Category: নারী ও শিশু

  • শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন সহকারী শিক্ষক, ধামাচাপায় ব্যস্ত প্রধান শিক্ষক

    শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন সহকারী শিক্ষক, ধামাচাপায় ব্যস্ত প্রধান শিক্ষক

    নীলফমারীর সৈয়দপুরে শ্রেণিকক্ষে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাবাড়ী শিশুমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ স্কুলছাত্রীর মায়ের।

    নির্যাতিত ছাত্রীর মা বলেন, আমার মেয়ে বাড়ির শিশুমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। বুধবার সকালে সে অন্যান্য দিনের মতো স্কুলে যায়। দুপুরের দিকে আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে আমাকে জানায়, জাহিদুল মাস্টার তার সাথে খারাপ কাজ করেছে। অনেক বোঝাবুঝির পড়ে মেয়ে আমাকে ঘটনা খুলে বলে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার ৫ জন শিক্ষকের স্থলে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য দুজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় দুপর দেড়টার দিকে স্কুল ছুটি দেয় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম। এ সময় মাঠে খেলতে থাকা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীটিকে ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করে।

    ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, তিনি বৃহস্পতিবার বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি মিমাংসা করার কথা বলেন। এলাকার মেম্বার নুর নবীকে জানালে শনিবার সকালে সেও মীমাংসার কথা বলে টালবাহানা শুরু করে। এরপর প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান মিমাংসা করার জন্য বার বার চাপ দিতে থাকলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ দিতে চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

    এলাকাবাসী জানায়, জাহিদুল ইসলাম এর আগেও এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে গেছে। কিছু দিন আগে সংরক্ষিত আসনের ওয়ার্ড মেম্বারকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে।

    প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, বুধবার আমি ছুটিতে ছিলাম। তবে ঘটনাটি বৃহস্পতিবার মেয়েটির মা আমাকে জানিয়েছে। মিমাংসার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

    কামারপুকুর ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন জানান, ঘটনার ৪ দিন পর শনিবার দুপুর ১টার দিকে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

    উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান মন্ডল জানান, ঘটনাটি কিছুক্ষণ আগে প্রধান শিক্ষকের কাছে শুনেছি। ছাত্রীটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া জানান, অভিযোগ পেলে ছাত্রীটিকে সকল প্রকার আইনি সহায়তা দেয়া হবে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    এদিকে রোববার তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেননি এবং তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  • ২০ দিন ধরে নিখোঁজ দুই বোন, সন্ধান চান বাবা

    ২০ দিন ধরে নিখোঁজ দুই বোন, সন্ধান চান বাবা

    অনলাইন ডেস্ক:

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ২০ দিন ধরে নিখোঁজ হওয়া দুই মেয়ের সন্ধান চেয়ে বাবা আব্দুল কাদের মিয়া স্থানীয় থানায় জিডি করেছেন।

    জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউপির পশ্চিম কাদমা গ্রামের আ: কাদের মিয়ার দুই মেয়ে ইসরাত জাহান (১৯) ও নুসরাত জাহান (১৭) গত ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ সন্ধায় বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তার বাবা ওই দুই মেয়েকে ২০ দিন ধরে স্বজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি।

    ইসরাত জাহান (১৯) হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া আদর্শ কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষ ও তার ছোট বোন নুসরাত জাহান (১৭) ভেলাগুড়ি চেতনার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।

    তাদের বাবা আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, সেই দিন সন্ধ্যায় বাজার থেকে এসে দেখি আমার দুই মেয়ে বাড়িতে নাই। অনেক খোঁজাখুজির পর তাদের না পেয়ে থানায় জিডি করি। আমি আমার দুই মেয়ের সন্ধান চাই।

    ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি।

    এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, তাদের পারিবারিক কারণে নিখোঁজ হয়েছেন বলে ধারনা করছি। তবে আমরা তাদের অবস্থান জেনেছি। দ্রুত তাদের উদ্ধার করা হবে।

  • রামগড়ে আওয়ামী লীগের নারী কর্মীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়

    রামগড়ে আওয়ামী লীগের নারী কর্মীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়

    খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্য ফাতেমা বেগকে (৫০) গণধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) নামের এক আসামি।

    শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে খাগড়াাছড়ির সিনিয়র জুডিশয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মোরশেদুল আলমের আদালতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার মাটিরাঙ্গা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ শুক্রবার নজরুল ইসলাম প্রকাশ নাজিম (২৮) নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

    গত ২৪ ডিসেম্বর রামগড়ের মাহবুবনগর এলাকা থেকে ফাতেমা বেগমের (৫০) অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা ও দুই সন্তানের জননী। এ ব্যাপারে ২৫ ডিসেম্বর রামগড় থানায় ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি মামলা (নম্বর-৫) রুজু করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গোপনসূত্রে পাওয়া তথ্য উপাত্তর উপর ভিত্তি করে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে বৃৃহস্পতিবার রাতে মাটিরাঙ্গার কাজীপাড়া থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে পুলিশ। তিনি মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ইউনিয়নের বড়বিল মুসলিমপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং পেশায় বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন কাজের শ্রমিক।

    খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদ্য পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এস্এম সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের ঐ অভিযানে অংশ নেয়া রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হান্নান মো: তারেক জানান, আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন নজরুল ইসলাম প্রকাশ নাজিম নামে এক পিকআপ ড্রাইভারের মাধ্যমে গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে জালিয়াপাড়া রামগড় সড়কের মাহবুবনগর নামক স্থানে ফাতেমা বেগমকে ডেকে আনা হয়। তারা ফাতেমাকে রাস্তার অদূরে একটি সেগুন বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনা প্রকাশ করে দেয়ার ভয়ে জাহাঙ্গীর ও নজরুল দুজন মিলে তাকে হত্যা করে। জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর আরও উল্লেখ করেন, তিনি ফাতেমার দুই পা ও হাত চেপে ধরেন এবং নজরুল তার গলা টিপে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সেগুন গাছের ঝরেপড়া শুকনো পাতা দিয়ে ফাতেমার মরদেহ ঢেকে রেখে তারা পালিয়ে যান।

    ওসি আব্দুল হান্নান মো: তারেক আরও জানান, জাহাঙ্গীরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার গুইমারার জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম নাজিমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। নজরুল জালিয়াপাড়ার রেজাউলের ছেলে। তিনি দুই শিশু পুত্রের পিতা। ওসি আরও জানান, জাহাঙ্গীর রামগড় জালিয়াপাড়া ৩৩ কেভিএ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন কাজের শ্রমিক আর নজরুল পিকআপের মালিক ও ড্রাইভার। তার পিকআপ করেই বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের মালামাল পরিবহণ করা হত। তিনি বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত: উপজেলার মাহবুব নগর এলাকায় স্থানীয় শিশুরা বিকালে ক্রিকেট খেলার সময় বল বাগান থেকে কুড়িয়ে আনতে গেলে র্দুগন্ধ পায়। পরে তারা বল খোঁজার এক পর্যায়ে সেগুন গাছের ঝরে পড়া শুকনো পাতায় ঢাকা গলিত লাশ দেখতে পেয়ে অভিভাবকদের জানায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।

  • মাকে নির্যাতন করায় বাবাকে হত্যা,বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে জবানবন্দি ছেলের

    মাকে নির্যাতন করায় বাবাকে হত্যা,বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে জবানবন্দি ছেলের

    ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে ছেলে আবুল হাসান। মাকে প্রতিদিন মারধর করায় সে বাবাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানায়।

    শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় ফেনীর ছাগলনাইয়া থানায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে আবুল কালাম হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন ওসি এমএম মুর্শেদ পিপিএম।

    ওসি এমএম মুর্শেদ বলেন, ‘আবুল হাসান ২০১৮ সালে উপজেলার মধুগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। কারণ ছাড়াই আবুল হাসানের বাবা আবুল কালাম তার মাকে প্রতিদিন মারধর ও নির্যাতন করতো। আবুল কালামকে অনেক বোঝানোর পরও কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরে বন্ধুদের নিয়ে বাবাকে হত্যা করে লাশ টয়লেটের ট্যাংকে ফেলে দেয় আবুল হাসান।’

    আবুল কালাম ছাগলনাইয়ার পশ্চিম মধুগ্রামের মিদ্দা বাড়ির মৃত সামছুল হকের ছেলে। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক বাবুর্চি ছিলেন। অসামরিক কর্মচারী হিসেবে সেনাবাহিনীতে চাকরি করে কয়েক বছর আগে অবসরে যান তিনি।

    ৪ জানুয়ারি শুক্রবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন আবুল কালাম। নিখোঁজের ৬ দিন পর বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ির টয়লেটের সেপটি ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী রেখা আক্তার ও ছেলে আবুল হাসানকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করে হাসান।

  • সেই এসআই পেলেন পুরস্কার

    সেই এসআই পেলেন পুরস্কার

    অনলাইন  ডেস্ক:

    রাস্তায় সন্তান প্রসব করা সেই পাগলীর পাশে দাঁড়িয়ে পুরস্কার পেলেন উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ। বুধবার (০৯ জানুয়ারি) সিএমপিকার্যালয়ে মানবিক কাজে এগিয়ে আসায় তাকে পুরস্কৃত করলেন সিএমপির পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান।

    পুরস্কার পাওয়া এসআই মাসুদবলেন, গত সোমবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আগ্রাবাদের গ্রামীণ ফোন সেন্টারেরসামনে রাস্তার উপর সন্তান প্রসব করে এক মহিলা। এমন খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ মহিলা এবং রাস্তার উপর পরে থাকা নবজাতকটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাই।

    তিনি বলেন, এই মানবিক কাজের জন্যই আজ আমাকে ডিপার্টমেন্ট পুরস্কৃত করেছে পুরস্কার হিসেবে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদানকরেছেন পুলিশ কমিশনার মহোদয়।

    এসআই মাসুদ নগরীর ডবলমুরিং থানার দেওয়ান হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত।

  • বরিশালে মানবতার হাসপাতালে অমানবিক কাণ্ড

    বরিশালে মানবতার হাসপাতালে অমানবিক কাণ্ড

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কুড়ুলিয়া গ্রামের শারমিন বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূর রক্তের গ্রুপ এক দিনের মধ্যে বদলে গেছে।

    বাস্তবে এ ঘটনা না ঘটলেও হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষায় ওই গৃহবধূর দুই রকম রিপোর্ট পাওয়া গেছে। শারমিন বেগম উজিরপু উপজেলার কুড়ুলিয়া গ্রামের হানিফ খলিফার স্ত্রী।

    শারমিন বেগমের স্বজনরা জানান, প্রসব বেদনা নিয়ে ৫ জানুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের বাইপাস মোড়ের ফুল্লশ্রী এলাকায় দুস্থ মানবতার প্রাইভেট হাসপাতালে আসেন শারমিন।

    হাসপাতালের চিকিৎসক মো. আশ্রাফুল ইসলাম শাওন শারমিনকে ভর্তি করিয়ে ওই রাতেই অস্ত্রোপচারের কথা বলেন। অস্ত্রোপচার করতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ১১ হাজার টাকার চুক্তি হয়।

    ওই রাতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শারমিন দ্বিতীয় ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এরপর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসক তাকে রক্ত নেয়ার পরামর্শ দেন। ওই হাসপাতালের প্যাথলজিতে তার রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়।

    হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নয়ন হালদার রোগীর রক্তের গ্রপ ‘এ পজিটিভ’ নির্ণয় করে রিপোর্ট দেন। একই সঙ্গে রোগীর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই একাধিক রিপোর্টের ফল দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেন নয়ন।

    তবে রক্তের গ্রুপ নিয়ে শারমিন বেগমের পরিবারের মধ্যে সন্দেহ হলে আগৈলঝাড়ার পার্শ্ববর্তী উপজেলা গৌরনদীর সিকদার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান।

    সেখানে শারমিন বেগমের রক্তের গ্রুপ বদলে যায়। ফল আসে ‘বি পজিটিভ’। দুই হাসপাতালের দুই রকম রিপোর্টে শারমিন বেগমের স্বজনরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। তাকে রক্ত দেয়া বিলম্ব থেকে থাকে।

    এ অবস্থায় আরেকটি প্যাথলজিতে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন তার রক্তের গ্রুপ ‘বি পজিটিভ’। তখন ‘বি পজিটিভ’ রক্ত শারমিনকে দেয়া হয়। এরই মধ্যে দুস্থ মানবতার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের এ ঘটনা নিয়ে বাগবিতণ্ডা লেগে যায়।

    এ ব্যাপারে দুস্থ মানবতার হাসপাতালের পরিচালক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক উপ-পরিচালক ডা. হিরন্ময় হালদার বলেন, ঘটনাটি নিয়ে রোগী ও তার স্বজনদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    চিকিৎসক আশ্রাফুল কোনো রোগী ভর্তি করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হিরন্ময় হালদার বলেন, এটা তিনি পারেন না। এ জন্য তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

    ওই হাসপাতালে এইচআইভি পরীক্ষা হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে এই টেস্ট হয় না। তবে কিভাবে এইচআইভি টেস্ট রিপোর্ট দেয়া হয়েছে; জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

    এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মো. মানোয়ার হোসেন বলেন, রোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এভাবে ভুল রিপোর্ট ও ভুল চিকিৎসার কারণে আর কোনো রোগীর যেন ক্ষতি না হয়; সেজন্য ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করব আমি।

  • মাকে চিকিৎসা করাতে এসে ছেলে খুন, খবর পেয়ে মায়ের মৃত্যু

    মাকে চিকিৎসা করাতে এসে ছেলে খুন, খবর পেয়ে মায়ের মৃত্যু

    মাকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসে খুন হলেন ব্যবসায়ি ছেলে আপেল মাহমুদ (২৯)। আর ছেলে নিহত হওয়ার সংবাদে হাসপাতলের বেডেই মারা গেলেন মা।

    খবর পেয়ে বগুড়ার কাহালু থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে লাশ উদ্ধারের পর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

    জানা যায়, নিহত বাবসায়ী আপেল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা মোঘলটুলি এলাকার সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে। আপেল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তিনি আমদানী-রফতানির ব্যবসা করতেন। শারীরিক অসুস্থ বলে মাকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।

    লাশ সনাক্তকারি নিহত আপেলের চাচা আব্দুল করিম জানান, তার ভাতিজা আমদানি-রপ্তানিকারক ছিলেন। মাকে চিকিৎসার জন্য বগুড়া টিএমএসএস হাসপাতালে ভর্তি করান। ওই দিন ব্যাংক থেকে ৯১ লাখ টাকা তুলে নিজের কাছেই রেখেছিলেন। ওই দিন তাকে ফোনে কেউ ডেকে নিয়ে যায় এবং এর পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। দুর্বৃত্তরা টাকার জন্যই হত্যা করে থাকতে পারে। নিহতের সংবাদ পেয়ে তার মা আয়েশা বেগমও মারা গেছেন শুক্রবার দুপুরে। এ বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    বগুড়ার কাহালু থানার ওসি শওকত কবির জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় কিছু লোক থানার এসে  খবর দেয় বার-মাইল নামুজা সড়কে ছাতার পুকুরে মাঠে একটি মৃতদেহ পড়ে আছে। পরে উদ্ধার করার পর শুক্রবার সকাল ১০ টায় গোবিন্দগঞ্জ থেকে পরিবারের সদস্যরা এসে লাশ সনাক্ত করে। ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা পথে তাকে ধরে নিয়ে এসে হত্যা করে ফেলে রেখেছে। লাশের পাশে গাড়ির চাবি, নগদ কিছু টাকা পড়ে ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

  • ভোলায় সন্তান বিক্রি করতে চান বাবা দেনার দায়ে

    ভোলায় সন্তান বিক্রি করতে চান বাবা দেনার দায়ে

    অনলাইন ডেস্ক:

    এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে সুদে ধার নেয়া টাকা পরিশোধ করতে এখন সন্তান বিক্রির কথা ভাবছেন মো. আল আমিন নামে এক বাবা। ঘটনাটি ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ভেদুরিয়া গ্রামের।

    ওই গ্রামের মো. মজনু মিয়ার বড় ছেলে মো. আল আমিন ২০ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য নিজের দুই সন্তানের যেকোনো একজনকে বিক্রি করতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

    স্থানীয়রা জানান, আল আমিন আগে জাহাজে কাজ করতেন। গত ৪ বছর আগে তিনি ভেদুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি কীটনাশটের দোকান দেন। দোকানটি ভালোই চলছিল। এছাড়াও তিনি জমি বন্ধক রেখে ধান ও সবজির চাষ করছেন।

    আল আমিন বলেন, হঠাৎ ২০১৭ সালের শেষ দিকে ধান ও সবজির খেতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লোকসান হয়। এছাড়াও ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতে দোকানে অনেক বাকি দেয়ায় লোকসান হয়। পরে নিরুপায় হয়ে এনজিও থেকে দুই নামে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল উঠাই ও জমিতে নতুন করে আবাদ শুরু করার জন্য স্থানীয় একজনের কাছ থেকে সুদে ২ লাখ টাকা ধার নিই।এভাবে তিন মাস পার হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

    পরে এনজিওর কিস্তির টাকা ও সুদের টাকা পরিশোধ করতে কষ্ট হলে আবারও স্থানীয় আরেকজনের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা সুদে ধার নিই। এরইমধ্যে দোকানের মালামালে সাড়ে ৫ লাখ টাকা পাওনা হয়ে যায়। এভাবে পর্যায়ক্রমে এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে সুদে ধার নেয়া টাকার পরিমাণ বেড়ে দাাঁড়ায় ২০ লাখ টাকা। এখন দোকানে মালামাল ও খেতে ফসলও নেই।

    আমার সম্পদ বলতে ৪ শতাংশ জমির উপর একটি ঘর রয়েছে। তারও মালিক আমরা তিন ভাই ও চার বোন। তাই আমরা স্বামী-স্ত্রী বাধ্য হয়ে আমাদের দুই ছেলে সিয়াম (৫) ও সিহাবকে (২) বিক্রি করে দেনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    আল আমিনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামীর এখন অনেক টাকা দেনা রয়েছে। প্রতিমাসে ৬০ হাজার টাকা এনজিওর কিস্তি ও সুদের টাকা পরিশোধ করতে লাগবে। নিরুপায় হয়ে আমরা সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, বিষয়টি জানি না। তবে ওই ব্যক্তি অফিসে এলে সহযোগিতা করা যেতে পারে।

  • প্রেমের ফাঁদে পড়ে ‘যৌনদাসী’ হলেন এক তরুণী

    প্রেমের ফাঁদে পড়ে ‘যৌনদাসী’ হলেন এক তরুণী

    মোবাইল ফোনে পরিচয়, এরপর কথা বলা। ধীরে ধীরে গড়িয়েছে প্রেমের সম্পর্কে। ছয় মাসের মাথায় মা-বাবার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেওয়া হয় ফেনীতে। এরপর আর ফিরতে দেওয়া হয়নি তরুণীটিকে।

    এটি তিন মাস আগের কথা। শহরের রামপুর সৈয়দবাড়ি সড়কের বাসা থেকে রাজধানীর কলেজপড়–য়া ওই তরুণীকে উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যকর এই তথ্য বেরিয়ে আসে। এ সময় আরও দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের লোভনীয় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নেওয়া হয়। এই তিন মাস ধরে তাদের দিয়ে করানো হয়েছে দেহ ব্যবসা। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, ঢাকার মিরপুর এলাকার কলেজপড়–য়া মেয়েটির সঙ্গে পরিচয় হয় রামপুরের সৈয়দবাড়ি লেনের কাওসার বিন কাশেম নিলয়ের সঙ্গে। প্রায় ছয় মাস আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। গত বছরের অক্টোবরে ওই তরুণী কক্সবাজারে বেড়াতে যান। ফেরার পথে মা-বাবার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে মহীপালে নামানো হয়।

    এরপর সৈয়দবাড়ির কাশেম কটেজে নিয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ওই বাসায় গিয়ে চক্ষু ছানাবড়া ওই তরুণীর। বাসায় জিম্মি আরও দুই নারী। জানতে পারেন চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে তাদের আনা হয়।

    এই তিন মাস তরুণীদের বাধ্য করা হয়েছে দেহ ব্যবসা করাতে। প্রতিবেশীরা টের পেয়ে খবর দিলে শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহজাহান মিয়া তালা ভেঙে বাড়িটিতে হানা দেন। উদ্ধার করা হয় তিন তরুণীকে।

    আটক করা হয় নিলয় ছাড়াও ফেনী সদর উপজেলার মধ্যম কাছাড় গ্রামের সায়েম, সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের ব্রামনী বাজার গ্রামের আলিফুল ইসলাম আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা করে।

    ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ তিন তরুণীকে উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার তিন বখাটেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • বরিশালে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা,বাবা-মার সঙ্গে অভিমানে

    বরিশালে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা,বাবা-মার সঙ্গে অভিমানে

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকার আমির কুটিরে গলায় ফাঁস দিয়ে সুরাইয়া আক্তার ইতি (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (০৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই এলাকার ‘ফাতেমা মঞ্জিল’র চতুর্থ তলায় এই ঘটনা ঘটে।

    ওই এলাকার মতিউর রহমানের কন্যা স্কুলছাত্রী সুরাইয়া আক্তার ইতি বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

    নিহতের স্বজনেরা জানিয়েছে- ইতি নিজ ঘরে ফ্যানের সাথে ওড়না জড়িয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    লেখাপড়ায় অমনোযোগের কারণে বাবা-মা বকা দেওয়ায় অভিমানে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করছে পুলিশ।

    কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন- লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।