Blog

  • মোবাইলে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা

    মোবাইলে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক বন্দিরা প্রতিমাসে দুদিন স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন।

    বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে নবনির্মিত গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এবং জামদানি উৎপাদন কেন্দ্র ‘রিজিলিয়ান্স’ এর ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক কারাবন্দি তাদের পরিবার পরিজনের সঙ্গে কথা বলতে চায়। সেক্ষেত্রে কারাগারে কঠোর নিয়ম মেনে নতুন করে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনে কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড সংরিক্ষত রাখা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে একের পর এক পদক্ষেপ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মেটাল ডিটেক্টর বসানো হচ্ছে। কিন্তু এর ফাঁক ফোঁকর দিয়েও মাদক ঢুকছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, যাতে কোনোভাবেই মাদক কারাগারে প্রবেশ করতে না পারে ও বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রায় পুলিশ স্টেশনেই গাড়ি সমস্যা আছে। এছাড়া গত সাড়ে ৯ বছরে ৮০ হাজার পুলিশ লোকবল বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ এখন আগের চেয়েও দক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় কাজ করছি বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাদকের ব্যাপারে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী অং সান সু চির সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। কারণ তার দেশেও যুব সমাজ ইয়াবায় আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে জানিয়েছি সীমান্তের আশপাশের এসব কারখানা বন্ধ করে দিতে। তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। আজ না হয় কাল কিন্তু এক সময়ে তা বন্ধ হবেই।’

    এদিকে সকালে মন্ত্রী প্রথমে কারাগারে এসে ‘রিজিলিয়ান্স’ নামের গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি ও জামদানি পণ্য উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। পরে গার্মেন্টসহ জামদানি পণ্য উৎপাদন করছে এমন প্রতিটি ফ্লোরে গিয়ে ঘুরে দেখেন এবং কারাবন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষ উদ্বোধন করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

    সবশেষ মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বিসিক শিল্প নগরীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন উদ্বোধন করেন। সেখানে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ফায়ার সার্ভিস নির্মাণ করা হবে।

    আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ও বিকেএমইএ এর সভাপতি সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, পুলিশ সুপার মঈনুল হক, র‌্যাব-১১ এর ক্যাম্প কমান্ডার লে. কর্নেল কামরুল হাসান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হক, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বিকেএমইএ পরিচালক শাহাদাত হোসেন সাজনু প্রমুখ।

  • আজও দুই মামলায় হাজিরা দেবেন খালেদা

    আজও দুই মামলায় হাজিরা দেবেন খালেদা

    জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিশেষ আদালতে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

    রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে আজ দুর্নীতি মামলা দুটির যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে। এ নিয়ে ৫ম দিন খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন তার আইনজীবীরা।

    খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বাংলার মুখকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ বেলা ১১টার দিকে আদালতে উপস্থিত হবেন।

    এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান। তার যুক্তি উপস্থাপন শেষে খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এ দিন তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। অপরদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের জন্যও আজ দিন ধার্য রয়েছে।

    গত ২৬ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান। এ দিন তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন।

    গত ১৯ ডিসেম্বর এ মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ ডিসেম্বর তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেন। পরে ২০ ডিসেম্বর খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান। ওই দিন শেষ না হওয়ায় ২১ ডিসেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন আদালত। ২১ ডিসেম্বর খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থান শেষ না হওয়ায় ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

    মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

    এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

    এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

    মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

  • ৯ পৌরসভা ও ১১৫ ইউপিতে ভোটগ্রহণ শুরু

    ৯ পৌরসভা ও ১১৫ ইউপিতে ভোটগ্রহণ শুরু

    দেশের ৯টি পৌরসভা ও ১১৫টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্থগিত ও উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    ইসি সূত্র জানা গেছে, বন্যা, মামলাসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে এসব এলাকায় নির্বাচন হয়নি। সে নির্বাচনগুলোই এখন সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলামকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে বলেছে কমিশন।

    ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ৯টি পৌরসভা (ছয়টি সাধারণ, তিনটি উপ-নির্বাচন), ১১৫টি ইউপিতে (৩৭টি সাধারণ, স্থগিত নির্বাচন, ৭৮টি উপ-নির্বাচন), জেলা পরিষদের দুটি ওয়ার্ডে সাধারণ ও একটি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।

    সাধারণ নির্বাচনের ৩৭ ইউপি হলো :
    জোয়ারী, মাঝগাঁও, রাজারামপুর, ঘুরিদহ, উথলী, কেডিকে, মনোহরপুর, আলফাডাঙ্গা, বুড়াইচ, গোপালপুর, মূলনা, জিন্নাগড়, নীলকমল, আমিনাবাদ, রণগোপালদী, নুরপুর, ব্রক্ষণডোরা, ফুলতলা, বাকই দক্ষিণ, মুদাফফরগঞ্জ উত্তর, দৌলখাড়া, রায়কোর্ট উত্তর, রায়কোর্ট দক্ষিণ, আদ্রা উত্তর, আদ্রা দক্ষিণ, জোড্ডা পূর্ব, জোড্ডা পশ্চিম, বটতলী, ইলিয়াটগঞ্জ, বারপাড়া, দৌলতপুর, বাকইউত্তর, নোয়ান্নই, নোয়াখালী, ধর্মপুর, চর আলেকজান্ডা।

    উপ-নির্বাচনের ৭৮টি ইউপি হলো:
    পাঁচগাছী, উমরজিদ, বলদিয়া, রসুলপুর, পদুমশহর, গাড়াগ্রাম, মোহনপুর, রাইকালী, চারঘাট, ভারশো, মশিদপুর, ধরাবারিষা, পূর্ণিমাগাতী, নওগাঁ, তাড়াশ, লাহিড়ীপারা, গোবিন্দপুর, নশিপুর, জলমা, নাটুদহ, সিংহঝুলি, পলাশবাড়িয়া, পোরাহাটি, গাবুরা, নুরনগর, প্রতাপনগর, হামিদপুর, সাতলা, রানাপাশা, রামনা, বদলখালী, কুকুয়া, চিকনিকান্দি, স্বদেশী, রাঙ্গামাটীয়া, কাচিনা, কাদিরজঙ্গল, পূর্ব অষ্টগ্রাম, লোহাজুরী, ভাওড়া, পাইস্কা, অর্জুনা, চরশেরপুর, হাতীভাঙ্গা, নুরুন্দি, নায়েকপুর, দুওজ, স্বরমুশিয়া, বাহাদুরসাদী, কুমারভোগ, কোলা, মেহেরপারা, মুছাপুর, চরভদ্রানস, বগুগ্রাম, নিজামকান্দি, বেথুড়ী, খানগঞ্জ, বোয়ালিয়া, রামপাশা, জলসুখা, নিজামপুর, করগাঁও, আলীনগর, পায়রগাছা, দোল্লাই, কেরণখাল, নবীপুর, বড়াইল, গোকর্ণ, মহামায়া, দরবারপুর, অমিরাবাদ, সোনাপুর, মীরসরাই, রূপসীপাড়া, পাইকগাছা। এছাড়া ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • বিএনপি মিথ্যা বলার রোগে ভুগছে- শাজাহান খান এমপি

    বিএনপি মিথ্যা বলার রোগে ভুগছে- শাজাহান খান এমপি

    বিএনপি মিথ্যা বলার রোগে ভুগছে। তাদের দলের মহা সচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম বলছেন রংপুরের নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে, আর যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রেজবি বলেছেন নির্বাচন সুষ্ঠ হয় নি। নিজ দলের মধ্যেই চলছে মিথ্যাচারিতা। এরা নিজেদের জন্য আন্দোলন করে, দেশের মানুষের জন্য নয়। আজ বুধবার সকালে বরিশালে মেরিন শিক্ষানবিশদের শিক্ষা সমাপনি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বিএনপি তাদের ব্যার্থতার গ্লানি স্বীকার করে নিয়েছে। গেল মুক্তিযোদ্ধা সন্মেলনে ওই দলের চেয়ারপারসন ব্যার্থতার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। যারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দেয় না তারা এ দেশের মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না। ঢাকায় তথাকথিত জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে জাতীর পিতাকে স্বীকার করা হয়নি। বিএনপি সবসময়ই বেগম জিয়া আর তারেক জিয়াকে বাচানোর জন্য আন্দোলন করে। কিন্তু দেশের মানুষের জন্য তাদের কোন আন্দোলন নেই। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বহু দেশের সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন পরিচালনা করছে। তেমনি বাংলাদেশও সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হবে। বিএনপি নির্বাচনে এলেও বিগত দিনে যেভাবে গুরুত্বপূণ ব্যক্তি আর সাধারণ মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে সেই দেশের মানুষের কাছে তারা কি জবাব দিবে। তাই যুদ্ধাপরাধীদের যেভাবে বিচার হচ্ছে ঠিক তেমনি ভাবে ওই সব হত্যাকারীদের বিচার প্র্রধানমন্ত্রীর জননেন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার। এর আগে নৌ পরিবহন মন্ত্রী বরিশাল নগরীর বান্দরোডস্থ ডেক ও ইঞ্জিন কর্মী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অনুষ্ঠিত বরিশাল ও মাদারীপুরের ২৭ জন মেরিন শিক্ষানবিশদের শিক্ষা সমাপনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও ক্রেস্ট সনদ বিতরণ করেন।

    ডেক ও ইঞ্জিন কর্মী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও শিপ পার্সোনেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’র অধ্যক্ষ মোঃ আবদুল মতিন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, যাদের অবহেলায় আজ বহু নদীপথ হাড়িয়ে গেলে তাদের বিচার এই দেশের মানুষ করবে। বাংলাদেশের নদীপথ বাচাতে একমাত্র বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা সরকারই উদ্যোগ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতো মধ্যে ৩হাজার৩শ’ কিলোমিটার নদীপথ উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নদী পথে দক্ষ জাহাজ চালক সৃস্টির লক্ষ্যে এই সরকারই প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেছে। অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, মাননিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশ উন্নয়ন হয়। তাই তার দিক নির্দেশনার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধশীল দেশ। আর ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে একটি দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে বাংলাদেশ। এছাড়া আমাদের শাষন আমলে আমরা সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। শেখ হাসিনা সরকার যুদ্বাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষকে কলংক মক্ত করেছে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ ও বিআইডব্লিউটিএ বিএন চেয়ারম্যান কমডোর এম. মোজাম্মেল হক (জি) এনইডিপি, এনডিসি, পিএসসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুর রউফ খান ও জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুল হক আক্কাস।

  • শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন বিএনপি মেনে নেবেনা-খন্দকার মোশারফ

    শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন বিএনপি মেনে নেবেনা-খন্দকার মোশারফ

    তানজিল শুভ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, দেশের জনগন ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে ভুল বুঝিয়ে গায়ের জোড়ে ক্ষমতায় বসেছে হাসিনা সরকার। নিয়ম ও সংবিধান রক্ষা করার কথা বলে নির্বাচন করে কথা রাখেনি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার। ক্ষমতা পেয়ে সরকার সবাইকে ধোকা দিচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সংকট সৃষ্টি করছে। বুধবার দুপরে বরিশাল নগরের অশ্বিনী কুমার  হলে বরিশাল মহানগর বিএনপির কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড.খন্দকার মোশারফ হোসেন আরো বলেন, জিয়া অরাফানেজ ট্রাস্টি মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়। কিন্তু কেউ প্রমান করতে পারেনি যে ট্রাষ্টির মূল একাউন্ট থেকে কোন চেক বা টাকা সরেছে। এটা সরকারের পাতানো মিথ্যে মামলা। খালেদাকে জেলে রেখে এদেশে কোন নির্বাচন হবেনা। ওয়ান ইলেভেনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেমন মামলা হয়েছে তেমনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নাইকো দূনীতিসহ মোট ১৫টি মামলা ছিল। যা পরবর্তীতে খারিজ নয়তো প্রত্যাহার বা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। একইভাবে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সাড়ে ৭ হাজার দূনীতি মামলা খারিজ ও প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

    খন্দকার মোশারফ বলেন, বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মীরা বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আওয়ামীলীগ মনে করছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা জেল ও গুম করলে বিএনপি’র অস্তিত্ব থাকবেনা। তাই তারা লক্ষ লক্ষ মামলা দিয়ে রাখছে, যা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কিন্তু এতে করে বিএনপির জনসমর্থন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ আর ২০১৮ এক নয় জানিয়ে খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের ন্যায় ২০১৮ সালের নির্বাচন হবে না। সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন বিএনপি মেনে নেবেনা। নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনী মাঠে থাকারও দাবী করেন তিনি। একই সাথে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতা কর্মীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে সামনের লড়াই সংগ্রামে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান খন্দকার মোশারফ।

    বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে কর্মী সভায় বিশেষ অতিথির বক্ত্যব্য রাখেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মহাবুবুল হক নান্নু জেলা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, উত্তর জেলা বিএনপি সভাপতি মেজবাউদ্দন ফরহাদ, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদারসহ যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। অপরদিকে বিকেলে একইস্থান বরিশাল দক্ষিন জেলা বিএনপি কর্মী সভার আয়োজন করে। সেখানও দক্ষিন জেলা বিএনপ’র সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

  • ১৭ দিনের মাথায় অবৈধ ট্রলি ও আলফা-মাহিন্দ্র’র মুখমুখি সংঘর্ষ

    ১৭ দিনের মাথায় অবৈধ ট্রলি ও আলফা-মাহিন্দ্র’র মুখমুখি সংঘর্ষ

    রাকিব সিকদার

    বরিশালের বানারীপাড়ায় আবারও ১৭ দিনের মাথায় স্বরুপকাঠি-বরিশাল ভায়া বানারীপাড়া সড়কের পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের কুন্দিহার নামক স্থানে মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা আলফা-মাহিন্দ্র ও উপজেলার জম্বদ্বীপ থেকে ইট বোঝাই ট্রলি বরিশালের দিকে যাওয়ার পথে মুখমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৪ জন ও মাহিন্দ্র’র ড্রাইভার সহ মোট ৫ জন আহত হয়েছে।

    আহতরা হলো উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের গরৎদার (দান্ডহাট) গ্রামের নিতাই মিস্ত্রী (৪০),ঝর্ণা মিস্ত্রী (৩০),টুম্পা (২০),বিপুল বসু,কাজল (৫৮) তবে মাহিন্দ্র ড্রাইভার’র নাম জানা যায়নি। তার শ্রমিক ইউনিয়নের কর্তা ব্যাক্তিরাও নাম জানাতে পারেননি। এদের মধ্য থেকে পিরোজপুর জেলার স্বরুপকাঠি উপজেলার কুড়িয়ানা গ্রামের নিতাই মিস্ত্রীর স্ত্রী টুম্পার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেবাচিমে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    আলফা-মাহিন্দ্র’র ড্রাইভারকে বানারীপাড়ায় না এনে তাকে বরিশাল শেবাচিমে নেয়া হয়েছে বলে শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা জানান। এদিকে একটি বিশেষ সূত্র থেকে জানাগেছে আলফা-মাহিন্দ’র বরিশাল থেকে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া বন্দর পর্যন্ত চলাচলের রুট পারমিট থাকলেও তারা কিভাবে বানারীপাড়া ও স্বরুপকাঠি উপজেলায় অবাধে চলাচল করছে। অন্যদিকে মহামান্য হাই কোর্ট থেকে সড়ক ও মহা সড়কে অবৈধ যান্ত্রিকযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও সেগুলো কিভাবে চলছে এনিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহল থেকে। খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহতদের খোঁজ খবর নেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইট বোঝাই অবৈধ ট্রলিটিকে জব্ধ করা হয়েছে বলে জানাগেছে।

  • স্কুল ছাত্র আবিরের হত্যাকারী মিরাজের আত্মসমর্পন

    স্কুল ছাত্র আবিরের হত্যাকারী মিরাজের আত্মসমর্পন

    শেখ সুমন

    বরিশাল নগরীতে ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সহপাঠি স্কুল ছাত্রকে হত্যাকারী সহপাঠি কিশোর অপরাধী মিরাজুল ইসলাম মিরাজ স্বর্ণামত আদালতে আত্মসমর্পন করেছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল শিশু আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করে। আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মো. গোলাম ফারুক তাকে যশোরে কিশোর অপরাধ সংশোধনাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

    আত্মসমর্পনকারী কিশোর অপরাধী মিরাজুল ইসলাম মিরাজ সর্ণামত (১৫) নগরীর ৯নং ওয়ার্ডস্থ ফলপট্টি এলাকার বাসিন্দা বাবুল স্বর্ণামতের ছেলে এবং সহপাঠি আবির দাস হত্যা মামলার নামধারী প্রধান আসামী। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর দুপুরে নগরীর ফলপট্টি এলাকায় ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে চক বাজার এলাকার বাসিন্দা নগরীর একে স্কুল থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষা দেয়া ছাত্র আবিরকে ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ওই দিনই তাকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।

    ২২ ডিসেম্বর দিবাগত গভির রাতে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তার বাবা জয় রবী দাস বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় চারজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • স্বেচ্ছায় নয়, শচীনকে অবসরে বাধ্য করা হয়েছিল! গোপন খবর ফাঁস

    স্বেচ্ছায় নয়, শচীনকে অবসরে বাধ্য করা হয়েছিল! গোপন খবর ফাঁস

    ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার নিজে থেকে অবসরের ঘোষণা না দিলে তাকে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হতো বলে গোপন খবর ফাঁস করলেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক সন্দীপ পাতিল।

    সম্প্রতি দেশটির একটি প্রথম সারির সংবাদ মধ্যামে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে পাতিল জানান, ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে আমরা (নির্বাচকমণ্ডলী) শচীনকে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। তখন শচীন জানিয়েছিল, তিনি তখনও অবসরের কথা ভাবছেন না। তবে ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ড তাঁকে নিয়ে যে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

    শচীন বুঝতে পারে এবং একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়। শচীন তখন সরে না গেলে, তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হত বলেও জানান সন্দীপ পাতিল।

    শচীনের অবসর প্রসঙ্গে সন্দীপ পাতিল আরও বলেন, “মাস্টার ব্লাস্টার টেস্ট ক্রিকেটেই মনোনিবেশ করেছিল। আমার এবং সঞ্জয়ের (তৎসময়ের বিসিসিআই সেক্রেটারি) সঙ্গে কথা বলেই একদিনের আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নেওয়ার কথা জানায় শচীন।”

    সূত্র: জি নিউজ

  • ২২ বছর বয়সে ২৪টি বিয়ে করলেন বাংলাদেশী শরিফা খাতুন

    ২২ বছর বয়সে ২৪টি বিয়ে করলেন বাংলাদেশী শরিফা খাতুন

    শরিফা খাতুন। বয়স ২২ বছর। এ পর্যন্ত বিয়ে করেছেন ২৪টি। হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। একে একে ২৪টি বিয়ে করলেও দু-একটি ছাড়া অধিকাংশ স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়নি শরিফার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিফার বাবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরসংলগ্ন সদর উপজেলাধীন বারঘরিয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর-তাঁতিপাড়া এলাকায়।

    বাবা শরিফুল ইসলাম ও মা জুলেখা খাতুন ওরফে জবেদা। তিন ভাই-বোনের মধ্যে শরিফা বড়। মেজো ভাইয়ের নাম হজরত আলী। ছোট ভাই ৬-৭ বছরের। শরিফার বাবা শরিফুল ইসলাম পেশায় রাজমিস্ত্রি ও সৌদিআরব প্রবাসী। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের বাড়ি বারঘরিয়া থেকে কয়েক বছর আগে বিতাড়িত হয়ে জেলা শহরের স্বরূপনগর-শাহীবাগ মহল্লায় বাসা ভাড়া নিয়ে বিয়ে বাণিজ্য চালাতেন তিনি। একই কারণে সেখান থেকেও বিতাড়িত হয়ে বিভাগীয় শহর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে প্রতারণা চালাতে থাকেন।

    শরিফার মা জবেদা খাতুন বর্তমানে রাজশাহী শহরের সাধুর মোড় এলাকায় শরিফাসহ তিন সন্তান ও চট্টগ্রামের ছেলে ২৪ নম্বর জামাই নিয়ে বসবাস করছেন। এ বিষয়টি অনুসন্ধানে মেয়ে ও মা শরিফা-জবেদা চক্রের বিয়ের কাবিননামাসহ বেশ কিছু নথি প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। কাবিননামায় বিয়ের কনে হিসেবে শরিফার একাধিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে। শরিফা খাতুন, তুরজাউন খাতুন, শরিফা খাতুন বৃষ্টি, আবার কোথাও শরিফা নাম উল্লেখ্য রয়েছে। এসব কাবিননামায় কুমারি দাবি করে শরিফার বয়স দেখানো হয়ে ১৮ থেকে ২০ বছর।

    এ বিষয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সাহাপুর গ্রামের সেকেন্দার গাজীর ছেলে ২৩ নম্বর প্রতারিত স্বামী সৌদিপ্রবাসী নূর হোসেন বলেন, ২০১৩ সালে প্রবাস জীবনের ছুটিতে সৌদি থেকে এসে পারিবারিকভাবে ৩ লাখ ১টা দেনমোহরে ১৭ ভরি স্বর্ণ দিয়ে বিয়ে করেন শরিফা খাতুন বৃষ্টিকে। পরে ১৯ লাখ টাকায় রাজশাহীর তেরখাদিয়ায় একটি বাড়ি কিনে দেন শরিফার নামে। দেশে নয় মাস ঘর-সংসার করে ছুটি শেষে সৌদি কর্মস্থলে যাওয়ার সময় চার মাসের গর্ভবতী শরিফাকে সঙ্গে নিয়ে যান। সেখানে শরিফা একমাসও থাকেননি। মা জবেদার প্ররোচনায় ফিরে আসেন বাংলাদেশে এবং পেটের পাঁচ মাসের সন্তান নষ্ট করে জানায়, গর্ভপাত হয়েছে। এরপর তাদের সংসার টিকেছিল আরও ১৮-১৯ মাস। এ সময় শরিফার অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময় আরও ৩০ লাখ টাকা পাঠায় তার স্বামী। চার মাস পূর্বে মা জবেদার প্ররোচনায় শরিফা চট্টগ্রামের এক যুবককে বিয়ে করেন।

    লক্ষ্মীপুর-তাঁতীপাড়া গ্রামে বসবাসরত শরিফার ফুফা সফিকুল ইসলাম ও ফুফু সায়েরা বেগম জানান, বিয়ের নামে প্রতারণার কারণে শরিফা বা তার মা জবেদার সঙ্গে তেমন আত্মীয়তা রাখেননি তারা। নূর হোসেনের ছোট ভাই ফরহাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা যাচাই-বাছাই করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসে জানান, নূরের সঙ্গে শরিফার তালাক হয়নি। তিনি দাবি করেন, মা জবেদার ইন্ধনে শরিফা একই রকম প্রতারণা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুল্লাহ, বদিউজ্জামান, মোসারফ হোসেন, আজাহার আলী, সারোয়ার রহিম আপেল ও রাজশাহীর আহসান হাবিবসহ আরও অনেক যুবককে বিয়ে করেছেন। বিয়ের কাবিনগুলোও সংগ্রহ করেছেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে চারটি মামলা ও ১০টির অধিক সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। মা-মেয়ের বিচার ও শাস্তি দাবি করে প্রতারিত ৮ স্বামী ও তাদের পরিবার গত শুক্রবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে।

    এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, শরিফা-জবেদা চক্রের প্রতারণার শিকার তথাকথিত স্বামী শীষ মোহাম্মদের দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে। শরিফার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও স্থান পরিবর্তন করায় শরিফাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এদিকে, রাজশাহী বোয়ালিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দীন খান জানান, তদন্তে শরিফার ২৪টি বিয়ের সত্যতা পেয়েছেন তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারণার শিকার শরিফার কথিত স্বামী শীষ মোহাম্মদ জানান, শরিফার প্রতারণামূলক প্রতিটি বিয়ের ক্ষেত্রে মা জবেদা বিদেশ ফেরত প্রবাসী ও সম্পদশালীদের বেছে নিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। তিনি জানান, তার সঙ্গে শরিফার বিয়ে হয়নি। কনে দেখতে গিয়ে তাকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। ভুয়া কাবিননামায় ১৫ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।

    এর প্রেক্ষিতে আত্মরক্ষার্থে তিনি শরিফা খাতুন, তার মা জবেদা বেগম এবং রাজশাহী মহিষবাথান এলাকার দারুস সালাম মাদরাসার প্রভাষক ও বিয়ের কাজি আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা করেন। যার চার্জশিট পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে দাখিল করেছেন এবং শরিফার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ নিয়ে শরিফা ও তার মা জবেদার বাড়ি রাজশাহীর সাধুর মোড়ে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কথা বলতে রাজি হননি তারা। একইভাবে দু’দিন মহিষবাথান কাজি অফিসে গেলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন কাজি আব্দুস সাত্তার। তবে শরিফার বিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি মিথ্যা, ভিত্তিহীন দাবি করে মুঠোফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে অনীহা প্রকাশ করেন শরিফা ও তার মা জবেদা।

  • বাবা মায়ের নামে কলেজ স্থাপন করলেন বাণিজ্য মন্ত্রী

    বাবা মায়ের নামে কলেজ স্থাপন করলেন বাণিজ্য মন্ত্রী

    ভোলা প্রতিনিধি :

    মায়ের ১১ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে মা-বাবার নামে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসাপাতালের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সোমবার দুপুরে ভোলার উপ-শহর বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কমপ্লেক্সে’র তিন একর জমির ওপর আজহার-ফাতেমা মেডিকেল কলেজ ও হাসপতালের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    এসময় মন্ত্রী বলেন, এক সময়ের পিছিয়ে পড়া জনপদ ভোলার বাংলাবাজারে প্রতিষ্ঠিত করা হবে মেডিকেল কলেজ। এখান থেকে ভোলার সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যাবে। ভোলার মানুষ সব ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই করতে পারবে।

    ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন কালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু, বাণিজ্যমন্ত্রীর মেয়ে ডাঃ তাসনিমা আহমেদ জামান, সিভিল সার্জন ডাঃ রথিন্দ্রনাথ মজুমদার, জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন, পুলিশ সুপার মোঃ মোকতার হোসেন, ভোলা পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল হোসেন বিপ্লব প্রমুখ।