Category: ধর্ম

  • যেভাবে অর্থনীতি সমৃদ্ধ করেছিলেন দ্বিতীয় ওমর

    যেভাবে অর্থনীতি সমৃদ্ধ করেছিলেন দ্বিতীয় ওমর

    ইসলাম ডেস্ক:

    খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহ। ইসলামি খেলাফতের এ আমির প্রথমত বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় ওমর হিসেবে পরিচিত। দ্বিতিয়ত তিনি ইসলামি অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধশালী করার জন্য ব্যাপক পরিচিত। তাকে হত্যার করার বিনিময়ে পাওয়া টাকাও তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করেছিলেন।

    যে কারণে তাঁর আমলেই জাকাত গ্রহণ করার মতো কোনো লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। তিনিই ইসলামি অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করেছিলেন। একটি ঘটনাই তার প্রমাণ। তাকে বিষ প্রয়োগে মারার জন্য চুক্তির টাকাও তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঘটনাটি হলো-

    ন্যায়নীতি ও সুদৃঢ় ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রণয়নের কারণে খলিফা হজরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন অনেকের বিরাগভাজন। তার বিরোধী লোক ও হিংসকারী ছিল অনেক।

    এসব কুচক্রী ও হিংসাকারীরা যখন বুঝতে পারছিলো যে, খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের কারণে তারা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা পাবে না। তখন তারা খলিফাকে বিষ প্রয়োগের হত্যার জঘন্য চক্রান্তে লিপ্ত হলো।

    সে সময় তারা খলিফার এক খাদেমের সঙ্গে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হলো যে, খাদেম তাদের দেয়া বিষ খলিফার খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেবে। বিনিময়ে খাদেমকে দেয়া হলো ১০০০ দিনার।

    খাদেম চুক্তি অনুযায়ী তাদের (কুচক্রীদের) দেয়া বিষ খলিফার খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। খলিফাও তা খেয়ে ফেলে। আর এতে খলিফা অসুস্থ হয়ে পড়ে। খলিফার সুস্থতায় চিকিৎসক আনা হলো।

    চিকিৎসক বললেন, ‘হে আমিরুল মুমিনিন! আপনাকে খাদ্যের সঙ্গে বিষ খাওয়ানো হয়েছে।

    খলিফা বললেন, ‘যেদিন আমাকে বিষ মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়েছিল, সে দিনই আমি তা অনুভব করি।

    অতঃপর খলিফা ওই খাদেমকে ডাকেন এবং খাবারের সঙ্গে সে বিষ প্রয়োগ করেছিল কিনা জানতে চান। তিনি আরও জানতে চান-
    وَيْحَكَ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ؟
    তোমার ক্ষতি হোক এমন কাজ করতে কে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে?

    খাদেম বলে, ‘সে ১০০০ দিনারের বিনিময়ে এ কাজ করেছিল।

    এবার খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ খাদেমকে নির্দেশ দিলেন- যাও, দ্রুত তোমার বিনিময়ে টাকা (১০০০ দিনার) নিয়ে আস।

    খাদেম দিনারগুলো নিয়ে আসলে খলিফা তাকে নির্দেশ দিলেন এসব অর্থ রাষ্ট্রীয় বায়তুল মালে জমা করে দাও। অর্থ বায়তুল মালে জমা হওয়ার পর খাদেমের প্রতি খলিফর নির্দেশ ছিল এমন-
    ‘এবার তুমি এমন কোনো স্থানে পলায়ন কর, যেখান থেকে লোকেরা তোমাকে খুঁজে বের করতে পারবে না। লোকেরা তোমাকে যদি খুঁজে পায় তবে তোমাকে হত্যা করে ফেলবে।’

    খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ মৃত্যু সন্নিকটে এসেও ইসলামি অর্থনীতির কথা চিন্তা করেই কোনো রকম দেরি না করে তা তাকে হত্যার চুক্তির টাকাও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    আর এ কারণেই খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহুর আমলে জাকাতের অর্থ দেয়ার মতো লোক পাওয়া ছিল দুষ্কর। সে সময়টি ছিল ইসলামি অর্থনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

  • ওজুর পানিতে মুছে যায় যেসব গোনাহ

    ওজুর পানিতে মুছে যায় যেসব গোনাহ

    ইসলাম ডেস্ক:

    আল্লাহর বিধান পালনের পাশাপাশি তার রহমত মুমিন মুসলমানের শ্রেষ্ঠ চাওয়া এবং পাওয়া। কেননা আল্লাহর রহমত ছাড়া আমল ও ইবাদত দিয়ে কোনো মুমিন বান্দাই নাজাতে আশা করতে পারবে না।

    আল্লাহ তাআলা যেদিন বান্দার প্রতি কাজে হিসাব নেবে। সে দিন আল্লাহর আদালতে দুনিয়ার সব কাজে হিসাব দেয়া সহজ হবে না। তাইতো মুমিন মুসলমান বিভিন্ন আমল ও ইবাদতে নিজেদের নিয়োজিত রাখে। আল্লাহর কাছে তার রহমত কামনা করেন।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বমানবতার জন্য মুক্তির দূত হিসেবেই দুনিয়াতে এসেছেন। রহমতের দরজাগুলোর কথা তার উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন। যেখানে রয়েছে দুনিয়ার শান্তি ও পরকালের মুক্তির আলাপন।

    দুনিয়াতে মানুষ যখন গোনাহমুক্ত থাকে তখন তার মন থাকে প্রশান্ত ও প্রফুল্ল। প্রশান্ত ও প্রফুল্ল মনের অধিকারী ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে উজাড় করে দিতে সক্ষম হয়। তখনই মহান আল্লাহ তার রহমতের কোলে সে বান্দাকে ঠাঁই দেন।

    তাই গোনাহমুক্ত থাকার ছোট্ট একটি আমল হলো সব সময় পবিত্র থাকা। পবিত্র থাকার অন্যতম কাজ মাধ্যম হলো ওজু। কেননা ওজুর সময় মানুষের প্রতিটি অঙ্গের গোনাহসমূহ ঝরে যায়। হাদিসে এসেছে-

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (মুসলিম বা মুমিন) বান্দা ওজু করার সময়, যখন সে মুখমণ্ডল ধোয়, তখন পানির সঙ্গে ওই (মুখের) সব গোনাহ বের হয়ে যায়। যা সে দুই চোখ দ্বারা করেছিল।
    যখন সে দুই হাত ধোয়, তখন হাত দ্বারা করা সব গোনাহ পানির সঙ্গে বের হয়ে যায়।
    যখন সে দুই পা ধোয়, তখন তার পা দ্বারা সংঘটিত সব গোনাহ পানির সঙ্গে বের হয়ে যায়। এভাবে সে গোনাহ থেকে মুক্তি পায়।’ (মুসলিম)

    এ আমলকারীর জন্য জান্নাতের ৮টি দরজাই খুলে রাখা হয়। হাদিসে এসেছে-

    হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ভালোভাবে অজু করে অতঃপর বলে-
    اَشْهَدُ اَن لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَ رَسُوْلُهُ
    উচ্চারণ : ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।’
    তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা, সে প্রবেশ করতে পারবে। (মুসলিম, তিরমিজি)

    মনে রাখা জরুরি
    যারা দুনিয়াতে ইবাদত-বন্দেগিসহ সব কাজে ওজুর সঙ্গে থাকবে, কেয়মাতের কঠিন পরিস্থিতিতে মুমিন বান্দাদের ওজুর স্থানগুলো থেকে নূর চমকাতে থাকবে। তা দেখে দেখে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে খুঁজে বের করে নেবেন।

    শুধু তা-ই নয়, ওজুকারী বান্দার জন্য আল্লাহর জান্নাত আবশ্যক হয়ে যায় বলেছেন বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে-
    ‘কোনো মুসলিম যখন উত্তমরূপে অজু করত তার চেহারা-মন উভয়কে আল্লাহ অভিমুখী করে (নামাজে) দাঁড়িয়ে যায় এবং দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে তখন তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (মুসলিম)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় ওজু অবস্থায় থাকার তাওফিক দান করুন। ওজুর আমলের মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা দান করুন। আমিন।

  • যে কারণে সাওয়াব ও গোনাহের সমান অংশীদার মানুষ

    যে কারণে সাওয়াব ও গোনাহের সমান অংশীদার মানুষ

    ইসলাম ডেস্ক:

    মানুষের দুনিয়ার জীবনে নিয়তের গুরুত্ব অনেক বেশি। শুধু নিয়তের কারণে কাজ না করেও অনেকে সাওয়াবের অংশীদার হয় আবার অনেকে গোনাহের অংশীদার হয়। যার নিয়ত যেমন হবে তার প্রাপ্তিও তেমন হবে।

    হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য চমৎকার এক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। যে দৃষ্টান্ত প্রতিটি মানুষকেই সঠিক নিয়তের দিকে ধাবিত করবে। হাদিসে এসেছে-

    রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘এ উম্মতের দৃষ্টান্ত (ওই) ৪ ব্যক্তির উদাহরণের মতো।

    – এক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ ও ইলম (জ্ঞান) দান করেছেন। অতঃপর সে তার জ্ঞান দ্বারা (নেক) আমল করে আর তার সম্পদকে হক (সঠিক) পথে খরচ করে।

    – অন্য এক ব্যক্তিকে আল্লাহ ইলম দান করেছেন কিন্তু তাকে সম্পদ দেননি। অতঃপর সে বলে, আমার যদি এ ব্যক্তির মতো সম্পদ থাকত, তাহলে আমি ওই ব্যক্তির মতোই কাজ (সঠিক পথে খরচ) করতাম।
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সাওয়াবের ক্ষেত্রে তারা উভয়ই সমান।’

    – আবার আল্লাহ তাআলা অন্য এক ব্যক্তিকে সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু তাকে ইলম (জ্ঞান) দান করেননি। অতঃপর সে তার সম্পদকে অহেতুক কাজে অন্যায় পথে খরচ করে।

    – অপর এক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ ও ইলম কোনো কিছুই দেননি। অতঃপর সে বলে, ‘আমার যদি ওই (অহেতুক কাজ করা) ব্যক্তির মতো সম্পদ থাকত, তবে আমিও ওই ব্যক্তির মতো কাজ করতাম।
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘গোনাহের ক্ষেত্রে তারা উভয়ই সমান। (ইবনে মাজাহ)

    এ হাদিসটি বিশ্বমানবতার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ইলম ও সম্পদ দিয়ে সাওয়াব অর্জন করে আর কেউ শুধুমাত্র নিয়তের কারণে সম্পদ ছাড়াই সাওয়াবের অধিকারী হয়।

    আবার কেউ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও অন্যায় কাজে সম্পদ খরচ করে গোনাহগার হয়, আবার কারো জ্ঞান ও সম্পদ নেই ঠিকই শুধু নিয়তের কারণে সম্পদ অন্যায় পথে খরচ না করেই গোনাহগার হয়।

    মনে রাখতে হবে
    দুনিয়া হচ্ছে পরকালের পরীক্ষাগার। এখানের পরীক্ষায় যে পাস করবে আখেরাত হবে তার জন্য সহজ ও শান্তির স্থান। আল্লাহ তাআলা মানুষকে যেমন কাজের স্বাধীনতা দিয়েছেন। তেমনি অনেক হিকমতও শিখিয়েছেন। তুলে ধরেছেন অনেক উপমা।

    একই সুবিধা ভোগ করে কিছু বান্দা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে আবার কিছু বান্দা গোনাহগারে পরিণত হয়। অথচ উভয় ব্যক্তিই আল্লাহর দেয়া আলো-বাতাস ও রিজিক সমানভাবে ভোগ করছে। শুধু নিয়তের কারণেই সাওয়াব ও গোনাহের অংশীদার হয় তারা।

    তাই আল্লাহ তাআলা মানুষের কর্মফল দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির সাদা-কালো, ধনী-গরিব হওয়ার বিষয়টি দেখবেন না বরং তিনি মানুষের অন্তরের বিষয়টি দেখে থাকেন। হাদিসে এসেছে-

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও কর্মের দিকে লক্ষ্য করেন।’ (মুসলিম)

    হাদিসে অন্তরের দিকে লক্ষ্য করার কথা বলে মানুষের নিয়তকেই বুঝানো হয়েছে। ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক মানুষের নিয়ত হলো কাজের উদ্দেশ্য সফল করার মাধ্যম এবং প্রতিরক্ষক। অন্য এক হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

    ‘যে ব্যক্তি ভালো কাজের পরিকল্পনা করল, কিন্তু বাস্তবে সে কাজ করতে পারল না, সে ব্যক্তির জন্য সাওয়াব লেখা হবে।’ (মুসলিম)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের পরিকল্পনা বা নিয়ত হোক ভালো কাজের জন্য। যে পরিকল্পনা বা নিয়তের কারণেই মুমিন পাবে সাওয়াব ও কল্যাণ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় ভালো কাজ করার পাশাপাশি অন্তরে ভালো কাজের নিয়ত রাখার তাওফিক দান করুন। মন্দ কাজ পরিহারের সঙ্গে সঙ্গে মন্দ কাজের সমর্থন করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • নামাজে ভুল হয়ে গেলে সাহু সেজদা দেবেন কীভাবে?

    নামাজে ভুল হয়ে গেলে সাহু সেজদা দেবেন কীভাবে?

    ইসলাম ডেস্ক:

    নামাজ মুসলমানদের প্রধান ইবাদত। অনেক সময় খেয়ালের ভুলে মানুষ নামাজে ভুল করে থাকে। নামাজে ভুল হয়ে গেলে বা নির্ধারিত কোনো রোকন আদায় করতে না পারলে কিংবা অতিরিক্ত করে ফেললে তা বিশুদ্ধ করতে সেজদা দিতে হয়। আর এটিই হলো সাহু সেজদা।

    নামাজে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য কেবল সাহু সেজদা দেয়া ওয়াজিব। যদি কোনো ফরজ তরক হয় তবে সাহু সেজদায় নামাজ শুদ্ধ হবে না। পুনরায় নামাজ পড়ে নিতে হবে

    অনেকেরই জানা নেই যে, সাহু সেজদা কী? কীভাবে সাহু সেজদা আদায় করতে হয়? সাহু সেজদা কি নামাজের মধ্যেই দিতে হয় নাকি নামাজ শেষ করে দিতে হয়? এ সেজদার জন্য আলাদা কোনো দোয়া আছে কি?

    সাহু সেজদা হলো- নামাজে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য যে সেজদা দেয়া হয়। ইচ্ছাকৃত ভুল করে সাহু সেজদা দিলে নামাজ হবে না। পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে। এ সেজদা নামাজের শেষ বৈঠকে আদায় করতে হয়। নামাজ শেষ করে পুনরায় আলাদা শুধু সেজদা করলে সাহু সেজদা আদায় হবে না।

    সাহু সেজদা করবেন যেভাবে

    যে নামাজে ভুল হয়, ওই নামাজে থাকা অবস্থায় শেষ বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ে ডান দিকে সালাম ফেরাতে হয়। অতঃপর বাম দিকে সালাম না ফিরিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সেজদায় চলে যেতে হয়। নামাজের সেজদার মতো ২টি সেজদা আদায় করতে হয়।

    ২টি সেজদা আদায় করে পুনরায় তাশাহহুদ, দরূদ এবং দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করতে হয়।

    যদি কেউ ৩/৪ রাকাআত বিশিষ্ট নামাজের প্রথম বা দ্বিতীয় রাকাআতে ভুল করে তবে তিনি প্রথম বৈঠকে সাহু সেজদা আদায় করবে না বরং শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর দরূদ পড়ার আগে ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সেজদা আদায় করবে।

    সাহু সেজদার জন্য আলাদা কোনো দোয়া নেই। এ সেজদায়ও ৩/৫/৭ বার (سُبْحَانَ رَبِّىَ الْاَعْلَى) ‘সুব্‌হানা রাব্বিয়াল আলা’ তাসবিহ আদায় করতে হয়।

    তবে সেজদায় কুরআন-সুন্নার সব দোয়া করা যায়। যদি কেউ কুরআন সুন্নায় বর্ণিত দোয়াগুলো জানে তবে সে দোয়া পড়তে বাধা নেই।

    আবার দুই সাহু সেজদার মাঝেও দোয়া পড়া যায়। তাতেও কোনো বাধা নেই। হাদিসে এসেছে-
    হজরত ইবনে আব্বার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সেজদার মাঝে বলতেন-
    اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনি, ওয়া আফিনি, ওয়ারযুকনি। (মুসলিম, মিশকাত)
    অর্থ : হে আল্লাহ আপনি আমাকে মাফ করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে শান্তি দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নির্ভুল ও বিশুদ্ধভাবে একনিষ্ঠতার সঙ্গে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। অনিচ্ছাকৃত কারো ভুল হয়ে গেলে যথাযথভাবে সাহু সেজদা আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যেভাবে দোয়া করলে দ্রুত কবুল করা হবে বললেন বিশ্বনবি

    যেভাবে দোয়া করলে দ্রুত কবুল করা হবে বললেন বিশ্বনবি

    অন্তরে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে একনিষ্ঠভাবে দোয়া করা। দোয়ার পরিপূর্ণ সফলতা লাভে খাঁটি নিয়তে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করতে স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    কোনো কিছু চাওয়ার আগেই আল্লাহর প্রশংসা এবং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওপর দরূদ পাঠ করে ধিরস্থিরভাবে নিজের প্রয়োজনের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরা। তাতে দোয়া দ্রুত কবুল হয়। এ রকমই বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তবে প্রয়োজন তুলে ধরার আগে আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর দরূদ পড়ার কথাও বলেছেন তিনি। হাদিসে এসেছে-

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তি তার নামাজের মধ্যে দোয়া করতে দেখলেন। ওই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল না এবং আল্লাহর নবি ওপর দরূদ পড়ল না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, ‘হে মুসাল্লি! (নামাজি) তুমি দোয়া করতে তাড়াহুড়া করলে। অতঃপর তাকে দোয়া করার নিয়ম শিখিয়ে দিলেন।

    পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য একজনকে দোয়া করতে শুনলেন। ওই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল এবং নবির ওপর দরূদ পড়ল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তুমি দোয়া কর, তোমার দোয়া কবুল করা হবে। তুমি যা চাও তোমাকে তা দেয়া হবে।’ (নাসাঈ, তিরমিজি, মিশকাত)

    অন্য হাদিসে এসেছে-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে চাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি একমাত্র তুমিই আল্লাহ। তুমি ব্যতিত প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই। তুমি একক নিরপেক্ষ মুখাপেক্ষিহীন। যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি। তার সমকক্ষ কেউ নেই।

    তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অবশ্যই সে আল্লাহকে এমন নামে ডেকেছে যে নামে চাওয়া হলে দেয়া হয়। প্রার্থনা করা হলে কবুল করা হয়।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, বুলুগুল মারাম)

    সুতরাং মানুষ যখন আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইবে কিংবা দোয়া ও মোনাজাত করবে, তখন তারা আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ করে তার পর কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের আবেদন করবে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দোয়া করতেন তখন এভাবে আল্লাহর প্রশংসা করতেন-
    اِنَّ الْحَمدَ للهِ نَحْمَدُهُ وَ نَسْتَعِيْنُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَ مَنْ يُّضْلِلْ فَلَا هَادِىَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَ رَسُوْلُهُ
    উচ্চারণ : ইন্নাল হামদা লিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাসতায়িনুহু মাই ইয়াহদিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লা লাহু ওয়া মাই ইয়ুদলিল ফালা হাদিয়া লাহু ওয়া আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।’ (মুসলিম, মিশকাত, তিরমিজি, আবু দাউদ)

    যারা দোয়ার সময় এটি পড়তে পারবে না তারা চাইলে ছো্ট্ট এ প্রশংসা করতে পারেন। আর তাহলো-
    نَحْمَدُهُ وَ نُصَلِّىْ عَلَى رَسُوْلِهِ الْكَرِيْمِ
    উচ্চারণ : নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসুলিহিল কারিম।

    اَلْحَمْدُ للهِ وَحْدَهُ وَ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلَى مَنْ لَّا نَبِيَّ بَعْدَهُ
    উচ্চারণ : আলহামদুল্লিাহি ওয়াহদাহু ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা মান লা নাবিয়্যা বাদাহু।

    সম্ভব হলে দোয়া করার আগে দু রাকাআত নামাজ পড়ে দোয়া করা। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি তা বর্ণনা করেন। এক বর্ণনায় এসেছে-

    ‘মানুষ কোনো গোনাহ করার পর উত্তমভাবে ওজু করে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন।’ (আবু দাউদ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী আল্লাহর প্রশংসা ও বিশ্বনবির ওপর দরূদ পাঠ করে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। সম্ভব হলে দোয়ার আগে দুই রাকাআত নামাজ পড়ে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ফেরেশতারা দিন-রাত মানুষের যেসব কাজে নিয়োজিত

    ফেরেশতারা দিন-রাত মানুষের যেসব কাজে নিয়োজিত

    ইসলাম ডেস্ক:

    ফেরেশতারা মানবীয় দুর্বলতা, ক্লান্তি, কামনা-বাসনাসহ সব পাপ কাজ থেকে মুক্ত। তারা সবসময় ক্লান্তিহীনভাবে অবিরাম মহান আল্লাহর হুকুম পালন করে থাকেন। ফেরেশতাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন-
    বরং তারাতো সম্মানিত বান্দা। তারা আগ বাড়িয়ে কথা বলতে পারে না এবং তারা তাঁরই আদেশে কাজ করে। তাদের সামনে এবং পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তারা শুধু তাদের জন্য সুপারিশ করে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁর ভয়ে ভীত।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ২৬-২৮)

    এ ফেরেশতারা আল্লাহর হুকুমে অনেক কাজ করে থাকেন। ফেরেশতারা আল্লাহর প্রশংসা-গুণগানসহ মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত। কুরআন এবং হাদিসে ফেরেশতাদের কাজের বিশদ বর্ণনা এসেছে। আর তাহলো-

    >> আল্লাহর সার্বক্ষণিক ইবাদত ও তাসবিহ পড়া
    মানবীয় সব দুর্বলতামুক্ত ফেরেশতারা সব সময় আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ব্যস্ত। তাদের কোনো ক্লান্তি নেই। আল্লাহর নির্দেশ পালনই তাদের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    – ‘আল্লাহ তাদের যে নির্দেশ দেন, তা তারা লঙ্ঘন করে না এবং তাদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হয় তা তাঁরা পালন করে।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৬)
    – ‘আকাশ এবং জমিনে যারা আছে, তারা তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে আছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং অলসতাও করে না। তারা রাত-দিন তার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ক্লান্ত হয় না।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ১৯-২০)
    – নিশ্চয়ই যারা তোমার পরওয়াদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন, তারা তাঁর বন্দেগির ব্যাপারে অহংকার করেন না এবং স্মরণ করেন তাঁর পবিত্র সত্তাকে। আর তাকেই সেজদা করেন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৬)

    >> কার্য নির্বাহে নিয়োজিত থাকা
    আল্লাহর ইবাদত-তাসবিহ ছাড়াও তারা আল্লাহর হুকুমে কার্যনির্বাহে নিয়োজিত। তাদের কাজের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-
    – শপথ সে ফেরেশতাদের, যারা ডুব দিয়ে নির্মমভাবে আত্মা বের করে আনে এবং যারা মৃদুভাবে আত্মার বাঁধন খুলে দেয় এবং যারা তীব্র গতিতে চলাচল করে। আর যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়। অতঃপর তারা সব কাজনির্বাহ করে।’ (সুরা নাজিয়াত : আয়াত ১-৫)

    তাফসিরে এসেছে আয়াতে ফেরেশতাদের কজের বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে, তারা অবিশ্বাসী কাফিরদের আত্মাকে নির্মমভাবে টেনে বের করে এবং মুমিন বান্দার আত্মার বাঁধন মৃদুভাবে খুলে দেয়। আল্লাহর নির্দেশ তারা নির্ধারিত কাজসমূহ দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়ে সম্পাদন করেন।

    >> মানুষের রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করা
    ফেরেশতাদের অন্যতম একটি কাজ হলো তারা আল্লাহর হুকুমে তাঁরই মর্জি মতো মানুষের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। আল্লাহ বলেন-
    – মানুষের জন্য তার সামনে ও পেছনে একের পর এক প্রহরী থাকে। তারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১১)

    >> মানুষকে কল্যাণের কাজে উৎসাহ দেয়া
    শয়তান যখন মানুষকে অন্যায় ও খারাপ কাজের দিকে ধাবিত করে ফেরেশতারা তখন মানুষকে কল্যাণের দিকে যেতে প্রেরণা যোগায়। হাদিসে এসেছে-
    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শয়তান মানুষের মনে প্রেরণা জাগায় আবার ফেরেশতারাও মানুষের মনে প্রেরণা জাগায়। শয়তানের প্রেরণা অশুভ ও অকল্যাণের ওয়াদা করা এবং সত্যকে অস্বীকার করার প্রেরণা। আর ফেরেশতার প্রেরণা হলো কল্যাণ ও মঙ্গলের ওয়াদা করা এবং সত্যকে মেনে নেয়ার প্রেরণা। অতঃপর তিনি কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করেন-
    ‘শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদের নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশি অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৬৮)

    >> মুমিনের জন্য দোয়া করা
    ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো, তারা মুমিন বান্দার জন্য কল্যাণের জন্য সুপারিশ ও দোয়া করতে থাকে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা দেন-
    ‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে-
    رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ওয়াসিতা কুল্লা শাইয়ির রাহমাতাও ওয়া ইলমাং ফাগফির লিল্লাজিনা তাবু ওয়ত্তাবাউ সাবিলাকা ওয়াক্বিহিম আজাবাল ঝাহিম।’
    অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা মুমিন : আয়াত ৭)

    >> মানুষের আমলনামা লেখা
    কুরআনুল কারিমের অনেক আয়াত ও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের সঙ্গেই তার সব ভালো-মন্দ লেখার জন্য ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন। কুরআনুল কারিমে ‘কেরামান কাতিবিন বা সম্মানিত লেখকগণ’ হিসেবে তাদের আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ বলেন-
    – যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে (মানুষ) যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্য তার সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা ক্বাফ : আয়াত ১৭-১৮)
    – অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তোমরা যা কর, তারা তা জানে।’ (সুরা ইনফিতার : আয়াত ১০-১২)

    >> মৃত্যুর সময় আত্মা বহন করা
    মৃত্যুর ফেরেশতা মালাকুল মাউত ছাড়াও মানুষের মৃত্যুর সময় আত্মা বহনে রয়েছে একদল ফেরেশতা। যারা মানুষের মৃত্যু হলে আত্মা বহন করে থাকে। আল্লাহ বলেন-
    – ‘তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা সাজদা : আয়াত ১১)
    – ‘তিনি তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রেরণ করেন। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার পাঠানো ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৬১)

    >> আরশ বহন করা
    ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো মহান আল্লাহ তাআলার আরশ বহন করা। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-
    – ‘এবংফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।’ (সুরা হাক্বকাহ : আয়াত ১৭)

    এ ছাড়াও ফেরেশতারা নানা কাজ পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন। চাঁদ-সূর্যের জন্য, পাহাড়-পর্বতের জন্য, আকাশের বিভিন্ন স্থানের জন্য, মেঘ প্রবাহিত করার জন্য, বৃষ্টি বর্ষন করার জন্য, মায়ের গর্ভে ভ্রণের জন্য, জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, পাপীদের শাস্তি প্রদানের জন্য, জান্নাতিদের খেদমত ও শান্তির জন্যও অনেক ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে।

    কুরআন ও হাদিসে মানুষকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করতেই আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের এ সব বর্ণনা নিয়ে এসেছেন। আর এসব ফেরেশতা মানুষের কল্যাণেই নিয়োজিত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে দুনিয়া ও পরকালে ফেরেশতাদের যাবতীয় সহযোগিতা ও কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • তাওবা করার পর যে দোয়া পড়বেন মুমিন

    তাওবা করার পর যে দোয়া পড়বেন মুমিন

    তাওবার মাধ্যমে কল্যাণ লাভ হয়। মানুষের বিগত জীবনের সব গোনাহ মাফ হয়ে যায়। তাওবার মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে সক্ষম হয়।

    মানুষ যত বড় অপরাধীই হোক না কেন, যদি সে চূড়ান্ত তাওবা করে তবে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন। তবে গোনাহ যদি বান্দার কোনো হক বা অধিকারের সঙ্গে জড়িত হয় তবে সে গোনাহ মাফের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছেই ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

    আল্লাহর কাছে চূড়ান্ত তাওবা করার পর আল্লাহ তাআলা বান্দার হক ছাড়া মানুষের সব গোনাহ মাফ করে দেন। গোনাহ মাফের পর বান্দা আল্লাহর কাছে কী চাইবেন? আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে চূড়ান্ত ক্ষমার ব্যাপাবে দিক-নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি বান্দাকে দোয়াও শিখিয়ে দিয়েছেন। আর তাহলো-

    رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফিরলানা ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িং ক্বাদির।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৮)
    অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।’

    আল্লাহ তাআলা চূড়ান্ত তাওবার নির্দেশ দিয়ে বলেন-
    হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা কর; আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার নিচে নদী প্রবাহমান। সেদিন আল্লাহ তাআলা নবি এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবে- ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৮)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে চূড়ান্ত তাওবা করার তাওফিক দান করুন। এ তাওবার মাধ্যমে দুনিয়ার সব পাপ থেকে নিজেদের মুক্ত করার তাওফিক দান করুন। তাওবার পর আল্লাহর শেখানো দোয়ার মাধ্যমে তার কাছে পরিপূর্ণ হেদায়েতের নূর তালাশ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ঘুম না আসলে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি

    ঘুম না আসলে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি

    ঘুম আল্লাহর বড় নেয়ামত। সারাদিন ব্যস্ত থাকার পর শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। সে ক্লান্ত দুর করার জন্য আল্লাহ তায়ালা রাত দিয়েছেন। সারাদিনের সমস্ত ক্লান্ত-পেরেশানি কেবল ঘুমের মাধ্যমে দুর হয়। যদি ঘুম ঠিকমত না হয় তাহলে শরীর সুস্থ থাকে না। অনেকের নানা কারণে রাতে ঘুম হয় না, ‍কিংবা অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম হয় না। সুস্থ শরীরের জন্য পর্যাপ্তপরিমাণ ঘুম প্রয়োজন।

    মানসিক প্রশান্তরি অন্যতম উপসর্গও এ ঘুম। কিন্তু সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে, যাদের অধিকাংশকেই ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমাতে হয়। আবার অনেকে ঘুমের ঔষধেও কাজ হয় না।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত একটি দোয়া রয়েছে যা ঘুমের আগে পড়লে ঘুম চলে আসবে। যে দোয়া পড়তে তিনি সাহাবি হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত সুলাইমান ইবনে বুরাইদা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ আল-মাখজুমি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অভিযোগ দায়ের করে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! দুঃশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কারণে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, যখন তুমি বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করো (ঘুমাতে যাও) তখন বলো-

    اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَىَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَبْغِيَ عَلَىَّ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওয়া মা আজাল্লাত ওয়া রাব্বাল আরদিনা ওয়া মা আকাল্লাত ওয়া রাব্বাশ শায়াত্বিনি ওয়া মা আদাল্লাত কুন লি ঝারাম মিন শাররি খালক্বিকা কুল্লিহিম ঝামিআ। আইঁইয়াফরুত্বা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম আও আইঁইয়াবগিয়া আলাইয়্যা আয্যা ও ঝাল্লা ছানাউকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা ও লা ইলাহা ইল্লা আংতা।’ (মুসলিম, মিশকাত)

    অর্থ : “হে আল্লাহ! সাত আকাশের প্রভু এবং যার ওপর তা ছায়া বিস্তার করেছে, সাত জমিনের প্রভু এবং যা কিছু তা উত্থাপন করেছেন, আর শয়তানদের প্রতিপালক এবং এরা যাদেরকে বিপথগামী করেছে!

    তুমি আমাকে তোমার সব সৃষ্টিকুলের অনিষ্টতা থেকে রক্ষার জন্য আমার প্রতিবেশী হয়ে যাও, যাতে সেগুলোর কোনোটি আমার ওপর বাড়াবাড়ি করতে না পারে অথবা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে না পারে। সম্মানিত তোমার প্রতিবেশী, সুমহান তোমার প্রশংসা। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি ব্যতিত আর কোনো মাবুদ নেই।’

  • জুমআর দিনের যেসব কাজ সপ্তাহের গোনাহের কাফ্ফারা

    জুমআর দিনের যেসব কাজ সপ্তাহের গোনাহের কাফ্ফারা

    মুসলমানদের ইবাদতের জন্য নির্ধারিত দিন ইয়াওমুল জুমআ তথা শুক্রবার। এ দিন মুমিন মুসলমানের রয়েছে অনেক করণীয় কাজ। যারা এ দিনের করণীয়গুলো যথাযথ আদায় করবে তাদের জন্য রয়েছে অনেক ফজিলত ও মর্যাদা।

    বিশেষ করে এ দিনের সহজ কিছু কাজের বর্ণনা দিয়েছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যা পালন করলে মুমিন মুসলমানের এক সপ্তাহের গোনাহের কাফ্ফারা হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে পরবর্তী ১০ দিনের গোনাহ থেকে হেফাজত করবেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু সাঈদ খুদরি ও হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে, সুগন্ধি থাকলে ব্যবহার করবে এবং জুমআর নামাজ আদায়ে মসজিদের দিকে যাবে, (মসজিদে) লোকদের ঘাড় টপকাবে না (অথ্যাৎ যেখানে খালি জায়গা পাবে সেখানেই বসে যাবে) আর মহান আল্লাহর নির্ধারিত নামাজ আদায় করে ইমামের খুতবা থেকে শুরু করে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত নিরবতা পালন করবে। এটা তার জন্য এ জুমআ ও পরবর্তী জুমআর মধ্যবর্তী যাবতীয় গোনাহের কাফ্ফারা হয়ে যাবে।

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আরও ৩ দিনের গোনাহেরও কাফ্ফারা হবে। কেননা নেক কাজের সাওয়াব ১০ গুণ হয়।’ (আবু দাউদ, ইবনে খুযায়মা, মুসনাদে আহমদ, মুসতাদরেকে হাকেম)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত-
    > জুমআর দিন গোসল করা।
    > উত্তম পোশাক পরা।
    > সুগন্ধি ব্যবহার করা।
    > জুমাআর নামাজের নিয়তে মসজিদের দিকে যাওয়া।
    > মসজিদে গিয়ে কাউকে না টপকে যেখানে জায়গা পাবে সেখানেই বসে যাওয়া।
    > ইমামের খুতবা থেকে শুরু করে নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরবতা পালন করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত কাজগুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। এক জুমআ থেকে পরবর্তী জুমআসহ ন্যূনতম ১০ দিনের গোনাহ থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • আল্লাহর শেখানো যে আয়াতে শুকরিয়া আদায় করতেন বিশ্বনবি

    আল্লাহর শেখানো যে আয়াতে শুকরিয়া আদায় করতেন বিশ্বনবি

    আসমান-জমিন, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত এক কথায় সবকিছুই মহান আল্লাহ তাআলার নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। কুরআনের ঘোষণায় ‘নিশ্চয় তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

    তিনিই সে মহান সত্ত্বা যিনি- রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিণত করেন। মৃতকে জীবিত করেন আবার জীবিতকে মৃত্যুদান করেন। তিনিই বীজ থেকে ফসল বের করেন আবার ফসল থেকে বীজ বের করেন। তিনিই সে মহান সত্ত্বা যিনি খেজুরের দানা থেকে খেজুর গাছ উৎপন্ন করেন আবার দানাটি বের করেন খেজুর থেকে।

    তিনিই সে মহান সত্ত্বা যিনি কাফেরের ঘরে মুমিনকে সৃষ্টি করেন আবার মুমিনের ঘরে কাফের সৃষ্টি করেন। তিনিই ডিম থেকে মুরগি আবার মুরগি থেকে ডিস সৃষ্টি করেন। এ সবই তার নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি যাকে ইচ্ছা বেশুমার রিজিক দান করেন আবার যাকে ইচ্ছা রিজিক বা সম্পদ থেকে মাহরুম করেন। দুনিয়ার সব কিছুই তার নিয়ন্ত্রণাধীন।

    জগৎ বিখ্যাত তাফসির ‘ইবনে কাছির’-এ এসেছে-
    হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার প্রতিপালকের সমীপে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য তাঁর প্রতি আত্মসমর্পন করুন। তার প্রতি পরিপূর্ণ ভক্তি-শ্রদ্ধাসহ তার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে বলুন-
    قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاء وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاء وَتُعِزُّ مَن تَشَاء وَتُذِلُّ مَن تَشَاء بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَىَ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
    উচ্চারণ : ‘কুললিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলকি তুতিল মুলকা মাংতাশাউ ওয়া তাংযিউল মুলকা মিম্মাংতাশাউ ওয়া তুইয্যু মাংতাশাউ ওয়া তুজিল্লু মাংতাশাউ বিইয়াদিকাল খাইরু ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িং ক্বাদির।’
    অর্থ : ‘(হে রাসুল!) আপনি বলুন, হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ২৬)

    কুরআনুল কারিমের সুরা আল-ইমরানের এ আয়াতেই আল্লাহ তাআলা তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উম্মতে মুহাম্মাদিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

    কুরআনুল কারিম নাজিলের আগে ২ হাজার বছর ধরে প্রায় ৪ হাজার নবির আগমন ঘটে। বনি ইসরাইলের এসব নবি রাসুল ও তাদের উত্তরসূরীদের তিনি আল্লাহর কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপনের এ নেয়ামত শিক্ষা দেননি।

    আল্লাহ তাআলা শুকরিয়া আদায়ের মহামূল্যবান সুসংবাদ ও নেয়ামত বনি ইসমাইল তথা উম্মতে মুহাম্মাদিকে দান করেছেন। আর বনি ইসমাইলের মধ্য থেকেই হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বকালের সর্ব যুগের সব নবি-রাসুলদের নেতা ও সাইয়েলদুল মুরসালিন হিসেবে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন।

    হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য নবি ও রাসুল ছিলেন। তিনি মানুষ ও জ্বিন জাতির জন্যও নবি ও রাসুল হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। আর তার আগমনের মাধ্যমেই নবুয়ত ও রেসালাত আগমনের পরিসমাপ্তি ঘটে। দুনিয়াতে আরো কোনো নবি ও রাসুলের আগমন ঘটবে না।

    এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বিশ্বনবিকে এমন অনেক নেয়ামত দান করেছেন, যা অন্য কোনো নবি ও রাসুল ও তাদের উত্তরসূরীদের দেননি। এসব নেয়ামতের মধ্যে আল্লাহ প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায়ের এ আয়াতটি অন্যতম।

    এ নেয়ামতের অংশ হিসেবেই আল্লাহ তাআলা মদিনার অদূরে কষ্টসাধ্য পরিখা খননে মুসলিম বাহিনীর প্রতি সদয় হোন। ওহুদ পরবর্তী সময়ে আল্লাহ তাআলা রোম সম্রাজ্য, পারস্য সম্রাজ্য ও ইয়েমেনের সানআ পর্যন্ত বিজয় দান করেছিলেন। তার ইচ্ছাতেই মুসলিমরা অপরিমিত রিজিকও লাভ করেছিলেন। যা তাদের অভাব-অনটনকেও দূরীভূত করেছিল।

    উল্লেখ্য যে-
    কুরআনুল কারিমের সুরা আল-ইমরানের ২৬নং আয়াতটি পঞ্চম হিজরিতে নাজিল হয়। এরপর মাত্র এক যুগের মধ্যেই তদানীন্তন পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ মুসলমানদের শাসনে চলে আসে। এ সীমানায় ইসলামের পতাকা উড়তে থাকে। আর এর মাধ্যমেই তার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ‘(হে রাসুল!) আপনি বলুন, হে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিপতি! যাকে ইচ্ছা তুমি ক্ষমতা দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা ছিনিয়ে নাও।’

    মূলত ক্ষমতা প্রদান ও ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি কুরআনের নীতি মালায় ঘোষণা করা হয়েছে। যারা মানুষের প্রতি জুলুম অত্যাচার করে, মানবতার অবমাননা করে, মানবতার উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সুবিচার ও পরোপকার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় হয়ে অবিচার করে তাদেরকে যদিও নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়। অতঃপর নির্ধারিত সময়ের পর আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পাকড়াও করেন।

    যে পাকড়াও থেকে বাদ যায়নি ক্ষমতাশীল শাসক ফেরাউন, নমরূদ, শাদ্দাদ, কারুন। পবিত্র কুরআনের অনেক স্থানে তাদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। মুসলমানদের সম্বোধন করে এ সব বিষয় ও কাজ থেকে সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের জন্য এ আয়াতে রয়েছে অনেক শিক্ষা ও ফজিলত। আল্লাহর শেখানো আয়াতের মাধ্যমে তার কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন করতে পারলেই দুনিয়ার সব নেয়ামত মুমিন বান্দার জন্য সুনির্ধারিত। অন্যথায় সবাইকে আল্লাহর অবাধ্য বান্দাদের অবস্থায় পতিত হতে হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার প্রতিটি কাজে এ আয়াত দ্বারা শুকরিয়া আদায় করার পাশাপাশি আল্লাহর ক্ষমতায় পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের নেয়ামত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।