Category: নারী ও শিশু

  • পুরুষের বিরুদ্ধে নয়, আন্দোলন নিপীড়কের বিরুদ্ধে

    পুরুষের বিরুদ্ধে নয়, আন্দোলন নিপীড়কের বিরুদ্ধে

    যৌন নিপীড়কের মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য #মি টু আন্দোলন। কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে নয়। ঘরে-বাইরে শিশু ও নারীর নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র তৈরির জন্য #মি টু আন্দোলনে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে এক সংহতি মানববন্ধন থেকে।

    আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে দেশের নারী সাংবাদিকদের অনেকে ‘#মি টু সংহতি’ মানববন্ধন করেন। ‘যৌন নিপীড়নকে না বলুন, নিপীড়কদের বয়কট করুন’স্লোগানে এ মানববন্ধন হয়।

    পশ্চিমা দেশ ছাড়িয়ে পাশের দেশ ভারত হয়ে #মি টু আন্দোলন শুরু হয় বাংলাদেশে। এ দেশের মেয়েরাও এখন নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্তার ঘটনা প্রকাশ্যে তুলে ধরছেন। আজকের মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, এখন পর্যন্ত নয়জন নারীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্তার ঘটনা জানা গেছে।

    বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, ‘দীর্ঘদিন নিজেদের মধ্যে চেপে রাখা এই নিপীড়নের ঘটনা যাঁরা সামনে এনেছেন, তাঁদের স্যালুট জানাই। আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এসেছি।’ এ আন্দোলন পুরুষদের বিরুদ্ধে নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে, উল্লেখ করে এই সাংবাদিক নেত্রী বলেন, ‘সব পুরুষ অপরাধী না। অপরাধীরাই পুরুষ সমাজকে কলঙ্কিত করেছে।’ পুরুষদেরও তিনি এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। নিপীড়কদের মুখোশ খুলে দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে বর্জন করারও আহ্বান জানান তিনি।

    নিপীড়ক যতই প্রভাবশালী বা গুণী হোক, তিনি নির্যাতন করে পার পেতে পারেন না, বলে উল্লেখ করেন নাসিমুন আরা হক মিনু। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দেওয়া রায় সব কর্মক্ষেত্রে মানা ও সরকার থেকে এ ব্যাপারে বিশেষ সেল গঠন করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাঠ্যসূচিতেও এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান নাসিমুন আরা। তিনি জানান, ১৮ নভেম্বর রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আরেকটি মানবন্ধন হবে। সেই মানবন্ধনে তিনি সব শ্রেণিপেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    উইমেন জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি মমতাজ বিলকিস বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য #মি টু নিয়ে আলাদা একটি বিভাগ থাকা দরকার, যেখানে নারীরা তাঁদের কথাগুলো বলতে পারেন। বিষয়গুলো এখন সামনে না এলে নারীর প্রতি আচরণের প্রথা বদলাবে না।

    ‘লজ্জা’ বলে চেপে রাখলে নিপীড়কদের সাহস বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাভিশনের বার্তা সম্পাদক শারমিন রিনভী। তিনি বলেন, ‘এটা মেয়েদের আন্দোলন না। এটা মানুষের আন্দোলন। নিপীড়কের পরিচয় উন্মোচন হোক।’ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো নিপীড়ককে যেন নির্বাচনে প্রার্থী করা না হয়।

    নিউজ টোয়েন্টিফোর-এর যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আঙ্গুর নাহার মন্টি বলেন, ‘#মি টু শুধু মেয়েদের না, ছেলেরাও মুখ খুলতে শুরু করেছে। শিশু থেকে শুরু করে ছেলে বা মেয়ে যে কেউ এ ধরনের নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। যখন কেউ নিজের নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ করেন, তখন তাঁর সমালোচনা না করে সহানুভূতি দেখাতে হবে।’ বাংলা ট্রিবিউন-এর প্রধান প্রতিবেদক উদিসা ইমন বলেন, ‘অভিযুক্তদের নিয়ে বা আন্দোলন নিয়ে কোনো হাস্যরস করা যাবে না।

    শুক্রবারের মানববন্ধনে নাদিবা দিলরুবা ও মুশফিকা লাইজু নিজেদের #মি টু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

    সম্প্রতি দ্য ‘ডেইলি স্টার’-এর এক কর্মীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির এক সাবেক কর্মীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশিত হয়। ‘ডেইলি স্টার’ ঘটনাটির তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ায় মানববন্ধন থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানানো হয়। বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেসব প্রতিষ্ঠান যেন নিজ উদ্যোগে তদন্ত করে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ জানানোর বিশেষ সেল গঠন করে।

    মানববন্ধনের আগে একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি নাজনীন মুন্নী বলেন, এ দেশে এখন #মি টু নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার চিন্তা কেউ না করে। যেসব জায়গায় মেয়েদের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেসব জায়গায় মেয়েদের সচেতন করা ও প্রতিষ্ঠানের করণীয় বিষয়ে ক্যাম্পেইন করা হবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া তিনি বলেন, এটা সামাজিক আন্দোলন।

    বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক রোখসানা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন অনলাইন জার্নালিস্ট ফোরামের সহসভাপতি রোজী ফেরদৌস, সাংবাদিক সাজেদা হক, চ্যানেল নাইন থেকে সাইদা জোহরা, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের নাসিমা সোমা, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলী শুভ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাংবাদিক কবীর আহমেদ খান, সাংবাদিক ফাহমিদা আকতার, রিতা নাহার, শাহনাজ শারমিন, ইয়াসমিন হাসি, রিফাত ফাতেমা প্রমুখ।

  • সৌদি আরব থেকে ওমরাহ শেষে বিমানেই মারা গেল চার বছরের শিশু

    সৌদি আরব থেকে ওমরাহ শেষে বিমানেই মারা গেল চার বছরের শিশু

    সৌদি থেকে ওমানের রাজধানী মাসকট হয়ে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের কেরালা প্রদেশের কালিকুটের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছিল ওমান এয়ারওয়েজের ওই বিমান। এ ঘটনার পর বিমানটি আবু ধাবিতে জরুরি অবতরণ করে। সূত্র গালফ নিউজসৌদি আরব থেকে ওমরাহ করে পরিবারের সঙ্গে ফেরার পথে বিমানেই মারা গেছে চার বছর বয়সী এক ভারতীয় শিশু।

    সোমবার ওমান এয়ারওয়েজের একটি বিমানে এ ঘটনা ঘটে।সূত্র জানায়, ইয়াহিয়া পুথিয়াপুরাইল নামের ওই শিশু মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। বিমানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যায় সে।

    আমিরাতে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, শিশুটির মৃত্যুর খবর দূতাবাসে পৌঁছায় দুপুরের দিকে। শিশুটির মরদেহ দেশে ফেরার ব্যবস্থা ত্বরাণ্বিত করতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে আমরা শিশুটির পাসপোর্ট বাতিল করে অনাপত্তিপত্র দিয়েছি। মঙ্গলবার সকালের দিকে অপর একটি ফ্লাইটে কেরালায় পৌঁছায় শিশুটির মরদেহ।

    শিশুটির আত্মীয় এমপি সিরাজ বলেন, ইয়াহিয়ার মরদেহ মঙ্গলবার সকালের দিকে কান্নুরে পৌঁছায়। পরে দুপুরের দিকে তাকে দাফন করা হয়। তার জন্ম থেকেই শারীরিক সমস্যা ছিল, কথা বলতে পারতো না; কিন্তু সবসময় হাসত

     

  • সাততলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে প্রান গেলো শিশুটির

    সাততলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে প্রান গেলো শিশুটির

    রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের একটি সাততলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এক শিশু মারা গেছে। আজ বুধবার বিকেলে ছাদে খেলতে গিয়ে শিশুটি পড়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

    মারা যাওয়া শিশুটির নাম মিনহাজ। তার মায়ের নাম নাসরিন আকতার। মিনহাজের বাবা মিজানুর রহমান বেসরকারি একটি ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার নন্দীপুর গ্রামে। পরিবারসহ ওই বাসার ছাদের একটি কক্ষে ভাড়া থাকেন মিজানুর রহমান।

    শিশুটির মা নাসরিন আকতার বলেন, সাততলা ভবনের ছাদের ওপর একটি রুমে তারা ভাড়া থাকেন। বিকেলে তাঁর ছেলে খেলছিল, আর তিনি নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে মিনহাজের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তাকে খুঁজতে খুঁজতে ভবনের নিচে গিয়ে দেখা যায় সে পড়ে আছে। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতাল নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

  • মায়ের সাথে অভিমানে স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা

    মায়ের সাথে অভিমানে স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা

    কলাপাড়া প্রতিনিধি//মোঃ হানিফ খান:

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মায়ের সাথে অভিমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সুখি (১২) নামের এক স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।

    ঘড়ের আড়ার সাথে ওড়না জড়িয়ে গলায় ফাঁস নেয় ওই স্কুল ছাত্রী। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করেছে কলাপাড়া থানা পুলিশ।

    সুখী বরগুনার আমতলী উপজেলার আমরাগাছিয়া গ্রামের দিনমজুর সেরাজুল ফকিরের মেয়ে। সেরাজুল কলাপাড়া পৌর শহরের রহমতপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় থাকতেন। নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, সুখি নারায়ণগঞ্জের পাগাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী।

    কলাপাড়া থানা ওসি (তদন্ত) আলী আহম্মেদ জানান, মেয়েটি ঢাকায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ছিল। কিন্তু মা যেতে বাধা দেওয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেছিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। লাশ উদ্বার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হবে।

  • গোপালগঞ্জ-১ : আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনলেন আরিফা রুমা

    গোপালগঞ্জ-১ : আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনলেন আরিফা রুমা

    গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন আরিফা রহমান রুমা।

    শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সহযোগী অধ্যাপক। এসময় তার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

    মনোনয়নপত্র কেনার পর আরিফা রহমান রুমা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন হতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় আমি আজ মনোনয়ন ফরম কিনেছি।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যে কোন সিদ্ধান্তকেই আমি স্বাগত জানাবো। সর্বোপরি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে শৈশবেই নিয়েছি রাজনীতির প্রথম পাঠ। তাই এই বিষয়ে আমার ইচ্ছার চেয়ে তার ইচ্ছার গুরুত্ব আমার কাছে অনেক বেশী।

    এসময় মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক সবার জন্য শুভ কামনা জানান তিনি।

  • নরসিংদীতে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

    নরসিংদীতে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

    নরসিংদীর মাধবদীতে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা রতন মিয়াকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে মাধবদীর কাঠালিয়া ইউনিয়নের চৌগড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত পিতা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পিতা রিক্সা চালক রতন মিয়া চৌগড়িয়া গ্রামের মৃত রেহান আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত পিতা একজন মাদকাসক্ত। তার স্ত্রী মানসিক প্রতিবন্ধী। মাদক সেবন করাকে কেন্দ্র করে রতনের সঙ্গে স্ত্রীর প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। এসবের জের ধরে স্বামীর সাথে মান অভিমান করে প্রায় সময়ই বাপের বাড়িতে চলে যেত স্ত্রী। এই সুযোগে রতন তার ১৫ বছরের মেয়েকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করত।

    এই ঘটনা কাউকে জানালে গলাটিপে মেরে ফেলবে বলেও মেয়েকে হুমকি দেয় পিতা। দিনের পর দিন এই অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে তার খালার কাছে সব খুলে বলে মেয়ে। পরে ধর্ষিতার খালা শরিফা বেগম নারী নির্যাতন দমন আইনে মাধবদী থানায় মামলা করে রতনের বিরুদ্ধে। পরে বুধবার ভোরে মাধবদী থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

    মাদবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রতন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।

  • প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বখাটের এই আক্রোশ!

    প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বখাটের এই আক্রোশ!

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে আহত করেছে এক বখাটে। তবে পুলিশ বলছে, ওই তিনজনকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ওই বখাটেকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

    গতকাল সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বখাটে নজরুল ইসলাম বাবুল (২২) ওই তিনজনকে বেধড়ক মারধর করেন। ধাক্কা মেরে ঘরের দেয়ালের সঙ্গে তাঁদের ঠুকে দেন।

    আহত ব্যক্তিরা হলেন এক তরুণী ও তাঁর মা-বাবা। তাঁরা টেরিয়াইল এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে তরুণীর বাবাকে কোপাতে থাকেন নজরুল। বাধা দিতে গেলে তরুণীর মা ও তরুণীকেও কোপানো হয়। এ সময় তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন গিয়ে দরজা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। স্থানীয় কয়েকজন নজরুলকে আটক করে পিটুনি দেন। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহেদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে নজরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

    বারৈয়ারঢালা ইউপির চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন রেহান বলেন, সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটে নজরুল ওই পরিবারের তিন সদস্যকে কুপিয়ে আহত করেন।

    তবে কুপিয়ে আহত করার বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই জাহেদুল ইসলাম বলেন, ওই তিনজনকে বেধড়ক মারধর করে ঘরের দেয়ালের সঙ্গে প্রচণ্ড আঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত হন তাঁরা। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

  • বরিশালে স্কুলছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা

    বরিশালে স্কুলছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা

    বরিশাল সদর উপজেলার চড়বাড়িয়া ইউনিয়নের সাপনিয়া এলাকায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে নিহতের স্বজন এবং স্থানীয়রা।

    এদিকে হত্যাকান্ডের কারণ এবং অভিযুক্তদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নিহত সাবিয়া আক্তার অথৈ (১১) স্থানীয় সাপানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং সাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা সিটি করপোরেশনের পানি শাখার কর্মচারী কাজী গোলাম মোস্তফার একমাত্র মেয়ে ছিলো।

    নগরীর কাউনিয়া থানার এসআই তানজিল আহমেদ বলেন, হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে তার মরদেহ ময়না দন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন এসআই তানজিল আহমেদ।

  • বরিশালে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটির মূল্য ১ কোটি টাকা

    বরিশালে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটির মূল্য ১ কোটি টাকা

    শামীম ইসলাম:

    আদর যত্নে সন্তুষ্ট হয়ে বরিশাল নগরীর সিটি কলেজ ক্যাম্পাস গলি থেকে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটিকে সদ্য সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে কামরুল আহসান রুপনের জিম্মায় দিয়েছেন আদালত।

    গতকাল রোববার শিশুটির উপস্থিতিতে শুনানী শেষে শিশু আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ আদেশ দেন। একই আদেশে বিচারক উপস্থিত আইনজীবী ও বাচ্চা নিতে আগ্রহী ৭ আবেদনকারীকে অবহিত করেন ব্যক্তিগতভাবে তিনি (বিচারক) খোঁজ রেখেছেন বাচ্চাটির।

    তাদের লালন-পালনে সন্তুষ্ট হয়ে এ আদেশ দেয়া হলো। আর আবেদনকারীদের ওই দিন আবেদন করার নির্দেশ দেন। আদালত সূত্র থেকে জানা গেছে, কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটির খবর পেয়ে নগরীর নিউ সার্কুলার রোডের বাসিন্দা নিঃসন্তান আয়শা সিদ্দিকা শিশু আদালতের বিচারকের নিকট শিশুটিকে লালন-পালনের আবেদন করেন।

    এ আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৪ অক্টোবর শুনানী শেষে শিশুটির লিগ্যাল অভিভাবক না পাওয়া পর্যন্ত বর্তমানে যাদের নিকট রয়েছে তাদের কাছে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। একই আদেশে গতকাল শিশুটির উপস্থিতিতে শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়। নির্ধারিত দিনে শিশুটির দায়িত্ব নেয়া রুপন শিশুটিকে নিয়ে আদালতে হাজির হন। এ সময় শিশুটিকে কিভাবে লালন-পালন করছেন তা দেখানোর জন্য শিশুর ব্যবহৃত জামাকাপড় থেকে শুরু করে খাবার এবং শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদ্বারা তিনবার চেকআপ করানোর ব্যবস্থাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

    ওই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধও আদালতের বিচারককে দেখানো হয়। এ সময় শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য নিতে আগ্রহী বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলের এক চিকিৎসক, ঝিনাইদাহ’র ডাচ বাংলা ব্যাংকের  ম্যানেজার এবং ব্যবসায়ীসহ ৭ জন আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদনকারী হাজির হন। ডাচ বাংলা ব্যাংকের ম্যানেজার ৫ লাখ টাকার বন্ড নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। নিঃসন্তান এ দম্পত্তি যে কোন মূল্যে শিশুটিকে নিতে চায়। কিন্তু তাদের আবেদন গ্রহণ করেননি বিচারক। শুনানী শেষে বিচারক জানান, বরিশালের গৈলা বেবীহোমের চেয়ে রুপনের নিকট শিশুটি খুব যত্নে রয়েছে।

    তাছাড়া রুপনের সন্তান থাকায় তিনি আবেদন করেননি। শিশুটি রুপনের কাছে আদর যত্নে লালিত-পালিত হওয়ায় আদালত সন্তুষ্ট হয়ে ১ জানুয়ারী পর্যন্ত তার জিম্মায় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর যারা শিশুটিকে লালন-পালন করতে আগ্রহী আবেদনকারীদের ওই দিন (১ জানুয়ারী) আবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। আবেদনকারীদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করা হবে।

    সেখানে সিদ্ধান্ত হবে শিশুটিকে কোথায় দেয়া যায়। তবে কোন বেবীহোম ছাড়া কোন ব্যক্তিকে দেয়া হলে সে ক্ষেত্রে শিশুটির উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য ১০ লাখ টাকার বন্ড দিয়ে নিতে হবে। ওই সময় সেখানে উপস্থিত আবেদনকারীদের মধ্যে একজন কোটি টাকা বন্ড দিয়ে হলেও শিশুটি নিতে রাজী। গত ১০ অক্টোবর রাতে বরিশাল নগরীর সিটি কলেজ এলাকার নবাব কোয়াটারের নাছির উদ্দিনের বাসার গৃহপরিচারিকা মিনারা বেগম বাসার ময়লা ডাস্টবিনে ফিলতে যান। ডাস্টবিনের যাওযার পূর্ব মুহূর্তে ৩টি কুকুর ডেকে যাচ্ছিল। বুয়ার সন্দেহ হলে তিনি সিটি কলেজের গেট পেরিয়ে ভিতরে দেখতে পান তোয়ালে পেচানো ফুটফুটে একটি শিশু কান্না করছে।

    শিশুটিকে কোলে তুলে মালিকের স্ত্রীর কাছে নিয়ে যান বুয়া। নাছির উদ্দিনের স্ত্রী তার নাত জামাই বিদায়ী মেয়র কামালের ছেলে রুপনকে অবহিত করেন। রুপন কোতোয়ালী মডেল থানাকে অবহিত করলে পুলিশ এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সাথে সাধারণ ডায়েরী করে লিগ্যাল অভিভাবক অথবা আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত রুপনের জিম্মায় দেয়।

    ওই সময় থেকে শিশুটি রুপনের শ্বশুড়বাড়ি নগরীর বাজার রোডের ব্যবসায়ী প্রয়াত মিরাজ আহমদের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা লালন-পালন করছেন। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে আয়েশা।

  • পুরান ঢাকায় কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানি, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

    পুরান ঢাকায় কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানি, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

    রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানি মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামির নাম মো. রাকিব (২২)। গতকাল শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তামান্না আক্তারী  বলেন, কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার দায়ে চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছেন তিনি। যৌন হয়রানি করার কথা স্বীকার করেছেন রাকিব।

    এর আগে ওয়ারী থানায় কলেজছাত্রীর করা যৌন হয়রানির মামলায় ১২ অক্টোবর আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী থানা-পুলিশ। তিন আসামি হলেন সাদ্দাম হোসেন (২৪), আবু বক্কর সিদ্দিক (২০) ও মো. গণি (২০)। আসামিরা এখন কারাগারে আছেন। এই তিনজনের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে। এ মামলায় এজাহারে নাম থাকা আরও তিন আসামি পলাতক আছেন। তাঁরা হলেন হানিফ (২০), আল-আমিন (২৩) ও আরিফ (২৩)।

    মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানির শিকার ওই কলেজছাত্রী পুরান ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করেন। ১০ অক্টোবর ক্লাস শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। আসামি রাকিব হোসেনসহ ৮ থেকে ১০ জন ওই ছাত্রীদের ঘিরে ধরেন। অশ্লীল কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে রাকিব হোসেন একটা ডিম ভেঙে কলেজছাত্রীর মাথায় লাগিয়ে দেন।

    পুলিশ কর্মকর্তা তামান্না আক্তারী  বলেন, রাকিবসহ অন্য আসামিরা স্বীকার করেছেন, আগে থেকে তাঁরা কলেজছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। আসামি রাকিব সেদিন কাঁচা ডিম ভেঙে কলেজছাত্রীর মাথায় মাখিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

    কলেজছাত্রীর ফুফাতো ভাই বলেন, এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।