Blog

  • খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করলেই আন্দোলন’

    বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘জিয়া পরিবার ও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। তাকে (খালেদা জিয়া) কিভাবে গ্রেফতার করা যায় এবং মামলার রায় নিয়ে আসা যায় ওই পরিকল্পনায় ব্যস্ত সরকার।  কিন্তু ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেয়া যাবেনা। তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক আচরণ করা হলেই দলীয় নেতা কর্মীরা আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজপথে অবস্থান করবে।’

    শুক্রবার বিকেলে নবগঠিত লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রদলের কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    তিনি আরো বলেন, ৫ জানুয়ারীর মতো আর কোন নির্বাচন আগামীতে হতে দেয়া হবে না। সেজন্য এখন থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের কৌশলী হয়ে সজাগ ও সর্তক থাকার আহবান জানান এ্যানি। সমাবেশে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে সম্প্রতি তার নিজের বাসায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামধারীদের হামলার নিন্দা ও অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান বিএনপি’র এই প্রচার সম্পাদক।

    সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম মামুন, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আবদ্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

  • বিরোধীদের হট্টগোলে ভারতের সংসদ অধিবেশন ভন্ডুল

    বিরোধীদের হট্টগোলে ভারতের সংসদ অধিবেশন ভন্ডুল

    বিরোধীদের হট্টগোলে সারা দিনের মতো ভন্ডুল হয়ে গেল ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার অধিবেশন। শুক্রবার অধিবেশনের শুরুতেই সম্প্রতি গুজরাট বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং’এর সঙ্গে পাকিস্তানের নাম জড়িয়ে নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যের বিরুদ্ধে রাজ্যসভায় হইচই শুরু করেন কংগ্রেসের সাংসদরা। তাদের দাবি অবিলম্বে সংসদে এসে নিজের ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। ওই সমস্যার সমাধান না হলে সংসদ চলতে দেওয়া হবে না।

    মোদিকে উদ্যেশ্য করে মোদির ‘পাক চক্রান্ত’এর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর বিবৃতির দাবি জানিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরেই সংসদে অচলাবস্থা জারি রেখেছে কংগ্রেস। আজ সকালেও অধিবেশন শুরুর পরই রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেস সাংসদ গুলাম নবি আজাদ বলেন, সমাধান সূত্র না পাওয়া পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন বন্ধ থাকা উচিত।

    যদিও সংসদীয় মন্ত্রী বিজয় গোয়েল জানান, সংসদের অধিবেশনকে চলতে দেওয়া হোক পাশপাশি এই সময়ের মধ্যে সমাধান সূত্রও খুঁজে বের করা হোক। এটা এমন কোন সমস্যা নয় যে এর সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে না।

    দুই পক্ষের মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যের মধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইনা নাইডু জিরো আওয়ারে সংসদ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিরোধীরা তাতে বাধা দেওয়ায় আজকের মতো সংসদ মুলতুবী করে দিতে বাধ্য হন চেয়ারম্যান। সাপ্তাহিক ছুটি ও খ্রিস্টমাসের ছুটি থাকায় আগামী ২৭ ডিসেম্বর ফের সংসদের অধিবেশন বসবে।

    গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। কিন্তু একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের হট্টগোলের কারণে বারবার ভুন্ডুল হয়েছে অধিবেশন।

    গতকাল বৃহস্পতিবারও মনমোহনকে উদ্যেশ্য করে মোদির ‘পাক চক্রান্ত’র মন্তব্যকে ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যসভা। এমনকি কংগ্রেসের প্রবল হট্টগোলের কারণে গতকাল ‘খেলার অধিকার এবং ভারতে খেলার ভবিষ্যত’ নিয়ে সংসদে বক্তব্যই রাখতে পারেন নি রাজ্যসভার মনোনীত সাংসদ শচীন টেন্ডুলকার। বক্তব্য রাখতে উঠে টানা প্রায় ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন শচীন। এরপর শুক্রবার ফেসবুকে লাইভ সেই বক্তব্য রাখেন মাস্টার ব্লাস্টার। সংসদে দাঁড়িয়ে না বলতে পারার হতাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন ‘গতকাল আমি কিছু বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারি নি’। ভারতকে ‘স্পোর্টস-লাভিং’ দেশ থেকে ‘স্পোর্টস-প্লেয়িং’ দেশে পরিণত করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি। তরুণ সমাজ উন্নতশীল ভারতের কাছে ফিটনেস কতটা গুরুত্বপূর্ণ তারও ব্যাখ্যা দেন শচীন।

  • ইতালি থেকে মোংলায় এসেছে কোস্টগার্ডের অত্যাধুনিক দুই জাহাজ

    ইতালি থেকে মোংলায় এসেছে কোস্টগার্ডের অত্যাধুনিক দুই জাহাজ

    বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত হয়েছে ইতালি থেকে কিনে আনা নতুন দুইটি অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ। শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের মোংলায় বিদ্যারবাহন এলাকার কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরের ভেসেল জেটিতে জাতীয় দুই নেতা সিজিএস মনসুর আলী ও সিজিএস কামরুজ্জামান নামের এই জাহাজ দুইটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। এসময় ওই দুই জাহাজের ক্যাপ্টেন এবং নাবিকদের স্বাগত জানায় কোস্টগার্ডের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা।

    কোস্ট গার্ডের একদল সুসজ্জিত বাদক দল জাহাজ দুইটিকে স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পরিচালক (অপারেশন) ক্যাপ্টেন ইকরাম হোসেন, জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সহকারী গোয়েন্দা পরিচালক লে: কমান্ডার মারুফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। কোস্টগার্ডের এই জাহাজ দুইটি আগামী ২২ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

    কোস্টগার্ড’র সহকারী গোয়েন্দা পরিচালক লে: কমান্ডার মারুফ বলেন, ইতালিয় প্রযুক্তিসমৃদ্ধ অত্যাধুনিক জাহাজ দুইটি গত ১৭ নভেম্বর ইতালির ‘লা-স্পেজিয়া’ বন্দর থেকে ছেড়ে মিশর, ওমান, ভারত, শ্রীলংকা হয়ে আজ ২২ ডিসেম্বর মোংলায় এসে পৌঁছায়। জাহাজ দুইটিতে ২০ জন কর্মকর্তা ও ১শ’ ৪০ জন নাবিক রয়েছে। এছাড়া ৮৭ মিটার দৈর্ঘ্য আর সাড়ে ১০ মিটার প্রস্থের ১৩শ’ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এ জাহাজ ঘণ্টায় ২৩ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম।

    তিনি আরো বলেন, জাহাজগুলোর কোস্টগার্ডের স্বাভাবিক কার্যকলাপ অনুসন্ধান ও তার প্রতিরোধ, মাদক, মানব পাচার প্রতিরোধ, দস্যু দমন, অন্য জাহাজকে অগ্নি নির্বাপণী সহায়তা, উদ্ধার অভিযানসহ উপকূলবর্তী ও সামুদ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মোকাবেলার সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া জাহাজ দুইটি নৌপথের দুষণরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও জানান তিনি।

  • গণধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশু, আটক ৫

    গণধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশু, আটক ৫

    ভারতে ধর্ষণ যেন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে শিশুদের ওপর ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের ঘটনা কিছুতেই রোধ করতে পারছে না দেশটির পুলিশ প্রশাসন। কারণ এবার পুনেতে ১৯ বছরের তরুণ ও পাঁচজন কিশোর মিলে এক আট বছরের শিশুকে গণধর্ষণের ঘটনা।

    ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন ওই শিশুটি তার মাকে জানায় পেটের নীচে তার ব্যাথা করছে। শিশুটির অভিভাবক তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিষয়টি জানতে পারে সকলে। চিকিৎসকরা শিশুটিকে পরীক্ষা করার তার বাবাকে জানায় যে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। শিশুটিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে ৬ জন অভিযুক্তের নাম জানায়। চিকিৎসকদের পরামর্শেই শিশুটির অভিভাবক পুলিশের দ্বারস্থ হয়।

    শিশুটির ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই ১২ থেকে ১৯ বছর বয়সী অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এবং আক্রান্ত শিশু একই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা এবং একই স্কুলে পড়াশোনা করে তারা।

    শিশুটি জানায়, তাকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে অভিযুক্তরা তাকে ফ্ল্যাটের ছাদে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ৫ কিশোরকে পাঠানো হয়েছে জুভেনাইল হোমে এবং ১৯ বছরের তরুণকে আদালতে পেশ করা হয় শুক্রবার।

  • টিভির অনুষ্ঠান দেখে মায়ের খোঁজ পেলেন ছেলে

    টিভির অনুষ্ঠান দেখে মায়ের খোঁজ পেলেন ছেলে

    মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় নিখোঁজ হয়ে ছিলেন ৭৬ বছরের বৃদ্ধা। বহু চেষ্টা করেও খোঁজ মেলেনি। মেয়ের বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি ফিরে আসার সময় হারিয়ে যান তিনি। অবশেষে দুই বছর পর হারিয়ে যাওয়া মাকে খুঁজে পেলেন ছেলে। সৌজন্যে টিভির অনুষ্ঠান।

    মেয়ের বাড়ি থেকে সানথাম্মা কখন বেরিয়ে যান টের পাননি কেউ। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করা হয় কিন্তু, সানথাম্মার কোনও খোঁজ মেলেনি। থানায় গিয়ে নিঁখোজের ডায়েরিও করেছিলেন ছেলে। তবে পুলিশ তার কোনও সন্ধান এনে দিতে পারেনি।

    কিছুদিন আগে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাদের আবাসিকদের নিয়ে ক্রিশমাস উদযাপন করছিল। সেই ঘটনা স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেল লাইভ দেখায়। সেই সময় সানথাম্মার ছেলেও অনুষ্ঠানটি দেখছিলেন। মাকে দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চিনে নেন ছেলে। পরে ওই স্থানীয় টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন ও সেখানে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা হয় তার।

    দীর্ঘ দু’বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে খুশি ভারতের কেরালার সানথাম্মার পরিবার। বৃদ্ধা সানথাম্মাও বেশ খুশি।

  • ভাষা সৈনিক আজহার উদ্দিনের জন্ম বার্ষির্কী উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

    ভাষা সৈনিক আজহার উদ্দিনের জন্ম বার্ষির্কী উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

    হুজাইফা রহমান

    বরিশালে ভাষা সৈনিক,মুক্তিযুদ্বা ও সমাজসেবক শিক্ষানুরাগী এ.কে. এম আজহার উদ্দিনের ৮৩তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগীর আয়োজন য়ৌথ ভাবে আয়োজন করেছে ভাষা সৈনিক এ.কে.এম আজহার উদ্দিন শিক্ষা ট্রাস্ট ও বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা আবিস্কার।

    আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় বরিশাল বিভাগীয় যাদুঘড় প্রাঙ্গনে এ চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষা সৈনিক এ.কে.এম আজহার উদ্দিন শিক্ষা ট্রাস্টের সভাপতি এস এম ওমর ফারুক (রুমী)র, সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান শিশুদের উদ্যেশে বলেন তোমরা যারা আজ মুক্তিযুদ্বের গল্প ও কথা শুনে তাদের নিয়ে যে ছবি একেছো তাই তোমাদের মনের ভিতর মুক্তিযুদ্বে চেতনা ধারন লালন-পালন করতে হবে।
    তাই আগমী দিনে তোমরাই মুক্তিযুদ্বের স্বৃর্তির কথা ও ছবি আকার মধ্যে দিয়ে আরো বেশী করে প্রকাশ করার জন্য আহবান করেন।

    এসময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মরহুম ভাষা সৈনিক এ.কে.এম আজহার উদ্দিনের সহধর্মীনি সালেহা আজহার, বরিশাল মহানগর মুক্তিযুদ্বা কমান্ডার মোখলেচুর রহমান,মুক্তিযুদ্বা এনায়েত হোসেন চৌধুরী,বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা আবিস্কারের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক(সাহেল),সমাজসেবা প্রবেশন অবিসার সাজ্জাদ পারভেজ,বরিশাল বিভাগীয় যাদুঘড় কাওস্টুডিয়ান মোঃ শাহিন আলম। অনুষ্ঠানে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায় বিচারকের দায়ীত্ব পালন করেন আর্ট স্কুলের পরিচালক চিত্র শিল্পি চন্দ্র শেখর বাবুল,সাংবাদিক শুশান্ত ঘোষ ও সাঈদ পান্ত। অনুষ্ঠানে পথ শিশু সংগঠন অপরায়জয় বাংলাদেশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩২ জন প্রতিযোগী অংশ গ্রহন করে। পরে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এর পূর্বে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

  • বিএনপি নেতার ওপর যুবলীগের হামলা- চোখ উৎপাটনের চেষ্টা

    বিএনপি নেতার ওপর যুবলীগের হামলা- চোখ উৎপাটনের চেষ্টা

    বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী আবু বকরের (৫৫) ওপর যুবলীগ কর্মীরা হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। এমনকি হামলাকারীরা তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখমসহ তার দুই চোখ উৎপাটনের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পিংলাকাঠী বাজার এলাকায়। গুরুতর অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে শুক্রবার সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত পোনে ৭টার দিকে গৌরনদী উপজেলার বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী আবু বকর (৫৫) ও সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস, উপজেলা যুবদলের সদস্য ফুয়াদ হোসেন (৪২) পিংলাকাঠী বাাজারের আজাহার হাওলাদারের দোকানে চা পান করে বের হয়ে একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ৮ থেকে ১০ জন সস্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এসময় তারা গাজী আবু বকরকে পিটিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে ক্রিকেটের ষ্টাম্প দিয়ে আবু বকরের চোখ উৎপাটনের চেষ্টা চালায়।

    এ দৃশ্য বাজারের মধ্যে ব্যবসায়ী ও পথচারীরা দেখলেও কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। একপর্যায়ে হামলাকারীরা বীরদর্পে চলে যাওয়ার পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে সেখান থেকে শুক্রবার সকালে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

    গাজী আবু বকর অভিযোগ করে বলেন- ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগ সন্ত্রাসী আসাদ আকনের (২৬) নেতৃত্বে তার সহযোগী বাবু (২৪), সাবিবর ও রাজীবসহ একদল সন্ত্রাসী হকিষ্টিক, লোহার রড ও ক্রিকেটের ষ্টাম্প নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এমনকি চোখ উৎপাটনের চেষ্টা চালিয়ে চোখ নষ্ট করে।

    অভিযোগ সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত আসাদ আকন, বাবু, সাব্বির ও রাজীবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে করে তাদের পাওয়া যায়নি। গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রোগীর শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ডান চোখের অবস্থা গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। চোখ ভাল আছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না। তাকে বরিশাল ও পরে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’ গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কেউ অভিযোগ করেন নাই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কোটি টাকার জেনারেটর গায়েব

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কোটি টাকার জেনারেটর গায়েব

    পাঁচ বছর আগে ক্রয় করা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কোটি টাকার জেনারেটর মেশিন কয়েক বছরের ব্যবধানে গায়েব গেছে। জনস্বার্থে ক্রয় করা ওইসব মেশিন ক্রয় থেকে শুরু করে স্থাপন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছিল বলে বিসিসির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    বিশেষ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য। সিটি মেয়র আহসান হাবীব কামাল এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    সূত্রমতে, তৎকালীন সময়ের মেয়র শওকত হোসেন হিরন একবার এ সংক্রান্ত ঠিকাদারের পেশকরা একটি বিল আটকিয়ে দিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর পুরো দৃশপট পাল্টে যায়। কোন এক অদৃশ্য হাতের ইশারায় জেনারেটরগুলো সচল দেখিয়ে কোটি টাকার বিল উত্তোলন করে নেয়া হয়েছে। আর এ ভাগাভাগির অর্থ দিয়ে কেউ পদোন্নতি আবার কেউবা কয়েক লাখ টাকা দিয়ে বেসরকারী একটি সংস্থার সদস্য পদ লাভ করেছেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে বরিশাল নগরী ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কবলে পরে। এর প্রভাবে পানির পাম্পগুলো সচল রাখা কঠিন হয়ে পরেছিলো। লোডশেডিংয়ের কারণে পানির জন্য নগরবাসী বিক্ষোভ পর্যন্ত করেছিলো। বিষয়টি ওইসময়ের মেয়র শওকত হোসেন হিরনের নজরে আসলে তিনি নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘবে মন্ত্রণালয়ে ১০টি জেনারেটর সরবরাহের আবেদন করেন। যেগুলো দিয়ে বিদ্যুৎ না থাকলেও পানির পাম্পগুলো সচল রেখে জেনারেটরগুলোর মাধ্যমে পানি সাপ্লাই দেয়া সম্ভব হতো। সেমতে বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিদেশী অর্থায়নে প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ আনে।
    ওই বছরেই স্থানীয় ঠিকাদার মনজুরুল আহসান ফেরদৌসকে দরপত্রের মাধ্যমে জেনারেটর ক্রয়ের কার্যাদেশ দেয়া হয়। দরপত্রে উন্নতমানের মেশিন ক্রয়ের জন্য জার্মান, ইউকে এবং আমেরিকার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে বিপত্তি দেখা দেয় মেশিন বরিশালে আনার পরে। যন্ত্রাংশ সঠিক মানের কেনা হয়েছে কিনা তা দেখতে তিনটি জেনারেটর নগর ভবনে আনা হয়েছিলো। নগর পিতার সামনে বসে তৎকালীন দায়ীত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান এবং সহপ্রকৌশলী কাজী মনিরুল ইসলাম স্বপনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগন মেশিনগুলো সচল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র শওকত হোসেন হিরন ঠিকাদারের বিল আটকে দিয়েছিলো। পরবর্তীতে বহু তদবির চালিয়েও ওই বিল ছাড় করাতে পারেনি ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা।

    সূত্রমতে, যে তিনটি দেশের কথা কার্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল সেখান থেকে মেশিনগুলো ক্রয় করা হয়নি। বরং নিন্মমানের চায়না মেশিন সরবরাহ করা হয়েছিল। যার সর্বোচ্চ দর ছিল ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা। সে হিসেবে ১০টি মেশিনের দাম হয় ১০ লাখ টাকা। বাকি অর্থ সংশ্লিষ্টরা মিলে হজম করেছে বলেও সূত্রগুলো দাবি করেন। এদিকে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর পুনরায় ওই চক্রটি নতুন মেয়রের সামনে মেশিনগুলো সচল দেখিয়ে সব বিল উত্তোলন করে নিয়ে মেশিনগুলো নগরীর কয়েকটি পানির পাম্পে স্থাপন করে দেয়।

    এ ব্যাপারে বিসিসির বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান জানান, পিডব্লিউডিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্ময়ে একটি কমিটি গঠণ করে দেয়া হয়েছিলো। কমিটির প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেই বিলের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এখানে তার (নির্বাহী প্রকৌশলীর) কোন দায়ভার নেই। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং তথ্য প্রাপ্তীর জন্য আবেদন করা হলে তাদের নিকট কোন কাগজপত্র নেই বলে তিনি উল্লেখ করলেও পরে অবশ্য বলেন, সব পানি শাখায় রয়েছে। পানি শাখার চলতিদায়িত্বপ্রাপ্ত (নির্বাহী প্রকৌশলী পানি) কাজী মনিরুল ইসলাম স্বপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে মেশিনের ক্যাটালকের কাগজপত্র থাকার কথা স্বীকার করলেও পরে অদৃশ্য কারনে তিনি সব দায়ভার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ওপর চাঁপিয়ে সকল কাগজপত্র তাদের দপ্তরে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

    দরপত্র আহবান করা হয়েছে সিটি কর্পোরেশন থেকে তাহলে কাগজপত্র কেন জনস্বাস্থ্য দপ্তরে এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর জবাব মেলেনি বিসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে।
    অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, স্থাপনকৃত মেশিনগুলো অতি নিন্মমানের হওয়ার কারনে স্থাপনের কয়েক মাসের মধ্যেই অকেজো হয়ে পরে। আর বর্তমানে মেশিনগুলো কি অবস্থায় রয়েছে তার কথা বিসিসির কেউ বলতে পারছেন না। এমনকি আদৌ বহাল আছে কিনা তারও কোন হদিস নেই।

    সূত্রমতে, নগরীতে মোট পানির পাম্প রয়েছে ৩২টি, আর জেনারেটর কেনা হয়েছিলো ১০টির জন্য। ম্যানুয়ালের তথ্য অনুযায়ী ৪৪ হর্স পাওয়ার সম্পন্ন জেনারেটর ক্রয় করতে বলা হলেও ঠিকাদার চায়না থেকে অতি নিন্মমানের জেনারেটরগুলো ক্রয় করেছিলেন। যে কারণে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের বাতিল করা বিল বর্তমান মেয়রের সময়ে উত্তোলন করে ঠিকাদার নিন্মমানের যন্ত্রাংশ সমৃদ্ধ মেশিনগুলোই যাদুর কাঠির ছোয়ায় উচ্চ মান সম্পন্ন করে স্থাপন করেছিলেন।
    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন সময়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রাপ্ত কমিশনের অর্থে একজন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চলতি দায়িত্ব ও অন্য এক কর্মকর্তা একাই ৪০ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহন করেছেন। সম্প্রতি ওই কর্মকর্তা কমিশনের অর্থে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়ে একটি সংগঠনের সদস্য পদ ক্রয় করেছেন। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং কমে আসায় মেশিনগুলো চালানোর প্রয়োজন পরেনি। আর এ কারণেই দুর্নীতির পুরো অর্থ হালাল করে নিয়েছেন কতিপয় কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সচেতন নগরবাসী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুদকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সিপিবির মেয়র প্রার্থী এ.কে আজাদ

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সিপিবির মেয়র প্রার্থী এ.কে আজাদ

    আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বরিশাল জেলা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি এ.কে আজাদকে দলীয়ভাবে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর নাজির মহল্লাস্থ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে আলোচনা সভা শেষে এই ঘোষণা করেন জেলা কমিউনিস্ট পাটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আ.ক.ম মিজানুর রহমান সেলিম।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন- অধ্যাপক নৃপেন্দ নাথ বাড়ৈ, শাহ আজিজুর রহমান, এ.এস.এম. মানিক, হারুন অর রশিদ, বিমল মুখার্জী ও অধ্যাপক ইসাহাক শরীফ প্রমুখ। সভায় মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি দলীয়ভাবে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়। এরা হলেন- ৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী এ.এস.এম. মানিক, ২৩নং ওয়ার্ডে রেজাউল ইসলাম খোকন, ১৯নং ওয়ার্ডে বিমল মুখার্জী, ২৬নং ওয়ার্ডে অধ্যাপক বিপ্লব দাস, ৭নং ওয়ার্ডে অধ্যাপক পরিতোষ চন্দ্র হালদার, ৯নং ওয়ার্ডে সম্পা দাস, ২নং ওয়ার্ডে স্বপন দত্ত, ৪নং ওয়ার্ডে সুমন দত্ত এবং সংরক্ষিত আসন ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে জোৎস্না বেগম।

  • হাইকোর্টে আবারো  পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ

    হাইকোর্টে আবারো পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ

    হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আদালতে হাজিরা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর মাজারের সামনে আসলে হাইকোর্টে অবস্থান করা দলের নেতাকর্মীরা বের হতে চান। এসময় পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। বিএনপি নেতাকর্মীরাও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

    বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি হাইকোর্ট থেকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অপেক্ষমাণ খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যুক্ত হতে চাইলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এসময় অনেক নারী নেত্রীকেও পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে দাবি করেন তারা। প্রত্যাক্ষদর্শীরা আরো জানান, পুলিশি বাধা পাওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে রাস্তায় এসে হঠাৎ পুলিশের ওপর হামলা চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে খালেদার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা দলটির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় পুলিশ আত্মরক্ষার করতে অবস্থানরত জলকামান ও এপিসির পেছনে চলে যায়। মাইকের মাধ্যমে বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেও প্রায় ১০ মিনিট ধরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন তারা। সংঘর্ষ চলাকালে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনে ১৫ মিনিট অবস্থান করে। দলের নেতাকর্মীদের একাংশ খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ঘিরে রাখলেও অন্য অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    এর আগে বিকেল ৪টায় পুরান ঢাকার বকশীবাজার আদালত থেকে গুলশানের বাসভবন থেকে রওয়ানা করেন বেগম জিয়া। বুধবারের মতো আজো হাইকোর্টের ভেতরে পুলিশ নেতাকর্মীদের আটকে রেখেছে এমন সংবাদ শুনে মাজার গেটের সামনে তার গাড়িবহর এসে থামান। এসময় প্রায় ৫ মিনিট হট্টোগোলের পর পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আসলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। তবে ১৫ মিনিট ধরে চলা এই সংঘর্ষে কোনো হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। অপরদিকে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চাঁনখারপুলের পাশ ঘেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মহিলা নেত্রীদের ওপরও চড়াও হয় পুলিশ।

    ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বাংলার মুখ ২৪ ডট কমকে  বলেন, ‘হাইকোর্টে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ইটপাটকেল ছুড়েছে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। শাহবাগ থানা সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা প্রধান ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলাগুলোর বাদী হবে পুলিশ। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও রাজধানীন মৎস্যভবন, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, চাঁনখারপুল এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলীয় মাদরাসার মাঠে স্থাপিত আদালতে যান বেগম জিয়া। তার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আজও আদালতের আশপাশে অবস্থান নেন।

    সকাল থেকেই উল্লিখিত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় থাকলেও গত দুদিনের মতো আজ বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করেনি। ছাত্রদল নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমা জানান, সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন। তবে হঠাৎ করেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হন। দোয়েল চত্বর এলাকা থেকে চাঁনখারপুল পর্যন্ত ব্যারিকেট তৈরি করতে চাইলে নেত্রীদের প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়।