Category: নারী ও শিশু

  • বিয়ের শপিং করতে ভাইবোন ভারতে, মা-বাবার লাশ বাড়িতে

    বিয়ের শপিং করতে ভাইবোন ভারতে, মা-বাবার লাশ বাড়িতে

    ছোট বোন পায়েল রংটার (২৪) বিয়ে সামনের মাসে। বিয়ের কেনাকাটা করতে বোনকে নিয়ে ভারতে গেছেন বিক্কী রংটা (২৮)। এ সময় বাড়ি থেকে তাঁদের মা-বাবার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জয়পুরহাট শহরের মাড়োয়ারি পট্টি এলাকার বাড়ি থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়।এই দম্পতিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

    নিহত দুজন হলেন কৃষনা রংটা (৬০) ও তাঁর স্ত্রী দেবী রংটা (৫৪)।নিহত কৃষনা রংটা মাড়োয়ারি পট্টি এলাকার পায়েল বস্ত্রালয়ের মালিক।

    পরিবার, স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাড়োয়ারি পট্টি এলাকায় নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন কৃষনা রংটা ও তাঁর স্ত্রী দেবী রংটা। বাড়িটি তাঁদের নিজের। দোতলায় তাঁরা থাকতেন এবং নিচতলায় তাঁদের দোকান। সকালে গৃহকর্মী রিতা উড়াও এসে দেখেন কৃষনা রংটা ও দেবী রংটার নিথর দেহ বিছানায় লেপ দিয়ে ঢাকা। পরে আশপাশের লোকজন আসে। খবর পেয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

    গৃহকর্মী রিতা উড়াও বলেন, সকালে এসে বাসার কলাপসিবল গেট খোলা দেখেন তিনি। দোতলায় গিয়ে থাকার ঘরের দরজাও খোলা পাওয়া যায়। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি চমকে যান। একপর্যায়ে বিছানার লেপ উল্টিয়ে দেখেন দুজনের লাশ পড়ে আছে।

    নিহত কৃষনা রংটার চাচাতো ভাই গোপাল রংটা বলেন, ‘পায়েল ও বিক্কীর আর কোনো ভাইবোন নেই। আগামী ১৭ জানুয়ারি পায়েলের বিয়ে ঠিক হয়েছে। এ জন্য পায়েল ও তাঁর ভাই বিক্কী বিয়ের শপিং করতে গেছে ভারতে। এরই মধ্যে তাঁদের বাবা-মায়ের লাশ উদ্ধার হলো।

    আমার জানামতে, ওদের কোনো শক্র নেই, তবে কীভাবে এ ঘটনা ঘটে গেল আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।’ বাড়ির কোনো মালামাল লুট কিংবা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, প্রাথমিকভাবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

    জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল হক বলেন, ওই দম্পতিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আসল বিষয় জানা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

  • পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল নানি-নাতির

    পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল নানি-নাতির

    সাতক্ষীরায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে নানি ও নাতির। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বালিগাদা এলাকায় সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের চালক নানা গুরুতর আহত হয়েছেন।

    নিহত দুজন হলেন ফরিদা বেগম (৫০) ও তাঁর নাতি সাদ (১৪)। যশোর কেশবপুর উপজেলার ভবতীপুর গ্রামের সামাদ মোড়লের স্ত্রী ফরিদা বেগম ও তৈলকুপি গ্রামের আবদুল আলিমের ছেলে সাদ। দুর্ঘটনায় আহত নানা সামাদ মোড়লকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর থেকে সামাদ মোড়ল নাতি ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মেয়েজামাই বাড়ি তৈলকুপি যাচ্ছিলেন। বালিগাদা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি পিকআপ ভ্যান ধাক্কা দিলে তাঁরা সামনে পড়েন যান। এ সময় পিকআপের চাপায় ঘটনাস্থলে নানি ফরিদা বেগম ও নাতি সাদ মারা যায়। আহত সামাদ মোড়লকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    সামাদ মোড়লের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান।

    সন্ধ্যায় তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, নানি ও নাতির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

  • নারী ধূমপায়ীদের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ

    নারী ধূমপায়ীদের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ

    ধূমপান নিয়ে যখন চলছে হাজার তর্ক-বিতর্ক সেখানে আমাদের দেশ ধূমপায়ীদের তালিকায় শীর্ষে। এখানে ধূমপানে অভ্যস্ত নেই এমন পুরুষ হাতে গোনা খুব কম। তাই বলে নারীর যে ধূমপান করে না, তা কিন্তু নয়। তারাও করে তাই বলে একেবারে নারী ধূমপায়ীর তালিকায় যে বিশ্বে বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করবে তা হয়তো কেউ ভাবেও নি। তবে এমনটাই ঘটেছে।

    ক্রোয়েশিয়া ইন্সটিটিউট অব পাবলিক হেলথের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া। পোল্যান্ড এবং রোমানিয়া এই তালিকায় ক্রোয়েশিয়ার আগে অবস্থান করছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিবছর শুধুমাত্র ধূমপানের কারণে ক্রোয়েশিয়ার তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ২২টি ধূমপায়ী দেশের তালিকায় ক্রোয়েশিয়া বিশ্বে সপ্তম। এরপরেই আছে পোল্যান্ড ও রোমানিয়া।

    ক্রোয়েশিয়া ইন্সটিটিউট অব পাবলিক হেলথের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রোয়েশিয়ার ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে অন্তত ৩১ শতাংশ নাগরিক ধূমপান করে। এ হিসেবে দিনে প্রত্যেকেই ১৬টি সিগারেট ধূমপান করে। এজন্য প্রতিমাসে মাথাপিছু ৭০ ইউরো দরকার হয় তাদের।

    ধূমপানে অনেক ক্ষতি জেনেও মানুষ আসক্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু মরণব্যাধি এই জিনিসটাকে কেউ ছাড়তে পারে না। আমাদের নিজেদের এই ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত

  • একই রশিতে ফাঁস দিয়ে প্রেমের ইতি!

    একই রশিতে ফাঁস দিয়ে প্রেমের ইতি!

    মনির ও কল্পনার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে দুজনেরই ভিন্ন জায়গায় বিয়ে হয়। ভিন্ন দুটি সংসার ছিল তাঁদের। এতে সুখের বদলে প্রেম নিয়ে আসে বিড়ম্বনা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জলপাইগাছ থেকে একই রশিতে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায়। রাত ১১টার দিকে উপজেলার পশ্চিম পিরিজপুর গ্রামের একটি জলপাইগাছ থেকে একই রশিতে গলা বাঁধা অবস্থায় তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ বলছে, এটি আত্মহত্যা হতে পারে।

    মনির হোসেন (২২) উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম পিরিজপুর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে। কল্পনা বেগম (২০) একই গ্রামের আবদুল করিমের মেয়ে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পরকীয়ার জের ধরে তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন।

    কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হামিদুল্লাহ তালুকদার আজ শুক্রবার বলেন, বিয়ের আগে থেকেই মনির ও কল্পনার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তিনি শুনেছেন। পরে তাঁদের অন্যত্র বিয়ের হয়। বিয়ে হলেও কল্পনা বাবার বাড়িতে থাকতেন। মনির ছিল তাঁর (কল্পনা) প্রতিবেশী। ফলে বিয়ের পরেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল। এই জটিল পরিস্থিতি এড়াতে দুজন আত্মহত্যা করেন বলে ইউপি চেয়ারম্যান মনে করছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে শ্রীবরদী উপজেলার গড়খোলা গ্রামের তারেকের সঙ্গে কল্পনা বেগমের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই কল্পনা তাঁর বাবার পশ্চিম পিরিজপুর গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। প্রতিবেশী মনিরের সঙ্গে কল্পনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মনির হোসেনও বিবাহিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় মনির ও কল্পনা একই গ্রামের খাজলের বাড়ির সামনের একটি জলপাই গাছের ডালে একই রশিতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এলাকাবাসীর কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে গতকাল রাত ১১টার দিকে শ্রীবরদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

    কল্পনার বাবা আবদুল করিম মুঠোফোনে বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। সংবাদ পেয়ে তিনি বাড়িতে এসেছেন। তবে মেয়ের মৃত্যুর জন্য তিনি কাউকে দায়ী করেননি।

    শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় শ্রীবরদী থানায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরকীয়ার জের ধরে তাঁরা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

  • রিকশাচালককে পেটানো সেই সুইটিকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার

    রিকশাচালককে পেটানো সেই সুইটিকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার

    রিকশাচালককে পেটানোর অভিযোগে ঢাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সুইটি আক্তার শিনুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে বহিষ্কার করা হয় বলে জানা গেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার এক রিকশা চালককে প্রকাশ্যে মারধর করেন আওয়ামী লীগের নেত্রী সুইটি আক্তার শিনু। মারধরের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। এরই প্রেক্ষিতে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।

    ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আব্দুল হাই হারুন ও সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন তালুকদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সুইটি আক্তার শিনুর সাম্প্রতিক আচরণ সংগঠনের সুনাম নষ্ট করছিল। তাকে এর আগে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তিনি সংশোধন হননি। বরং একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েই যাচ্ছিলেন। তাই ১১ ডিসেম্বর নির্বাহী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তে সুইটিকে মহিলা সম্পাদিকা ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সুইটি আক্তার শিনুর সংগঠনের সুনাম নষ্ট করে আসছিলেন। এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি সংশোধন হননি। পরে রিকশাচালককে মারধরের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ১১ ডিসেম্বর নির্বাহী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তে সুইটিকে মহিলা সম্পাদিকা ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    গত বুধবার বিকেলে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায় রিকশাচালকের ওপর চড়াও হয়েছেন এক নারী। তিনি ওই রিকশার যাত্রী ছিলেন। দ্রুত রিকশা না চালানোর কারণে তিনি চটে যান। ভিডিওতে রিকশাচালকের ওপর মারমুখী অবস্থায় দেখা যায় তাকে।

    এক পর্যায়ে প্রকাশ্য দিবালোকে সবার সামনে রিকশা থেকে নেমে চালকের গায়ে হাতও তোলেন  ওই নারী। আবারো রিকশায় উঠে হাতের ব্যাগ দিয়ে চালককে মারতে উদ্যত হন। ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে লাথি ছুঁড়তেও দেখা যায়।

    ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পথচারীরা ওই নারীর আচরণের প্রতিবাদ করেন। তবে কোনো প্রতিবাদেই নিজের অবস্থান থেকে সরেননি তিনি। উল্টো পথচারীদের সঙ্গেও ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন তিনি।

    ওই নারী ঢাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সুইটি আক্তার শিনু বলে পরিচয় পাওয়া যায়।

  • ভিকারুননিসার শিক্ষিকা হাসনা হেনার জামিন

    ভিকারুননিসার শিক্ষিকা হাসনা হেনার জামিন

    ছাত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচণা মামলায় ভিকারুননিসার শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার বিকালে ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ এই আদেশ দেন।

    এর আগে শিক্ষিকা হাসনা হেনার আইনজীবীরা আদালতে তার জামিন আবেদন করেন। পরে আদালতের হাকিম বাকী বিল্লাহ তার জামিন মঞ্জুর করেন।

    এর আগে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।

    উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি।

    মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ভিকারুননিসার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।

    ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত ১০টায় রাজধানীর পল্টন থানায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলা দায়ের করেন অরিত্রির বাবা।

  • বরিশালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

    বরিশালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার/শামীম ইসলাম:

    বরিশালের উজিরপুরে উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের ১৪০নং গড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিশু ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। সে উজিরপুর স্থানীয় শিক্ষা কমিটির সদস্য।

    গত কয়েকমাস ধরে বিদ্যালয়টির শিশু ছাত্রীদের সাথে প্রধান শিক্ষকের অব্যাহত যৌন হয়রানির বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীসহ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

    যৌন হয়রানি শিকার ওই সকল ছাত্রীর অভিভাবকরা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    সরেজমিনে গেলে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর একাধিক শিশু ছাত্রীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান শিক্ষক তাদের শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে তাদেরকে যৌন হয়রানি করে আসছিলো। মাঝে মধ্যে তাদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরে, কাউকে আবার নাতনি বলে শরীরের বিভিন্নস্থানে হাত দেয় প্রধান শিক্ষক মিজান। এতে তাদের খুবই বিরক্ত লাগে। দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান শিক্ষক তাদের সাথে এ ধরনের নোংরামি করে আসছিলো।

    ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর একাধিক ছাত্রীরা জানায়, তাদেরকে দিয়ে শ্রেণী কক্ষের মধ্যেই প্রধান শিক্ষক হাত-পাঁ চাপায়। আর সে নিজে ব্যস্ত থাকেন মোবাইল ফোন নিয়ে। মাঝে মাঝে বিদ্যালয় ঝাঁড়ু দেয়াসহ বিভিন্ন কষ্টদায়ক কাজ করায়।

    এসব বিষয় সম্পর্কে অভিযোগকারী ছাত্রীরা তাদের অভিভাবকদের কাছে জানালে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে এড়িয়ে থাকতে বলেছেন ভুক্তভোগীদের অভিভাবকরা।

    ওই বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা জানান, এ ধরনের আপত্তিকর কর্মকান্ড আসলে দু:খজনক। প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে পঞ্চম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্রীরা অনেকে অনেক কিছু আমার কাছে বলছে। কিন্তু নিজের চোঁখে কিছু দেখি নাই।

    অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, এটা উদ্দেশ্য প্রনোদিত অভিযোগ। আমি এ বিদ্যালয়ে থাকি এটা স্থানীয় একটি কু-চক্রি মহল চায়না, তারা চায় আমি এখান থেকে চলে যাই।

    এ ব্যাপারে উজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ দেন তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা কারাগারে

    অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা কারাগারে

    ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হাসনা হেনাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন। নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার দেওয়ার মামলার আসামি হাসনা হেনা।

    অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে নেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে।

    আজ হাসনা হেনাকে আদালতে হাজির করে তাঁকে জামিন না দেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার। আদালতকে তিনি প্রতিবেদন দিয়ে বলেছেন, অরিত্রীর বাবার সুস্পষ্ট ধারণা যে, শিক্ষকদের আচরণের কারণে অরিত্রী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে থেকে মামলার তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করবেন।

    অন্যদিকে হাসনা হেনার আইনজীবীরা তাঁর জামিন চান। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    ডিবির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, ভিকারুননিসার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আখতার আজকের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

    গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিনাত আখতার ও অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা বরখাস্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর অভিযোগ, গত রোববার পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান। মোবাইলে নকল করেছে—এমন অভিযোগে অরিত্রীকে সোমবার তার মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সোমবার স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাঁদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতে বলেন। পরে প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন। এ সময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে বাসায় গিয়ে দিলীপ অধিকারীর দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে।

  • ভিকারুননিসার আন্দোলন স্থগিত, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে

    ভিকারুননিসার আন্দোলন স্থগিত, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে

    রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ছাত্রী ও অভিভাবকদের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। কাল শুক্রবার থেকে পরীক্ষা দেবে শিক্ষার্থীরা এবং ক্লাসে ফিরে যাবে তারা।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর আগে প্রায় দুই ঘণ্টা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকেরা আলোচনা করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ স্কুলের ভেতর থেকে বের না হওয়ায় বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকেরা ক্ষেপে যান। অভিভাবকেরা জোর করে গেটের ভেতরে ঢুকে যান। পরে শিক্ষার্থীরা বের হওয়া শুরু করে। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী জানায়, ভেতর থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে। তারা জানায়, তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষের আয়ত্তের মধ্যে যেগুলো তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিক্ষকেরা। আর অন্যান্য দাবি যেগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় চলছে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বলার কিছু নেই। দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কারণেই শিক্ষার্থীরা শুক্রবার থেকে পরীক্ষা দেবে।

    এর আগে দুপুরের দিকে গণমাধ্যমের কাছে অরিত্রীর মা-বাবার কাছে পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘আমরা মর্মাহত। আমরা এ ঘটনায় জন্য অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাই।

    অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় আজ তৃতীয় দিনের মতো বেশ কিছু ছাত্রী বেইলি রোডে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। ছাত্রীরা জানায়, তারা যে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে, তার মধ্যে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। এতে তারা সন্তুষ্ট। বাকি দাবিগুলোরও বাস্তবায়ন চায় তারা।

  • রাজধানীর বাংলামোটরে শিশু হত্যা: বাবা রিমান্ডে

    রাজধানীর বাংলামোটরে শিশু হত্যা: বাবা রিমান্ডে

    রাজধানীর বাংলামোটরে শিশু নূর সাফায়েতকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন।

    শাহবাগ থানা-পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার আসামি নুরুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, নুরুজ্জামান নিজে তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। তবে নুরুজ্জামানের আইনজীবী আবদুস সাত্তার আদালতের কাছে দাবি করেন, তাঁর মক্কেল নুরুজ্জামান এখন মানসিকভাবে অসুস্থ। আগে তাঁর মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

    আইনজীবী আবদুস সাত্তার আদালতের কাছে দাবি করেন, গত অক্টোবর মাসে নুরুজ্জামানকে ছেড়ে যান তাঁর স্ত্রী। রেখে যান তাঁর দুই সন্তান। নুরুজ্জামানের স্ত্রীকে বাসায় ফিরে আসার জন্য আইনি নোটিশ দেন তিনি। স্ত্রী ফিরে না আসায় দুই ছেলের দেখাশোনা করছিলেন তিনি। আদালতে আনার পর নুরুজ্জামান বলতে থাকেন, তিনি তাঁর ছেলেকে হত্যা করেননি। চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল তাঁর ছেলে। ঘুমের ঘোরে মারা গেছে তাঁর ছেলে।

    শুনানি শেষে নুরুজ্জামানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    এর আগে গতকাল বুধবার রাতে শাহবাগ থানায় নুরুজ্জামান কাজলকে আসামি করে মামলাটি করেন সাফায়েতের মা মালিহা আক্তার।

    রাজধানীর বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা শিশু নূর সাফায়েতের লাশ আজ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীরে ধারালো কোনো বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

    বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীরে ধারালো কোনো বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে তার যকৃৎ ও মস্তিষ্কে কিছু সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে। কপালে ছোট দুটি আঘাত আছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোনো রক্তক্ষরণ নেই। তার গলব্লাডার স্বাভাবিকের চেয়ে বড়। ধারাবাহিকভাবে যারা না খেয়ে থাকে, তাদের গলব্লাডার সাধারণত এমন হয়ে থাকে। শিশুটি অপুষ্টিতে ভুগছিল। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে যকৃৎ, হৃদ্‌যন্ত্র ও গলব্লাডার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন চিকিৎসকেরা।