Blog

  • বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস:ওবায়দুল কাদের

    বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস:ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আলোর পথে রয়েছে। আর বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ আবারও অন্ধকারে পতিত হবে। বাংলার মানুষ আর বিএনপির অন্ধকারে আর যাবে না।
    বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শক্তিপুর নুরজাহান ভবন চত্বরে বাংলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মযহারুল ইসলামের ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিন এসব কথা বলেন।
    তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের রক্তাক্ত ইতিহাস বাংলার মানুষ ভোলে নি। ২০১৩-১৪ সালের অগ্নি-সন্ত্রাসের কথাও ভুলে যায়নি। ক্ষমতায় থাকতে তারা সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া, মঞ্জুরুল ইমাম, আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে। আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীর রক্ত ঝরিয়েছে। রক্তের নদী আর কান্নার দরিয়ায় ভাসিয়েছে মানুষকে। এখন তারা আবার লোক দেখানো মায়াকান্না করছে।
    শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, মহান আল্লাহপাক বঙ্গবন্ধুকে সৃষ্টি করেছেন বাংলার স্বাধীনতার জন্য আর শেখ হাসিনাকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের বিষ্ময়। সোয়া ৬ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে তিনি উদারতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের তা চোখে পড়ে না।
    খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ফটোসেশনের জন্য তিনি (খালেদা জিয়া) একবার বিশাল গাড়িবহর নিয়ে কক্সবাজার গিয়ে শো-ডাউন করেছেন। তার দলের মহাসচিবও একবার গিয়েছিলেন। অথচ আমি ২৫ দিন রোহিঙ্গাদের পাশে ছিলাম। কোনটা মন থেকে আর কোনটা লোক দেখানো তা মানুষ বোঝে।
    বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেত্রী লন্ডনে চলে গেলেন, আন্দোলন থাকলো তার ভ্যানিটি ব্যাগে। এই বছর না সেই বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর। পেট্টোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা, গাড়ি পোড়ানো, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও গাছ ধ্বংস করার আন্দোলনের সঙ্গে বাংলার মানুষ আর নেই।
    দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকবে, সেটা যেন অসুস্থ না হয়। যারা উন্নয়ন করবেন আর সকলের সঙ্গে ভাল আচরণ করবেন আগামী নির্বাচনে তাদেরকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের কাছে টেনে নিন। দলে অনুপ্রবেশকারী আগাছাদের ঠাঁই দিবেন না। দল ক্ষমতায় না থাকলে ৫ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।
  • সরকারের পতন স্বাভাবিকভাবে করতে পারবোনা : ফখরুল

    সরকারের পতন স্বাভাবিকভাবে করতে পারবোনা : ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকারের পতন স্বাভাবিকভাবে করতে পারবো বলে মনে হয় না। এদের বিদায় ঘটাতে হাতিয়ার লাগবে। রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ এরা জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে বন্দুক, পিস্তল হাতে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তাই সবাইকে জেগে উঠতে হবে। সরকারকে বিদায় করতে না পারলে আমরা সবাই ব্যর্থ হবো, সেই সঙ্গে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ।
    বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী হেলাল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, কামরুজ্জামান রতন, সুলতান সালাহ উদ্দীন টুকু, আমিরুল ইসলাম আলীম, আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ, সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, নাজমুল হাসান প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
    মির্জা ফখরুল বলেন, যে কোনো মূল্যে বর্তমান দখলদারী ক্ষমতাসীন সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কেন না দেশের মানুষ এদের কাছ থেকে মুক্তি পেতে চায়, চায় পরিবর্তন। শুধু ভাই ভাই বলে স্লোগান না দিয়ে অঙ্গীকার করতে হবে। আমরা যদি খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে পারি এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলেই তারেক রহমান নির্বাসন থেকে দেশে আসবেন, অন্যথায় নয়।
    প্রধান আলোচক শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই ছাত্রদল বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। স্বৈরাচারের পতন ত্বরান্বিত করেছিল। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি গ্রহণ করছেন না। আগামী দিনে ছাত্রদল রাজপথেই মীমাংসা করবে স্বৈরাচার থাকবে না কি গণতান্ত্রিক সরকার থাকবে।
  • ‘সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজী’ থানায় সাধারন ডায়েরী সাদিক আব্দুল্লাহর

    ‘সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজী’ থানায় সাধারন ডায়েরী সাদিক আব্দুল্লাহর

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মাধ্যমে চাঁদাবাজীর অভিযোগ বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনায় ছিল।

    দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা তাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য এমন মিশনে নামলেও শেষ পর্যন্ত সেই ফাঁদ থেকে বেড়িয়ে আসলেন সাদিক আব্দুল্লাহ। এবার চাঁদাবাজ ওই নেতাদের বিরুদ্ধে নিজেই আইনের আশ্রয় নিলেন সাদিক। ১৯ নভেম্বর কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন তিনি। (ডায়েরী নং-১১৫৯)।

    সাদিক উল্লেখ করেন, অতিসম্প্রতি তার জনপ্রিতায় ইর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে বরিশালসহ দেশের বেশকিছু দলীয় নেতাকর্মী এমনকি সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারির  নিকট বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার দিয়ে ফোন করে ‘সাদিক আবদুল্লাহ’ পরিচয় দিয়ে টাকা দাবী করছে। যার ফলে আমার সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং ঐসব সম্মানিক ব্যক্তি বিভ্রান্তি এবং প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ।

    ঐসব অপরাধী এবং কুচক্রী মহলের মুখোশ উন্মোচন করতে আইনের আশ্রয় নিলেন।

  • ২০২২ সালের মধ্যে রেলওয়ের আওতায় আসছে বরিশালসহ ৮ জেলা

    ২০২২ সালের মধ্যে রেলওয়ের আওতায় আসছে বরিশালসহ ৮ জেলা

    ২০২২ সাল নাগাদ দেশের আরও ৯টি জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। মঙ্গলবার তিনি সরকারি দলের সদস্য মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, জেলাগুলো হচ্ছে, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, নড়াইল, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বান্দরবান ও কক্সবাজার। মজিবুল হক বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৪টি জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাগুলোকেও নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে করিডর ডাবল লাইনে উন্নীতকরণ, বিদ্যমান রেলপথের মানোন্নয়ন, রোলিং স্টক সমস্যা দূরীকরণ, জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি তথা বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত ২০ বছরে বাস্তবায়নের জন্য রেলওয়ে মহাপরিকল্পনা সরকার অনুমোদন করেছে। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর শেরপুর, ঝালকাঠি, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, পটুয়াখালী, বরগুনা ও মাগুরা এ ৭টি জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

  • বরিশাল মহানগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদকসহ ২০ জনকে আদালতের শোকজ

    বে-আইনীভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহ ২০ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় শোকজ এর আদেশ দিয়েছে আদালত। ২১ নভেম্বর মঙ্গলবার বরিশালের সিনিয়র সহকারী জজ হাদিউজ্জামান বিচারাধীন সদর আদালত এ আদেশ দেন।

    গত ১৯ নভেম্বর বরিশাল সদর উপজেলার মহম্মদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য প্রার্থী পারভিন বেগম মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সম্পাদক, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ্ব মহম্মদ আলী হাওলাদার, দাতা সদস্য এ কে এম মনজুরুল ইসলাম শাহীন, অভিভাবক সদস্য আফজাল সরদার, খোকন সরদার, রাজিব খান, শহীদ মোঃ হোসাইন, মহিলা অভিভাবক সদস্য মোসাঃ মুন্নি, বিদ্যোৎসাহী সদস্য কবির মেম্বার, শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য আমির হোসেন, নুরুল ইসলাম, বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসার, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, বিদ্যালয় পরিদর্শক, বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিবাদী করা হয়। বাদী মামলার আরজীতে আদালতে বলেন, তিনি বিদ্যালয়টিতে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে গত ৩১ মে ঘোষিত তফসিল অনুসারে অভিভাবক সদস্য পদে প্রার্থী হন।

    ১৫ জুন নির্বাচন কমিশনার পারভিন সহ অন্যান্য সদস্যদের নাম বৈধ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। পারভিন মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলেও তাকে বাদ দিয়ে বিবাদীরা অজ্ঞাত কারনে নির্বাচন ছাড়াই বে আইনীভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি ২৫ আগস্ট মাত্র অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন কবির মেম্বারকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করে ২৬ অক্টোবর অনুমোদন চেয়ে শিক্ষা বোর্ডে পাঠায়। এব্যাপারে শিক্ষাবোর্ড এ অভিযোগ দায়ের করেও ফল পাওয়া যায়নি। গত ৯ নভেম্বর সভাপতি সম্পাদক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেন। বাদী প্রতিবাদ করলে গত ১৬ নভেম্বর স্থানীয় বিবাদীরা তাকে তাদের বে আইনী কর্মকান্ড চালানোর জোড় হুমকি দেয়। তিনি বিবাদীদের বে আইনী কর্মকান্ডে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দাবী করে মামলা দায়ের করলে আদালত কেন বিবাদীদের কর্মকান্ডে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবেনা আগামী ২১ দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শাতে সকল বিবাদীকে আদেশ দেয়া হয় বলে আদালত সূত্র জানায়।

  • বরিশালে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষন কোর্সের উদ্বোধন

    বরিশালে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষন কোর্সের উদ্বোধন

    জাকারিয়া আলম দিপু.

    আইসিটি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষন কোর্সের উপর জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে আইসিটি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই। সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দক্ষ মানসম্পদের লক্ষ্যে প্রশিক্ষন দিচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বরিশালের বেসরকারি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান “ফা আইটি”।

    আজ বরিশালে আইসিটি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষন কোর্সের উদ্বোধন করা হয়।সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বরিশাল সরকারী বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান “ফা আইটি” সেন্টারের উদ্যোগে তিনমাস ব্যাপী প্রশিক্ষন কোর্সের উদ্ভোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরিশালের অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার।

    এসয়ম অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিশন ২০২১ বা রূপকল্প ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে আইসিটি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিকল্প নেই। আমাদের প্রত্যেকে আইসিটি খাতে জোর দিতে হবে।

    এ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজুর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, চৌধুরী মোঃ শওকত হোসাইন সহকারী প্রেগ্রামার বরিশাল সদর, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী মোঃ আক্তারুজ্জামান হিরু, বরিশালের তরুন সফল ফ্রিলান্সার “ফা আইটির” প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সালেহীন সানি।

  • কুমিল্লায় স্ত্রীর মৃত্যু শোকে স্বামীর মৃত্যু

    কুমিল্লায় স্ত্রীর মৃত্যু শোকে স্বামীর মৃত্যু

    স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ শুনে বাড়ির পাশে এসে স্বামীও জ্ঞান হারিয়ে মারা গেছেন।  আজ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বামনিশাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মারা যাওয়া দুই জন হলেন, দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের বামনিশাইর গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮) ও তার স্ত্রী একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে রিফা আক্তার (২৪)। এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।

    নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় রিফা আক্তার স্বামীর বাড়ির পুকুরের ঘাটলায় বসে মোবাইল ফোনে ঢাকায় স্বামী আনোয়ারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি পুকুরের পানিতে ডুবে যান। বাড়ির লোকজন পুকুর হতে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে স্বামী আনোয়ার হোসেন রাতে ঢাকার রামপুরা থেকে বামনিশাইরের নিজ বাড়িতে রওনা দেন। রাত তিনটায় তিনি বাড়ির কাছাকাছি এসে পৌঁছান। এ সময় তিনি স্ত্রীর নাম ধরে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পথচারীরা তার লাশ দেখে বাড়িতে খবর দেন।

    স্ত্রী-স্বামীর এ মৃত্যুর সংবাদ শুনে এলাকাবাসী বামনিশাইর গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    আনোয়ারের বড় বোন শিউলী বেগম বলেন, তার ভাই ঢাকার রামপুরার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে তার ভাই বাড়িতে আসার পথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।

    এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে স্বামী-স্ত্রীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • শতাব্দীর সেরা ফুটবল একাদশে জায়গা পেলেন যারা

    শতাব্দীর সেরা ফুটবল একাদশে জায়গা পেলেন যারা

    ফুটবল জগতে বর্তমানে চলছে বার্সা ও রিয়ালের শাসন আর তাই শতাব্দীর সেরা একাদশেও দেখা মিলল তাদের রাজত্বের।   সম্প্রতি এই শতাব্দীর সেরা একাদশ প্রকাশ করেছে ইউনিয়ন অব ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনস (উয়েফা)।

    ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাছাই করা শতাব্দীর সেরা একাদশে বার্সেলোনার জয়জয়কার। ছয়জনই বার্সার। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জায়গা পেয়েছেন ৩ জন। বাকি দু’জন আলাদা ক্লাবের।

    ছয়জন আবার স্পেনের খেলোয়াড়। এরা হলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি হার্নান্দেজ, কার্লোস পুয়োল, সার্জিও রামোস, জেরার্ড পিকে ও ইকার ক্যাসিয়াস। সবাই লা লিগায় খেলে নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। অর্থাৎ, স্প্যানিশ ফুটবলের অাধিপত্য স্পষ্ট। যেখানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এফসি বার্সেলোনা।

    একাদশে বার্সার বর্তমান ও সাবেক ছয় তারকা হলেন লিওনেল মেসি, থিয়েরি অঁরি, জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োল ও পিকে। এর মধ্যে ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ারে আর্সেনাল ও বার্সার হয়ে ইউরোপ মাতিয়েছেন ফ্রেঞ্চ আইকন অঁরি।

    রিয়ালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে আছেন রামোস ও কিংবদন্তি গোলরক্ষক ক্যাসিয়াস। বায়ার্ন মিউনিখের বিশ্বকাপ জয়ী জার্মান আইকন ফিলিপ লাম ও লিভারপুলকে প্রতিনিধিত্ব করছেন ইংল্যান্ডের সাবেক আইকনিক মিডফিল্ডার স্টিভেন জেরার্ড।

    সবচেয়ে বেশি ১১ বার উয়েফার টিম অব দ্য ইয়ার’র অংশ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন রোনালদো। মেসি আটবার বর্ষসেরা টিমে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। ক্যাসিয়াস, পুয়োল, রামোস ও ইনিয়েস্তা ছয়বার করে। পাঁচবার করে লাম, পিকে, জাভি ও অঁরি। তিনবার নাম লিখিয়েছেন জেরার্ড।

    ৪-৩-৩ ফর্মেশনে উয়েফা মনোনীত শতাব্দীর সেরা একাদশ সাজানো হয়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ব্যতিব্যস্ত রাখবেন অঁরি, মেসি ও রোনালদো। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের কৌশল সাজাবেন ইনিয়েস্তা, জাভি ও জেরার্ড। গোলরক্ষককে সুরক্ষা দিতে ডিফেন্স (সেন্টারব্যাক) সামলাবেন পুয়োল ও পিকে। লেফটব্যাকে লাম ও ডান প্রান্ত থেকে ছুটবেন রামোস। গোলবার বিপদমুক্ত রাখতে থাকছে ক্যাসিয়াসের বিশ্বস্ত হাত।

    উয়েফার একাদশ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভিন্নমত দেখিয়েছেন অনেকেই। ক্যাসিয়াসের জায়গায় জিয়ানলুইজি বুফন, পিকের পরিবর্তে কারো পছন্দ ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ফ্যাবিও ক্যানাভারো।

    জিনেদিন জিদান, রোনালদো, রোনালদিনহো, দিদিয়ের দ্রগবা, পাওলো মালদিনিসহ সাবেক অনেক তারকার অনুপস্থিতি মানতে পারছেন না ফুটবলপ্রেমীরা। এদের রাখা উচিত ছিল বলে মত দিয়েছেই অনেকেই।

  • রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে চলতি সপ্তাহে ‘চুক্তি’: সু চি

    রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে চলতি সপ্তাহে ‘চুক্তি’: সু চি

    রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ঢাকার সঙ্গে চলতি সপ্তাহে একটি চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের প্রধান অং সান সু চি। মঙ্গলবার এশিয়া-ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন আসেমের দ্বিতীয় দিনে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় সু চি বলেন, গত তিন মাসে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‘স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফেরাতে’ চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তি সই হবে।

    এদিকে, রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে নিরাপদে ফেরাতে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিতে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইইউ’র পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি।

    মঙ্গলবার সকালে বৈঠক শুরুর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র এবং নিরাপত্তা নীতিমালা সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে রাখাইন সঙ্কট নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেন।

    আলোচনায় মিয়ানমার, বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, এস্তোনিয়া, জার্মানি, মাল্টা, রাশিয়া, লুক্সেমবার্গ, ফ্রান্স, থাইল্যান্ড, হাঙ্গেরি, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা অংশ নেন।

    সূত্র: রয়টার্স

  • খালেদার সাজায় কী করবে বিএনপি

    খালেদার সাজায় কী করবে বিএনপি

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক দুই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্যের পর সাফাই সাক্ষী ও যুক্তিতর্ক।

    এরপরই রায়। এ মামলায় প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দুই মামলায় ‘সাজা’ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তার দলের নেতা-কর্মীরা। সম্প্রতি বিশেষ আদালতে নিজের ‘সাজা’ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বেগম জিয়া। তার সাজা হলে বিএনপির পরিণতি কী হবে তা নিয়ে দলের পক্ষে প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি কেউ। তবে এ নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। খালেদা জিয়া জেলে গেলে ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান হাল ধরুক—এমনটাও চান দলের অনেক নেতা। আবার দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেতৃত্ব চান বড় একটা অংশ। তবে সরকারের দুজন মন্ত্রী এ নিয়েও আগাম বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার সাজা হলে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। ’ এরও কয়েকদিন আগে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি দুই-তিনভাগে বিভক্ত হবে। সব ভাগই পৃথক পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। ’ মন্ত্রীদের এ ধরনের কথাবার্তায় উদ্বিগ্ন  বিএনপি। মন্ত্রীদের এসব বক্তব্যে ‘অসৎ’ উদ্দেশ্য দেখছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। অবশ্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। তাকে ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। মামলা আর জেলের ভয় পান না বিএনপি চেয়ারপারসনসহ দলের নেতা-কর্মীরা। নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্রও কাজে আসবে না। ’ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, শুধু বেগম জিয়াকেই নয়, গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন নেতাকেও ‘সাজা’ দিয়ে আগাম নির্বাচন দিতে পারে সরকার। বেগম জিয়া ও তারেক রহমানকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাও করা হতে পারে। সেই সঙ্গে কয়েকজন সিনিয়র নেতাকেও সাজার জালে আটকানো হতে পারে। তখন বিএনপি কী করবে—তা নিয়েই ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলছেন বেগম খালেদা জিয়া। দলের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও কথা বলেন খালেদা জিয়া। বিশেষ করে বেগম জিয়া জেলে গেলে দল কীভাবে কার নেতৃত্বে চলবে তা নিয়েও মা-ছেলে কথা হয়। আপদকালীন একটি সংক্ষিপ্ত কমিটি গঠনের চিন্তার কথাও জানান বেগম জিয়া। তবে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, আপদকালীন বিশেষ করে বেগম জিয়া জেলে গেলে তারেক রহমানেরও দেশে আসার সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে দলের হাল ধরতে পারেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। দলে তারও ক্লিন ইমেজ রয়েছে। নেতা-কর্মীরাও তাকে বেশ পছন্দ করেন। বিএনপির হাইকমান্ড মনে করে, বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রক্রিয়া চলছে। মাঝখানে বন্ধ থাকলেও আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সেটা আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। একটি বিশেষ মহল আবারও বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রীদের বক্তব্যেও তা কিছুটা আন্দাজ করছে বিএনপির হাইকমান্ড। ওই মহলটি শুধু বিএনপি নয়, জোটেও ভাঙন ধরাতে নানা তত্পরতা চালাচ্ছে। বিএনপি জোটকে খণ্ডবিখণ্ড করে দুর্বল অংশকে নিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপিও বেশ সতর্ক। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন এমন সব নেতাদের ব্যাপারেও সজাগ দৃষ্টি রাখছেন খালেদা জিয়া। লন্ডন বসে তারেক রহমানও মনিটরিং করছে। দেখা-সাক্ষাৎ হলে তাদেরকে ইশারা ইঙ্গিতে বিএনপি প্রধান বুঝিয়েও দিচ্ছেন, ‘দল ভাঙার চেষ্টা করলে পরিণাম শুভ হবে না। ’ সিনিয়র নেতাদের একাধিক বৈঠকেও এ কথা বলেন তিনি। সর্বশেষ শনিবার রাতে ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপি প্রধান বলেছেন, ‘দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পরিণাম ভালো হবে না’। বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব বলছে, ভবিষ্যতে ওয়ান-ইলেভেনের মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে একটি সুবিধাভোগী গ্রুপ দল থেকে বেরিয়ে যেতেও পারে। তাতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরাই খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করবে। কেউ দল থেকে চলে গেলে তারই ক্ষতি হবে। দল সাময়িকভাবে কিছুটা অসুবিধায় পড়লেও এ বিপদ কাটিয়ে ওঠার মতো সক্ষমতা রয়েছে বিএনপির। ওয়ান-ইলেভেনে যারা বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তারা কোনোদিন দলের আস্থার জায়গায় থাকবে না। নেতা-কর্মীরা তাদের এখনো বিশ্বাস করছেন না। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার প্রক্রিয়াও অনেক দূর এগিয়েছে। রায় ঘোষণার দিন খুব একটা দূরে নয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, খালেদা জিয়ারও ‘সাজা’ হতে পারে। ‘সাজা’ হলে খালেদা জিয়াকেও আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে। পরে জামিন চেয়ে আপিল করতে হবে। সরকার হার্ডলাইনে থাকলে তাকেও জেলবাস করতে হবে। নির্বাচনে অযোগ্যও হতে পারেন বিএনপি প্রধান। তাদের মতে, জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতে সাজা হলেও আইনি লড়াইয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন খালেদা জিয়া। এতে নির্দোষ পাওয়ার আশা করছেন বিএনপি প্রধানের আইনজীবীরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ‘সাজা’ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন খোদ খালেদা জিয়া। সম্প্রতি বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে আমাকে সরাতে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য ‘নীলনকশা’ প্রণয়ন করছে বর্তমান সরকার। তারই অংশ হিসেবে আমার বিরুদ্ধে এই মামলা দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা হুমকি দিচ্ছে, আমাকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে। মামলা শেষ হওয়ার আগেই বিচার নিয়ে কথা বলছেন, মুখে মুখে রায় দিয়ে দিচ্ছেন তারা। তারা বলছেন যে—এই মামলায় আমার সাজা হয়ে যাবে। আমাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে। এসব বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। এতে আমার আশঙ্কা হচ্ছে, আমি এ মামলায় আদৌ ন্যায়বিচার পাব না। ” এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার মামলার অন্যতম আইনজীবী বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলার কার্যক্রমের গতিপ্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে সরকার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ’