Category: নারী ও শিশু

  • নারায়ণগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশে আগুন

    নারায়ণগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশে আগুন

    নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় নাঈমা রহমান (৩৭) নামের এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দুর্বৃত্তরা।

    ওই সময়ে নাঈমা রহমান ছাড়া বাসায় আর কেউ ছিল না। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

    শনিবার দুপুরে উপজেলার সোনাকান্দা এলাকার সরদার বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

    নিহত নাঈমা রহমান থাইল্যান্ড প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী। ছেলে নাফিজ রহমান (৮) ও মেয়ে আনুশী রহমানকে (১৫) নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়ায় থাকতেন নাঈমা।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বন্দর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শনিবার দুুপুরে কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নাঈমা রহমানকে হত্যা করে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তার মেয়ে বাসায় ঢুকে মায়ের শরীরে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। পুলিশকে জানালে বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

  • নোয়াখালীতে আবার গণধর্ষণের অভিযোগ

    নোয়াখালীতে আবার গণধর্ষণের অভিযোগ

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় গণধর্ষণের সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে জেলার কবিরহাট উপজেলায় একই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন এক নারী। তিন সন্তানের জননী এক নারী (২৯) পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, গতকাল শুক্রবার রাতে তিন ব্যক্তি তাঁর ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিন সন্তানসহ তাঁকে জিম্মি করে ধর্ষণ করেন। এরপর তাঁরা পালিয়ে যান।

    পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে জাকের হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।

    ধর্ষণের অভিযোগ করা ওই নারীর তথ্যের বরাতে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মো. হাছান আজ শনিবার বেলা একটায় বলেন, দুপুর ১২টার দিকে এক নারী থানায় এসে অভিযোগ করেন, গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে একই এলাকার জাকের হোসেনসহ তিন ব্যক্তি তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান।

    ওসি বলেন, ওই নারীর তথ্যমতে, তাঁর স্বামী একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এখন নোয়াখালী কারাগারে বন্দী। বাড়িতে স্বামী না থাকার সুযোগে ওই ব্যক্তিরা ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এর মধ্যে তিনি জাকের হোসেন নামের একজনকে চিনতে পেরেছেন। ধর্ষণের অভিযোগ করা নারীর স্বামী কোন মামলায় কারাগারে, তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে পারেননি ওসি হাছান।

    ওসি মির্জা হাছান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাকের হোসেনকে (২৮) আটক করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

    ধর্ষণের অভিযোগ করা ওই নারীকে আজ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মির্জা হাছান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই নারী রাতেই আশপাশের লোকজনকে ঘটনাটি জানান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনের নাম বলেন। পরে তিনি নিজেই থানায় গিয়ে ঘটনার বর্ণনা করেন।

    গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের রাতে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে সুবর্ণচরের এক নারীকে মারধর ও ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই দিন তাঁর স্বামী বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে চরজব্বার থানায় মামলা করেন। এর মধ্যে এজাহারে নাম থাকা ছয়জন এবং বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গত বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ছেড়ে যান ওই নারী।

    ধর্ষণের শিকার সুবর্ণচরের ওই নারী অভিযোগ করেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই দিনই রাতে তাঁর স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়।

  • দেশীয় কোম্পানির ক্যাপসুলে চলতি মাসেই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন!

    দেশীয় কোম্পানির ক্যাপসুলে চলতি মাসেই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন!

    রাজধানীসহ সারাদেশে বহুল আলোচিত ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন চলতি মাসেই অনুষ্ঠিত হবে। রাতকানা রোগ প্রতিরোধে জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় আজ (শনিবার) দেশব্যাপী ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল।

    কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভারতের একটি কোম্পানি থেকে আমদানিকৃত ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্মসূচিটি স্থগিত করে। নিয়মিত চলমান জাতীয় এই কর্মসূচি হঠাৎ স্থগিত হওয়ার পর থেক এ নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ আজ (শনিবার) দুপুরে জানান, ভিটামিন-এ নিয়ে অভিভাবকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। চলতি মাসের মধ্যে ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। তাদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের সরবরাহ রয়েছে।

    তিনি জানান, জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর দু’বার দুই রাউন্ডে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন–এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। মূলত রাতকানা রোগ প্রতিরোধের জন্য ১৯৯৪ সাল থেকে দেশের শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।

    তিনি আরও জানান, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ক্যাপসুলের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তাই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের ক্যাপসুল শিশুদের খাওয়ানো হবে না। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত ক্যাপসুল দিয়ে এই প্রচারাভিযান চলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    নেপথ্যের ঘটনা কি?
    স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে ২০১৬সালের মার্চ মাসে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১ লাখ ৪১ হাজার ডলারে (বাংলাদেশি ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোর ডিপোর্টের (সিএমএসডি) মাধ্যমে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

    বিশ্ব ব্যাংকের শর্তানুসারে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কেনার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। শর্তানুসারে দরপত্র আহ্বান করলে ভারতের অ্যাজটেক নামে একটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কার্যাদেশ পায়। সেখানে আরও শর্ত ছিল ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সরবরাহের ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কাছ থেকে এনওসি সংগ্রহ করতে হবে। নিয়মানুসারে তাদের এনওসি পাওয়ার কথা।

    কিন্তু ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা ও পরবর্তীতে পিপিআরে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কেনার ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এ কারণে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ভারতের ওই প্রতিষ্ঠানকে এনওসি দিতে অস্বীকৃতি জানালে মালামাল সরবরাহ করা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সর্বশেষ আদালত ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে এনওসি দিতে নির্দেশ দেয়। সে অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি ক্যাপসুল সরবরাহ করলে তা বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেয়া হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় ওই প্রতিষ্ঠান এর আগেও ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সরবরাহ করেছিল। যে ক্যাপসুল নিয়ে জটিলতা সে ক্যাপসুলের মেয়াদ জুন মাসে শেষ হবে।

    ওই কর্মকর্তা জানান, শনিবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের জাতীয় প্রচারাভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে তারা বিভিন্ন জেলা থেকে খবর পান সরবরাহকৃত ভিটামিন-এ ক্যাপসুল একটি আরেকটির গায়ে লেগে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা সরেজমিন গিয়ে এ তথ্যের প্রমাণও পান। এ কারণে ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়।

    গণমাধ্যমের ভুল বক্তব্যে বিব্রত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী :
    এদিকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তার বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘মামলা করে ‘ভারতীয় একটি অখ্যাত কোম্পানির কাছ থেকে নিম্নমানের ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাপসুল কিনতে বাধ্য করা হয়েছে’ মর্মে প্রকাশিত বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।

    ডা. মুরাদ বলেন, এ ধরনের কোনো কথা তিনি বলেননি। গণমাধ্যমকর্মীরা আদালতের মাধ্যমে ভারতের একটি কোম্পানি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সরবরাহ করেছে জানালে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। ভারতীয় কোম্পানি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কিনতে বাধ্য করেছে -এমন কোনো কথা তিনি বলেননি। তার বক্তব্য ভিন্নভাবে উত্থাপিত হওয়ায় তিনি ‘বিব্রত’ বলে জানান।

  • দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে,খালার মৃত্যুর পর চলে গেল ভাগ্নেও

    দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে,খালার মৃত্যুর পর চলে গেল ভাগ্নেও

    অনলাইন ডেস্ক:

    ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে খালা সুরমা বেগমের (২৫) মৃত্যুর পর অগ্নিদগ্ধ ভাগ্নে খাদিজা আক্তারেরও (১০) মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরপরই ভাগ্নে খাদিজার মৃত্যু হয়। এর আগে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় খালা সুরমা বেগমের।

    আগুনে দগ্ধ খাদিজার মা অংকুর বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার ভোরে লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মহিউদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীরা জানান, বড় বোন অংকুর বেগমের বাড়ি বেড়াতে আসেন সুরমা বেগম। গতকাল রাতে খাবার খেয়ে ঘরের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে দুর্বৃত্তরা ঘরে আগুন দেয়। আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে চিৎকারে স্থানীয়রা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে পুড়ে মারা যান সুরমা বেগম।

    এ সময় সুরমার বড় বোন অংকুর বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে খাদিজা অগ্নিদগ্ধ হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে অংকুর বেগম ও তার মেয়ে খাদিজাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে খাদিজা বেগমের মৃত্যু হয়।

    নিহতদের স্বজন মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মো. রফিকের সঙ্গে চার মাস আগে সুরমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের মধ্যে কলহ শুরু হয়। এ নিয়ে প্রায়ই সুরমা বেগমকে মারধর করত স্বামী। পরে সুরমাকে বাবার বাড়ি রেখে যায় রফিক। দীর্ঘদিন রফিক তার স্ত্রীর খোঁজ এবং ভরণ-পোষণ না দেয়ায় সুরমার বাবা স্থানীয় একটি এনজিওতে অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে ওই এনজিও কর্তৃপক্ষ রফিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রফিক শুক্রবার রাতে আগুন দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমাদের ধারণা।

    শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এমএ আজাদ সজল বলেন, এখানে ভর্তির পরপরই খাদিজার মৃত্যু হয়। তার মা অংকুর বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    লালমোহন থানা পুলিশের ওসি মীর খাইরুল কবির বলেন, অগ্নিসংযোগ করে দুইজনকে পুড়িয়ে হত্যা এবং একজনকে দগ্ধের ঘটনায় মামলা দায়েরসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • পটুয়াখালীতে স্কুলে যেতে ১৫০ কোমলমতির জীবনবাজি

    পটুয়াখালীতে স্কুলে যেতে ১৫০ কোমলমতির জীবনবাজি

    অনলাইন ডেস্ক:

    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর দিয়ে বয়ে গেছে ‘মাদারবুনিয়া’ খাল।

    এই খালের এপারে রসুলবাড়িয়া, ওপারে মাদারবুনিয়া গ্রাম। মাদারবুনিয়ায় নেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

    সে কারণে এই খাল পেরিয়ে প্রতিদিন রসুলবাড়িয়ার এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় কোমলমতিদের।অথচ সেই খাল পারাপারে নেই কোনো সেতু। একমাত্র ভরসা ছোট্ট ডিঙি নৌকা। সেই নৌকায়ও নেই কোনো মাঝি যে শিশুদের ওপারে পৌঁছে দেবে বা ফিরিয়ে আনবে।এতে শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রশি টেনে পারাপার হতে হয় প্রতিদিন কমপক্ষে দুইবার। রশি টানতে গিয়ে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।

    কখনো রশি পেঁচিয়ে বই-পুস্তক নিয়ে খালে পড়ে যায় শিক্ষার্থীরা, কখনও শিক্ষার্থীসহ নৌকাই ডুবে যায়।এভাবে ওই খালে ডুবে তিন শিশু মারা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এমন পরিস্থিতিতে ওই খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন মাদারবুনিয়া গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী নৌকার ওপর নির্ভর করে স্কুলে আসা-যাওয়া করে।এরমধ্যে শিশু শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু নৌকায় রশি টেনে পারাপারে ঝুঁকি থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় আসা-যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে।অভিভাবকরা আতঙ্কের কারণে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

    প্রতিদিনই খুব কষ্ট ও আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয় জানিয়ে রসুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মানছুরা আক্তার বলে, ‘রশি টানতে যাইয়া খালে পইরা গেছি কয়েকবার। বই-পুস্তক ভিজ্যা যায়। সরকার আমাগোরে একটা পোল দিলে ভাল ওয়।স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানায়, শুধু শিক্ষার্থী নয়, এ দুর্ভোগ পুরো এলাকাবাসীর।

    তারা আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচন এলেই প্রার্থী ও নেতারা এই খালে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পর আর তাদের মনে থাকে না।

    রসুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু জাফর বলেন, ‘মাদারবুনিয়ার প্রায় দেড় শ’ ছাত্রছাত্রী আমাদের স্কুলে ভর্তি আছে। নৌকায় পারাপারে ঝুঁকি থাকায় অনেকে নিয়মিত স্কুলে আসে না।’

    এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো: আতিকুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী মাদারবুনিয়া খালের ওপর একটি সেতুর নির্মাণের জন্য এমপি মহোদয় আমাদেরকে বলেছেন। সেই অনুযায়ী একটি প্রকল্প করে আমরা দিয়ে দিব। ইতোমধ্যে দু’পারে সংযোগ সড়কের জন্য একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে।’

    মাদারবুনিয়াবাসী এখন চেয়ে আছে সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

  • সেই বিধবাকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস এডিশনাল এসপির

    সেই বিধবাকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস এডিশনাল এসপির

    অনলাইন ডেস্ক:

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সত্তোরোর্ধ বিধবা নুর জাহানের গুঁড়িয়ে দেওয়া বসতঘর মঙ্গলবার সকালে পরিদর্শন করেছেন এডিশনাল এসপি (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শম্পা রানী সাহা। এ সময় তিনি ঘরটি আবার তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন নুর জাহানকে।

    এদিকে এ ঘটনায় উপজেলার ছলিমপুর এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় বৃদ্ধার ছেলে বাদী হয়ে মামলা (মামলা নং ১৪) করার পরপরই পুলিশ মোহাম্মদ ফারুক ও তার ভাই মোহাম্মদ আজিজ মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তারা ওই এলাকার মোহাম্মদ শফির ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে মুখোশ পরা অস্ত্রধারী ২০-২৫ জন দুর্বৃত্ত ছলিমপুর ইউনিয়নের মধ্যম ছলিমপুর পুরাতন দাইয়াবাড়ির মৃত শাহা আলম ড্রাইভারের বসতঘর ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরের চাল-বেড়াসহ বিভিন্ন অসবাবপত্র পাশের পুকুরে ফেলে দেয় তারা। এছাড়াও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন ফরিদা ইয়াছমিন (২৫) ও কামরুন্নাহার (২৫) নামে দুই নারী।

    নুর জাহান বলেন, আমাদের বসতঘরের জায়গা নিয়ে স্থানীয় ওসমান ফারুক, মোহাম্মদ মিয়া ও দিদারের সঙ্গে বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলাও চলামান রয়েছে। বৃহস্পবিার রাতে তারা সন্ত্রাসী নিয়ে এসে বসতঘরটি ভাঙচুর করে। বসতঘরে থাকা টাকা, মোবাইলসহ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) শম্পা রানী সাহা বলেন, জায়গা নিয়ে মামলা মোকদ্দমা থাকতে পারে। তাই বলে রাতের আঁধারে বসতঘর গুঁড়িয়ে মালামাল লুট করে নিবে তা কখনো হতে পারে না। কেউ আইনের ঊর্ধে না।  সন্ত্রাসী-ভূমিদস্যু যত বড় হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আসতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, বিধবা নুর জাহান খুবই নিরীহ। তার গুঁড়িয়ে দেওয়া বসতঘরটি আবার তৈরি করে দেওয়া হবে।

    অন্যদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত বলেন, মামলা দায়েরের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িদ দুইজনকে আটক করে মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ভাঙচুর করার কিছু সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।

  • সুবর্ণচরে গণধর্ষণ :১৭ দিন পর বাড়ি ফিরলেন সেই নারী

    সুবর্ণচরে গণধর্ষণ :১৭ দিন পর বাড়ি ফিরলেন সেই নারী

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ভোটের দিন গণধর্ষণের শিকার হওয়া সেই নারী (৪০) ১৭ দিনের চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ছেড়ে যান তিনি। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন নির্যাতিত নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

    পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে ওই নারী গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছান। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল তাঁর সঙ্গে যান। তাঁরা এ সময় নির্যাতনের শিকার নারীর পরিবারকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যায় তাঁদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। চরজব্বর থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহেদ উদ্দিন জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারটির শঙ্কায় থাকার কোনো কারণ নেই।

    এর আগে গতকাল বুধবার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড নির্যাতনের শিকার নারীর শারীরিক পরীক্ষা শেষে তাঁকে ছাড়পত্র দেন। তখন তাঁকে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে এসে অর্থোপেডিকের মেডিকেল বোর্ডে হাজির থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা হলে তাঁর যথাযথ চিকিৎসার আশ্বাস দেন চিকিৎসকেরা।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, ১৭ দিনের চিকিৎসায় নির্যাতনের শিকার ওই নারী এখন বেশ সুস্থ। তিনি নিজেই একা হাঁটাচলা করতে পারছেন। শরীরের যেসব স্থানে ফোলা-জখম ছিল সেগুলোও অনেকটা ভালো হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়াও করতে পারছেন। তাঁর চিকিৎসা তদারকির জন্য গঠন করা পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড দফায় দফায় তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। মেডিকেল বোর্ডই ছাড়পত্র দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

    নির্যাতনের শিকার ওই নারী বুধবার বলেন, তিনি এখন আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ আছেন। বাড়িতে যেতে পারবেন। তবে স্বামী ও ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর ভেতর ভয় কাজ করছে। তাই তিনি সরকারের কাছে নিরাপত্তা চান।

    ওই নারীর স্বামী বলেন, তাঁর স্ত্রীর অবস্থা এখন ভালো। তিনি নিজেই বাড়ি যেতে চান। তবে এলাকার কিছু লোক ‘সরকার-প্রশাসন কয়দিন থাকবে’ বলে তাঁকে হুমকি দিচ্ছে।

    গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে ওই নারীকে মারধর ও ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একইদিন তাঁর স্বামী বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে চরজব্বর থানায় মামলা করেন।

  • সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা, ওসি প্রত্যাহার

    সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা, ওসি প্রত্যাহার

    অনলাইন ডেস্ক:

    নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজুবলীতে ভোটের রাতে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা থাকায় চর জব্বার থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    নোয়াখালী পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওসি মো. নিজাম উদ্দিনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে আনা হয়েছে। তার পরিবর্তে সুধারাম থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাহেদকে চর জব্বার থানায় নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, সুবর্ণচরের গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্তে চর জব্বার থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিনের দায়িত্ব পালনে অবহেলার তথ্য পাওয়ায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর সকালে ওই গৃহবধূ ভোট দিতে গেলে নৌকার কয়েকজন সমর্থক তাকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বলে। তিনি তখন ধানের শীষে ভোট দেয়ার কথা বললে তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়।এ সময় তারা তাকে ‘তোর কপালে শনি আছে’ বলে হুমকি দেয়। পরে কেন্দ্র থেকে দ্রুত বের হয়ে বাড়ি ফিরে যান গৃহবধূ।

    এরপর ওইদিন রাত ১২টার দিকে একই এলাকার ১০-১২ জন তাদের বাড়িতে এসে প্রথমে বসতঘর ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্বামী ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে (১২) বেঁধে রেখে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে তারা।

    একপর্যায়ে তারা তাকে গলা কেটে হত্যার করতে উদ্যত হয়। এ সময় প্রাণভিক্ষা চাইলে তারা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির উঠানসংলগ্ন পুকুর ঘাটে ফেলে চলে যায়।

  • ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দেয়ায় ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

    ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দেয়ায় ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

    অনলাইন ডেস্ক:

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আটকে রেখে এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার রাতে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর রাতেই অভিযুক্ত মজিবর রহমান (৪২) ও তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের ধলীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর ওই ছাত্রী উপজেলার কালিয়া বাজারে কেনাকাটার জন্য গিয়ে নিখোঁজ হয়। মজিবুর রহমান কালিয়া বাজার থেকে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

    ওই ছাত্রীর মা বলেন, অভিযুক্ত মজিবর প্রতিবেশী হওয়ায় আমার মেয়েকে তার প্রবাসী ছেলের বউ করার জন্য নানাভাবে প্রস্তাব দেন। তবে ওই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তাকে জানানো হয়েছিল, মেয়েকে আরও পড়াশোনা করিয়ে উচ্চশিক্ষিত করাবো। কিন্তু ওই লম্পট আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। আমার মেয়ের শরীর আর মনের ওপর দিয়ে যা গেছে তার নিরাময় কে করবে? আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

    এ বিষয়ে সখীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তবে এখনো ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • বাবা-মাকে তাড়িয়ে ‘কাশেম কটেজে’ কাওসারের রামলীলা

    বাবা-মাকে তাড়িয়ে ‘কাশেম কটেজে’ কাওসারের রামলীলা

    বাবা-মাকে তাড়িয়ে বাড়ি দখল করে ইয়াবা ও রমরমা দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে ফেনীতে চার তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি কাওসার বিন কাশেম নিলয়ের বিরুদ্ধে। গত ৭ জানুয়ারি সোমবার ওই বাড়ি থেকে চার তরুণীকে উদ্ধারের পর এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এদিকে এ ঘটনায় কাওসারসহ চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ফেনী শহরের রামপুর সৈয়দ বাড়ি লেনের ‘কাশেম কটেজের’ মালিক আবুল কাশেম। চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ইতালি, মেঝ ছেলে স্ত্রী হত্যার দায়ে কারাগারে, কাওসার ও তার ছোট ভাই দুইজন ইয়াবা ও নারী ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে দুই ভাই বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। নিরুপায় হয়ে তারা শহরের পাঠান বাড়ি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। বাবা-মা চলে যাওয়ার পর বিভিন্নস্থান থেকে তরুণীদের এনে তারা দেহ ব্যবসা করে। এখানে ফেনী শহরের অনেক নামিদামি লোকদের আনাগোনা রয়েছে বলে জানা যায়।

    জানা যায়, কাওসার বিয়ের কয়েক বছর পর তার স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর থেকে সে নেশার জগতে প্রবেশ করে। বাবা-মাকে তাড়িয়ে দেয়ার পর বিভিন্নস্থান থেকে তরুণীদেরকে এনে ৬ মাস ধরে দেহ ব্যবসা করে। রাজধানীর মিরপুর এলাকার ১০নং মোল্লা ভিলার বাসিন্দা মো. মোজাম্মেল হকের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। প্রিয়ার মাধ্যমে ফাতেমাসহ আরও দুই তরুণীকে এনে দেহ ব্যবসা করে কাওসার। এর কয়েকদিন পর কৌশলে প্রিয়া পালিয়ে যায়। ওই তরুণীদের বাসায় বন্দি রেখে ইয়াবা ও দেহ ব্যবসা চালায়। নির্বাচনের পর লোকজন না আসায় তাদের মারধর করে কাওসার। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে ৭ জানুয়ারি সোমবার শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহজাহান মিয়া ওই বাসার তালা ভেঙে জিন্মিদশা থেকে চার নারী ও ৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মূলহোতা কাওসার পালিয়ে গেলেও ফেনী সদর উপজেলার মধ্যম কাছাড় গ্রামের আবু ইউছুপের ছেলে মো. ওমায়ের, সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের ব্রমনী বাজার গ্রামের আলী ফরহাজী বাড়ির আবুল কালামের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী রামপুর এলাকা থেকে কাওসার ও ছোটনকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহজাহান মিয়া। এ ঘটনায় একই দিন ফাতেমা বাদী হয়ে কাওসারকে প্রধান আসামি ও ১২-১৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান মিয়া জানান, মামলার মূলহোতা কাওসারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও কাওসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।