Category: ধর্ম

  • যে মসজিদের প্রশংসা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা

    যে মসজিদের প্রশংসা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা

    ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নির্মিত মসজিদ ‘মসজিদে কুবা’। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আগমনের পর এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। পবিত্র কোরআনে এই মসজিদ ও তার মুসল্লিদের প্রশংসা করা হয়েছে। বর্তমানে মসজিদে কুবা মদিনার দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। কুবা মূলত একটি প্রাচীন কূপের নাম। কূপের নামানুসারে পরবর্তী সময়ে এলাকার নামকরণ হয়। মহানবী (সা.) মদিনায় আগমনের পর কুবা নামক স্থানে অবতরণ করেন। তিনি আবু আইয়ুব আনসারি (রা.)-এর ঘরে অবস্থান করেন। তখন এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মদিনার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এই মসজিদের নির্মাণকাজে স্বয়ং নবী করিম (সা.) অংশগ্রহণ করেন। মসজিদ নির্মাণে প্রথম পাথরটি তিনিই রাখেন। নির্মাণকাজ শেষ হলে তিনি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করেন এবং কুবাবাসীর প্রশংসা করেন। নবনির্মিত মসজিদে প্রথম নামাজ তিনিই আদায় করেন।

    মসজিদে নববীর পাশে স্থায়ী আবাস গড়লেও মহানবী (সা.) প্রতি সপ্তাহের শনিবার মসজিদে কুবায় আসতেন।

    কোরআনে মসজিদে কুবার প্রশংসা করে বলা হয়েছে, ‘যে মসজিদ প্রথম দিন থেকে তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত সেখানে অবস্থান করা আপনার জন্য অধিক সংগত। সেখানে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা পছন্দ করে। আর আল্লাহ পবিত্র ব্যক্তিদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : তওবা, আয়াত : ১০৮)

    প্রতিষ্ঠার পর উসমান বিন আফফান (রা.), ওমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.), উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ ও তাঁর ছেলে প্রথম আবদুল মাজিদ প্রমুখ শাসকরা মসজিদে কুবার সংস্কারকাজ করেন। বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদের সময় সর্বশেষ সম্প্রসারণ হয়। ১৪০৫ হিজরিতে শুরু হওয়া সংস্কারকাজ শেষ হয় ১৪০৭ হিজরিতে। যাতে মসজিদের আয়তন দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৫০০ স্কয়ার মিটার। মসজিদে কুবায় বর্তমানে ২০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে।

  • তাহাজ্জুদ নামাজের সুন্নাতি আমল

    তাহাজ্জুদ নামাজের সুন্নাতি আমল

    নফল নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ অনেক ফজিলতে পরিপূর্ণ। এ নামাজে মানুষের মর্যাদা অনেক বেশি বেড়ে যায়। তাহাজ্জুদ নামাজ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য পড়া আবশ্যক ছিল।

    হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লাম বর্ণনা করেছেন। আবার তাহাজ্জুদ নামাজে বিশেষ দোয়া ও আয়াত পড়ার নির্দেশনাও এসেছে হাদিসে।

    ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদ নামাজের রাতে উঠতেন এবং এ আয়াতসহ শেষ পর্যন্ত পড়তেন। তাহাজ্জুদ নামাজে এ দোয়াসহ শেষ পর্যন্ত পড়া সুন্নাত।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

    হাদিসে ঘোষিত দোয়াটি হলো-
    رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ – رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ – رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلإِيمَانِ أَنْ آمِنُواْ بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الأبْرَارِ
    উচ্চারণ: রাব্বানা মা খালাক্বতা হাজা বাত্বিলাং সুব্‌হানাকা ফাক্বিনা আজাবান্নার। রাব্বানা ইন্নাকা মাং তুদখিলিন নারা ফাক্বাদ আখঝাইতাহু ওয়া মা লিজজ্বালিমিনা মিন্ আংছার। রাব্বানা ইন্নানা সামিনা মুনাদিয়া ইউনাদি লিল-ঈমানি আন আমিনু বি-রাব্বিকুম ফা-আমান্না, রাব্বানা ফাগফিরলানা যুনুবানা ওয়া কাফ্‌ফির আন্না সাইয়্যেআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মাআল আবরার।
    অর্থ :‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। পবিত্রতা তোমারই জন্য। আমাদেরকে তুমি জাহানড়বামের শাস্তি থেকে বাঁচাও। হে প্রতিপালক! নিশ্চয়ই তুমি যাকে জাহানড়বামে নিক্ষেপ কর তাকে অপমানিত কর। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। হে আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান আনার জন্য একজন আহবানকারীকে আহবান করতে শুনে ঈমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদের সকল গোনাহ মাফ করে দাও। আমাদের সকল দোষ-ত্রুটি দূর করে দাও। আর নেক লোকদের সঙ্গে আমাদের মৃত্যু দাও।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৯১-১৯৩)

    এ আয়াত থেকে সুরা আল-ইমরানের শেষ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজে পড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতি আমল।

    গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজে দাঁড়িয়ে এ আয়াতের অর্থের প্রতি ধ্যান রাখলেই মানুষের চিন্তা-চেতনায় ফুটে ওঠবে আল্লাহর সৃষ্টি জগতের অপার রহস্য। যা মানুষকে আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের দিকে টেনে নিয়ে যায়। ঈমানদারে ঈমানও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত তাহাজ্জুদ নামাজে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতি আমল নিয়মিতভাবে আদায় করা। উল্লেখিত দোয়াসহ সুরা আল-ইমরানের শেষ পর্যন্ত পড়ে তার সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে জানার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে নিবেদিত করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবির অনুসরণ ও অনুকরণে তাহাজ্জুদ নামাজের সুন্নাতি আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিশ্বনবির জন্ম উপলক্ষে যে আমল করা যাবে

    বিশ্বনবির জন্ম উপলক্ষে যে আমল করা যাবে

    রবিউল আউয়াল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন পালনের মাস হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। যদিও রবিউল আউয়াল মাসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু এ পৃথিবীতে জন্মই নেননি বরং তার বেলাদাত তথা জন্ম, নবুয়ত, হিজরত এবং ওফাত এ মাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে বিশ্বনবির জন্ম উপলক্ষে বছরব্যাপী প্রত্যেক সোমবার রোজা পালন করা সুন্নাতি আমলের একটি।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসায় এ দিন বা এ মাস আনন্দ উৎসব পালন নয় বরং বছরব্যাপী প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ তথা আদর্শকে ধারণ করাই হলো রবিউল আউয়াল মাসের অন্যতম শিক্ষা।

    তবে এ মাসটি মুসলিম উম্মাহকে স্মরণ করে দেয় যে, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য রহমত ও মুমিনদের জন্য অনুগ্রহসহ আল্লাহর জমিনে তার দ্বীন ও ইসলাম বাস্তবায়নের মহান মিশনকে সামনে রেখে এ পৃথিবীতে আগমন করেছেন।

    মানুষকে কল্যাণের পথ দেখাতেই মহান আল্লাহ তাকে নবুয়ত ও রেসালাতের দায়িত্ব দিয়েছেন। নবুয়ত ও রেসালাতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি অবর্ণনীয় দুঃখ ও কষ্ট করেছেনে। অতিমাত্রায় নির্যাতন ভোগের এক পর্যায়ে মহান আল্লাহর নির্দেশে তিনি হিজরত করেন। এ রবিউল আউয়াল মাসেই তিনি হিজরত করে মদিনা মুনাওয়ারায় গিয়ে পৌঁছেন।

    দ্বীন ও ইসলামের জিম্মাদারি হুবহু পালন শেষে এ পবিত্র মাসেই তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। সুতরাং এ মাস শুধু আনন্দের নয়, বরং এ মাস যেমন সর্বাধিক আনন্দের আবার সর্বাধিক দুঃখের। আর এ মাসের আনন্দ ও দুঃখের মাঝেই রয়েছে মুসলিম উম্মাহর জন্য সর্বোত্তম আদর্শ গ্রহণের অনুপ্রেরণা।

    তবে হ্যাঁ, বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেলাদাত তথা জন্ম উপলক্ষে বছরব্যাপী নিয়মিত একটি আমল করা যেতে পারে। আর তাহলো প্রতি সোমবার রোজা পালন।

    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।’ (তিরমিজি ও নাসাঈ)

    সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি সোমবার রোজা রাখেন কেন? তিনি বললেন, এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে। তাই এই দিন রোজা রাখি।

    এখনও মদিনা শরিফে ব্যাপকভাবে এই আমল প্রচলিত আছে। প্রতি সোমবার মসজিদে নববিতে ইফতারের বিশেষ আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়োজন করে থাকেন।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্মের দিন সোমবার রোজা রাখতেন। হাদিস বিশারদরা লিখেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মের কারণে প্রতি সোমবার রোজা রাখা মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু কাতাদাহ আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবার রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি। ওই দিনই আমি নবুয়ত লাভ করেছি বা আমার ওপর ওহি অবতীর্ণ হয়…।’ (মুসলিম)

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও ইন্তেকালের তারিখ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দিনের ব্যাপারে কোনো মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি। আর দিনটি ছিল ‘সোমবার’।

    সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মদিন সোমবার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দিনে রোজা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। এ দিন (সোমবার) রোজা পালন বেদাআত নয় বরং এ দিন রোজা পালন করা সুন্নাত।

    তবে অন্য কারো জন্মদিন উপলক্ষে রোজা পালন করা যাবে না। আর যদি কেউ তার জন্মের দিনে রোজা পালন করে তবে তা বেদাআত হবে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন (সোমবার) রোজা রাখার কথা বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। তাই এ দিন রোজা পালনে কোনো বাধা নেই। বরং এটি সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সোমবার রোজা রাখতেন।

    যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার জন্ম গ্রহণ করেছেন, সেহেতু বছরব্যাপী সোমবার রোজা পালন করা সুন্নাতি আমল।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদর্শকে অনুসরণ ও অনুকরণ করার মাধ্যমে ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসায় সোমবার রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বরিশালে মন্দির থেকে স্বর্ণালংকার চুরি

    বরিশালে মন্দির থেকে স্বর্ণালংকার চুরি

    স্টাফ রিপোর্টার//স্বর্না বিশ্বাস:

    বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বার্থী তাঁরা মায়ের মন্দির থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। এঘটনায় শুক্রবার রাতে গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রনব কুমার বাবু দত্ত জানান, শুক্রবার দুপুরে এক যুবক মন্দিরের মধ্যে প্রবেশ করে। এরপর সুযোগ বুঝে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মন্দিরের কালিমাতার শরীর থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে বের হয়ে যায়। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তদন্ত মাহবুবুর রহমান জানান, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষন করে চোরকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রবিউল আউয়ালের যে আমলে সৌভাগ্য লাভ করবে মুমিন

    রবিউল আউয়ালের যে আমলে সৌভাগ্য লাভ করবে মুমিন

    রবিউল আউয়াল। হিজরি (আরবি) বছরের তৃতীয় মাস। এ মাসটি যেসব কারণে বিখ্যাত তা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেলাদাত (জন্ম), নবুয়ত, হিজরত এবং ওফাত। আর এ সবই সংঘটিত হয়েছিল রবিউল আউয়াল মাসে।

    বছরজুড়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণ ভুলে গিয়ে শুধু রবিউল আউয়ালে তার জন্ম উৎসবে মেতে থাকলেই পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়া যাবে না। বরং হাদিসে এসেছে-

    ‘সে ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণা পর্যন্ত না ওই ব্যক্তি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার পিতা-মাতা, সন্তান থেকে বেশি ভালোবাসবে। অর্থাৎ পিতামাতা-সন্তান থেকেও প্রিয় নবিকে বেশি ভালোবাসতে হবে।’

    এ ভালোবাসার মানে এ নয় কিংবা মুখে মুখে এ কথা বলা নয় যে, ‘হে রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আপনাকে ভালোবাসি।’ বরং এর মর্মার্থ হলো এটি যে-

    ‘রাসুল তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছে তা ধারণ কর। আর যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক।’

    কেননা যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো পথে কিংবা তাকে অনুসরণ করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল। সে কারণেই দুনিয়ার প্রতিটি কথা ও কাজে শুধু বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই আদর্শ মানতে হবে। তাঁর দেখানো পথেই নিজেদের পরিচালিত করতে হবে।

    মুমিন মুসলমানের অন্যতম আমলও এটি যে, তাঁর দেখানো পথ ও মতে থেকে জীবন পরিচালনা করবে। তবেই পাবে মহান আল্লাহর ভালোবাসা। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘হে রাসুল! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তবে তোমরা আমার অনুসরণ কর। তাহলেই আল্লাহ তাআলা তোমাদের ভালোবাসবেন। আল্লাহ তাআলা তোমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। আর এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত।’

    আল্লাহ তাআলা নিজেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর রহমত বর্ষণ করেন ফেরেশতারাও রহমতের দোয়া করেন এবং মানুষকে তার প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ নবির ওপর রহমত নাজল করেন এবং ফেরেশতারাও তাঁর জন্য রহমত কামনা করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ পড় এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও।’

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের ঈমানের দাবি হলো, তারা সারা বছর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠাবে। বিশেষ করে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতি বিজড়িত বেলাদাত, নবুয়ত, হিজরত ও ওফাতের মাসে তার প্রতি বেশি বেশি দরূদ ও সালাম পাঠাবে।

    কেননা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালামে রয়েছে অনেক ফজিলত ও সাওয়াব। মুমিন মুসলমানের জন্য যার কিছু তুলে ধরা হলো-

    > রহমত ও ক্ষমার ঘোষণা

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘যে আমার ওপর একবার দরূদ পড়বে, বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করবেন। (মুসলিম, তিরমিজি)

    হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পড়বে আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত বর্ষণ করবেন। তার ১০টি গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তার জন্য রহমদের ১০ দরজা খুলে দেয়া হবে। (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ)

    > ফেরেশতাদের মাগফেরাত কামনার ঘোষণা

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পাঠকারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা নিযুক্ত রয়েছে ফেরেশতা। যারা দরূদ পাঠকারী বান্দার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আমের ইবনে রবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (খুতবা দেয়ার সময়) বলতে শুনেছি, ‘আমার ওপর দরূদ পাঠকারী যতক্ষণ দরূদ পড়তে থাকবে, ফেরেশতারা তার জন্য ততক্ষণ দোয়া করতে থাকে। সুতরাং বান্দার ইচ্ছা যে, সে দরূদ বেশি পড়বে না কম পড়বে।’ (মুসনাদে আহমদ, ইবনে মাজাহ)

    > শাফাআতের ঘোষণা
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করলে ওই ব্যক্তির জন্য তার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে-

    হজরত রুওয়াইফি ইবনে ছাবিত আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এ দরূদ পাঠ করবে তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে।’ (তাবারানি, ইবনে বাযযার)

    > রাসুলের প্রতিবেশী হওয়ার ঘোষণা

    কিয়ামতের দিন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই ব্যক্তি যে দরূদ পড়ে। হাদিসে এসেছে-
    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন ওই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে কাছাকাছি হবে, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরূদ পড়েছে।’ (তিরমিজি)

    > মনোবাসনা পূরণের ঘোষণা

    দুনিয়া ও পরকালে মুমিন মুসলমানের মনের একান্ত চাওয়াগুলোরও বাস্তবায়ন হবে। হাদিসে এসেছে-
    হজরত উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আল্লাহর জিকিরের খুব তাগিদ দিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করে থাকি। আমি আমার দোয়ার কতভাগ আপনার জন্য নির্ধারণ করব? তিনি বললেন, তোমার যে পরিমাণ ইচ্ছা।
    আমি বললাম, চারভাগের এক ভাগ? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। তবে বেশি করলে আরও ভালো।
    আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। তবে বেশি করলে আরও ভালো।
    আমি বললাম, তাহলে তিন ভাগের দুই ভাগ? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা হয়। তবে বেশি করলে আরও ভালো।
    আমি বললাম, তাহলে কি আমার দোয়ার পুরোটাই হবে আপনার প্রতি দরূদ? তিনি বললেন, তবে তো তোমার উদ্দেশ্য হাসিল হবে। তোমার গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ (তিরমিজি, তাবারানি)

    > গরীবের জন্য সাদকার সওয়াবের ঘোষণা

    গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য সাদকার সাওয়াব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দরূদ পড়ার মাধ্যমে অসহায় গরিব মানুষের জন্য রয়েছে সাদকার সাওয়াব। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে মুসলমানের দান করার সামর্থ্য নেই সে যেন তার দোয়ায় বলে-
    اَللهُمَّ صَلِّى عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَ رَسُوْلِكَ وَ صَلِّى عَلَى الْمُؤمِنِيْنَ وَ الْمُؤمِنَات وَ المُسْلِمِيْنَ وَ الْمُسْلِمَات
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিকা ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।’
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিকা ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।’ এটা (দরূদ) ওই ব্যক্তির জন্য জাকাত তথা সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (ইবনে হিব্বান)

    > মুমিনের দরূদ ও সালাম শুনেন প্রিয় নবি

    মুমিন মুসলমানের পড়া দরূদ ও সালাম প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌছানো হয়। দরূদ পৌছানোর দায়িত্ব আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা নিযুক্ত করে রেখেছেন। এ ফেরেশতা মদিনায় প্রিয় নবির রওজায় দরূদ পাঠকারীর পরিচয়ও পেশ করেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার জমিনে বিচরণকারী (এমন) কিছু ফেরেশতা আছেন, তাঁরা আমার কাছে উম্মতের পক্ষ থেকে পাঠানো সালাম পৌঁছে দেয়।’ (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ)

    > দরূদবিহীন দোয়ার কুফল

    দরূদবিহীন কোনো দোয়াই আল্লাহর কাছে পৌছে না বরং তা আসমান এবং জমিনের মাঝে ঝুলে থাকে। যা আল্লাহর কাছে পৌছে না। হাদিসে এসেছে-

    হজরত উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘যে পর্যন্ত না তুমি তোমার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ না পড়বে ততক্ষণ এ দোয়া আসমানে যাবে না বরং তা আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলে থাকবে।’ (তিরমিজি)

    মনে রাখতে হবে

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বমানবতার জন্য রহমত ও অনুপম আদর্শ। তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণ করতে কুরআনে পাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাঁর প্রতি দরূদ পাঠেই যদি এত বেশি ফজিলত লাভ করা যায়। তবে তার হুকুম আহকাম কিংবা দিক-নির্দেশনা পালন করলে মুমিনের মর্যাদা কতবেশি হবে তা অনুমেয়।

    সুতরাং রবিউল আউয়াল হোক মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ গ্রহণের মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ গ্রহণে কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনাই হোক মুমিন মুসলমানের দীপ্ত প্রত্যয়। আদর্শ গ্রহণের যে ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা-

    ‘অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (চরিত্রের) মধ্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। (সুরা আহযাব : আয়াত ২১)’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবির সর্বোত্তম আদর্শ গ্রহণে তাকে ও পরকালকে ভয় করার এবং তাকে বেশি বেশি স্মরণ করার মাধ্যমে দ্বীন ও ইসলামকে ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ঘূর্ণিঝড়ের সময় যে দোয়া পড়তে বলছেন বিশ্বনবী (স.)

    ঘূর্ণিঝড়ের সময় যে দোয়া পড়তে বলছেন বিশ্বনবী (স.)

    ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ো বাসাতসহ যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্ত থাকতে মহানবী (স.) আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। কেননা মহান আল্লাহই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়দাতা। আল্লাহ ছাড়া মানুষকে বেশি নিরাপত্তা কেউ দিতে পারে না।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। যদি তোমরা একে তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেখতে পাও, তবে এই দোয়া করবে-

    اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ خَيْرِ مَا فَيْهَا وَ خَيْرِمَا أُمِرَتْ بِهِ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ شَرِّ مَا فَيْهَا وَ شَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরি মা ফিহা ওয়া খাইরি মা উমিরাত বিহি, ওয়া নাউজুবিকা মিন শাররি হাজিহির রিহি ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উমিরাত বিহি’ (তিরমিজি, মিশকাত)।

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট এ বাতাসের ভালো দিক, এতে যে কল্যাণ রয়েছে তা এবং যে উদ্দেশ্যে তা নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার উত্তম দিকটি প্রার্থনা করছি। এবং তোমার নিকট এর খারাপ দিক হতে, এতে যে অকল্যাণ রয়েছে তা হতে এবং এটা যে উদ্দেশ্যে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার মন্দ দিক হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

    প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, যেন তার উম্মতকে দুর্যোগ ও বিপর্যয় দিয়ে এক সঙ্গে ধ্বংস করে দেয়া না হয়।

    এসব বিপদকালীন সময়ে বিশ্বনবী বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার করতেন এবং অন্যদেরকেও তা পড়তে নির্দেশ দিতেন। তাই মুসলিম উম্মাহর উচিত ঘূর্ণিঝড়, প্রবল ঝড়ো বাতাস ও বিপদ-আপদে উল্লেখিত দোয়া পড়া এবং বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা।

  • দুনিয়াতে জুমআ আদায়কারীর জন্য জান্নাতে যে পুরস্কার সুনিশ্চিত

    দুনিয়াতে জুমআ আদায়কারীর জন্য জান্নাতে যে পুরস্কার সুনিশ্চিত

    মুসলমানদের সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন শুক্রবার। এদিন জোহরের পরিবের্ত ইমামের খুতবা ও জামাআতে ২ রাকাআত নামাজ আদায় করে মুমিন মুসলমান। এটি মহান আল্লাহর বিধান। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের নজ্য আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত চলে যাও এবং বেচা-কেনা বন্ধ কর।এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯)

    জুমআর নামাজের ব্যাপারেই কুরআনের এ ঘোষণা। জুমআর নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিই দুনিয়াতে পাবে উত্তম রিজিক। কেননা নামাজ পড়া শেষ হলেই আবার রিজিকের সন্ধ্যানে জমিনে বিচরণের কথা বলা হয়েছে।

    হাদিসে পাকে জুমআ আদায়কারী ব্যক্তির সুখবর ঘোষণা করা হয়েছে। দুনিয়াতে যারা জুমআ আদায় করেছে, জান্নাতেও তারা প্রতি জুমআর দিন একত্রিত হবে। হাদিসের বর্ণনায় সে ঘটনা এভাবে এসেছে-
    ‘জান্নাতেও প্রত্যেক জুমআর দিন জান্নাতি ব্যক্তিদের হাট বসবে। জান্নাতি লোকেরা প্রত্যেক সপ্তাহে সেখাবে একত্রিত হবে। তখন সেখানে এমন মনমুগ্ধকর বাতাস প্রবাহিত হবে, যে বাতাসে জান্নাতিদের সৌন্দর্য অনেক গুণে বেড়ে যাবে। আর তাদের স্ত্রীরা তাদের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়ে যাবে। (শুধু তাই নয়, ওই সব ব্যক্তিদের) স্ত্রীদের বেলায়ও অনুরূপ সৌন্দর্য বেড়ে যাবে (যা দেখে জান্নাতি ব্যক্তিরাও অভিভূত হয়ে যাবে)।’ (মুসলিম)

    দুনিয়াতে মানুষ যেভাবে সুন্দর ও উত্তম পোশাকে সজ্জিত হয়ে জুমআর নামাজ আদায় করে। ঠিক জান্নাতেও আল্লাহ তাআলা তার ওই সব জান্নাতি বান্দাকে জান্নাতের মনমুগ্ধকর বাতাস ও সৌন্দর্য দ্বারা আলোকিত করে দেবেন। তাদের স্ত্রীদের রূপ সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দেবেন। যাতে তারা তা উপভোগ করতে পারে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়াতে উত্তম ও যথাযথভাবে জুমআর নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। উত্তম রিজিক ও সর্বোত্তম প্রতিদান লাভের তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিশ্বনবির প্রতি হজরত সাদ ইবনে মুয়াজের ভালোবাসা ও আবেগ

    বিশ্বনবির প্রতি হজরত সাদ ইবনে মুয়াজের ভালোবাসা ও আবেগ

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার এক প্রিয় সাহাবি মুসআব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত দেহের কাছে দাঁড়িয়ে এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন-
    ‘ঈমানদারদের মধ্যে কেউ কেউ আছে, যারা আল্লাহর কাছে তাদের কৃত অঙ্গীকার পরিপূর্ণরূপে পালন করেছে।’ (সুরা আহযাব : আয়াত ২৩)
    এ ওয়াদা পালনকারীদের মধ্যে অন্যতম আরেক জন ছিলেন আনাসার সাহাবি হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনিও ভালোবাসতে প্রিয় নবিকে। কেমন ছিল তার ভালোবাসা।

    হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু মদিনার বাইরে থেকে হিজরত করে আসা মুসলিমদের আতিথেয়তা ও নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মুহাজিরদের সেবায় নিজেকে সপে দিয়েছিলেন এ আনসার সাহাবি।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদিনায় হিজরতের পর বদর যুদ্ধ ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ও অস্তিত্বের হুমকি। সে সময় হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলিষ্ঠ কণ্ঠ ও ঘোষণা ছিল প্রিয় নবি ও মুসলমানদের জন্য শান্তির বার্তা ও অনুপ্রেরণা।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবেসে ইসলাম গ্রহণ করে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ মদিনায় আগত নতুন মুহাজির মুসলিমদের নিরাপত্তার দায়িত্বও পালন করছিলেন হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

    শুধু মুসলিমদের নিরাপত্তা ও আতিথেয়তাই নয় মদিনার আনসারদেরও নেতা ছিলেন তিনি। বদরের যুদ্ধের কঠিন সময়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃঢ় মনোবলকে আরও সুদৃঢ় করতে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন-
    ‘হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমরা আপনার ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করেছি। আপনার নবুয়তের সত্যতা ঘোষণা এবং আপনার আনুগত্যের শপথ নিয়েছি। যে আল্লাহ আপনাকে তার রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছেন, সেই আল্লাহর শপথ! আপনি যদি সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেন, ‘আমরা তা-ই করব।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যে ব্যক্তি আপনার সঙ্গে যুদ্ধ-সংগ্রামে পেছনে থাকবে। হতে পারে আল্লাহ তাআলা আমাদের মধ্য দিয়ে আপনাকে এমন কিছু (সাফলতা) দেখাবেন, যা আপনার চোখে আনন্দ ও শীতলতা বয়ে আনবে।’

    আনসারদের নেতা ও মুহাজির সাহাবিদের নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার দায়িত্বশীল হজরত সাদ ইবনে মুয়াজের সে ঘোষণাই সফলতার মুখ দেখেছিল।

    ইসলামের প্রাথমিক যুগে আনসারদের নেতা হওয়া যেমন ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার আবার তেমনি জীবনও ছিল হুমকির মুখে। শুধুমাত্র বিশ্বনবির ভালোবাসায় হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু আনসার সাহাবিদের নিয়ে সফলতার ঘোষণা দিয়ে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল।

    কুরাইশদের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া এ কারণে চ্যালেঞ্জ ছিল যে, তারা ছিল রণসম্ভাবে সুসজ্জিত ও প্রশিক্ষিত বিরাট সৈন্য দল। সে তুলনায় ৩ গুনেরও কম সৈন্য নিয়ে বিশ্বনবির সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হয়েছিলেন হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ আনসার সাহাবিদের দল।

    হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু সে ঘোষণার সত্যতাই ঘটেছিল। মুসলমানরা পেয়েছিল এক সুন্দর বিজয়। যে বিজয়ে ইসলাম ও মদিনা রাষ্ট্র স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল।

    বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসায় ত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাহাবায়ে কেরামের মতো ইসলামকে হৃদয় থেকে সর্বোচ্চ ভালোবাসার তাওফিক দান করুন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নতের বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাকে ভালোবেসে পরকালের সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া কখনো ছাড়তেন না বিশ্বনবি

    সকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া কখনো ছাড়তেন না বিশ্বনবি

    মানুষ সব সময় তার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আল্লাহর কাছে কামনা করেন। আল্লাহ তাআলাই মানুষের সব ইচ্ছা-আকাঙ্খা পূরণ করেন। এমন কোনো বিষয় নেই, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ পূরণ করতে পারে।

    এ কারণেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের সব কিছু মহান আল্লাহর কাছেই কামনা করতেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল ও সন্ধ্যা হলেই নিন্মোক্ত বাক্যগুলো না বলে ছাড়তেন না। অর্থাৎ তিনি এ বাক্যগুলো সব সময় বলতেন-

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي، وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِىْ اَللهُمَّ احْفَظْنِىْ مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَ مِنْ خَلْفِىْ وَ عَنْ يَمِيْنِىْ وَ عَنْ شِمَالِىْ وَ مِنْ فَوْقِىْ وَ اَعُوْذُ بِعَظْمَتِكَ اَنْ اُغْتَالَ مِنْ تَحْتِىْ –
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্-আলুকাল আফ্‌ওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্-দুনইয়া ওয়াল আখিরাতি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকাল আফ্ওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দ্বীনি ওয়া দুন্ইয়ায়া ওয়া আহলি ওয়া মালি, আল্লাহুম্মাস্‌তুর আওরাতি ওয়া আমিন রাওআতি, আল্লাহুম্মাহফাজনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়া আন শিমালি ওয়া মিন ফাওক্বি ওয়া আউজু বিআজমাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি।

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার দোষসমূহ ঢেকে রাখ এবং ভয়ের বিষয়গুলো থেকে আমাকে নিরাপদ রাখ। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হেফাজত কর সামনে থেকে, পেছন থেকে, ডান থেকে, বাম থেকে এবং উপরের দিক থেকে। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে মাটির নিচে ধ্বসে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই।’ (আবু দাউদ, মিশকাত, ইবনে মাজাহ)

    হাদিসে উল্লেখিত দোয়াটিতে রয়েছে মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতে নিরাপত্তা লাভের কামনা বাসনা। দুনিয়ার অপরাধ ও ভয় থেকে বেঁচে থাকার আবেদন। দুনিয়ার যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত থাকার আবেদন।

    প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ আমলটি উম্মতে মুসলিমার জন্যও জরুরি। যে আমলে দুনিয়া ও পরকালের সব বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকবে মুমিন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যায় হাদিসে শেখানো এ আমলটি করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় চাওয়া-পাওয়া ও অনিষ্টা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মরহুম আনোয়ার হোসেন খান এর রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত

    মরহুম আনোয়ার হোসেন খান এর রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত

    তানজিম হোসাইন রাকিব:

    বিশ্ব জাকের মন্জিল পাক দরবার শরিফের খাদেম ও কর্মী গ্রূপ ২৬ নং ওয়ার্ড এর সাবেক উপদেষ্টা মরহুম আনোয়ার হোসেন খান এর রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড, কালিজিরা, পাথরখোলা, তালুকদার ভিলার ২য় তলায় উক্ত দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্ব জাকের মন্জিল, কর্মী গ্রূপ , ২৬ নং ওয়ার্ড এর আয়োজিত এ দোয়া মোনাজাতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো: হুমায়ুন কবির হাওলাদার, কাউন্সিলর ২৬ নং ওয়ার্ড বিসিসি বরিশাল।

    বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন , জনাব মো: মহিজুল রহমান খান দিপু,বিশ্ব জাকের মন্জিল, কর্মী প্রধান, বরিশাল মহানগর।

    প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মাও: মো: আল-আমিন হোসেন নুরী, ওলামা কাউন্সিল সদস্য,বিশ্ব জাকের মন্জীল পাক দরবার শরীফ।

    উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মো: আব্দুল কাদের বয়াতী, উপদেষ্টা , কর্মী গ্রূপ. ২৬ নং ওয়ার্ড, বিসিসি বরিশাল।

    মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাতে ইসলামের ওপর গুরুত্বপূর্ন ওয়াজ নসিওত করেন  মাও: মো: আল-আমিন হোসেন নুরী, ওলামা কাউন্সিল সদস্য,বিশ্ব জাকের মন্জীল পাক দরবার শরীফ।