Category: ধর্ম

  • জান্নাত ও রিজিক লাভে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা

    জান্নাত ও রিজিক লাভে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা

    মানুষের মধ্যে গরিব ও অসহায়রাই বেশি জান্নাতি। আবার অন্যদের জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম উপায় এ গরিবরাই। জাহান্নামিদের অধিকাংশই ধন-সম্পদশালী, ক্ষমতাশালী ও নারীদের মধ্যে থেকে হবে। তবে ধন-সম্পদের মালিক হওয়া, ক্ষমতাশালী হওয়া কিংবা নারীর নারিত্বকে জাহান্নামি হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়নি।

    ধনী কিংবা ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তি গরিব মানুষকে তার ন্যায্য প্রাপ্য জাকাত ও দান-সাদকা দেয়ার মাধ্যমে নিজেদের পরকালকে নিরাপদ ও শংকামুক্ত করবে। দুনিয়ায় নিজেরা পাবে উত্তম রিজিক আর তাদের দেয়া অর্থে গরিবদেরও রিজিকের ব্যবস্থা হবে।

    পরকালের নাজাতের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধে আগ্রহী হয়েই মানুষ গরিব-অসহায়দের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। তাই তো কুরআনুল কারিমে গরিব ও অসহায় মানুষকে দানের ব্যাপারে দেয়া হয়েছে অনেক দিকনির্দেশনা। তাহলো-

    > কাউকে ঋণ মুক্তি কিংবা দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি দিতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘আমি কি তাকে দেইনি দুটি চোখ, জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট। বস্তুত আমি তাকে দুটি পথ দেখিয়েছি। এরপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি। আপনি জানেন, সে ঘাঁটি কি? তা হচ্ছে দাসমুক্তি। অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান- ইয়াতিম আত্মীয়কে অথবা ধুলি-ধুসরিত মিসকিনকে। তারপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ঈমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও দয়ার। তারাই সৌভাগ্যশালী। (সুরা বালাদ : আয়াত ৮-১৮)

    > পরকালের মুক্তিতে গরিবদের দান করা আবশ্যক করে দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হলো এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর, কেয়ামতের দিনের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর এবং সমস্ত নবি-রাসুলগণের ওপর। সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম-মিসকিন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্য।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৭৭)

    > গরিব অসহায়দের দানের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন-
    ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতই না উত্তম। যদি খয়রাত গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজকর্মের খুব খবর রাখেন। (সুরা বাকারা : আয়াত ২৭১)

    > মানুষের সর্বোত্তম দান হলো গবিরকে সহযোগিতা করা। আল্লাহ বলেন-
    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজ উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উত্তম বস্তু ব্যয় কর এবং তা থেকে মন্দ (বস্তু) জিনিস ব্যয় করার ইচ্ছা করো না, কেননা তা (মন্দ বস্তু) তোমরা কখনও গ্রহণ করবে না। তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখ, আল্লাহ অভাব মুক্ত, প্রশংসিত। (সুরা বাকারা : আয়াত ২৬৭)

    > হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোসণা করেন-
    ‘দুর্বল, অসহায় ও নিঃস্বদের ওছিলাতেই সচ্ছল মানুষরা সাহায্য ও রিজিকপ্রাপ্ত হয়।’

    > অন্য হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন-
    ‘জাহান্নাম থেকে বাঁচ, একটি খেজুরের অর্ধেক দিয়ে হলেও।’

    কুরআন ও হাদিসের আলোচনায় যেমনি ভাবে সম্পদশালীকে গরিবের প্রতি ইহসান করার কথা বলা হয়েছে। পরিণামে তারা পাবে মহা পুরস্কার। তেমনি অসহায় ও নিঃস্বদের কথা উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা ও সম্মানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    যে সম্মান ও মর্যাদার কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদের মাধ্যমে সম্পদশালীকে দান করবেন জান্নাত ও পরকালীন মুক্তি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব সম্পদশালীকে গরিবের প্রতি সদয়বান হওয়ার তাওফিক দান করুন। ধনী-গরিব সবাইকে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে দুনিয়ায় উত্তম রিজিক ও পরকালের মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • হাড়ের ক্ষয়রোগ ও ব্যথায় যে দোয়া পড়বেন

    হাড়ের ক্ষয়রোগ ও ব্যথায় যে দোয়া পড়বেন

    হাড়ের ব্যাথা বা হাড়ের ক্ষয়রোগে ভুগছে অসংখ্য মানুষ। বর্তমান সময়ে অস্বাভাবিক হারে হাড়ের রোগের প্রকোপ বেড়ে চলেছে। যার ফলে মানুষ চলাফেরায় চরম সমস্যাগ্রস্ত। হাঁটু কিংবা কোমরে হাড়ের ব্যথা থাকলে মানুষ ঠিকভাবে চলাফেরাসহ ইবাদত-বন্দেগিও করতে পারে না।

    অনেক সময় মানুষের হাড়ের এ ব্যাথা বার্ধক্যের কারণে হয়ে থাকে। আবার প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাবেও এ সমস্যা হতে পারে। আবার অল্প বয়সী মানুষকেও হাড়ের ক্ষয়রোগ ও ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায়।

    মানুষের বয়স বেশি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ইবাদত-বন্দেগিতেও কষ্ট হয়। কারণ সে সময় হাড় ও মেরুদণ্ডের ব্যথায় ঠিকভাবে দাঁড়াতে কিংবা বসতে অনেক সমস্যা হয়।

    হাড়ের ক্ষয়রোগ ও ব্যথায় রয়েছে উন্নত মানের চিকিৎসা। তবে অধিকাংশ সময়ই হাড়ের এ রোগের পরিপূর্ণ চিকিৎসা হয় না। তাই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বান্দার কোনো উপায় থাকে না।

    হাড়ের ব্যথা, ক্ষয়রোগসহ যাবতীয় সমস্যা থেকে বেঁচে থাকতে রয়েছে বিশেষ একটি দোয়া। যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি এ দোয়াটিও পড়া যেতে পারে।

    হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম বার্ধক্যে উপনীত হলে তার হাড় দুর্বল হতে শুরু করে। তখন তিনি মহান আল্লাহর কাছে এ দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চেয়েছিলেন। আর তাহলো-
    قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا
    উচ্চারণ : ‘(ক্বালা) রাব্বি ইন্নি ওয়াহানাল আজমু মিন্নি ওয়াশতাআলার রাসু শাইবাও ওয়া লাম আকুন বিদুআয়িকা রাব্বি শাকিয়্যা।’ (সুরা মারইয়াম : আয়াত ৪)
    অর্থ : ‘(সে বলল) হে আমার পালনকর্তা! আমার অস্থি বাধ্যকের (বয়স ভারে) কারণে দুর্বল হয়ে গেছে। আমার মস্তক শুভ্রোজ্জ্বল হয়েছে। হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফল হইনি।’

    সুতরাং যাদের হাড়ের ক্ষয় রোগ আছে কিংবা ব্যথা আছে, তারা এটি নিয়মিত পড়তে পারেন। বিশেষ করে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর এ দোয়া পড়ার জন্য উপযুক্ত সময়। একনিষ্ঠ নিয়তে নিয়মিত এ দোয়া পড়লে মানুষ হাড়ের ক্ষয়রোগসহ ব্যথা বেদনায় স্বস্তি লাভ করবে।

    উল্লেখ্য যে, হাড়ের কোনো সমস্যা হলে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হয়ে সে মতে চলা জরুরি। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে হাড়ের সমস্যা সমাধানে উল্লেখিত দোয়া মাধ্যমে শেফা লাভের প্রার্থনা করে যাওয়া।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাড়ের যাবতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি দান করুন। এ দোয়া বরকতে হাড়ের যাবতীয় রোগ-বালাই থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

  • যেসব মানুষকে কষ্ট দিলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে

    যেসব মানুষকে কষ্ট দিলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে

    সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। এ মানুষদের মধ্যে ৩ শ্রেণির মানুষকে কষ্ট দিলে কিংবা আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠেছে বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    এসব মানুষ হলো তারা, যারা সৃষ্টিগতভাবেই অসহায়। আর তারা হলো-
    > প্রতিবন্ধি
    > পাগল ও
    > অসহায় নারী।
    যাদের প্রতি ইহসান করলে আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও পরকালে মানুষকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেবেন

    অসহায় নারী, প্রতিবন্ধি ও পাগলদের প্রতি অত্যাচার-নির্যাতন করলে যেমন আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে তেমনি তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে দুনিয়া ও পরকালের মুক্তিও সুনিশ্চিত।

    যদিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমাজের সব মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখতেন তথাপিও তিনি প্রতিবন্ধি ও অসহায়দের অধিকারের ব্যাপারে খুব বেশি সজাগ ছিলেন। তিনি প্রতিবন্ধিদের বিশেষ মর্যাদা দিতেন। যার প্রমাণ হজরত বেলাল ও হজরত উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহুমা।

    হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু মৃদু বাক প্রতিবন্ধি ছিলেন। তারপরও তিনি হজরত বেলালকে মসজিদে নববির মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগি দিয়েছিলেন।

    দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে মদিনার অস্থায়ী শাসনকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।
    এমনকি তিনি যখনই তাকে (আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম) দেখতেন, তখনই বলতেন, ‘স্বাগতম জানাই তাকে, যার ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে ভর্ৎসনা করেছেন।’

    অন্ধ সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে কোনো এক বিষয়ে তার কথার অগ্রাধিকার না দেয়ায় আল্লাহ তাআলা সতর্কতামূলক আয়াত নাজিল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘সে ভ্রুকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি এল। তুমি কেমন করে জানবে, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো অথবা উপদেশ গ্রহণ করত। ফলে উপদেশ তার উপকারে আসতো।’ (সুরা আবাস : ১-৪)

    এ আয়াত নাজিলের পর থেকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিবন্ধিদের বিষয়ে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করেন। তাদের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দেন। তাদেরকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে থাকেন। আর প্রতিবন্ধিদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম সুমহান আদর্শও বটে।

    মনে রাখতে হবে
    প্রতিবন্ধি, পাগল, অসহায় নারী সমাজের মানুষদেরই একটা অংশ। তাদের বাদ দিয়ে সুন্দর সমাজ কল্পনা করা যায় না। তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখালে দুনিয়া ও পরকালের মুক্তি সুনিশ্চিত।

    এসব অসহায় মানুষদের ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা যেমন জরুরি তেমনি এগুলো তাদের অধিকার। তাই প্রতিবন্ধিদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা দেখানো ও সহনুভূতিশীল হওয়ার কথা বলেছেন বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, অসুস্থ (প্রতিবন্ধি) ব্যক্তির খোঁজ খবর নাও এবং বন্দিদের মুক্ত করে দাও।’ (বুখারি)

    সুতরাং প্রতিবন্ধি, পাগল ও অসহায় নারীদের প্রতি অবিচার নয়। তাদের প্রতি সুবিচার করার মাধ্যমে আল্লাহর আজাব ও অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

    কেননা তাদের প্রতি বেখেয়াল হওয়ার কারণেই আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সতর্কতামূলক ওহি নাজিল করেছিলেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিবন্ধি, পাগল ও অসহায় নারীদের প্রতি সহনুভূতিশীল হওয়ার পাশাপাশি তাদের অধিকারের প্রতি লক্ষ্য রাখার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যেসব নামাজ ‘সুন্নাতে রাতেবা’ হিসেবে আদায় করতেন বিশ্বনবি

    যেসব নামাজ ‘সুন্নাতে রাতেবা’ হিসেবে আদায় করতেন বিশ্বনবি

    ইসলাম ও মুসলমানদের প্রধান ইবাদত নামাজ। নামাজে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি নসিহত করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ মুসলমানের ওপর ফরজ করেছেন। এ ছাড়াও রয়েছে অনেক সুন্নাত ও নফল নামাজ। যা আদায়ে রয়েছে অনেক ফজিলত ও মর্যাদা।

    সুন্নাতে রাতেবা হিসেবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক নামাজ আদায় করেছেন। সুন্নাতে রাতেবা হলো-
    ‘প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেসব কাজ, যা তিনি সব সময় করতেন ‘
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্নাতে রাতেবা হিসেবে ফরজ নামাজের পাশাপাশি বেশ কিছু নামাজ নিয়মিত আদায় করতেন। আর তাহলো-
    – ফজরের ফরজ নামাজের আগে ২ রাকাআত সুন্নাত নামাজ।
    – জোহরের ফরজের নামাজের আগে ২ রাকাআত সুন্নাত এবং
    – জোহরের ফরজের পরে ২ রাকাআত সুন্নাত নামাজ।
    – মাগরিবের ফরজের পরে ২ রাকাআত সুন্নাত নামাজ।
    – ইশার ফরজের পরে ২ রাকাআত সুন্নাত নামাজ। এবং
    – বিতর নামাজও বিশ্বনবি সুন্নাতে রাতেবা হিসেবে আদায় করতেন।

    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের ২ রাকাআত সুন্নাত নামাজ ব্যতিত অন্য কোনো নফল নামাজের প্রতি অধিক যত্নবান হতেন না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে জোহরের (ফরজের) আগে ২ রাকাআত, জোহরের পরে ২ রাকাআত, জুমআর পর ২ রাকাআত, মাগরিবের পর ২ রাকাআত এবং ইশার পর ২ রাকাআত নামাজ পড়েছি।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    তিনি এ সংক্রান্ত আরও একটি হাদিস বর্ণনা করে বলেন, ‘বেতের নামাজকে রাতের সবশেষ নামাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    মুমিন মুসলমানের উচিত নিয়মিত সুন্নাতে রাতেবা আদায় করা। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো পদ্ধতিতে উল্লেখিত সুন্নাত নামাজগুলো যথাযথ আদায় করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত এ নামাজগুলো আদায় করার মাধ্যমে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লামের সুন্নাতে রাতেবাকে জাগ্রত রাখার তাওফিক দান করুন। পরকালের কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যেসব ক্ষেত্রে প্রতিবেশির অধিকার রক্ষা করা বেশি জরুরি

    যেসব ক্ষেত্রে প্রতিবেশির অধিকার রক্ষা করা বেশি জরুরি

    বিশ্বের সব মানুষ হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম থেকে এসেছে। তাই সবাই পরস্পর ভাই ভাই। তাকওয়া ছাড়া সব মানুষই সমান। মানুষের প্রতি রয়েছে মানুষের অধিকার। তন্মধ্যে প্রতিবেশির অধিকার সবচেয়ে বেশি।

    প্রতিবেশির সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সদয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন-
    ‘আর আল্লাহর ইবাদত কর, তার সঙ্গে কাউকে শরীক করো না। আর বাবা-মার সঙ্গে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্মীয়, ইয়াতিম-মিসকিন, প্রতিবেশি, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও (সদয় ব্যবহার কর)। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক-গর্বিতদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩৬)

    ভালো মানুষ কখনো তার প্রতিবেশির প্রতি জুলুম অত্যাচার করে না। প্রতিবেশির কল্যাণ কামনা করে থাকেন। প্রতিবেশি ক্ষুধার্থ বা অভাবি হলে তাকে খাদ্য দান এবং সহযোগিতা করে।

    প্রতিবেশি হক আদায়ে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নসিহত পেশ করেন-
    – যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে বিশ্বাস করে এবং প্রতিবেশির প্রতি অসদাচরণ করবে না, বিচারের দিন তিনি হবে সম্মানিত ও মর্যাদাবান। যে ব্যক্তি আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং তার অতিথিদের সঙ্গে উত্তম কথা বলে বিচারের দিন তারাও মর্যাদাবান হবে। যে ব্যক্তি আল্লাহকে বিশ্বাস করবে এবং প্রতিবেশির সঙ্গে ভালো কথা বলবে, আল্লাহ তাআলা বিচারের দিন তার সঙ্গে উত্তম কথা বলবেন।’ (বুখারি)

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনকে বিশ্বাস করে সে তার প্রতিবেশিকে কষ্ট না দিয়ে তার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবে।’ (মুসলিম, মিশকাত)

    উল্লেখিত হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার জন্য প্রতিবেশির সঙ্গে উত্তম আচরণ একটি অন্যতম শর্ত।

    এ কারণেই কুরআন ও সুন্নায় প্রতিবেশি অধিকারের ব্যাপারে অত্যধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সুতরাং যেসব ক্ষেত্রে প্রতিবেশির অধিকারগুলো বেশি। সেগুলো হলো-
    – প্রতিবেশি ক্ষুধার্ত হলে তার সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেয়া। (মুসলিম)
    – কখনো প্রতিবেশিকে অযথা হয়রানি না করা।
    – কোনো অনুষ্ঠান হলে প্রতিবেশিদের উপহার-উপঢৌকন দেয়া। (মুসলিম)
    – প্রতিবেশি কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া এবং তার সেবা করা।
    – প্রতিবেশি কেউ মারা গেলে তার দাফন-কাফন ও জানাযায় অংশগ্রহণ করা।
    – প্রতিবেশির প্রয়োজনে তাকে আর্থিক ঋণ দেয়া।
    – সব সময় প্রতিবেশির সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে কথা বলা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিবেশির অধিকার যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। কুরআন হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেশির অধিকার আদায়ে সচেতন হওয়ার তাওফিক দান করুন। প্রতিবেশিসহ সবার সঙ্গে জুলুম করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • আজওয়া খেজুরে যেসব রোগমুক্তির কথা বলেছেন বিশ্বনবি

    আজওয়া খেজুরে যেসব রোগমুক্তির কথা বলেছেন বিশ্বনবি

    হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে তোমরা সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা কর। কারণ ঈমানের পর সুস্বাস্থ্যের চেয়ে অধিক মঙ্গলজনক কোনো কিছু কাউকে দান করা হয়নি।’ (ইবনে মাজাহ)

    তাইতো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত হচ্ছে সুস্বাস্থ্য। ইবাদত-বন্দেগি থেকে শুরু করে সব কাজেই সুস্বাস্থ্যের বিকল্প নেই। সুতরাং মানুষের উচিত সব সময় সুস্থ থাকার চেষ্টা করা।

    রোগ-ব্যাধি থেকে সুস্থতা লাভে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কোনো সাহাবি যখন অসুস্থ হয়ে পড়তেন তখন তিনি তাদের দেখতে যেতেন। তাদের শরীরে হাত বুলিয়ে দিতেন। তাদের সুস্থতার জন্য দোয়া করতেন এবং সুস্থতা লাভের পরামর্শ দিতেন।

    হজরত সাদ রাদিয়াআল্লাহু আনহু একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে যান এবং হৃদরোগের চিকিৎসার নসিহত পেশ করেন-

    হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখতে এসেছিলেন। তিনি আমার বুকের ওপর হাত রাখলেন তখন আমি হৃদয়ে শীতলতা অনুভভ করলাম।
    তিনি বলেন, তোমার হৃদরোগ হয়েছে।
    এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আজওয়া খেঁজুর খেতে দিয়ে বললেন, তুমি সাতদিন আজওয়া খেজুর খাবে তাহলে তুমি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে।’ (আবু দাউদ)

    এমনিতেই খেজুর অনেক উপকারি। বহু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ খেজুর। আর খেজুরের মধ্যে আজওয়া খেজুর অনেক উন্নত এবং দামি। আর এতে রয়েছে মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি উপাদান। অন্য হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন-

    হজরত সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, ওই ব্যক্তিকে বিষ ও জাদু-টোনা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    যখনই সাহাবায়ে কেরামের মাঝে কেউ অসুস্থ হয়ে যেতেন, প্রিয় নবি তাকে দেখতে যেতেন। হাদিসে এসেছে-
    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ যখন অসুস্থ হয়ে যেতেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ডান হাত রোগীর শরীরের বুলাতেন এবং বলতেন-
    اَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ اَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ اِلَّا شِفَائُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقْمًا
    উচ্চারণ : ‘আজহিবিল বাসা রাব্বান নাসি, ওয়াশফি আংতাশ শাফি লা শিফাআ ইল্লাহ শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাক্বামা।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    অর্থ : হে মানুষের প্রতিপালক! এ রোগ দূর করে দিন এবং সুস্থতা দান করুন। আপনিই সুস্থতা দানকারী। আপনার সুস্থতা ব্যতিত কোনো সুস্থতা নেই। এমন সুস্থতা যা কোনো রোগকে বাকি রাখে না।’

    মুমিন মুসলমানের জন্য আবশ্যক হচ্ছে নিজেদের সুস্থ রাখতে নিয়মিত খেলাধূলা, ব্যায়াম ও সাঁতার কাটা। নিয়মিত পরিশ্রম করা। যা মানুষের সুস্থতার জন্য জরুরি। আর বিশ্বনবির শেখানো এ দোয়া বেশি বেশি পড়া এবং আমল করা-

    হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-
    اَللهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَ ضَلَعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউ’জুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল আ’ঝযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুব্‌নি ওয়াল বুখলি ওয়া দ্বলাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রজিাল।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে থেকে চিন্তা, শোক, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, ঋণের বোঝা ও মানুষের ওপর জোর-জবরদস্তি থেকে আশ্রয় চাই।’
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উৎকণ্ঠা, মনোকষ্ট, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণগ্রস্ততা এবং মানুষের কর্তৃত্বাধীন হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

    সুতরাং মানুষের উচিত প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত নসিহতগুলো মেনে হৃদরোগসহ যাবতীয় রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। নিয়মিত খেজুর খাওয়ার পাশাপাশি দোয়া করার তাওফিক দান করুন।

  • কৌতুক ও রসিকতায় ইসলামের নির্দেশনা কী?

    কৌতুক ও রসিকতায় ইসলামের নির্দেশনা কী?

    বাংলার মুখ ডেস্ক:

    মনকে প্রশান্তি ও কাজের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে বিনোদন খুবই জরুরি। তা হতে পারে কারো সঙ্গে গল্প, কৌতুক, রসিকতা কিংবা কারো জীবনের ভালো দিক বা পুরনো কোনো স্মৃতি নিয়ে বন্ধু-বান্ধব বা আপনজনদের সঙ্গে আলোচনা করা।

    তবে এসব হাস্যরস, কৌতুক কিংবা রসিকতায়ও থাকতে হবে শালীনতা ও সীমাবদ্ধতা। এমন কোনো ঘটনার বর্ণনা বা রসিকতা করা যাবে না যাতে শোরগোল বা গোনাহ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হয় তাও করা যাবে না।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে রসিকতা ও সুন্দর সুন্দর ঘটনার বর্ণনায় মেতে উঠতেন। হাদিসে এ রকম অনেক ঘটনার বর্ণনা এসেছে-

    হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে (চলাচলের জন্য) বাহন (উট) জন্তু চেয়ে বসে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তোমাকে একটা উটনির বাচ্চা দেব। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি (উটনি) বাচ্চা দিয়ে কী করব? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আরে সব উট কি উটনীর বাচ্চা নয়? (আবু দাউদ, তিরমিজি)

    রসিকতা কিংবা কৌতুক মানুষকে প্রশান্তি দেয়। মানুষের রাগ দমন করে। মানসিক প্রশান্তির অন্যতম চিকিৎসাও গল্প, রসিকতা ও কৌতুক। আপনজনদের কেউ যখন হঠাৎ রেগে যায় তখন রসিকতা দ্বারাই সাধারণত তা দমন বা থামানোর চেষ্টা করা হয়।

    রসিকতা গল্প কিংবা কৌতুকের অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। তবে শান্তি ও সমাধান খুঁজতে গিয়ে এমন কোনো রসিকতা করা যাবে না যে রসিকতায় মানুষকে গোনাহের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। কেননা ব্যবহারের অসাবধানতায় মানুষের অনেক প্রিয় জিনিসও ভীষন অপ্রীতিকর ও মন্দে পরিণত হয়।

    >> রসিকতার নামে মিথ্যা বা গোনাহ করা যাবে না
    এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে কৌতুক ও রসিকতা করলেও এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছেন-

    ‘তোমার তোমাদের ভাইয়ের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ো না এবং তার সঙ্গে পরিহাস করো না।’

    মাঝে মাঝে মানুষের রসিকতা এমন লাগমহীন হয়ে যায় যে, তা দ্বারা সম্মানহানি হয়। মিথ্যার প্রচলন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কেউ কেউ আবার এ দ্বারা আন্তরিকভাবে কষ্ট পায়। যা ইসলামে পুরোপুরি হারাম ও কবিরা গোনাহ।

    >> রসিকতার নামে কষ্ট দেয়া যাবে না
    রসিকতার মাত্রা যেন শারীরিক কষ্টের দিকে ধাবিত না হয়। কারণ অনেকেই ঠাট্টার ছলে মুসাহাফার নামে হাতে চাপ দেয়, মাথার চুল ধরে টান দেয়, শরীরের চিমটি কাটে কিংবা দুই আঙুলে চামড়ার দলন দেয়। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে এ জিনিসগুলো বেশি করা হয়। যা নির্মম নিষ্ঠুরতা ছাড়া কিছুই নয়। বরং ঠাট্টার ছলে রসিকতার নামে জুলুমই বটে।

    >> রসিকতার নামে কাউকে ক্ষেপানো যাবে না
    নির্দিষ্ট কোনো কথা বা ইঙ্গিত করলে কিছু মানুষ ক্ষেপে যান। কিংবা বিরক্তি বা লজ্জাকর কোনো কথা একাধিকবার বললে অনেকেই ক্ষেপে যায়। এমন কোনো বিরক্তিকর বা ক্ষেপে যাওয়ার মতো কোনো কথাও ঠাট্টার ছলে রসিকতা বা কৌতুক করে বলা যাবে না।

    কেননা বিরক্তি মানুষকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। আর যখন সংঘাত বেধে যায় তখন শয়তান সেখানে প্রচণ্ড আকারে প্ররোচিত করতে থাকে। আর তাতে বড় ধরনের ফাসাদ বা ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। তখন এ ঝগড়া জখম তথা হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গিয়ে পৌছে। সুতরাং রসিকতার নামে কাউকে ক্ষেপানো যাবে না।

    >> রসিকতার আদব হলো-
    ছোট-বড় সবার সঙ্গে রসিকতা ও কৌতুক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ছোটদের রসিকতা যেন বড়দের সঙ্গে আদবের গণ্ডি-অতিক্রম করে বেয়াদবি না হয়ে যায়। আবার বড়দের রসিকতায় যেন ছোটদের প্রতি আদর-স্নেহ অব্যাহত থাকার পরিবর্তে জুলুমে পরিণত না হয়।

    এ প্রসঙ্গে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে-
    একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আয়তনে ছোট) একটি তাঁবুর মধ্যে অবস্থান করছিলেন। সে সময় এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ভেতরে যেতে বললেন। কিন্তু তাঁবুটি ছিল বেশ ছোট। সাহাবি রসিকতা করে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার পুরো শরীর নিয়েই ভেতরে আসবো নাকি আংশিক? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পুরোটাই ‘ (আবু দাউদ)

    রসিকতা, কৌতুক ও ভালো গল্প যেন শুধু প্রশান্তির জন্য হয়। এ বিষয়টি লক্ষ রেখেই ছোট-বড়দের সম্মান ও স্নেহের কথা মনে রেখে অবস্থানভেদে সবার সঙ্গে উত্তম রসিকতা ও কৌতুক ও গল্প করা যেতে পারে। গোনাহ হবে এ ধরনের সব রসিকতা ও গল্প ত্যাগ করাও আবশ্যক।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রসিকতার নামে সব ধরনের মিথ্যা, কষ্টদায়ক ও গোনাহের শামিল রসিকতা ও কৌতুক থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

  • আজ শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব

    আজ শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব

    বাংলার মুখ ডেস্ক:

    আজ রোববার, শ্যামাপূজা। হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব। এ ধর্মীয় উৎসবটি কালীপূজা নামেও পরিচিত। একই সঙ্গে আজ উদযাপিত হবে শুভ দীপাবলি উৎসব।

    দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের উদ্দেশ্যে ভক্তের জীবনে কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে ধরাধামে আগমন ঘটে দেবী শ্যামা বা কালীর। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্যামা দেবী শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক।

    দেশের হিন্দু সম্প্রদায় আজ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শ্যামাপূজা উদযাপন করবে। রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে শ্যামা দেবীর পূজা আয়োজিত হবে। প্রসাদ বিতরণ, আরতি, ধর্মীয় সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকসজ্জা কর্মসূচিও রয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যায় মন্দির, মণ্ডপ ও হিন্দুদের ঘরে ঘরে দীপাবলি উদযাপনের জন্য প্রদীপ প্রজ্বালন করা হবে।

    প্রতি বছর অমাবশ্যায় এপূজা হয়ে থাকে। নগরীর কালী বাড়ি,নথুল্লাবাদ চরণ কিব মুকুন্দ দাস কালীবাড়ি, ফলপট্টি ঠাকুরা্নীর মন্দির, কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড রাধা গবিন্দ জিউর মন্দির, কাউনিয়া মোনাসা বাড়ি কালি মন্দির, কাউনিয়া মহাশ্মশান ও আদী কালিবাড়িসহ এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

  • আপনজন মারা গেলে নিকটাত্মীয়দের যা করা জরুরি

    আপনজন মারা গেলে নিকটাত্মীয়দের যা করা জরুরি

    ইসলাম ডেস্ক:

    জীবন আছে যার মৃত্যু তার সুনিশ্চিত। মৃত্যু হবে না এমন ধারণা পোষণ করা বোকামি। আর এ মৃত্যুর মাধ্যমেই মানুষের জাগতিক সব কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি আমলও বন্ধ হয়ে যায়।

    তবে মৃত ব্যক্তি যদি মৃত্যুর আগে সাদকায়ে জারিয়া, উপকারি ইলম বা জ্ঞানদান ও নেক সন্তান রেখে যান তবে তার আমল নামায় সাওয়াব জমা হতে থাকবে। তাই পরকালে শান্তিময় জীবন লাভ করতে চাইলে অবশ্যই দুনিয়াতে তাকে ভালো আমল করে যেতে হবে।

    আপনজন কেউ মারা গেলে দুনিয়ায় জীবিত নিকটাত্মীয়রা তাদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনায় বেশ কিছু কাজ অব্যাহত রাখতে পারেন। হাদিসে এসেছে, মৃত্যুর পর দুই ধরণের আমল অব্যাহত থাকে-
    >> মৃত ব্যক্তির এমন আমল যা তার জন্য সদকায়ে জারিয়া হতে পারে।
    >> আর এমন আমল, যা মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিত নিকটাত্মীয়রা করে থাকেন।

    – সদকায়ে জারিয়া
    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন, ‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের দরজা বন্ধ হয় না।
    ক. সদকায়ে জারিয়া
    খ. যদি কেউ এমন সন্তান রেখে যায়, যে সন্তান বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করবে
    গ. এমন দীনি শিক্ষা রেখে যায়, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে থাকে। (মুসলিম শরিফ)

    – মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিত নিকটাত্মীয়দের দোয়া
    মৃত ব্যক্তি সাওয়াব পেতে থাকবে যদি দুনিয়ায় অবস্থানকারী তার নিকটাত্মীয়রা দোয়া করেন। তাই নিকটাত্মীয় ও মুসলিম উম্মাহর উচিত মৃত আপনজনসহ সব মুসলমানের জন্য দোয়া করা। আর তাহলো-

    > সব মুসলমানদের মাগফেরাত কামনা
    মৃত আজনজনদে সঙ্গে সব মুমিনের জন্য দোয়া করা। কেননা কুরআনে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে এবং আমাদের আগে যারা ঈমান এনেছেন, তাদেরকে ক্ষমা কর। আর ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রেখ না।’

    আর পিতা মাতার জন্য দোয়া করা-
    رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
    উচ্চারণ : ‘রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা।‘ (সুরা বনি-ইসরাইল : আয়াত ২৪)
    অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন; যেমনিভাবে তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’

    > সাধারণ দান-সদকা করা
    হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মা হঠাৎ মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি কোনো ওসিয়ত করে যেতে পারেননি। আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলার সুযোগ পেতেন, তাহলে দান সদকা করতেন। আমি তার পক্ষ থেকে দান সদকা করলে কি তিনি এর সওয়াব পাবেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন। (বুখারি ও মুসলিম)

    এ হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কেউ যদি দান সদকা করে তাহলে সে তার সওয়াব পাবেন এবং এর দ্বারা তিনি উপকৃত হবেন।

    > রোজা পালন করা
    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এই অবস্থায় যে, তার ওপর রোজা ফরজ ছিল তবে তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিশগণ রোজা রাখবে। (বুখারি ও মুসলিম)
    এ হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কেউ যদি রোজা রাখে তাহলে সে তার সওয়াব পাবেন এবং এর দ্বারা তিনি উপকৃত হবেন।

    > হজ আদায় করা
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে এভাবে তালবিয়া পাঠ করতে শুনলেন, আমার শুবরুমার পক্ষ থেকে এ হজ্জ। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, শুবরুমা কে? লোকটি বলল, সে আমার ভাই, অথবা বলল সে আমার আত্মীয়।
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তোমার নিজের হজ আদায় করেছ? সে বলল না, করিনি। (তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন) আগে তোমার নিজের হজ কর। তারপর শুবরুমার হজ কর।
    এ হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নিজের হজ আদায় করার পর অন্য মৃত ব্যক্তির নামে হজ আদায় করলে সে তার সওয়াব পাবেন এবং এর দ্বারা তিনি উপকৃত হবেন।

    > কুরবানি করা
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি দুম্বা কুরবানি করেন। জবাই করার সময় বললেন, এটা আমার উম্মতের ওই সব লোকদের পক্ষ থেকে যারা কুরবানি করতে পারেনি। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করা জায়েয। সুতরাং কেউ যদি নিজের কুরবানির সাওয়াবে তার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও মৃত ব্যক্তির নিয়ত করে নেয়, তাহলে তার সাওয়াব তারা পেয়ে যাবে।

    সুতরাং বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি, স্বামী-স্ত্রীসহ আপনজনদের মধ্যে যারা মারা যাবে তাদের জন্য নিকটাত্মীয়রা উল্লেখিত কাজগুলোর মাধ্যমে তাদের পরকালীন জীবনের সফলতার জন্য আমলগুলো জারি রাখতে পারেন।

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও উম্মতে মুহাম্মাদিকে এ নির্দেশনা দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-
    হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য ঈমানের ওপর অবিচল ও দৃঢ় থাকার দোয়া কামনা কর, কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার আত্মীয়-স্বজনসহ সব মুসলমানের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। মৃত সব মুসলমানকে আল্লাহ তাআলা পরকালের সফলতা দান করুন। দুনিয়ায় পরকালের সম্বল গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে ৪ গোনাহের কারণে মানুষ জাহান্নামি হবে

    যে ৪ গোনাহের কারণে মানুষ জাহান্নামি হবে

    ইসলাম ডেস্ক:

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে কল্যাণের নসিহত পেশ করেছেন। যাতে মানুষ ভালো কাজের মাধ্যমে নিজেদের জীবন সাজায়। অন্যায় বা জাহান্নামে যাওয়ার কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে পারে।

    হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ৪ গোনাহের কারণে মানুষ জাহান্নামে যাবে। আর তাহলো-

    > মদ খাওয়া : অর্থাৎ মদ খাওয়া হারাম। মদসহ যে কোনো নেশা গ্রহণের গোনাহের কারণে মানুষ জাহান্নামে যাবে।

    > গুটি পোকার জামা পরলে : অর্থাৎ গুটি পোকা থেকে যে সুতা তৈরি হয়। সে সুতায় বুনানো কাপড় পরলে ওই ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে।

    > ব্যভিচার : অর্থাৎ বিয়ে ছাড়া নারীরা পুরুষের সঙ্গে আবার পুরুষরা নারীদের সঙ্গে মেলামেশা করলে তারা জাহান্নামে যাবে।

    > বাদ্য-বাজনা বাজালে : অনেক গান আছে অর্থবোধক এবং ভালো কিন্তু গানের সঙ্গে ঢোল-তবলা ও মেশিনের সংমিশ্রণে বাজনা বাজিয়ে গান পরিবেশকারী ব্যক্তিও জাহান্নামে যাবে।

    মানুষের উচিত উল্লেখিত কাজগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখা। মদসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য, গুটি পোকার পোশাক, ব্যভিচার ও বাদ্য-বাজনা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে গোনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত গোনাহের কাজগুলোসহ যাবতীয় গোনাহের কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।