Blog

  • বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের পেছনে রাষ্ট্রের খরচ কত, হিসাব চাইলেন আদালত

    বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের পেছনে রাষ্ট্রের খরচ কত, হিসাব চাইলেন আদালত

    ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন-২০০৯’ অনুযায়ী সুবিধাভোগী সদস্যদের জন্য রাষ্ট্রের কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

    রোববার এক আদেশে এ নির্দেশনা দেন আদালত। একইসঙ্গে তারা কি কি সুবিধা ভোগ করেছেন এবং কি কি সম্পত্তি বিশেষ সুবিধায় পেয়েছেন তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

    আগামী এক মাসের মধ্যে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্টদেরকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    এছাড়াও তাদের জন্য বরাদ্দ সুবিধা এবং সম্পত্তি কেন পুনরুদ্ধার করা হবে, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

    জনস্বার্থে এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রুল জারি করেন।

    জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন–২০০৯ এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন–২০২১–এর কয়েকটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইসআরএসএস) সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান।

    আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেদওয়ান আহমেদ রানজিব।

    আইনজীবী চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন-২০০৯ এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন–২০২১ এর ২(খ), ২(গ), ৮(১), ৮(৩), ৮(৪) ও ৯(২) ধারার মাধ্যমে জন্মসূত্রে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের বিশেষ শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আইনে জাতির পিতার পরিবার-সদস্য অর্থ জাতির পিতার জীবিত দুই মেয়ে এবং তাদের সন্তানাদি বলে উল্লেখ করা হয়েছে; যা সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

    রিট আবেদনকারী পক্ষ জানান, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন-২০০৯ এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন–২০২১ এর ধারা ২(খ), ২(গ), ৮(১), ৮(৩), ৮(৪) এবং ৯(২); যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যগণ লেখা আছে, সেগুলো অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণার প্রার্থনা জানানো হয়েছে রিটে। আইনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তারা যেসব সুবিধা ভোগ করেছেন এবং যেসব সম্পত্তি বিশেষ সুবিধায় পেয়েছেন, তা পুনরুদ্ধার করার আবেদনও রয়েছে।

    এছাড়া অতি দ্রুত আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, অর্থসচিব, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ডিজিকে ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের বিশেষ নিরাপত্তা বিধান’ বন্ধ করার প্রার্থনাও করা হয়।

    রিট আবেদনকারী জানান, আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, অর্থসচিব, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ডিজিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জাতির পিতার পরিবার-সদস্যরা যেসব সুবিধা ভোগ করেছেন, সে জন্য রাষ্ট্রের খরচ নিরূপণ এবং যেসব সম্পত্তি বিশেষ সুবিধায় তারা পেয়েছেন, এর একটা প্রতিবেদন তৈরি করে আদালতে দাখিল করার প্রার্থনাও জানানো হয়েছে।

    রিটে আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, অর্থসচিব, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ডিজি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিককে বিবাদী করা হয়েছে।

  • ভ্যানে লাশের স্তূপ, ব্রাজিলের জার্সি দেখে স্বামীর লাশ শনাক্ত

    ভ্যানে লাশের স্তূপ, ব্রাজিলের জার্সি দেখে স্বামীর লাশ শনাক্ত

    ভ্যানে লাশের হলুদ জার্সি দেখে নিখোঁজ স্বামীকে শনাক্ত করলেন স্ত্রী লাকি আক্তার। সেই ভিডিওতে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা দেহগুলোর স্তূপ থেকে ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত একটি হাত বের হয়ে থাকতে দেখা যায়। সেই হাত দেখে ওই ব্যক্তিকে স্বামীর লাশ হিসেবে শনাক্ত করেছেন তিনি।

    লাকী আক্তার নামের ওই নারী বলছেন, লাশের ভ্যানে থাকা ওই ব্যক্তি তার স্বামী আবুল হোসেন। এক সময় লাকির প্রতিবেশীরাও ওই হাত আবুল হোসেনের হওয়ার কথা বলছেন, যিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে ব্রাজিলের জার্সি পরেই ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন।

    লাকী আক্তার গত ৫ আগস্ট থেকে তার স্বামী আবুল হোসেনের নিখোঁজ থাকা নিয়ে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন।

    একটি ভিডিওতে ভাইরাল হওয়া ভ্যানে একটির ওপর আরেকটি নিথর দেহ স্তূপ করে রাখার যে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়েছে সেটি সাভারের আশুলিয়া থানার ঠিক পাশের ঘটনা বলে ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমসহ দেশব্যাপী ঝড় তুলেছে।

    সেখানকার বাসিন্দা জনাব আলী বলেন, ভিডিওটিতে যে ভ্যানে রক্তমাখা নিস্তেজ দেহগুলো তুলতে দেখা গেছে সেটি দাঁড়ানো ছিল থানার কোনায় জামে মসজিদের ঠিক পেছনে গলির ওপরে। সময় তখন বিকাল ৫টা। এর কিছুক্ষণ পর সড়ক থেকে দেহগুলো ওই ভ্যানে তোলা হয়।

    স্থানীয় লোকজন বলেন, পরে পুলিশ চলে যাওয়ার পর থানার সামনে থেকে পুলিশের একটি লেগুনা জ্বলতে দেখা যায়। পরিস্থিতি শান্ত হলে জনগণ সেই আগুন নেভানোর পর সেখানে কয়েকটি পোড়া লাশ দেখতে পান।

    ৬ আগস্ট সেখানে ছয়টি পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। সেগুলোর মধ্যে চারটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি দুইজনের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে নিকটবর্তী আমতলী গোরস্থানে দাফন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রমতে জানা গেছে।

    লাকী আক্তার ও আবুল হোসেন দম্পতি থাকতেন বাইপাইল পশ্চিমপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়ির ঘরে। তাদের দুই সন্তান বড়টির বয়স নয় বছর ছোটটি ছয় মাস বয়সি। আবুল হোসেন দিনমজুরির ভিত্তিতে ট্রাক থেকে মালামাল নামানোর কাজ করতেন। লাকী সেখানকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তবে ছোট বাচ্চাটির জন্মের পর শারীরিক কারণে কাজ ছাড়তে বাধ্য হন। সংসার চলছিল পুরোপুরি আবুল হোসেনের রোজগারে।

    শনিবার ভাড়া বাসায় কথা হয় তার সঙ্গে। কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন বারবার। বলছিলেন, তার সন্তানদের এখন কী হবে?

    লাকী আক্তার বলছেন, গত ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন আবুল হোসেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    ছয় মাসের বাচ্চা কোলে লাকী এই কয়েক দিন ধরে হাসপাতাল, মর্গ, কারাগার, থানা থেকে শুরু করে সেনানিবাস পর্যন্ত স্বামীর খোঁজে গিয়েছেন। পরে গত শুক্রবার রাতে তার একজন আত্মীয়কে কেউ একজন ভিডিওটি পাঠিয়ে দেখতে বলেন। আত্মীয়টি সেটি তাকে দেখালে তিনি স্বামীকে চিনতে পারেন। সেই সময়ই ভ্যানে ঢাকা চাদর কিছুটা সরে গিয়ে আরও দেহের নিচে চাপা পড়ে থাকা একজনের হাত বের হয়ে যায়। দুই তিন সেকেন্ডের সেই হাতের ছবি দেখে তাকে আবুল হোসেন বলে শনাক্ত করেন তার স্ত্রী, স্বজন প্রতিবেশীরা।

    লাকী আক্তার বলছেন, ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে ব্রাজিল ফুটবল দলের একটি হলুদ রঙের জার্সি আর লুঙ্গি পড়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। আশপাশে অনেকেই চেনেন আবুলকে। বাইপাইল মসজিদ থেকে যখন আসরের আজান হচ্ছিল তখনো মসজিদের পাশেই তাকে দেখেছেন স্থানীয়রা।

    আবুল হোসেনের প্রতিবেশীরা জানান, ওই দিন শেখ হাসিনার পতনের পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একটি বিজয় মিছিলে আবুল হোসেনকে দেখেছিলেন তিনি। ভিডিওটি দেখে স্থানীয় আলী হোসেন ধারণা করছেন, বিকালে রাস্তায় জমায়েত হওয়া লোকজনকে লক্ষ্য করে পুলিশ যে গুলি চালিয়েছিল তাতে অনেকেই হতাহত হন। যাদের লাশ ভ্যানে করে সরিয়ে ফেলা হয়।

    তবে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। ভ্যানের সেই নিথর দেহ বা লাশগুলো কোথায় গেল সেটিও জানে না পুলিশ। ভ্যানের লাশগুলোই কি লেগুনায় তোলা হয়েছিল কিনা সে তথ্যও নেই তাদের কাছে।

    ঢাকা জেলার এসপি আহম্মদ মুইদ কয়েক দিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। মোবাইল ফোনে তাকে লাকী আখতারের বিষয়টি জানালে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি লাকী আখতারের বিষয়টি শুনলাম। আমি সব খবর নিয়ে আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি তবে এখনো বিস্তারিত কিছুই জানি না

  • চিকিৎসকদের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি স্থগিত

    চিকিৎসকদের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি স্থগিত

    চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। এ আশ্বাসে আগামীকাল সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন চিকিৎসকরা।

    এর আগে রোববার দুপুরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, দোষীদের গ্রেফতার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশের সব হাসপাতালে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের আবাসিক সার্জন আব্দুল আহাদ এ ঘোষণা দেন।

    তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জানেন শনিবার থেকে ঢামেকে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আমাদের তিনজন চিকিৎসককে নিউরো সার্জারি বিভাগ থেকে মারতে মারতে প্রশাসনিক ব্লকের পরিচালকের রুমে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই বহিরাগতরা এসে হাসপাতালে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এরপর ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) এসে ভাঙচুর চালায়। এরকম ঘটনা যদি প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকে তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? রোগীদের কীভাবে চিকিৎসা সেবা দেব। কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহতদের আমরা চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। যেখানে আমাদের নিরাপত্তা নেই, সেখানে আমরা কীভাবে চিকিৎসা দেব।

    গতকাল শনিবার নিউরো সার্জারি বিভাগের তিন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন চিকিৎসকরা।

  • ১১ বছর প্রেম, স্বামীকে তালাকের পর একই কাজী অফিসে প্রেমিককে বিয়ে

    ১১ বছর প্রেম, স্বামীকে তালাকের পর একই কাজী অফিসে প্রেমিককে বিয়ে

    এক গৃহবধূ স্বামীকে তালাক দিয়ে একই কাজী অফিসে প্রেমিককে বিয়ে করেন। শনিবার দুপুরে রাজশাহীর তানোরের মুন্ডমালায় কাজী অফিসে স্বামীকে উপস্থিত রেখে আগে তালাক দিয়ে প্রেমিক শাহিন আলমকে বিয়ে করেছেন ওই নারী (২৪)।

    শাহিন উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের গাল্লা বৈদ্যপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। 

    শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্ডুমালা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহাজুল ইসলাম।

    ওই নারীর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী মাসুদ রানা। তিনি রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াদাঙ্গা এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। 

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট সকালে বিয়ের দাবিতে একই এলাকায় পরকীয়া প্রেমিক শাহিন আলমের বাড়িতে যান ওই নারী। এ সময় তাকে মারধর করে শাহিনের পরিবার। পরে মুন্ডুমালা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহাজুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

    এ নিয়ে ঘটনার দিনে ওই নারী ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগে ওই নারী প্রায় ১১ বছর প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রেমিক শাহিনকে বিভিন্ন সময় ৩ লাখ টাকা এবং ২৫ হাজার টাকা মূল্যের স্মার্টফোন দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন ওই নারী। 

    বিষয়টি নিয়ে শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    তবে শনিবার সন্ধ্যায় ওই নারীর মোবাইল ফোনে কল করা হলে তার মা রিসিভ করে বলেন, তার মেয়ে বাড়িতে নেই। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। এখনো বাড়িতে ফেরেনি।

    এসআই শাহাজুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর শাহিন নামে এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মেয়েটার ওপর নির্যাতনের পর তাকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তাকে সুস্থ হয়ে অভিযোগ করতে বলা হয়েছিল। পরে ওই নারীর ভাইকে ফোন করা হলে বিয়ের বিষয়টি সে নিশ্চিত করে।

    তিনি আরও বলেন, শনিবার দুপুরে তানোরের মুন্ডমালায় আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে পরে শাহিনকে বিয়ে করেছেন ওই নারী। বিয়েতে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধরা হয়েছে।

  • পলক, টুকুসহ ৬ জন ফের রিমান্ডে

    পলক, টুকুসহ ৬ জন ফের রিমান্ডে

    সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুসহ গ্রেপ্তার ছয় জনকে চার হত্যা মামলায় আবারও রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।

    অন্যরা হলেন, সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

    রোববার সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম মইনুল ইসলাম এ আদেশ দেন বলে আদালতে কর্মরত একজন উপ-পরিদর্শক জানান।

    গত ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বাড্ডায় সুমন সিকদার (৩১) এবং ঢাকার সূত্রাপুরে শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন কাউসার ও ওমর ফারুকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় পলককে ছয় দিনের রিমান্ডে দেওয়া হয়।

  • হত্যা ছাড়া সব মামলার আসামিকে অব্যাহতি

    হত্যা ছাড়া সব মামলার আসামিকে অব্যাহতি

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত হত্যা ছাড়া অন্য মামলার আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে আসামিদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে হত্যা, ভাঙচুর, চুরি, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা কেন্দ্র করে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৯২টি মামলা হয়। এরমধ্যে ৬২টি হত্যা মামলা। এই ৬২টি ছাড়া বাকি ২৩০টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

    এ বিষয়ে বিএনপির সহআইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তাদের অব্যাহতির আবেদন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পুলিশ। চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতি প্রদান করেন আদালত।

    চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, মামলার ঘটনার সঙ্গে গ্রেফতারকৃত আসামিরা জড়িত না। অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা অপরাধ করায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্ত অহেতুক ফেলে না রেখে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পক্ষে মত দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামিদের সন্ধানসহ নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া গেলে মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হবে বলেও জানায় তদন্ত কর্মকর্তা।

    এ সময়ে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ওয়ারী বিভাগে। এ বিভাগে মামলার সংখ্যা ৫৭টি। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৬৪৫ জন। এরপরের অবস্থানে রমনা ও গুলশান বিভাগ। রমনা ও গুলশান দুই বিভাগে ৪২টি করে মামলা হয়েছে। রমনা বিভাগের মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ১৮২ জন। গুলশান বিভাগের মামলায় গ্রেফতার ৪১৯ জন। মতিঝিল বিভাগে মামলা হয়েছে ৪০টি। গ্রেফতার হয়েছে ৪২৩ জন। তেজগাঁও বিভাগে মামলা ৩৪টি, গ্রেফতার ৩৫৭ জন। উত্তরা বিভাগে মামলা হয়েছে ৩২টি। গ্রেফতার ৩০৬ জন। মিরপুর বিভাগে মামলা হয়েছে ২৮টি। গ্রেফতার হয়েছে ৪৮৫ জন। লালবাগ বিভাগে মামলা হয়েছে ১৭টি। গ্রেফতার হয়েছেন ১৪১ জন।

    ২৯২ মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয় ৩ হাজারেরও বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে। উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য সামিউল হক ফারুকী, বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ আসীম, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত। এছাড়াও একইসঙ্গে ঢালাওভাবে মামলাগুলোতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে কয়েক হাজার।

    ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৯২ মামলার সবগুলো এজাহারেই কোটাবিরোধী অজ্ঞাতনামা আন্দোলনকারী, জামায়াত-শিবির এবং বিএনপি কর্মীদের আসামি করা হয়েছিল। প্রায় সব মামলার অভিযোগেই বলা হয়েছে, ঘটনার দিন অজ্ঞাতনামা কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী, জামায়াত, শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীরা এক হয়ে লোহার রড, হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভিকটিমদের ওপর আক্রমণ করে হত্যা, ভাঙচুর, চুরি, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। মামলার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করা হয়।

    অ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, মামলাগুলো করাই হয়েছিল বিএনপিকে হয়রানির জন্য। পুলিশ বাহিনীকে শেখ হাসিনা তার দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করেছিল। আর এই লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে বিরোধী দল দমনই ছিল তাদের একমাত্র কাজ। যার ফলে পুলিশ এখন মানুষের আস্থার সংকটে পড়েছে।

    এ বিষয়ে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এডিসি (পুলিশ সুপার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত) ফখরুজ্জামান জুয়েল বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২৯০টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এরমধ্যে ২৩০টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বাকি ৬২টি হত্যা মামলা তদন্তাধীন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে এগুলোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রসঙ্গত, ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা শহরে যত মিথ্যা এবং প্রতারণামূলক মামলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের (১৫ আগস্ট) মধ্যে তা প্রত্যাহার হবে।

  • স্ত্রী-সন্তানসহ আসাদুজ্জামান খান কামালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    স্ত্রী-সন্তানসহ আসাদুজ্জামান খান কামালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান ও মেয়ে সাফিয়া তাসনিম খানসহ ১০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

    রোববার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।

    দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অন্যরা হলেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. হারন অর রশীদ বিশ্বাস, জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা ইব্রাহিম হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস মনির হোসেন ও শাফি মোদ্দাছির খান।

    এদিন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

    আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও অন্যান্যের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরে বদলি, পদোন্নতি, জনবল নিয়োগ ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঘুস গ্রহণের অভিযোগটির অনুসন্ধান চলমান। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন বলে বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশযাত্রায় এমন রহিত করা প্রয়োজন।

  • পুলিশের ৮৩ কর্মকর্তার রদবদল

    পুলিশের ৮৩ কর্মকর্তার রদবদল

    ডিএমপিসহ (ঢাকা মহানগর পুলিশ) বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৮৩ জন কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে। আজ রোববার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    উপসচিব মাহাবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বদলিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে উপপুলিশ মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত ডিআইজি, ডিআইজি, উপপুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন।

  • ডিএমপির ডিবি প্রধান হলেন রেজাউল করিম মল্লিক

    ডিএমপির ডিবি প্রধান হলেন রেজাউল করিম মল্লিক

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রেজাউল করিম মল্লিক।

    আজ রোববার (১ সেপ্টেম্বর) তিনি ডিএমপির ডিবি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

    রেজাউল করিম মল্লিক ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি ১৭তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা (ডিআইজি)।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ওবায়দুর রহমান।

  • সারা দেশে চিকিৎসকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

    সারা দেশে চিকিৎসকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) শনিবার চিকিৎসকদের উপর হামলা ও মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে হামলাকারীদের আটক ও শাস্তির দাবিতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা।

    এবার ঢামেকে হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকরা। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের রেজিস্ট্রার (নিউরো সার্জারি গ্রিন ইউনিট) ডা. আবদুল আহাদ এই ঘোষণা দেন।

    জানা গেছে, দুপুর ২টায় ঢামেকের বাগান গেটে নিজেদের দাবি নিয়ে ব্রিফ করবেন চিকিৎসকরা। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন নার্সরাও।

    আব্দুল আহাদ বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যেসব ঘটনা ঘটেছে, আমরা নিজের জীবন বাজি রেখে, সারা বাংলাদেশে কি পরিমাণ সার্ভিস দিয়েছি। ডাক্তাররা চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে ওষুধ কিনে দিয়েছে। খাবার দিয়েছে, ২৪ ঘণ্টা, ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। আমরা ডাক্তার, আমরা মানবতার সেবক, আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেরই পার্ট।’

    তিনি বলেন, ‘কালকে রাতে দুটি ঘটনা ঘটে, একটা ঘটনা হচ্ছে, একটি গ্রুপ বাইরে আরেকটা গ্রুপকে আক্রমণ করেছিল। সেই গ্রুপ সেবা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে এসেছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সিতে এসেছিল চিকিৎসা সেবা নিতে, তাদের যে বিরোধী পক্ষ ছিল, তারা ইমার্জেন্সি কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিৎ করে চলে গেছে। তাই, আমরা দেখছি এখানে রোগীও নিরাপদ না। আপনারা কোথায় সেবা নিতে আসবেন। এখানে রোগীও নিরাপদ না।’

    ‘আরেকটা ঘটনা, ইমার্জেন্সি রুমে একজন কিডনি রোগী এসেছিল, অনেক ইমার্জেন্সি রোগী মারা যায়। মারা যাওয়ার পরে আমার ডক্টর মেডিকেল অফিসারের উপর হামলা হয়। ইমার্জেন্সি কমপ্লেক্স ওসেক ভাংচুর করা হয়। তাই আমরা দেখতে পাই এখানে ডক্টর রোগী কেউই নিরাপদ না।’

    এ বিষয়ে নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহনেওয়াজ বিশ্বাস বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এ কর্মসূচি নয়। আমরা শুধু আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। রাজনৈতিক কোনো দলও এখানে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করবে না’।

    এর আগে শনিবার মধ্যরাতে খিলগাঁও সিপাহীবাগ এলাকা থেকে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহতরা ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরে অন্য আরেক গ্রুপ চাপাতিসহ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের ভেতরে ঢুকে যায়। এ সময় হাতেনাতে চারজনকে আটক করে সেনাবাহিনীকে দেয় কর্তৃপক্ষ।

    পরে অন্য আরেক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অনস্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে ভাঙচুর চালায় রোগীর স্বজনরা।

    নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান অভিযোগ করে বলেন, বিইউবিটির (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি) এক শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো কথা না বলেই ওটি থেকে বের করে তিন চিকিৎসককে মারপিট করে। এমনকি নিউরোসার্জারি ওয়ার্ড থেকে মারতে মারতে পরিচালকের রুম পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়।

    এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা শঙ্কা এবং হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা।