Blog

  • নামাজ পড়া অবস্থায় কেউ ডাকলে কি করবেন

    নামাজ পড়া অবস্থায় কেউ ডাকলে কি করবেন

    প্রশ্ন: আমি নামাজে থাকা অবস্থায় কেউ আমার নাম ধরে ডাকছিল। বারবার ডাকার কারণে একবার মনে হয়েছিল হাত দিয়ে ইশারা করব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেয়নি। জানার বিষয় হলো- নামাজে থাকা অবস্থায় কারো ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে কি না?

    উত্তর: ফরজ নামাজ পড়া অবস্থায় কারো ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য নামাজ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে হ্যাঁ, কারো জীবন বিপন্ন হচ্ছে এই মুহূর্তে নামাজ ছেড়ে দিয়ে তাকে বাঁচানো সম্ভব, পরিস্থিতি এমন হলে নামাজ ছেড়ে দিতে হবে।

    নফল নামাজ পড়া অবস্থায় আপনার আব্বা-আম্মা আপনাকে ডাকলে যদি মনে করেন এই সময়ে সাড়া না দিলে তারা কষ্ট পাবেন, এবং আপনি যে নামাজে আছেন এ বিষয়ে তারা অবগত নয়, তবে নামাজ ছেড়ে তাদের ডাকে সাড়া দিবেন।

    অন্য কেউ ডাকলে অতীব প্রয়োজন মনে করলে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে বুঝাতে পারবেন যে, ‘আমি নামাযে আছি’। এছাড়া তিলাওয়াতের একটি আয়াত জোরে পড়লে নামাজের কোন ক্ষতি হবে না।

    সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৫০

  • বন্যার পানির স্রোতে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

    বন্যার পানির স্রোতে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদরের আরাগ রোডের বন্যার পানিতে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করার সময় স্রোতের পানিতে ভেসে গিয়ে হাসিব নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত হাসিব (১০) সাদকপুর নোয়াপাড়া প্রবাসী নুরুল আলমের ছেলে। তার মা হাসিনা বেগম দুই ছেলেকে নিয়ে বুড়িচং সদর আরাগ রোডের মাথায় তাহের সরদারের ভাই আবুল বাসারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সে বুড়িচং সালাফিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি এসে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    বুড়িচং থানার ওসি খন্দকার আবুল হাসানাত জানান, মৃত্যুর বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।

    এদিকে নিহত শিক্ষার্থী হাসিবের লাশ দাফনের জন্য তার গ্রামের বাড়ি সাদকপুর নোয়াপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

  • ‘শেখ হাসিনা শপথ ভঙ্গ করেছিলেন : রিমান্ডে আনিসুল হক

    ‘শেখ হাসিনা শপথ ভঙ্গ করেছিলেন : রিমান্ডে আনিসুল হক

    রিমান্ডে থাকা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ডিবিকে জানিয়েছেন, রাগ-অনুরাগের বশবর্তী হয়ে বিভিন্ন সময়ে একগুঁয়েমি সিদ্ধান্ত নিয়ে শেখ হাসিনা তার শপথ ভঙ্গ করেছেন।

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রিমান্ডে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা এই উপলব্ধি ব্যক্ত করেছেন বলে ডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ডিবির জেরার মুখে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। কিন্তু শেখ হাসিনা ওই সময় রাগ করে কোটা বাতিল করে দেন। এর মাধ্যমে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। কারণ, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, কোনো ধরনের রাগ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন না। শেখ হাসিনা সরকারের একজন মন্ত্রী হিসাবে তিনি নিজেও এর দায় এড়াতে পারেন না বলে আনিসুল হক ডিবিকে জানিয়েছেন।

    গ্রেফতারকৃত আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি জানায়, শেখ হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার কারণেই আজ দেশের এই অবস্থা হয়েছে। তিনি কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা-নেতাদের কথা শুনতে চাইতেন না। যেভাবেই হোক তাকে ক্ষামতায় থাকতে হবে-এই মানসিকতা ছিল শেষ পর্যন্ত। পদত্যাগের আগের দিন ৪ জুলাই এক প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, ‘আপনি শিক্ষার্থীদের চোখের ভাষা, মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে আমাকে বলি দিন। ছাত্রদের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করুন।’ প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তবের পর তাকে গণভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত গ্রেফতার হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এই মুহূর্তে যারা ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক এমপি সাদেক খান, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ সোহায়েল, সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।

  • কানাডা হাইকমিশনের সেই দুই নারী কর্মকর্তা ‘উধাও’

    কানাডা হাইকমিশনের সেই দুই নারী কর্মকর্তা ‘উধাও’

    অপর্ণা রাণী পাল ও মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা নামে দুই নারীকে কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে কাউন্সেলর নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের দুজনের চুক্তি বাতিল করা হয়। তাদেরকে ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    কিন্তু ১৪ আগস্ট চুক্তি বাতিলের চিঠি পাওয়ার আগে থেকেই তারা মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন তাদের কোনো খোঁজ নেই। বিষয়টি কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপর্ণা রাণী পাল ও মিথিলা চুক্তি বাতিলের আগেই তাদের অনুকূলে থাকা কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের আবেদন করেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিনে তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের চিঠি ইস্যু করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা সোবহান রোববার সন্ধ্যায় জানান, অপর্ণা রাণী পাল ও মিথিলার চুক্তি বাতিল নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর মিশনে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চিঠি পাওয়ার আগে থেকেই তারা হাইকমিশনে আসা বন্ধ করেছেন এবং মিশনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। ফলে তাদের বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে হাইকমিশনের কাছে কোনো তথ্য নেই।

    চুক্তি বাতিলের চিঠি ওই দুই কর্মকর্তা কীভাবে পেয়েছেন-এমন প্রশ্নে নাহিদা সোবহান জানান, তাদের দুজনকে ই–মেইলে চিঠি পাঠানো হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট বাতিলের জন্য তারা দুজন তদবিরও করেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় ৮ আগস্ট রাতে। এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ওই দিন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অপর্ণা রাণী পাল ও মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা ও তার স্বামী এবং ছেলের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এ–সংক্রান্ত নথিতে দেখে গেছে, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের অনুমোদনের জন্য অপর্ণা রাণী পালের এবং মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা, তাঁর স্বামী ও ছেলের অনুকূলে থাকা পাসপোর্ট বাতিলের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন অনুবিভাগ) ডি এম সালাউদ্দিন আহমেদ ফাইলটি উত্থাপন করেন। ফাইলে পররাষ্ট্রসচিবের অনুমোদন পাওয়ার পর কূটনৈতিক পাসপোর্ট চারটি বাতিলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি কনস্যুলার অনুবিভাগকে পরামর্শ দেন।

  • বিদেশ ভ্রমণে উদার পলক, পিছিয়ে ছিলেন না আমলারাও

    বিদেশ ভ্রমণে উদার পলক, পিছিয়ে ছিলেন না আমলারাও

    বিদেশযাত্রায় সর্বশেষ বিমানবন্দরে গিয়ে ফিরে এলেও ভ্রমণে উদারপন্থি ছিলেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

    তৃতীয় মেয়াদে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে প্রথম কর্মদিবসেই বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেন তিনি। তবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিজেই তা রক্ষা করেননি। বরং বিদেশ ভ্রমণে এতটাই উদার ছিলেন, নিজের একান্ত সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকেও (পিও) বিদেশ সফর করিয়েছেন তিনি।

    পলকের এমন নজিরে পিছিয়ে ছিলেন না আমলারাও। মন্ত্রণালয়, অধীনস্থ দপ্তর, সংস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা যে যেভাবে পেরেছেন, করেছেন বিদেশ সফর।

    বিদেশ সফরসংক্রান্ত সরকারি আদেশ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে সাত মাসের দায়িত্বকালেই নিজেসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা বিদেশ সফর করেছেন। দ্বাদশ সংসদে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শুরুর প্রথম কার্যদিবসেই বছরের প্রথম ছয় মাস আইসিটি বিভাগের সব বিদেশ সফর বন্ধ থাকবে বলে নিষেধাজ্ঞা দেন।
    এমনকি উল্লেখিত সময়ে তিনি নিজে এবং আইসিটি বিভাগের সচিবও বিদেশ সফর করবেন না বলে ঘোষণা ছিল তার। কিন্তু ঘোষণার সাড়ে তিন মাসেই প্রতিমন্ত্রীসহ ২৩ জন বিদেশ সফর করেছেন।

    গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় পলক বলেছিলেন, আমাদের রপ্তানি উপার্জন বাড়াতে হবে, রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে হবে। এর মধ্যে প্রথম পদক্ষেপ যেটি আমার হাতে আছে, আগামী ছয় মাস (জানুয়ারি-জুন) আমি বিদেশে যাব না, সচিব যাবেন না। আইসিটি বিভাগের কেউ বিদেশ সফরে যাবে না। কোনো প্রশিক্ষণে না, কোনো শিক্ষা সফরে না। আমরা আগামী ছয় মাসের জন্য সম্পূর্ণভাবে বিদেশ সফর বন্ধ করে দিলাম।

    তবে মুখে বলা এসব কথার প্রয়োগ বাস্তবে দেখা যায়নি। বিদেশ সফরে এতটাই উদার, সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। গত এপ্রিলে তিনি থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন। এরপর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেন তিনি। তার এ ভ্রমণের খরচ বহন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) একটি প্রকল্প। এ ছাড়াও গত জুনে ফ্রান্সে যান পলক।

    শুধু নিজে ভ্রমণ করেছেন এমনটি নয়। পলকের আশীর্বাদে মন্ত্রণালয়ের সচিব থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পর্যায়ের আমলারাও বিদেশ সফরের সুযোগ পেয়েছেন। ২৬ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ‘মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস-২০২৪’-এ অংশ নিতে স্পেনের বার্সালোনা সফর করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান এবং যুগ্ম সচিব তৈয়বুর রহমান।

    একই অনুষ্ঠানের জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত স্পেন সফর করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ। তার সফরসঙ্গী ছিলেন বিটিআরসির আরও দুই কর্মকর্তা।

    গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত সফরসংক্রান্ত এক আদেশে দেখা যায়, ফ্রান্স সফর করেন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ও সিমিউই ৬ প্রকল্পের পরিচালক মির্জা কামাল আহমেদ। তার সফরসঙ্গী ছিলেন প্রতিমন্ত্রী পলকের ব্যক্তিগত সচিব মুশফিকুর রহমান। তবে সেই আদেশে সফরকালের তারিখ উল্লেখ নেই।

    ২৯ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন পোস্টমাস্টার জেনারেল কার্যালয়ের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল (স্টাফ) নাইমুর রহমান। তিনি সেখানে ‘ব্যবসা উন্নয়ন এবং বিপণন কোর্স’ শীর্ষক একটি ওয়ার্কশপে অংশ নেন। ওই প্রশিক্ষণের খরচ আয়োজক প্রতিষ্ঠান বহন করবেন বলা হলেও ১ জানুয়ারি জারি করা সরকারি আদেশে ‘আয়োজক’ কে বা কারা, সে সম্পর্কে কোনো তথ্যের উল্লেখ ছিল না।

    ডাক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাদিয়া আফরিন বৃষ্টির নামে বিদেশে সফরের অনুমতি দিয়ে আদেশ জারি করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন উল্লেখ করে ওই আদেশে বলা হয়, তার সফরের ব্যয় বহন করবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক।

    ২৬ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি ওয়ার্কশপে অংশ নিতে মালদ্বীপ সফর করেন আইসিটি বিভাগের তৎকালীন যুগ্ম সচিব এটিএম জিয়াউল ইসলাম।

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তারাও পিছিয়ে নেই বিদেশ সফরে। ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি দুবাই সফর করেন কমিশনের উপপরিচালক (এসএস) এসএম তাইফুর রহমান। বিদেশ সফরসংক্রান্ত সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সেখানে ‘আইএসএস ওয়ার্ল্ড (ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট সিস্টেমস ফর ইলেক্ট্রনিক সার্ভেল্যান্স, সোশ্যাল মিডিয়া/ডার্ক ওয়েব অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তার এ সফর। এ সফরের খরচ বহন করবে ‘স্পাইডার ডিজিটাল ইনোভেশন এফজেড এলএলসি’।

    সিঙ্গাপুরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কেন্দ্র সফরের অনুমতি পান বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস (এসএস) বিভাগের চার কর্মকর্তা। জিও অনুযায়ী, ৫ থেকে ৮ মার্চ তারা সেখানে অবস্থান করবেন।

    এ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন – পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম রেজাউর রহমান, জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক তৌসিফ শাহরিয়ার, উপসহকারী পরিচালক কামাল সিদ্দিকী এবং মাসুম খান।

    থাইল্যান্ডের পাতায়াতে ‘এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ’-এর ৩২তম সভায় অংশ নিতে অনুমতি পায় কমিশনের আরেক উপপরিচালক (এসএম) মাহফুজুল আলম। ৪ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত এ সফরের খরচ বহন করবে এশিয়া প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি।

    এছাড়া আইকান কমিউনিটি ফোরামে অংশ নিতে ২ থেকে ৭ মার্চ পুয়ের্টো রিকোতে যান বিটিআরসির উপপরিচালক ড. শামছুজ্জোহা।

    প্রতিমন্ত্রীর বিদেশ সফরের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিদেশ সফর করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারাও। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ইনফরমেটিক্স পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসির) নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার এবং পরিচালক (ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) গোলাম সারওয়ার।

    ২০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাইল্যান্ড সফর করেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ‘বিডিসেট’ প্রকল্পের পরিচালক আমিরুল ইসলাম। এ সফরের খরচ বহন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘এজেড টেকনোলজি’।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন বিটিসিলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) নওরিন তানিয়া, ব্যবস্থাপক (কারিগরি) মেসবাহ সালাউদ্দিন সজিব, ব্যবস্থাপক (কারিগরি) আবদুল্লাহ আল মামুন, ব্যবস্থাপক (কারিগরি) শামীম ফকির, সহকারী প্রকল্প পরিচালক আসিফ আহামেদ এবং ব্যবস্থাপক (কারিগরি) জামরুল ইসলাম।

    ১৯ থেকে ২৫ মার্চ চীন ভ্রমণ করেন পলকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সরকার, টেলিটকের মহাব্যবস্থাপক সালেহ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আলাওল কবির, টেলিটকের সিনিয়র ম্যানেজার সঞ্জয় কুমার সরকার।

    ১৮ থেকে ২২ মার্চ থাইল্যান্ড ভ্রমণের অনুমতি পান ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পোস্ট সেবা) এসএম শাহাব উদ্দিন এবং সেকশন অফিসার হাসানুজ্জামান।

    এ ছাড়াও ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ চীন যান বিটিসিলের ডিজিএম মোহাম্মদ মাসুদ রানা, ডিজিএম রওনক তাহমিনা, ব্যবস্থাপক (কারিগরি) জয়িতা সেন রিমপি, ব্যবস্থাপক (কারিগরি) মিহির রয় এবং নিশা আবদুল্লাহ।

    সফরসংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের এ তালিকা দীর্ঘ। পলকের সর্বশেষ দায়িত্বকালের প্রথম ছয় মাসেই অন্তত অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা বিদেশ সফর করেছেন।

    অভিযোগ আছে, ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠাতে বেশ উদার ছিলেন তিনি। উল্লেখিত সময়ে বিদেশ সফর করেননি আইসিটি বিভাগের এমন এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, এমন কর্মকর্তারা বিদেশ সফর করেছেন, যাদের চাকরির সঙ্গে ওই সফরের কোনো সামঞ্জস্যতা ছিল না।

    অবশ্য তিনি শুধু নিজে বা নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ করিয়েছেন তেমনটি নয়, সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, এমন ব্যক্তিদেরও বিদেশ সফরে পাঠিয়েছিলেন বিদেশ ভ্রমণে উদারপন্থি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

  • ধৈর্য ধরুন, অন্তর্বর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন: জামায়াতের আমির

    ধৈর্য ধরুন, অন্তর্বর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন: জামায়াতের আমির

    সাড়ে ১৫ বছর যেহেতু ধৈর্য ধরেছেন, আরও কিছুটা সময় ধৈর্যধারণ করুন। অন্তবর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। তাদের এভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখলে কাজ করবে কীভাবে?

    সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে এমনটি বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র-জনতার অনুরোধে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাদের কাজ করার সুযোগ দিন।

    আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহকে দেখে ফেরার সময় সাংবাদিকদের জামায়াতের আমির এ কথা বলেন।

    গতকাল রোববার রাতে সচিবালয় এলাকায় আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় হাসনাত আবদুল্লাহ গুরুতর আহত হন।

    জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট দেশে পটপরিবর্তন হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে আন্দোলনের নামে কিছু উচ্ছৃঙ্খল আনসার সদস্য গায়ের জোরে ঢুকে পড়েছিলেন। যাঁরা জীবন দিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে বুলেটের মুখে ফ্যাসিবাদী সরকারকে পলায়ন করতে বাধ্য করেছিলেন, সেই ছাত্ররা এসেছিলেন তাঁদের কথা শোনার জন্য, শান্ত করার জন্য। কিন্তু তাঁরা সবকিছুর সীমা ছাড়িয়ে ছাত্রদের আঘাত করেন। বাধ্য হয়ে ছাত্ররা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহসহ অনেকে আহত হন।

    জামায়াতের আমির আরও বলেন, মাত্রই তো তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এত দিন আপনারা কোথায় ছিলেন? এত দিন দাবি জানাননি কেন? সাড়ে ১৫ বছর যেহেতু ধৈর্য ধরেছেন, আরও কিছুটা সময় ধৈর্যধারণ করুন। তাদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। তাদের এভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখলে কাজ করবে কীভাবে?’ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম জনগণ মেনে নেবে না। এ ধরনের দুঃসাহস আবারও দেখালে জনগণ ক্ষমা করবে না।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হেলাল উদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন, কামাল হোসেন প্রমুখ।

  • এবার ফারাক্কার ১০৯ গেট খুলে দিল ভারত

    এবার ফারাক্কার ১০৯ গেট খুলে দিল ভারত

    ভারতের বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বন্যার জেরে ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খুলে দিয়েছে ভারত। সোমবার গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে একদিনে বাংলাদেশে ঢুকবে ১১ লাখ কিউসেক পানি। বাঁধ খুলে দেওয়ায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদসহ বাংলাদেশেও।

    বন্যা পরিস্থিতি ও পাহাড়ি ঢলের বিষয়ে আগে থেকে বাংলাদেশকে তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

    সোমবার ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবেশী দুই রাজ্যে বন্যার জেরে পানির চাপ পড়েছে। তবে স্বস্তির বিষয়, এখনও নেপাল থেকে পাহাড়ি ঢল নামেনি। ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় পানি বিপৎসীমার ৭৭ দশমিক ৩৪ মিটার ওপর দিয়ে বইতে থাকায় বাধ্য হয়ে গেট খুলতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ফিডার ক্যানেলেও পানির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

    ফারাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর দেশ পাণ্ডে বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ সবসময় এলার্ট রয়েছে। প্রতিমুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে। খুব কম সময়ের মধ্যে যেভাবে পানির চাপ তৈরি হয়েছে তাতে ১০৯ গেটের সবকটি খুলে না দিল ব্যারাজের ওপর বড় চাপ তৈরি হচ্ছিল। বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। আপাতত ফিডার ক্যানেলে ৪০ হাজার কিউসেক ও ডাউন স্ট্রিমে ১১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে।

    এদিকে ২০ আগস্ট থেকে দেশের ১১টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। সেগুলো হলো ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। এসব জেলার ৭৭টি উপজেলা আক্রান্ত হয়েছে। মোট ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৯০১টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৫০ লাখ ৯৩ হাজার ৫৩০।

  • পানির চাপে ভেঙে গেছে মুছাপুর রেগুলেটর

    পানির চাপে ভেঙে গেছে মুছাপুর রেগুলেটর

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বন্যার পানির তীব্র চাপে ভেঙে গেছে মুছাপুর ২৩ ভেন্ট রেগুলেটর। এতে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট এবং ফেনীর সোনাগাজী, দাগনভূঞাসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    সোমবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, উজানের পানি ও ভারি বর্ষণে পানি মুছাপুর স্লুইসগেটের রেগুলেটরের ২৩টি গেট দিয়ে বঙ্গোপসাগরে যায়। সোমবার সকালে পানির তীব্র চাপে ভেঙে যায় রেগুলেটর। এতে ব্রিজও তলিয়ে যায়।

    স্থানীয়রা জানান, তীব্র পানির চাপে আমাদের মুছাপুর ক্লোজার শেষ। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। জোয়ার হলে এখন কোম্পানীগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করা ছাড়া আর উপায় নাই।

    কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, মুছাপুর রেগুলেটরটি পানির চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল বলেন, বিষয়টি জেনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

  • বন্যায় ১১ জেলায় ১২ লাখ পরিবার পানিবন্দি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

    বন্যায় ১১ জেলায় ১২ লাখ পরিবার পানিবন্দি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

    চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৭ লাখ এক হাজার ২০৪ জন।

    সোমবার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান বন্যায় এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন দুইজন।

    এই ২৩ জনের মধ্যে কুমিল্লায় ছয় জন, ফেনীতে এক জন, চট্টগ্রামে পাঁচ জন, খাগড়ছড়িতে এক জন, নোয়াখালীতে পাঁচ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে এক জন ও কক্সবাজারে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

    বন্যা আক্রান্ত ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। মোট ১১ জেলার ৭৪ উপজেলা বন্যা প্লাবিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন/পৌরসভা ৫৫০টি। ১১ জেলায় মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৭ লাখ এক হাজার ২০৪ জন।

    পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য মোট তিন হাজার ৮৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট চার লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

    দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়নি এবং উজানের নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত আছে।

    মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোতে পানি সমতল বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে।

  • আমাকে ছেড়ে দিন, আমি দেশ ঠিক করে দেব

    আমাকে ছেড়ে দিন, আমি দেশ ঠিক করে দেব

    ডিএমপি নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া হকার শাহজাহান আলী হত্যা মামলায় গত ১৩ আগস্ট গ্রেফতার করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে। তিনি এখন রিমান্ডে রয়েছেন। রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ে রিমান্ড চলছে তার।

    ডিবির জিজ্ঞাসায় সালমান এফ রহমান বলেন, আমাকে আটকে রাখলে, আমার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮০ হাজার লোক বেতন পাবে না। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেওয়া হয়েছে সেই ঋণের কিস্তি দিতে পারব না। এতে দেশেরই ক্ষতি হবে। তাই আমাকে ছেড়ে দিন। আমি দেশ ঠিক করে দেব। এ সময় ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি ঠিক করলে এখানেই করুন। কোর্টে গিয়ে কথা বলুন। কিন্তু আপনাকে ছাড়া হবে না। একের পর এক মামলায় কমপক্ষে এক বছর আপনাকে রিমান্ডে থাকতে হবে।’ সালমান এফ রহমানের কাছে ডিবির জিজ্ঞাসা-‘গত নির্বাচনের আগেই তো আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার কথা ছিল। তখন হয়নি কেন?’ উত্তরে সালমান বলেন, আমরা ভারতের মাধ্যমে আমেরিকাকে ঝুঝাতে পেরেছিলাম যে, আমরা আমেরিকার পক্ষেই আছি। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তখন আমাদের এবং ভারতের কথায় আমেরিকা কনভিন্স হয়েছিল। না হলে তখনই আমাদের পতন হয়ে যেত।’

    উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত গ্রেফতার হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এই মুহূর্তে যারা ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক এমপি সাদেক খান, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ সোহায়েল, সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।