Category: ধর্ম

  • যে দুই বিষয়ে ধোঁকা খায় মানুষ

    যে দুই বিষয়ে ধোঁকা খায় মানুষ

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে অগণিত নিয়ামত দিয়েছেন। মানুষ আল্লাহর অপার দানকে গণনা করে শেষ করতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর নিয়ামত গণনা করতে চাইলে তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৩৪)

    ঈমানের পর মানবজীবনে সর্বাধিক মূল্যবান সম্পদ হলো সময়। প্রতিটি মুহূর্ত অপার সম্ভাবনা নিয়ে আসে মানুষের কাছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে পাওয়া অবসর সময়েও অনেক কিছু করা যায়। সময়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ কাজে লাগিয়ে কল্পনাতীত সাফল্য অর্জন সম্ভব। অবসর সময় সবার কাছে খুবই গুরুত্ববহ। সময়ের এই ভগ্নাংশগুলো অনেকে অবহেলায় কাটিয়ে ফেলে। তাই অবহেলা ও আলস্যে গুরুত্বপূর্ণ কাজও অনেক সময় করা সম্ভবপর হয় না। হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, ‘হে আদমের সন্তান, তুমি নিজেই দিনের সমষ্টি। একটি দিন অতিবাহিত হওয়া মানে তোমার একটি অংশ হারিয়ে যাওয়া।’

    তেমনি সুস্বাস্থ্যও একজন মানুষের অমূল্য সম্পদ। অসুস্থ হওয়ার পর সুস্থতার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। একজন মানুষের সময় ও সুস্বাস্থ্যের প্রতি সর্বাবস্থায় গুরুত্বারোপ করা উচিত। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ এ ব্যাপারে খুবই উদাসীন থাকে। যথাসময়ে সচেতন না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে বেশির ভাগ মানুষ ধোঁকা ও প্রতারণার শিকার হয়। তাই বলা হয়, সুস্থ ব্যক্তির মাথার মুকুট হলো সুস্থতা, যা শুধু অসুস্থ ব্যক্তিই উপলব্ধি করে।

    রাসুল (সা.) সবাইকে অবসর সময় ও সুস্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্বারোপের নির্দেশ দিয়েছেন। আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে বেশির ভাগ মানুষ ধোঁকাগ্রস্ত হয়। একটি হলো সুস্থতা। অপরটি হলো অবসর সময়।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৬৪১২)

    আল্লামা ইবনুল জাওজি (রহ.) বলেছেন, ‘অনেক সময় মানুষ নানা কর্মে ব্যস্ত থাকায় আখিরাতের কোনো কাজের সময় পায় না। অনেক সময় পেলেও সুস্থ থাকে না। কেউ কেউ সুস্থতা ও সময় পেলেও অলসতায় তা কাটিয়ে দেয়। উপরোক্ত হাদিসে এই ব্যক্তিকেই ধোঁকাগ্রস্ত বলা হয়েছে। বস্তুত দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। এখানকার ব্যবসার প্রতিদান আখিরাতে থাকবে। তাই সুস্থতা ও সময়কে কাজে লাগিয়ে কেউ আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকলে সে-ই প্রকৃত বিচক্ষণ ব্যক্তি। আর আল্লাহর অবাধ্যতায় অবসর সময় কাটালে সে প্রতারিত লোক। একসময় সে অসুস্থ হয়ে পড়বে। অবসর সময়ও পাবে না। আর বার্ধক্যের করাল গ্রাসে তো সবাই একসময় আক্রান্ত হবে। তখন আর কোনো কিছু করার সামর্থ্য থাকবে না।’ (ফাতহুল বারি, ১৩৪/১১)

    ইসলামে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামের মৌলিক বিধি-বিধান ও ইবাদতগুলো সঠিক সময়ে পালন করা খুবই জরুরি। তাই সব ইবাদতের সুনির্দিষ্ট একটি সময় আছে। পরে কিংবা আগে তা পালন করা যায় না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ নির্ধারিত সময়ে পালন করা জরুরি।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)

    সময়ের পরিবর্তন মহান আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহ তাআলা রাত-দিনের পরিবর্তন করেন, এতে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৪৪)

    মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুর পর আর কোনো কাজের সামর্থ্য থাকে না। তাই প্রাপ্ত জীবনে কৃতকর্মের প্রতি আস্থাবান না হলে মৃত ব্যক্তির দুশ্চিন্তা থাকে। দুনিয়া ও আখিরাতের উপকারী কোনো কাজে সর্বদা মগ্ন থাকা চাই। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানো উচিত। আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বলেছেন, ‘আমি ওই সব লোককে অপছন্দ করি যারা দুনিয়ার কোনো কাজে লিপ্ত নয়, আবার আখিরাতের কাজেও নিমগ্ন নয়।’ (হিলয়াতুল আউলিয়া, ১৩০/১)

    মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • চালকদের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা

    চালকদের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা

    জীবনের তাগিদে মানুষকে সফর করতে হয়। প্রতিদিন ছুটতে হয় আপন আপন গন্তব্যে। ব্যবহার করতে হয় ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। কখনো কখনো নিজেকেই থাকতে হয় চালকের ভূমিকায়। একজন চালকের জন্য যেমন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক, তেমনি যাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াও তারই দায়িত্ব। তাই নিজের ও যাত্রীদের জন্য বিপজ্জনক কোনো কাজ করা চালকের জন্য জায়েজ হবে না। নিম্নে ইসলামের দৃষ্টিতে এমন কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো। যা থেকে বিরত থাকা একজন চালকের জন্য আবশ্যক।

    অনিয়ন্ত্রিত গতিতে যানবাহন চালানো
    অনিয়ন্ত্রিত ক্ষিপ্র গতির কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। বিশেষ করে মোটরবাইক চালানোর ক্ষেত্রে এটি ভীষণ বিপজ্জনক।

    বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক শামসুল আলম বলছেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে মোটরসাইকেল একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাহন। চার চাকার বাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি ৩০ গুণ বেশি।

    উঠতি বয়সী রাইডাররা রাস্তা ফাঁকা পেলেই দ্রুতগতিতে বাইক চালাতে পছন্দ করে। অনেকে আবার বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ব্যস্ত রাস্তাতেই প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়। মহাসড়কে পাল্লা দেয় দূরপাল্লার গাড়ি চালকরা। এটি মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘(তোমরা) নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ কোরো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯৫) অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা কোরো না।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯) বেপরোয়া যানবাহন চালানো যেমন নিজের জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেয়, তেমনি অন্যের জীবনও কেড়ে নিতে পারে। তাই অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। মোটরবাইক চালানোর ক্ষেত্রে যেখানে-সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্যান্ড দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না।

    হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো
    মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য হেলমেট ব্যবহার করা আবশ্যক। শুধু চালকই নয়, তার পেছনের মানুষটির জন্যও হেলমেট পরা জরুরি। হেলমেট ব্যবহার না করলে মামলা হবে ১৪৯ ধারায়। আমাদের প্রিয় নবী (সা.)ও মক্কা বিজয়ের সময় হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেছেন। (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস : ৮৫) যদিও প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল, কিন্তু নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করলে বিষয়টিকে ভিন্ন ভাবার সুযোগ নেই।

    উল্লেখ্য, প্রাণীর ছবি ও শয়তানি চিহ্নসংবলিত হেলমেট ব্যবহার করা ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ নেই।

    ফুটপাতে বাইক
    অনেকেই জ্যামের কারণে সময় বাঁচাতে ফুটপাতে বাইক উঠিয়ে দেন। এতে পথচারীরা বিরক্ত হয় এবং কষ্ট পায়। এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়া প্রিয় নবীর আদর্শ নয়। রাসুল (সা.) কখনো রাতের বেলায় মসজিদে গেলে এমনভাবে সালাম দিতেন, যাতে ঘুমন্ত ব্যক্তির ঘুম না ভাঙে এবং জাগ্রতরাও শুনতে পায়। (মুসলিম, হাদিস : ৫২৫৭)। তা ছাড়া ফুটপাতে বাইক চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ফুটপাতে বাইক চালালে ট্রাফিক আইনে ১৩৭ ধারায় মামলা ও বিভিন্ন পরিমাণের অর্থমূল্যের জরিমানা আছে।

    ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো
    ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালালে তা থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়, যা পথচারীদের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। অনেকে বিশেষ সাইলেন্সার লাগিয়ে বিকট আওয়াজ করে মানুষকে কষ্ট দিয়ে থাকে। যা শব্দদূষণ করে। এটি অনুচিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কেউ অপরের ক্ষতি করলে আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৬৩৫)। এভাবে চলাফেরার কারণে পুলিশের মামলার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা সম্মানহানিকর।

    কারো সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করা
    অনেক সময় রাস্তায় গাড়ি বা মোটরবাইক চালাতে গেলে অনেকেই ভুল করে বসে। যা থেকে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। শুরু হয় বাগিবতণ্ডা। এ ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে রূঢ় আচরণ না করে নিজেকে সংযত রাখা উচিত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, সদকা করায় সম্পদের হ্রাস হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা সমুন্নত করে দেন। (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৮৬)। তাই রাস্তায় কেউ ভুল করে বসলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।

  • কোরআনের চোখে সফল যাঁরা

    কোরআনের চোখে সফল যাঁরা

    জীবনে সফলতা পেতে কে না চায়। সফলতার জন্য মানুষ কত কী-ই না করে, তার শেষ নেই। তবে প্রকৃত সফলতা কী, তা আমরা অনেকে জানি না। মহান আল্লাহ যাদের সফল হিসেবে ঘোষণা করেছেন, তারাই প্রকৃত সফলকাম। তিনি পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে সফলকাম মানুষদের বর্ণনা দিয়েছেন। নির্দেশনা দিয়েছেন সেসব বিষয়ে, যেগুলো একজন মানুষকে প্রকৃতপক্ষে সফল করতে পারে।

    পবিত্র কোরআনে তাকওয়া, ঈমান বিল গায়েব, পবিত্র কোরআন ও আগের কিতাবের ওপর বিশ্বাস, কিয়ামত ও আখিরাতে বিশ্বাস, সৎকাজে আদেশ অসৎ কাজে নিষেধ, নামাজ কায়েম, জাকাত প্রদান, আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ ব্যয়, রাসুল (সা.)-এর ওপর ঈমান আনা ও তাঁর সহযোগিতা করা, তাঁর সুন্নতের অনুসরণ করা, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজের জীবন-সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর জন্য কাউকে ভালোবাসা বা ঘৃণা করা, সংকীর্ণ মনোভাব ত্যাগ করাকে সফলতা অর্জনের মাধ্যম বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। নিম্নে সেসব আয়াত তুলে ধরা হলো, যেখানে মহান আল্লাহ এই গুণে গুণান্বিতদের সফলকাম বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

    ঈমান আনা
    ‘যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। আর যারা ঈমান আনে তাতে, যা তোমার প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যা তোমার আগে নাজিল করা হয়েছে। আর আখিরাতের প্রতি তারা পূর্ণ বিশ্বাস রাখে। তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়েতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩-৫)

    রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ
    ‘যারা অনুসরণ করে রাসুলের, যে উম্মি নবী; যার গুণাবলি তারা নিজদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যে তাদের সৎকাজের আদেশ দেয় ও বারণ করে অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে, আর অপবিত্র বস্তু হারাম করে। আর তাদের থেকে তাদের ওপর থাকা বোঝা ও শৃঙ্খল অপসারণ করে। সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সঙ্গে যে নূর নাজিল করা হয়েছে তা অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৫৭)

    নামাজ কায়েম ও আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস
    ‘এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত, সৎকর্মশীলদের জন্য হিদায়েত ও রহমতস্বরূপ, যারা নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত দেয়, আর তারাই আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে; তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়েতের ওপর  এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ২-৫)

    আল্লাহর রাস্তায় আহ্বানকারী
    ‘আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।’ (সুরা : আলে-ইমরান, আয়াত : ১০৪)

    যারা সেই আহ্বানে সাড়া দেয় তারাও সফলকাম। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিনদের যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর প্রতি এ মর্মে আহ্বান করা হয় যে তিনি তাদের মধ্যে বিচার মীমাংসা করবেন, তাদের কথা তো এই হয় যে তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৫১)

    অধিক নেক আমলের অধিকারী
    কিয়ামতের দিন যাদের আমলের পাল্লা ভারী হবে, তারাও সফলকাম। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর সেদিন পরিমাপ হবে যথাযথ। সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮)

    অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১০২)

    শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইকারী
    বিশ্বব্যাপী আল্লাহর দ্বিন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাহিলিয়াতের ঘোর অন্ধকার থেকে উম্মাহকে মুক্ত করার জন্য জান-মাল দিয়ে লড়াই করেছেন সাহাবায়ে কেরাম। যারা তাদের মতো বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করবে, আল্লাহ তাদের সফলকাম বলে ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘কিন্তু রাসুল ও তাঁর সঙ্গে মুমিনরা তাদের মাল ও জান দিয়ে লড়াই করে, আর সেসব লোকের জন্যই রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৮৮)

    যারা মানুষের হক আদায় করে
    প্রত্যেক মানুষের ওপরই তার আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও মিসকিন-মুসাফিরদের হক রয়েছে। যারা তা যথাযথভাবে পালন করবে আল্লাহ তাদের সফল করবেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব আত্মীয়-স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকিন ও মুসাফিরকেও। এটি উত্তম তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ৩৮)

    যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা প্রাধান্য দেয়
    ‘তুমি পাবে না আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী এমন কোনো সম্প্রদায়, যারা ভালোবাসে আল্লাহ ও (পাশাপাশি) তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধাচরণকে (ভালোবাসে)—হোক না এই বিরুদ্ধাচরণকারী তাদের পিতা, অথবা পুত্র, অথবা ভাই, অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। এদের অন্তরে আল্লাহ সুদৃঢ় করেছেন ঈমান এবং তাদের শক্তিশালী করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে রুহ দ্বারা। তিনি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেথায় তারা স্থায়ী হবে; আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এরাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।’ (সুরা : মুজাদালা, আয়াত : ২২)

    যারা অন্য মুমিনকে নিজের ওপর প্রাধান্য দেয়
    ‘আর মুহাজিরদের আগমনের আগে যারা মদিনায় নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং ঈমান এনেছিল (তাদের জন্যও এ সম্পদে অংশ রয়েছে), আর যারা তাদের কাছে হিজরত করে এসেছে তাদের ভালোবাসে। আর মুহাজিরদের যা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য এরা তাদের অন্তরে কোনো ঈর্ষা অনুভব করে না। এবং নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ওপর তাদের অগ্রাধিকার দেয়। যাদের মনের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ৯)

    মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে কারণে অতিরিক্ত পানাহার নিষেধ করেছে ইসলাম

    যে কারণে অতিরিক্ত পানাহার নিষেধ করেছে ইসলাম

    সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার জন্য এবং শারীরিক পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেলে তা স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

    সুস্থ-সবল শরীরে আল্লাহর ইবাদত করার উদ্দেশ্যে সাধ্যমতো উত্তম ও সুস্বাদু খাবার গ্রহণে ইসলামের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ ও অপচয় করা থেকে নিরুৎসাহ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘পানাহার করো, কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)

    মিকদাম ইবন মাদিকারাব (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র মানুষ ভরাট করে না। পিঠের দাঁড়া সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমা খাবারই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। আর বেশি খাবার ছাড়া যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য আর বাকি তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৮৩)

    উপরোক্ত হাদিসে পরিমিত খাবারের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ অপরিমিত খাবার মানুষকে দুর্বল করে ফেলে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ৮০ শতাংশ রোগব্যাধি খাবারের কারণেই হয়ে থাকে। অপরিমিত খাবারই মানুষকে দিন দিন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। ল্যানসেটে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দৈনন্দিন যে খাদ্য তালিকা সেটিই ধূমপানের চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটায় এবং বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচটি মৃত্যুর মধ্যে একটির জন্য এই ডায়েট বা খাবারই দায়ী। (বিবিসি)

    বিজ্ঞানীরা মনে করছেন শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বছরে ২৩.৬ শতাংশ বা এক কোটি ১৬ লাখ লোকের অকালমৃত্যু ঠেকানো যাবে।

    সাহাবায়ে কেরামও অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ পছন্দ করতেন না। আতিয়্যাহ বিন আমির আল-জুহানি (মাকবূল) থেকে বর্ণিত, আমি সালমান (রা.)-এর নিকট শুনেছি, তাঁকে আহার করতে পীড়াপীড়ি করা হলে তিনি বলতেন, আমার জন্য যথেষ্ট যে আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, দুনিয়াতে যেসব লোক ভূরিভোজ করে, তারাই হবে কিয়ামতের দিন অধিক ক্ষুধার্ত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩৫১)

    অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘কাফির সাত আঁতে আহার করে অর্থাৎ বেশি পরিমাণ খায়, আর মুমিন এক আঁতে আহার করে অর্থাৎ কম খায়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩৯৩)

    অধিক ভোজনের প্রাথমিক ফল হলো ডায়াবেটিস। কেননা বেশি খাওয়ার কারণে লালগ্রন্থিকে বেশি কাজ করতে হয়। এ কারণে অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা রস  (insulin) কমে যায় এবং রক্তে চিনির  (suger) পরিমাণ বেড়ে যায়। অধিক ভোজন রক্তের চাপ বৃদ্ধির আরেকটি অত্যাবশ্যকীয় কারণ। কেননা ডায়াবেটিস এবং ব্লাড প্রেসার পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। অধিক ভোজনের কারণে প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। এতে রক্তবাহী শিরাগুলো সংকীর্ণ হয়ে যায়। ফলে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। এভাবে যখন শিরাগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, তখন সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনুভূতিহীন হয়ে যায়। আর এ অবস্থা মস্তিষ্কের কোনো অংশে হঠাৎ প্রকাশ পেলে মানুষ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়।

    আর অধিক ভোজনের ফলে অসময়ে বার্ধক্যে পতিত হয়ে থাকে। কেননা বেশি খেলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো যথাযথভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই দুর্বল বা শক্তিহীন হয়ে যায় এবং তাকে অতি অল্প বয়সেই বৃদ্ধ বলে মনে হয়।

    অধিক ভোজনের কারণে শরীর মোটা বা স্থূল হয়ে থাকে। এই অবস্থায় বহুবিধ রোগব্যাধি হয়ে থাকে।

    Bone Marrow pain বা অস্থিমজ্জার ব্যথা, লড়রহঃ ঢ়ধরহ ইত্যাদি হয়ে থাকে।

    স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের মতে, মানুষের কোমর সোজা রাখার জন্য কয়েক লোকমা খাদ্যই যথেষ্ট। আর একান্তই যদি বেশি খাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে তাহলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য, এক-তৃতীয়াংশ পানি দ্বারা পূর্ণ করে বাকি এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখতে হবে, যা একমাত্র রাসুল (সা.)-এরই নির্দেশ ছিল।

    প্রফেসর রিচার্ড বার্ড গবেষণার পর প্রকাশ করেছেন যে বেশি খাদ্য খেলে নিম্নলিখিত রোগব্যাধির সৃষ্টি হয়—১. মস্তিষ্কের ব্যাধি। ২. চক্ষুরোগ। ৩. জিহ্বা ও গলার ব্যাধি। ৪. বক্ষ ও ফুসফুসের ব্যাধি। ৫. হৃদেরাগ। ৬. যকৃৎ ও পিত্তের রোগ। ৭. ডায়াবেটিস। ৮. উচ্চ রক্তচাপ। ৯. মস্তিষ্কের শিরা ফেটে যাওয়া। ১০. দুশ্চিন্তাগ্রস্ততা ১১. অর্ধাঙ্গ রোগ। ১২. মনস্তাত্ত্বিক রোগ। ১৩. দেহের নিম্নাংশ অবশ হয়ে যাওয়া। (সূত্র : সুন্নাতে রাসুল ও আধুনিক বিজ্ঞান)।

    তাই আমাদের উচিত, খাবারসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুল (সা.)-এর সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা। তবেই আমরা অর্জন করতে পারব পবিত্র ও সুস্থ জীবন।

  • ওয়াজ করে কি পারিশ্রমিক নেওয়া যাবে

    ওয়াজ করে কি পারিশ্রমিক নেওয়া যাবে

    আলেমরা স্বজাতির ধর্মীয় সেবাদানে সর্বক্ষণ নিয়োজিত থাকেন। এ জন্য তাঁদের বেতন-ভাতা বা হাদিয়ার ব্যবস্থা করা জাতির প্রত্যেক সদস্যেরই দায়িত্ব। কিন্তু বিশেষ কোনো ওয়াজের জন্য বিশেষ পরিমাণ হাদিয়া দামাদামি করে নির্ধারণ করা এবং গ্রহণ করা জায়েজ নয়। তবে যাঁরা শিক্ষাদান ও তাবলিগের কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে অন্য কোনোভাবে উপার্জন করার সুযোগ পান না তাঁরা বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন। সেটা জায়েজ। তা ছাড়া ‘চাকরিভিত্তিক’ ওয়াজ করে ‘মাসভিত্তিক’ বেতন নেওয়াও জায়েজ। (আত-তাবলিগ : খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১১, খাইরুল ইরশাদ : পৃষ্ঠা ১৪)

    কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, ইমামতি করে বিনিময় নেওয়া জায়েজ হলে ওয়াজ করে বিনিময় গ্রহণ করা কি জায়েজ হবে? এর জবাব হলো, ‘ইস্তিজার আলাত তাআত’ তথা ইবাদতমূলক কাজ করে বিনিময় গ্রহণ করা নাজায়েজ। তবে ইমামতিটা এই বিধানের বহির্ভূত। কেউ কেউ ওয়াজ-নসিহতকেও এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয় বলেছেন। আবার কারো মতে, ওয়াজ-নসিহত করে বিনিময় গ্রহণ করাও নাজায়েজের অন্তর্ভুক্ত।

    উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা যেতে পারে এভাবে—কেউ যদি ইমামতির মতো ওয়াজ-নসিহতকেও একটা চাকরি বানিয়ে নেন বা পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন, ওই ব্যক্তির জন্য বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ। আর যদি নিয়মিত চাকরিভিত্তিক ওয়াজ নয়, বরং কখনো কখনো ওয়াজ করেন এবং সেটার জন্য দামাদামি করে বিনিময় ঠিক করেন, তাহলে সেটা নাজায়েজ। যেমন—কেউ নির্দিষ্ট ইমাম নন; কিন্তু উপস্থিত ক্ষেত্রে তাঁকে একটা নামাজের ইমামতি করতে বলা হলো আর তিনি বিনিময় চেয়ে বসলেন (সেটা তো নাজায়েজ)। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, কিতাবুল ইজারাহ : ৩৮৯)

    ওয়াজ করে হাদিয়া বা পারিশ্রমিক গ্রহণের কুপ্রভাব হচ্ছে, ওই ওয়াজে কোনো প্রভাব পড়ে না। আরেকটা ক্ষতি হচ্ছে, ওয়ায়েজরা হাদিয়াবঞ্চিত হওয়ার আতঙ্কে সত্য প্রকাশ থেকে নিরস্ত হয়ে যান।

    কেউ স্বচ্ছন্দে দিলে শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ

    তবে হ্যাঁ, কেউ যদি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্যই ওয়াজ করেন ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে, আর লোকেরা বিভিন্নভাবে তাঁকে কিছু দান করে; কিন্তু এসবের প্রতি ওয়াজকারীর অন্তরে স্পষ্ট লোভ-লালসা নেই, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। সেটা জায়েজ। (মানুষ যে কিছু হাদিয়া দিয়ে থাকে সেটার প্রতি) মনের ভেতর হালকা খেয়াল থাকলেও কোনো অসুবিধা নেই।

    তবে ওয়াজ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হচ্ছে কি না, তা প্রমাণে একটি পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষাটি হলো, খেয়াল করা হবে যে ওই লোকটা ওয়াজ করার জন্য কোন ধরনের এলাকাকে প্রাধান্য দেন। তিনি কি সেসব এলাকাকে প্রাধান্য দেন, যেখানে হাদিয়া তুলনামূলক বেশি মেলে, নাকি সেসব স্থানকে প্রাধান্য দেন, যেখানে দ্বিন প্রচারের প্রচণ্ড প্রয়োজন? প্রথমোক্ত অবস্থায় মোটেও টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করা জায়েজ হবে না, আর দ্বিতীয় অবস্থায় জায়েজ হবে। আর বৈধতার জন্য আমরা অন্তরের ভোগলিপ্সা না থাকার যে শর্তটি আরোপ করেছি, তার প্রমাণ নিম্নের বর্ণিত হাদিসটি—‘(দান-সদকার) যেসব সম্পদ তোমার কাছে আসবে চাওয়া ছাড়া এবং মনের স্পষ্ট লোভ ছাড়া, তা তুমি গ্রহণ করো। আর যদি লোভ থাকে, তাহলে সেসব নেওয়ার জন্য তোমার মনকে অধীন কোরো না।’

    অন্তরের ঈষৎ খেয়াল এবং স্পষ্ট লিপ্সার মাঝে পার্থক্যটাও বুঝতে হবে। ধরুন, হৃদয়কোণে শুধু এটুকুই ধারণা আছে যে ‘কিছু জুটেও যেতে পারে’। পরে দেখা গেল যে তাকে কেউ দিল না। এতে তার মোটেও মনস্তাপ সৃষ্টি হলো না। এটাকেই বলে অন্তরের সামান্য ওয়াসওয়াসা বা ঈষৎ খেয়াল। আর যদি ভাগ্যে কোনো কিছু না জোটায় মনঃকষ্ট হয় এবং নিজের কাছে ব্যাপারটি বড্ড অস্বস্তিকর ঠেকে; যার ফলে বিড়বিড়িয়ে বলতে থাকে, ‘এদের তো দেখি কিছুই হাতে উঠল না’—তখন নিঃসন্দেহে সেটি মনের স্পষ্ট বাসনা ও লোভ বলে গণ্য হবে।

  • নবীজির আতিথেয়তার সঙ্গে থাকত শিক্ষা ও উপদেশ

    নবীজির আতিথেয়তার সঙ্গে থাকত শিক্ষা ও উপদেশ

    মহানবী (সা.) ছিলেন সব গুণের আধার। আতিথেয়তা ছিল তাঁর জীবনের একটি অন্যতম প্রধান গুণ। সাধারণভাবেই আরব জাতি অতিথিপরায়ণ। জাহেলি যুগে পরম শত্রুও অতিথি হলে তাকে আরবরা অবলীলায় ক্ষমা করে দিত। আরব জাতি-গোষ্ঠীর ভেতর কুরাইশের বনু হাশেম আতিথেয়তায় বিশেষ খ্যাতি ছিল। তাদের আতিথেয়তার স্বীকৃতিস্বরূপ তারা বংশপরম্পরায় হজ মৌসুমে হাজিদের পানি পান ও আপ্যায়নের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।

    রাসুলুল্লাহ (সা.)ও শৈশবে দাদার সঙ্গে হাজিদের পানি পান করিয়েছিলেন। উদারতা ও আতিথেয়তায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন বংশীয় ধারারও অনেক ঊর্ধ্বে। তাঁর আতিথেয়তা ছিল প্রবাদতুল্য। প্রথম ওহি নাজিলের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নিজের ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়েন, তখন খাদিজা (রা.) তাঁর অনন্য যেসব গুণাবলির উল্লেখ করেন তার মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা এবং আতিথেয়তার কথা উল্লেখ করেন। খাদিজা (রা.) নবীজিকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! কখনোই না। আল্লাহ আপনাকে কখনো অপদস্থ করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, দুর্বলের বোঝা বহন করেন, অসহায়কে সহায়তা করেন, অতিথিদের সম্মানজনক আপ্যায়ন করেন এবং সত্যের অনুসারীদের সাহায্য করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩)

    পবিত্র কোরআনেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আতিথেয়তার একটি ঘটনা বিবৃত হয়েছে। এই ঘটনা থেকে অতিথিদের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মনোভাব যেমন স্পষ্ট হয়, তেমনি অতিথিদের জন্য রয়েছে শিক্ষা ও উপদেশ। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের অনুমতি দেওয়া না হলে খাদ্য-প্রস্তুত হওয়ার অপেক্ষা না করে খাওয়ার জন্য নবীর ঘরে প্রবেশ করবে না। তবে তোমাদের আহ্বান জানালে তোমরা প্রবেশ করবে। আর খাওয়া শেষে তোমরা চলে যেয়ো। তোমরা কথাবার্তায় লিপ্ত হয়ে যেয়ো না। কেননা তোমাদের এই আচরণ নবীকে কষ্ট দেয়। তিনি তোমাদের উঠিয়ে দিতে সংকোচবোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য বর্ণনায় সংকোচবোধ করেন না।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৩)

    এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ এক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘কোনো একজন স্ত্রীর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। উম্মে সালমা (রা.) ‘হাইস’ (খেজুর, দুধ ও ঘির তৈরি খাবার) প্রস্তুত করলেন। তিনি তা আমাকে দিয়ে বললেন, এটা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিয়ে যাও এবং আমার সালাম বলো। আর বলবে, এটা আমার পক্ষ থেকে তাঁর জন্য সামান্য উপহার। আমি তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং উম্মে সালমা (রা.)-এর সালাম পৌঁছে দিলাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দেখে বললেন, রাখো এবং অমুক অমুক ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে এসো। বেশ কয়েকজনের নাম বলার পর বললেন, ‘এ ছাড়া যেসব মুসলিমের সাক্ষাৎ তুমি পাবে।’ তিনি আমাকে যাদের নাম বলেছিলেন এবং যাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো—আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানালাম। ফিরে এসে দেখলাম, রাসুল (সা.)-এর বাড়ি, তাঁর কক্ষ ও সুফফা (মসজিদে নববীতে দ্বিনি শিক্ষার্থীদের থাকার স্থান) মানুষে পরিপূর্ণ। প্রায় ৩০০ লোক যেদিন উপস্থিত হন। আমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) খাবারের পাত্র হাতে নিলেন, দোয়া করেন এবং বলেন, মাশাআল্লাহ! এরপর বলেন, যে ১০ ব্যক্তিকে ডাকা হবে তারা এসে খাবার গ্রহণ করবে। প্রত্যেকে যা পাবে তা-ই খাবে। এভাবে সবাই আহার করল। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন পাত্রটি রেখে দিলেন তখন তাতে প্রথম অবস্থার চেয়ে বেশি খাবার ছিল। খাওয়া শেষ করার পর কিছু মানুষ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরে বসে গল্প জুড়ে দিল। অথচ রাসুল (সা.)-এর নববিবাহিতা স্ত্রী ঘরের ভেতর দেয়ালে দিকে মুখ করে বসেছিলেন। তারা আলাপচারিতা দীর্ঘায়িত করল। এতে রাসুল (সা.)-এর কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু লজ্জাশীলতার জন্য কিছু বলতে পারছিলেন না। তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর স্ত্রীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন উপস্থিত লোকেরা রাসুল (সা.)-এর কষ্ট হচ্ছে বুঝতে পেরে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করে পর্দা টেনে দিলেন। তখন আমি [আনাস (রা.)] ঘরেই ছিলাম। মহানবী (সা.) ঘরে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। তখনই আয়াত নাজিল হলো। তিনি বের হয়ে মানুষকে তা শুনিয়ে দিলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস :  ১৪২৮)

    ঐতিহাসিক ও সিরাত গবেষকরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আতিথেয়তার নানা দিক তুলে ধরেছেন। সিরাতে ইবনে ইসহাকের বর্ণনা মতে, নবী কারিম (সা.) প্রত্যেক বছর রমজানে গারে হেরায় মোরাকাবা (ধ্যানমগ্ন হওয়া) করতেন। এই ধারাবাহিকতা শুরু থেকেই ছিল। মোরাকাবা শেষে তাওয়াফ করতেন এবং সমস্ত মিসকিনকে খানা খাওয়াতেন। (ইবনে হিশাম :  ১/২৩৬)

    আল্লামা ইবনে ইসহাক (রহ.) এ কথাও বলেন, রাসুল (সা.)-এর ইবাদতে এটাও অন্তর্ভুক্ত ছিল যে কুরাইশের যেসব ফকির-মিসকিন তাঁর নিকট আসত তাদের খানা খাওয়াতেন। (সিরাতে ইবনে ইসহাক (উর্দু), পৃষ্ঠা ১২১)

    আল্লামা ইবনে ইসহাক (রহ.)-এর বর্ণনায় রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইসলামের বাণী পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে দুটি আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছিলেন। এতে আব্দুল মোত্তালিব গোত্রের প্রায় ৪০ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা পেটভরে খেয়েছিলেন।

  • শিরক থেকে মুক্তিলাভের দোয়া

    শিরক থেকে মুক্তিলাভের দোয়া

    শিরক পিপীলিকার পদধ্বনির চেয়েও সূক্ষ্ম, যা থেকে মুক্ত থাকা অত্যন্ত কঠিন। রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় সাহাবিদের এমন একটি দোয়া শিখিয়ে গেছেন, যা দৈনিক পড়লে যে কেউ মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই শিরকমুক্ত হয়ে যেতে পারেন। দোয়াটি হলো :

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লামু, ওয়া আসতাগফিরুকা

    লিমা লা আ’লামু’।

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজ্ঞাত, তা থেকেও তোমার কাছে ক্ষমা চাই।’

    উপকার : মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর কাছে গেলাম। তিনি বলেন, হে আবু বকর! নিশ্চয়ই শিরক পিপীলিকার পদচারণ থেকেও সন্তর্পণে তোমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। আবু বকর (রা.) বলেন, কারো আল্লাহর সঙ্গে অপর কিছুকে উপাস্যরূপে গণ্য করা ছাড়াও কি শিরক আছে? রাসুল (সা.) বলেন, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শিরক পিপীলিকার পদধ্বনির চেয়েও সূক্ষ্ম। আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেব না, যা বললে তুমি সব শিরক থেকে মুক্ত হয়ে যাবে? তিনি বলেন, তুমি বলো, ‘হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে তোমার সঙ্গে শিরক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজ্ঞাত, তা থেকেও তোমার কাছে ক্ষমা চাই।’ (আদবুল মুফরাদ, হাদিস : ৭২১)

  • ছারছীনা দরবার শরীফের ১২৯ তম তিনদিনব্যাপী মাহফিল  এর ২য় দিন আজ

    ছারছীনা দরবার শরীফের ১২৯ তম তিনদিনব্যাপী মাহফিল এর ২য় দিন আজ

    এইচ এম নুুরুল ইসলাম সুমনঃ

    শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দরবার শরীফের ১২৯ তম তিনদিনব্যাপী মাহফিল ও বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ সম্মেলন আগামী ১৪, ১৫ ও ১৬ অগ্রহায়ণ মোতাবেক ২৯, ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর রোজ শুক্রবার শুরু হয়েছে এবং রবিবার পর্যন্ত চলবে। রবিবার বাদ জোহর আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।

    ছারছীনা দরবার শরীফ  থেকে ক্যামেরায় এইচ এম নুুরুল ইসলাম সুমন

     

    উক্ত মাহফিলে হযরত পীর ছাহেব কেবলা সকল পীর ভাই, মুহিব্বীন সহ সর্বস্তরের মুসলমানদের যোগদান করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনদিনব্যাপী মাহফিলে প্রত্যহ বাদ ফজর ও বাদ মাগরীব হযরত পীর ছাহেব কেবলা গুরুত্বপূর্ণ তালীম প্রদান করছেন। দরবার শরীফের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামগণ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা করছেন।

    ছারছীনা দরবার শরীফ  থেকে ক্যামেরায় এইচ এম নুুরুল ইসলাম সুমন

     

    মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. সৈয়দ মুহাঃ শরাফত আলী আমাদের বাংলার মুখ ২৪.কম এর সংবাদদাতাকে জানান- মাহফিলের সার্বিক সকল কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে।এখন শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, সেবা, হারানো বিভাগ সহ বিভিন্ন গ্রুপ আগত মেহমানদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার কাজে র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, ডাক্তারগণ নিয়োজিত থাকবে।

  • মৃত্যুর কথা কি জানে সব প্রাণী?

    মৃত্যুর কথা কি জানে সব প্রাণী?

    একমাত্র আল্লাহ তাআলাই অবিনশ্বর। অবশিষ্ট সব সৃষ্টি নশ্বর। আল্লাহ ছাড়া সব কিছু তার নির্দিষ্ট হায়াত পূর্ণ হওয়ার পর নিঃশেষ হয়ে যাবে। এ নিশ্চিত ধ্বংসের কথা অনেক সৃষ্টিই জানে না। অন্যান্য পশুপাখি, কীট-পতঙ্গ জানে না কখন কার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে।

    সব প্রাণের মৃত্যু আছে
    মৃত্যুর মতো সত্য আর কিছু নেই। সব আত্মাকে একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদের সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫; সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৩৫; সুরা আনকাবুত, আয়াত : ৫৭-তে বলেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ আর এ মৃত্যু হয়ে থাকে আল্লাহ তাআলার নির্দেশে। অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মৃত্যুবরণ করতে পারে না। সে জন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে (সুরা আলে ইমরান : ১৪৫)

    তিনি জন্ম-মৃত্যুর স্রষ্টা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর আল্লাহ জীবন ও মরণ দান করেন এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৫৬)

    জন্ম-মৃত্যু সৃষ্টির কারণ
    জন্ম-মৃত্যু আল্লাহ তাআলার কুদরতের এক মহান সৃষ্টি। তিনি কেন জন্ম-মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘পুণ্যময় তিনি, যাঁর (কুদরতের) হাতে রাজত্ব। তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন। কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, মহা ক্ষমাশীল।’ (সুরা মুলক, আয়াত : ২)

    এ আয়াতে বলা হয়েছে, জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করার কারণ হলো মানুষকে পরীক্ষা করা।

    শুধু মানুষ জানে তার মৃত্যুর কথা
    শুধু মানুষ জানে যে তাকে একদিন মরতে হবে। আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদে মানবজাতিকে তার মৃত্যুর কথা অবহিত করেছেন। নবী-রাসুলরা তাঁদের উম্মতদের পার্থিব জীবনের পর আরেকটি জীবনের কথা বর্ণনা করেছেন। মানুষের মৃত্যুর কথা অবহিত করার কারণ হলো, যাতে তারা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। মৃত্যুর পর যদি আর কোনো জীবন না থাকত, তাহলে মৃত্যু নিয়ে কোনো চিন্তার কারণ থাকত না। মৃত্যু যদি জীবনাবসানের নাম হতো, তবে পৃথিবীতে যার যার ইচ্ছামতো চলার সুযোগ থাকত। কিন্তু মুমিন মাত্রই বিশ্বাস করে যে মৃত্যু মানে এক জীবন থেকে আরেক জীবনে প্রত্যাবর্তন। একটি জীবন শেষ করে আরেকটি নতুন জীবনের সূচনা করা। দুনিয়ার জীবন অস্থায়ী, আর পরকালের জীবন স্থায়ী। দুনিয়ার সুখ-শান্তি আখিরাতের সুখ-শান্তির তুলনায় তুচ্ছ ও অতি নগণ্য।

    মৃত্যুর সময় মানুষের অজ্ঞাত
    আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার মৃত্যুর কথা জানিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু কখন, কার কোন জায়গায় মৃত্যু হবে, তা গোপন করেছেন। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, মানুষের চোখের দুই ভ্রুর মাঝখানে মৃত্যুর তারিখ লেখা আছে। কিন্তু মানুষ তা দেখতে পায় না। মানুষ থেকে মৃত্যুর তারিখ অজ্ঞাত রাখার কারণ হলো, যদি মানুষ মৃত্যুর নির্দিষ্ট তারিখ জানত, তাহলে এ পৃথিবী অচল হয়ে যেত। মানুষ ঘর-সংসার করত না। মৃত্যুর সময় অজ্ঞাত হওয়ার কারণে মানুষ মনে করে সে দীর্ঘজীবী হবে, এমনকি মৃত্যুর কথাও ভুলে যায়।

    মৃত্যুর তারিখ নির্দিষ্ট
    মানুষ একেক জন একেক সময় মৃত্যুবরণ করে। তবে তার মৃত্যুর সময় ও তারিখ নির্দিষ্ট। মায়ের জরায়ুতেই তা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আমি কোনো জনপদকে ধ্বংস করিনি, কিন্তু তার নির্দিষ্ট সময় লিখিত ছিল। কোনো সম্প্রদায় তার নির্দিষ্ট সময়ের আগে যায় না এবং দেরিও করে না।’ (সুরা হিজর, আয়াত : ৪৫)

    পশু-পাখি মৃত্যুর কথা জানে না
    আল্লাহ তাআলা পশু-পাখির মধ্যে রেখেছেন মানুষের রিজিক। মনীষীরা বলেছেন, যদি এসব প্রাণী জানত যে তাদের একদিন মরতে হবে, তাহলে তারা মৃত্যুর চিন্তায় কঙ্কাল হয়ে যেত। আর এর ফলে মানুষের রিজিকের ঘাটতি দেখা দিত। আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতি এতই মেহেরবান যে তিনি পশু-পাখির মাধ্যমে তাদের রিজিকের ব্যবস্থা রেখেছেন এবং মৃত্যুর বিষয়টি তাদের থেকে অজ্ঞাত রেখেছেন।

    মানুষের কর্তব্য
    আল্লাহ তাআলা মানুষকে যেহেতু তার মৃত্যুর কথা জানিয়ে দিয়েছেন, সেহেতু তার উচিত হবে মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকা। আর মুমিন যেহেতু বিশ্বাস করে তার মৃত্যুর পরে আরেকটি জীবন আছে, সেহেতু তার কর্তব্য হলো পারলৌকিক জীবনের সুখের জন্য কাজ করা। তাদের ভাবা দরকার, আমাদের আগে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের অনেকের কবরও খুঁজে পাওয়া যায় না। আমাদের অবস্থাও অনুরূপ হবে যে পরবর্তী সম্প্রদায় আমাদের কবরও খুঁজে পাবে না। তাই মুমিনদের উচিত, সর্বপ্রকার গর্ব-অহংকার, অন্যায়-অবিচার, পাপাচার ইত্যাদি অপকর্ম বর্জন করে স্বীয় প্রভুর নির্দেশমতো পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র জীবন লাভ করা এবং আখিরাতের সুখ-শান্তি কামনা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের পরকালের সুখ-শান্তির জন্য বেশি বেশি করে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ছারছীনা দরবার শরীফের ১২৯ তম তিনদিনব্যাপী মাহফিল  এর কাল প্রথম দিন

    ছারছীনা দরবার শরীফের ১২৯ তম তিনদিনব্যাপী মাহফিল এর কাল প্রথম দিন

    এইচ এম নুুরুল ইসলাম সুমনঃ

    শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দরবার শরীফের ১২৯ তম তিনদিনব্যাপী মাহফিল ও বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ সম্মেলন আগামী ১৪, ১৫ ও ১৬ অগ্রহায়ণ মোতাবেক ২৯, ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর রোজ শুক্রবার শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত চলবে। রবিবার বাদ জোহর আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। উক্ত মাহফিলে হযরত পীর ছাহেব কেবলা সকল পীর ভাই, মুহিব্বীন সহ সর্বস্তরের মুসলমানদের যোগদান করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনদিনব্যাপী মাহফিলে প্রত্যহ বাদ ফজর ও বাদ মাগরীব হযরত পীর ছাহেব কেবলা গুরুত্বপূর্ণ তালীম প্রদান করবেন। দরবার শরীফের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামগণ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা করবেন। মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. সৈয়দ মুহাঃ শরাফত আলী আমাদের সংবাদদাতাকে জানান- ইতোমধ্যে মাহফিলের সার্বিক সকল কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, সেবা, হারানো বিভাগ সহ বিভিন্ন গ্রুপ আগত মেহমানদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার কাজে র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, ডাক্তারগণ নিয়োজিত থাকবে।