Category: নারী ও শিশু

  • বরিশালে ববির ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হতে পেরে ছাত্রীর আত্মহত্যা

    বরিশালে ববির ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হতে পেরে ছাত্রীর আত্মহত্যা

    স্টাফ রিপোর্টার/শামীম ইসলাম:

    বরিশালের ঝালকাঠি নলছিটির সুগন্ধা নদী থেকে অন্তুন্নাহার মিম (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রীর নিখোঁজের ছয়দিন পরে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার দপদপিয়া পুরাতন ফেরিঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় মিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মিম বরিশাল মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিল। তার পরিবার জানিয়েছেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে সে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

    নলছিটি থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হালিম তালুকদার জানায়, রাতে দপদপিয়ার পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীতে এক তরুণীর লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীরা। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করেন।

    মিমের বাবা শাহআলম মিজি বরিশালে এনএসআইর ফিল্ড অফিসার পদে চাকরি করেন। তিনি জানান, মিম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়। এতে তার মনমানসিকতা খারাপ ছিল। গত ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় সে বরিশাল চাঁদমারী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

    এরপর থেকেই সে নিখোঁজ থাকে।সে নিজেই নদীতে ঝাঁপ দিয়েই আত্মহত্যা করেছে। কেউ হত্যা করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

    নলছিটি থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হালিম তালুকদার জানান, এ ঘটনায় নলছিটি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

  • অরিত্রীর আত্মহত্যায় পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ভিকারুননিসার ছাত্রীদের

    অরিত্রীর আত্মহত্যায় পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ভিকারুননিসার ছাত্রীদের

    রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ক্যাম্পাসের আন্দোলনরত ছাত্রীরা বিচার না হওয়া পর্যন্ত সব পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা কাল বুধবার সকাল থেকে কলেজের ফটকে অবস্থান নেবেন বলে জানান।

    কলেজের অধ্যক্ষ ও শাখাপ্রধানের পূর্ণ বরখাস্ত, গভর্নিং বডির বাতিল, প্রচলিত আইনে অরিত্রী হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্রী ও অভিভাবকেরা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    আজ মঙ্গলবার স্কুলের বেইলি রোড শাখায় দিনভর আন্দোলন শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাঁরা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী তিন দিনের কথা বলেছেন, এর মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা না হলে লাগাতার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সকল পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হলো। ৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় স্কুলের ১ নম্বর ফটকের সামনে তাঁরা অবস্থান করবেন।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। আজ মঙ্গলবার দিনভর বাইরে ছাত্রী-অভিভাবকদের বিক্ষোভের মধ্যেও পরীক্ষা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই কর্মসূচি ডেকে তাঁরা দিনের আন্দোলন শেষ করেন। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনার বিচারের দাবিতে আজ দিনভর এই বিক্ষোভ হয়। দুপুরে কয়েকটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও আন্দোলনে যোগ দিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। দুপুরের পর থেকে ছাত্রীদের একটি দল নিজেরাই থেমে থেমে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।

    অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর অভিযোগ, রোববার তাঁর মেয়ের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পায়। মোবাইলে নকল করেছে—এমন অভিযোগে অরিত্রীকে সোমবার তার বাবা-মাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়।

    তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সোমবার স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাঁদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতে বলেন। পরে প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলেও তিনি একই আচরণ করেন। এ সময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে বাসায় গিয়ে দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে।

    অরিত্রীদের শান্তিনগরের বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সোমবার বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে চিকিৎসকেরা অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।

    প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিকেলে দাবি ও কর্মসূচি লেখা পোস্টার প্রদর্শন করে ছাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীতআজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্ষুব্ধ ছাত্রী ও অভিভাবকেরা বেইলি রোডে কলেজের ফটকে জড়ো হন। সেখানে তাঁরা ‘একি শুধু আত্মহত্যা?’, ‘সুইসাইড মানে কি শুধুই প্রেমে ব্যর্থতা?, ‘স্কুল কিলস স্টুডেন্টস’, ‘এই শহরে কোনো তীব্র স্লোগান মুখর হতে বেশিক্ষণ লাগে না’, ‘আমরা আর অরিত্রী চাই না’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। দিনভর থেমে থেমে তাঁদের বিক্ষোভ চলে। সারা দিনই গণমাধ্যমগুলো ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা ভিকারুননিসার বিভিন্ন অনিয়মের কথা বলছিলেন।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ কখনোই কোনো অভিভাবকের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না। অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বাধ্যতামূলকভাবে আলাদা আলাদা বিষয়ে সবাইকে কোচিং করতে হয়। চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রীর একজন অভিভাবক এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, ‘আপনারা আসার পর এখন পর্যন্ত কোনো ভালো কথা শুনেছেন? শুধু রেজাল্ট ভালো বলে আর কোনো বিকল্প না থাকায় অভিভাবকেরা এখানে ছাত্রীদের ভর্তি করান।

    সকালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কলেজ ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষকের কথায় অপমানিত হয়ে আত্মহত্যার এই ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এ ঘটনায় কেউ অপরাধী হলে অবশ্যই শাস্তি পাবে।

    তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী কতটা অপমানিত হলে, কতটা কষ্ট পেলে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়? যে ঘটনাগুলো আমরা শুনছি, এর পেছনের কথা শুনছি, ঘটনার পেছনে বা ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে এই কমিটির প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

    ভিকারুননিসা নূন স্কুল সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এটা অভিভাবকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। তাঁদের ছেলেমেয়েদের এখানে পড়াতে চান। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, জনপ্রিয়তার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষের নানা অনিয়মের কথা অনেক আগেই কানে এসেছে। এসব অনিয়মের কারণে টাকার বিনিময়ে ভর্তি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখানে ভর্তির জন্য একসময় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো, যা বন্ধ করা হয়েছে।

    পরে দুপুরের দিকে অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা সবাই মর্মাহত।’ এই ঘটনা তদন্তে মন্ত্রণালয়ের বাইরেও নিজেরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছেন বলে জানান তিনি। অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলের শিক্ষকদের খারাপ ব্যবহার প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। তবে অরিত্রীকে টিসি দেওয়া নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে-এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

    দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরীক্ষা শুরু হয়। ছাত্রীদের একটা দল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ জানাতে থাকেন এবং পরীক্ষায় অংশ নেবেন না বলে জানান। কেউ কেউ বাসায় চলে যান। তবে বেশির ভাগ ছাত্রীই পরীক্ষা দিয়েছেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পরীক্ষা শেষ হলে বিক্ষোভে আরও কিছু ছাত্রী যোগ দেন।

    ওই সময় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত মূল শাখার প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    কিন্তু এই ঘোষণার পরও আন্দোলনকারীরা আরও ঘণ্টাখানেক গভর্নিং বডির পদত্যাগ ও অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কয়েকজন ছাত্রী একটি প্ল্যাকার্ডে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

  • বরিশালে ইয়ুথ কগনিশনের উদ্যোগে এবং পুলিশের সহযোগিতায় ইভটিজিং বিরোধী অভিযান

    বরিশালে ইয়ুথ কগনিশনের উদ্যোগে এবং পুলিশের সহযোগিতায় ইভটিজিং বিরোধী অভিযান

    হুজাইফা রহমান:

    আজ বরিশালের স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ইয়ুথ কগনিশনের উদ্যোগে ইভটিজিং বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। এবছরের মে মাসে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ইভটিজিং বিরোধী ক্যাম্পেইন ও জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে ইয়ুথ কগনিশন ইভটিজিংয়ের শিকার হলে কি করণীয় তা জানানো হয়।

    ছাত্রীদের এবং যে সমস্ত স্থানে স্কুল ছাত্রীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হতো, সেসব স্থানের নাম উল্লেখ করা হয় উক্ত জরিপে। পরে তা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়।

    পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশে আজ দুপুর সাড়ে ১২ টায় আমতলার মোড় এ.আর.এস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এলাকা ও স্বাধীনতা পার্কে ওসি কোতোয়ালি মডেল থানা এ অভিযান পরিচালনা করে এবং ইয়ুথ কগনিশনের সদস্যরাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় উক্ত বালিকা বিদ্যালয় এলাকা থেকে দুই বখাটে যুবক কে মোটরসাইকেল সহ আটক করা হয়, এছাড়াও স্বাধীনতা পার্কে স্কুল ফাঁকি দিয়ে স্কুল ড্রেস পরিহিত প্রেমিক – প্রেমিকা জুটিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার কথা বলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বরিশাল পুলিশ।

  • রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরপ্রতীক তারামন বিবির দাফন সম্পন্ন

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরপ্রতীক তারামন বিবির দাফন সম্পন্ন

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় একাত্তরের রণাঙ্গনের বীরকন্যা বীরপ্রতীক তারামন বিবির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে বাদ জোহর মরহুমাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। পরে উপজেলার কাচারীপাড়া গ্রামে তার পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।

    এসময় উপস্থিত থেকে বীর প্রতীক তারামন বিবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী বীর বিক্রম, মুক্তিযোদ্ধা মেজর তাজ, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম টুকু, গণজাগরন মঞ্চের উদ্যোক্তা ইমরান এইচ সরকার, সাবেক এমপি জাকির হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

    বীর প্রতীক তারামন বিবি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস, ডায়েবেটিস আর শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছিলেন। গত ৮ নভেম্বর রাজীবপুর থেকে নিয়ে ময়মনসিংহ সিএমএইচে (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) ভর্তি করা হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয় তারামন বিবিকে। সেখানে চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে সপ্তাহখানেক আগে তাকে রাজীবপুরের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তারামন বিবির শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হয়। তখন তাকে রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বাড়িতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। কিন্তু রাত দেড়টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তারামন বিবি।

  • গোপনাঙ্গে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, তরুণী আটক

    গোপনাঙ্গে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, তরুণী আটক

    গোপনাঙ্গে ইয়াবা লুকিয়ে রেখেও শেষ রক্ষা হল না বিমানযাত্রী নাফিজা আকতারের। বিমানে ওঠার আগে তল্লাশিকালে তার গোপনাঙ্গে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা।

    শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইয়াবাসহ নাফিজাকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটক নাফিজা পঞ্চগড় সদর উপজেলার মিঠাছড়ি এলাকার রফিক মিয়ার মেয়ে।

    কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো. খাইরুজ্জামান বলেন, নাফিজা আকতার নভোএয়ার বিমানের যাত্রী ছিল। বিকেল ৩টা পাঁচ মিনিটে ফ্লাইট ছাড়ার কথা ছিল। দুপুর আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় তল্লাশিকালে স্ক্যান মেশিনে নাফিজার গোপনাঙ্গে ইয়াবার উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাকে আটকে রেখে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

    ওসি আরও বলেন, তার গোপনাঙ্গে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাফিজা জানিয়েছে, প্রায় সময় বিমানে বা সড়ক পথে কক্সবাজারে এসে ফিরে যাওয়ার সময় ইয়াবা নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে। কক্সবাজারে তার সহযোগী চক্রকে ধরার চেষ্টা চলছে।

  • নারী চা দোকানিকে ‘মারধর’ জাবি শিক্ষার্থীর

    নারী চা দোকানিকে ‘মারধর’ জাবি শিক্ষার্থীর

    পাওনা টাকা চাওয়ায় বিবি আয়েশা খাতুন (৩৫) নামের এক চা দোকানিকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে।

    ওই ছাত্রের নামে লায়েব আলী। তিনি দর্শন বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র।

    কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আজ শনিবার বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে গিয়ে লায়েব আলী কয়েকটি বিস্কুট নেন। এ সময় আগের পাওনা আড়াই’শ টাকা দেওয়ার অনুরোধ জানান দোকানি আয়েশা খাতুন। এতে রেগে গিয়ে লায়েব ওই দোকানিকে গালাগাল করতে শুরু করেন। গালাগাল করতে নিষেধ করায় দোকানের পাশে পড়ে থাকা একটি বাঁশের খণ্ড দিয়ে আয়েশা খাতুনকে আঘাত করেন লায়েব। এ সময় দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

    আয়েশা খাতুন বলেন, ‘পাওনা টাকা চাওয়ায় লায়েব গালি দিতে থাকেন। গালি দিতে নিষেধ করলে তিনি বাঁশের লাঠি দিয়ে আমার হাতে মারেন। পরে রবিউল ইসলাম নামে অপর এক ছাত্র এসে টাকা পরিশোধ করে দেন। এরপর তিনি (রবিউল) আমাকে বলেন, মহিলা মানুষের ছেলেদের হলের সামনে দোকান করার দরকার নাই।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে লায়েব আলী বলেন, ‘আমার কাছে ওই দোকানদারের টাকা পাওয়ার কথা না। তারপরও তিনি আমার কাছে টাকা দাবি করেন। আমি তাঁর কাছে টাকার লিখিত হিসাব দেখাতে বলি। তিনি হিসাব দেখাতে পারেননি। তাই ধমক দিয়েছি আর বলেছি শিক্ষার্থীদের সম্মান দিয়ে কথা বলতে। তবে তাঁকে মারধর করিনি।

    রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি গিয়ে ওই দোকানদারকে বুঝিয়ে বলেছি। গত কয়েক দিন ধরে হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ওই দোকানদারের ঝামেলা হচ্ছে। তাই ওনাকে বলেছি উনি না এসে দোকানে ওনার স্বামী অথবা ছেলেকে বসতে।

    মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। হলের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • হাতের মেহেদি না মুছতেই ঝরে গেল ইতি

    হাতের মেহেদি না মুছতেই ঝরে গেল ইতি

    টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ভট্রবাড়ী গ্রামে নুরুন্নাহার ইতি (১৯) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন একে আত্মহত্যা বললেও নিহতের বাবার পরিবার আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে নারাজ। তারা একে নৃশংস হত্যা বলছে।

    মধুপুর থানা পুলিশ শুক্রবার বেলা ১১ টায় লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

    মধুপুর উপজেলার ভট্রবাড়ী গ্রামের জলিলের স্ত্রী নুরুন্নাহার ইতি গোপালপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের বাগুয়া গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে। স্বামীর বাড়ি থেকে তিনি কলেজে ক্লাস করতেন। সামনের সপ্তাহে তার পরীক্ষা ছিল।

    নিহত ইতির চাচা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ ভুট্টো জানান, ছয় মাস আগে মধুপুরের ভট্রবাড়ীর মেছের আলীর ছেলে জলিলের সাথে ইতির বিয়ে হয়। এ সময় জলিলকে যৌতুক দেয়া হয়েছে। বিয়ের পর থেকে নানা বাহানায় আরও যৌতুক নেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয় জলিলের পরিবার। সর্বশেষ কিছুদিন আগে ব্যবসার কাজে আরও ১ লাখ টাকা দাবি নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। ভাতিজী তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিল দাবি করে আব্দুল হামিদ ভুট্টো বলেন- জলিলের পরিবার ইতিকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছে।

    মধুপুর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ইউডি মামলা হওয়ার কথা বলে তিনি আরও জানান, মর্গের রিপোর্ট ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বরগুনায় বৃদ্ধ দম্পতির লাশ উদ্ধার

    বরগুনায় বৃদ্ধ দম্পতির লাশ উদ্ধার

    বরগুনার সদর উপজেলার ৭ নং ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী গ্রাম থেকে আবদুল মান্নান (৭০) ও তাঁর স্বী ফাতিমা বেগমের (৬০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

    ওসি জানান, স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে পুলিশ আটক করেছে। তাঁরা ওই দম্পতির ছেলে ও তাঁর বউ। এ ঘটনায় এখনো সুরতহাল হয়নি।

    এ ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবদুল মান্নান শয্যাশায়ী ছিলেন। আজ সকালে দুজনকে ঘরে মৃত অবস্থায় দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

  • স্বামীদের কারণেই মাদক ব্যবসায় নারীরা

    স্বামীদের কারণেই মাদক ব্যবসায় নারীরা

    স্বামীদের কারণেই মাদক ব্যবসা, বহন ও সেবনে জড়িয়ে পড়ছেন বেশির ভাগ নারী। পরিবারের নারী সদস্যদের দিয়ে মাদক বহন ও আর্থিক লেনদেনের কাজ করাচ্ছেন মাদক ব্যবসায়ীরা।

    কারা কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে যে নারীরা কারাগারে আছেন, মূলত তাঁদের মাধ্যমেই বড় পরিসরে মাদক ব্যবসা চলছে। এঁরাই কারাগারে মাদকসহ ধরা পড়ছেন, আবার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় বেরিয়েও যাচ্ছেন।

    নারায়ণগঞ্জ কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নারী বন্দীদের বেশির ভাগই আটক হয়েছেন স্বামীর সঙ্গে। অনেকের স্বামী জামিনে ছাড়া পেয়েছেন, কয়েকজনের স্বামী ক্রসফায়ারে মারাও গেছেন। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ কারাগারের ভেতরে গিয়ে মাদক মামলায় বন্দী অন্তত ৩০ জন নারীর সঙ্গে কথা হয়।

    পরিশীলিত পোশাক পরা এক নারীর সঙ্গে কথা হলো। জিজ্ঞেস করলে নাম বললেন, সাবিনা আক্তার রুনু। জানালেন, তাঁর স্বামী আরিফ পুলিশের হেফাজতে থেকেই মাদক ব্যবসা করেছেন, অস্ত্রের ব্যবসাও করতেন। তাঁর স্বামীকে যখন আটক করা হয় তখন তিনিও আটক হন। তাঁর স্বামী ৫ লাখ টাকা দিয়ে মদনপুরে এক ‘পার্টির’ কাছ থেকে ইয়াবা কিনতে পাঠান তাঁকে। সঙ্গে যান বন্দর থানার দুই এসআই। তাঁরা টাকার ভাগ পেতেন। কিন্তু পরে সাবিনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আর ইয়াবা দেননি। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের ওই দুই এসআই পুরো টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ঘটনার দুই মাস পর গত এপ্রিল মাসে আরিফ বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। সাবিনার তিনটি সন্তান এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। মামলাও রয়েছে তাঁর নামে, জানালেন সাবিনা।

    লাল ফিতা দিয়ে চুল বাঁধছিলেন মাজেদা বেগম।মিথ্যা বলব না। আমি মাদকের (গাঁজার) ব্যবসা করি অনেক আগে থেকেই। আমার ভাই, বোন, স্বামী সবাই বিভিন্ন কারাগারের ভেতরে মাদক বিক্রি করে। আমার স্বামীই এ ব্যবসা শিখাইছে। তারা কারওয়ান বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসে। আমাদের দলে আরও ২০০ জন আছে। একজন আটক হইলে আরেকজন জামিন 
    নিয়ে দেয়।

    কারাগারে বসেই কথা হয় লিজা, নারগিছ, পারভীন, কোহিনূরসহ আরও অনেক নারী বন্দীর সঙ্গে। তাঁদের সবার এক কথা, এখান থেকে বের হয়ে আর এ পেশায় থাকতে চান না। এ পেশায় অনেক ঝুঁকি। তাঁরা যেকোনো উপায়ে কাজ শিখতে চান। কিন্তু বের হলে স্বামীরা তাঁদের আবার এ পেশায় আনতে বাধ্য করবেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে।

    জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমাদের কারাগারে যাঁরা আছেন, তাঁদের বেশির ভাগই মাদক মামলায় আটক এবং এঁদের বেশির ভাগই মাদক বহনকারী। অনেকের স্বামী ইয়াবা সেবন করে বা ব্যবসা করে সে জন্যই তাঁরা মাদকের দিকে বেশি ঝুঁকে গেছেন। যাঁরা কারাগারে আছেন, আমরা তাঁদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তাঁদের ভালো হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করি।নারায়ণগঞ্জ কারাগার মাদকমুক্ত বলে দাবি করেন তিনি।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, নারী মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়ছে। এঁরা অনেক কৌশলে মাদক বহন করতে পারেন। এ জন্য বড় বড় ব্যবসায়ীরা তাঁদের এই ব্যবসায় নামতে বাধ্য করেন। প্রথমে পুরুষদের, পরে তাঁদের স্ত্রীদের এ পেশায় আনেন। তিনি বলেন, এ পেশা থেকে মাদক ব্যবসায়ী নারীদের বের করে আনতে তাঁদের কাজের প্রতি আগ্রহী করতে হবে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরামর্শ সভা করতে হবে। তাহলেই জেল থেকে বের হয়ে আর এ পেশায় জড়াবে না তাঁরা।

  • বরিশালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নগরীতে মানববন্ধন

    বরিশালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নগরীতে মানববন্ধন

    স্টাফ রিপোর্টার/ শামীম ইসলাম:

    বরিশালে ২০১৮ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে,আজ নগরীর সদর রোডে মানববন্দন করে, বরিশাল সম্মিলিত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন পর্ষদ।