Blog

  • মালয়েশিয়ায় ট্রেলার ও লরির সংঘর্ষে বাংলাদেশিসহ নিহত ২

    মালয়েশিয়ায় ট্রেলার ও লরির সংঘর্ষে বাংলাদেশিসহ নিহত ২

    মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যে ট্রেলার ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশিসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেমেরলোহ জেলা পুলিশপ্রধান সহকারী কমিশনার মাজলান হাসান।

    বুধবার হারিয়ান মেট্রোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের মধ্যে একজন ৩৭ বছর বয়সি বাংলাদেশি এবং অন্যজন ৩৫ বছর বয়সি পাকিস্তানি। এছাড়াও এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

    আহত তিনজন হলেন- ২৮ বছর বয়সি লরিচালক, ৩০ বছর বয়সি বাংলাদেশি ট্রাকের হেলপার এবং ৩৮ বছর বয়সি ট্রেলারচালক। তারা সুলতান হাজী আহমদ শাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রাজ্যের রউব জেলা থেকে লরিচালক কুয়ানতান যাচ্ছিলেন। পথে লরিচালক রাস্তার বাম দিকে মোড় নেন। বিপরীত লেনে প্রবেশের আগে মূল লেনে পুনরায় প্রবেশ করলে হঠাৎ ট্রেলারটি সামনে থেকে আসে। সঙ্গে সঙ্গে লরির সামনের অংশে ধাক্কা মারে এবং দুটি গাড়িই ২০ মিটার রাস্তার ডান দিকের একটি গিরিখাতে পড়ে যায়।

    পুলিশ জানায়, পাহাং রাজ্যের লানচ্যাংয়ের বুকিত দামারের প্রধান সড়ক থেকে লরিটি ছিটকে গিয়ে একটি ট্রেলারের সাথে ধাক্কা খেয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে দুটি গাড়ির আরোহী মাথায় আঘাত পান। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাদের লানচ্যাং হেলথ ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

    মরদেহ দুটির ময়নাতদন্ত করা হবে এবং সড়ক পরিবহণ আইন (এপিজে) ১৯৮৭ এর ৪১ (১) ধারায় মামলাটি তদন্ত করা হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

  • প্রভাবশালীদের নামে-বেনামে ঋণ আত্মসাতের হিসাব হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রভাবশালীদের নামে-বেনামে ঋণ আত্মসাতের হিসাব হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করা শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নামে-বেনামে কত টাকা ঋণ আত্মসাৎ করেছে, তার হিসাব করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং তা বিদেশে পাচার করেছেন, যার সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলমান।

    এ আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ লক্ষাধিক কোটি টাকার ওপরে মর্মে ধারণা করা যায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    প্রভাবশালীদের নাম উল্লেখ না করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে ইতোমধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত এসব অর্থের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে অডিট কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের প্রতি সরকারের কঠোর মনোভাবের ইঙ্গিত করে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বলা হয়, ব্যাংকসমূহের নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইউই, সিআইডি ও দুদকের সহায়তা নিয়ে আত্মসাৎকারীদের স্থানীয় সম্পদ অধিগ্রহণ ও বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে। অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা চেয়ে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে সরকার।

    শীঘ্রই ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বলা হয়, কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যাংকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করবে এবং ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনের জন্য ছয়মাসের মধ্যে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের লক্ষ্য হলো সকল আর্ন্তজাতিক মানদণ্ড পরিপালনে সক্ষম একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত গড়ে তোলা। তবে এই উদ্দেশ্যে সফল করতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময়, আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা ও অর্থের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার অর্থ আত্মসাৎকারীদের দেশি-বিদেশি সম্পদ অধিগ্রহণ এবং বিদেশ হতে ফেরত এনে ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে।

    ব্যাংকগুলোর এই পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কার সময় সাপেক্ষ ব্যপার। তবে সরকার বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার ব্যপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। -বাসস

  • শেরপুর প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন নিয়ে জেলা বিএনপির প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    শেরপুর প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন নিয়ে জেলা বিএনপির প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    শেরপুর প্রতিনিধি:

    শেরপুর প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শেরপুর জেলা বিএনপি। গতকাল সোমবার রাতে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাহমুদুল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক মো. হজরত আলীর যৌথ স্বাক্ষরে বিজ্ঞপ্তিটি দেওয়া হয়।
    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিগত ২১ আগস্ট শেরপুর প্রেসক্লাবের কাকন রেজাকে সভাপতি ও মাসুদ হাসান বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে ২২ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির নেতারাসহ আমরা কেউ অবগত নই। জেলার সব সাংবাদিকের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সুন্দর ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করার আউবান জানান।’

    শেরপুর প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ২১ আগস্ট শেরপুর প্রেসক্লাবের কয়েক জন সাংবাদিক গোপনে বৈঠক করে সৈরাচারী কায়দায় ২২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করেন এবং প্রেসক্লাব নিয়ে আদালতে মামলা থাকার পরেও গুটি কয়েক সাংবাদিক প্রেসক্লাবের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এই কমিটি ২২ তারিখ সকালে প্রকাশ হলে আন্দোলন শুরু করে জেলার প্রায় শতাধিক গনমাধ্যমকর্মী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।

    পরবর্তীতে কমিটির বাইরে থাকা শতাধিক সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা বিএনপির সভাপতি সাধারন সম্পাদককে বিষয়টি অবগত করেন। পরে সভাপতি সাধারন সম্পাদক সাংবাদিকদের আশ্বস্থ্য করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

    এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হজরত আলী বলেন, আন্দোলনরত সাংবাদিকদের কাছ থেকে আমি জানতে পারি, গনতান্ত্রিক উপায়ে শেরপুর প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন না করে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক মিলে প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন করেছে। এটা করাতে শেরপুর জেলার বহু সাংবাদিক আন্দোলন শুরু করে দেয় এবং বিএনপি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিএনপির নাম করে তারা এই কমিটি করেছে তাই আমরা সভাপতি সাধারন সম্পাদক মিলে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।

    প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জ্বল বলেন, প্রেসক্লাব নিয়ে বিবাদমান দুটি গ্রুপের আদালতে মামলা থাকার পরেও দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে কতিপয় সাংবাদিক চড় দখলের মতো প্রেসক্লাবের তালা ভেঙে প্রবেশ করা এবং কমিটি গঠন করা আদালত অবমাননার শামিল। বিএনপি বিষয়টি নিয়ে যে প্রেস বিজ্ঞপ্তী দিয়েছে সেটি সময়পযোগী সিদ্ধান্ত।

  • বরিশালে শিক্ষিকাকে পিটিয়ে জখম

    বরিশালে শিক্ষিকাকে পিটিয়ে জখম

    বরিশালের মুলাদীতে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় স্কুল শিক্ষিকাকে পিটিয়ে জখম ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার তিনজনের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় মামলা হয়েছে।

    গত ২৪ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চরসাহেবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুনা বেগমকে পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। চরসাহেবরামপুর গ্রামের রিপন সরদার ও তার সহযোগীরা এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষিকার স্বামী এসএম রাহাত হোসেন। তবে রিপন সরদার মাদক ব্যবসা ও হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

    এসএম রাহাত হোসেন অভিযোগে উল্লেখ করেন, রিপন সরদার, তার সহযোগী সাকিল সরদার ও সাকিব খানসহ কয়েকজন এলাকায় মাদক ব্যবসা করেন। এতে চরসাহেবরামপুর গ্রামের কিশোর ও যুব সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। তাই কয়েক দিন আগে স্কুলশিক্ষিকা রুনা বেগম এলাকায় মাদকবিরোধী প্রচারণা করেন এবং রিপন ও তার সহযোগীদের মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করেন। এতে রিপন ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৪ আগস্ট বিকালে শিক্ষিকার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ওই দিনই মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করেন। মঙ্গলবার রাহাত হোসেন বাদী হয়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পাশাপাশি হিজলা সেনাবাহিনী ক্যাস্পেও অভিযোগ দেন।

    এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, শিক্ষিকার ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনের নামে অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের যে আলোচনা হলো

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের যে আলোচনা হলো

    রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মঙ্গলবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বৈঠকে তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা জোরদারের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এ সময় তাকে বলেন, সার্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো সম্পর্কের মডেল হতে পারে। পারস্পরিক স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

    বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশে চলমান বন্যায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও দেশের জনগণ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

    হাইকমিশনার পাকিস্তানি নাগরিকদের বাংলাদেশে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর অনুরোধ করেন।

    তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থায় সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

    রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রথম টেস্ট জয়ের জন্য অভিনন্দনও জানিয়েছেন এই হাইকমিশনার।

  • ঢাবির নতুন ভিসিকে নিয়ে মন্তব্য, রনির তীব্র সমালোচনা

    ঢাবির নতুন ভিসিকে নিয়ে মন্তব্য, রনির তীব্র সমালোচনা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৩০তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। গতকাল সোমবার ভিসি হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর তাকে নিয়ে অফলাইন ও অনলাইনে চলছে নানা আলোচনা। বেশিরভাগ মানুষই তার যোগ্যতার কারণে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। 

    সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে অনেকেই স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একজন যোগ্য ভিসি পেল। কেউ কেউ বলছেন, ঢাবি সুযোগ্য স্বৈরাচারমুক্ত ভিসি পেল।

    আবার কেউ কেউ তিনি ঢাবির শিক্ষার্থী নন, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নেই, সাম্প্রতিক আন্দোলনে ভূমিকা নেই- ইত্যাদি বলে এ নিয়োগের সমালোচনা করছেন। 

    মঙ্গলবার পটুয়াখালী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনিও নতুন ভিসিকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, অগ্নিগর্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ের শত বছরের ঐতিহ্য পদদলিত করে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশের একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোভিসি হিসেবে কর্মরত শিক্ষককে ধরে এনে যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আমি সেই নিয়োগ মানি না। আমি প্রতিবাদ করছি এবং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি সেই অপচেষ্টাকে যারা রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার ছায়াঘেরা আমার প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থির করার চেষ্টা করছেন।

    রনির এমন স্ট্যাটাসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেটিজেনরা। কমেন্টবক্সে তারা রনির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। অনেকেই তাকে স্বৈরাচারের দোসর বলে অভিযুক্ত করেন। কেউ কেউ বলেন, রনি লীগের সাবেক এমপি, মানুষ সেটা ভালো করে জানে। তিনি আসলে দলত্যাগ করলেও আদর্শ ত্যাগ করতে পারেননি। অনেকেই বলেছেন, রনি আওয়ামী লীগই রয়ে গেলেন। মানুষ হতে পারেনি। অনেকেই আবার রনিকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ড. ফয়জুল হক নামে এক ব্যক্তি বলেন, নতুন ভিসিকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই প্রথম একজন যোগ্য মানুষ সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়ায় বাংলার সব ছাত্র-জনতা আনন্দিত। দেশ ও মানবতা এগিয়ে যাবে সেই প্রত্যাশা করছি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ও সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বর্তমান এই সরকারই দেশবাসীর সরকার।

    মেহেদি হাসান লিখেছেন- পরিবর্তন যদি ভালোর জন্য হয়, তবে সেই পরিবর্তনকে আমরা স্বাগতম জানাই। 

    রাকিবুল আহসান মিনার বলেছেন, অক্সফোর্ডসহ বিশ্ববিখ্যাত সব ইউনির্ভাসিটি ও ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষা লাভকারী ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানকারী মানুষটা অযোগ্য, আর দলীয় চাটুকারদের নিয়োগ দেওয়া ছিল যোগ্যতার পরিচয়? আপনার এ মায়াকান্নার অদৃশ্য পানিতে আপনার মুখোশই ধুয়ে যাচ্ছে! আপনার মানসিক সেই আওয়ামী নগ্নতা প্রকাশিত হতে শুরু করেছে।

    জাকির হোসাইন বলেছেন, একজন ভালো মানুষ যে কোনো জায়গা থেকে আনা যায়।

    মোহাম্মদ শফিকুল্লাহ বলেছেন, আগের চা-সমুচা আর সিঙ্গারা বিক্রেতা যারা ভিসি ছিল তাদের নিয়ে কোনো মুখ খুলেননি! আজকে স্বাধীনভাবে মুখ খুলছেন।

    জাহিদুল ইসলাম বলেন, আপনার রাগ অভিমানের জন্য অতীতেও কারো ক্ষতি হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

    আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের লিখেছেন, ঢাবির ইতিহাসে সেরা ভিসি পেতে যাচ্ছে দেশবাসী, ইনশাআল্লাহ।

    আতিকুল্লাহ হিল আশরাফি বলেছেন, ঢাকা ভার্সিটিতে গণহত্যায় এরকম হম্বিতম্বি করে কথা বলার তো দুঃসাহস দেখি নাই ভাই আপনার। 

    সোহেল রানা বলেছেন, উনাকে অ্যানালাইসিস করে দেখছি উনি নেতা হতে চান। বৃষ্টির দিকে ছাতা সর্বদাই প্রস্তুত রাখেন তিনি। তিনি প্রতি মুহূর্তে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন।

    মোহাম্মদ জিয়াউর রাহমান লিখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থেকে নিয়ে সরকারের কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সবাই গণভবনে যাত্রা করতেন। তখন আপনার ঐতিহ্য কোথায় ছিল।

    সোলায়মান হোসাইন লিখেছেন, এই মুখোশ পরা লীগটাকে বিএনপি থেকে আলাদা করা দরকার।

    মিজানুর রহমান লিখেছেন, ভাই আদা পচলে ঝাল থাকে, ব্যক্তিত্ব নষ্ট হলে কিছুই থাকে না।

    নাজিম উদ্দিন লিখেছেন, দীর্ঘদিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একজন যোগ্য উপাচার্য পেয়েছে। অভিনন্দন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস সোয়ানসি, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ ও গবেষণা করা অধ্যাপক খান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে একাডেমিক ও কার্যকরী ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টের উন্নয়নে অবদান রাখছেন।

    তারেক আহমেদ খান লিখেছেন, দলীয় প্রভাবমুক্ত ভিসি ছাত্র-জনতার পছন্দ। 

    মমিনুর রশিদ লিখেছেন, যতকিছুই হোক, রনি ভাই কিন্তু আওয়ামী লীগকে মিস করেন। কারণ তিনি কট্টর আওয়ামীপন্থি।

    এএম জোবায়ের লিখেছেন, আপনার এই আবেদনটা আমি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম। আমার মনে হয় সর্বকালের সেরা ভিসি পেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অভিনন্দন নতুন ভিসি স্যারকে। 

    মো. হেলাল উদ্দিন লিখেছেন, যদি যোগ্য হয় তাহলে সমস্যা কোথায়?

    শাকিব উদ্দিন লিখেছেন, যোগ্য লোকদের নিয়োগ দিলে এত জ্বলে কেন?

    রনিকে ট্যাগ করে মুফতি আলাউদ্দিন বলেছেন, একটা কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি, এ দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন আপনারা। কঠিন হাশর ময়দানে এর জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে।

    নুরুদ্দিন রিয়াজ বলেছেন, দেশ স্বাধীন করেছেন ছাত্র-জনতা, তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কে ভিসি পদে থাকবে আর কে নিয়োগ পাবে। আপনি মানার কে? আর না মানারই বা কে? আপনি আওয়ামী লীগই রয়ে গেলেন। মানুষ আর হতে পারলেন না।

    ইমাম হোসাইন হৃদয় লিখেছেন, শাহবাগ খোলা আছে, আন্দোলন করুন। হাসিনার সময় তো নামেন নাই, এখন নামুন, পোলাপান উত্তম-মাধ্যম দিয়ে দেবে।

    আবু তাহের তালুকদার লিখেছেন, আপনে যে লীগের সাবেক এমপি, সেটা মানুষ ভালা করি জানে। 

    ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব বলেছেন, আপনি কিন্তু এক সময়ের স্বৈরাচারের দোসর।

    হেলাল শাহাদাত লিখেছেন, আপনার কু-চেহারা, ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী প্রেতাত্মা হিসেবে আপনার পরিচয় আবার প্রকাশ হলো শান্তিপ্রিয় জাতির সামনে।

    রেদওয়ান চৌধুরী লিখেছেন, আপনে পল্টি মারবেন, সেটা জানি; কিন্তু এত তাড়াতাড়ি পল্টি মারবেন, সেটা তো জানতাম না।

    গাজী ইকবাল হোসাইন লিখেছেন, আপনার কথায় সবাই হাসি রিয়্যাক্ট দেয়, আপনার রক্তে তো আওয়ামী মিশে আছে। আপনার শরীর থেকে আওয়ামী গন্ধ আসে।

    মাকসুদ হোসাইন লিখেছেন, আপনার জন্য আওয়ামী লীগ ঠিক আছে, সেখানেই ফিরে যান আপনি।

    এসকে মাসুদ রানা লিখেছেন, সম্ভবত আপনার স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে।

    নতুন ভিসিকে নিয়ে মাহবুব বিন মালেক লিখেছেন, উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, এখনো আছেন। লিয়েন বা ছুটি নিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছিলেন। এখানে কিসের সমস্যা? এভাবে তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই বিভিন্ন জায়গায় পড়ান। এর কারণে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না, এমন বিবেচনা আপনি করলেন কী করে? আপনার কাছ থেকে এটা আশা করিনি। আর আপনাদের যদি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক টাইপ, যে কিনা ঢাকা কলেজ থেকে অনার্স করে পরে ঢাবির প্রাইভেট প্রোগ্রাম থেকে মাস্টার্স করে ঢাবির ভিসি হয়েছিলেন, সেই ভিসি বেশি ভালো লাগে, তাহলে আপনাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা।

    আরিফ আল মামুন লিখেছেন, আপনি যেহেতু বিরোধিতা করছেন সুতরাং ভিসি নিয়োগ সঠিক হয়েছে।

    মো. কামাল উদ্দিন বলেছেন, আপনার বক্তব্যে অনেকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজতো, তাদের সঙ্গে সব সময় আপনার পক্ষ হয়ে প্রতিবাদ করতাম, আজকের পর বুঝলাম আসলেই আপনি ষড়যন্ত্রকারী। আপনি ঢাকা কলেজের বিএ পাশ লোককে মানবেন, যদি আপনার দিদি নিয়োগ দেয়; কিন্ত এই সরকার অক্সফোর্ডের সেরা এনে নিয়োগ দিলেও আপনার ভালো লাগবে না। এটার কারণ আপনি বুবুর লোক। উনি বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সেরা সাবজেক্ট উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন, সেই তথ্য না দিয়ে তথ্য বিকৃত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা দুরভিসন্ধিমূলক। আমরা আপনার এ জঘন্য অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই পোস্ট প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

    মাকসুদুর রহমান বলেছেন, আপনি আসলে দলত্যাগ করলেও আদর্শ ত্যাগ করতে পারেননি।

    মো. বিপ্লব বলেছেন, চাটাচাটি করা যাবে না। এজনই কি ভিসি হিসেবে উনাকে মানতে পারছেন না?

  • প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নতুন মহাপরিচালক আবু সাঈদ

    প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নতুন মহাপরিচালক আবু সাঈদ

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবু সাঈদকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) নাফিউল হাসানকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদে বদলি করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

  • ২০ খেলাপির হাতে ৫০০০ কোটি টাকা

    ২০ খেলাপির হাতে ৫০০০ কোটি টাকা

    ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মে গত ১৫ বছর ব্যাপক আলোচনায় ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বিশেষ করে হলমার্ক কেলেঙ্কারির কারণে ২০১১ সালে প্রথম আলোচনায় আসে ব্যাংকটি। শুধু হলমার্ক নয়, টি এন্ড ব্রাদার্স, রূপসী, মডার্ন স্টিলসহ ২০ গ্রাহকের ৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে।

    এক কথায় নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রাহকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রের অর্থে গঠিত ব্যাংকটি। চলতি বছর ব্যাংকটিকে এসব গ্রাহক থেকে আদায়ের লক্ষ্য দিয়েছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ৫ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশই দেওয়া হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে। এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে এর উল্লেখযোগ্য অংশ। চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে আটকা পড়েছে ৫ হাজার ৮১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এসব খেলাপি গ্রাহক থেকে ২ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ বছরের পাঁচ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ১১৪ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক ৯৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর ১২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে পড়েছে, যা মোট ঋণের ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এর বড় অংশই গেছে হাতেগোনা কয়েকজনের পকেটে। প্রভাবশালী এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পারায় সোনালী ব্যাংক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    ব্যাংকটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ মে পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপির তালিকায় আছে টি এন্ড ব্রাদার্স গ্রুপ। সোনালী ব্যাংকের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল শাখায় এই গ্রাহকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৯০ কোটি টাকা। বর্তমানে এই গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন জিনাত ফাতেমা।

    একই শাখায় গ্রাহক হলমার্ক গ্রুপের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৮২ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১০-১২ সালের মধ্যে জালিয়াতি করে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছিল। এসংক্রান্ত মামলায় এখন কারাগারে আছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ।

    জানতে চাইলে হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক শামিম আল মামুন বলেন, ‘হলমার্কের ঘটনা তো ১২-১৩ বছর হয়ে গেছে। ঋণ পরিশোধ করতে হলে চেয়ারম্যান ও এমডির কারামুক্তি প্রয়োজন। তারা মুক্ত হলে সম্পদ বিক্রি করে দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু আদালত কোনোভাবেই তাদের মুক্তি দিচ্ছেন না।’

    তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখার গ্রাহক রূপসী গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ৪৬৫ কোটি টাকা। চতুর্থ অবস্থানে চট্টগ্রামের লালদিঘী করপোরেট শাখার গ্রাহক মডার্ন স্টিল মিলসের খেলাপি ৪৪৮ কোটি টাকা। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রতনপুর গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠান শুধু সোনালী ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ঋণখেলাপি। ট্রাস্ট ব্যাংকের এসংক্রান্ত এক মামলায় রতনপুর গ্রুপের মালিক মাকসুদুর রহমান ও তার দুই ছেলে মিজানুর রহমান এবং মারজানুর রহমানকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

    পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে তাইপেই বাংলা ফেব্রিক্স। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণ ৩৪৮ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে নেওয়া এই ঋণ দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি হয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্যাস সমস্যা আর ক্রয়াদেশ না থাকায় ঋণটি খেলাপি হয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ঋণ পুনঃতপশিল করার চিন্তা আছে।’

    ষষ্ঠ অবস্থানে ফেয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩১৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালে খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন জসিম আহমেদ। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

    এছাড়া নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখার রহমান গ্রুপের ৩১৪ কোটি, লোকাল অফিসের অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০০ কোটি, একই শাখার মুন্নু ফেব্রিক্সের ২৫৫ কোটি, দিলকুশা করপোরেট শাখায় লীনা গ্রুপের ২১৫ কোটি, লালদিঘী করপোরেট শাখায় রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস ২১৪ কোটি, লোকাল অফিসে মাগুরা পেপার মিলসের ২০৩ কোটি, একই শাখার এপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিশিং ১৫৬ কোটি, বিশ্বাস গার্মেন্টসের ১৫৫ কোটি, রেজা জুট ট্রেডিংয়ের ১৫১ কোটি, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ১৩১ কোটি, সোনালী জুট মিলস ১২৭ কোটি, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ১১৪ কোটি, সুপ্রিম জুট অ্যান্ড নিটিংয়ের ১০৪ কোটি এবং শরীফ জুট ট্রেডিংয়ের ৯৩ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে।

  • নারী চিকিৎসককে চুলের মুঠি ধরে মারল রোগী (ভিডিও)

    নারী চিকিৎসককে চুলের মুঠি ধরে মারল রোগী (ভিডিও)

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে হত্যা ও ধর্ষণ নিয়ে দেশটিতে তোলপাড় চলছে। এরমধ্যেই নতুন করে সামনে এলো চিকিৎসককে হেনস্তার একটি ভিডিও। এতে দেখা যাচ্ছে, এক পুরুষ বয়স্ক রোগী নারী চিকিৎসকের চুলের মুঠি ধরে হাসপাতালের বেডের সঙ্গে মাথা ঠোকাচ্ছেন। খবর এনডিটিভির

    এরপর আশাপাশে যেসব চিকিৎসক ছিলেন তারা নারী চিকিৎসককে বাঁচাতে দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং হামলাকারী রোগীকে নিবৃত করেন।

    ঘটনাটি ঘটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রী ভেঙটেশ্বর ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেস (এসভিআইএমএস) হাসপাতালে। হামলার শিকার নারী চিকিৎসক এক চিঠিতে হাসপাতালের পরিচালককে বলেছেন, শনিবার হাসপাতালের জরুরি মেডিসিন বিভাগে কাজ করছিলাম। তখন অপ্রত্যাশিতভাবে বাঙ্গারু রাজু নামের এক রোগীর হামলার শিকার হই। তিনি আমার পেছন থেকে আসেন। আমার চুল ধরে টান দেন এবং জোর করে হাসপাতালের বেডের লোহার রডের সঙ্গে আমার মাথা ঠোকরানো শুরু করেন। ওই সময় আমাকে সাহায্য করার জন্য কোনো নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন না।

    তিনি চিঠিতে আরও বলেছেন, এ ঘটনা হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদি রোগীর হাতে ধারাল কোনো কিছু থাকত তাহলে ঘটনা অন্যদিকে গিয়ে ভয়ানক পরিণতি হতে পারত।

    নারী চিকিৎসকের উপর হামলার পর ওই হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

    তবে হাসপাতালের রোগী কেন দৌড়ে এসে চিকিৎসকের উপর হামলা চালালেন এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো কিছু জানা যায়নি

  • আদালত চত্বরে ইনুকে জুতা-ডিম নিক্ষেপ

    আদালত চত্বরে ইনুকে জুতা-ডিম নিক্ষেপ

    রাজধানীর নিউমার্কেটে দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

    এ সময় ইনুকে উদ্দেশ্য করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টের নিচে জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। একাধিক ডিম ইনুর শরীরে পড়েছে।

    মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে সিএমএম কোর্টের নিচে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবীরা ইনুর গায়ের চামড়া, তুলে নেবো আমরা; ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি ইনুর ফাঁসি চাই বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    এর আগে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ইনুকে সিএমএম কোর্টে আনে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে তাকে বহনকারী গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশের তিনটি প্রটেকশন গাড়ি ছিল।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দারের আদালতে এই রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সোমবার বিকালে উত্তরার একটি বাসা থেকে ইনুকে গ্রেফতার করে ডিবির একটি টিম।

    মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শাহজাহান আলীকে হত্যার অভিযোগে তার মা আয়শা বেগম (৪৫) নিউমার্কেট থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় অজ্ঞানামা। এই মামলায় ইনুকে গ্রেফতার করা হয়।