Blog

  • গাজীপুরের তরুণের বইটি যেভাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের হাতে

    গাজীপুরের তরুণের বইটি যেভাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের হাতে

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের জীবনী নিয়ে বাংলা ভাষায় লিখিত বই ‘এরদোয়ান : দ্যা চেঞ্জ মেকার’ এবারের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার এরদোয়ানের হাতে নিজের লিখা সেই বইটি তুলে দেন বাংলাদেশি তরুণ লেখক হাফিজুর রহমান।

    এ সময় তুরস্কের একে পার্টির পার্লামেন্টারি গ্রুপের মিটিংয়ের বিশেষ সেশনে বই তুলে দেওয়ার সময় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালী ইলদিরিম, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, একে পার্টির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং এমপিরা উপস্থিত ছিলেন।

    লেখক হাফিজুর রহমান তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে বইটিতে স্থান পাওয়া বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং বইটি বাংলাদেশি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি এরদোয়ানের প্রতি বাংলাদেশিদের আবেগ ও ভালোবাসার কথা জানান তিনি।

    প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বইটি লিখার জন্য লেখককে ধন্যবাদ জানান এবং তার প্রতি এ ধরনের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    বই তুলে দেওয়ার সময় লেখকের সাথে তুরস্কের অন্যতম সিভিল স্যোসাইটি সংগঠন ‘ইয়েনী দুনিয়া ভাকফি’ এর চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি মাহমুদ গুকসু, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ইয়েনী দুনিয়া ভাকফি আনকারা শাখার সভাপতি ও কার্যকরী কমিটির সদস্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, হাফিজুর রহমান তুরস্কের গাজী ইউনির্ভাসিটিতে রাজনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগে পিএইচডি করছেন এবং ইয়েনী দুনিয়া ভাকফি আনকারা শাখার ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

  • ডি ককের সঙ্গে সেই ঝামেলার জেরে নির্বাসনের মুখে ওয়ার্নার

    ডি ককের সঙ্গে সেই ঝামেলার জেরে নির্বাসনের মুখে ওয়ার্নার

    ক্রিকেটকে ‘জেন্টলমেন গেম’ বলার দিন বোধহয় ফুরিয়ে আসছে। একের পর এক বির্তকে জড়িয়ে কালিমালিপ্ত হচ্ছে শতাব্দী প্রাচীনতম এই খেলা৷ যার নতুন সংস্করণ ‘টালেন গেট’ বা ‘ডারবান গেট’ বিতর্ক৷ যার জেরে টেস্ট সিরিজের মাঝ পথে নির্বাসনের মুখে পড়তে পারেন অজি ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার৷

    দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়া চলতি টেস্টে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ১১৮ রানে জিতে নিয়ে ১-০ এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া৷ কিংসমিডে বাইশগজের ক্রিকেট লড়াই ছাড়াও খবরের শিরোনামে এসেছে অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও প্রোটিয়ান কিপার কুইনটন ডি ককের লড়াই৷ যা ইতিমধ্যেই ‘টানেল গেট’ বির্তক নামে পরিচিতি পেয়েছে৷

    প্রথম টেস্টে ক্যাঙ্গারু-প্রোটিয়া দ্বৈরথ অন্য লেভেলে পৌঁছেছে৷ ম্যাচটিতে প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাটিং চলাকালীন রান আউট বাঁচাতে গিয়ে ড্রাইভ দেন এবি ডি’ভিলিয়ার্স৷ ক্রিজে পড়ে থাকা অবস্থায় তার মুখ লক্ষ্য করে বল ছুঁড়ে মারেন অজি স্পিনার লাথান লায়ন৷ এর জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে৷ এরপর ড্রেসিং রুমে ঢোকার পথে প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যান অজি ওপেনার ওয়ার্নার ও প্রোটিয়া কিপার কুইন্টন ডি কক৷

    কুইন্টন অভিযোগ করেন তার পরিবারকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্নার৷ অভিযোগ অস্বীকার করে ক্যাঙ্গারুদের তরফে বলা হয় কুইন্টনই আগে অশালীন মন্তব্য করলে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি অজি সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার৷

    এর মাঝে কুইন্টন ডি ককের বোন ডিলেন ডি ককের একটি টুইট ভাইরাল হয়েছে৷ যেকানে ওয়ার্নারের সঙ্গে বিবাদের ঘটনার খবর টুইট করে ককের বোন হুমকির সুরে লেখেন, ‘আমি তোমাকে দেখে নেব’৷ টুইটটিতে ট্যাগ করা আছে অজি সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নারকে৷

    শুরু যেই করে থাকুক কেন ক্রিকেটের ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বর্হিভূত আচরণের জন্য দ্বিতীয় টেস্ট থেকে নির্বাসিত হতে চলেছেন অজি ক্রিকেটার ওয়ার্নার৷ সঙ্গে বাড়ছে তার ডিমেরিটস পয়েন্ট৷ আইসিসির তরফে শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন প্রোটিয়ান উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি’ককও৷

    পুরো বিষয়টি যেদিকে এগোচ্ছে তা ক্রিকেটের পক্ষে কোনভাবেই মঙ্গলজনক নয়৷ খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ক্রিকেটাররা ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ছেন৷ শাস্তি সরূপ নির্বাসিত হচ্ছেন৷ কিছুদিন আগেই নাইটক্লাবে ঝামেলায় জড়িয়ে অজি-ইংল্যান্ড অ্যাসেজ সিরিজে থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস৷

  • আওয়ামী লীগের জনসভায় যাওয়ার পথে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

    আওয়ামী লীগের জনসভায় যাওয়ার পথে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

    রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের জনসভায় যাওয়ার পথে বাসের ভিতর থেকে জানালা দিয়ে মাথা বের করায় গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে শাকিল আহমেদ নামের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার দুপুরে ধামরাইর দেপাশাই গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এঘটনায় সেই ছাত্রের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    পুলিশ জানায় দুপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে করে দেপাশাই গ্রামের স্থানীয় সুরমা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ঢাকায় যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। এসময় সে চলন্ত বাসের ভিতর থেকে মাথা বের করলে একটি গাছের সাথে তার মাথা লেগে ফেটে যায়। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

    ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধামরাইর সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ বলেন,  নিহত সেই ছাত্রের মৃত্যুতে গভীর শোক জানানো হয়েছে  এবং একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে । কেন মারা গেলো তদন্ত রিপোট পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।

    এই ঘটনার ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক দিপু  বলেন, তদন্ত করা হচ্ছে ছাত্রটি কেন মারা গেলো। এই বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    অন্যদিকে সকালে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাভারের আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন যাত্রী। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

  • বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে বারবার বিজয় ছিনিয়ে এনেছে

    বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে বারবার বিজয় ছিনিয়ে এনেছে

    কিছু মানুষ কখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। বরং ওই যুদ্ধাপরাধীরা পাক-হানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে বারবার বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। আর এই স্বাধীনতা অর্জন করতে ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে করণীয় বলে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

    বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় আজ বুধবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

    এর আগে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জনসভা শুরু হয়। মঞ্চে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অন্যান্য নেতারা উপস্থিত আছেন।

    আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ জনসভা বুধবার দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই উদ্যান এলাকায় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন। সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাতে রয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন। অনেকের গায়ে একই রঙের টি-শার্ট, মাথায় একই রঙের ক্যাপ শোভা পাচ্ছে। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে উদ্যান এলাকা।

    এদিকে, আওয়ামী লীগের সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করছে।

    ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।  বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্ব ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর বাংলাদেশে এই প্রথম দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

  • আমি শাহরিয়ার নাফীস, আপনারা ভুলে যাননি তো?

    আমি শাহরিয়ার নাফীস, আপনারা ভুলে যাননি তো?

    প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই ইনিংসে ৯৯ ও ১২১ রানের ইনিংস খেললেন।গত তিন মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রান করেছেন ১০৯২, ১১১৭ ও ৮৯৪।সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৩ সালে, ওয়ানডে ২০১১ সালে।

    এক বর্ষপঞ্জিতে এক হাজার রান করা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার ছিলেন তিনি। কী সম্ভাবনার হাতছানি দিয়ে শুরু হয়েছিল শাহরিয়ার নাফীসের! একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভাবা হতো যাঁকে, তিনিই এখন যেন অতীত। তাতে শাহরিয়ারের দায় কতটা, কতটা বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির, সেই বিতর্ক করাও এখন অযথা। তবে ৩২ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ওপেনার এখনো জাতীয় দলে ফেরার আশা ছাড়েননি। গতবার প্রিমিয়ার লিগে ভালো করেও নজর কাড়তে পারেননি নির্বাচকদের। এবার আরও ভালো করতে চান। শুরুটা প্রত্যাশামতো না হলেও তাঁর টানা দুই ইনিংস আবারও ফিরিয়ে আনল আলোচনায়।

    গত ম্যাচে ৯৯ রান করে আউট হয়েছেন, কলাবাগানের কাছে হেরেও গিয়েছিল তাঁর দল অগ্রণী ব্যাংক। কাল আবাহনীর মতো দলের বিপক্ষে ১১৯ বলে ১৩ চার ও ৩ ছক্কায় ১২১ রান করলেন। এবারও পরাজিতের দলে শাহরিয়ার। ২০০৬ সালে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েও চলে গিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজার আড়ালে। ওই বছর যে মাশরাফি সারা বিশ্বেই ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি (৪৯টি) হয়েছিলেন। কাল দুর্দান্ত ইনিংসের দিনে সেই মাশরাফি চার বলে চার উইকেট নিয়ে করলেন ডাবল হ্যাটট্রিক! শাহরিয়ারের কপালটাই বোধ হয় এমন!

    ২০০৬ সালে ওয়ানডে তিনটি সেঞ্চুরিসহ এক হাজার করা করা শাহরিয়ার এক যুগ পার করে এসেছেন সেই কৃতিত্বের। নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দেখে হতাশা বাড়তেই পারে। কোথায় থাকার কথা ছিল, কোথায় পড়ে রইলেন। ২০০৭ বিশ্বকাপটা হতাশা মোড়ানো কেটেছিল তাঁর নিজের জন্য, যদিও ওই বিশ্বকাপ দল বাংলাদেশ খেলেছিল দারুণ। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে হারিয়েছি; আগমণীবার্তা শুনিয়েছিলেন তামিম, সাকিব, মুশফিকরা। আর শাহরিয়ার তখন জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে চলে গেলেন বিদ্রোহী আইসিএল লিগ খেলতে।

    সেই পাপমোচন করে অনেক আগেই ঘরে ফিরেছেন। এর মধ্যে একবার জাতীয় দলে ফিরেওছিলেন। ২০১০ সালে টেস্ট দলে ফেরার পর ১৮ ইনিংসে মাত্র ৩ ফিফটি তাঁকে আবারও ছিটকে ফেলেছিল দল থেকে। জাতীয় দলের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৫ ওয়ানডেতে ৩ ফিফটি আর ২২.৯৩ গড় রঙিন পোশাকেও ভরসা জাগায়নি। ২০১১ সালের পর আর ওয়ানডে খেলেননি। সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৩ সালে।

    শাহরিয়ার আবার ফিরে গিয়েছিলেন নিজেকে ঘষেমেজে তৈরি করার মিশনে। গত মৌসুমে ফার্স্ট ক্লাস ও লিস্ট ‘এ’ দুই ধরনের ঘরোয়া ক্রিকেটেই দারুণ ফর্মে ছিলেন। গত বছর প্রিমিয়ার লিগে ১৫ ইনিংসে ৪২.৮৫ গড়ে করলেন ৬০০ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফর্মটা ছিল আরও দুর্দান্ত। ১২ ম্যাচে ৫৫.৮৭ গড়ে করেছেন ৮৯৪ রান। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে কিন্তু তিনি বেশ ধারাবাহিক। আগের দুই মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হাজার রান পেরিয়েছিলেন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১৭ ইনিংসে ৬৪.২৩ গড়ে করেছিলেন ১০৯২ রান। ২০১৫-১৬–তে ১২ ম্যাচে ৬২.০৫ গড়ে ১১১৭ রান। টানা তিন মৌসুমে ৬০-এর গড়ে রান করার পর টেস্ট দলে একটা সুযোগ পাওনা ছিল। পাননি।

    এবারের প্রিমিয়ার লিগে শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি। উইকেটে থিতু হয়ে ইনিংসটা যখন লম্বা করার কথা, তখনই আউট হয়েছেন বিশ-ত্রিশের ঘরে। কাল সেঞ্চুরি পেয়েও মনে হচ্ছিল আরও ক্ষুধার্ত। দল যে তাঁর ওপরে সওয়ার হয়ে ভালোই ছুটছিল ২৯১ রানের বড় লক্ষ্যের দিকে। কিন্তু শেষ ওভারে ৪ উইকেট হাতে রেখে ১৩ রান তুলতে হয়, এমন সহজ সমীকরণ মেলাতে পারেনি তাঁর দল। মাশরাফি যে দুই থেকে পাঁচ বলে তুলে নিলেন বাকি সব উইকেট!

    শাহরিয়ারে সান্ত্বনা হতে পারে, টানা দুটি ইনিংস আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনল। জাতীয় দলে সজোরে কড়া নাড়তে আরও কিছু করে দেখাতে হবে, তিনিও নিশ্চয়ই জানেন। তবে আপাতত নির্বাচকদের অন্তত মনে করিয়ে দিলেন তো নিজের নামটা!

  • বরিশালে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি

    বরিশালে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি

    ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বরিশালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানিয়েছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আজ সকাল ৯টায় নগরীর সদর রোডের সোহেল চত্বরের আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস এবং সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজ।

    এর পরপরই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য। এছাড়াও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

    এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিকেলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

    বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

    ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার (০৭ মার্চ) সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    শেখ হাসিনা প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের পক্ষ থেকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আরেকটি পুষ্পস্তবক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে তুলে দেন।

    পরে, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়।

    ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু এক কালোত্তীর্ণ ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের এই ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সংরক্ষণে তাদের ওয়ার্ল্ড মেমোরি রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করে স্বীকৃতি দিয়েছে।

  • চিফ হুইপকে হত্যাচেষ্টার সময় অস্ত্রসহ যুবক আটক

    চিফ হুইপকে হত্যাচেষ্টার সময় অস্ত্রসহ যুবক আটক

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মো. রনি (৩০) নামে এক যুবককে রামদা সহ আটক করা হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে চিফ হুইপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করেন।

    আটক রনি বাউফল পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাহাঙ্গির হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, বিকেলে বাউফল উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে বাউফল উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভা চলাকালীন ওই যুবক (রনি) সভাকক্ষে চিফ হুইপের সঙ্গে কথা বলার জন্য কয়েকবার ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। শিক্ষা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সভায় তখন উপস্থিত ছিলেন আ স ম ফিরোজ। এক পর্যায়ে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে চিফ হুইপের কাছাকাছি যাবার চেষ্টা করলে চিফ হুইপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করেন। এ সময় আটক ওই যুবকের কাছ থেকে একটি ধারালো রাম দা, গাঁজা, একটি অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন এবং দুই হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

    বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, ৭ই মার্চ উপলক্ষে র‌্যালি এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামের কারণে চিফ হুইপ সারাদিনই নেতাকর্মী দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলেন। দুপুরের পর যখন নেতাকর্মীরা বাড়ি ফিরে যান ঠিক তখনই এই ঘটনা। এটা গভীর একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। এ ঘটনায় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাকে  পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্যই ওই যুবককে এখানে পাঠানো হয়েছে।

    শিক্ষা কমিটির ওই সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, বাউফল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল হকসহ শিক্ষা কমিটির অপর সদস্যরা।

    এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সম্ভাব্য সকল বিষয় গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • উদ্ভোধনী বয়ানের মধ্যদিয়ে চরমোনাইর ফাল্গুনের মাহফিল শুরু

    উদ্ভোধনী বয়ানের মধ্যদিয়ে চরমোনাইর ফাল্গুনের মাহফিল শুরু

    ৭-ই মার্চ জোহরের নামাজের পর উদ্ভোধনী বয়ানের মাধ্যমে ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিলের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে চরমোনাই মাহফিলের এই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
    পীর সাহেব সৈয়দ রেজাউল করীম তার বয়ানের শুরুতেই সবাইকে ধন্যবাদ দেন এত কষ্ট করেও চরমোনাই মাহফিলে উপস্থিত হওয়ার জন্য। তিনি চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমার আব্বাজান দাদাজানের সূত্রে বলতেন, আল্লাহভোলাদেরকে আল্লাহর পথ দেখানোই হলো চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশ্য। চরমোনাই মাহফিল আখিরাতের কামাইয়ের জন্য, দুনিয়া অর্জনের জন্য নয়। এখানে পার্থিব উন্নয়নের কোনো তদবির দেয়া হয় না। আমরা তদবির দিই না। কোনো তদবির দিতেও জানি না। আল্লাহর হুকুম মেনে চলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে পীর সাহেব বলেন, আল্লাহপাক মানুষকে তার ইবাদত করার জন্যই শ্রেষ্ঠ মাখলুক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। শুধু নামাজের নামই ইবাদত নয়, সর্বক্ষেত্রে মালিকের হুকুম মেনে চলার নামই ইবাদত। কেউ মাগরিবের নামাজ চার রাকাত আদায় করলে কি তার নামায হবে? হবে না। কারণ, আল্লাহর হুকুম হলো তিন রাকাত পড়া। এজন্য বেশি পড়ে লাভ হবে না। আল্লাহ যেভাবে তার হুকুম পালন করতে বলেছেন, সেভাবেই আদায় করতে হবে।
    এরপর অন্যান্য আরো আলোচনা এবং দিকনির্দেশনা দিয়ে বয়ানের প্রথম পর্ব শেষ করে মাহফিল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। বয়ানের শুরুতেই লাখো মানুষের স্লোগানে মুখরিত হয় কীর্তণখোলা নদীর প্রান্তর। লাখো মানুষের এ অংশগ্রহন যেন সত্যিই অবাক করার মত। মাহফিলের সূত্র থেকে জানাযায় পীর সাহেব দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ট বয়ান এবং আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন। কেবল তৃতীয়, চতুর্থ বয়ান করবেন শায়েখে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। সর্বশেষ ১০ তারিখে আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এই বিশাল জনসমাগম।
    মাহফিল সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, এ বছর মাহফিলে লোক সমাগম অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। মুসুল্লিদের জন্য নির্ধারিত চার মাঠ গত রাতেই কাণায় কানায় পুর্ন হয়ে গেছে। পঞ্চম মাঠ ঠিক করা হয়েছে গত রাতে যে মাঠও রাতের মধ্যে পুর্ন হয়ে গেছে বলে জানা যায়। মাহফিলে পীর সাহেবদের আধ্যাতিক বয়ান ছাড়াও প্রতিদিন কিছু ধারাবাহিক কার্যক্রম রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মাহফিলের দ্বিতীয় দিন সকাল দশটা থেকে উলামা মাশায়েখ সম্মেলন এবং মাহফিলের তৃতীয় দিন সারাদেশ থেকে আগত ছাত্রদের গন জমায়েত। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সকল অঙ্গ সংগঠনের ধারাবাহিক কর্মসূচি রয়েছে যেখানে সংগঠনের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম জাতির উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনা মুলক বক্তৃতা প্রদান করবেন।  বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মেহমানরাও মাহফিলে ধারাবাহিক বয়ান বক্তৃতা করবেন বলে জানা গেছে।
    বরিশালের চরমোনাইর এই বাৎসরিক মাহফিল কেবল এদেশেই নয় বিদেশেও আবেদন সৃষ্টি করতে পেরেছে। অনেক বিদেশী মেহমানদের সমাগম হবে এ মাহফিলে। বিদেশী বেশ কিছু ভিআইপি ধর্মীয় শায়েখ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মাহফিলে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। কওমি শিক্ষার সুতিকাগার ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন শিক্ষক, সৌদি, কাতার, মিশর, বাহরাইনসহ অনেক দেশ থেকেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ মাহফিলে যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন মাহফিল সূত্র।
    চরমোনাই এই বাৎসরিক মাহফিল দেশ ও জাতির কল্যান কামনায় বদ্ধ পরিকর রয়েছে সব সময়। মাহফিলের সর্বোচ্চ সফলতা কামনায় সবার প্রতি দোয়া চেয়েছেন পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম।
  • কিশোর প্রেমের ভয়ঙ্কর কিলিং মিশন

    মাইসার সঙ্গে আগেই রওনকের সম্পর্ক ছিল। পরে রওনক মাইসার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তুহু নামে আরেকটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে। কিন্তু তুহুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অন্য একটি ছেলের। তুহুর ওই প্রেমিক রওনকের আগের প্রেমিকাকে ব্যবহার করে রওনককে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয় হোলি উৎসব।

    পরিকল্পনামতো রওনক হোলি উৎসবে এলে তাকে হত্যার মাধ্যমে ইতি ঘটে ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের। এ ঘটনায় সোমবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এক নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন— রিয়াজ আলম ওরফে ফারহান, ফাহিম আহম্মেদ ওরফে আব্রো, ইয়াসিন আলী, আল আমিন ওরফে ফারাবী খান ও লিজা আক্তার ওরফে মাইসা আলম। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ছুরি। তবে মূল পরিকল্পনাকারী তুহুর দ্বিতীয় প্রেমিককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইব্রাহিম খান জানান, মূলত রওনকের দ্বিতীয় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ওই ছেলে ও রওনকের মধ্যে ফেসবুকে কথাকাটাকাটি ও একজন অন্যজনকে হুমকিদানের ঘটনা ঘটে। তাই ওই ছেলে পরিকল্পনা করে হোলি উৎসবকে বেছে নেয় রওনককে খুন করার  তাই মাইসাকে ব্যবহার করে রওনককে হোলি উৎসবে নিয়ে আসে ওই তরুণ।

    ডিসি বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাইসার কল পেয়ে ১ মার্চ রওনক কামরাঙ্গীরচরের বাসা থেকে কলাবাগানে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হয়। রওনক পৌঁছার আগেই ওই তরুণ লক্ষ্মীবাজারে কয়েকজনকে নিয়ে পরিকল্পনা করে এবং ছুরি সরবরাহ করে। রওনক বন্ধুদের সঙ্গে শাঁখারী বাজার শনি মন্দিরের সামনে গেলে মাইসা তাকে একপাশে ডেকে নিয়ে যায়।

    সেখানে ২০-২৫ জন মিলে তাকে মারধর করে। এদের মধ্যে কয়েকজন রওনককে ছুরিকাঘাত করে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ফারহান নিজেই ছুরিকাঘাত করেছে। মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে রওনকের বর্তমান প্রেমিকার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

    এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রওনক, মাইসা, তুহু কিংবা এই বন্ধুমহলের কেউ কোনো নির্দিষ্ট এলাকা অথবা একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে না। তারা ফেসবুকের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে তারা একসঙ্গে দেখা করে। এদের মধ্যে কলেজছাত্র যেমন রয়েছে তেমনি ফলের দোকানিও আছে। উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে তাদের পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক গলিতে ছুরিকাঘাতে রওনককে খুন করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দিনই নিহতের মা হেনা বেগম অজ্ঞাতদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।