Category: নারী ও শিশু

  • বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বাণী

    বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বাণী

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আগামী ১৭ মার্চ। এ দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবারের তুলনায় এ দিনটিতে এবার ভিন্নমাত্রা যুক্ত হয়েছে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর দিন থেকে গণনা শুরু হচ্ছে ‘মুজিববর্ষ’। আর এ উপলক্ষে দেশের শিশুদের প্রতি বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শিশুদের প্রতি দেয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিও। তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম ও ভাইবোনদের স্নেহ পৌঁছে দিও। পাড়া-প্রতিবেশীদের প্রতি শুভেচ্ছা রইলো। আজ ১৭ মার্চ। ১৯২০ সালের এদিনে বাংলার মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন এক মহাপুরুষ। তিনি আমার পিতা, শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ নামের এই দেশটি তিনি উপহার দিয়েছেন। দিয়েছেন বাঙালিকে একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সুযোগ। তাইতো তিনি আমাদের জাতির পিতা। দুঃখী মানুষদের ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে নিজের জীবনের সব সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে তিনি সংগ্রাম করেছেন। বারবার কারাবরণ করেছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে ব্যথিত করতো। অধিকারহারা দুঃখী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি দ্বিধা করেননি। এই বঙ্গভূমির বঙ্গ-সন্তানদের একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলেন- তাই তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’।

    ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশ এই জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছে। সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

    ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিয়েছে জাতির পিতাকে। তাঁর নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওরা পারেনি। ঘাতকেরা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে-বেয়ে ছড়িয়ে গেছে সারা বাংলাদেশে। জন্ম দিয়েছে কোটি কোটি মুজিবের। তাই আজ জেগে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষ সত্যের সন্ধানে। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনে নিয়েছে তাঁরই ত্যাগের মহিমায়।

    জাতির পিতার কাছে আমাদের অঙ্গীকার, তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়বোই। আর সেদিন বেশি দূরে নয়। পিতা ঘুমিয়ে আছেন টুঙ্গিপাড়ার সবুজ ছায়াঘেরা মাটিতে পিতামাতার কোলের কাছে। তিনি শান্তিতে ঘুমান। তাঁর বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা জেগে রইবো তাঁর আদর্শ বুকে নিয়ে। জেগে থাকবে মানুষ- প্রজন্মের পর প্রজন্ম- তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে। জাতির পিতার দেয়া পতাকা সমুন্নত থাকবে চিরদিন। তোমরা মন দিয়ে পড়ালেখা করবে, মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবে। জয় বাংলার জয়, জয় মুজিবের জয়, জয় বঙ্গবন্ধুর জয়।’

  • উইলস লিটলের শিক্ষা সফরের বাস দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার হাত বিচ্ছিন্ন

    উইলস লিটলের শিক্ষা সফরের বাস দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার হাত বিচ্ছিন্ন

    গোপালগঞ্জে ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষা সফরের বাস দুর্ঘটনায় এক শিক্ষিকার বাম হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার পাথালিয়া নামক স্থানে শিক্ষা সফরের বাসটি সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া শিক্ষিকার নাম সৈয়দা ফাহিমা বেগম (৫০)। ওই শিক্ষিকাসহ ১০ শিক্ষার্থীকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আহত শিক্ষার্থীরা জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে টুঙ্গিপাড়ায় শিক্ষা সফর ও বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়। সকালে ছয়টি মিনিবাস ও মাইক্রোতে ১২৫ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্কুলের কর্মকর্তা-কর্মচারী কাকরাইল থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাদের বাসে শিক্ষিকা ফাহিমাসহ ৩১ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের বাসটি পাথালিয়া পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিক্ষিকা ফাহিমার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া শিক্ষার্থী আব্দুল রহমান, আবু নাফিম চৌধুরী, শয়নসহ ১৫ জন আহত হন বলে তিনি জানান।

    গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, শিক্ষা সফরের বাস সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনের দিক থেকে ধাক্কা দিলে শিক্ষিকাসহ ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন।

    গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক জানান, ওই শিক্ষিকাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হেলিকপ্টারে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত ৯ শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি রয়েছে।

  • ঝালকাঠিতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    ঝালকাঠিতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    ঝালকাঠির নলছিটিতে ডোবার পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষক সিহাব চৌধুরীর শিশু ছেলে মো. আরশের (৩) মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে পরিবারের সবার অগোচরে গোডাউন সড়কের নিজ বাসার পেছনের ডোবার পানিতে পরে তার মৃত্যু হয়।

    পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে গিয়ে ডোবা থেকে উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুপুত্র হারিয়ে আহাজারি করছে মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।

  • বরিশালে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করল ছাত্রলীগ নেতা!

    বরিশালে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করল ছাত্রলীগ নেতা!

    বরিশালে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জনৈক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। বরিশাল সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীকে গত রোববার শহরের নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় দুই সন্তানের জনক জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বনি আমিন। ওইদিন রাতভর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের একটি আবাসিক হোটেলে কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে সে। পরে সোমবার রাতে ঝালকাঠি জেলা শহরের এক আত্মীয়র বাড়িতে তাকে পৌঁছে দিয়ে পালিয়ে যায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইস্যু ক্লার্ক বনি আমিন। রাতে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে বরিশালে নিয়ে আসে। তবে ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগ নেতা আত্মগোপন করায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে- রোববার ক্লাস শেষে বাড়ি উজিরপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়ে শহরের নথুল্লাবাদ পৌছানোর পরে কিশোরীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ নেতা বনি আমিন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের একটি আবসিক হোটেলে নিয়ে রেখে রাতভর ধর্ষণ করে। ঘটনার দিন রাতে কিশোরীর মা খাদিজা বেগম বরিশাল বিমানবন্দর থানায় একটি অপহরণ অভিযোগ দেন। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে নামার খবরটি প্রকাশ পেলে বনি আমিন ঝালকাঠি জেলা শহরের বাসিন্দা কলেজছাত্রীকে তার আত্মীয়র বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

    একটি সূত্র জানায়- শহরের গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে বনি আমিনের ভাতিজির সাথে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো কিশোরী। এই সুবাদে তাদের বাসায় যাওয়া আসায় পরিচিত হওয়ার একপর্যায়ে বনি আমিনকে চাচা বলে সম্বর্ধন করতো কলেজছাত্রী।

    কিশোরীর পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়- কিশোরী ক্লাস শেষে উজিরপুরে যাবে এমন ধারণা অনুমানে নিয়ে রোববার একটি প্রাইভেটকার নিয়ে নথুল্লাবাদে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ নেতা। এবং তাকে সেলফোনে কল করে। কিছুক্ষণ পরে কলেজছাত্রী সেখানে পৌছালে বনি আমিন তাকে গাড়িতে ওঠার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এতে সে রাজি না হলে একপর্যায়ে জোরপূর্বক তোলা হয় এবং গাড়িটি দ্রুত চালিয়ে ত্যাগ করে। ওইদিন রাতে কিশোরীকে কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে রেখে ধর্ষণ করে এবং পরদিন অর্থাৎ সোমবার রাতে তাকে ঝালকাঠিতে পৌঁছে দেয়।

    এই ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ বিন আলম বরিশালটাইমসকে জানান, কিশোরীকে উদ্ধারে করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।’

    এদিকে এ ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ। সংগঠনটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন- কোন ব্যক্তি বিশেষের দায় বাংলদেশ ছাত্রলীগ বহন করবে না। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ জানিয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হবে।

  • গ্র্যাজুয়েট মায়ের ছবি তুলছে ছেলে, ফেসবুকে প্রশংসিত

    গ্র্যাজুয়েট মায়ের ছবি তুলছে ছেলে, ফেসবুকে প্রশংসিত

    ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে একটি ছবি। ছবিটি বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

    ছবিতে দেখা গেছে, লাল শাড়ি পরে সমাবর্তন বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে পোজ দিচ্ছেন এক গ্র্যাজুয়েট। তার মাথায় সমাবর্তন টুপি ও গায়ে গাউন। আর মাথায় টুপি ও শীতের পোশাক পরিহিত এক শিশু মোবাইলের ক্যামেরায় ওই গ্র্যাজুয়েটের ছবি তুলছে।

    শনিবার বিকেল চারটায় একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করেন আব্দুল করিম বিন আব্বাস নামের এক নেটিজেন।

    লাভ ইমোজি সংযুক্ত করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘গ্র্যাজুয়েট মায়ের ছবি তুলছে তার ছেলে! জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়!’

    ছবিটি পোস্টের দুই ঘণ্টার ব্যবধানে লাইক জমা পড়ে ৭৫ হাজার। ২১৫ বারের বেশি শেয়ার হয়। আর মন্তব্যের ঘরে প্রশংসায় ছবিটিকে ভাসিয়ে দেন নেটিজেনরা।

    ছবিটির ওই নারী ও শিশুর মধ্যে মা-ছেলে সম্পর্ক বলে জানানো হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

    ওই গ্র্যাজুয়েট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের ও কত সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন তা রহস্যই থেকে গেল।

    তবে এতে ছবির প্রশংসায় কোনো ভাটা পড়েনি। এক মায়ের উচ্ছ্বাসকে তার ছেলের হাতে ক্যামেরাবন্দি হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ নাড়া দিয়েছে।

    ছবিটিকে ২০২০ সালের সেরা ছবি হিসেবে ভূষিত করেছেন কেউ কেউ।

    অনেকেই নিজের ছেলের সঙ্গে এমন ছবি তুলবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

    একজন লিখেছেন, সংসারের দায়িত্ব পালন ও সন্তান লালন করেও এই নারী দেশের সনামধন্য বিদ্যাপীঠ থেকে গ্র্যাজুযেড করেছেন।নারীরা এ ছবি নিয়ে গর্ব করতেই পারেন।

    প্রসঙ্গত ১৪ বছর পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবর্তনে ১৯ হাজার গ্র্যাজুয়েটকে সনদ দেয়া হয়। এক যুগেরও পর অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনের পর নিজেদের টুপি ও গাউন পরা ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন জবিয়ানরা।

  • বরিশালে ডাস্টবিন থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

    বরিশালে ডাস্টবিন থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

    বরিশালে ডাস্টবিন থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার (৫ জানুয়ারি)  দুপুরে নগরের বান্দরোড এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সিকিউরিটি গার্ড মো. সুজন জানান, সকালে নৌ কারখানার মূল গেট সংলগ্ন ডাস্টবিনে একটি বাজারের ব্যাগ দেখা যায়। কিন্তু কেউ সাহস করে ব্যাগটি খুলেনি। বিষয়টি সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যাগের ভেতরে থাকা নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।

    বরিশাল মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সবুজ বরিশালটাইমসকে জানান, কে বা কারা নবজাতকের মরদেহ ফেলে রেখে গেছে, তা জানা যায়নি।

    মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এএসআই সবুজ।

  • অটোরিকশা গ্যারেজ বিস্ফোরণে আহত লিমন আর নেই

    অটোরিকশা গ্যারেজ বিস্ফোরণে আহত লিমন আর নেই

    তানজিম হোসাইন রাকিব:

    ঝালকাঠির নলছিটির কান্ডপাশা এলাকায় একটি গ্যারেজে মঙ্গলবার রাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয় লিমন জোমাদ্দার (১৭) নামের এক যুবক। পরে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকালে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। গতকাল (শুক্রবার) রাত ৯ ঘটিকার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে লিমন। আজ (শনিবার) সকাল ১০ ঘটিকায় লিমন এর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়।

    ঝালকাঠির নলছিটির কান্ডপাশা এলাকায় একটি গ্যারেজে মঙ্গলবার রাতে বিস্ফোরণে পুড়ে গেছে ২০টি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল। গ্যারজে ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হয়েছে লিমন জোমাদ্দার (১৭) নামে এক যুবক। সে ওই গ্যারেজের পাহারাদার।

    ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানায়, কান্ডপাশা এলাকায় স্থানীয় মাসুদ খানের একটি গ্যারেজে ২০টি অটোরিকশা চার্জে রাখা ছিল। রাত ১১টার দিকে অতিরিক্ত চার্জের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে নলছিটি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে পুড়ে যায় গ্যারেজের ভেতরে থাকা অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল। এ সময় গ্যারেজের পাহারাদার লিমন জোমাদ্দার অগ্নিদগ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকালে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।গতকাল (শুক্রবার) রাত ৯ ঘটিকার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে লিমন। লিমন কান্ডপাশা গ্রামের কামাল জোমাদ্দারের ছেলে।

    নলছিটি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফা জানান, আগুনে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। গ্যারেজটিতে অটোরিকশার ব্যাটারি, গ্যাস সিলিন্ডার ও এসিড ছিল। অতিরিক্ত চার্জের কারণে বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

  • বরিশালে ট্রিপল ম্যাডারের প্রবাসীর স্ত্রী জড়িত, প্রমান পেয়েছে পুলিশ

    বরিশালে ট্রিপল ম্যাডারের প্রবাসীর স্ত্রী জড়িত, প্রমান পেয়েছে পুলিশ

    বরিশালের বানারীপাড়ায় কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগম ও বোন জামাই শফিকুল আলমসহ তিন খুনের ঘটনায় স্ত্রী মিসকাত জাহান মিশুর জড়িত থাকার প্রমান পেয়েছে পুলিশ।

    তিন দিনের রিমান্ড মিশুকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে নাম গোপন রাখার শর্তে থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ৬ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বাড়িতে বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগম, বোন জামাই শফিকুল আলম ও খালাতো ভাই ভ্যান চালক ইউসুফকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ঘাতক জাকিরের সঙ্গে পরোকীয়া ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকার শিকারোক্তি অনুযায়ী এক দিন পর প্রবাসীর স্ত্রী মিসকাত জাহান মিশুকে গ্রেফতার করা হয়।

    প্রথম থেকেই নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে আসার পাশাপাশি ঘাতক জাকিরের সঙ্গে তার পরোকীয়ার সম্পর্কের কথাও অস্বীকার করে আসছিলেন।

    তবে প্রাবাসীর স্ত্রী মিশুর মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সিডিআর সংগ্রহ করে তার কল লিস্টে ঘাতক জাকিরের সঙ্গে অসংখ্য বার কথা বলার প্রমানসহ প্রবাসীর বাড়িতে তিন খুনের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় বলেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

    এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিশির কুমার পাল বলেন, প্রবাসীর বাড়িতে তিন খুনের ঘটনায় জড়িত থাকা তিন জনকেই আমরা গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছি।

    প্রাবাসীর স্ত্রী মিশুর সঙ্গে জাকিরের সম্পর্ক থাকার বিষয়ে মোবাইল ফোনের কল লিস্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখছি। এছাড়াও তিন খুনের ময়নাতদন্তর রিপোর্ট পেলেই এ ব্যাপারে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান।

    অপরদিকে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় পৌর শহরের বাস স্ট্যান্ডে স্থানীয় বাসিন্দারা কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে তিন খুনের ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।

    প্রসংঙ্গত কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বাড়িতে বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগম ও বোন জামাই শফিকুল আলমসহ তিন জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত জীনের বাদশা জাকির হোসেন ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করে।

  • পিরোজপুরে ছাত্রলীগ নেত্রী মৌলির জানাজায় জনতার ঢল

    পিরোজপুরে ছাত্রলীগ নেত্রী মৌলির জানাজায় জনতার ঢল

    সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ফারমিন আক্তার মৌলির (২৩) মরদেহ জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

    বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার আমতলা মাদরাসা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মৌলির মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুর সোয়া ২টায় উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়।

    এদিকে, ফারমিন আক্তার মৌলির মৃত্যুতে বুধবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নাজিরপুর উপজেলা সদরের সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, মৌলিকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এবং জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের ঢল নামে। আমতলা মাদরাসা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মৌলিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া হয়ে নিজ বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুরে ফেরার পথে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মৌলি। তিনি নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন খানের দ্বিতীয় মেয়ে। জেলা ছাত্রলীগেরও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সভাপতি ছিলেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা থেকে বাসে নাজিরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাজনৈতিক কাজে গোপালগঞ্জে নামেন মৌলি। সেখান থেকে মো. রাকিবুল হাসান নামে তার এক আত্মীয়কে ফোন করে নিয়ে তার সঙ্গে নাজিরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শীতের পোশাক পরতে নামেন তিনি।

    তাকে বহন করা মোটরসাইকেলচালক রাকিবুল হাসান জানান, নাজিরপুর-ঢাকা মহাসড়কের বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার কুইনা বাসস্ট্যান্ডের কাছে মুক্তিযোদ্ধা ইস্রাফিল ভুঁইয়ার বীর নিবাসসংলগ্ন রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যান। তখন মৌলি মাথায় শীতের মাফলার পেঁচাচ্ছিলেন।

    হঠাৎ দেখি একটি অ্যাম্বুলেন্স ও মাহেন্দ্র যাচ্ছিল। এ সময় মৌলির চিৎকারের শব্দ শুনে ফিরে দেখি রাস্তার ওপর গুরুতর আহত হয়ে পড়ে আছেন মৌলি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৌলির বাবা নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারেফ হোসেন খান বলেন, মৌলি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়ে ওই দিন নাজিরপুরের বাসায় আসছিল। পথিমধ্যে ঘটে গেল দুর্ঘটনা।

    ‘মৌলির মৃত্যুর সংবাদটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো’ উল্লেখ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।

    তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম রেজাউল করিম। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক মো. আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

  • বরিশালে ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়া

    বরিশালে ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়া

    বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের সাখারী গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশু ও ঘাতক জাকিরের প্রেমের সম্পর্ক দেখে ফেলায় এ ট্রিপল হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত জাকির ও তার সহযোগী জুয়েলের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এ বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে।

    গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেন ও জুয়েল হাওলাদার হত্যার দায় স্বীকার করে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ’র খাস কামরায় জবানবন্দি দেয়।

    এরপর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাড়ির মালিক প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    তবে এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্তের স্বার্থে তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন বানারীপাড়া থানার ওসি শিশির কুমার পাল।

    র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা ওই ৩জনকে হত্যার কথা স্বীকার করে নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে। শনিবার রাতেই প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের ভাই সুলতান মাহমুদের দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার বিকেলে ওই দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাদের প্রেরণ করা হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে।

    পুলিশ জানায়, প্রায় ৩ বছর আগে জাকির ওই বাড়ির নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করার সময় কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুর সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর থেকে ওই বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিলো। তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যায় প্রবাসী আব্দুর রবের মা মরিয়ম বেগম এবং খালাতো ভাই ইউসুফ। এ কারনে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করে জাকির ও মিশু।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে বাসার অন্যান্যরা ঘুমিয়ে পড়লে ঘরের প্রধান দরজা খুলে রাখে মিশু। ওইদিন রাত ১১টার পর জাকির ও জুয়েল ওই বাসায় ঢুকে প্রথমে ইউসুফের পা বেঁধে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা মরিয়ম বেগমকেও একইভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে। দুই হত্যাকাণ্ডের পর ইউসুফের লাশ বাড়ির সামনে পুকুরের পানিতে ভাসিয়ে দেয় এবং মরিয়ম বেগমের লাশ কক্ষ থেকে বেলকনিতে নিয়ে রাখে।

    মিশন শেষ করে তারা মিশুর কক্ষে গিয়ে মিশুর বিবস্ত্র ছবি তোলে। হত্যার ঘটনা ফাঁস করলে ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয় মিশুকে। এ সময় পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা প্রবাসীর ভগ্নিপতি শফিকুল আলম ঘুমের মধ্যে কাশি দেয়। শফিকুল দুই হত্যার বিষয়টি টের পেতে পারে সন্দেহে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতকরা।

    শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় মরিয়মের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা প্রবাসী রবের ভাতিজি আছিয়া আক্তার ঘুম থেকে জেঁগে দাদিকে খুঁজতে গিয়ে বেলকনিতে লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেয়। প্রতিবেশীরা এসে ওই বাড়ি থেকে আরও দুটি লাশ আবিস্কার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩টি লাশ উদ্ধার করে বরিশাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার নামাজে জানাজা শেষে তাদের মরদেহ বাড়িতে দাফন করা হয়।

    প্রসঙ্গত, বরিশালের বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর এলাকার কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রব হাওলাদারের বাড়িতে শুক্রবার মধ্যরাতের পর যে কোনো সময় তিনজনকে হত্যা করা হয়। এরা হলেন – প্রবাসীর মা মরিয়ম বেগম, তার বোনের ছেলে মো: ইউসুফ এবং বোন জামাই শফিকুল আলম। আব্দুর রব ১১ বছর যাবৎ কুয়েতে একটি মসজিদে ইমামতি করেন। তার স্ত্রী ও সন্তান বাড়িতে থাকেন। নিহত তিনজনের মধ্যে ইউসুফ এবং শফিকুল আলম দুই দিন আগে বেড়াতে এসেছিলেন।