Category: ধর্ম

  • কোরআন শরিফে চুমু দেওয়া যাবে?

    কোরআন শরিফে চুমু দেওয়া যাবে?

    প্রশ্ন : কখনো কোরআন শরিফের সঙ্গে অসম্মানের আচরণ হয়ে গেলে অথবা তিলাওয়াতের আগে-পরে স্বাভাবিকভাবে আমরা কোরআনে চুমু দিই, চোখে লাগাই। ইসলামী শরিয়তে এভাবে চুমু দেওয়ার হুকুম কী?

    —আবদুল আজিজ, বাসাবো, ঢাকা

    উত্তর : কোরআনুল কারিমে চুমু দেওয়া জায়েজ আছে। ইকরিমা (রা.) থেকে কোরআনুল কারিম চেহারায় লাগানো ও চুমু দেওয়া প্রমাণিত (সুনানে দারিমি, হাদিস : ৩৩৫৩)। তাই কেউ কোরআনে চুমু দিলে তাকে বারণ করার প্রয়োজন নেই।

    উল্লেখ্য, অসতর্কতাবশত কোরআন মাজিদের সঙ্গে অসম্মানজনক কিছু হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রেও চুমু দিতে নিষেধ নেই। তবে তখন মূল করণীয় হলো অসতর্কতার কারণে লজ্জিত হওয়া এবং তাওবা-ইস্তিগফার করা।

    সূত্র : মাজমাউজ জাওয়াইদ, হাদিস ১৬০৪৯; আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩৮৪; হাশিয়াতুত তাহতাবি আলাল মারাকি, পৃষ্ঠা ১৭৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/৬০।

  • প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধে যেসব ব্যবস্থা নিয়েছিলেন ওমর (রা.)

    প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধে যেসব ব্যবস্থা নিয়েছিলেন ওমর (রা.)

    প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতির কারণে মানুষ শুধু তাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অধিকারসমূহ থেকে বঞ্চিত হয় না; বরং ব্যাহত তাদের দৈনন্দিন জীবনের অগ্রযাত্রাও। ফলে দেশ ও জাতির সামগ্রিক অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলাম সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের বিরুদ্ধে ইহকালীন ও পরকালীন শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৩০৯)

    ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা.)-এর সুশাসন ও দক্ষতা মানব ইতিহাসে স্বীকৃত। তাঁর সময়ে ইসলামী রাষ্ট্র একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করে। বিপুলায়তন অথচ নব-বিকশিত ইসলামী খেলাফতের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও অনিয়ম রোধ করাও এই সময় খুব ছোট চ্যালেঞ্জ ছিল না। ওমর (রা.) এই চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত সফলভাবে মোকাবেলা করেন। তাঁর নেওয়া ১০টি পদক্ষেপ তুলে ধরা হলো—

    প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ
    সাধারণ মানুষ ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যকার দূরত্ব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির একটি কারণ। ওমর (রা.) রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতি ফরমান জারি করেন যেন তারা জনগণকে সহজে যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়। তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য তোমার দরজা কখনো বন্ধ করবে না। তাহলে তাদের ক্ষমতাবানরা দুর্বলদের খেয়ে ফেলবে।’ (তাবাকাতে ইবনে সাদ : ৩/৩৩৯)

    খলিফা ওমর (রা.) নিজেও ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বপরায়ণ। তিনি রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে মদিনার পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন। আলী ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, ওমর (রা.) বলেন, সেই সত্তার শপথ! যিনি মুহাম্মদ (সা.)-কে নবুওয়াত দিয়ে প্রেরণ করেছেন যদি ফোরাত নদীর তীরে একটি উটের বাচ্চা চুরি হয়, তবে কিয়ামতের দিন তার জন্য আমাকে জবাবদিহি করতে হবে।’ (আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ, আল মাদিনাতুন নাবাবিয়্যাহ : ২/৬২১)

    পরামর্শ ও অনুসন্ধানের পর নিয়োগ
    ওমর ফারুক (রা.) রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের পূর্বে ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতেন এবং প্রাপ্ত তথ্য ‘মজলিসে শুরা’র সামনে উপস্থাপন করতেন; কোনো এলাকার গভর্নর বা সমপর্যায়ের পদে কাউকে নিয়োগ দিলে সাধারণ মানুষের মতামতও নিতেন। পরামর্শের ভিত্তিতে তার নিয়োগ চূড়ান্ত করতেন। (আস সিয়াতু ফিল ফিকরিল ইসলামী, ড. আহমদ শালবি, পৃষ্ঠা ১৭৭)

    নিয়োগের সময় সতর্কীকরণ
    ওমর (রা.) কাউকে নিয়োগের সময় প্রশাসনিক কর্মীদের যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও সুযোগের অব্যবহার এবং তার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে বলতেন, ‘আমি মানুষকে এসব বিষয় থেকে নিষেধ করেছি। মানুষ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, যেমন শিকারি পাখি গোশতের দিকে তাকিয়ে থাকে। যদি তোমরা তা করো তবে তারাও করবে এবং তোমরা যদি তা পরিহার করো তবে তারাও তা পরিহার করবে। আল্লাহর শপথ! আমি যেসব জিনিস থেকে নিষেধ করেছি তোমাদের কেউ তাতে লিপ্ত হলে আমি তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেব।’ (আসসিয়াতুল ইসলামিয়া ফি আহদিল খোলাফায়ির রাশিদিন, আবদুল মুতআল সায়েদি, পৃষ্ঠা ১১৯)

    প্রশাসনিক নিয়োগে দুই শর্ত
    ওমর (রা.) প্রশাসনিক দায়িত্বে কাউকে নিযুক্ত করার আগে তার দুটি গুণ দেখে নিতেন। তা হলো, ক. দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, দুই. বিশ্বাসযোগ্যতা। এই দুটি গুণের অভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির উদ্ভব হয়। ইউসুফ (আ.) রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণে তার উপযোগিতা বর্ণনার সময় দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার কথাই বলেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ইউসুফ বলল, আমাকে দেশের ধনভাণ্ডারে দায়িত্ব দিন, (কেননা) আমি উত্তম রক্ষক, অভিজ্ঞ।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৫৪-৫৫)

    এ ছাড়া তিনি ব্যক্তির ধর্মীয় ও জাগতিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, তার ব্যক্তিত্বের প্রভাব, তার প্রতি মানুষের মনোভাব এবং মানুষের প্রতি তার মমত্ব ও কল্যাণকামিতা ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। তিনি বলতেন, ‘আমি এমন ব্যক্তির সন্ধান করি, যে গোত্রের নেতা (ক্ষমতাশীল) হওয়ার পূর্বে নেতার মতো ছিল। যখন সে তাদের নেতা হলো, তখন তাদেরই একজন (সাধারণ মানুষের মতো) হয়ে গেল।’ (নাজমুল হিকাম ওয়াল ইদারাহ ফিদ-দাওলাতিল ইসলামী, ওমর শারিফ, পৃষ্ঠা ২৭৬)

    পদপ্রত্যাশীকে প্রত্যাখ্যান
    রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অর্পণে ওমর (রা.) সর্বতোভাবে পদপ্রত্যাশীদের প্রত্যাখ্যান করতেন। তিনি বলতেন, ‘যে ব্যক্তি দায়িত্ব লাভে প্রলুব্ধ তার পক্ষে পদের মর্যাদা রক্ষা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়। যে নেতৃত্ব লাভে প্রলুব্ধ সে ভারসাম্য রক্ষা করে কাজ করতে পারে না। কেননা পদের প্রত্যাশাই প্রমাণ করে সে তার মাধ্যমে লাভবান হতে চায়। এই লোভ তার যোগ্যতা নষ্ট করে।’ (আস সিয়াতু ফিল ফিকরিল ইসলামী, ড. আহমদ শালবি, পৃষ্ঠা ১৬২)

    গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিতদের জন্য ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ
    ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ‘কর্মরত অবস্থায়’ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনকারীদের জন্য ব্যবসা, ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে চাকরি, ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ করেন। যেন তারা এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করতে না পারে। হারিস বিন কাব নামক একজন কর্মকর্তার আর্থিক উন্নতি চোখে পড়লে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। হারেস বিন কাব বলেন, আমি ব্যবসা করে প্রবৃদ্ধি করেছি। ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের সেখানে ব্যবসা করতে পাঠাইনি। অতঃপর তিনি তাঁর ‘লভ্যাংশ’ বাজেয়াপ্ত করেন। (আস সিয়াতু ফিল ফিকরিল ইসলামী, ড. আহমদ শালবি, পৃষ্ঠা ১১৯)

    আত্মীয়করণ পরিহার
    আত্মীয়করণ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অন্যতম কারণ। খলিফা ওমর (রা.) তাঁর শাসনামলে আত্মীয় নিয়োগ থেকে বিরত ছিলেন। তাঁদের ছাড়া যাঁরা রাসুলুল্লাহ (সা.) ও আবু বকর (রা.) কর্তৃক নিয়োগ পান এবং ইসলাম ও মুসলমানের জন্য তাঁদের ত্যাগ ও বিসর্জন সর্বজনস্বীকৃত ছিল। যেমন, সায়িদ ইবনে জায়েদ ও তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ। তিনি বলতেন, ‘যে ব্যক্তি ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আত্মীয়তার কারণে কাউকে নিয়োগ দিল এবং প্রয়োজনীয় শর্ত বিবেচনা করল না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর প্রতি বিশ্বাস ভঙ্গ করল।’ (ফসলুল খিতাব ফি আমিরিল মুমিনিনা ওমর ইবনুল খাত্তাব, ড. আলী মুহাম্মদ মুহাম্মদ সাল্লাবি, পৃষ্ঠা ৩৮১)

    নিয়োগের আগে-পরে আর্থিক হিসাব গ্রহণ
    আর্থিক দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধে ওমর (রা.) কর্মকর্তাদের নিয়োগের আগে ও পরে নিয়মিত সম্পদের হিসাব নিতেন। গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের পর তাঁদের আর্থিক কার্যক্রমও তিনি শর্তাধীন করে দিতেন। এমনকি যাঁদের প্রতি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল না তাঁদেরও সম্পদের হিসাব তিনি গ্রহণ করতেন। সম্পদ হিসেবে নগদ অর্থ, স্থাবর সম্পদ, গৃহপালিত পশু, বাহন, পোশাকাদি ও ঘরের আসবাবপত্রের হিসাব নিতেন তিনি। (আস সিয়াতুল ওয়াল মুজতামা ফি আহদির রাশিদিন, পৃষ্ঠা ২৩৯)

    অভিযোগের পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ
    প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার অবাধ সুযোগ ছিল ওমর (রা.)-এর যুগে। জনগণের যেকোনো অভিযোগ তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতেন এবং দ্রুততম সময়ে তার ব্যবস্থা নিতেন। ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। প্রখ্যাত সাহাবি ও মিসর বিজেতা আমর ইবনুল আস (রা.)-এর ছেলের বিরুদ্ধে এক মিসরীয়কে প্রহার করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাঁদের তলব করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জনসম্মুখে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-কে প্রহার করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘তোমরা কবে থেকে মানুষকে দাস বানিয়ে ফেললে, অথচ তারা স্বাধীন হিসেবে জন্মেছে।’ (ইসলামী কা ইকতিসাদি নিজাম, মাওলানা হিফজুর রহমান, পৃষ্ঠা ১৯০)

    প্রশাসনিক গোয়েন্দা বিভাগ প্রতিষ্ঠা
    প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধে ওমর (রা.) প্রশাসনিক গোয়েন্দা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। গোয়েন্দাদের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন। ফলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের কাজের ব্যাপারে সতর্ক ও সচেতন থাকত। (নিজামুল হুকমি ফিশ-শারিয়াতি ওয়াত-তারিখিল ইসলামী, জাফর আল কাসেমি, পৃষ্ঠা ৫০৬)

    এ ছাড়া ওমর (রা.) হজের সময় প্রত্যেক অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধানদের একত্র হওয়ার নির্দেশ দিতেন এবং সমবেত মানুষের মূল্যায়ন গ্রহণ করতেন। ওমর (রা.)-এর সুশাসন ও দক্ষতায় ইসলামী খেলাফত ‘আদর্শ শাসনে’র দৃষ্টান্তে পরিণত হয়। লেখক নূরনবী যথার্থই বলেছেন, ‘তিনি ছিলেন ইসলামের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা’। (মুসলমানের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, পৃষ্ঠা ১৫৭)

  • সিজদায় যদি ঘুমিয়ে পড়েন…

    সিজদায় যদি ঘুমিয়ে পড়েন…

    প্রশ্ন : কিছুদিন আগে আমাদের মহল্লার একজন লোক ফজরের নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় ঘুমিয়ে পড়েন। ইমাম সালাম ফিরালে শব্দ শুনে তিনি সিজদা থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে সালাম ফিরিয়ে নেন, তাঁর ওই নামাজ কি সহিহ হয়েছে?

     

    উত্তর : লোকটির নামাজ হয়নি। কারণ শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পরিমাণ বসা ফরজ। এই ফরজ আদায় না হওয়ায় তাঁর নামাজ নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁকে আবার ওই নামাজ পড়ে নিতে হবে।

    সূত্র : কিতাবুল আসাল : ১/২০৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/৫১; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা : ১/৯২; আততাজনিস ওয়াল মাজিদ : ১/৪৫২; শরহুল

  • পাখি পালন বিষয়ে ইসলাম যা বলে

    পাখি পালন বিষয়ে ইসলাম যা বলে

    পাখি পালনে ইসলামী শরিয়তে কোনো বাধা নেই। তবে অবশ্যই পাখির আহার প্রদানসহ যথাযথ যত্ন নিতে হবে। হাদিসে এসেছে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) সবচেয়ে অধিক সদাচারী ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল—তাকে আবু ‘উমায়ের’ বলে ডাকা হতো। আমার ধারণা যে সে তখন মায়ের দুধ খেত না। যখনই সে তাঁর কাছে আসত, তিনি বলতেন, হে আবু উমায়ের! কী করছে তোমার নুগায়র? সে নুগায়র পাখিটা নিয়ে খেলত। আর প্রায়ই যখন সালাতের সময় হতো, আর তিনি আমাদের ঘরে থাকতেন, তখন তাঁর নিচে যে বিছানা থাকত, একটু পানি ছিটিয়ে ঝেড়ে দেওয়ার জন্য আমাদের আদেশ করতেন। তারপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়াতেন এবং আমরাও তাঁর পেছনে দাঁড়াতাম। আর তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। (বুখারি, হাদিস : ৬১২৯, মুসলিম, হাদিস : ২১৫০)

    আর যথাযথভাবে খাদ্য প্রদান ও যত্ন না নিতে পারলে জায়েজ হবে না। হাদিসে এসেছে, ইবনে ওমর (রা.)  থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক নারীকে একটি বিড়ালের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সে তাকে বেঁধে রেখেছিল এবং অবশেষে সে মারা গিয়েছিল, পরিণতিতে নারী তারই কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করল। সে যখন তাকে বেঁধে রেখেছিল, তখন তাকে আহার ও পানি দিত না এবং তাকে ছেড়েও দিত না যে সে কীটপতঙ্গ ধরে খাবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৩৬৫, ৩৩১৮, ৩৪৮২, মুসলিম, হাদিস : ২২৪২, দারেমি, হাদিস : ২৮১৪)

  • জান্নাত আসলে কেমন?

    জান্নাত আসলে কেমন?

    সুরা হাদিদে বলা হয়েছে, হাশরের ময়দানে মানুষ তিন দলে বিভক্ত হবে। এক দল সুস্পষ্ট কাফির ও মুশরিক। এদের জাহান্নামের দরজা দিয়ে  ভেতরে প্রবেশ করানো হবে। দ্বিতীয় দল মুমিনদের। তাদের সঙ্গে থাকবে ঈমানের আলো। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘সেদিন (বিচারের দিন) আপনি দেখবেন মুমিন ও মুমিনাদের, তাদের সম্মুখভাগে ও ডান পাশে তাদের জ্যোতি ছোটাছুটি করবে। বলা হবে, আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা : হাদিদ, হাদিস : ১২)

    সুরা হাদিদে বলা হয়েছে, হাশরের ময়দানে মানুষ তিন দলে বিভক্ত হবে। এক দল সুস্পষ্ট কাফির ও মুশরিক। এদের জাহান্নামের দরজা দিয়ে  ভেতরে প্রবেশ করানো হবে। দ্বিতীয় দল মুমিনদের। তাদের সঙ্গে থাকবে ঈমানের আলো। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘সেদিন (বিচারের দিন) আপনি দেখবেন মুমিন ও মুমিনাদের, তাদের সম্মুখভাগে ও ডান পাশে তাদের জ্যোতি ছোটাছুটি করবে। বলা হবে, আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা : হাদিদ, হাদিস : ১২)

    জান্নাত কেমন
    জান্নাত অর্থ—বাগান, উদ্যান, ঢাকা, আচ্ছন্ন ইত্যাদি। জান্নাত বৃক্ষ তরুলতায় আবৃত হওয়ার কারণে একে জান্নাত বলা হয়। জান্নাত এমন শান্তির জায়গা, যার বর্ণনা দেওয়া কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। জান্নাতে রয়েছে এমন সুখ-শান্তি, যা কোনো হৃদয় কল্পনা করেনি এবং কোনো চোখ দেখেনি। জান্নাতে থাকবে উন্নত মানের আসন। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘জান্নাতিদের তাদের ধৈর্যের প্রতিদানস্বরূপ প্রাসাদ দেওয়া হবে। তাদের সেখানে অভিবাদন ও সালাম দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হবে। তথায় তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। আশ্রয়স্থল ও আবাসস্থল হিসেবে তা কতই না উত্তম।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭৫-৭৬)

    অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে বহু প্রাসাদ, যার ওপর নির্মিত থাকবে আরো প্রাসাদ তথা বহুতলবিশিষ্ট, যার পদদেশে নদী প্রবাহিত।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ২০)

    মহানবী (সা.) বলেছেন, জান্নাতে মুমিনদের জন্য একটি মুক্তার তৈরি বিরাট গম্বুজ থাকবে; যার ভেতরের অংশ ফাঁকা থাকবে। ওই গম্বুজটির দৈর্ঘ্য ৬০ মাইল লম্বা হবে। তার প্রতিটি কোণে মুমিনদের সংশ্লিষ্ট স্ত্রী ও খাদেমরা থাকবে। কোনোটির দূরত্ব এত বেশি হবে যে এক কোণের লোক অন্য কোণের লোকদের দেখতে পাবে না। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

    প্রস্থের দূরত্ব হবে জাবিয়াহ (একটি জায়গার নাম) থেকে সানআর (একটি জায়গার নাম) দূরত্বের সমতুল্য (তিরমিজি)।

    মহানবী (সা.) বলেছেন, জান্নাতে চাবুক রাখার পরিমাণ সামান্য জায়গা দুনিয়া ও এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

    জান্নাতের সুঘ্রাণ ৫০০ মাইল দূর থেকে পাওয়া যাবে। জান্নাতিরা নানা ধরনের ফলফলাদি ভক্ষণ করবে। তারা হবে ৬০ হাত লম্বা এবং ১৪ তারিখের চাঁদের মতো উজ্জ্বল। তাদের উন্নত মানের পোশাক পরিয়ে দেওয়া হবে। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘জান্নাতে জান্নাতিদের জন্য ফলমূল ও কাঙ্ক্ষিত সব কিছু থাকবে।’ (সুরা : ইয়াসিন)

    আরো ইরশাদ করেন, ‘তারা জান্নাতে হেলান দিয়ে বলতে থাকবে—তথা তারা প্রচুর ফলমূল ও পানীয় বস্তু আনতে বলবে।’ (সুরা : সাআদ) আরো ইরশাদ করেন, ‘জান্নাতে আছে দুধের নদী, যার স্বাদ অপরিবর্তনীয় ও পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নদী এবং পরিশোধিত মধুর নদী ও তথায় থাকবে বিভিন্ন ফলমূল ও তাদের প্রতিপালকের ক্ষমা।’ (সুরা : মুহাম্মদ)

  • বাজার রোডের মাদ্রাসা নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    বাজার রোডের মাদ্রাসা নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    বরিশাল শহরের বাজার রোডে জামিয়া আরাবিয়া খাজা মঈন উদ্দিন মাদ্রাসার নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি। শুক্রবার বাদ জুমা তিনি এই উদ্বোধন করেন।

    এর আগে বরিশাল সদর আসনের এমপি জাহিদ ফারুক সেখানে অনানুষ্ঠানিক এক সভায় বক্তব্য রাখেন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মধু, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

  • রোগী দেখলে যে দোয়া পড়তে হয়

    রোগী দেখলে যে দোয়া পড়তে হয়

    উচ্চারণ : ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আ-ফানি মিম্মাবতালাকা বিহি ওয়া ফাদদলানি আলা কাছিরিম মিম্মান খলাকা তাফদিলা।’

    অর্থ : ‘সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, তিনি তোমাকে যে ব্যাধিতে আক্রান্ত করেছেন, তা থেকে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তার অসংখ্য সৃষ্টির ওপর আমাকে সম্মান দান করেছেন।’

    ফজিলত : যে ব্যক্তি কোনো রোগীকে দেখলে এই দোয়া পড়বে, ইনশাআল্লাহ সে ওই রোগে কখনো আক্রান্ত হবে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোগাক্রান্ত বা বিপদগ্রস্ত লোককে প্রত্যক্ষ করে বলে, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, তিনি তোমাকে যে ব্যাধিতে আক্রান্ত করেছেন, তা হতে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তার অসংখ্য সৃষ্টির ওপর আমাকে সম্মান দান করেছেন’, সে ওই ব্যাধিতে কখনো আক্রান্ত হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৩২)

  • সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

    সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

    উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন আন নাযিল্লা আও নাদিল্লা আও নাজলিমা আও নুজলিমা আও নাজহালা আও ইউজহালা আলাইনা।’

    অর্থ : ‘আল্লাহ তাআলার নামে, আল্লাহ তাআলার ওপর আমি নির্ভর করলাম। হে আল্লাহ! আমার পদস্খলন থেকে কিংবা পথভ্রষ্টতা থেকে কিংবা জুলুম করা থেকে কিংবা অত্যাচারিত হওয়া থেকে কিংবা অজ্ঞতাবশত কারো প্রতি মন্দ আচরণ থেকে বা আমাদের প্রতি কারো অজ্ঞতাপ্রসূত আচরণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।’

    ফজিলত : যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়া পড়বে, ইনশা আল্লাহ কেউ তার ক্ষতি করতে পারবে না। এবং তার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন রাসুল (সা.) ঘর থেকে বাইরে রওনা হতেন তখন বলতেন, ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন আন নাযিল্লা আও নাদিল্লা আও নাজলিমা আও নুজলিমা আও নাজহালা আও ইউজহালা আলাইনা।’

    সূত্র : তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৭)

  • নবীজীর কাছে যে সকল বেশে হাজির হতেন জিবরাইল (আ.)

    নবীজীর কাছে যে সকল বেশে হাজির হতেন জিবরাইল (আ.)

    জিবরাইল (আ.) এর উপাধি হলো রুহুল আমিন, তথা বিশ্বস্ত আত্মা। তিনি হলেন আকাশের আমিন। জমিনের আমিন হলেন বিশ্বনবী (সা.)। আকাশের আমিন জিবরাইল (আ.) জমিনের আমিনের কাছে ওহি নিয়ে আসতেন। কোনো কোনো সময় সবার অলক্ষ্যে ওহি নাজিল করে চলে যেতেন। আবার কোনো কোনো সময় মানব আকৃতিতে আগমন করতেন। তিনি প্রায় সময় দাহিয়াতুল কালবি (রা.)-এর আকৃতি ধারণ করে আসতেন।

    ফেরেশতা কুকুর ও শূকর ছাড়া যেকোনো আকৃতি ধারণ করতে পারেন। একবার জিবরাইল (আ.) ধবধবে সাদা পোশাকে এবং নিকষ কালো কেশবিশিষ্ট অবস্থায় ছদ্মবেশে মহানবী (সা.)-এর দরবারে এসে হাজির হন। হাদিস বিশারদদের মতে, দশম হিজরিতে বিদায় হজের কিছুকাল আগে জিবরাইল (আ.) সাহাবায়ে কেরামদের দ্বিন শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছিলেন। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়নি। মহানবী (সা.) তখন সাহাবায়ে কেরাম দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলেন। ওমর (রা.) বলেন, আমাদের কেউ তাঁকে চিনতে পারেনি।

    কোনো কোনো হাদিস বিশারদের মতে প্রথমে মহানবী (সা.)ও চিনতে পারেননি। অবশেষে লোকটি মহানবী (সা.)-এর সামনে এসে এবং স্বীয় হাঁটুদ্বয় মহানবী (সা.)-এর পবিত্র হাঁটুদ্বয়ের সঙ্গে মিলিয়ে বসে পড়েন। অতঃপর স্বীয় হস্তদ্বয় তাঁর পবিত্র ঊরুদ্বয়ের ওপর রাখেন। সাহাবায়ে কেরাম অবাক হয়ে তাঁর কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

  • সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

    সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

    উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন আন নাযিল্লা আও নাদিল্লা আও নাজলিমা আও নুজলিমা আও নাজহালা আও ইউজহালা আলাইনা।’

    অর্থ : ‘আল্লাহ তাআলার নামে, আল্লাহ তাআলার ওপর আমি নির্ভর করলাম। হে আল্লাহ! আমার পদস্খলন থেকে কিংবা পথভ্রষ্টতা থেকে কিংবা জুলুম করা থেকে কিংবা অত্যাচারিত হওয়া থেকে কিংবা অজ্ঞতাবশত কারো প্রতি মন্দ আচরণ থেকে বা আমাদের প্রতি কারো অজ্ঞতাপ্রসূত আচরণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।’

    ফজিলত : যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়া পড়বে, ইনশা আল্লাহ কেউ তার ক্ষতি করতে পারবে না। এবং তার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন রাসুল (সা.) ঘর থেকে বাইরে রওনা হতেন তখন বলতেন, ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন আন নাযিল্লা আও নাদিল্লা আও নাজলিমা আও নুজলিমা আও নাজহালা আও ইউজহালা আলাইনা।’

    সূত্র : তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৭)