Blog

  • অন্য কেউ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে কি না কীভাবে বুঝব?

    অন্য কেউ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে কি না কীভাবে বুঝব?

    হোয়াটসঅ্যাপে লিঙ্কড ডিভাইস ফিচারের সাহায্যে ব্যবহারকারীরা দেখতে পারবেন তাদের অ্যাকাউন্টে কত জায়গায় লগ ইন করা আছে। এটি চেক করতে আপনাকে কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে। এজন্য প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ খুলুন, তারপর সেটিংসে যান। এরপর লিঙ্কড ডিভাইসে যান। এখানে আপনি একটি তালিকা দেখতে পাবেন, যেখানে আপনার অ্যাকাউন্ট লগ ইন করা হয়েছে। এখানে লগ ইন করার সঙ্গে সঙ্গে আপনি লগ ইন করার সময়ও দেখতে পাবেন। আপনি যদি দেখেন, এখানে একটি ডিভাইস লিঙ্ক রয়েছে, যা আপনি ব্যবহার করছেন না, তাহলে অবিলম্বে এটি লগ আউট করে ফেলুন।

  • জবি ক্যাফেটেরিয়ায় ছাত্রলীগের বাকি ৭ লাখ টাকা, দাবি পরিচালকের

    জবি ক্যাফেটেরিয়ায় ছাত্রলীগের বাকি ৭ লাখ টাকা, দাবি পরিচালকের

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাফেটেরিয়ায় গত আড়াই বছরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাকি খেয়েছেন ৭ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মো. মাসুদ এ দাবি করেছেন।

    তিনি জানান, গত আড়াই বছরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যান্টিন থেকে ৭ লাখ টাকার মতো বাকি খেয়েছেন। পরবর্তীতে আর টাকা দেননি। এখন তাদের সবাই পলাতক। ক্যাম্পাসে আসেন না।

    ক্যাফেটেরিয়া পরিচালক জানান, ক্যাফেটেরিয়ায় জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম ফরাজির নামে বাকি রয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আকতার হোসাইনের নামে বাকি রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    এছাড়াও বাকির হিসাবে রয়েছে ছাত্রলীগের আরও অন্তত ৫ নেতাকর্মীর নাম। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির ‘মাই ম্যান’ খ্যাত রবিউল ইসলাম রবির নামে বাকি ৫২ হাজার টাকা। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসাইনের ‘গ্রুপ লিডার’ খ্যাত মিরাজের নামে বাকি রয়েছে ৭৫ হাজার টাকা, সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান বাবুর নামে বাকি ৫৫ হাজার টাকা।

    সাধারণ সম্পাদক প্যানেলের আরও দুই নেতা তামিম ও সাজবুলের নামে বাকি রয়েছে যথাক্রমে ১২ হাজার ও ৯ হাজার টাকা। ছাত্রলীগের এই সাত নেতাকর্মীদের নামেই বাকি সর্বমোট ৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এ ছাড়া অনেকে বাকি খেলেও হিসাব নেই ক্যাফেটেরিয়া পরিচালক মো. মাসুদের কাছে।

    ক্যাফেটেরিয়া পরিচালক মো. মাসুদ বলেন, দীর্ঘদিন বাকি খেয়েছে তারা। টাকা দেবে দেবে করে আর দেয়নি। এর বাইরে আরও অনেকে আছে যারা টুকটাক খেয়েছে, তার হিসাব নেই। খেয়ে তারা টাকা দিত না, আবার খাবার দিতে দেরি হলেও ক্যান্টিনের ওয়েটারদের মারধরও করেছে সাজবুলসহ বেশ কয়েকজন।

    তিনি আরও বলেন, ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালনা বাবদ সপ্তাহে খরচ হয় ৩৯ হাজার ৭৫০ টাকা, মাসে ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া মালামাল বাবদ খরচ তো আছেই। তার ওপর এত টাকা বাকি। যেখান থেকে আমি মালামাল কিনি, সেখানেও আমার ধার করে কেনা লাগে। এত টাকা এখন কীভাবে উঠাব, আর কিভাবে আমি এই লস (লোকসান) পূরণ করব?

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক ড. কেএএম রিফাত হাসান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে বিষয়টি সত্য হলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা রেগুলার স্টুডেন্ট হলে তাদের থেকে টাকা আদায় করার ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রশাসনিকভাবে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • লাভের অংশ নির্ধারণ করে টাকা বিনিয়োগ করা জায়েজ?

    লাভের অংশ নির্ধারণ করে টাকা বিনিয়োগ করা জায়েজ?

    প্রশ্ন: আমি আমার এক বন্ধুকে এক লাখ টাকা নিম্নোক্ত শর্তাবলীতে ব্যবসা করার জন্য দিয়েছি। ১. লোকসান হলে আমার। ২. যদি লাভ হয় তবে মূল টাকার ১৮%-২৩% লাভ দিতে হবে। পরবর্তীতে জানতে পেরেছি, এরূপ ব্যবসায়িক চুক্তি বৈধ নয়।

    তাই আমার জিজ্ঞাসা, এ ব্যবসা থেকে অন্য কোনো পদ্ধতিতে লাভ নেওয়া যাবে কি না? কারণ, এক বছর ইতোমধ্যেই শেষ। আর বন্ধু জোর করছে টাকা নেওয়ার জন্য। যদি সে সন্তুষ্ট হয়ে কিছু লাভ দেয় তা গ্রহণ করা হারাম হবে কি না? জানালে উপকৃত হব।

    উত্তর: প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ‘মূল টাকার ১৮%-২৩% লাভ দিতে হবে’ এই শর্ত নাজায়েজ হয়েছে। এর কারণে আপনাদের পুরো চুক্তিই ফাসেদ হয়ে গেছে।

    কেননা, মূল এক লাখ টাকার শতকরা ১৮%-২৩% হল ১৮০০-২৩০০ টাকা। আর এভাবে নির্দিষ্ট অংক লাভ হিসেবে নির্ধারণ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত, যা সম্পূর্ণ হারাম।

    এখন যেহেতু আপনাদের চুক্তিটি ফাসেদ হয়েছে তাই আপনার বিনিয়োগকৃত এক লাখ টাকার উপর অর্জিত পূর্ণ মুনাফা আপনি পাবেন। আর আপনার বন্ধুকে এক বছর ব্যবসা পরিচালনার জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক দিবেন।

    আর ভবিষ্যতে তার সঙ্গে কারবার করতে চাইলে চুক্তিটি এভাবে সংশোধন করে নিতে পারেন যে, সে আপনার টাকা দিয়ে ব্যবসা করবে। এরপর যদি ব্যবসায় লাভ হয় তবে লাভের এত ভাগ আপনি পাবেন এবং এত ভাগ সে পাবে (যেমন ৫০%-৫০% অথবা ৬০%-৪০%)

    এছাড়া দু’জনের সমঝোতায় শতকরা হিসেবে লাভের যে কোনো হার নির্ধারণ করতে পারেন।

  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন পাকিস্তানি লেগ-স্পিনার

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন পাকিস্তানি লেগ-স্পিনার

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তান জাতীয় দলের ক্রিকেটার উসমান কাদির। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন পাকিস্তানি লেগ-স্পিনার।

    উসমান কাদির তার কোচ, সতীর্থ এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য গর্বের বিষয় ছিল। কোচ ও বন্ধুরা প্রতিটি ধাপে আমাকে যেভাবে গাইড করেছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আর ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থন সবসময় আমার সঙ্গে ছিল।

    উসমান কাদির জানিয়েছেন, তিনি অবসর নেওয়ার পরেও তার বাবা কিংবদন্তি লেগ-স্পিনার আব্দুল কাদিরের ঐতিহ্য ধরে রাখবেন।

    তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও বাবার ঐতিহ্য এগিয়ে নিয়ে যাব। পাকিস্তান ক্রিকেটের চেতনা সবসময় আমার সঙ্গে থাকবে’।

    এই ঘোষণার মাধ্যমে উসমান কাদির তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানলেন এবং তার বাবার নামে ক্রিকেটে অবদান রেখে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন।

    ৩১ বছর বয়সি উসমান কাদির পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে একটি মাত্র ওয়ানডে এবং ২৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে ১৮.৫ গড়ে এবং ৭.৯৫ ইকোনমিতে ৩১টি উইকেট দখল করলেও একমাত্র ওয়ানডেতে তার উইকেট সংখ্যা একটিই।

  • অর্ধেকের বেশি কমতে যাচ্ছে সাকিবের বেতন

    অর্ধেকের বেশি কমতে যাচ্ছে সাকিবের বেতন

    প্রতি বছরই ক্রিকেটারদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি নবায়ন করে থাকে বিসিবি। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রকাশিত কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তিন ফরম্যাটেই ছিলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে মাত্র আট মাসের ব্যবধানে বদলে গেল সব। অনেকটা হুট করেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যা প্রভাব ফেলেছে তার আয়েও।

    সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচই ছিল সংস্করণটিতে সাকিবের শেষ ম্যাচ। ইচ্ছা অনুযায়ী দেশে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে না পারলে সদ্য সমাপ্ত কানপুরেই টাইগার অলরাউন্ডারের শেষ টেস্ট খেলা হয়ে গেছে। যে কারণে দুই সংস্করণে আর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকছেন না সাকিব। ফলে তার বেতন কমছে অর্ধেকেরও বেশি।

    ক্রিকেটারদের কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছিল বিসিবি। তিন ক্যাটাগরির খেলোয়াড় তালিকায় সাকিব ছাড়াও ছিলেন লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত ও শরিফুল ইসলাম।

    যেখানে টেস্টে এ+ গ্রেডের বেতন সাড়ে ৪ লাখ টাকা। ওয়ানডেতে ৪ লাখ আর টি-টোয়েন্টিতে সংখ্যাটা সাড়ে ৩ লাখ। কোনো ক্রিকেটারের নাম যদি তিন সংস্করণে থাকে তাহলে ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রথম সংস্করণের শতভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণের ৫০ ভাগ ও তৃতীয় সংস্করণের ৪০ ভাগ টাকা পেয়ে থাকেন।

    এই হিসেবে সাকিব প্রতি মাসে বেতন পেতেন ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তিন সংস্করণে নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচ খেলার কোটা পূরণ করলে ক্রিকেটাররা পান বাড়তি ভাতা।

    এখন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোয় বেতনের টাকা কাটা যাবে সাকিবের। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি না খেলায় একমাত্র ওয়ানডে চুক্তির জন্য সাকিব মাসে পাবেন ৪ লাখ টাকা করে।

    অবশ্য ওয়ানডে ক্যারিয়ারও বেশি দিন স্থায়ী হচ্ছে না। আগামী ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে এই ফরম্যাট থেকে বিদায় নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন টাইগার এই অলরাউন্ডার।

  • আবারও মা হচ্ছেন কোয়েল

    আবারও মা হচ্ছেন কোয়েল

    আবার মা হতে চলেছেন টালিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককন্যা এবার দ্বিতীয়বারের মত মা হতে চলেছেন। এ সুখবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছ্বসিত তার ভক্ত-অনুরাগীরা। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন টালিউড তারকারাও।

    এর আগে ২০২০ সালে ছেলে কবীর জন্ম হয়। এতদিন ছেলে আর কাজ সমানভাবে সামলেছেন। তবে এবার বাড়ছে দায়িত্ব। কারণ দ্বিতীয় সন্তান আসতে চলেছে এ অভিনেত্রীর। একটি ছবি শেয়ার করে নিলেন অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায়।

    কোয়েল পোস্টে লিখেছেন— আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি আমাদের পরিবার বড় হচ্ছে। খুব জলদিই কবীর বড় ভাই হতে চলেছে। আপনাদের থেকে ভালোবাসা আর শুভকামনা প্রয়োজন এই সময়ে। সঙ্গে হাত জোড়ের ও রেড হার্টের ইমোটিকন দেন তিনি। আর হ্যাশট্যাগে জুড়ে নেন লাভ, লাইফ, ব্লেসিং, ব্লিস।

    যে ছবিটি শেয়ার করে কোয়েল এ সুখবর দিলেন, সেটিতে দেখা গেল তাকে, নিসপাল সিং ও কবীরকে। কোয়েলের এই পোস্টে মন্তব্য করলেন জিৎ। অভিনেতা লিখলেন— অসাধারণ! এই পরিবারের সবাইকে অনেক শুভেচ্ছা।

    অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত লিখেছেন—শুভেচ্ছা! খুব খুশি হয়েছি। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন— অনেক শুভেচ্ছা তোমাকে ও নিসপালকে। শুভেচ্ছা জানালেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, নুসরত জাহান, মিমি চক্রবর্তী, মৌনি রায়-রাও।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিসপাল সিং রানেকে বিয়ে করেন কোয়েল মল্লিক। এরপর ২০২০ সালের বিবাহবার্ষিকীর দিনই ঘোষণা করেন মা হতে চলার খবর। ২০২০ সালের ৫ মে কোয়েল-নিসপালের কোল আলো করে আসে কবীর। ছেলের সঙ্গে ছবি-ভিডিও মাঝেমাঝেই শেয়ার করে নেন কোয়েল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁদের একসঙ্গে দেখতে খুব পছন্দও করেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। আর এবার সেসব পোস্ট আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে কোয়েলের দ্বিতীয় সন্তান। যদিও কবে দ্বিতীয় সন্তান আসবে কোলে, তা এখনো জানাননি তিনি। তবে আশা রাখা যাচ্ছে— ২০২৫ সালের শুরুতেই দেখা মিলবে মল্লিক ও সিং পরিবারের নতুন সদস্যের।

  • আমরা কী করেছি যে এ কথা শুনতে হবে: জ্যোতি

    আমরা কী করেছি যে এ কথা শুনতে হবে: জ্যোতি

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। এরপর থেকেই সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না ছোটপর্দার অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতির। জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় ‘আলো আসবেই’ নামক আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিল্পীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সক্রিয় থাকায় বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি।

    এর পরপরই শিল্পকলা একাডেমি থেকে চাকরি হারান জ্যোতি। ব্যক্তিগত জীবনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরব থাকায় সরকার পতনের পর নানাভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এ অভিনেত্রী। বিষয়গুলো নিয়ে সম্প্রতি একটি ফেসবুকে লাইভে হাজির হন জ্যোতি।

    যেখানে শুরুতেই ‘আলো আসবেই’ গ্রুপ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এ অভিনেত্রী। জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, এতদিন কথা বলিনি। কিন্তু আর চুপ থাকতে পারলাম না। কারণ, আমিসহ ওই গ্রুপের সবাইকে সামাজিক কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপনই করতে পারছি না। বলতে পারেন সামাজিক হেনস্তার শিকার হচ্ছি। তিনি বলেন, তাই একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে আমি আমার বিষয়টি পরিষ্কার করতে ফেসবুক লাইভে এসেছি।

    জ্যোতি বলেন, যারা ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে ছিলেন, তাদের দুটি তকমা দেওয়া হচ্ছে। একটি হলো— স্বৈরাচারের দোসর, আরেকটি হলো— গণহত্যার ইন্ধনদাতা! এ দুটি কথার মানে কি আপনারা জানেন? আমরা কি করেছি যে, এ ধরনের কথা শুনতে হবে?

    জ্যোতি বলেন, আমি আজ থেকে আরেকটি বারের জন্যও এ অপবাদ নিজের কাঁধে নিতে চাই না বলেই কথাগুলো বলতে এসেছি। এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম তার কোনো প্রমাণ আপনাদের কাছে আছে? না থাকলে এসব কথা কেন বলছেন? আপনারা কি জানেন, এ ধরনের অপবাদ মানুষের ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলে? আমি তার সহ্য করতে না পেরে আজ কথাগুলো বলছি।

    জ্যোতি আরও বলেন, একে তো আমি নারী, আজকাল দেশে নারীদের কোনো সম্মান নেই। তার ওপর আমি অভিনেত্রী, তাতে তো আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলা আরও সহজ! সেই সাথে আমি হিন্দু, আমি অন্যায় দেখলে মুখ বন্ধ রাখি না— এই সবকিছুতেই তো আপনাদের সমস্যা। এ জন্য এমনিতেই নানা ধরনের চাপের মধ্যে আছি। কিন্তু যে কাজের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই তার জন্য দয়া করে আমাকে অপবাদ দিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করবেন না। এটুকু অনুরোধ থাকলো সবার প্রতি।’

    ওই গ্রুপে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা শিল্পীরাই ছিলেন— জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, যেসব শিল্পী আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন, তারাই ওখানে ছিলেন। ইনিয়ে-বিনিয়ে বলব না যে, আমাকে কেন অ্যাড করেছে, কে অ্যাড করেছে জানি না। সবকিছু জেনেশুনেই ছিলাম। কারণ আমি জানতাম, ওই গ্রুপের এমন কোনো উদ্দেশ্য নেই, যা আমাদের দেশের বা দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। দু-একটা কথা হয়তো আপনারা ক্ষতিকর মনে করছেন। কিন্তু সেই কথাগুলো কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, সেটা আপনারা জানেন না। কোনো শিল্পী কখনই মানুষ হত্যার সমর্থন করতে পারে না, এটা আপনারা ভুলে গেছেন।

    আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন উল্লেখ করে জ্যোতি বলেন, ‘আমি সেই সময় দুটি প্রোগ্রামে গেছি। একটি বিটিভিতে হামলার প্রতিবাদ করতে, অন্যটি আন্দোলনে যে ছাত্ররা আহত হয়েছেন, তাদের হাসপাতালে দেখতে। কিন্তু আপনারা ছাত্রদের দেখতে যাওয়ার বিষয়টি কেউ সামনে আনলেন না, আনলেন বিটিভির বিষয়টি। আমরা তো সেখানে গিয়েছিলাম সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলতে। এটা তো দোষের কিছু নয়। আমরা সবসময় বলে এসেছি যে, এই ধরনের ধংসযজ্ঞ ছাত্ররা করতে পারে না। ছাত্রদের মধ্যে একদল সুবিধাবাদী ঢুকে গিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করেছে। তাহলে আপনারা কেন আলো আসবেই গ্রুপের শিল্পীদের ছাত্রদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন? অহেতুক আপনারা এই গ্রুপটিকে নিয়ে নানা রঙচঙ মাখিয়ে শিল্পীগুলোকে ক্ষতির মুখে ফেলেছেন।’

    প্রসঙ্গত, জ্যোতিকা জ্যোতি ছাড়াও সেই গ্রুপে ছিলেন অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও সাংবাদিক। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন— রোকেয়া প্রাচী, সোহানা সাবা, অরুণা বিশ্বাস, ফেরদৌস, রিয়াজ আহমেদ, সুবর্ণা মুস্তাফা, আজিজুল হাকিম, স্বাগতা, বদরুল আনাম সৌদ, শমী কায়সার, তানভীন সুইটি, আশনা হাবীব ভাবনা, জামশেদ শামীম, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, সাজু খাদেম, হৃদি হক, দীপান্বিতা মার্টিন, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, লিয়াকত আলী লাকী, নূনা আফরোজ, রোকেয়া প্রাচী, রওনক হাসান, আহসানুল হক মিনু, পরিচালক গুলজার, নির্মাতা এস এ হক অলীকসহ অনেকে।

  • ১৫ বছর কেন নিষিদ্ধ ছিলাম, প্রশ্ন ফেরদৌস আরার

    ১৫ বছর কেন নিষিদ্ধ ছিলাম, প্রশ্ন ফেরদৌস আরার

    বিনোদন জগতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা। যিনি গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে গান গাইতে পারেননি। অংশ নিতে পারেননি কোনো অনুষ্ঠানে। ভিন্নমতের হওয়ায় বিগত সরকারের আমলে অনেক শিল্পীই সেই কালো তালিকাভুক্ত ছিলেন।

    রাষ্ট্রীয় বেতার ও টিভি চ্যানেলে কোন কোন শিল্পী পরিবেশন করতে পারবেন, আর কে কে পারবেন না— তা ছিল একটি অঘোষিত তালিকা। এমনকি একটি ‘কালো তালিকা’ও ছিল। সেই কালো তালিকায় নাম ছিল এ জনপ্রিয় নজরুলসংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরার। এমনটিই জানিয়েছেন এ শিল্পী।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এর পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবারও ফেরদৌস আরা বিটিভি ও বেতারের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কদিন আগে তার গাওয়া একটি আধুনিক গান প্রচার করা হয়েছে বিটিভিতে। মারজুক রাসেলের লেখা ‘আমি আমার মতোই আছি/তুমি তোমার মতো থেকো’ গানটি প্রচারের পর অনেকেই গানটির প্রশংসা করেছেন।

    এতদিন পর রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে গান প্রচার হওয়ায় কেমন লাগছে? —এমন প্রশ্নে ফেরদৌস আরা বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান বিটিভিতে গাইতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। শিল্পী তৈরিতে এ প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা বর্ণনাতীত। কিন্তু কী কারণে আমাকে দীর্ঘদিন কোনো অনুষ্ঠানে ডাকা হয়নি জানি না। শুনেছি অনেক শিল্পী রাজনীতি করার কারণে বিটিভি-বেতারে নিষিদ্ধ ছিলেন। কিন্তু আমি তো রাজনীতি করি না। আমাকে কেন এত বছর বঞ্চিত করা হয়েছে?

    বিএনপি সরকারের আমলে সচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন ফেরদৌস আরার স্বামী ড. রফিকুল মুহাম্মদ। বিগত সরকারের অনুসারীরা ধরে নিয়েছিলেন— রাজনৈতিকভাবে তারা বিএনপিপন্থি ও দলটির অনুগত। এ কারণেও ফেরদৌস আরাকে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে গান করতে দেওয়া হতো না বলে ধারণা অনেকের।

    আক্ষেপ করে এই শিল্পী বলেন, আমার স্বামীর চাকরির কারণে যদি এমনটি হয়ে থাকে, সেটি কি কোনো যুক্তির কথা? আমার স্বামী কোনো রাজনীতি করতেন না। এ কোন দেশে বাস করি আমরা? শিল্পী তো নির্দিষ্ট কোনো দলের হতে পারে না। শিল্পী সবার— সব মানুষের জন্য গান করে।

    অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে আমন্ত্রণ পেতে শুরু করেছেন ফেরদৌস আরা। সম্প্রতি নজরুল ইনস্টিটিউটের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় বাংলাদেশ বেতারের একটি অনুষ্ঠানে। সেখানে নজরুলসংগীতবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।

    উল্লেখ্য, সব ধরনের গান গাইলেও নজরুলসংগীত শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ফেরদৌস আরা। চার যুগেরও বেশি সময় ধরে সংগীতচর্চা করছেন এ শিল্পী। উজবেকিস্তানে জাতিসংঘ আয়োজিত লোকসংগীত উৎসবে নজরুলসংগীত গেয়ে পুরস্কৃত হয়েছিলেন তিনি।

    ফেরদৌস আরা বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন অধ্যাপনা, নজরুল ইনস্টিটিউটে নজরুলসংগীতের প্রশিক্ষক, সংগীত অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, লেখালেখি, প্লে-ব্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। সঠিকভাবে নজরুল ও উচ্চাঙ্গ সংগীতচর্চার জন্য এ শিল্পী ২০০০ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডে গড়ে তোলেন সংগীত প্রতিষ্ঠান সুরসপ্তক।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিএনপির সংলাপ শনিবার দুপুরে

    অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিএনপির সংলাপ শনিবার দুপুরে

    রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তৃতীয় দফায় সংলাপে বসবে আগামী শনিবার। এদিন বেলা আড়াইটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করবে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, শনিবার বেলা আড়াইটায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করবেন।

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিনদিন পর শপথ নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার এর আগে দু’দফা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে।

    এটি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ড. ইউনূসের তৃতীয় দফা বৈঠক।

  • জামিনের পর কারামুক্ত মাহমুদুর রহমান

    জামিনের পর কারামুক্ত মাহমুদুর রহমান

    গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র সুপার আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত থেকে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছার পর তা যাচাই-বাছাই করে মাহমুদুর রহমানকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    কারাফটকে মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান হাজারো জনতা। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও ছিলেন।