Category: ধর্ম

  • স্বপ্নের কথা যে ৪ ব্যক্তির কাছে বলা যাবে না

    স্বপ্নের কথা যে ৪ ব্যক্তির কাছে বলা যাবে না

    ইসলাম ডেস্ক:

    মানুষ স্বপ্ন দেখে। মানুষের স্বপ্ন অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ের আগাম ইঙ্গিত বহন করে। যা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়। আবার অনেক স্বপ্ন মানুষ এমনিতেই দেখে থাকে।

    ঘুমে দেখা এ স্বপ্ন সবার সঙ্গে শেয়ার করা ঠিক নয়। কেননা যারা স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ, তাদের ছাড়া অন্যের কাছে স্বপ্নে কথা বললে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে ৪ ধরনের ব্যক্তির কাছে স্বপ্নে কথা বলা ঠিক নয়। তারা হলো-

    স্বপ্নের কথা না বলা

    আপনি স্বপ্নে যা দেখেন, তা মুসলিম পণ্ডিত বা জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে ব্যক্ত করুন। যিনি আল্লাহর প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন এবং স্বপ্ন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন। কেননা স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য যে কোনো সুসংবাদ কিংবা দুঃসংবাদের ইঙ্গিত স্বরুপ। ইসলামের আলোকে যা কোনো অমুসলিম ব্যাখ্যা করতে সক্ষম নয়।

    > কোনো নারীর কাছে স্বপ্নের কথা না বলা

    স্বপ্ন দেখা ব্যক্তি নারী কিংবা পুরুষ যে-ই হোন না কেন, স্বপ্নের কথা কোনো নারীর কাছে বলা ঠিক নয়। কেননা নারীদেরও ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞানের স্বল্পতা রয়েছে। কারণ স্বপ্নের কথা শুনে তার ভুল ব্যাখ্যা বা ইঙ্গিতের কথা বললে স্বপ্ন দেখা ব্যক্তির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    তবে নারী যদি ধর্ম ও সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন তবে তার কাছে স্বপ্নের কথা বলা যেতে পারে।

    > জ্ঞানহীন ব্যক্তির কাছে স্বপ্নের কথা না বলা

    সমাজে এমন কিছু লোক আছে যারা শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞানহীন। এ রকম জ্ঞানহীন ব্যক্তির কাছে যেমন স্বপ্নের কথা বলা যাবে না আবার শিক্ষাদীক্ষা নেই এমন ব্যক্তির কাছেও স্বপ্নের কথা বলা যাবে না। মূল কথা হলো স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা ইঙ্গিত সব লোক বুঝে না। তাই জ্ঞানী ছাড়া কারো কাছে স্বপ্নের কথা বলা ঠিক নয়।

    তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা পরিপূর্ণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী। তাদের কাছে স্বপ্নে কথা বলা যেতে পারে।

    > কোনো শত্রুর কাছে স্বপ্নের কথা না বলা

    ব্যক্তি যত জ্ঞানীই হোক না কেন, সে যদি আপনার শত্রু হয় তবে তার কাছে কখনো স্বপ্নের কথা বলা যাবে না। স্বপ্নের সঠিক তথ্য বা ব্যাখ্যা জানার পরও যদি সে জ্ঞানী ব্যক্তি শত্রুতাবশতঃ প্রকৃত ব্যাখ্যা বা ইঙ্গিতের কথা না বলে উল্টো ক্ষতিকর কোনো বিষয়ের কথা বর্ণনা করে তবে তার ক্ষতিই সাধিত হবে।

    সর্বোপরি কথা হলো-
    স্বপ্নে ভালো কিংবা খারাপ যা-ই ইঙ্গিত বহন করুক না কেন, যদি এর ব্যাখ্যা ভালো হয়, তবে সে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখা অনিষ্টতা থেকে বেঁচে যায়। সুতরাং স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা ইঙ্গিত জানার জন্য ভালো, জ্ঞানী ও আল্লাহভিরু লোকদের কাছে যাওয়াই জরুরি।

    তাই স্বপ্ন যে রকমই হোক, তা দেখার পর কিছু সাদকা বা দান করে দেয়া উত্তম। কেননা স্বপ্নের ইঙ্গিত যদি খারাপ হয়, তবে এ দানের কারণে তার অনিষ্টতা কেটে যাবে। আবার স্বপ্নের ইঙ্গিত যদি ভালো হয় তবে দান-সাদকার ফলে তার ভালো ইঙ্গিতের শুকরিয়া আদায় হয়ে যাবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে স্বপ্নের কথা বলার ক্ষেত্রে আল্লাহওয়ালা, ধর্মভিরু জ্ঞানী লোকদের কাছে বর্ণনা করার তাওফিক দান করুন। স্বপ্ন যে রকমই হোক আল্লাহর রাস্তায় কিছু সম্পদ সাদকা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • রাতে ঘুমাতে গেলে বিশ্বনবি যেসব আমল করতেন

    রাতে ঘুমাতে গেলে বিশ্বনবি যেসব আমল করতেন

    ইসলাম ডেস্ক:

    আল্লাহ তাআলা রাতকে মানুষের বিশ্রামের জন্য নির্ধারিত করেছেন। দিনকে জীবিকা অর্জনের জন্য আর রাতের অন্ধকারকে মানুষের ঘুমের জন্য আচ্ছাদন হিসেবে তৈরি করেছেন বলে কুরআনুল কারিমের সুরা নাবায় ঘোষণা করেছেন।

    মানুষের এ ঘুম মৃত্যুর ন্যায়। ঘুমালে মানুষের জাগতিক চিন্তা চেতনা বা কোনো উপলব্ধি থাকে না। তাই ঘুমের সময় যাতে মানুষের কোনো বিশাল ক্ষতি বা পেরেশানি না হয় সেজন্য রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় বিশ্বনবি বেশকিছু আমল করতেন। যাতে ঘুম নিরাপদ ও প্রশান্তিদায়ক হয়।

    ঘুম সম্পর্কে হাদিসে একাধিক আমল করার কথা এসেছে। হাদিসের সেসব আমল তুলে ধরা হলো-
    > হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে বিছানায় (ঘুমাতে) যেতেন, তখন তার দু’হাত একত্রিত করে হাতের তালুতে ফুঁ দিতেন এবং সুরা ইখলাছ, সুরা ফালাক্ব ও সুরা নাস পড়তেন। অতঃপর (এ তিন সুরা পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে) দু’হাত দ্বারা যত দূর সম্ভব শরীর মুছে ফেলতেন। মাথা, মুখ ও শরীরের সম্মুখভাগ মুছতেন। এরূপ তিনবার করতেন।’ (বুখারি,মুসলিম, মিশকাত)

    > হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যদি কেউ ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, তাহলে শয়তান তার কাছে আসতে পারে না।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

    > হজরত আবু মাসউদ আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ রাতে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে। তার জন্য আয়াত দুটি যথেষ্ট হবে।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

    > রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুরা ‘আলিফ লাম তানযিল’ (সাজদাহ) এবং সুরা ‘তাবারাকাল্লাজি’ (মুলক) পড়ে ঘুম যেতেন।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, মিশকাত)

    > হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ বিছানায় ঘুমাতে যায়, তখন যেন সে বলে-
    بِاسْمِكَ رَبِّىْ وَضَعْتُ جَنْبِىْ وَبِكَ أَرْفَعُهُ اِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِىْ فَارْحَمْهَا وَاِنْ اَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِيْن –
    উচ্চারণ : ‘বিসমিকা রাব্বি ওয়াদাতু জাম্বি ওয়া বিকা আরফাউহু ইন আমসাকতা নাফসি ফারহামহা ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাজহা বিমা তাহফাজু বিহি ইবাদাকাস সালিহিন।’

    অর্থ : হে আমার প্রভু! তোমার নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম এবং তোমার নামেই উঠব। যদি তুমি আমার আত্মাকে রেখে (মৃত্যু) দাও তবে তার প্রতি দয়া কর। আর যদি ফেরত (জাগিয়ে) দাও, তাহলে তার প্রতি লক্ষ্য রাখ। যেমনভাবে তুমি লক্ষ্য রাখ তোমার নেক বান্দাদের দিকে।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

    > হজরত হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে শয্যাগ্রহণ করতেন তখন তিনি তাঁর হাত গালের নিচে রাখতেন। অতঃপর বলতেন-
    اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَاَحْىَ
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুত ওয়া আহইয়া।’
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে মৃত্যুবরণ করি এবং তোমার নামেই জীবিত হই।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

    বিশেষ করে ঘুম না আসলে বিশ্বনবি এ দোয়া পড়তে বলেছেন-
    হজরত সুলাইমান ইবনে বুরাইদা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ আল-মাখজুমি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অভিযোগ দায়ের করে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! দুঃশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কারণে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, যখন তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাওয় তখন বলো-
    اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَىَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَبْغِيَ عَلَىَّ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওয়া মা আজাল্লাত ওয়া রাব্বাল আরদিনা ওয়া মা আকাল্লাত ওয়া রাব্বাশ শায়াত্বিনি ওয়া মা আদাল্লাত কুন লি ঝারাম মিন শাররি খালক্বিকা কুল্লিহিম ঝামিআ। আইঁইয়াফরুত্বা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম আও আইঁইয়াবগিয়া আলাইয়্যা আয্যা ও ঝাল্লা ছানাউকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা ও লা ইলাহা ইল্লা আংতা।’ (মুসলিম, মিশকাত)

    অর্থ : “হে আল্লাহ! সাত আকাশের প্রভু এবং যার ওপর তা ছায়া বিস্তার করেছে, সাত জমিনের প্রভু এবং যা কিছু তা উত্থাপন করেছেন, আর শয়তানদের প্রতিপালক এবং এরা যাদেরকে বিপথগামী করেছে!

    তুমি আমাকে তোমার সব সৃষ্টিকুলের অনিষ্টতা থেকে রক্ষার জন্য আমার প্রতিবেশী হয়ে যাও, যাতে সেগুলোর কোনোটি আমার ওপর বাড়াবাড়ি করতে না পারে অথবা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে না পারে। সম্মানিত তোমার প্রতিবেশী, সুমহান তোমার প্রশংসা। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি ব্যতিত আর কোনো মাবুদ নেই।’

    মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত আমল ও দোয়াগুলো যথাযথভাবে মেনে চলা। রাতের যাবতীয় অনিষ্টতা থেকে হেফাজত থাকা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলগুলো নিজেদের নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিশ্বনবির যে বিস্ময়কর ঘটনায় মুনাফিকরা উপহাস করেছিল!

    বিশ্বনবির যে বিস্ময়কর ঘটনায় মুনাফিকরা উপহাস করেছিল!

    পরকালের শাস্তি সম্পর্কে ইয়াহুদি-খ্রিস্টানদের ভাবনা ছিল তারা আসমানি কিতাব পাওয়া জাতি। তাদের কাছেও আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাবের অংশ বিশেষ নাজিল হয়েছিল। কিন্তু তারা সে কিতাবের সব হুকুম আহকাম মেনে চলতো না। যার কারণে অবিশ্বাসীরা পরকালে পরিপূর্ণ কর্মফল থেকে বঞ্চিত হবে না!

    তাদের এ বিশ্বাস ছিল যে, তারা আসমানি কিতাবের অনুসারী। তাদের আজাব বা শাস্তি হবে না। যদিও তাদের আজাব বা শাস্তি হয় তবে তা হব সাময়িক। অথচ তাদের এ চিন্তা ছিল ভুল। যার জবাব আল্লাহ তাআলা আগের আয়াতগুলোতে তুলে ধরেছেন।

    আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের বিজয় সুসংবাদ দিলে মুনাফিকদের গায়ে জ্বালা বেড়ে যেতো। তারা কোনোভাবেই ইসলামের বিজয় লাভের কথা মেনে নিতে পারতো না। সে সময় বিশ্বনবি রোম, পারস্য এবং ইয়েমেন বিজয়ের সুসংবাদ দেন।

    এতে মুনাফিকরা বলতে থাকে যে, ক্ষুধার্থ ও দুর্বল মুসলিম বাহিনী কিনা লড়বে এবং বিজয় লাভ করবে সমগ্র আরবের সেরা যেদ্ধাদের সম্মিলিত বাহিনর সঙ্গে- এ বলে মুসলমানদের উপহাস করতে থাকে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে মুনাফিকদের উপহাস ও কথার জবাবে তার ক্ষমতা বর্ণনা তুলে ধরেন-

    قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاء وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاء وَتُعِزُّ مَن تَشَاء وَتُذِلُّ مَن تَشَاء بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَىَ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ – تُولِجُ اللَّيْلَ فِي الْنَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الَمَيَّتَ مِنَ الْحَيِّ وَتَرْزُقُ مَن تَشَاء بِغَيْرِ حِسَابٍ
    অনুবাদ : (হে রাসুল! আপনি) বলুন! হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল। তুমি রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করাও। আর তুমিই জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করে আন এবং মৃতকে জীবিতের ভেতর থেকে বের কর। আর তুমিই যাকে ইচ্ছা বে-হিসাব রিজিক দান কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ২৬-২৭)

    আয়াত নাজিলের কারণ
    সুরা আল-ইমরানের ২৬ ও ২৭ নং আয়াত নাজিল প্রসঙ্গে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন এক ঘটনা। যা মদিনায় হিজরতের পর নাজিল হয়।

    মদিনায় হিজরতের এক বছর পরই বদরের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এ যুদ্ধে অবিশ্বাসী মূর্তিপুজারীরা পরাজিত হয়। পরবর্তীতে মুসলিমদের উপর অবিশ্বাসীদের ওহুদের যুদ্ধের আক্রমণও ব্যর্থ হয়।
    মুসলিমদের সঙ্গে বদর ও ওহুদ যুদ্ধে সুবিধা করতে না পেরে মক্কার অবিশ্বাসী কুরাইশ ও ইয়াহুদি খ্রিস্টানরা সমগ্র আরবের পুরো ইসলাম বিরোধী শক্তিকে একত্রিত করে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে মদিনা আক্রমণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    পঞ্চম হিজরিতে এ মানসিকতায় ইসলাম বিদ্বেষীরা ঐক্যজোট গড়ে তোলে। তাদের সম্মিলিত সৈন্য বাহিনীর সংখ্যা দাড়ায় ১২ হাজার। পবিত্র কুরআনে এ যুদ্ধকে আহজাবের যুদ্ধ হিসেবে নামকরণ করা হয়। এ নামে একটি সুরাও নাজিল হয়। এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামকে চিরতরে শেষ করে দেয়া।

    সমগ্র আরবের ইসলাম বিরোধী সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে তিনি সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু চমৎকার এক পরামর্শ দেন। সে পরামর্শে মদিনার উপকণ্ঠে ইসলামের দুশমনদের আগমনের পথে পরিখা খননের সিদ্ধান্ত হয়। গভীর এবং প্রশস্ত পরিখা খনন শুরু হয়। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসহ ৩ হাজার সাহাবি এ পরিখা খনন কাজে অংশগ্রহণ করলেন।

    পরিখা খননকালে এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। পরিখা খননের সময় এক বিরাট পাথরের খণ্ড পাওয়া যায়। যা কেউ সরাতে পারছিল না। তখন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে ওই বিশাল পাথরে আঘাত শুরু করেন এবং আঘাতে আঘাতে পাথরটি খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেন। প্রতিটি আঘাতেই পাথর থেকে আগুনের ফুলকি ও আলো বের হয়। তিনি তাতে বিশেষ আশ্চর্যজনক বিষয়ের ইঙ্গিত পান।

    বিশ্বনবির দেখা সে আশ্চর্যজনক বিষয়
    প্রথম আঘাতের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, এ আগুনের ফুলকি ও আলোতে আমাকে পারস্য সম্রাজ্যের রাজ প্রাসাদ দেখানো হয়েছে।
    অতঃপর তিনি সে পাথর খণ্ডে দ্বিতীয় আঘাত করলে পুনরায় সেরূপ আগুনের ফুলকি ও আলো বের হয়। তখন তিনি ইরশাদ করেন, ‘এ আলোতে আমাকে রোজ সম্রাজ্যের লাল রংয়ের দালানগুলো দেখানো হয়েছে।
    অতঃপর বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার আঘাত করলে আগুনের ফুলকি ও আলো বের হয়। তাতে তিনি ইরশাদ করেন, আমাকে এ আলোতে এবার ইয়ামেনের রাজধানী ‘সানআ’ শহরের উঁচু উঁচু দালান কোঠা দেখানো হয়েছে।
    অতঃপর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেন-
    ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমাকে পৃথিবীর প্রাচ্য এবং প্রতীচ্যের স্থানসমূহ দেখিয়েছেন। অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মতের ক্ষমতা সে সব এলাকায় বিস্তার লাভ করবে, যা আমাকে দেখানো হয়েছে।’

    এ কথা শোনার পর ইসলামের দুশমনরা মুসলমানদের কটাক্ষ করে বলতে লাগলো যে, মদিনাতেই যাদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা, যারা আত্ম রক্ষার প্রয়োজনে দিন-রাত পরিখা খননে ব্যস্ত। যারা ক্ষুধার্ত, তারা এ অবস্থায় রোম, পারশ্য এবং ইয়ামেন বিজয়ের স্বপ্ন দেখছে; এর চেয়ে বিস্ময়কর কথা আর কি হতে পারে!

    ইসলামের দুশমনদের এ উপহাস ও টিটকারীর জবাবে আল্লাহ তাআলা আলোচ্য আয়াত নাজিল করেছেন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে আল্লাহ তাআলা ঘোষণ করেছেন-
    ‘(হে রাসুল! আপনি) জানিয়ে দিন যে, ক্ষমতার একচ্ছত্র মালিকানা একমাত্র আল্লাহর। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে এ ক্ষমতা দান করেন। আর যাকে ইচ্ছা তাকে এ ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এক আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন।
    তাই আজ যারা ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পরিখা খননে ব্যস্ত, যারা আত্মরক্ষার প্রয়োজনে সংগ্রামরত; আল্লাহর মর্জি হলে অতিসত্বর তিনি তাদেরকে পারস্য, ইয়ামেন এবং রোমের অধিপতি করতে পারেন।

    উল্লেখ্য যে, এ আয়াত নাজিলের কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বনবি ঘোষিত সেসব দেশ মুসলমানের হস্তগত হয। আর এভাবেই কুরআনুল কারিমের ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হয়। কেননা তিনিই সর্বাধিক কল্যাণের অধিকারী। তিনিই সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার কুদরত ও ক্ষমতার প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা বিশ্বাস রাখার তাওফিক দান করুন। ইসলামের সব বিষয়ের ওপর অটল ও অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • অমুসলিম প্রতিবেশী অসুস্থ হলে কী করব?

    অমুসলিম প্রতিবেশী অসুস্থ হলে কী করব?

    প্রশ্ন : আমাদের পাশের বাড়িতে এক হিন্দু পরিবার থাকে। আর্থিকভাবে তারা অসচ্ছল। কয়েক দিন আগে সেই পরিবারের বড় ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে দেখতে যাই এবং তাকে আর্থিক সহযোগিতা করি। কিন্তু আমার এক চাচাতো ভাই বলেন, আপনি একটি মুশরিক পরিবারকে সাহায্য করে অনেক বড় গুনাহ করেছেন। আপনার তওবা করা উচিত। আমি জানতে চাই, তাদের সহযোগিতা করায় আমার কি গুনাহ হয়েছে?

    উত্তর : প্রতিবেশী অমুসলিম হলেও তার সঙ্গে সদাচরণ করা, বিপদাপদে সাহায্য-সহযোগিতা করা, অসুস্থ হলে খোঁজখবর নেওয়া ও সাহায্য করা ইসলামের শিক্ষা। এটিও প্রতিবেশীর হকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘দ্বিনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের নিজেদের দেশ থেকে বের করে দেয়নি তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : মুমতাহিনা, আয়াত : ৮)

    আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, ‘এক ইহুদি বালক রাসুল (সা.)-এর খেদমত করত। একবার সে অসুস্থ হলে রাসুল (সা.) তাকে দেখতে গেলেন। অতঃপর তাকে বলেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। ফলে সে মুসলিম হয়ে গেল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৫৭)

    সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হিন্দু ছেলেটিকে দেখতে যাওয়া ও আর্থিক সহযোগিতা করা অন্যায় হয়নি; বরং প্রতিবেশীর হক আদায়ের কারণে তা প্রশংসনীয় কাজ হিসেবে গণ্য হবে। তবে মুসলমানের ওপর অমুসলিমকে প্রাধান্য দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়া নিষেধ। কোরআনে এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

    সূত্র : ফাতহুল বারি : ৩/২৬২; ১০/১২৫; উমদাতুল কারি : ২১/২১৮; আলবাহরুর রায়িক : ৮/২০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৫/৩৪৮; রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৮৮

  • খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হয় কেন

    খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হয় কেন

    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম—পবিত্র এ বাক্যটির ব্যবহার শুরু হয় হজরত সুলায়মান (আ.)-এর চিঠির মাধ্যমে। রানি বিলকিসের কাছে লেখা চিঠিতে তিনিই সর্বপ্রথম এ বাক্যটি ব্যবহার করেছেন। পবিত্র কোরআনের সুরা নামলের ২৯-৩০ নম্বর আয়াতে সে চিঠির বিবরণ উল্লেখ রয়েছে। এরপর রাসুল (সা.) ছাড়া আর কোনো নবীকেই বিসমিল্লাহর বিধান দেওয়া হয়নি। প্রাথমিক যুগে রাসুল (সা.) ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ লিখতেন। তারপর সুরা হুদের ৪১তম আয়াতে ‘বিসমিল্লাহি মাজরেহা’ নাজিল হলে তিনি শুধু ‘বিসমিল্লাহ’ লিখতে শুরু করেন। এরপর সুরা বনি ইসরাইলের ১০ নম্বর আয়াতে ‘কুলিদ্য়ুল্লাহা আওয়িদ্উর রাহমান’ অবতীর্ণ হলে তিনি ‘বিসমিল্লাহির রহমান’ লিখতে শুরু করেন। এরপর সুরা নামলের ৩০তম আয়াতে পুরো বিসমিল্লাহ নাজিল হলে তিনি পুরো ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার রীতি প্রচলন করেন। (রুহুল মাআনি ও আহকামুল কোরআন লিল জাস্সাস)।

    এটি অত্যন্ত বরকতময় একটি বাক্য, যার মাধ্যমে কোনো কাজ শুরু করলে মহান আল্লাহ তাতে বরকত ঢেলে দেন। সেই কাজকে মুক্ত রাখেন শয়তানের অনিষ্ট থেকে।

    পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল কোরআন শুরু করা হয়েছে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে। শ্রেষ্ঠতম ইবাদত নামাজের প্রত্যেক রাকাত শুরু হয় বিসমিল্লাহ দিয়ে। শ্রেষ্ঠতম স্থান মসজিদে প্রবেশ করতে হয় ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) যখনই আমার কাছে ওহি নিয়ে আসতেন, তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তেন।’ (দারা কুতনি)

    কোরআনের একটি সুরা ছাড়া সব সুরার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ রয়েছে। হাদিসের কিতাবগুলো শুরু করা হয়েছে বিসমিল্লাহ দিয়ে। রাসুল (সা.) সমকালীন সব রাজা-বাদশাহর কাছে চিঠি লিখেছেন ‘বিসমিল্লাহ’ দিয়ে শুরু করে। এরপর হুদাইবিয়ার ঐতিহাসিক সন্ধিপত্রে রাসুল (সা.) পুরো ‘বিসমিল্লাহ’ লিখতে বলেছেন। অবশ্য লেখার পর কাফিরদের আপত্তির কারণে শুধু ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ রাখা হয়। (আহকামুল কোরআন লিল জাস্সাস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮)

    এমনকি আহার গ্রহণের সময়ও তা গ্রহণ করতে হয়, ‘বিসমিল্লাহ’র মাধ্যমে। হজরত আবু নুআইম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একদা কিছু খাবার আনা হলো, তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর পোষ্য ওমর ইবনে আবু সালামা। তিনি বলেন, ‘বিসমিল্লাহ’ বলো এবং নিজের কাছের দিক থেকে খাও।” (বুখারি, হাদিস : ৫৩৭৮)

    খাবার গ্রহণের সময় বিসমিল্লাহ না পড়া হলে, সেই খাবারে শয়তান অংশগ্রহণ করে, ফলে সেই খাবার থেকে বরকত উঠে যায়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছয়জন সাহাবিসহ আহার করছিলেন। এমন সময় এক বেদুইন এসে সব খাবার দুই গ্রাসে শেষ করে ফেলল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে যদি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আহার করত, তাহলে এই খাদ্য তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হতো। অতএব, তোমাদের কেউ আহার গ্রহণকালে যেন ‘বিসমিল্লাহ’ বলে। সে যদি আহার গ্রহণের প্রারম্ভে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে ভুলে যায় তবে যেন বলে, ‘বিসমিল্লাহি ফি আওয়ালিহি ওয়া আখিরিহি।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩২৬৪)

    যেহেতু খাবারের সময় বিসমিল্লাহ না পড়লে খাবারের বরকত উঠে যায়, সেহেতু ওই সময় মানুষ মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে ফেলে, ফলে তার দুই ধরনের ক্ষতি হতে পারে। প্রথমত, শয়তান নাপাক। সে যখন কোনো ব্যক্তির খাবারে এসে অংশগ্রহণ করবে, তখন তার প্রভাবে মানুষের আত্মা প্রভাবিত হবে। সে ইবাদতে মজা পাবে না। তার আত্মায় আস্তে আস্তে অন্ধকার নেমে আসবে। দ্বিতীয়ত, মাত্রাতিরিক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এর ফলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তা ছাড়া খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ ত্যাগ করলে আল্লাহ প্রদত্ত রিজিকের অকৃতজ্ঞতা হয়। যা মানুষের রিজিক কমিয়ে দিতে পারে।

    উল্লেখ্য, মানুষের রিজিক অনেকভাবেই কমতে পারে। যেমন—অভাব-অনটনের মাধ্যমে, অসুস্থতার মাধ্যমে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আজাব বড় কঠিন’। (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

    তাই আমাদের উচিত খাবারসহ সব উত্তম কাজ করার সময়ই বিসমিল্লাহ পড়া। কোনো কারণে খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে ভুলে গেলে অবশ্যই ‘বিসমিল্লাহি ফি আওয়ালিহি ওয়া আখিরিহি’ পড়ে নিতে হবে।

  • যে সাক্ষাৎ শেষে বিদায় হওয়ার আগেই ক্ষমা পায় মুমিন

    যে সাক্ষাৎ শেষে বিদায় হওয়ার আগেই ক্ষমা পায় মুমিন

    পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় ইসলামে ইবাদত ও সাওয়াবের কাজ। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কাজের অনেক বড় সাওয়াব ঘোষণা করেছেন। হাদিসে এসেছে-
    হজরত বারাআ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সা্লাম বলেছেন, দুই জন মুসলিম পরস্পর মিলিত হয়ে মুসাফাহা করলে (তারা) পরস্পর বিচ্ছিন্ন (বিদায়) হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ (আবু দাউদ)

    মানুষ সামাজিক জীবন। আর সমাজ জীবনে চলতে গেলে নানা কারণে একে অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে হয়। তাই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখা-সাক্ষাতের ক্ষেত্রে পরস্পরকে মুসাহাফা করার নসিহত পেশ করেছেন। ঘোষণা করেছেন মুসাফাহার ফজিলত।

    কোনো মুসলিম অপর কোনো মুসলিমের সঙ্গে দেখা হলে যদি হাসি মুখে কথা বলে, তাতেই তার জন্য রয়েছে সাদকার সাওয়াব। তাই সামাজিক জীবনে মিলেমিশে থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে একে অপরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতে ইসলামের সৌন্দর্য ও আদর্শগুলো বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। আর তাহলো-

    > দেখা-সাক্ষাতে সালাম বিনিময়
    সালাম বিনিময়ে মানুষের অন্তরে ভালোবাসা সৃষ্টি করে। প্রিয় নবি বলেন-
    ‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর ঈমানদার হতে পারবে না পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি না হলে। আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয়ের কথা বলব, যা করলে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও।’ (মুসলিম)

    > মোসাফাহা করা বা হাত মেলানো
    সালাম বিনিময়ের পর পরস্পর মোসাহাফা করা। কেননা মোসাহাফা করে বিদায় নেয়ার আগে তাদের উভয়কে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। হাদিসে এসেছে-
    হজরত বারাআ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সা্লাম বলেছেন, দুই জন মুসলিম পরস্পর মিলিত হয়ে মুসাফাহা করলে (তারা) পরস্পর বিচ্ছিন্ন (বিদায়) হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ (আবু দাউদ)

    > একে অপরকে অভিনন্দন জানানো
    পরস্পর সাক্ষাতে এক মুসলিম অপর মুসলিমকে অভিনন্দন জানাবে। একে অপরকে সম্মান করা। হাদিসে এসেছে-
    হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘মদিনার বনু কুরাইজার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে পাঠান। হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি গাধায় চড়ে আসেন।
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (উপস্থিত লোকদের উদ্দেশ্যে) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের নেতা সাদের দিকে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাও।’ (মুসলিম)> হাসিমুখে মিলিত হওয়া
    পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় হাসি মুখে মিলিত হওয়া। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাম হাসি মুখে সাক্ষাতকে সাওয়াবের কাজ বলেছেন। হাদিসে এসেছে-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কোনো ভালো কাজকে ছোট মনে করবে না, যদিও তা অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাতের ব্যাপারেই হোক না কেন।’ (মুসলিম)

    > দৃষ্টি সংযত করা
    মাহরাম ছাড়া কোনো নারী-পুরুষ পরস্পরের দিকে তাকাবে না। তাদের দৃষ্টির হেফাজত করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ‘মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩০)

    এমনকি মাহরাম ছাড়া অন্য কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান না করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    ‘তোমাদের কেউ যেন কোনো (বেগানা) নারীর সঙ্গে নির্জনে না বসে। কেননা শয়তান তাদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে যায়। (সে তাদের কুমন্ত্রণা দেয়)।’ (তিরমিজি)

    > সাক্ষাতে মাথা নত না করা
    কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হলেই তার সম্মানে মাথা নত করা কিংবা সেজদা করা যাবে না। হাদিসে এসেছে-
    ‘এক ব্যক্তি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ যখন ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে, তখন কি মস্তক (মাথা) অবনত করবে? প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘না’, (নত বা সেজদা করা যাবে না) কিন্তু মোসাহাফা করবে।’ (ইবনে মাজাহ)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দেখা-সাক্ষাতে মোসাহাফা করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত মোসাহাফার ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বরিশালে ১২ পূজা মন্ডপকে বিশেষ শারদ সম্মাননা প্রদান

    বরিশালে ১২ পূজা মন্ডপকে বিশেষ শারদ সম্মাননা প্রদান

    স্টাফ রিপোর্টার//স্বর্না বিস্বাস:

    পূজোর ভ্যানের আয়োজনে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ৮ম শারদ সম্মাননা ও শারদীয় মিলন উৎসব। বিকাল ৫ টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান ও বরিশাল পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

    অশ্বিনী কুমার হল থেকে ক্যামেরায় স্বর্না বিস্বাস

     

     

    পূজোর ভ্যান ও শারদীয় মিলন মেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ভানু লালদে’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব ঘোষ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এই আয়োজনের প্রধান উদ্যেক্তা অপূর্ব অপু।

    এরপরেই অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মানবেন্দ্র বটব্যাল, এসএম ইকবাল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানিক মুখার্জী কুডু, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মৃনাল কান্তি সাহা, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র দে নারু ও সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিৎ দত্ত লিটু।

    অশ্বিনী কুমার হল থেকে ক্যামেরায় স্বর্না বিস্বাস

     

     

    এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গীতিনৃত্যনাট্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ প্রদর্শন করা হয়। ৮ম বারের এই আয়োজনে বরিশাল মহানগরের ১২ পূজা মন্ডপকে বিশেষ শারদ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আলোকসজ্জার জন্য বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়, শ্রীশ্রী শংকর মঠ পূজা মন্ডপ, পাষানময়ী কালিমাতার মন্দির এবং ভাটিখানা পূজা মন্ডপকে, সাবেকী প্রতীমায় বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয় রামকৃষ্ণ মিশন, সাগরদী ঠাকুর বাড়ি ও সোনাঠাকুর প্রতিষ্ঠিত কালিবাড়ি (বড় কালিবাড়ি) পূজা মন্ডপকে, নান্দনিক প্রতীমায় বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয় ভাটিখানা পূজা মন্ডপ, কাটপট্রি নিয়োগী প্রাঙ্গন এবং ফলপট্রি পূজা মন্ডপকে, সাজসজ্জ্বায় বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয় পাষানময়ী কালিমাতার মন্দির, সদর রোড জগন্নাথ মন্দির এবং রাধা গোবিন্দ নিবাস পূজা মন্ডপকে। এছাড়াও মহানগরের সকল পূজা মন্ডপকেই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

  • কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে যে ৭টি কাজ করতে বলে ইসলাম

    কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে যে ৭টি কাজ করতে বলে ইসলাম

    ইসলাম ডেস্ক:

    মহানবী (সাঃ) বলেন, যে দুজন মুসলিম পরস্পর মিলিত হয়, তারপর তারা মোসাফাহা করে, তারা (সেই স্থান থেকে) পৃথক হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয় (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২১২)

    ইসলাম জীবনের সব ক্ষেত্রের উৎকৃষ্ট জীবনপ্রণালী। আত্মকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে এখানে সামাজিকতার মূল্য অনেক বেশি। ইসলামের যে বিধান রয়েছে, সেগুলোতে মানবতার কল্যাণই মুখ্য। ইসলামের বেশির ভাগ বিধি-বিধানে সাম্য ও সামাজিকতার চিত্র ফুটে ওঠে। সবাইকে সমাজবান্ধব হওয়ার জন্য ইসলাম কিছু দিকনির্দেশনাও দিয়ে দিয়েছে। সমাজে থাকতে হলে অন্যের সঙ্গে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে দেখা করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান হলো—

    ১. প্রথমে সালাম দেবে। সালাম পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও হৃদ্যতা সৃষ্টি করে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর ঈমানদার হতে পারবে না পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি না হলে। আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয়ের কথা বলব, যা করলে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৫৪)

    ২. পরস্পর সালাম বিনিময়ের পর মোসাফাহা (হাত মেলানো) করবে। মহানবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, ‘যে দুজন মুসলিম পরস্পর মিলিত হয়, এরপর তারা মোসাফাহা করে, তারা (সেই স্থান থেকে) পৃথক হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২১২; তিরমিজি, হাদিস : ২৭২৭)

    ৩. বেগানা ও পরনারী-পরপুরুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে…।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৩০)

    ৪. বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে বসবে না। মহানবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন কোনো (বেগানা) নারীর সঙ্গে নির্জনে না বসে। কেননা শয়তান তাদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে যায়। (সে তাদের কুমন্ত্রণা দেয়)।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২১৬৫)

    ৫. আগত ব্যক্তিকে অভিবাদন জানানো। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, মদিনার বনু কুরাইজার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ (রাঃ)-কে ডেকে পাঠান। সাদ (রাঃ) একটি গাধায় চড়ে আসেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের নেতা সাদের দিকে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাও।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭৬৮)

    ৬. আগত ব্যক্তির জন্য মাথা নত করা বা সিজদাবনত হওয়া যাবে না। এক ব্যক্তি মহানবী (সাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করে, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ যখন তার ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তখন কি মস্তক অবনত করবে? মহানবী (সাঃ) বললেন, ‘না, কিন্তু মোসাফাহা করবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৭০২)

    ৭. হাসিমুখে অন্যের সঙ্গে মিলিত হওয়া। মহানবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কোনো ভালো কাজকে ছোট মনে করবে না, যদিও তা অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাতের ব্যাপারেই হোক না কেন।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ২৬২৬)

    অন্য হাদিসে এসেছে, ‘অন্যের জন্য তোমার মুখের হাসি সদকাস্বরূপ। তোমার সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সদকাস্বরূপ। পথহারাকে পথ দেখিয়ে দেওয়া তোমার জন্য সদকাস্বরূপ। দৃষ্টিহীনকে পথ দেখানো তোমার জন্য সদকাস্বরূপ। রাস্তা থেকে পাথর, কাঁটা ও হাড্ডি সরিয়ে দেওয়া তোমার জন্য সদকাস্বরূপ। তোমার বালতি থেকে অন্যের বালতি ভরে দেওয়া তোমার জন্য সদকাস্বরূপ।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৫৬)

    মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • কথা বলার ক্ষেত্রে সংযত হবেন যে কারণে

    কথা বলার ক্ষেত্রে সংযত হবেন যে কারণে

    ইসলাম ডেস্ক:

    প্রকৃত মুসলিম হওয়ার জন্য বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দু’টি শর্ত আরোপ করেছেন তার মধ্যে একটি হলো- ‘যার যবান বা জিহ্বা থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।’ অর্থাৎ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যবানের হেফাজত করার কথা বলেছেন।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য হাদিসে বর্ণনা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি জবানের হেফাজত করবে, তাকে আজাব বা শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়া হবে।’

    ক্ষমতাশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নিরীহ মানুষ পর্যন্ত যারাই নিজেদের জবানকে হেফাজত করতে সক্ষম হয়েছেন, তারাই দুনিয়াতে শান্তি ও সম্মান লাভ করেছেন। আর পরকালের শান্তি ও নিরাপত্তাতো রয়েছে।

    এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকের অনেক স্থানেই সুন্দর ও সংযতভাবে পরস্পর ভাব বিনিময়ের কথা বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    > ‘আর তোমরা মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলো।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৮৩)
    > ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।’ (সুরা আহযাব : আয়াত ৭০)

    আবার অনর্থক কাজের কথা ছাড়া শুধু শুধু কথা বলার চেয়ে চুপ থাকা অনেক নিরাপদ। যা উঠে এসেছে বিশ্ববিখ্যাত ৪ সম্রাটের উক্তি থেকে। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ যুগে অতুলনীয় ছিলেন। তাদের উক্তি হলো-

    > পারস্যের সম্রাট কেসরা বলেন-
    ‘আমি কথা না বলার কারণে কখনও লজ্জিত (অপমানিত) হইনি। বরং অধিকাংশ সময় কথা বলার কারণেই লজ্জিত হয়েছি।’
    > চীন সম্রাট বলেন-
    ‘যতক্ষণ আমি কথা বলিনি ততক্ষণ আমি ইহার মালিক। আর যখনই বলে ফেলছি, তখনই ইহার মালিক তুমি।’
    > রোম সম্রাট কায়সার-
    ‘যে কথা আমি বলেছি তা অপেক্ষা যে কথা আমি বলিনি তা পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে আমি অধিক সক্ষম।’
    > ভারত সম্রাট-
    ‘যে ব্যক্তি চিন্তা-ভাবনা না করে তাড়াতাড়ি কথা বলে তার জন্য আশ্চর্য হতে হয়। কেননা যদি সে কথা প্রচারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ক্ষতি হবে। আর যদি ছড়িয়ে না পড়ে তবে ইহাতে ফায়দা কি?’

    সুতরাং অযথা বেশি কথা না বলে চুপ থাকাই শ্রেয়। যে যতবেশি কম কথা বলবে সে ততবেশি নিরাপদ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্দর ও উত্তম কথা বলার তাওফিক দান করুন। অযথা কথা বলা থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বান্দার জন্য আল্লাহর যে জিকির করা বাধ্যতামূলক

    বান্দার জন্য আল্লাহর যে জিকির করা বাধ্যতামূলক

    জিকির অনেক ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার আমার জিকির (স্মরণ) কর, আমি তোমাদের জিকির (স্মরণ) করব।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫২ )

    এ আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় এসেছে, ‘জিকির বলতে সব ইবাদত ও আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহর কথা মেনে নেয়াই বান্দার পক্ষ থেকে তা জিকির হিসেবে সাব্যস্ত। আর জিকিরের প্রতিদানে বান্দাকে করুণা, শান্তি, বরকত ও পুরস্কার প্রদানই হচ্ছে আল্লাহর জিকির বা স্মরণ।

    ইমাম তাবারি জিকিরের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে সব আদেশ দিয়েছি তা মেনে চল এবং যা নিষেধ করেছি তা থেকে বিরত থাক। তোমরা আমার আনুগত্যের মাধ্যমে জিকির করলে রহমত, দয়া ও ক্ষমা প্রদানের মাধ্যমে আমি তোমাদের জিকির করব।’

    তাবেয়ি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে রবিয়া জিকির সম্পর্কে হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আল্লাহর জিকির, তাঁর তাসবিহ-তাহলিল, প্রশংসা জ্ঞাপন করা, কুরআন তেলাওয়াত করা, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তাঁর কথা স্মরণে তা থেকে বিরত থাকা- এ সবই কি আল্লাহর জিকির?
    হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘নামাজ, রোজা ইত্যাদি সবই আল্লাহর জিকির।’

    প্রখ্যাত নারী সাহাবি হজরত উম্মে দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিকির সম্পর্কে বলেন-
    ‘তুমি যদি নামাজ আদায় কর তাও আল্লাহর জিকির, তুমি যদি রোজা পালন কর তাও আল্লাহ জিকির, তুমি যা কিছু ভালো কাজ কর তাও আল্লাহর জিকির। যত মন্দ কাজ পরিহার করবে সবই আল্লাহর জিকিরের অন্তর্ভূক্ত। তবে সবচেয়ে উত্তম জিকির- আল্লাহর তাসবিহ ‘সুবহানাল্লাহ’ (سُبْحَانَ الله) বলা।

    এখানে উল্লেখিত তাসবিহ সেসব বান্দার জন্য উত্তম, যারা মহান আল্লাহর বিধানগুলো যথাযথ পালন করে। আল্লাহর আদেশগুলো যেমন পালন করে তেমনি আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখে।

    সর্বোপরি কথা হলো- আল্লাহর ভালোবাসায় তার আদেশ-নিষেধ পালনের সব কাজই জিকির। সে কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা করেন-
    ‘(আল্লাহর ঘরে আল্লাহর জিকিরকারী মানুষকে) কোনো ব্যবসা বা কেনাবেচা আল্লাহর জিকির থেকে অমনোযোগি করতে পারে না।’

    আয়াতের ব্যাখ্যায় তাবেয়ি হজরত কাতাদাহ বলেন, ‘এ সব জিকিরকারী ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত থাকতেন। যখনই আল্লাহ প্রদত্ত কোনো বিষয়, বিধান বা দায়িত্ব সামনে আসতো, তখনি তা আদায় করতেন। সে সময় তাদের কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য আল্লাহর বিধান পালনে তথা তার জিকির থেকে বিরত রাখতে পারতো না।’

    সুতরাং দুনিয়ার সবচেয়ে সেরা জিকির হলো, কুরআনে ঘোষিত মহান আল্লাহর বিধি-নিষেধগুলো পালন করা। আল্লাহর নির্দেশ পালনের চেয়ে বড় কোনো জিকির নেই।

    জিকির নিয়ে বিভ্রান্তি নয়, জিকির হলো আল্লাহর স্মরণ। এ বিষয়টি বুঝাতে তাবেয়িগণ বলেছেন, ‘মুখে সব সময় আল্লাহর জিকিরের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক বেশি। তাসবিহ-তাহলিল-কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদিকে তাঁরা মুখের জিকির হিসেবে পালন করতেন। তবে এগুলো নফল জিকির। তারা বলেন-
    ‘যদি কেউ কর্মে আল্লাহর বিধান মেনে না চলে তবে তাদের মুখের তাসবিহ-তাহলিল ও কুরআন তেলাওয়াতের কোনো মূল্য নেই।’

    তাবেয়ি হজরত সাঈদ ইবনে জুবাইর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
    ‘আল্লাহর আনুগত্যই তার জিকির। যে তাঁর আনুগত্য করল, সে জিকির করল। আর যে আল্লাহর হুকুমের আনুগত্য করল না বা তাঁর বিধি নিষেধ পালন করল না, সে যত বেশিই তাসবিহ পাঠ করুক আর কুরআন তেলাওয়াত করুক; সে আল্লাহর জিকিরকারী হিসেবে গণ্য হবে না।’

    এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে-
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করল সেই আল্লাহর জিকির করল, যদিও তার নামাজ, রোজা ও কুরআন তেলাওয়াত কম হয়। আর যে আল্লাহর (বিধান না মেনে) অবাধ্যতা করল সেই আল্লাহকে ভুলে গেল, যদিও তার নামাজ, রোজা ও কুরআন তেলাওয়াত বেশি হয়।’

    সর্বোপরি জিকির অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কেননা জিকিরের মধ্যে নিহিত আছে আল্লাহর বিধান পালনের নির্দেশ। আল্লাহ তার বিধান পালনকারী বান্দাদেরকে উদ্দেশ্য করেই বলেছেন-
    ‘তোমরা আমার জিকির কর বা আমার নির্দেশ মেনে চল। আমি তোমাদের জিকির করব অর্থাৎ তোমাদের যাবতীয় বিষয়গুলো আমি আমার জিম্মাদারিতে সম্পন্ন করব।’

    সুতরাং জিকিরের মূল হাকিততই হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য করা। তার আদেশগুলো পালন করা এবং নিষেধগুলো থেকে বিরত থাকা।

    সতর্ক থাকতে হবে
    যেহেতু জিকিরের মূল হচ্ছে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়া। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান পালন না করে অবাধ্যতায় লিপ্ত থেকে বা পাপ করার সঙ্গে সঙ্গে মুখে আল্লাহর জিকির করে, সে মূলত আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকলো এবং আল্লাহর বিধানকে তামাশায় পরিণত করল। এমনটি কোনোভাবেই করা যাবে না।

    সুতরাং মুখে মুখে তাসবিহ পালনের জিকির নয় বরং আল্লাহর হুকুম পালনের মাধ্যমে তার আনুগত্য করা জরুরি। আল্লাহর বিধান পালন সাপেক্ষে তাসবিহ-তাহলিল ও কুরআন তেলাওয়াত হবে আল্লাহর অতিরিক্ত জিকির। যার ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক বেশি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার আদেশ-নিষেধ পালনের মাধ্যমে প্রকৃত জিকির করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহর বিধানগুলো যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।