান থেকে রশিদ না নেয়ার ফলেই আমাদের সন্তানদের চোর উপাধি দেয়া হয়েছে। আগে থেকে রশিদের বিষয়টি জোরালোভাবে বলে দিলে সবাই রশিদ নিয়ে আসতো। পর্যবেক্ষক মহল বলছে, শিশু শিক্ষার্থীদের চোর আখ্যা দেয়ার কোনো বিধান নেই। শিশু শিক্ষার্থীরা চুরি করতে পারে না। তারা ভুল করতে পারে। এ বয়সেই যদি শিশু শিক্ষার্থীদের চোর আখ্যা দেয়া হয় তাহলে মনের দিক থেকে তারা বড় হবে কিভাবে।

    আবার বইয়ের জন্য তো শিশুদের চোর বলার কোনো সুযোগই নেই। আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন শিশুদের চোর বলার অধিকার দেয়নি। শিশুদের চোর বলা যাবে না। শিশুরা কখনও চোর হতে পারেনা। তারা ভুল করতে পারে। তাই বলে তারা চোর হবে না। শিশুদের চোর বলাটাও একটা অপরাধ। এসকল বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ মেজর সাইদুর রহমানের মুঠো ফোনে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।