Category: ধর্ম

  • দোয়ার সময় হাত উঠানোর যে ফজিলত বলেছেন বিশ্বনবি

    দোয়ার সময় হাত উঠানোর যে ফজিলত বলেছেন বিশ্বনবি

    ইসলাম ডেস্ক:

    দোয়ার সময় হাত উঠানোর ফজিলত নিয়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। দোয়ার সময় হাত উঠালে বান্দার সে হাত খালি ফিরিয়ে দিতে আল্লাহর তাআলার লজ্জা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে-

    হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ লাজুক ও দয়াবান। যখন কোনো মানুষ তাঁর দিকে দুই খানা হাত (দোয়ার জন্য) উঠায়। তখন তিনি তা (মানুষের হাত) ব্যর্থ ও শূন্যভাবে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।’ (তারগিব)

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত এ হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার সাধ্যমত চেষ্টা করা জরুরি। আল্লাহ তাআলার কাছে এ হাদিসের ফজিলত মোতাবেক হাত উঠিয়ে দোয়া করায় রয়েছে দোয়া কবুলের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা।

    দোয়ায় হাত উঠানো বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আমলও বটে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও দোয়া করার ক্ষেত্রে কখনো কখনো হাত ওঠাতেন। হাদিসে এসেছে-
    উম্মাহাতুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মোবারক হাত দু’খানা উঠিয়ে দোয়া করতেন। এমনকি আমি তাঁর সঙ্গে (বেশি বেশি ) হাত উঠিয়ে দোয়া করাতে ক্লান্ত ও অস্থির হয়ে পড়তাম। তিনি দোয়া এভাবে বলতেন-
    اَللهُمَّ فَاِنَّمَا اَنَا بَشَرٌ فَلَا تُعَذِّبْنِى بِشَتْمِ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ফা-ইন্নামা আনা বাশারুন ফালা তাআজ্জিবনি বিশাতমি।’ (মুসনাদে আহমদ)
    অর্থ : হে আল্লাহ আমি একজন মানুষ। আমি কোনো মানুষকে গালি দিয়ে ফেললে বা কষ্ট দিলে আপনি সে জন্য আমাকে শাস্তি দেবেন না।’

    এভাবে অনেক হাদিসে এসেছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়ার সময় উভয় হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন। এ ছাড়াও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-
    > বৃষ্টির জন্য দোয়া করার সময় হাত উঠাতেন।
    > আরাফাতের ময়দানে দোয়ার সময় হাত উঠাতেন।
    > যুদ্ধের ময়দানে আল্লাহর সাহায্য কামনার সময় হাত উঠাতেন।
    > কোনো বিশেষ আবেগের সময় দোয়ার জন্য তিনি হাত উঠাতেন।

    শুধু তা-ই নয়, দোয়ার সময় হাত উঠালে সহজেই দোয়া কবুল হয়। আর যেসব স্থানে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত উঠিয়েছেন, সেসব স্থানে হাত উঠানো সুন্নাতি আমলও বটে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দোয়ার সময় উভয় হাত উঠিয়ে সহজে আল্লাহর কাছে দোয়া কবুল করিয়ে নেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ঝালকাঠিতে পালিত হলো দিপালী উৎসব

    ঝালকাঠিতে পালিত হলো দিপালী উৎসব

    হিন্দু ধর্মালম্বীদের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান দিপালী উৎসব শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠির সুগন্ধাতীরে অবস্থিত পৌর শ্মশানঘাটে প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে এই দিপালী উৎসব শুরু হয়।

    তিথি অনুযায়ী আমাবস্যা শেষ হওয়ার আগ পযর্šÍ চলে এই উৎসব। প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তার সমাধীতে মোমবাতি জ্বেলে দেয়ার এই রেওয়াজ চলছে প্রায় দেড়শ বছর ধরে। প্রতিবছর ভূত চর্তুদশীর পূণ্য তিথিতে আয়োজিত হয় এই পূণ্য উৎসবের। এ উৎসবে যোগ দিয়ে পূর্ব পুরুষের সমাধিতে আলোর রোশনাই জ্বালাতে গোধূলী লগ্ন থেকেই ঝালকাঠির পৌর শ্মশানে ভীড় জমায় হাজারো মানুষ। প্রিয়জনের স্মৃতিতে মোমের আলো জ্বালানো ছাড়াও সমাধিতে তার প্রিয় খাদ্য সহ নানা উপাচার ও ফুল দিয়ে সমাধি সাজিয়ে তোলা হয়। সেইসাথে পূর্বপুরুষের বিদেহী আত্মার জন্য করা হয় বিশেষ প্রার্থনা। শ্মশান ঘুরে দেখা যায়, মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে মৃত ব্যক্তির ছবিতে ফুল চন্দন দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সমাধী সৌধ। প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে খাবার-দাবারও দেয়া হয়েছে অনেক সমাধিতে। সেই সাথে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে ধুপ ও ধুপকাঠি। দিপালী উৎসব শেষে আজ রোববার ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি ও সেকশন কালীবাড়ীসহ বিভিন্ন কালী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী কালীপূজা। এদিকে দিপালী উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় পৌর শ্মশানঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গোটা এলাকা নজরদারী করেন।

  • মুমিনের অন্তর আলোকিত করার ৪ সুন্নাতি আমল

    মুমিনের অন্তর আলোকিত করার ৪ সুন্নাতি আমল

    ইসলাম ডেস্ক:

    জ্ঞান হচ্ছে আলো আর অজ্ঞতা হচ্ছে অন্ধকার। জ্ঞানের প্রধান উৎস হচ্ছে কুরআন এবং সুন্নাহ। আর অজ্ঞতার প্রধান উৎস হচ্ছে গোনাহ। যে অন্তরে গোনাহ থাকে সেখানে কুরআন-সুন্নাহর আলো প্রবেশ করে না। সে কারণে অন্তরকে গোনাহমুক্ত করার নিয়তে কুরআন-সুন্নাহর আমলে নিজেদের নিয়োজিত করবে মুমিন। তাতে মুমিনের অন্তর হবে কুরআন-সুন্নাহর নূরে আলোকিত।

    তেমনি এমন ৩টি সুন্নাতি আমল রয়েছে, যে আমলগুলো করলে মুমিনের অন্তর আলোকিত হয় এবং অন্যান্য সুন্নাত আমলগুলো করাও সহজ হয়ে যায়। আর তাহলো-

    >> সবার আগে বিশুদ্ধ সালাম দেয়া
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কথা বলার আগে সালাম বিনিময় কর।’
    পরস্পরের দেখা সাক্ষাৎ কিংবা যোগাযোগে একে অপরকে আগে সালাম দেয়ার প্রতিযোগিতা করা। সালামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার করা। তবেই সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যাধি ঝগড়া-বিবাদমুক্ত আন্তরিক পরিবেশ ও শান্তিপূর্ণ সুসম্পর্ক তৈরি হবে।

    বিশুদ্ধভাবে সালাম দেয়ার সহজ কৌশল হলো- اَلسَّلَامُ (আস-সালামু)-এর শুরুর হামযাহ এবং শেষের মীম-এর পেশকে সুস্পষ্টভাবে উচ্চরণ করা।

    মনে রাখতে হবে
    মুসলমানের পারস্পরিক অভিভাদনে ‘সালাম’ দেয়া সুন্নাত। কিন্তু উত্তর দেয়া ওয়াজিব। এ আমলটি নিজেদের মধ্যে জারি করতে পারলে ছোট-খাটো আরো অনেক সুন্নত জারি হয়ে যাবে। যেমন-
    একদিন দুই দিন সালাম দিতে দিতে দেখা যাবে একে অপরের সঙ্গে হাসি মুখে কুশল বিনিময় শুরু করবে। বিশ্বনবি বলেছেন, ‘হাসি মুখে কুশল বিনিময়ে রয়েছে পরস্পরের জন্য সাদকার সাওয়াব।’

    >> ডান দিক থেকে ভালো কাজ শুরু করা
    প্রত্যেক ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা। ঘর থেকে বাহির হওয়া, মসজিদে প্রবেশ করা, জামা কাপড় পরা ইত্যাদি।

    >> নিম্নমানের কাজ বাম দিক থেকে শুরু করা
    প্রত্যেক নিম্নমানের কাজ এবং নিম্নমানের স্থানে বাম দিককে প্রাধান্য দেয়া। টয়লেটে প্রবেশের সময় বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা দিয়ে বের হওয়া। বাম হাতে ময়লা পরিষ্কার করা। পায়খানা পেশাবের পর বাম হাত ব্যবহার করা। ওজুতে নাকে পানি দেয়ার সময় বাম হাতের আঙুল ঢোকানো এবং পা ধোয়ার সময় বাম হাত ব্যবহার করা।

    >> সার্বক্ষণিক আল্লাহকে স্মরণ করা
    চলাফেরা, ওঠা-নামা, বাড়ি কিংবা সফরে থাকা অবস্থায় সার্বক্ষনিক আল্লাহর জিকিরে জিহ্বাকে সিক্ত করা। আল্লাহর জিকিরে হৃদয়কে তাজা করা। আল্লাহর জিকিরে গোনাহমুক্ত থাকা। যেমন-
    – উপরে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার বলা।
    – নিচে নামার সময় সুবহানাল্লাহ বলা।
    – সমতলে হাটার সময় লা ইলাহা ইল্লাহ বলা।
    – হাঁচি আসলে আলহামদুলিল্লাহ বলা।
    – হাঁচির উত্তরে ইয়ারহামুকুমুল্লাহ বলা।
    – হাই আসলে লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ বলা।
    – মৃত্যু সংবাদ আসলে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইজি রাজিউন বলা।
    – কবর দেখলে দোয়া পড়া।
    – আনন্দের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
    – দুঃসময় বা খারাপ কিছু হলে ইসতেগফার করা।
    – বাবা-মার জন্য দোয়া করা।
    – আজান শুনলে উত্তর দেয়া।
    – ইক্বামতের উত্তর দেয়া।
    – দেখা হলে মুসাহাফা করা এবং একে অপরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার দোয়া- ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম বলা।

    সর্বোপরি
    প্রতিদিন নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করা। সম্ভব হলে-
    – ফজরের পর সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা।
    – জোহরের পর সুরা ফাতাহ তেলাওয়াত করা।
    – আসরের পর সুরা নাবা তেলাওয়াত করা।
    – মাগরিবের পর সুরা ওয়াক্বিয়া তেলাওয়াত করা। এবং
    – ইশার পর সুরা মুলক তেলাওয়াত করা।
    বিশেষ করে-
    – জুমআর দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। অন্ততঃ সুরা কাহাফের প্রথম ও শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করা।

    নামাজের পর সংক্ষিপ্ত সুন্নাতি আমল-
    – ইস্তিগফার ৩ বার পড়া।
    – আয়াতুল কুরসি ১ বার পড়া।
    – সুরা ইখলাস ১ বার পড়া।
    – সুরা ফালাক্ব ১ বার পড়া।
    – সুরানাস ১ বার পড়া।

    তাসবিহে ফাতেমি-
    – সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার পড়া।
    – আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার পড়া।
    – আল্লাহু আকবার ৩৩/৩৪ বার পড়া।
    এছাড়াও ছোট ছোট তাসবিহ-তাহলিলের পাশাপাশি প্রতিদিন ১০০ বার ইসতেগফার পড়া এবং কুরআন সুন্নাহর মাসনুন দোয়াগুলো পড়ার মাধ্যমে সুন্নাতি আমলে নিজেদের নিয়োজিত রাখা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত সুন্নাতি আমল দ্বারা নিজেদের আমলনামাকে সাজানোর মাধ্যেমে নিজেদের অন্তরকে আল্লাহর নূরে আলোকিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিশ্বনবিকে যেমন ভালোবাসতেন মুহাজের সাহাবি হজরত মুসআব

    বিশ্বনবিকে যেমন ভালোবাসতেন মুহাজের সাহাবি হজরত মুসআব

    ইসলাম ডেস্ক:

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই বিখ্যাত উক্তি বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর জন্য এক সতর্কবার্তা। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যথাযথ ভালোবাসা প্রদর্শন না করায় তিনি ছন্দে ছন্দে গেয়ে ওঠেন-
    ‘রবিউল আউয়াল এলে তোমারই গান গাই;
    রবিউল আউয়াল গেলে তোমায় ভুলে যাই’

    ১২ রবিউল আউয়াল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিলাদত তথা জন্ম উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী চলে নানা আয়োজন ও অনুষ্ঠান। প্রিয় নবিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও তাঁর পরিপূর্ণ জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই মুসলিম উম্মাহর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেলাদাত উপলক্ষ্যে তাঁর প্রতি বর্তমান সময়ের মুমিন মুসলমানদের ভালোবাসা থাকলেও কাজে তার বাস্তবায়ন একেবারেই কম। সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসাই তার প্রমাণ।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসে যে জীবন গ্রহণ করেছিলেন মক্কার মুহাজের যুবক হজরত মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু। জেনে নেই বিশ্বনবিকে ভালোবেসে কেমন ছিল তার জীবন ও পথচলা। আর তাহলো-

    মক্কার সুদর্শন যুবক মুসআব
    মক্কার সুদর্শন যুবক হজরত মুসআব ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি ছিলেন সর্বাপেক্ষা বেশি পোশাক-পরিচ্ছদ, সাজ-সজ্জা ও সৌন্দর্যের অধিকারী।
    অনেক দামি রেশমি পোশাক পরিধান করতে তিনি। উন্নত মানের সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। তিনি যে এলাকা দিয়ে যেতেন সে এলাকা সুরভিত হয়ে যেতো।

    প্রিয়নবিকে ভালোবেসে ইসরাম গ্রহণ
    আলীশান জীবন ও শান-শওকতে বসবাসকারী মুসআব যখন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলেন। তাঁর সাক্ষাত লাভ করলেন, তখন ঘটে গেল এক নতুন ঘটনা। তার জীবনের মোড় ঘুরে গেল।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইসলামের দাওয়াতের পয়গাম তার হৃদয়ে গভীরভাবে প্রবেশ করলো। তাঁর জীবনাচারে ঘটে গেল আমূল পরিবর্তন। তাকে দেখে আগের মুসআব মনেই হয় না।

    হজরত মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মমতাময়ী মুশরিকা মা-ও তার চলাফেরায় তাকে দেখে ঘৃণা করতে শুরু করলেন। শুধু ঘৃনা করে শেষ নয়, বরং তার ওপর শুরু হলো চরম অতাচার ও নির্যাতন।

    হজরত মুসআন ধনাঢ্য ও সুদর্শন যুবক থেকে ছিন্ন-মলিন কাপড় পরিহিত এক হতদরিদ্র ব্যক্তিতে পরিণত হলেন। তালি দেয়া ছিন্ন-মলিন পোশক পরিধান করতনে।
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাঁকে দেখলেন যে, তিনি পুরাতন চামড়ার তালি দেয়া চ্ছিন্ন কাপড় পরে আছেন। বিশ্বনবিকে ভালোবেসে পবিত্র ও সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণে তিনি বরণ করে নিয়েছিলেন কী কঠিন দুঃসহ জীবন।

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত মুসআব সম্পর্কে বলেছেন, ‘কয়েক বছর আগেও তাকে দেখেছি, তখন তার চেয়ে সুদর্শন ও সৌন্দর্যবিলাসী ও উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ পরা দ্বিতীয় ব্যক্তি আর কেউ মক্কায় ছিল না।

    আর আজ শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার কারণে তার জীবনের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে কুরবানি করে দিয়েছিলেন।’

    পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মদিনার আনসারদের জন্য প্রথম শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।
    বদর যুদ্ধে হজরত মুসআব মুহাজিরদের পক্ষ থেকে ইসলামের পতাকা বহন করেছিলেন। ওহুদের যুদ্ধে হরজত মুসআন রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাতবরণ করেন।

    মক্কার সবচেয়ে সুদর্শন যুবক ও দামি পোশাক পরা মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর পর তার জন্য প্রয়োজনীয় কাফনের কাপড়ও ছিল না। কাপড়ের অভাবে তার শরীরের নিম্নাংশ ঘাস-পাতা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছিল।

    হাদিসে বর্ণনা মতে, তাঁর দাফনের সময় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে এই আয়াত তেলাওয়াত করেছিলেন-
    ‘মুমিনদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।’ (সুরা আহযাব : আয়াত ২৩)

    হজরত মুসাআব রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন ওয়াদা পালনকারীদের একজন।

    সুতরাং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মুখে মুখে ভালোবাসা নয়, বরং তার জীবন-দর্শনের আলোকে পরিপূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ করাই হলো আশেকে রাসুলদের মূল পরিচয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসায় কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা হোক মুসলিম উম্মাহর প্রতিজ্ঞা।

    আল্লাহ তাআলা হজরত মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আল্লাহ তাআলা হজরত মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা মুসলিম উম্মাহকে দান করুন। আমিন।

  • জুমআর নামাজেই পরিশুদ্ধ অন্তর ও রিজিক পাবেন মুমিন

    জুমআর নামাজেই পরিশুদ্ধ অন্তর ও রিজিক পাবেন মুমিন

    ইসলাম ডেস্ক:

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ জুমআর নামাজ পড়ে রিজিকের অনুসন্ধানে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ থেকে বুঝা যায় জুমআর নামাজ আদায়েই মানুষের রিজিকের ফয়সালা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘অতপর যখন (জুমআ) নামাজ শেষ হয়, তখন তোমরা জমিনের মধ্যে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তথা রিজিক অন্বেষণ কর। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর। যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ১০)

    এ কারণেই জুমআর দিন মুমিন মুসলমান আগে আগে মসজিদে যায় এবং জামআর নামাজ আদায় করে এবং বেশি বেশি দোয়া, দরূদ ও জিকির করে থাকে। হাদিসে পাকে এসেছে-

    > ‘এ (জুমআ) দিন বেশি বেশি দোয়া কর।’ (বুখারি)

    নাসাঈর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর জুমআর দিন মুমিনদের বেশি বেশি দরূদ পাঠ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেননা দরূদ শরিফের ফজিলত অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে-

    > রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তাকে ১০টি রহমত দান করবেন। তার ১০টি গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তার ১০টি মর্যাদা দান করবেন।’ (নাসাঈ)

    প্রিয় নবি এ দরূদ পাঠ করতে বলেছেন-

    اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ عَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَ عَلَى الِ اِبْرَهِيْم إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ عَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَ عَلَى الِ اِبْرَهِيْم إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।

    আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’ (বুখারি, মুসলিম)

    জুমআর দিন মুমিন মুসলমানের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ দিন দোয়া কবুলের জন্য নির্ধারিত সময় আছে। এ সম্পর্কে প্রিয়নবি ঘোষনা করেন-

    ‘জুমআর দিনে এমন একটি সময় আছে, বান্দা তখন আল্লাহর কাছে যা চায়, তাকে তা-ই দেয়া হয়। আর এ সময়টি হলো জুমআর দিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।’ (বুখারি)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত জুমআর দিন বেশি বেশি দোয়া, দরূদ ও জিকিরে অতিবাহিত করা। নিজেদের উত্তম রিজিক লাভে জুমআর নামাজ আদায় করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। জুমআ আদায়ের মাধ্যমে নিজেদের সকল গোমরাহী থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • জুমআর নামাজেই পরিশুদ্ধ অন্তর ও রিজিক পাবেন মুমিন

    জুমআর নামাজেই পরিশুদ্ধ অন্তর ও রিজিক পাবেন মুমিন

    ইসলাম ডেস্ক:

    মুসলমানদের ইবাদতের দিন শুক্রবার। এ দিন মুসলমানদের সপ্তাহিক ইবাদতের দিন। এ দিনের জুমআর নামাজ ত্যাগ করলেই আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরে আবরণ তৈরি করে দেন। সে কারণে জুমআর নামাজ ত্যাগ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা ও হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, তারা উভয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর কাঠের মিম্বরের উপর দাঁড়ানোর অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছেন যে, ‘কোনো ব্যক্তিই যেন জুমআ (নামাজ) থেকে বিরত না থাকে। (জুমআর নামাজ ত্যাগ করলে) আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেবেন। তারপর তারা অবশ্যই উদাসিনদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে।’ (মুসলিম)

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ জুমআর নামাজ পড়ে রিজিকের অনুসন্ধানে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ থেকে বুঝা যায় জুমআর নামাজ আদায়েই মানুষের রিজিকের ফয়সালা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘অতপর যখন (জুমআ) নামাজ শেষ হয়, তখন তোমরা জমিনের মধ্যে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তথা রিজিক অন্বেষণ কর। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর। যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ১০)

    এ কারণেই জুমআর দিন মুমিন মুসলমান আগে আগে মসজিদে যায় এবং জামআর নামাজ আদায় করে এবং বেশি বেশি দোয়া, দরূদ ও জিকির করে থাকে। হাদিসে পাকে এসেছে-

    > ‘এ (জুমআ) দিন বেশি বেশি দোয়া কর।’ (বুখারি)

    নাসাঈর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর জুমআর দিন মুমিনদের বেশি বেশি দরূদ পাঠ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেননা দরূদ শরিফের ফজিলত অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে-

    > রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তাকে ১০টি রহমত দান করবেন। তার ১০টি গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তার ১০টি মর্যাদা দান করবেন।’ (নাসাঈ)

    প্রিয় নবি এ দরূদ পাঠ করতে বলেছেন-

    اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ عَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَ عَلَى الِ اِبْرَهِيْم إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ عَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَ عَلَى الِ اِبْرَهِيْم إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।

    আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’ (বুখারি, মুসলিম)

    জুমআর দিন মুমিন মুসলমানের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ দিন দোয়া কবুলের জন্য নির্ধারিত সময় আছে। এ সম্পর্কে প্রিয়নবি ঘোষনা করেন-

    ‘জুমআর দিনে এমন একটি সময় আছে, বান্দা তখন আল্লাহর কাছে যা চায়, তাকে তা-ই দেয়া হয়। আর এ সময়টি হলো জুমআর দিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।’ (বুখারি)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত জুমআর দিন বেশি বেশি দোয়া, দরূদ ও জিকিরে অতিবাহিত করা। নিজেদের উত্তম রিজিক লাভে জুমআর নামাজ আদায় করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। জুমআ আদায়ের মাধ্যমে নিজেদের সকল গোমরাহী থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিশ্বনবিকে যেমন ভালোবাসতেন মুহাজের সাহাবি হজরত মুসআব

    বিশ্বনবিকে যেমন ভালোবাসতেন মুহাজের সাহাবি হজরত মুসআব

    ইসলাম ডেস্ক:

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই বিখ্যাত উক্তি বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর জন্য এক সতর্কবার্তা। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যথাযথ ভালোবাসা প্রদর্শন না করায় তিনি ছন্দে ছন্দে গেয়ে ওঠেন-
    ‘রবিউল আউয়াল এলে তোমারই গান গাই;
    রবিউল আউয়াল গেলে তোমায় ভুলে যাই’

    ১২ রবিউল আউয়াল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিলাদত তথা জন্ম উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী চলে নানা আয়োজন ও অনুষ্ঠান। প্রিয় নবিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও তাঁর পরিপূর্ণ জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই মুসলিম উম্মাহর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেলাদাত উপলক্ষ্যে তাঁর প্রতি বর্তমান সময়ের মুমিন মুসলমানদের ভালোবাসা থাকলেও কাজে তার বাস্তবায়ন একেবারেই কম। সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসাই তার প্রমাণ।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসে যে জীবন গ্রহণ করেছিলেন মক্কার মুহাজের যুবক হজরত মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু। জেনে নেই বিশ্বনবিকে ভালোবেসে কেমন ছিল তার জীবন ও পথচলা। আর তাহলো-

    মক্কার সুদর্শন যুবক মুসআব
    মক্কার সুদর্শন যুবক হজরত মুসআব ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি ছিলেন সর্বাপেক্ষা বেশি পোশাক-পরিচ্ছদ, সাজ-সজ্জা ও সৌন্দর্যের অধিকারী।
    অনেক দামি রেশমি পোশাক পরিধান করতে তিনি। উন্নত মানের সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। তিনি যে এলাকা দিয়ে যেতেন সে এলাকা সুরভিত হয়ে যেতো।

    প্রিয়নবিকে ভালোবেসে ইসরাম গ্রহণ
    আলীশান জীবন ও শান-শওকতে বসবাসকারী মুসআব যখন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলেন। তাঁর সাক্ষাত লাভ করলেন, তখন ঘটে গেল এক নতুন ঘটনা। তার জীবনের মোড় ঘুরে গেল।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইসলামের দাওয়াতের পয়গাম তার হৃদয়ে গভীরভাবে প্রবেশ করলো। তাঁর জীবনাচারে ঘটে গেল আমূল পরিবর্তন। তাকে দেখে আগের মুসআব মনেই হয় না।

    হজরত মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মমতাময়ী মুশরিকা মা-ও তার চলাফেরায় তাকে দেখে ঘৃণা করতে শুরু করলেন। শুধু ঘৃনা করে শেষ নয়, বরং তার ওপর শুরু হলো চরম অতাচার ও নির্যাতন।

    হজরত মুসআন ধনাঢ্য ও সুদর্শন যুবক থেকে ছিন্ন-মলিন কাপড় পরিহিত এক হতদরিদ্র ব্যক্তিতে পরিণত হলেন। তালি দেয়া ছিন্ন-মলিন পোশক পরিধান করতনে।
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাঁকে দেখলেন যে, তিনি পুরাতন চামড়ার তালি দেয়া চ্ছিন্ন কাপড় পরে আছেন। বিশ্বনবিকে ভালোবেসে পবিত্র ও সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণে তিনি বরণ করে নিয়েছিলেন কী কঠিন দুঃসহ জীবন।

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত মুসআব সম্পর্কে বলেছেন, ‘কয়েক বছর আগেও তাকে দেখেছি, তখন তার চেয়ে সুদর্শন ও সৌন্দর্যবিলাসী ও উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ পরা দ্বিতীয় ব্যক্তি আর কেউ মক্কায় ছিল না।

    আর আজ শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার কারণে তার জীবনের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে কুরবানি করে দিয়েছিলেন।’

    পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মদিনার আনসারদের জন্য প্রথম শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।
    বদর যুদ্ধে হজরত মুসআব মুহাজিরদের পক্ষ থেকে ইসলামের পতাকা বহন করেছিলেন। ওহুদের যুদ্ধে হরজত মুসআন রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাতবরণ করেন।

    মক্কার সবচেয়ে সুদর্শন যুবক ও দামি পোশাক পরা মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর পর তার জন্য প্রয়োজনীয় কাফনের কাপড়ও ছিল না। কাপড়ের অভাবে তার শরীরের নিম্নাংশ ঘাস-পাতা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছিল।

    হাদিসে বর্ণনা মতে, তাঁর দাফনের সময় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে এই আয়াত তেলাওয়াত করেছিলেন-
    ‘মুমিনদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।’ (সুরা আহযাব : আয়াত ২৩)

    হজরত মুসাআব রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন ওয়াদা পালনকারীদের একজন।

    সুতরাং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মুখে মুখে ভালোবাসা নয়, বরং তার জীবন-দর্শনের আলোকে পরিপূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ করাই হলো আশেকে রাসুলদের মূল পরিচয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসায় কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা হোক মুসলিম উম্মাহর প্রতিজ্ঞা।

    আল্লাহ তাআলা হজরত মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আল্লাহ তাআলা হজরত মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা মুসলিম উম্মাহকে দান করুন। আমিন।

  • আত্মীয়তার বন্ধন নষ্ট করার পরিণাম

    আত্মীয়তার বন্ধন নষ্ট করার পরিণাম

    ইসলাম ডেস্ক:

    ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা মারাত্মক অপরাধ। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীকে আল্লাহ তাআলা অভিশাপ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘ক্ষমতা পেলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে কলহ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতি আল্লাহ অভিশাপ দেন। এরপর তাদের বধির ও দৃষ্টি শক্তিহীন করে দেন।’ (সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত ২২-২৩)

    অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
    হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন। আর বিস্তার করেছেন তাদের দুই জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর এবং আত্নীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।’ (সুরা নিসা : আয়াত ০১)

    বর্তমান সময়ে সামাজিক চিত্র এতই ভয়াবহ যে, অনেক মানুষ নিজ মা-বাবাকেই অত্যাচার নির্যাতন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিমিষেই তা ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়াও পত্রিকার পাতা, অনলাইনে ও ইলেক্ট্রনিক্স গণমাধ্যমেও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার ঘটনা অহরহ পাওয়া যায়। যা মহামারী আকার ধারণ করছে।

    আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-
    হজরত যুবাইর ইবনে মুতয়িম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    অন্য হাদিসে এসেছে আত্মীয়তার সম্পর্ক তার ছিন্নকারী সম্পর্কে আল্লাহর আদালতে অভিযোগ পেশ করবে। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আত্মীয়তা আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, আমাকে বিচ্ছিন্ন করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনার সময় এটা। আল্লাহ বলেন, হ্যাঁ, তবে তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও, যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখব এবং যে তোমাকে ছিন্ন করবে আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করব? তা শুনে আত্মীয়তা বলল, অবশ্যই। তখন আল্লাহ বললেন, তোমার জন্য এরূপই করা হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

    সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখতে গিয়ে অনেকে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তারপরও কেউ কেউ তা এড়িয়ে যেতে চায়। যারা এ আচরণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে আত্মীয়তার সম্পর্ক বন্ধন ধরে রাখবে তাদের ব্যাপারে বিশ্বনবি সুসংবাদ দিয়েছেন। অন্য হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, আমার কিছু আত্মীয় এমন আছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক যতই ঠিক রাখতে চাই ততই তারা ছিন্ন করে। যতই সৎ বা ভালো ব্যবহার করি তারা ততই দুর্ব্যবহার করেন। সহনশীলতা অবলম্বন করলেও তারা বুঝতে চান না।

    তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যদি ব্যাপারটি এমনই হয়, যেমন তুমি বললে তাহলে তুমি তাদের অতি কষ্টের মধ্যে নিক্ষেপ করলে। আর তুমি তাদের সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করছ, তা যদি অব্যাহত রাখতে পার তাহলে আল্লাহ সর্বদা তোমার সাহায্যকারী থাকবেন।’ (মুসলিম)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক যে কারণে আবশ্যক

    আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক যে কারণে আবশ্যক

    ইসলাম ডেস্ক:

    সবচেয়ে বেশি সুসম্পর্ক হবে যার সঙ্গে তিনি হলেন আল্লাহ তাআলা। ‍যিনি মানুষকে মায়ের এক অন্ধকার গর্ভে দীর্ঘ সময়ে রহমতের চাদরে ঢেকে রেখে ধারাবাহিক কার্যপ্রণালীর মাধ্যমে দুনিয়াতে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন।

    শুধু তাই নয়, দুনিয়াতে আসার আগে মায়ের গর্ভে রক্তপিণ্ড থেকে শুরু করে মাংসপিণ্ডে হাড়ের সংযোজন পর্যন্ত যে ইহসান করেছেন, এ জন্য তার সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আদব রক্ষা করা প্রত্যেক বান্দার জন্য আবশ্যক।

    মহান আল্লাহ তাআলার এসব রহমত ও ইহসান বান্দা বেমালুম ভুলে গিয়ে তার অবাধ্যতায় লিপ্ত। তার অবাধ্যতা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাইকে রহমতের চাদরে আগরে রেখেছেন। যার বিচার-ফয়সালা হবে পরকালে। তার আগেই দুনিয়াতে আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আদব রক্ষা করে চলা মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত জরুরি।

    আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া
    বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর এসব রহমত ও ইহসানের জন্য ঈমানের প্রথম দাবি হলো, বান্দা জবানে আল্লাহর অবিরাম প্রশংসা করবে আর অবনত মস্তকে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা তার আনুগত্য প্রকাশ করবে।

    আল্লাহ কত বড় মেহেরবান যে, বান্দা যদি আল্লাহর প্রশংসা ও আনুগত্য করে আল্লাহও বান্দাকে সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ করবেন বলেন ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন-
    ‘যদি তোমরা আমাকে স্মরণ কর তবে আমিও তোমাকে স্মরণ করব। আর আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার অবাধ্যতা করো না।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫২)

    পাশাপাশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসায় আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি তার নেয়ামত বাড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা করেছেন। আর যদি এর ব্যতিক্রম হয় তবে তার জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণাও রয়েছে। আল্লাহ বলেন-
    ‘যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে (নেয়ামত) আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৭)

    মনে রাখতে হবে
    নেয়ামতের মালিক আল্লাহ। দুনিয়ার সব অনুগ্রহের মালিক আল্লাহ। সুতরাং মালিকের অনুগ্রহ স্বীকার করায় রয়েছে আনন্দ ও পুরস্কার। আর অনুগ্রহকে অস্বীকার করা বা অবজ্ঞা করা কোনো ভাবেই আদব ও কৃতজ্ঞতার মাঝে পড়ে না। আল্লাহ তাআলা মানুষকে নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন-
    – ‘তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না।’ (সুরা নহল : আয়াত ১৮)
    – ‘তোমাদের কাছে যেসব নেয়ামত রয়েছে, তা তো আল্লাহর কাছ থেকেই (এসেছে)।’ (সুরা নহল : আয়াত ৫৩)

    ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা বাক্বারা : আয়াত ১৫২)

    আল্লাহর প্রতি ভয়
    বান্দার যখন আল্লাহকে ভয় করেন তখনও তিনি বান্দার সব অবস্থা দেখেন এবং জানেন। এ কারণেই মুমিন বান্দার হৃদয়-মন আল্লাহর ভয় ও ভক্তি-শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। মুমিন বান্দা যখনই কোনো অন্যায় বা অবাধ্য কাজ করে ফেলে তখনই আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়।

    আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ ও আনুগত্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাওয়াটাকে রীতিমত অপমান মনে করে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। এটাই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক ও আদবের লক্ষণ।

    কেননা মুমিন বান্দা যখনই আল্লাহর কোনো অবাধ্যতায় জড়িয়ে যায়, তখনই তার মনে হতে থাকে যে, আল্লাহ তাআলা তাকে দেখছেন। আল্লাহর সেই ঘোষণার কথাও মুমিনের স্মরণ হয়ে যায়। বান্দাকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলেছেন-
    ‘তোমাদের কী হল যে, তোমরা আল্লাহ‌র শ্রেষ্ঠত্বের পরওয়া করছ না। অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে। (সুরা নুহ : আয়াত ১৩-১৪)
    অন্যত্র তিনি আরও বলেছেন, ‘আর তিনি জানেন তোমরা যা গোপন কর এবং তোমরা যা প্রকাশ কর। (সুরা তাগাবুন : আয়াত ৪)

    সুতরাং আল্লাহর অবধ্যতা নয় তার দিকে ফিরে আসাই বান্দার একমাত্র কাজ। তিনি বান্দার ওপর ক্ষমতাবান। বান্দা তাঁর অধীন। তার দিকে ফিরে যাওয়া ছাড়া বান্দার কোনো মুক্তির পথ বা উপায় খোলা নেই। আল্লাহ বলেন-
    ‘এমন কোন জীব-জন্তু নেই, যে তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’(সুরা হুদ : আয়াত ৫৬) ‘এবং আল্লাহর উপরই তোমরা নির্ভর কর, যদি তোমরা মুমিন হও।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৩)
    আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা যেমন জরুরি তেমনি সব অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকাও জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার এবং তার অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। অন্তরে তার রহমতের আশা এবং ভয় পোষণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যাদেরকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসলাম

    যাদেরকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসলাম

    ইসলাম ডেস্ক:

    ‘পরকীয়াতেও ক্ষান্ত হননি ভাই-বোন, এবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন তারা’ একই বাবার দুই সন্তানের পরস্পরের বিয়ে সংবাদ এটি। ইসলামের আলোকে এ বিয়ে সুস্পষ্ট নিষিদ্ধ। যাদেরকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ ও হারাম সে ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

    বিয়ে করার আগেই জেনে নেয়া দরকার যে, যাকে বিয়ে করছেন তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কী? পাত্র-পাত্রীর সঙ্গে বংশগত, বৈবাহিক কিংবা ছোট বয়সে মায়ের বুকের দুধ পান করানোর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা?

    সাম্প্রতিক সময়গুলোতে হারাম বিয়ের প্রবণতা মহামারি আকারে বাড়ছে। ভাই-বোন ছাড়াও স্ত্রীর বোনের সঙ্গে পরকীয়া ও পালিয়ে বিয়ের ঘটনা, অন্যের বৈধ স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয় করে বিয়ে, আপন খালার সঙ্গে বিয়ে, আপন বোনের মেয়ের সঙ্গে বিয়ের ঘটনাও ব্যাপক হারে ঘটে চলেছে। ইসলামে এসব বিয়েও হারাম।

    যাদেরকে বিয়ে করা যাবে না, সে তালিকায় কুরআনে ১৪ জনের নাম এসেছে। সুতরাং বংশতগত, বৈবাহিক কিংবা দুধপান করানোর ভিত্তিতে যাদের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ তাদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে-
    > তোমাদের মা।
    > তোমাদের কন্যা।
    > তোমাদের বোন।
    > তোমাদের ফুফু।
    > তোমাদের খালা।
    > ভাইয়ের মেয়ে।
    > বোনের মেয়ে।
    > তোমাদের ওই মা, যারা তোমাদেরকে নিজেদের বুকে দুধ পান করিয়েছে।
    > তোমাদের দুধ-বোন (বুকের দুধ পানকারীনী মায়ের মেয়ে)।
    > তোমাদের স্ত্রীদের মা (শাশুরি)।
    > তোমরা যাদের সঙ্গে সহবাস করেছ; সে সব স্ত্রীদের মেয়ে, যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে।
    (লালন পালনে থাকা মেয়ের মায়ের সঙ্গে যদি সহবাসের সম্পর্ক না থাকে, তবে এ বিয়েতে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই।
    > তোমাদের নিজ ছেলেদের স্ত্রী (পুত্রবধু)।
    > দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা।
    কিন্তু অতীত যা হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু এবং
    > অন্যের বৈধ স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম।’

    বংশগত সম্পর্কের দিক থেকে যাদের বিয়ে করা হারাম। তারা হলো-
    > আপন মা বিয়ে করা হারাম। মা থেকে উপরের দিকে নানি, নানির মা আবার মায়ের বোনসহ মা-এর মেয়ে সন্তান, সন্তানের সন্তানকেও বিধানের আলোকে বিয়ে করা হারাম।
    > নিজের মেয়েকে বিয়ে করা হরাম। মেয়ে থেকে নিচের দিকে নাতনি (নিজ মেয়ের মেয়ে), নাতনির মেয়ে এভাবে নিচের দিকের মেয়েদের বিয়ে করা হারাম। এ ক্ষেত্রে ছেলের ঘরের নাতনিসহ নিচের দিকের মেয়েদেরও বিয়ে করা হারাম।
    > আপন বোনকে বিয়ে করা। আবার বাবার অন্য স্ত্রীর মেয়েদেরও বিয়ে করা যেমন হারাম তেমনি মায়ের অন্য স্বামীর মেয়েকেও বিয়ে করা হারাম।
    > বাবার আপন বোন ফুফুকে বিয়ে করা হারাম। আবার বাবার বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনকেও বিয়ে করা হারাম।
    > মা-এর আপন বোনকে (খালা) বিয়ে করা হারাম। আবার মা-এর বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনকেও বিয়ে করা হারাম।
    > ভাই-এর মেয়ে ভাতিজির সঙ্গেও বিয়ে হারাম। ভাই আপন হোক কিংবা বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় হোক।
    > বোন-এর মেয়ে ভাগিনিকে বিয়ে করা হরাম। চাই সে বোন আপন হোক কিংবা বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় হোক।

    বৈবাহিক সম্পর্কে যারা হারাম-
    > স্ত্রীদের মাকে (শাশুড়ি) বিয়ে করা হারাম। স্ত্রীদের নানি, দাদিও এ বিধানের আলোকে হারাম।
    > নিজ স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের পর সহবাস করার পর স্ত্রীর অন্য স্বামীর ঔরসজাত মেয়েকে বিবাহ করাও হারাম।
    > ছেলের বউকে বিয়ে করা হারাম। ছেলে শব্দের ব্যাপকতার কারণে পৌত্র ও দৌহিত্রের স্ত্রীকেও বিয়ে করা যাবে না।
    > বংশ ও দুধ মায়ের দিকে থেকে দুই বোনকে এক সঙ্গে বিয়ে করা হারাম। স্ত্রীর ওই বোন হোক বৈমাত্রেয় কিংবা বৈপিত্রেয়। তবে যদি কোনো বোন মারা যায় কিংবা তালাকের মাধ্যমে সম্পর্ক ছিন্ন হয় তবে নির্ধারিত সময়ের পর অন্য বোনকে বিয়ে করা যাবে।

    বুকের দুধ পান করানোর কারণে যাদের দিয়ে করা হারাম
    কুরআনে বিধান মতে দুধ মা ও দুধ বোনকে বিয়ে করা হারাম। যদি কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে কোনো নারীর বুকের দুধ নির্দিষ্ট সময়কাল (২ বছর) পান করে তবে ওই সন্তানের জন্য দুধ পান করানো নারী তার মা, নারীর স্বামী তা বাবা, নারীর নিজ ছেলে মেয়ে তার ভাই-বোন, নারীর বোন তার খালা, স্বামীর বোন তার ফুফু হয়ে যায়। আর তাদের সঙ্গে সে সন্তানের বিয়েও হারাম হয়ে যায়।

    তবে…
    খালাতো, মামাতো, ফুফাতো বা চাচাতো বোনদের বিয়ে করা হারাম নয়। চাচার মৃত্যুর পর কিংবা চাচার কাছ থেকে তালা পাওয়া নারীকেও বিয়ের বৈধতা দিয়েছে ইসলাম।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিয়ের ক্ষেত্রে কুরআন সুন্নাহর বিধান মোতাবেক বিয়ে করার তাওফিক দান করুন। সব অবৈধ সম্পর্ক ও পরকীয়ার পাশাপাশি অবৈধ বিয়ে থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।