Category: শিক্ষাঙ্গন

  • ফেনীতে এবার প্রধান শিক্ষকের ধর্ষণে ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা

    ফেনীতে এবার প্রধান শিক্ষকের ধর্ষণে ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা

    ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রধান শিক্ষকের ধর্ষণে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার খুশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম (৫৫)। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই শিশু ছাত্রী। বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এসএম এমরানের কাছে জবানবন্দি দেন আবদুল করিম। পরে আবদুল করিমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত।

    আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) গোলাম জিলানী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান শিক্ষক আবদুল করিমকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন। পরে আবদুল করিমের জবানবন্দি নেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এসএম এমরান। জবানবন্দিতে একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম। ধর্ষণে ওই শিশুছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা বলে স্বীকার করেন তিনি।

    গোলাম জিলানী আরও বলেন, শিক্ষক আবদুল করিম ধর্ষণের কথা স্বীকার করলে তাকে রিমান্ডে চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন। পরে আবদুল করিমের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

    চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধান শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয় উপজেলার খুশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই শিশুছাত্রী। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান শিক্ষক আবদুল করিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পরদিন দাগনভূঞা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন নির্যাতিত ছাত্রী মা।

    প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে জানাজার পর সন্ধ্যা ৬টায় সোনাগাজী আল হেলাল একাডেমির পাশে সামাজিক কবরস্থানে চির নিদ্রায় নুসরাতের মরদেহ শায়িত করা হয়।

  • বরগুনায় ১৫১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ

    বরগুনায় ১৫১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরগুনা জেলায় ৭৯৮ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এর মধ্যে ও ১৫১ টি বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ১৫ টি বিদ্যালয় পরিত্যক্ত । এসব বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা পিলারে বড় বড় ফাটল ধরেছে। এ্রছাড়া ছাদের পলেস্তার খসে পড়েছে,একটু বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে আতঙ্কের মধ্যেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এসব পরিত্যক্তও ঝুঁকিপূণ স্কুলভবনে এখনো পাঠদান চলছে।

    বরগুনা সদর উপজেলায় ২৩০ টির মধ্যে ৫০ টি ঝুকিপূর্ণ ও ১৫টি পরিত্যক্ত । বেতাগী উপজেলায় ১২৭ টি প্রাথমিক মধ্যে ১৯ টি বিদ্যালয় ঝুকিপুর্ণ। বামনা উপজেলায়৬২ বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬ টি ঝুকিপুর্ণ । পাথরঘাটা উপজেলায় ১৪৯ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২ টি বিদ্যালয় ঝুকিপূর্ণ, এর মধ্যে ২০টি বিদ্যালয় অধিক ঝুকিপূর্ণ । আমতলীতে ১৫২ টির মধ্যে ৬টি , তালতলীতে ৭৮ টি ২৮ টি বিদ্যালয় ঝুকিপূর্ণ হয়ে পরছে । এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান করানো হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা ।

    বরগুনা সদর উপজেলা পূর্ব গুলিশা খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ,পুর্ব ঢলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,উত্তর বড় লবণ গোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,সরকারী কলেজ সংগ্লন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর কুমড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ১৫ পরিত্যক্ত। এসব ভবণ ১৯৯০ সাল থেকে ২০০১ সালের মধ্যে নিমাণ কর হয়। নিম্নমানের নিমাণ সামগ্রী দিয়ে স্কুল ভবণ নিমাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেণ শিক্ষকরা।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মন্ত্রনালয়ের (এলজিইডি) অথায়নে ১৯৯৪- ২০০২ সালে মধ্যে এসব স্কুলভবন নিমার্ণ করা হয় । এসব ভবনের ছাদের পলেস্তার খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে এবং বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পরে । স্কুলভবনের কক্ষের ভিতরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। এছাড়া দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ৯১নং পুূর্ব গুলিশাখালি সরকারি প্রাথমিক ,পূর্ব ঢলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারী কলেজ সংগ্লণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্রোক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি কলেজ সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাদের পলেস্তার খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে ও পিলারের ইট সুরকি খসে ভেতরের রড বেরিয়ে গেছে। ভবনগুলোর মেজে দেবে গিয়ে ভেঙে গেছে্, ও ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। এছাড়া স্কুল ভবন গুলোর ছাদের ভিতরের নিরাপত্তা পিলারে ফাটল ধরে ভেতরে রড বেড়িয়ে আসছে । এবং দরজা ও জানালা ভেঙে গেছে।

    ৯১ পূর্ব গুলিশাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আবদুল রাজ্জাক বলেন, ২০০৭ সালে সিডরে আমাদের স্কুল ভবননটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বতমানে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন কতৃপক্ষ ।তিনি বলেন বিকল্প কোন ভবন না থাকায় এক রকম বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান করাতে হয়। এই স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০৯ জন।

    ক্রোক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুকিপূর্ণ হয়ে আছে এক বছর যাবত। এই বিদ্যালয়টির শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের ঝড়ো বাতাসের সময় বিদ্যালয় ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া আছে। ঝড়ের সময় এই বিদ্যারয়টি কাঁপন ধরে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। ক্রোক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আবদুল আলীম বলেন, এই বিদ্যালয় টি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে ।এছাড়া বাতাস শুরু হলে বাতাসে দোলতে থাকে । স্কুল ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের ছুটি দেয়া হয় । এছাড়া স্কুলের বেহাল দশার কারনে ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতি কমে গেছে।
    । ৬৬ নং সরকারি কলেজ সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে পরে আছে ।

    পূর্ব ঢলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক মারিয়া মারজানা বলেন এই বিদ্যালয়টি পরিত্যাক্ত হলেও বিকল্প কোনো ভবন না থাকায় এই ভবনেরই পাঠদান করাতে হয়। বিদ্যালয়ের ছাদ ও দেয়াল ফাটল ধরেছে। ভয়ের মধ্যে আমরা শিশুদের পাঠদান করাচ্ছি।

    সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার আরিফুজ্জামান বলেন সদরে ১৫টি পরিত্যক্ত ও৫০ টি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় পাঠদান চলে ।

    উপজেলা প্রকৌশলী শওকত হোসেন বলেন, লবণাক্ততা ও আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণে অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব স্কুলভবন পরিত্যক্ত হয়ে পরে।এছাড়া নিম্মমানের নিমাণ সামগ্রী দিয়ে নিমাণ করার কারনেও ভবন পরিত্যক্ত বা ঝুঁকিপূণ হতে পারে।

    বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর বলেন,পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।আমাদের নতুন বিদ্যালয় ভবন দরকার। আর ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন যাতে পাঠদান করার যাবে না । বিকপ্ল ভবনে পাঠদান করানো হবে ।

    জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে যাতে পাঠদান না করানোর জন্য প্রত্যক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।

    প্রসঙ্গত তালতলী উপজেলায় । গত শনিবার ছোট বগি পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে ভবনের ছাদের নিরাপত্তা বিমের পলেস্তরা ধসে পড়ে এক শিক্ষার্থী নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছে ।

  • বরগুনায় আরেকটি স্কুলের ছাদের অংশ ও বিম ভেঙে পড়েছে

    বরগুনায় আরেকটি স্কুলের ছাদের অংশ ও বিম ভেঙে পড়েছে

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরগুনায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ ধসে ছাত্রী নিহতের পাঁচ দিনের মাথায় আরেকটি বিদ্যালয়ে ছাদের অংশ ও বিম ভেঙে পড়েছে। তবে এবার কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

    বুধবার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া জগৎচাঁদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ জানিয়েছেন, সকাল ৯টার দিকে ৪র্থ শ্রেণির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় সেখানে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঠদান চলছিল।

    বিম ভেঙে পড়তে দেখে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক দৌড়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে নেমে যান।

    গত শনিবার বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোট বগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ ভেঙ্গে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মানসুরা (৮) নিহত হয়; আহত হয় আরও তিন শিক্ষার্থী। পরে উপজেলা প্রশাসন বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

    শহিদুল্লাহ জানান, স্কুলের চার কক্ষের একটিতে অফিস ও অপর তিনটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি কক্ষের বিমে ফাটল ধরেছে। ছাদ ধসে পলেস্তারা খসে পড়ছে।

    ভবনের ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ ও দেওয়ালে পানি চুইয়ে পড়ে। শিক্ষার্র্থী ও শিক্ষকরা আতংকের মধ্যে থাকেন বলে জানান তিনি।

    তিনি জানান, ২০০১-০২ সালে এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে স্কুল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ভবন নির্মাণেরে পর আর সংস্কার করা হয়নি।

    বিদ্যালয় ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেক বার আবেদন করা হয়েছে; কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

    বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে বলে তিনি জানান।

    ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিক, তুষার ও চাঁদনী জানিয়েছে, বৃষ্টি এলে শিক্ষার্থীরা বইপত্রসহ দৌড়ে আশপাশের বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নেয়।

    আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরোয়ার হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

  • আগামী মাসে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামী মাসে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামী মাসে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হবে। চারটি ক্যাটাগরিতে যোগ্য হিসেবে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

    আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষা বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিভুক্তির দাবিতে অনেক দিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন করেছেন। তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমরা অনেক আগেই এমপিওভুক্তির কাজ শুরু করেছি।’

    তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্তির জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যে সকল তথ্য দেয়া হয়েছে আমরা তা যাচাই-বাছাই করব। তাদের দেয়া তথ্য ঠিক থাকলে আগামী মাসে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হবে। নতুবা যোগ্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে অপরটি পেলে এ নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হবে। এ কারণে সকল যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে একই সঙ্গে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে জানিয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এ কারণটা যদি আর্থিক হয় তবে প্রথম পর্যায়ে নতুন এমপিওভুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২৫ শতাংশ এমপিও সুবিধা দেয়া হতে পারে। যদি তা না হয়, তবে শতভাগ এমপিও সুবিধা প্রদান করা হবে।’

    এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সম্প্রতি ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা বেশ কয়েকদিন রাস্তায় বসে আন্দোলন করেন। এরপর আমি তাদের নেতাদের সঙ্গে বসে তাদের সমস্যা জেনেছি। তারা অনেক কম বেতন পান-বিষয়টি অনেক মানবেতর।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অনেক আনাচে-কানাচে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানেও অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছে। এটি বন্ধ করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদলে স্বতন্ত্র মাদরাসাকে আনা যায় কিনা তা বিবেচনা করা হবে। সরকার চাইলে নতুন প্রতিষ্ঠান হবে, তবে ব্যক্তির অধীনে এমন যত্রতন্ত্র যাতে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠে তা নিয়ে কাজ করা হবে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের কোন পদ্ধতিতে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যায়-তা নিয়ে আমরা দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত নেব।

  • পরিবহন সংকট নিরসন সহ তিন দফা দাবী

    পরিবহন সংকট নিরসন সহ তিন দফা দাবী

    স্টাফ রিপোর্টার//কাইয়ুম খান:

    গতকাল (০৮ এপ্রিল) সোমবার সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিবহন সংকট নিরসন সহ তিন দফা দাবীতে বিক্ষোভ করেছেন।

    কলেজের সামনে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বেলা ১১ টায় বিক্ষোভ শুরু করা হয়। কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল সহকারে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন।মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা দাবী সমুহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্মারকলিপি প্রদান করেন কলেজ অধ্যক্ষর কাছে।

    বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, নূর নিরব, লোকমান হোসেন, সন্তু মিত্র, রনি, অন্বেশা দাস প্রমি প্রমূখ।

    ঝালকাঠি,গৌরনদী,আগৈলঝাড়া, বাকেরগঞ্জ,বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া,লাহারহাট,উজিরপুর, হিজলা ও মুলাদী রুটে অতিশিঘ্র ১০টি বাস দিতে হবে বলে জানান বিএম কলেজ শাখা ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জয় চক্রবর্তী। তিনি আরো জানান, ফিটনেস বিহীন বাস বাতিল করে সকল রুটে নতুন বাস দিতে হবে এবং যতদিন নিজস্ব বাসের ব্যবস্থা না হবে ততদিন বিআরটিসি বা অন্য বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

    এছাড়া শিক্ষার্থীদের বাস ছাড়ার সময় সূচিও পরিবর্তণের দাবী করা হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত কর্তৃপক্ষকে সময় বেধে দেয়া হয়েছে দাবী বাস্তবায়নের জন্য। উক্ত সময়ের মধ্যে দাবী বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

  • বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের

    বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের

    বরগুনায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহতের পর সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    সোমবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নূরনবী স্বাক্ষরিত এক আদেশে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনসমূহ চিহ্নিত করে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

    এক্ষেত্রে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণে প্রয়োজনে উপজেলা প্রকৌশলী ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সহায়তা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলায় ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে মানসুরা (৮) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত ও তিনজন আহত হয়।

    এই ঘটনা তদন্তে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি কমিটি করেছে। স্থানীয় পর্যায়েও একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে।

    তালতলীর ওই বিদ্যালয় ভবনটি ১৭ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল।

  • এইচএসসির ৫ পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন

    এইচএসসির ৫ পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন

    চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার পাঁচ দিনের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে সরকার।

    সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক।

    তিনি জানান, আগামী ১৭ এপ্রিলের পরীক্ষাগুলো ৯ মে বিকালে, ১৮ এপ্রিলের পরীক্ষা ১১ মে বিকালে এবং ২২ এপ্রিলের পরীক্ষা ১২ মে বিকালে নেয়া হবে।

    এছাড়া ৪ মে এবং ৬ মের পরীক্ষা একই দিন সকালের পরিবর্তে বিকালে নেয়া হবে বলে জানান জিয়াউল হক।

    তিনি বলেন, শবে বরাতের কারণে এক দিনের এবং পরীক্ষাগুলো পাশাপাশি পড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে অন্য চার দিনের পরীক্ষা সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।

    এবার শবে বরাত পালিত হবে ২১ এপ্রিল রাতে, আর সরকারি ছুটি থাকবে ২২ এপ্রিল।

    ২০১৯ সালের বর্ষপঞ্জিতে ২১ এপ্রিল শবে বরাতের ছুটি নির্ধারিত ছিল, সেই হিসেবে পরীক্ষার রুটিন তৈরি করা হয়েছিল।

    গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৩০৯ জন।

    এর মধ্যে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৭৮ হাজার ৪৫১ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৫ জন। মোট কেন্দ্র সংখ্যা ২ হাজার ৫৮০টি।

    আগামী ১১ মে এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা ১২ মে শেষ হবে। আর ১২ থেকে ২১ মের মধ্যে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।

  • দেশে আরও ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হবে : শিক্ষামন্ত্রী

    দেশে আরও ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হবে : শিক্ষামন্ত্রী

    দেশে আরও চারটি নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণে কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। এই শিক্ষার মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। দেশে আরও চারটি নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হবে।

    রবিবার রাজধানীর ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত জব ফেয়ার উদ্বোধনকালে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষতা অর্জনের কোন বিকল্প নেই। দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষাই হতে পারে উত্তম হাতিয়ার।

    শিক্ষামন্ত্রী নারী ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বানানোর জন্য নারীদের বিদ্যমান কোটা ২০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নারীদেরকে শুধুমাত্র চাকরি প্রার্থী হলেই হবে না, যথার্থ জ্ঞান ও যোগ্যতা নিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে হবে।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, এ ধরনের জব ফেয়ার চাকরি প্রার্থী এবং চাকরিদাতাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে এই ফেয়ার। এ ধরনের ফেয়ার প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানেই আয়োজন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    কারিগরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর।

  • বরগুনায় ছাদ ধসে পড়া সেই স্কুলের ঠিকাদার স্থানীয় এমপির ভাগিনা

    বরগুনায় ছাদ ধসে পড়া সেই স্কুলের ঠিকাদার স্থানীয় এমপির ভাগিনা

    অনলাইন ডেস্ক:

    শ্রেণিকক্ষজুড়ে ছড়ানো ছিটানো বই। বেঞ্চগুলো এলোমেলো। শ্রেণিকক্ষেই পড়ে আছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যাগ-জুতা। সেই সঙ্গে ছাদ থেকে ধসে পড়া পাথরসম পলেস্তারা। একই শ্রেণিকক্ষজুড়ে রয়েছে সেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরই তাজা রক্তের দাগ।

    গতকাল শনিবার দুপুরে বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের ৫নং ছোটবগী পি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির চিত্র এটি। এ স্কুলেরই ছাদের একাংশ ধসে প্রাণ হারায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মানসুরা।

    ঘটনার একদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশে অভিযোগ করেনি কেউ। পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত ছাত্রীর মরদেহ দাফন করেছেন তার স্বজনরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের স্কুল নির্মাণে নিম্নমান ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উদাসীনতার কারণে শ্রেণিকক্ষেই নিভে গেছে একটি তরতাজা শিশুর প্রাণ।

    অন্যদিকে ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। দায়ীদের কঠোর শাস্তি নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। এ ঘটনায় নিহত ছাত্রীর পরিবারকে এক কোটি টাকা ও আহতদের ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসান তারেক পলাশ।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘পিডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ২০০২ সালে একতলাবিশিষ্ট এ স্কুল ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০৪ সালে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়। ভবনটির দরপত্র আহ্বান করা হলে তৎকালীন সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্যের (বরগুনা-২ আসনে সংসদ সদস্য আলহাজ মতিয়ার রহমান তালুকদার) ভাগিনা আবদুল্লাহ আল মামুন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু কবীর উদ্দিন সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সে দরপত্র জমা দিয়ে কাজটি পান।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সংসদ সদস্য মামার প্রভাব বিস্তার করে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও কাজের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। ফলে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের অনেক আগেই ভবনটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণের কারণে ভবনটির সংস্কারকাজও কোনো কাজে আসেনি। এছাড়া স্কুলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের গাফিলতির অভিযোগও তোলেন অনেকে।

    সংশ্লিষ্ট ছোটবগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌফিক উজ জামান তনু (তিনি তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও) বলেন, নির্মাণে নিম্নমানের কারণে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভবনের ছাদের যে অংশ ধসে প্রাণহানি ঘটেছে, সেই অংশে ব্যবহৃত রডে ব্যাপক মরিচা ধরেছে। একাধিকবার ভবনটি সংস্কার করা হলেও তৎকালীন সংসদ সদস্যের ভাগিনা আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের ফলে কোনো সংস্কারই কাজে আসেনি। ফলে মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে ভবনটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। এ ধরনের ঘটনা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও ঠিকাদারদের দায়িত্বে অবহেলাকেই চিহ্নিত করে বলে তিনি জানান।

    এ বিষয়ে সেতু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কবীর উদ্দিন সেতু জানান, সেতু এন্টারপ্রাইজের মালিক তিনি। সংসদ সদস্যের ভাগিনা আবদুল্লাহ আল মামুন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার লাইসেন্সের অনুকূলে মামুন ভবনটি নির্মাণ করেছে বলে জানান তিনি।

    এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে স্কুল ভবন নির্মাণকারী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভবনটি ১৫ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ভবনটি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি বলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    পি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি শিক্ষক ও অভিভাবকরা ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে মৌখিকভাবে উপজেলা শিক্ষা কমিটিকে অবহিত করেন। সাধারণত একটি স্কুল ভবনের আয়ুষ্কাল ধরা হয় কমপক্ষে ৪০-৪৫ বছর। সেখানে মাত্র ১৫ বছরে একটি স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও বিষয়টি কেউ আমলে নেয়নি বলেও জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, ছাদের একাংশ ধসে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার একদিন অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশে অভিযোগ করেনি কেউ। ময়নাতদন্ত ছাড়াই অভিভাবকদের অনুরোধে নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) এম এম মিজান বলেন, স্কুল ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। নিহত ওই শিক্ষার্থীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে বরগুনার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম কবীর বলেন, স্কুল ভবনটির গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য এলজিইডি কাজ করছে। এছাড়া স্কুল ভবনের ছাদ ধসে ছাত্রীর প্রাণহানির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিতেও তিনি রয়েছেন। তদন্তে নির্মাণকাজে অনিয়ম ও কারও দায়িত্ব অবহেলা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ দিকে এ ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ নির্দেশ দেয়ার কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনগুলোর নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। এলজিইডি ঠিকাদারদের মাধ্যমে স্কুল ভবনগুলো নির্মাণ করে।

    তিনি আরও বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা, পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে চিহ্নিত করে দ্রুত সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে এ ঘটনায় নিহত ছাত্রীর পরিবারকে এক কোটি টাকা ও আহতদের ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন অ্যাডভোকেট হাসান তারেক পলাশ।

    তিনি জানান, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ সব শিক্ষাঙ্গন চিহিৃতকরণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণাসহ আহত শিশুদের চিকিৎসা ব্যয়সহ প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে রোববার সকালে উচ্চ আদালতে রিটটি করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, আগামীকাল এ রিটের শুনানি হবে। রিটে শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, বরগুনার জেলা প্রশাসক, তালতলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, ছোটবগী পি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণকারী সেতু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কবির উদ্দিন সেতু ও ভবন নির্মাণকারী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, শ্রেণিকক্ষে ছাদের অংশ ধসে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলমকে প্রধান করে শিক্ষা, প্রকৌশল ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার দুপুরে বরগুনার তালতলীর ৫নং পি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদের একাংশ ধসে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মানসুরা নিহত হয়। আহত হয় আরও চার শিক্ষার্থী। নিহত মানসুরার বাবার নাম নজির হোসেন তালুকদার। তিনি পেশায় একজন কৃষক। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে মানসুরা ছোট। এ ঘটনায় আহতরা হলো সাদিয়া আক্তার, রুমা, ইসমাইল, এবং শাহিন। তারা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

  • বরিশাল পলিটেকনিকে ছাত্রদের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

    বরিশাল পলিটেকনিকে ছাত্রদের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।

    রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রথমে ক্যাম্পাসের কম্পিউটার ভবনের সামনে ইলেক্ট্রামেডিকেল বিভাগের প্রধান আনিসুর রহমানকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীদের একাংশ।

    পরে শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের প্রতিনিধি জুনায়েদ ইসলাম রাফি ও সাজ্জাদ আহম্মেদ শান্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী সমাপ্ত করেন।

    এ বিক্ষোভ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী মেনিলা, তন্নি, অভিজিৎ, হাবিব, নাজিম, মুসফিক, রাসেদ, রানা, পাভেল, হাসিব প্রমূখ।

    অপরদিকে কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধান আনিচুর রহমানের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে।

    এসময় তারা ক্লাশ বন্ধ করে জোড় করে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    মুক্তিযোদ্ধা আবাসিক ছাত্রাবাসের সিভিল ডিপার্টমেন্টের ৬ষ্ঠ পর্বের শিক্ষার্থী মো. শাকিল জানান, শিক্ষক আনিচুর রহমান প্রায় সময় আবাসিক শিক্ষার্থীদের উপর নানা কারনে নির্যাতন করে আসার কারনেই এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছে।

    তবে মো. সাজ্জাদ আহমেদ শান্ত ও মো. জুনায়েদ ইসলাম বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ও শিক্ষক আনিচুর রহমানকে হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সাধারন শিক্ষার্থীরা বিচার দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি।পরে শিক্ষকদের অনুরোধে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়ে তাদের নিজ নিজ স্থানে ফিরে যেতে সহযোগীতা করেছি। এতে হোস্টেলের অতি উৎসাহী ছাত্ররা হামলার চেষ্টা করলেও তারা তা পারেনি।

    উল্লেখ্য, শনিবার সকালে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দুই গ্রুপ ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় ৭ জন আহত হয়।