Blog

  • নামে-বেনামে শত কোটি টাকার মালিক হাছান, সম্পদ লুকাতে স্ত্রীকে বানিয়েছেন ব্যবসায়ী

    নামে-বেনামে শত কোটি টাকার মালিক হাছান, সম্পদ লুকাতে স্ত্রীকে বানিয়েছেন ব্যবসায়ী

    আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ১৫ বছরে হাসিনা সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রী হিসাবে দলে যেমন তার প্রভাব ছিল, তেমনই দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রভাব খাটিয়ে দখল-বেদখল, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়েছেন শত শত কোটি টাকা।

    নির্বাচনি হলফনামায় আয়-ব্যয় বা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দেখে যে কেউ ভাববে তার চেয়ে সৎ, গরিব কোনো মন্ত্রী-এমপি বাংলাদেশে নেই। কিন্তু বাস্তবে নামে-বেনামে তার রয়েছে সম্পদের পাহাড়।

    বন ও পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে নিজে দখল করেছেন শত শত একর বনভূমি। যেখানে তিনি গড়ে তুলেছেন পর্যটনকেন্দ্রসহ নানা বিলাসী প্রকল্প। দখল করেছেন জাহাজ নির্মাণকারী ডকইয়ার্ড। দখলের ক্ষেত্রে তিনি ব্যবহার করেছেন নিজের ভাইদের। স্ত্রীর নামে নিয়েছেন শিপ হ্যান্ডলিং লাইসেন্স। হয়েছেন ফিশিং ট্রলারের মালিক। এরই মধ্যে এক ডকইয়ার্ড মালিক তার কাছে ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। করেছেন সংবাদ সম্মেলন। রাঙ্গুনিয়ায় অভিযান চালিয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় উদ্ধার করেছে তার দখলে থাকা ২০০ একরেরও বেশি বনভূমি।

    তার নির্বাচনি এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত তো দূরের কথা, দলীয় লোকজন যারা তার মতের বাইরে ছিলেন, তারাও হয়েছেন নির্যাতিত। ১৫ বছরে সর্বক্ষেত্রে ত্রাসের রাজত্ব থাকলেও তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের কেউ মুখ খোলার সাহস করেননি। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এখন সরকারি সংস্থাগুলো যেমন সরব হয়েছে; তেমনই নানা ব্যক্তি-কোম্পানি যারা তার কারণে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে, তারাও প্রকাশ্যে এসেছে।

    সরকার পতনের পরদিন হাছান মাহমুদ বিদেশে পালানোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল। তবে তিনি এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেলজিয়াম চলে গেছেন বলেও খবর চাউর হয়েছে। বেলজিয়ামে পালানোর পর রোববার সরকারের পক্ষ থেকে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

    হাছান মাহমুদ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত চার মেয়াদে রাঙ্গুনিয়া থেকে এমপি নির্বাচিত হন। প্রথম মেয়াদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তৃতীয় মেয়াদে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং চতুর্থ মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পান। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনে তাকে দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক করা হয়। দলে এবং মন্ত্রণালয়ে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।

    ২১২ একর বনবভূমি দখল : নির্বাচনি এলাকা রাঙ্গুনিয়ার খুরুশিয়া রেঞ্জে হাছান মাহমুদের ছোট ভাই এরশাদ মাহমুদ বন বিভাগের প্রায় ২১২ একর জমি দখল করেন। ২০০৯ সাল থেকে দখল করা এসব বনভূমিতে তিনি গড়ে তোলেন মহিষের খামার, পুকুর, বাগান, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সরকার পতনের পর কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে বন বিভাগ এসব জমি উদ্ধার করে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বন বিভাগের বেদখল হওয়া জমি হাছান মাহমুদের পরিবারের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। যদিও এরশাদ মাহমুদ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করেছেন, সরকার থেকে লিজ নিয়েই বনের জমিতে তারা খামার গড়ে তুলেছিলেন।

    ডকইয়ার্ড দখল, ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ : ২০২১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে এফএমসি নামে একটি ডকইয়ার্ড দখলের অভিযোগ উঠে হাছান মাহমুদের বিরুদ্ধে। তার পক্ষে ভাই খালেদ মাহমুদ সরাসরি গিয়ে সিকিউরিটিকে মারধর করে এই ডকইয়ার্ড দখল করে নেন। সিকিউরিটিকে মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। হাছান মাহমুদের স্ত্রী নুরান ফাতেমার নামে সৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এফএমসির চুক্তি, ফিশিং ট্রলার নির্মাণের চুক্তিসহ বিভিন্ন দলিল সৃষ্টি করা হয়। ব্যাংক ঋণের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় এফএমসির নামে।

    হাছান মাহমুদ মন্ত্রী থাকার কারণে তার অনেক অন্যায় আবদার মেনে নিতে হয়েছে বলে দাবি করেন এফএমসি ডকইয়ার্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী। সরকার পতনের পর রোববার সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ্যে তার ডকইয়ার্ড দখলের বিষয়টি সামনে আনেন। একই সঙ্গে ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রীর নামে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও জানান ইয়াছিন চৌধুরী। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা প্রশাসনিক হয়রানিসহ নানাভাবে এফএমসি ডকইয়ার্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও তার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন করেছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

    জানা যায়, সর্বশেষ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের বহির্নোঙরে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগের জন্য ২৩টি লাইসেন্স প্রদান করে। কোনো ধরনের নিয়মনীতি ও আদালতের আদেশ-নিষেধের তোয়াক্কা না করে মন্ত্রী, এমপি, আওয়ামী লীগ নেতাদের এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি লাইসেন্স বাগিয়ে নেওয়া হয় হাছান মাহমুদের স্ত্রী নুরান ফাতেমার নামে।

    চাপ দিয়ে নেওয়া হয়েছিল ৪১ কোটি টাকার প্রকল্প : হাছান মাহমুদের সুপারিশ ও চাপে নিজ নির্বাচনি এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ‘সাইট অ্যান্ড সার্ভিসেস আবাসিক প্লট উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে এ প্রকল্পের জন্য হাছান মাহমুদ ডিও লেটার দেন। তবে এটি বাস্তবায়নে আপত্তি করেছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর। রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালীতে প্রকল্প এলাকার ৭০ শতাংশ পাহাড় এবং ৩০ শতাংশ জলাধার থাকায় বিভিন্ন সংস্থার আপত্তিতে প্রকল্পটি বাতিল করা হলেও ২০২০ সালের মার্চে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। মন্ত্রী অনেকটা চাপ দিয়েই এ প্রকল্প অনুমোদন করান বলে অভিযোগ আছে।

    ১৬ দশমিক ১৯ একর জমি ধরা হলেও ১৪ দশমিক ১৯ একরে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৪১ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয় ভূমি অধিগ্রহণে। তবে অযৌক্তিক ও টাকা হাতানোর এ প্রকল্পের পরিবেশ ছাড়পত্র অবশেষে বাতিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রকল্প কর্মকর্তা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নেজামুল হক মজুমদার বলেন, প্রকল্পটি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী এলাকায় বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। এ প্রকল্পে তাদের মতামত ছিল না। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এ প্রকল্প নেওয়া হয়। এখন প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।

    হলফনামায় গরিব, বাস্তবে বিপুল বিত্তের মালিক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে হলফনামা জমা দেন হাছান মাহমুদ। এতে তার ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। সংসদ-সদস্য ও মন্ত্রী হিসাবে প্রাপ্ত ভাতা বাদে কৃষি খাতসহ বিভিন্ন খাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। ২০ লক্ষাধিক টাকার অস্থায়ী সম্পদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মাত্র ১২ লাখ টাকা জমা দেখানো হয়। ভাইদের কাছ থেকেও ১২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন। বিয়ের সময় পাওয়া নিজ নামে ৫ ভরি ও স্ত্রীর নামে ৫০ তোলা স্বর্ণ রয়েছে। তবে তার চেয়েও তার স্ত্রী একজন ব্যবসায়ী এবং আর্থিকভাবে ধনী বলে উল্লেখ করা হয়।

    হলফনামায় নুরান ফাতেমার স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্পদ দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ড. হাছান মাহমুদ নগরীর সিরাজউদদৌলা রোডে আকাশচুম্বী একটি ভবন নির্মাণ করেছেন। চৌধুরী টাওয়ার নামে পরিচিত এটি। এই একটি ভবনেই তার বিনিয়োগ শতকোটি টাকা বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এ ভবনটি তার শ্বশুরপক্ষের বলে দাবি করা হয়। চট্টগ্রামের অনন্যা আবাসিক এলাকা, দেওয়ান বাজার মৌসুমি মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে কোটি কোটি টাকার প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি। বিদেশেও তার সম্পদ রয়েছে বলে চাউর আছে। সরকার পতনের দিন সিরাজউদদৌলা রোড ও মৌসুমি মোড়ের ভবন দুটিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

    সূত্র জানায়, বিএনপিসহ বিরোধী দলের কার্যক্রম নিয়ে সব সময় ব্যাঙ্গাত্মক ও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করতেন ড. হাছান মাহমুদ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে থাকাকালে সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যাচাই-বাছাই না করে তিনি অগণিত অনলাইন পোর্টাল ও আন্ডারগ্রাউন্ড টিভি, প্রিন্ট মিডিয়ার অনুমোদন দেন। ভুঁইফোঁড়, অনলাইন, ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা কখনোই নেননি। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন লিখিত ও মৌখিকভাবে তাকে এ বিষয়ে দাবি জানালেও তিনি ছিলেন নীরব। উলটো গাধা-ঘোড়া এক করতে তিনি অপসাংবাদিকতাকে নানাভাবে উসকে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

  • আ.লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    আ.লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    গত ১৬ বছরে জামায়াতের উপর আওয়ামী লীগ সরকার যে নির্যাতন করেছে তা দল হিসেবে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয় সরণির একটি রেস্টুরেন্টে মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দলটির আমিরের সঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

    কারও প্রতি কোনো প্রতিশোধ নেয়া হবে না আশ্বস্ত করে জামায়াতের আমির বলেছেন, ‘যদি ভিকটিম হিসেবে কেউ যদি বিচার প্রত্যাশী হয় তবে তাকে স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিতে সহায়তা করবেন তারা। ’

    তিনি বলেন, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ করুণা নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার চায়। বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়তে বিশাল মনের মানুষ দরকার।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, অতীতে সাংবাদিকদের মুখে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাদের কলমকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীনভাবে লিখতে পারেনি। কিন্তু এখন সবাই জাগ্রত হয়েছে। আগামী দিনে আপনাদের সহযোগিতায় আমরা কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।

    মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী উত্তরে ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

  • ইতিহাস গড়া ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দেবে সরকার

    ইতিহাস গড়া ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দেবে সরকার

    পাকিস্তানের মাটিতে বাবর আজমদের ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। এ জয় গৌরবের, বহুল আকাঙিক্ষত ও প্রেরণার। বিজয়ী দলকে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    রাওয়ালপিন্ডিতে ৬ উইকেটে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরপর টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ফেরার পর ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দেবে সরকার।

    টেস্ট ফরম্যাটে কখনো হারাতে না পারা পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ জিতেছে লাল-সবুজের দল। টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের ২৪ বছর পর এই সিরিজেই এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়।

    প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটের বিশাল জয়ের পর এবার দ্বিতীয় টেস্টেও এলো অসামান্য এক জয়।

    জয়ের পরপরই টাইগার কাপ্তান শান্তকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন,জয়ের পর তিনি মঙ্গলবার বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্তকে ফোন করে এ অভিনন্দন জানান। তিনি শান্ত ও গোটা দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    অভিনন্দন বার্তায় ড. ইউনূস বলেন, সরকার ও আমার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন। তোমাদের কারণে আজ গোটা জাতি গর্বিত।

    জয়ের পরপর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফোনে করে তাকে এবং দলকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

  • টেস্টে বিদেশের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য?

    টেস্টে বিদেশের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য?

    পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই সিরিজ জয়কে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে দেখছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

    টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সাফল্য এসেছে কালেভদ্রে। যেটুকু সাফল্য এসেছে তার বেশিরভাগই আবার ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলে। তবে এবার পাকিস্তানে ঘটেছে ব্যতিক্রমী ঘটনা।

    পেস সহায়ক উইকেটেও নিজেদের জহর দেখিয়েছেন টাইগার স্পিনাররা। আবার পেসাররাও পিছিয়ে ছিলেন না। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তো পাকিস্তানের দশ উইকেটের সবকটি পেসাররাই ঝুলিতে পুরেছেন। আর ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক-লিটনরা দলকে আস্থা জুগিয়েছেন।

    সবমিলিয়ে টিম পারফরম্যান্সে বিদেশের মাটিতে এমন ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান বলছে, জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর তৃতীয় কোনো দেশের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয় করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ২০০৯ সালে সিরিজ জয় করেছিল বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুয়ের মাঠে তাদের বিপক্ষে ২০২১ সালের সিরিজ জয়ের ব্যবধান ছিল ১-০। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিরিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ জয় নিশ্চিতভাবেই আগের দুই সিরিজের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবে।

  • দেশের ৭ বিভাগে নতুন রেঞ্জ ডিআইজি

    দেশের ৭ বিভাগে নতুন রেঞ্জ ডিআইজি

    ঢাকাসহ দেশের ৭ বিভাগে সাতজন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) পদায়ন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ পদায়ন করা হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী- শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) একেএম আওলাদ হোসেনকে ঢাকা রেঞ্জে পদায়ন করা হয়েছে; পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) আহসান হাবিব পলাশকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে, এসবির পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনকে (সুপার নিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) রাজশাহী রেঞ্জে এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আশরাফুর রহমানকে (সুপার নিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া এসবির পুলিশ সুপার (সুপার নিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মুশফেকুর রহমানকে সিলেট রেঞ্জে পদায়ন করা হয়েছে; সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত পুলিশ সুপার (সুপার নিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলমকে বরিশাল রেঞ্জে ও ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি মো. রেজাউল হককে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

  • নিয়োগ বাতিল হলো ৩ রাষ্ট্রদূতসহ ২৪ কর্মকর্তার

    নিয়োগ বাতিল হলো ৩ রাষ্ট্রদূতসহ ২৪ কর্মকর্তার

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বাদে প্রশাসন ক্যাডারের ২৪ জনের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    এতে বলা হয়, সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে এসব কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো।

    জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে।

  • বরিশালের ৫৩ চেয়ারম্যান পলাতক, সেবা ব্যাহত

    বরিশালের ৫৩ চেয়ারম্যান পলাতক, সেবা ব্যাহত

    অনলাইন ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বরিশালের ৫৩ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সেই সাথে বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও মামলার শিকার হয়েছেন ১৩ জন চেয়ারম্যান।

    আবার কোথাও কোথাও চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। যদিও আত্মগোপনে থাকা অনেক ইউপি চেয়ারম্যানরা গোপনে অফিসে গিয়ে স্বাক্ষর করে আসছেন, কেউ বা সচিবের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাইল নিয়ে তাতে স্বাক্ষর করছেন।

    আবার কেউ কেউ গোপনে অফিসে এসে ছবি তুলে গোপনেই চলে যাচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানের দাবী হামলা মামলার ভয়ে তারা প্রকাশ্যে আসছেন না। সেক্ষেত্রে জেলার ৮৮ জন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে মাত্র ২৯ জন স্বশরীরে পরিষদে এসে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার ১০ উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও নারী ইউপি সদস্য মিলে সহস্রাধিক জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরে জেলার বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

    কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন সুবিধামত স্থানে। নিজ কার্যালয়ে আসছেন না অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি। এতে জন্মসনদ, মৃত্যুনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ কোনা প্রকার সেবা পাচ্ছে না নাগরিকরা।

    আলী আশরাফ নামে কলসকাঠি ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে জন্মনিবন্ধনের কাজে পরিষদে আসলেও চেয়ারম্যান-মেম্বার কাউকে পাইনি।

    জরুরি প্রয়োজন থাকলেও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের জন্য ভোগান্তিতে পড়েছি। বিষয়গুলো বিবেচনা করে সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দ্রুত একটি নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

    আবুল কালাম নামে আরেক সেবাপ্রার্থী বলেন, জানিনা কতদিন আমাদের এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হবে। সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে দ্রুত কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি করছি। এদিকে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে সচিব ও উদ্যোক্তাদের দেখা গেছে।

    জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বাপ্পি অফিসে আসেন না, রয়েছেন আত্মগোপনে।

    একই অবস্থা আন্দারমানিক ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খোকন, বিদ্যানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহে আলম মীর, চাঁনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাহাউদ্দিন ঢালী, গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান বেল্লাল মোল্লা, চরএককরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মকিম তালুকদার, চরগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সামছুল বারী (মনির), জাংগালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের ফরাজী, মেহেন্দিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেঃ হারুন-অর-রশীদ ও জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনির হাওলাদারের।

    এছাড়া উপজেলার লতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু রাশেদ মনি’র বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    মামলা নিয়ে পালাতক অবস্থায় রয়েছেন উলানিয়া (দক্ষিণ) ইউপি চেয়ারম্যান মিলন চৌধুরী ও উলানিয়া (উত্তর) ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম জামাল মোল্লা।

    এছাড়া এই উপজেলার ভাসানচর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম চুন্ন অসুস্থ থাকায় তিনি পরিষদে আসতে পারছেন না। উপজেলার দড়িচরখাজুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা রাড়ি গত এক সপ্তাহ আগে স্টক করে ইন্তেকাল করেছেন।

    উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইফসুফ হাওলাদারের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    সাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার সম্প্রতি মাছের ঘের নিয়ে দ্বন্দের জেরে ঘটে যাওয়া ডাবল হত্যা মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

    এ ছাড়া আত্মগোপনে রয়েছেন বরাকোটা ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট মো: সহিদুল ইসলাম মৃধা, গুঠিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: আওরাঙ্গজেব, হারতা ইউপি চেয়ারম্যান অমল মল্লিক, জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান বেবী রাণী দাস, ওটরা ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ. খালেক ও শোলক ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল হালিম। তবে উপজেলার শিকারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল মাঝি অসুস্থ থাকায় তিনিও পরিষদে যেতে পারছেন না।

    বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুরে আলমের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এ ছাড়া উপজেলার মাধবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান বরিশাল জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় পালাতক অবস্থায় রয়েছেন।

    স্বশরীরে পরিষদে আসছেন না জাহাঙ্গীরনগর (আগরপুর) ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান খান, চাঁদপাশা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান।

    তবে নিয়মিত অফিস করছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আক্তার-উজ-জামান মিলন। তার দাবী, সব সহ্য করে তিনি পরিষদ পরিচালনা করছেন।

    বানারীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আঃ জলিল ঘরামী হামলা ভাংচুরের শিকার হয়েছেন। মামলা খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন চাখার ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুজিবুল ইসলাম টুকু।

    এছাড়া আত্মগোপণে রয়েছেন বিশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম শান্ত, ইলুহার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম। তবে উদয়কাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রাহাদ আহম্মেদ ননি আমেরিকার সিটিজেন হওয়ায় প্রায় সব সময়ই তিনি দেশের বাহিরে থাকেন।

    এই উপজেলায় পরিষদ চালাচ্ছেন বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান শ্যামল চক্রবর্ত্তী, সলিয়াবাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: সিদ্দিকুর রহমান ও সৈয়দকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন মৃধা।

    গৌরনদী উপজেলার বার্থী আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার, বাটাজোর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আঃ রব হাওলাদার ও নলচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা আত্মগোপনে রয়েছেন। নানা কৌশলে অফিস করছেন মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু অফিস, চাঁদশী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুর আলম সেরনিয়াবাত ও শরিকল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক হোসেন মোল্লা। হিজলা উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা পরিষদে আসলেও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসছেন না। তারা হচ্ছেন ধুলখোলা ইউপি চেয়ারম্যান জামাল ঢালী, হরিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তৌফিকর রহমান, বড়জালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এনায়েত হোসেন হাওলাদার, গুয়াবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান তালুকদার, হিজলা গৌরবদী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম মিলন ও মেমানিয়া মোঃ নাসির উদ্দিন।

    মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: জসিম উদ্দিন হামলার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানরা নানা কৌশল করে পরিষদে আসছেন। এরা হচ্ছেন বাটামারা ইউপি চেয়ারম্যান মো: সালাহ উদ্দিন, চরকালেখা ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, কাজিরচর ইউপি চেয়ারম্যান মো: মন্টু বিশ্বাস, মুলাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান, নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: মোস্তাফিজুর রহমান ও সফিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবু মুসা।

    আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস ও রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াস তালুকদার আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে অফিস করছেন বাগধা ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল হোসেন ও রত্নপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার। জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আশ্রাফুজ্জামান খান থোকন অফিসে আসেন না। একই ভাবে অফিসে আসছেন না চরামদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাহাব উদ্দিন খোকন, কলসকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না। চরাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৫ আগষ্টের অনেক আগেই দেশ ছেড়ে আমেরিকা চলে গেছেন। এছাড়া অন্যান্য ইউপির চেয়ারম্যানরা বিশেষ কাজ ছাড়া অফিসে আসছেন না। যেমন দাড়িয়াল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সহিদুল ইসলাম হাওলাদার, দুর্গাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মো: হানিফ তালুকদার, ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম শফিকুর রহমান, গারুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম কাইয়ুম খান, কবাই ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল হক তালুকদার, নলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আ.স.ম ফিরোজ আলম খান, পাদ্রিশিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল হাসান, রঙ্গশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বশির উদ্দিন। এছাড়া নিয়মিত অফিস চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়ামতি ইউপি চেয়ারম্যান মো: হুমায়ুন কবির ও দুধল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম মোর্শেদ খান।

    বরিশাল সদর উপজেলার কাশীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন মোল্লার বাড়িতে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। একই অবস্থা রায়পাশা-কড়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহরিয়ার বাবু এলাকায়।

    সেখানে ইতোমধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যানও গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আত্মগোপণে রয়েছেন চাঁদপুরা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদ হোসেন, চরবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাহতাব হোসেন সুরুজ, শায়েস্তাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আরিফুজ্জামান মুন্না ও টুংগীবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাদিয়া রহমান।

    অফিস করছেন চন্দ্রমোহন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল হক, চরমোনাই ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মো: জিয়াউল করিম ও জাগুয়া ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়াতুল্লাহ খান। যে সব জায়গায় চেয়ারম্যানরা অনুপস্থিত রয়েছেন সেখানে কাজ চালিয়ে নিতে প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালন করতে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। এমন অবস্থায় কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে বরিশালের বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাবুগঞ্জের এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমি এলাকায় আছি, পরিষদেও যাই। যদি সরকার চায় পদে থাকবো, না চাইলে সরে যাবো”।

    বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, গত ৫ তারিখ থেকে অনেক ইউপি চেয়ারম্যান অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের পরিষদ আসার জন্য বলা হয়েছে। অনেকেই সমন্বয় কমিটির মিটিং আসেছেন।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগ বরিশালের উপ-পরিচালক গৌতম বাড়ৈ বলেন, কর্মস্থলে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছিল। পরে আমরা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছি। যে সব ইউপিতে চেয়ারম্যানরা কোন ভাবেই আসতে পারছে না সেখানে নিবন্ধক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

  • বন্যায় মৃত বেড়ে ৬৭, সবচেয়ে বেশি ফেনীতে

    বন্যায় মৃত বেড়ে ৬৭, সবচেয়ে বেশি ফেনীতে

    টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

    সোমবার বিকাল ৩টার দিকে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    মন্ত্রণালয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বন্যা আক্রান্ত জেলার ১১টি জেলা হলো– ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, সিলেট, লক্ষীপুর ও কক্সবাজার। চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। মৌলভীবাজার এর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে।
    বন্যা প্লাবিত উপজেলা ৬৮টি। ক্ষতিগ্রস্ত ৫০৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৬৭টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে।

    বন্যায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪২ জন, নারী ৭ জন ও শিশুর সংখ্যা ১৮। কুমিল্লায় মারা গেছেন ১৭ জন, ফেনীতে ২৬ জন, চট্টগ্রামে ৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১ জন, নোয়াখালীতে ১১ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় ১ জন, লক্ষীপুরে ১ জন, কক্সবাজারে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন। মৌলভীবাজারে নিখোঁজ আছেন ১ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পানিবন্দি লোকদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় মোট ৩ লাখ ৬ হাজার ৭৪১ জন লোক এবং ৩২ হাজার ৮৩০টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে মোট ৪৭২টি মেডিক্যাল টিম চালু রয়েছে।

  • অবসরে পাঠানো হলো পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৪ কর্মকর্তাকে

    অবসরে পাঠানো হলো পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৪ কর্মকর্তাকে

    পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তা ও উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

    সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের এ ৪ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

    বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাগণ হলেন- পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক খন্দকার লুৎফুল কবির বিপিএম-সেবা, পিপিএম-সেবা; ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মীর রেজাউল আলম বিপিএম (বার); নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বিপিএম-সেবা, পিপিএম-বার এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (চলতি দায়িত্বে) মো. ইমাম হোসেন বিপিএম-সেবা।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে তাদের অবসর দেওয়া হলো। তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সুবিধা পাবেন।

  • রেকর্ড গতিতে বল করে নাহিদের চমক

    রেকর্ড গতিতে বল করে নাহিদের চমক

    বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে গতিময় বোলার এখন নাহিদ রানা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৫২ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে এই রেকর্ডের মালিক বনে যান তিনি।

    নাহিদের আগে এই রেকর্ড ছিল আরেক পেসার রুবেল হোসেনের দখলে। ১৪৯.৫ কিলোমিটার গতিতে বল করে সে রেকর্ড নিজের নামে করেছিলেন রুবেল।

    তবে ১৫০ কিলোমিটারের মাইলফলক পার করা প্রথম বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানা-ই। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে এই রেকর্ড গড়েন তিনি।

    আগুনে বোলিংয়ে এদিন ৪ উইকেট শিকার করেছেন নাহিদ। শান মাসুদ, বাবর আজম, সৌদ শাকিল ও আবরার আহমেদের উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন এই এক্সপ্রেস বোলার।