Blog

  • ঢাকা-নেপিডো সমঝোতা সই ,দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু

    ঢাকা-নেপিডো সমঝোতা সই ,দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু

    বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতা সই করেছে মিয়ানমার। ‘রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ফেরার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এই সমঝোতার বিষয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দুই মাসের মধ্যে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত লোকজনের ফিরে যাওয়া শুরু হবে।

    প্রত্যাবাসনের জন্য ভৌত ব্যবস্থাবিষয়ক একটি সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় দলিল দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই মিয়ানমার এই সমঝোতা সই করেছে।

    যদিও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তর এই সমঝোতাকে উভয় দেশের জন্য জয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এবার ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থার ভিত্তি হবে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সই করা যৌথ বিবৃতি। সেখানে রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে পরিচয় যাচাই ও মিয়ানমারের গ্রহণ করার বিষয়ে সাধারণ নীতি ও নির্দেশিকা রয়েছে।

    নেপিডোতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে গতকাল সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বৈঠকের পর দুই দেশ ওই সমঝোতায় সই করে।

    উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের যৌথ বিবৃতির আলোকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ এর বিরোধিতা করে বলেছিল, ১৯৯২ সালের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন সমঝোতা প্রয়োজন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও এ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেছিলেন।

    বাংলাদেশের মূল যুক্তি ছিল, ১৯৯২ সালের যৌথ বিবৃতিতে যেভাবে রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই করার কথা বলা হয়েছিল সেটি এবার করা হলে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগের মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। কেননা রাখাইন রাজ্যে এবার তাদের বাড়িঘর এমনভাবে পোড়ানো হয়েছে যে সেখানে তাদের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতার বিষয়ে যতটুকু জানা গেছে তাতে যে খুব নতুন কিছু আছে এমন নয়। কেবল একটি বিষয় নতুন রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী নেপিডোতে সাংবাদিকদের বলেছেন এবং পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু করা হবে। এটি কবে নাগাদ শেষ হবে সেটি বলা হয়নি। এর আগে মিয়ানমার বলেছিল, তারা যাচাই-বাছাই করেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। মিয়ানমার গতকাল যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সেখানেও তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    রোহিঙ্গারা কিভাবে যাবে, তাদের যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয় নির্ধারণ করবে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। মিয়ানমারের একজন কর্মকর্তা একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, কিভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে তার একটি নমুনা ফরম বা তালিকা তারা বাংলাদেশকে দিয়েছেন। বাংলাদেশ যদি তাতে রাজি হয় তবে সেটির ভিত্তিতেই কাজ করা হবে।

    বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার তার পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসেনি। মিয়ানমার বলছে, যারাই মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় তাদের নাগরিক প্রমাণ দিতে হবে। সেই প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য যা কিছু করা দরকার মিয়ানমার করবে।

    বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা হলো, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অতীতে তেমন একটা ফল আসেনি। ২০০৫ সাল থেকে মিয়ানমার একতরফাভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ রেখেছে। দ্বিপক্ষীয় বিষয় হলে মিয়ানমার নানা টালবাহানা করে বিষয়টি পিছিয়ে দেয়। কিন্তু গতকাল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিজ্ঞপ্তি থেকে বোঝা যাচ্ছে এখানে কোনো বহুপক্ষীয় উদ্যোগ হচ্ছে না। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিষয় হিসেবেই থাকছে। মিয়ানমার তার বিজ্ঞপ্তিতে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণের বিরোধিতা করেছে।

    বিবিসি বাংলা জানায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে গতকাল সমঝোতা সইয়ের পেছনে আন্তর্জাতিক চাপ বা সমঝোতা কাজ করেছে। মিয়ানমারে সরকারি মহলে জানাশোনা আছে—এমন কয়েকজন সাংবাদিক বলেছেন, সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের পর মিয়ানমারে গেছেন। গতকাল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তাতে চীন ভূমিকা রেখেছে।

    বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুকে যেভাবে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে বা করতে চেয়েছিল মিয়ানমার তা পছন্দ করছে না। বিবৃতিতে তারা বলেছে, বিষয়টি দ্বিপক্ষীয়ভাবেই সমাধান করতে হবে।

    তবে অন্য আন্তর্জাতিক চাপগুলোও এখানে কাজ করেছে বলে ধরে নেওয়া যায়। যেমন—গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের কথা বিবেচনার কথা বলেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে খুব তড়িঘড়ি করেই মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্তা দিতে চাচ্ছে যে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে, যাতে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হয়।

    মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাসহ (ওআইসি) পশ্চিমা দেশগুলো জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব গ্রহণ করে বিষয়টিকে (রোহিঙ্গা সংকট) আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে দেখিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদও এ ইস্যুতে একটি প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতি ইস্যু করেছে। ’

    ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের নীতিগত অবস্থান হলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উদ্ভূত ইস্যুগুলো অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে সমাধান করতে হবে। বন্ধুত্ব ও ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয় দেশের সম্মত এ ব্যবস্থায় (সমঝোতা) মিয়ানমারের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি এনে দিয়েছে। ’

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, প্রত্যাবাসনবিষয়ক সমঝোতা হলেও রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নির্ভর করছে পুরোপুরি তাদের ইচ্ছার ওপর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চায় না রোহিঙ্গাদের জোর করে ফেরত পাঠানো হোক। বাংলাদেশের এমন পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশ চায়, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন। এর জন্য মিয়ানমার সরকারকেই রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। আর এটি রাতারাতি বা দুই মাসে সম্ভব নয়।

    বাংলাদেশি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নেপিডো থেকে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, গত বুধবার নেপিডোয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সমঝোতায় একটি সময়সীমা রাখার কথা মিয়ানমারকে বলেছিল। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও সম্পৃক্ত করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ।

    জ্যেষ্ঠ এক কূটনীতিক বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করেনি। মিয়ানমার দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা বললেও শেষ করার সময়সীমা দেয়নি। বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমার কোনো সময়সীমা না দিয়ে বিষয়টি উন্মুক্ত রেখেছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা বিষয়ে মিয়ানমার আগের চেয়ে নমনীয় হলেও এ বিষয়টি সমঝোতা দলিলে উল্লেখ করতে রাজি হয়নি।

    বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিয়াও তিন সুয়ে ওই সমঝোতায় সই করেন। এ সময় তাঁরা ১৯৯৮ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সীমান্ত চুক্তি অনুস্বাক্ষর দলিল বিনিময় করেন। তাঁরা ২০০৭ সালে সম্মত ‘নাফ নদীতে সীমান্ত নির্ধারণী অতিরিক্ত প্রটোকল’ও সই করেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী নেপিডোতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বহুল প্রত্যাশিত ঐকমত্যে পৌঁছার পর তাঁরা সমঝোতা সই করেছেন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। সমঝোতা সই করা প্রথম ধাপ। এখন আমরা দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করব। ’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সকালে নেপিডোয় মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ইউন মিয়াত আয়ের সঙ্গে দেখা করে রাখাইন রাজ্যের জন্য উপহার হিসেবে তিনটি অ্যাম্বুল্যাসও দিয়েছেন।

    গতকাল বিকেলে ঢাকায় একটি সম্মেলন শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ। এটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার ঢাকায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

    জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার খসড়া ছয় দফা চালাচালির পর গত বুধবার বৈঠকে তা চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহিদুল হক, মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সুফিউর রহমানসহ এ দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কার্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সমঝোতা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেন, ‘যতটুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশের আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। মিয়ানমার বারবার কালক্ষেপণ করেছে এবং তাদের লোকদের ফিরিয়ে নেওয়ার যে দায় রয়েছে তা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে। সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। আমরা যদ্দূর জানি, বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে চেয়েছিল। সেটি অর্জিত হয়নি। ’

    পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসনের পর তৃতীয় কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরো উদ্বেগের উল্লেখ করে সি আর আবরার বলেন, রোহিঙ্গারা কতটা স্বেচ্ছায়, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফিরে যেতে পারবে তার কোনো ইঙ্গিত এখানে নেই।

    এদিকে রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সচেতন করা অব্যাহত রেখেছে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গতকাল নয়াদিল্লিভিত্তিক বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, মধ্য পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ৭৭ জন রাষ্ট্রদূতকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি অবহিত করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ও মানবাধিকার পরিষদে আগামী মাসেই রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারকে এ সংকট সমাধানে বাধ্য করতে বৈশ্বিক সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

  • তিব্বত আর স্বাধীন হতে চায় না : দালাই লামা

    তিব্বত আর স্বাধীন হতে চায় না : দালাই লামা

    তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা চীনের হাত থেকে স্বাধীন হতে চেয়েছিলেন আগে। কিন্তু এবার দীর্ঘদিনের সে স্বাধীনতার দাবি ত্যাগ করে চীনের অধীনে থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে দালাইলামা বলেন, আমরা স্বাধীনতা চাইব না। আমরা চীনের সঙ্গে থাকতে চাই। আমরা আরও উন্নয়ন চাই।

    গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি তিব্বতের স্বাধীনতার দাবি ত্যাগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

    দালাইলামা বলেন, দুটি আলাদা দেশ হলেও চীন-তিব্বতের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যদিও মাঝে মধ্যে লড়াই হয়।

    তিনি আরও বলেন, অতীত অতীতই। আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই। স্বাধীনতার দাবি ত্যাগ করলেও তিব্বত ও তিব্বতিদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি জোর দিয়েছেন স্বেচ্ছায় ভারতে নির্বাসিত এই আধ্যাত্মিক নেতা।

    তিনি বলেন, তিব্বতের আলাদা সংস্কৃতি আছে এবং পৃথক জীবনপ্রণালি আছে।

    চীনারা তাদের দেশকে ভালোবাসে এবং আমরাও আমাদের দেশকে ভালোবাসি।

    দালাইলামার দাবি, কোনো চীনাই ঠিকমতো জানেন না গত কয়েক দশকে কী কী ঘটে গেছে। বৌদ্ধ ধর্মের এ আধ্যাত্মিক নেতা তিব্বত মালভূমির বাস্তুসংস্থান রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সূত্র : এনডিটিভি

  • তিনি যেভাবে বারী সিদ্দিকী হয়ে উঠলেন

    তিনি যেভাবে বারী সিদ্দিকী হয়ে উঠলেন

    বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বংশী বাদক। তিনি লোক ও মরমী ধারার গায়ক।

    ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনায় তার জন্ম।   বাবা প্রয়াত মহরম আলী ও মা প্রয়াত জহুর-উন-নিসা। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে বারী সিদ্দিকীই ছিলেন সবার ছোট। ছোটবেলায় বয়স যখন তিন কিংবা চার হবে সেই বয়সেই মা’র কাছে তার প্রথম শুনা গান ছিলো ‘শ্বাশুড়িরেও কইয়ো গিয়া’।

    সেই গানের সুরই বারী’র মনে গেঁথে যায় ছোটবেলায়। যদিও তার পরিবার গানের পরিবার ছিলো না। কিন্তু সৌখিন গানের পরিবার ছিলো তার। বারীর নানা শেখ সাবির সরদ বাজাতেন। আর তার নানীর কাছ থেকেই মা গান শিখেছিলেন টুকটাক।

    বারীর বয়স যখন পাঁচ তখন বড় ভাইয়ের বাঁশিতে ফু দেয়া তার মধ্যে অন্যরকম আগ্রহের সৃষ্টি করে বাঁশি শেখার প্রতি। বারীর নানারা দুই ভাই ছিলেন। তার নানার একটা সঙ্গীতের দল ছিল। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সাথে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।

    বারীর বাবা গানের সাথে জড়িত না থাকলেও গান বাজনা তার পছন্দের ছিলো। বারী তার বাঁশি শেখা এবং গান শেখার দুটোরই উৎসাহ পেয়েছেন তার মায়ের কাছ থেকে। বারী ছোটবেলায় বাঁশি বাজাতেন মূলত বড় ভাইদের নকল করে। তখন পদ্ধতিগতভাবে নেত্রকোণায় বাঁশি শেখার উপায় ছিলো না। তাই মাত্র সাত আট বছর বয়সেই মা জহুর-উন-নিসার কাছে গান শেখা শুরু করেন। মার কাছ থেকে জীবনে তিনি প্রথম যে গানটির সুর বাঁশিতে তুলে নিয়েছিলেন সেই সুরটিই তিনি পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেদ’র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেছিলেন। সেটি ছিলো শ্যাম বিচ্ছেদের একটি সুর। কলিটা ছিলো এরকম ‘আস্ট আঙ্গুল বাঁশের বাঁশি/মধ্যে মধ্যে ছ্যাদা/ নাম ধরিয়া ডাকে বাঁশি/ কলংকিনী রাধা/।

    বারী সিদ্দিকী যখন হাইস্কুলে পড়তেন তখন থেকেই তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে পদ্ধতিগতভাবে সঙ্গীত শেখা শুরু করেন নেত্রকোনা। তার সঙ্গীতের ওস্তাদ ছিলেন শ্রী গোপাল দত্ত। সে সময় বড় দুই ভাই এবং রফিক মাহমুদ, বিপুল চৌধুরী, দুলাল দত্তনবীশ, হযরত আলীর কাছ থেকেও গানে সহযোগিতা পেয়েছেন। ছোটবেলায় মূলত সঙ্গীতশিল্পী হবারই স্বপ্ন ছিলো বারী সিদ্দিকীর। তার মা তাকে উচাঙ্গ সঙ্গীত শিখে তা বাঁশিতে ট্রান্সফর্ম করতে বলতেন।

    তার সঙ্গীতে প্রথম ওস্তাদ গোপাল দত্ত। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের দিকে ঢাকায় শুদ্ধ সঙ্গীত প্রসারের একটি অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় ওস্তাদ আমিনুর রহমানের কাছে। তিনি বিমানের পাইলট ছিলেন। ভারত বর্ষের বিখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ পান্না লাল ঘোষের শিষ্য ছিলেন। সেই আমিনুর রহমানের বাড়িতে থেকেই বাঁশিতে তালিম নিতে থাকেন দিনের পর দিন। সেখানে থেকেই তিনি ওস্তাদ তাগাল ব্রাদার্স, পণ্ডিত দেবেন্দ্র মুৎসুদ্দী, ওস্তাদ আয়েফ আলী খান মিনকারীর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন বারী সিদ্দিকী।

    পণ্ডিত বিজি কারনাডের কাছেও বাঁশি শিখতে তিনি পুনাতে গিয়েছিলেন। এভাবে একসময় বারী শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বাংলাদেশ রেডিও টেলিভিশন’সহ সম্মিলিত একটি যন্ত্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এর পরপরই তিনি দক্ষিণ এশীয় সার্ক ফেস্টিভ্যালে যান বাঁশি বাজাতে সরকারী সহযোগিতায়।

    এরপর ধীরে ধীরে তিনি আরো পরিচিত হয়ে উঠতে লাগলেন। বাঁশি বাজান উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশনের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে। হুমায়ূন আহমেদ’র এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তার বাসায় যান বাঁশি বাজাতে। সেখানে বাঁশি বাজানোর পাশাপাশি গানও করেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদ তাকে আরো গান গাইতে বলেন অনুষ্ঠানে। গান শুনে মুগ্ধ হন হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৯৫ সালে বিটিভির ‘রং-এর বারৈ’ অনুষ্ঠানে প্রথম গান করেন বারী সিদ্দিকী। এর পরপরই হুমায়ূন আহমেদ তাকে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে গান গাইতে বলেন।

    চলচ্চিত্রের গানে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পাবার পরপরই বাজারে তার দুটি একক অ্যালবাম আসে। একটি ‘দুঃখ রইলো মনে’ এবং অন্যটি ‘অপরাধী হইলেও আমি তোর’। সংবাদপত্রকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকী বলেন, হুমায়ূন আহমেদ আমার গাওয়ার পেছনে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়েছিলেন। মূলত তার সাহস নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পেয়েছি।

    দুটি অ্যালবাই লুফে নেয় শ্রোতারা। সেই সময় ৮০/৯০ বছর পর উকিল মুন্সীর লেখা গান জনগণের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পেরে বারী ছিলেন দারুণ উচ্ছ্বসিত। বারী সিদ্দিকী সবসময়ই নিজেকে একজন বংশীবাদক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

    একজন বংশীবাদক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি বাঁশি বাজিয়েই শ্রোতা দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে ওয়ার্ল্ড ফ্লুট সম্মেলনে এই উপমহাদেশ থেকে তিনিই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এটা ছিলো বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট অর্জন। একজন গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাবার আগে বারী সিদ্দিকী একজন বংশবাদক হিসেবে বাঁশি বাজিয়েছেন দু’দশক ধরে। কিন্তু গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর দেশের বাইরে বংশীবাদক হিসেবে তার সফর কমে যায়। কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। বারী সিদ্দিকী ১৯৮৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে।

    ১৯৮০ সালে বারী সিদ্দিকী পেশাগতভাবে বাঁশি বাজানো শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিটিভিতে ‘সৃজন’ অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজান। বারী সিদ্দিকী ‘মাটির পিঞ্জিরা’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এটি নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ফেরারি অমিতের নির্দেশনায় ‘পাগলা ঘোড়া’ নাটকেও অভিনয় করেছিলেন। তবে অভিনয় করতেন নিতান্তই অনুরোধে এবং শখের বশে।

    বিখ্যাত গান- শুয়া চান পাখি, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘তুমি থাকো কারাগারে’, ‘রজনী’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো প্রভৃতি গানের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

  • বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ এমপির শোক প্রকাশ

    বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ এমপির শোক প্রকাশ

    গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি……রাজেউন) তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবাররের প্রতি সমবেদনা এবং বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য, বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ,স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি ।

  • মওদুদ-মজহারের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

    মওদুদ-মজহারের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

    নাম উল্লেখ না করে জাতীয় সংসদে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ফরহাদ মজহার প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

    বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। এটা এমন একজন লোক বললেন তার (মওদুদ) চরিত্র কী? ছাত্রাবস্থায় অন্য একটি দল করতো। ব্যারিস্টারি করে দেশে ফেরার পর দেখলাম আমাদের বাড়ি থেকে নড়েন না। আঁঠার মতো পড়ে থাকেন। তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পিএ মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন, তার পিএ হিসেবেও এই লোকটা কিছুদিন কাজ করেছেন। তার ব্যাগ টেনেছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘দেশে আরেকটি দল আছে (বিএনপি), তারা নির্বাচনে আসেনি। এখন রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার করে বেড়াচ্ছে। বলছে তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর তিনি (মওদুদ) বিএনপিতে গেলেন। এরপর গেলেন জাতীয় পার্টিতে। তিনি দুর্নীতির দায়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। আবার জেনারেল এরশাদ চলে যাওয়ার পর আবারও গেল বিএনপিতে। তিনি বনানীতে চিটিং করে অবৈধভাবে একটি বাড়ি দখল করেছিলেন। আদালতের রায়ে সেই বাড়িটি হারিয়েছেন। এখন সেই ব্যক্তিটিই ঘোষণা দেন সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। যিনি নিজেই মাটিতে পড়ে আছেন, তিনি কীভাবে টেনে নামাবেন?’

    গুম-খুন প্রসঙ্গে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুম-খুন নানাভাবেই হচ্ছে, আবার যারা নিখোঁজ হচ্ছে তাদের অনেকে আবার ফেরতও আসছে। এটা কী শুধু বাংলাদেশে হচ্ছে? যুক্তরাজ্যে ২ লাখ ৪৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে ১৬ কোটির ওপরে জনগণ বাস করে। আমরা এতো মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কতো? উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরও তাদের দেশে এতো গুম হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখনই অভিযোগ পাচ্ছি তা খতিয়ে দেখছি। দেশে একজন স্বনামধন্য আঁতেল (ফরহাদ মজহার) আছেন তিনি নাকি গুম হয়ে গেলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তিনি খুলনায় নিউ মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা তো অহরহই ঘটছে।’ তিনি বলেন, আগে দেশের অবস্থা কী ছিল? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করেছি। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের আমরা বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি। শিক্ষার হার ৭২ ভাগে উন্নীত হয়েছে। পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর সেশনজট নেই।

    বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করে, যাদের দুর্নীতিতে আগাগোড়া মোড়া। যাদের এতো গুণ তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে? তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে কীভাবে? বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, যাদের বিবেক আছে তারা অন্তত ওদের (বিএনপি-জামায়াত) কোনোদিন ভোট দেবে না, ভোট দিতে পারে না। তাদের ভোট দিয়ে আর অশান্তি টেনে আনবে না। এই আপদকে ফিরিয়ে আনবে না। তাই ওদের স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই, বড় বড় কথা বলেও লাভ নেই।’

  • স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই : প্রধানমন্ত্রী

    স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই : প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করে, যাদের দুর্নীতিতে আগাগোড়া মোড়া। যাদের এতো গুণ তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে? তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে কীভাবে? বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, যাদের বিবেক আছে তারা অন্তত ওদের (বিএনপি-জামায়াত) কোনোদিন ভোট দেবে না, ভোট দিতে পারে না। তাদের ভোট দিয়ে আর অশান্তি টেনে আনবে না। এই আপদকে ফিরিয়ে আনবে না। তাই ওদের স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই, বড় বড় কথা বলেও লাভ নেই।’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নাম উল্লেখ না করে তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। এটা এমন একজন লোক বললেন তার (মওদুদ) চরিত্র কী? ছাত্রাবস্থায় অন্য একটি দল করতো। ব্যারিস্টারি করে দেশে ফেরার পর দেখলাম আমাদের বাড়ি থেকে নড়েন না। আঁঠার মতো পড়ে থাকেন। তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পিএ মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন, তার পিএ হিসেবেও এই লোকটা কিছুদিন কাজ করেছেন। তার ব্যাগ টেনেছেন।’

    প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশে আরেকটি দল আছে (বিএনপি), তারা নির্বাচনে আসেনি। এখন রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার করে বেড়াচ্ছে। বলছে তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর তিনি (মওদুদ) বিএনপিতে গেলেন। এরপর গেলেন জাতীয় পার্টিতে। তিনি দুর্নীতির দায়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। আবার জেনারেল এরশাদ চলে যাওয়ার পর আবারও গেল বিএনপিতে। তিনি বনানীতে চিটিং করে অবৈধভাবে একটি বাড়ি দখল করেছিলেন। আদালতের রায়ে সেই বাড়িটি হারিয়েছেন। এখন সেই ব্যক্তিটিই ঘোষণা দেন সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। যিনি নিজেই মাটিতে পড়ে আছেন, তিনি কীভাবে টেনে নামাবেন?’

    গুম-খুন প্রসঙ্গে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুম-খুন নানাভাবেই হচ্ছে, আবার যারা নিখোঁজ হচ্ছে তাদের অনেকে আবার ফেরতও আসছে। এটা কী শুধু বাংলাদেশে হচ্ছে? যুক্তরাজ্যে ২ লাখ ৪৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে ১৬ কোটির ওপরে জনগণ বাস করে। আমরা এতো মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কতো? উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরও তাদের দেশে এতো গুম হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখনই অভিযোগ পাচ্ছি তা খতিয়ে দেখছি। দেশে একজন স্বনামধন্য আঁতেল (ফরহাদ মজহার) আছেন তিনি নাকি গুম হয়ে গেলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তিনি খুলনায় নিউ মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা তো অহরহই ঘটছে।’ তিনি বলেন, আগে দেশের অবস্থা কী ছিল? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করেছি। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের আমরা বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি। শিক্ষার হার ৭২ ভাগে উন্নীত হয়েছে। পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর সেশনজট নেই।

    শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তখনই আইপিইউ ও সিপিইউ মতো সারাবিশ্বের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা এই দুটি বৃহৎ সংস্থায় বাংলাদেশের দু’জন সংসদ সদস্যকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন, এটা একটা বিরল ঘটনা। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, সেটা বিশ্বের জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে দেখে গেছেন। অনেকে বলে নির্বাচন অবৈধ। এটা শুনে মনে হয়, যারা একথা বলে শুধু তাদেরই জ্ঞানের ভাণ্ডার আছে। আর বিশ্বের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যারা আমাদের দু’জনকে নির্বাচিত করলেন তাদের মনে হয় কোনো জ্ঞান নেই। তারা যেন না জেনেই বাংলাদেশকে ভোট দিয়ে গেলেন। দুটি সম্মেলনই অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি বাংলাদেশে কীভাবে গণতন্ত্রের চর্চা হয়। বিশ্বের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও তা দেখে গেছেন।

    রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার স্বীকার করেছে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে যৌক্তিক কারণে সমস্যার সমাধান করছি।

  • বানারীপাড়ায় হত্যা মামলার আসামীর নেতৃত্বে ইত্তেফাক পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ!

    বানারীপাড়ায় হত্যা মামলার আসামীর নেতৃত্বে ইত্তেফাক পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ!

    বানারীপাড়ায় ফার্মাসিউটিকাল এসোসিয়েশন(ফারিয়া) দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা পুড়িয়ে চরম ঔদ্ব্যত্ব প্রদর্শন করেছে। ইত্তেফাকে চট্রগ্রামের একটি সংবাদে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের দালাল লেখায় ক্ষিপ্ত হয়ে সারা দেশে ফার্মাসিউটিকাল এসোসিয়েশন (ফারিয়া)’র উদ্যোগে ইত্তেফাক পত্রিকায় অগ্নিসংযোগের সিন্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে তারা পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ করে প্রতিবাদ করে। এসময় উপজেলা ফার্মাসিউটিকাল এসোসিয়েশন (ফারিয়া)’র সভাপতি এম এ দুলাল, সহ-সভাপতি জালিস মৃধা, সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দীন পাইক, কোষাধ্যক্ষ মীর মাহাতাব, বিভাগীয় সমন্বয়ক মীর নাসির উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ সুমন, সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে যথাযথ নিয়মে সংবাদের প্রতিবাদ না করে হত্যা মামলার আসামীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মুখপত্র, ইতিহাস- ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় অগ্নি সংযোগের ঘটনায় বানারীপাড়ার সাংবাদিক সহ সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বানারীপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি রাহাদ সুমন, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, কেএম শফিকুল আলম জুয়েল ও সুজন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস শেখ ও মোঘল সুমন সাফকাত, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিন খালাসী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক শাহিন, কোষাধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম বেল্লাল, দপ্তর সম্পাদক মাইদুল ইসলাম শফিক, নির্বাহী সদস্য এস এম গোলাম মাহমুদ রিপন ও সাইদুল ইসলাম, বানারীপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সজল চৌধুরী প্রমূখ। প্রসঙ্গত উপজেলা ফার্মাসিউটিকাল এসোসিয়েশন(ফারিয়া) সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য এম এ দুলাল মাদারকাঠি গ্রামের জামাল হত্যা মামলার অন্যতম আসামী। ওই হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে রিমান্ড শেষে সে দীর্ঘদিন কারাবাসে ছিলেন। এদিকে পত্রিকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রযোজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে স্থাণীয় সাংবাদিকগণ জানান।

  • ফেঁসে যেতে পারেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক

    ফেঁসে যেতে পারেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক

    স্টাফ রিপোর্টার ॥ ফেঁসে যেতে পারেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম। অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ডাক্তার এসএম মোঃ সিরাজুল ইসলামের তদন্ত করতে বরিশালে আসছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব। বুধবার বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ মশিউর রহমান আসছেন সাবেক পরিচালক ডাক্তার এসএম মোঃ সিরাজুল ইসলামের দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করতে। জানা যায়, সাবেক পরিচালক থাকাকালীন ১০ কোটি টাকার টেন্ডার, টেন্ডার  ছাড়াই কন্ট্রাক্ট সার্ভিস ৩ বছর চালান, ব্লাড  ব্যাংকে ৩ জনকে নিয়োগ দেয়া, কাজ না করিয়ে বিল উত্তোলন করা, প্রতি বছরের ন্যায় হাসপাতালের টেন্ডারের কাজগুলো একজনকে পাইয়ে দেয়া ও হাসপাতালের টেন্ডার অনুযায়ী সার্ভিসিং কাজ না করানো। এ সকল দুর্নীতির মধ্যে ১০ কোটি টাকার টেন্ডার উৎকোচের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এক কোম্পানীকে পাইয়ে দেয়া প্রধান। এটি প্রমাণিত হলে আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি স্থগিত হয়ে যেতে পারে তার পেনশন। তবে সব নির্ভর করবে তদন্ত কমিটির উপর। তিনি আজ সকালে এসে বরিশাল সার্কিট হাউজে অবস্থান করছেন। পরে তদন্তের জন্য সকাল ১০ টায় শেবাচিমে যান। সেখানে বিগত দিনে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদগুলো দেখেন ও পর্যালোচনা করেন বলে জানগেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সাবেক পরিচালকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগুলোর সঠিক তদন্ত করা হবে।

  • এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি

    এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি

    ২০১৮ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি, মাদরাসা বোর্ডের দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ।
    শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি অনুমোদন দিয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ড চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সকালের পরীক্ষা ১০টা থেকে এবং বিকেলের পরীক্ষা ২টা থেকে শুরু হবে। ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র দিয়ে পরীক্ষা শুরু হবে। এবার শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও লেখাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে না।
    সময়সূচি অনুযায়ী ১ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সঙ্গীতের ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চের মধ্যে বেসিক ট্রেডসহ এসএসসির সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হবে।
    দাখিলের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি। এক্ষেত্রে ৬ মার্চের মধ্যে সব ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হবে। কারিগরি বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি।
    শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও লেখাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্তনম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গেহ ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েসবাইটে অনলাইনে পাঠাবে।
  • বসনিয়ার কসাইয়ের বিচারের সময় পরিক্রমা

    বসনিয়ার কসাইয়ের বিচারের সময় পরিক্রমা

    নেদারল্যান্ডসের হেগে জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনালে রাদকো ম্লাদিচের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের  মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর অপেক্ষার পরে বিচার পেল বসনিয়ার স্রেব্রেনিকা ও সারায়েভোতে গণহত্যার শিকার হওয়া মুসলিমরা। বসনিয়ার কসাই বলে খ্যাত ম্লাদিচের বিচারের সম্মুখীন হওয়ার সময় পরিক্রমাটা সংক্ষেপে পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল-
    জুন ১৯৯১, যুগোস্লাভিয়ায় ভাঙন
    স্লোভেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যে যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের শুরু হয়। সার্ব নেতৃত্বাধীন যুগোস্লাভিয়ান সেনাবাহিনী ১০ দিনের যুদ্ধ শেষে স্লোভেনিয়া ত্যাগ করে, তবে ক্রোয়েশিয়ার যুদ্ধটি ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
    এপ্রিল ১৯৯২, বসনিয়ায় যুদ্ধ শুরু
    বসনিয়ার দুই তৃতীয়াংশ এলাকার দখল নেয়ায় বসনিয়ায় থাকা সার্বীয়রা এবং রাদকো ম্লাদিচের নেতৃত্বে সারায়েভো অবরোধ শুরু হয়। এর এক মাস পরেই বসনিয়াতে সার্ব বাহিনীর কমান্ডার হন ম্লাদিচ। ৪ বছরব্যাপী অবরোধে ১১ হাজার ৫শ মানুষের মৃত্যু হয়।
    জুলাই ১৯৯৫, স্রেব্রেনিকা গণহত্যা
    ম্লাদিচের নেতৃত্বে তার সেনাবাহিনী স্রেব্রেনিকা দখল করে। সেখানে ৭ হাজারেরও বেশি মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে স্রেফ হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সার্ব বাহিনীর উপর বিমান হামলা করে ন্যাটো। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ফরমার যুগোস্লাভিয়া ম্লাদিচ ও সাবেক বসনীয়-সার্ব নেতা রাদোভান কারাদিচের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ গঠন করে।
    ১ নভেম্বর, ১৯৯৫ ডেটন চুক্তি সাক্ষর
    ১৯৯৫ সালে ডেটন চুক্তির মাধ্যমে বসনিয়া যুদ্ধের অবসান হয় এবং সেখানে দুটি রাষ্ট্র সৃষ্ট হয়। একটি বসনীয় ও সার্বদের নিয়ে, আরেকটি মুসলিম ও ক্রোয়েশীয়দের নিয়ে।
    ১৯৯৭, ম্লাদিচের পলায়ন
    ম্লাদিচের সন্ধানে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং ন্যাটোর শান্তিরক্ষী বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়। কিন্তু পরিবার ও সার্বিয়ায় তার সমর্থকদের সহায়তায় তাদের চোখে ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকেন ম্লাদিচ। তাকে ফুটবল খেলার মাঠে দেখা যায়, এমনকি সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের জনপ্রিয় রেস্তোরাতে তোলা তার ছবিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
    ২৬ মে, ২০১১ ম্লাদিচ গ্রেফতার
    সার্বিয়ার উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে ম্লাদিচ গ্রেফতার হন। ওই বছরের জুনে জাতিসংঘ ট্রাইবুনালের সম্মুখীন হন তিনি।
    ১ ডিসেম্বর, ২০১৬ অভিযোগের শুনানির সমাপ্তি
    ইউরোপে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ গণহত্যা বিষয়ক অভিযোগের শুনানির শেষ হয়। জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনাল ৫৩০ দিনব্যাপী শুনানিতে ৫৯১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এবং ১০৬টি ভিন্ন অপরাধের ১০ হাজার প্রমাণ যাচাই বাছাই করে।
    ২২ নভেম্বর, ২০১৭ ম্লাদিচ দোষী সাব্যস্ত
    স্রেব্রেনিকা হত্যাকাণ্ডের ২০ বছর পর ৭৪ বছর বয়সী ম্লাদিচকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।