Blog

  • আমরা বিজয়ী জাতি মাথা উচু করে চলবো’

    আমরা বিজয়ী জাতি মাথা উচু করে চলবো’

    মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ত্যাগের মহিমায় নিজেদের গড়ে তোলার জন্য দেশের নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বীরের জাতি, যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। একথা কখনোই ভুললে চলবে না। আমরা বিজয়ী জাতি, কারোর কাছে মাথানত করে চলি না, চলবো না। সারা বিশ্বের সামনে বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা সবসময় মাথা উঁচু করে চলবো। দেশে যাতে আর কোনো অন্যায়-অনিয়ম না হয়, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে, যুগের পর যুগ এভাবেই বিজয়ের আনন্দ-উৎসবে মেতে থাকতে পারে- বিজয়ের দিনে এই আমাদের প্রতিজ্ঞা।

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট সবাইকে হত্যা করে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর পুরো রক্তকেই ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি। দেশবাসী আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দেওয়ার কারণেই বাংলাদেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলছি। বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্বের সামনে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল।

    বাংলাদেশ আজ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত, যে মর্যাদা ’৭৫-এ ভুলুণ্ঠিত হয়েছিল। সারা বিশ্ব এখন বাঙালিদের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমাদের এই বিজয় সবাইকে ধরে রাখতে হবে।

    গণভবন থেকে এই ভিডিও কনফারেন্সে সূচনা বক্তব্যের পর সোহওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের সরাসরি প্রশ্নেরও উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

    গণভবনে এ সময়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মের কয়েক তরুণের সঙ্গে জয় বাংলা স্লোগানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলালে গোটা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ওই স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

    বক্তব্যের শুরুতেই দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকেই ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই ভাষণের পথ ধরেই আমাদের এই স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর একটিমাত্র ভাষণে দেশের প্রতিটি ঘর এক একটি দুর্গে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি নির্দেশ বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করে। হাতে গোনা কয়েকটি রাজাকার-আলবদর ও পাকিস্তানের দোসর ছাড়া দেশের প্রতিটি মানুষ পাকিস্তানি শত্রুদের পরাজিত করে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে।

    তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বীর বাঙালিদের কাছে পাকিস্তানের ৯৬ হাজার সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। ২৫ মার্চ পাক হানাদাররা গণহত্যা চালানোর পর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শেষ শত্রু থাকা অবস্থায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ অপরাধে পাক হানাদাররা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায় এবং প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক চাপে এবং তাদের ৯৬ হাজার সৈন্যের প্রাণ বাঁচানোর কারণে পাক হানাদারদাররা বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এই ঐতিহাসিক উদ্যানেই বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে মুক্ত-স্বাধীন বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে তার নির্দেশনা দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আজ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে ইউনেস্কো ‘ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সারাবিশ্বের ঐতিহ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্থান পাওয়ার কারণে সমগ্র বাঙালির সম্মান অনেক উচ্চস্তরে পৌঁছে গেছে, বাঙালি জাতির কাছে এটি গৌরবেরও।

    মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজয় দিবসের এই দিনে ঘৃণা ও ধিক্কার জানাই যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদারদের দোসর হিসেবে আমাদের মা-বোনদের তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। ঘৃণা জানাই যারা রাজাকার-আলবদর-আলশামস হয়ে সারা দেশে গণহত্যা চালিয়েছে, আমাদের পরাজিত করতে চেয়েছে, কিন্তু আমরা পরাজিত হয়নি। বরং বীর বাঙালিরা তাদেরই পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছে।

    একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগতাড়িত প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার পর পাক হানাদাররা আমাদের মা, বোন, ভাইসহ পরিবারের সবাইকে ধানমন্ডির ১৮ নম্বর বাড়িতে বন্দী করে রেখেছিল। ১৬ ডিসেম্বর যখন পাক হানাদাররা আত্মসমর্পণ করে, বাইরে জয় বাংলার গগনবিদারী স্লোগান, তখনও আমরা ওই বাড়িতে বন্দী। বাইরে মানুষের স্লোগানের সঙ্গে আমরাও পাক হানাদারদের সামনেই বাড়ির ভেতর থেকে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছি। দেশ ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হলেও আমরা মুক্তি পেয়েছি ১৭ ডিসেম্বর।

    ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো।

  • প্লে-অফ ম্যাচে জয় পেল তামিমের পাখতুনস

    প্লে-অফ ম্যাচে জয় পেল তামিমের পাখতুনস

    টি-টেন লিগের প্রথম প্লে-অফের ম্যাচে বেঙ্গল টাইগার্সের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে তামিমের পাখতুনস।

    দলের তৃতীয় ম্যাচ আর নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টায় বেঙ্গল টাইগার্সের মুখোমুখি হয় তামিম-আফ্রিদির দল পাখতুন।

    ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান করে বেঙ্গল টাইগার্স। যার ফলে পাখতুনকে ১২৭ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বেঙ্গল টাইগার্স।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি তামিম। ৮ রানেই সাঝঘরে ফেরেন তিনি। এরপর শেহজাদ (৩৮), আফ্রিদি (২৩), ফাখার জামান (৩১) রানে আউট হন। তবে ৯ রানে স্মিথ ও ১৬ রানে দশন অপরাজিত ছিলেন। যার ফলে ১০ ওভারে ১২৭ করে ৬ উইকেটে জয় পায় পাখতুন।

  • বাগেরহাটে সংরক্ষিত আসনের এমপি’র মেয়েকে ছুরিকাঘাত

    বাগেরহাটে সংরক্ষিত আসনের এমপি’র মেয়েকে ছুরিকাঘাত

    বাগেরহাটের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হ্যাপী বড়ালের মেয়ে অদিতি বড়ালকে ছুরিকাঘাত করেছে এক সন্ত্রাসী। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের আমড়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শেষে ব্যক্তিগত গাড়িতে উঠার সময় অজ্ঞাত এক যুবক তার পেটে ছুরি মেরে পালিয়ে যায়।

    স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় অদিতিকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    মহিলা এমপি’র মেয়েকে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান বাগেরহাট সদর আসনের এমপি মীর শওকাত আলী বাদশা, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়সহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

    বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান জানান, ছুরিকাঘাতে অদিতি বড়ালের পেট গুরুতর জখম হয়েছে। তবে তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।

    বাগেরহাট পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, পুলিশ ছুরিকাঘাককারী সন্ত্রাসীকে আটক করতে ইতোমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে। তবে, এই পরিবারের উপর কেন একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে সে বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হবে।

    এ ঘটনার প্রায় ৮ মাস আগেও অদিতি বড়ালের বড় বোনের পায়ে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। সে বিষয়ে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি মামলা করেছিল তার পরিবার।

    এর আগে ২০০০ সালে অদিতি বড়ালের পিতা চিতলমারী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও হিন্দুবৌদ্ধ খ্রিন্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা কালিদাস বড়ালকে প্রকাশ্য দিবালোকে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাধনার মোড়ে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। কালিদাস বড়াল হত্যাকাণ্ড সে সময় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

  • মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ২ মাস ধরে কিশোরীকে ধর্ষণ

    মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ২ মাস ধরে কিশোরীকে ধর্ষণ

    গত ২ মাস ধরে এক কিশোরীকে ক্রমাগত ধর্ষণ করেছে ৩ জন ব্যক্তি। এরপর সেই কিশোরী যখন পুলিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তখন তারা তার গায়ে আগুন ধরিয়ে কিশোরীকে হত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে কিশোরীটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেইনপুরি জেলায়।

    পুলিশ জানায়, মা-বাবাকে খুন করার হুমকি দিয়ে দুই ‌মাসেরও বেশি সময় ধরে ৩ জন অভিযুক্ত সেই কিশোরীকে গণধর্ষণ করে গেছে। কিছুদিন আগে সেই কিশোরী এই ঘটনাটি তার মা-বাবার কাছে জানালে তারা পুলিশের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করার ২দিন পরও পুলিশ কোনও ধরনের পদক্ষেপ করেনি।

    বুধবার সেই ৩ অভিযুক্তকে আক্রান্তের বাড়ির পাশে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সেই সময় ওই কিশোরী একাই ছিল। সেই সুযোগে অভিযুক্তরা ঘরের মধ্যে ঢুকে তার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে কিশোরীর গায়ে আগুন দিয়ে দেয়।

    এই ঘটনার পরই ফেরার ৩ অভিযুক্ত। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ এবং এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। খোঁজ চলছে অভিযুক্তদের।

  • বরিশালে মহান বিজয় দিবস পালিত

    বরিশালে মহান বিজয় দিবস পালিত

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নানান কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। এর পরপরই সকাল ৬টা ৪০ মিনিট থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    যেখানে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা। এরপর বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান (অতিরিক্ত সচিব), ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমীন, জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। অপরদিকে এখানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে শহরের ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে ৭১’র মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

    এরআগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের সব সরকারি বেসরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীন গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে দু’দিন আগে থেকেই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলোতে আলোকসজ্জার মাধ্যমে আলোকিত করা হয়েছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয় ও বিবির পুকুরকে ঘিরে বাহারী রংয়ের আলোকসজ্জা করার পাশাপাশি ব্যানার-ফ্যাস্টুন, তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরেই বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে নগরের বিভিন্ন সড়কে রাজনৈতিক নেতারা তেরণ ও ব্যানার টানিয়ে রেখেছে।

  • গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজয় দিবস উদযাপন

    গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজয় দিবস উদযাপন

    জাকারিয়া আলম দিপু.

    যথাযোগ্য মর্যাদায় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে পুস্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (জিইউবি)বরিশালের মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান অকুতোভয় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিজয় দিবসে কায্যক্রম শুরু করে।

    মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুল্লাবাদ বাসস্টান্ড সংলগ্ন ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (জিইউবি) চেয়ারম্যান , বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সৈয়দা আরজুমান বানু নার্গিস। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর তপন কুমার বল ।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান , বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এস. আমরিন রাখী, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর একেএম এনায়েত হোসেন, সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফুন নাহার আফরোজ  সহ শিক্ষকমন্ডলী, কর্মকতাবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।

  • বরিশালে মাছ হাবিবের লালসার শিকার কলেজছাত্রী- গেলো প্রাণ!

    বরিশালে মাছ হাবিবের লালসার শিকার কলেজছাত্রী- গেলো প্রাণ!

    বরগুনা জেলার পাথরঘাটা পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মালেক মিয়ার কন্যা শামিমা আক্তার ছবি (৩০) শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৃত্যুবরণ করেছেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ(শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিষপানের কারণে মাঝ বয়সী ডিভোর্সি ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে পর্যালোচনা করে মিলেছে তথ্যের বহু অসংলগ্নতা। শনিবার হাসপাতালে ছবি’র লাশের সঙ্গে থাকা তার ফুফাতো ভাই কবির জানিয়েছেন, বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ এলাকায় ছবি’র বোনের মেয়ে রিমু’র বাসায় বসে বিষপান করেন ছবি। খবর পেয়ে তিনি (কবির) পাথরঘাটা থেকে এসেছেন। তবে বিষপানের কারণ সম্পর্কে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছবি’র বাবা মালেক মিয়া বলেন, আমি অসুস্থ। কিছুই বলতে পারব না। কিন্তু রহস্যের জাল বিস্তর করেছে দুই কন্যা সন্তানের ওই জননীর মৃত্যুর সাথে বরিশালের বাসিন্দা মৎস্য শ্রমিকলীগ নেতা খান মো. হাবিব ওরফে মাছ হাবিবের সম্পৃক্ততার বিষয়টি। শুক্রবার রাতে শেবাচিম হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে দায়িত্বরত জালাল মিয়া বলেছেন, ওই নারীকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে আসেন তার (জালালের) পূর্ব পরিচিত খান মো. হাবিব ও মান্নান নামের দুই ব্যক্তি। পরবর্তীতে ছবি’র মৃত্যু হলে মান্নানকে সেখানে রেখে হাবিব পালিয়ে যান। এরপর ওই রাতে এবং শনিবার সারা দিনেও হাবিবকে লাশের আশেপাশে দেখা যায়নি।

    সরেজমিনে শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে হাবিবকে দেখা না গেলেও বরিশাল তার সাঙ্গপাঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত একাধিক লোককে হাসপাতালে ঘুরঘুর করতে দেখা গেছে। তবে হাবিব সাংবাদিকদের কাছে ছবিকে তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বলেছেন, ছবির মেয়ে অনি তাকে মোবাইলে ফোন করে মায়ের বিষপানের খবর জানালে সে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেছেন। এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাথরঘাটার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলছে- খান হাবিবের সাথে মৃত শামিমা আক্তার ছবির হৃদয়ঘটিত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই বিবাদ সৃষ্টির কারণ থেকে ছবিকে লাশ হতে হয়েছে। আর অবস্থা বেগতিক দেখে মাছ হাবিব পালিয়ে গিয়ে অর্থ ও ক্ষমতার জোরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নিহত ছবির পরিবারকে অর্থের লালসা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রেখেছেন।

    এই বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছবির পরিবার হাবিবের কাছে তার লাশ বিক্রি করে দিয়েছে। অর্থের ভারে মাটিতে মিলিয়ে গেছে হাবিবের অপরাধ। তবে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি বোনের মেয়ের বাসায় বসেই ছবি বিষপান করে এবং তার মেয়ে অনি বিষয়টি জেনে থাকে তাহলে তারা হাসপাতালে ভর্তির সময় কেন হাবিব এবং মান্নানের সাথে ছিলেন না এবং শনিবার দিনে লাশের সুরতহাল, পোস্টমর্টেমসহ কোন কার্যক্রমেই মেয়ে এবং বোনের মেয়েকে কেন দেখা যায়নি (?) আর যাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে আসলেন, তার মৃত্যুর খবর শুনে পরিবারের পাশে থাকার পরিবর্তে কেন খান হাবিব মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করেছেন ? বিষয়টি সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে অনুসন্ধানের জন্য পাথরঘাটার একাধিক ভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে আলাপ করে পাওয়া গেছে বহু অজানা তথ্য। অনেকের মতে খান হাবিবের সঙ্গে নিহত ছবির গোপন অভিসার এবং তার অপকর্মের ফিরিস্তি সম্পর্কে।

    স্থানীয় ও হাবিব ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, পাথরঘাটায় মৎস্য মোকামের ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাদে খান হাবিব মাসের অধিকাংশ সময় সেখানে অবস্থান করেন। মাছ ব্যবসার পাশাপাশি হাবিবের সেখানে বরিশাল গেস্ট হাউজ নামে একটি অভিজাত আবাসিক হোটেলও আছে। আর নিহত ছবি’র দুই মেয়ে অনি ও জিমি। প্রায় দুই বছর আগে স্বামী লাল মিয়ার সাথে ছবির বিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে সরকারি বরিশাল কলেজে অনার্সে পড়ুয়া বড় মেয়ে অনি থাকেন নগরীর বৈদ্যপাড়ার একটি ছাত্রী মেসে। আর ছোট মেয়ে জিমিকে নিয়ে পাথরঘাটায় থাকতেন ছবি। পরিবার বরিশালে রেখে হাবিব পাথরঘাটায় একা থাকায় এবং ডিভোর্সি শামিমা আক্তার ছবি’র বেপরোয়া-উশৃঙ্খল জীবন যাপন থেকেই উভয়ের মাঝে ঘটে পরিচয়, সম্পর্ক, ঘনিষ্ঠতা। একপর্যায়ে তারা পরকীয়ায় আশক্ত হলে হাবিবের গেস্ট হাউজে ছবি’র শুরু হয় অবাধ যাতায়াত। পরবর্তীতে ছবির পিত্রালয়ে ঘর নির্মাণ, আসবাবপত্রসহ আলিসান কায়দায় জীবন যাপনের সব রকম ব্যবস্থা করে দিয়ে পাথরঘাটায় অবস্থানকালে হাবিব ছবি’র বাড়িতেই জামাই আদরে থাকতে শুরু করেন।

    হাবিবের সার্বিক বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি  জানিয়েছেন, দিনের পর দিন ওই নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন হাবিব। তার অর্থের লোভে পড়ে কিছু দিন যেতেই ওই নারী হাবিবকে চাপ দিতে শুরু করেন বিয়ের জন্য। সেখান থেকেই তাদের মাঝে মনোমালিন্য এবং বিবাদের সূত্রপাত। বরিশালে স্ত্রী-সন্তান থাকায় ছবির সঙ্গে সবকিছু করলেও বিয়ে করতে রাজি হননি হাবিব। এভাবে ঝগড়া-বিবাদের মাঝেও তাদের রাত্রীযাপন অব্যাহত থাকলেও সম্প্রতি ছবি বিয়ের জন্য হাবিবকে ঘনঘন তাগাদা দিলে শুক্রবার বিকেলে এ নিয়ে গেস্ট হাউজে উভয়ের মধ্যে ব্যাপক বাগবিতন্ডা হয়। সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই হাবিব তার লোকজনকে জানায় ছবি অসুস্থ হয়ে পড়েছে হাসপাতালে নিতে হবে। সুচতুর হাবিব স্থানীয় হাসপাতালে ছবিকে নিয়ে গেলে সব ফাঁস হওয়ার ভয়ে পাথরঘাটার মৎস্য মোকামের এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর গাড়িতে করেই বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের অবৈধ সম্পর্কের শেষ পরিণতিতে ছবি’র মৃত্যু হলে হাবিব নিজেকে রক্ষায় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান এবং মুঠোফোন বন্ধ করে তার লোকজন দিয়ে নিহত ছবির পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখেন।

    ছবির বাবা, দুই মেয়ে এবং অন্যান্য আত্মীয়দের অর্থের লালসা দেখিয়ে বিষয়টি চেপে যেতে বলেন এবং কাউকে প্রকৃত ঘটনা জানালে ছবির মতই পরিণতি হবে বলে হুশিয়ার করে দেন। এসব ঘটনা পাথরঘাটার একাধিক বাসিন্দা ও হাবিবের ঘনিষ্ঠ লোকজনদের কাছ থেকে শোনা গেলেও প্রকাশ্যে কিছুই বলতে পারবেন না বলে তারা সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দেন। তবে বিয়েতে হাবিবের অমতের কারণে মনোকষ্টে ছবি বিষপান করেছেন, নাকি ছবি বিয়ের জন্য অতিমাত্রায় চাপ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিব তাকে বিষপান করিয়েছে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউ। এই বিষয়ে জানতে বরিশাল মৎস্য শ্রমিকলীগ নেতা খান মো. হাবিবের মুঠোফোনে একাধিক চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। যে কারণে তার বক্তব্য তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

  • মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানালেন মহানগর আওয়ামীলীগ

    মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানালেন মহানগর আওয়ামীলীগ

    শেখ সুমন :

    আজ মহান বিজয় দিবসে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানালেন বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ।এসময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড.গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক এ.কে.এম জাহাঙ্গির , সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিনটু , যুগ্ম  সাধারন সম্পাদক যুবরত্ন সেরনীয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহ্ সহ মহানগর যুবলীগ , ছাত্রলীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ।

    শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পরে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদরশন পূরবক নিরবতা পালন করা হয়।