Category: নারী ও শিশু

  • ধর্মঘাটে অ্যাম্বুলেন্স আটকা পরে,মারা গেল ৭ দিনের শিশু

    ধর্মঘাটে অ্যাম্বুলেন্স আটকা পরে,মারা গেল ৭ দিনের শিশু

    পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘন্টার কর্মবিরতি চলাকালে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ে এক শিশু মারা গেছে। রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চান্দগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশুটি বড়লেখা সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের কুটন মিয়ার মেয়ে। মাত্র ৭ দিন আগে শিশুটির জন্ম হয়েছিল। এখনও তার নাম রাখা হয়নি।
    শিশুটির চাচা আকবর আলী বিকেলে বলেন, গত রাত থেকে বাচ্চাটা কোন কিছইু খাচ্ছিল না, শুধু কাঁদছিল। সকালে আমরা শিশুটিকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত সিলেট নেওয়ার জন্য বলেন। চিকিৎসকের কথা মত আমরা বাচ্চাটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেই।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, সিলেট যাওয়ার পথে বড়লেখা উপজেলার দরগাবাজারে অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়। একইভাবে দাসেরবাজার এলকায় আটকানোর পর তাদের ছাড়া হয়। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে চান্দগ্রাম বাজারে আবারও শ্রমিকরা গাড়িটি আটকায়। এসময় অ্যাম্বুলেন্স চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।

    শিশুটি এখানেই একেবারেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত শিশুটিকে বিয়ানীবাজার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাত্র সাতদিন আগে বাচ্চাটার জন্ম হয়েছিল। এ ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ করেছি।

    বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিনুল হক বলেন, ঘটনাটা শুনেছি। তবে কেউ এ ব্যাপারে এখনও কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নির্বাচনী মিছিলে শিশুদের ব্যবহার নয়

    নির্বাচনী মিছিলে শিশুদের ব্যবহার নয়

    সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে পোস্টার লাগানো ও মিছিলে শিশুদের ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে শিশুদের প্রতীকী সংসদের সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে শিশুদের নিয়ে প্রতীকী এই সংসদ অধিবেশন বসে।

    শিশুদের প্রতীকী সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্যরা বলে, দেশে শিশুদের অবস্থা ভালো নয়। বাল্যবিবাহের নির্মম শিকার হচ্ছে শিশুরা। গত এক বছরে দেশে ৩১৪টি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ৪৯৪টি। ৪০ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ে শারীরিক ও মানসিক শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে। এসব বন্ধ করতে আগামী নির্বাচনের আগে শিশুরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অঙ্গীকার চেয়েছে।

    সেভ দ্য চিলড্রেন, প্ল্যান ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি যৌথভাবে শিশুদের নিয়ে প্রতীকী সংসদ অধিবেশনের আয়োজন করে। প্রতীকী এ অধিবেশনে চাইল্ড পার্লামেন্টের স্পিকার ছিল মিফতাহা নুর নাহার ও ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বে ছিল মাহমুদা সিদ্দিকি।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে সরকার কাজ করছে। বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি শিশুরাও সচেতনামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে।

    শিশুদের নিয়ে প্রতীকী সংসদ অধিবেশন বক্তব্য দিচ্ছে এক শিশু। ছবি: প্রথম আলোআলোবড় হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে শিশুদের রাজনীতি করার আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। ১৮ বছরের আগে বিয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রেখে আইন পাস করার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, বড়লোকের শিশু ও গরিবের শিশুর সমান অধিকার রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

  • দিল্লীতে শিল্পকর্মে দি অ্যাসিভার বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাজশাহীর সোমা

    দিল্লীতে শিল্পকর্মে দি অ্যাসিভার বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাজশাহীর সোমা

    ভারতের দিল্লীর কালারার ফাউন্ডসন আয়োজিত শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে এবার দি অ্যাসিভার বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাজশাহীর চিত্রশিল্পী নারগিস পারভীন সোমা। পুরস্কারপ্রাপ্ত তার চিত্রকর্মটির শিরোনাম ছিলো ‘ওম্যান লাইফ’।

    কালারার ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার জয়া আরোরা গত বুধবার রাতে দিল্লীর র‌্যাডলেন্স মোটেলে এশিয়া গ¬মার ফ্যাশান শো অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন নারগিস পারভীন সোমার হাতে। সোমা ষড়ং আট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজশাহী আর্ট কলেজের প্রভাষক।

    সোম জানান, ১৯ অক্টোবর থেকে গোয়ার গ্যালারি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে শুরু হওয়া চিত্র প্রদর্শনী শেষ হয় ২২ অক্টোবর। এই প্রদর্শনীতে নার্গিস সোমা ছাড়াও নেপাল, জাপান, নেদারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের ৮৪ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। এই ৮৪ জনের ৮৪টি শিল্পকর্মের ভেতরে ১৮ জনকে বেস্ট পেইন্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে রাজশাহী আর্ট কলেজের প্রভাষক নারগিস পারভীন সোমা একজন।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রদর্শনীতে বেস্ট নিরিখা পুরস্কার দিয়ে মূলত যাত্রা শুরু তার। দেশের বাইরে প্রথম জাপানে তারপর ইন্ডিয়ার বিভিন্নস্থানে যেমন কেরেলা, দিল্লী, আহমেদাবাদ, শিমলা, নেপাল, মুম্বাইয়ে নারীর জীবন সংগ্রামের ছবির উপর পুরস্কার পেয়েছেন সোমা। এ পর্যন্ত নারীর জীবন সংগ্রাম বিষয়ক ২৬টি ছবি এঁকেছেন তিনি। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক একাধিক পুরস্কারও।

  • জোড়া মাথার রাবেয়া-রোকাইয়াকে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

    জোড়া মাথার রাবেয়া-রোকাইয়াকে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

    বুধবার (২৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’র উদ্বোধন করতে এসে বহির্বিভাগে জোড়া মাথার শিশু দু’টিকে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

    শুরু থেকে কনজয়েন্ড বা মাথা জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেওয়া রাবেয়া ও রোকাইয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার তাদের দেখার সময় প্রধানমন্ত্রী শিশু দু’টির হাত ধরে আদর করেন এবং স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন। একইসঙ্গে শিশু দু’টির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

    জোড়া মাথার প্লাস্টিক মডেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা শিশু দু’টির চিকিৎসার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এ সময় শিশু দু’টির বাবা-মা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন। তাদের সান্ত্বনা ও সাহস দেন তিনি।

    ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই পাবনা শহরের একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় জোড়া মাথার জমজ রাবেয়া-রোকাইয়া।

    চিকিৎসকরা জানান, শিশু দু’টিকে ধাপে ধাপে আলাদা করতে হবে। আলাদা করার অগ্রগতি হিসেবে ১৮ মাস বয়সে রাবেয়া ও রোকাইয়ার মাথায় যুক্ত রক্তনালী অপারেশন করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে দু’জনের জন্য আলাদা রক্তনালী চালু হয়।

    এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তার নামে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সংলগ্ন চাঁনখারপুল এলাকায় ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’-এ বিশ্বের সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ উন্নততর চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকবে।

  • কুমারী সেজে বিয়ের দায়ে গৃহবধূর কারাদণ্ড

    কুমারী সেজে বিয়ের দায়ে গৃহবধূর কারাদণ্ড

    প্রথম বিয়ে গোপন রেখে কুমারী সেজে দ্বিতীয় বিয়ে করার অপরাধে শাপলা আকতার লিলি (২৬) নামে এক গৃহবধূকে জেল-জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। তাকে দু’বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশও দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার চতুর্থ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছমা মাহমুদ এ রায় দেন।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, শাপলা আকতার লিলি গাবতলী উপজেলার মহিষাবান গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে। ২০১১ সালে শাজাহানপুর উপজেলার শেরকোল গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে রাজু আহম্মেদের সঙ্গে বিয়ে হয়। ৪ বছর সংসার করার পর ২০১৫ সালে তিনি এ বিয়ে গোপন করে কুমারী সেজে গাবতলী উপজেলার ধোড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন মোল্লার ছেলে আপেল মাহমুদ রনিকে বিয়ে করেন। বিয়ের কথা জানাজানি হলে প্রথম স্বামী রাজু আহম্মেদ আদালতে লিলিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে গাবতলী মডেল থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম লিলিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বিয়ে গোপন করে কুমারী সেজে দ্বিতীয় বিয়ে করার অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় গতকাল বুধবার বিকালে শুধু শাপলা আকতার লিলিকে এ সাজা দেন। লিলি পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতারের পর থেকে তার সাজা কার্যকর হবে।

    বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহাদত হোসেন জানান, দ্বিতীয় স্বামী আপেল মাহমুদ রনিও আদালতে একই ধরনের মামলা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ওই মামলাতেও গত ৩ জানুয়ারি মাসে লিলিকে দেড় বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল। দুই মাস সাজা ভোগের পর তিনি জজকোর্টে আপিল করে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পান।

  • বরিশালে আবাসিক হোটেলে পতিতাবৃত্তিতে জড়িত নারী ও খদ্দের সহ ১১জন গ্রেপ্তার

    বরিশালে আবাসিক হোটেলে পতিতাবৃত্তিতে জড়িত নারী ও খদ্দের সহ ১১জন গ্রেপ্তার

    শামীম ইসলাম:

    বরিশাল নগরীর হাজী মোহাম্মাদ মহসিন মার্কেট সংলগ্ন আবাসিক হোটেল ঝিনুক থেকে দেহ ব্যবসায়ী, খদ্দের ও হোটেলের ম্যানেজারসহ ১১ জনকে আটক করেছে বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

    শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হোটেলে অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার দায়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৭জন দেহব্যবসায়ী, দুইজন হোটেলের স্টাফ ও দুই জন খদ্দের।

    এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই দেলোয়ার জানায়, আবাসিক হোটেল ঝিনুকে অনৈতিক কর্মকান্ড চলছে এমন সাংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ৭ দেহ ব্যবসায়ী, খদ্দের ও হোটেল স্টাফসহ ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এ সময় তিনি আরও জানান, দেহ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত দালাল আজিজ এই হোটেলটি পরিচালনা করেন। হোটেলটির মালিক সাইদ নামের এক ব্যক্তি। তবে আজিজ মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে হোটেলে নিজেই দেহ ব্যবসা চালাচ্ছেন। আজিজ এর পূর্বেও নগরীর গির্জামহল্লা এলাকার আবাসিক হোটেল সিটি প্লাজায়ও দেহ ব্যবসা চালাতো। যদিও পুলিশের কড়া নজরদারির কারনে তিনি হোটেলটি ছেড়ে দিয়ে পুলিশের চোঁখ ফাকি দিয়ে মহসিন মার্কেট এলাকায় হোটেল ঝিনুকে দেহ ব্যবসা শুরু করে। হোটেল ঝিনুকেই নয় পাশের আরও দুটি হোটেল ভোলা ও উজিরপুর বডিংএও তিনি দেহ ব্যবসায়ীদের দিয়ে ব্যবসা করেন।

  • ৪ বছর ধরে ২ ভাইয়ের গণধর্ষণের শিকার নাবালিকা বোন

    ৪ বছর ধরে ২ ভাইয়ের গণধর্ষণের শিকার নাবালিকা বোন

    ৪ বছর ধরে ২ ভাইয়ের গণধর্ষণের শিকার  নিজের নাবালিকা বোনকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেরঠে। পুলিশ সেই দুই অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণসহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ।

    পুলিশ জানিয়েছে, ১৫ বছরের সেই কিশোরী নিজে থানায় এসে অভিযোগ জানায়। সিভিল লাইন পুলিশ স্টেশনের বাসিন্দা সেই কিশোরী জানায়, গত চার বছরের বেশি সময় ধরে দুই ভাইয়ের হাতে গণধর্ষণের শিকার সে। বাধা দিতে গেলে মারধর করা হতো তাকে। তার মা প্রতিবাদ জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। চার বছর ধরে অত্যাচার সহ্য করতে করতে অবশেষে মুখ খোলে সেই নাবালকা। পুলিশের কাছে দায়ের করে এফআইআর।

    সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুই ভাইকে গ্রেফতার করে মেরঠ থানার পুলিশ। মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষাও হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেরার মুখে দু’জনেই ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।

  • রাখাইনে আশ্রয় শিবিরে আগুন, ৬ রোহিঙ্গা নিহত

    রাখাইনে আশ্রয় শিবিরে আগুন, ৬ রোহিঙ্গা নিহত

    মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শুক্রবার মধ্যরাতে জনাকীর্ণ রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস বিভাগের বরাত দিয়ে ফরাসী বার্তাসংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর অভিযানের মুখে ৭ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তখন থেকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মিয়ানমারের এই রোহিঙ্গা সঙ্কট।

    রাখাইনে রক্তাক্ত অভিযান পরিচালনার দায়ে মিয়ানমারের শীর্ষস্থানীয় সেনা জেনারেলদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক পরিষদ। তবে জাতিসংঘের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।

    ২০১২ সালে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর রাখাইনের রাজধানী সিত্তের দক্ষিণে এক আশ্রয়শিবিরে ১ লাখ ২৯ হাজার রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়া হয়। আশ্রিত এই রোহিঙ্গাদের জীবন-যাপন প্রায় কারাবন্দীদের মতোই।

    দেশটির উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের তাণ্ডবে ওই বছর রাখাইনে শত শত রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটে। মিয়ানমারের ফায়ার সার্ভিস বিভাগের কর্মকর্তা হ্যান সোয়ে বলেন, অনডু চ্যা আশ্রয়শিবিরে প্রায় ৪ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। সিত্তে থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের এই রোহিঙ্গা শিবিরে শুক্রবার মধ্যরাতে আগুনের সূত্রপাত হয়। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

    তিনি বলেন, আগুনে ছয়জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে একজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী রয়েছেন। রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ টি ঘর পুড়ে গেছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৩টা বেজে যায়। শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় ৮২০ জন রোহিঙ্গা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।

  • ফেরি থেকে নদীতে পড়ে যাওয়া শিশুর লাশ উদ্ধার

    ফেরি থেকে নদীতে পড়ে যাওয়া শিশুর লাশ উদ্ধার

    গোয়ালন্দ ফেরিঘাটে গত সোমবার রাতে ফেরি থেকে নদীতে পড়ে যাওয়া সাড়ে চার বছরের শিশু রুকাইয়ার লাশ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় লোকজন। আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে লাশটি ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।

    পরে কয়েকজন লাশটি ট্রলারে করে তুলে ডাঙায় আনেন। গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দৌলতদিয়া নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) লাবু মিয়া, ফাঁড়ির সেকেন্ড অফিসার (এসআই) আসাদুজ্জামান মোল্লাসহ পুলিশের সদস্যরা হাজির হন। এসআই কামরুল ইসলাম লাশের সুরতহাল করেছেন।

    পুলিশ বলছে, শিশুটির পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা রওনা হয়েছে।
    শিশুটির বাবার নাম সেলিম রেজা ও মায়ের নাম জেসমিন আক্তার। সেলিম রেজা পেশায় মৎস্য ব্যবসায়ী। বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা শহরে। তাঁর দুই মেয়ের মধ্যে রুকাইয়া ছিল ছোট। বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর।

    গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। রাতে তার মা তাকে ফেরিতে শৌচাগারের দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ভেতরে যান। বাইরে অপেক্ষায় থাকা সাড়ে চার বছরের শিশুটি হঠাৎ ফেরিতে থাকা বাসের ব্রেক করার শব্দে চমকে ভয়ে দৌড় দিয়ে ফেরি থেকে নদীতে পড়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, ফেরিটি তখন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে পেছনের ডালা নামানো ছিল, কিন্তু পন্টুন থেকে সরে এসেছিল। শিশুটি ভয়ে দৌড় দেওয়ার সময় অন্ধকারে ঠাওরাতে না পেরে পন্টুন ও ফেরির ফাঁকা স্থান দিয়ে নদীতে পড়ে যায়। শিশুটিকে কেউ পড়ে যেতে না দেখলেও তার দৌড়ে যাওয়া ও পানিতে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পেয়েছেন কয়েকজন।

    পরিবার ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা জেসমিন আক্তারের ছোট ভাইয়ের অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে তারা কয়েকজন মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিল। রাতে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে তাঁদের গাড়িটি রজনীগন্ধা নামক একটি ফেরিতে ওঠে। মা জেসমিন এ সময় রুকাইয়াকে নিয়ে শৌচাগারের দিকে যান।

    মেয়েকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তিনি ভেতরে ঢোকেন। পরে বেরিয়ে এসে রুকাইয়াকে না দেখতে পেয়ে তিনি মেয়ের খোঁজে চিৎকার করতে থাকেন। শিশুটির বাবাও খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তখন কয়েকজন জানান, ফেরিতে ওই সময় একটি এসি বাস উঠে সশব্দে ব্রেক করলে আওয়াজে ভয় পেয়ে যায় শিশুটি। সে পেছনের দিকে দৌড় দেয়, সঙ্গে সঙ্গে পানিতে কিছু পড়ে যাওয়ার বড় ধরনের শব্দ হয়।

  • আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

    আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

    আগামীকাল (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। এই উপলক্ষে আজ ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলন করেছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নারীরা পারিবারিক শ্রম ছাড়াও কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, গবাদিপশু পালনসহ নানা ধরনের শ্রমে অবৈতনিকভাবে জড়িত। অথচ এসব অদৃশ্য শ্রমের আর্থিক মূল্য না থাকায় তাকে সারাক্ষণ পরিবারে, সমাজে অবমূল্যায়িত হতে হচ্ছে। তাই পারিবারিক আয়ে কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার মতামতের বিষয়টি থাকছে উপেক্ষিত এবং অবহেলিত। কাজেই দেশের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে নারীদের কাজের মূল্যায়ন এবং কাজের আইনগত স্বীকৃতি দিতে হবে।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের ৪০টিরও বেশি জেলায় উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও সারাদেশে র‌্যালি, সেমিনার, মানববন্ধন, মেলা আয়োজন এবং গ্রামীণ নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হবে।

    তারা আরও জানান, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন করে আসছে। উল্লেখ্য, ইক্যুইটিবিডি আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটির সচিবালয় হিসেবে কাজ করছে।

    আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটির সচিবালয় সমন্বয়কারী ফেরদৌস আরা রুমীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় কমিটির সভাপ্রধান শামীমা আক্তার। এছাড়া জাতীয় কমিটির সদস্য নাহিদ সুলতানা, গ্রাম বিকাশ সহায়ক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাসুদা ফারুক রত্না, ডিসএবল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মার্জিনা আহমেদ, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সহ-সভানেত্রী রেহানা বেগম, সচেতন সমাজ সেবা হিজড়া সংঘের সভানেত্রী ইভান আহমেদ কথা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

    সভাপ্রধান শামীমা আক্তার মূল বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশের পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি কাজ করেন গৃহস্থালিতে। কোনও রকম স্বীকৃতি নেই এরকম গৃহস্থালি কাজে একজন নারী প্রতিদনি গড়ে ৬ ঘণ্টারও বেশি এবং বিপরীতে একজন পুরুষ এ ধরনের কাজে সময় দেন মাত্র একঘণ্টা।

    অন্যদিকে এসব কাজ অন্য কাউকে করতে বললে তার বিনিময়ে নারীরা কত পারিশ্রমিক পাবেন হিসাব করলে তার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় জিডিপির ৮৭.২ শতাংশ। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ৩৪৫ ধারা অনুযায়ী, নারী-পুরুষের সমকাজে সমান মজুরি প্রদানের কথা থাকলেও, চারা রোপণ ও ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে পুরুষদের দৈনিক মজুরি যেখানে ৩০০-৬০০ টাকা, নারীরা সেখানে পায় মাত্র ৩৫০ টাকা। কাজেই, আপাতদৃষ্টিতে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পেছনে নারীর ক্ষমতায়নের কথা মনে হলেও এর মূল নেপথ্যে রয়েছে স্বল্প মজুরি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করানোর সুবিধা।’ তিনি চলমান এই অবস্থা অবসানের দাবি জানান।

    ফেরদৌস আরা রুমী বলেন, ‘নারীর গৃহস্থালিসহ অন্যান্য যেমন শ্রম কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু লালন-পালনের মতো নানা ধরনের কাজে জড়িত। কিন্তু তার এসব অদৃশ্য শ্রমের কোনও আর্থিক মূল্য না থাকায় পরিবারে তার মত প্রকাশ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনও অধিকার নেই। সেজন্য প্রয়োজন নারীর অদৃশ্য শ্রমের আইনগত স্বীকৃতি এবং মূল্যায়ন। যা তাকে পরিবারে সমাজে ও রাষ্ট্রে তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে নেবে।

    নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘নারীরা এখন কৃষিখাতে ব্যাপক অবদান রাখার পরও কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে কৃষকদের জন্য গৃহীত সরকারি উদ্যোগের কোনও সুফলই তারা পান না। এসব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে কৃষিতে নারীর অবদান আরও কয়েকগুণ বাড়তো।

    মর্জিনা আহমেদ বলেন, ‘নারীদের শ্রম মূলত গ্রামীণ কৃষি-অর্থনীতিতে পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, বরং ফসল উৎপাদনে সামগ্রিক ব্যয় হ্রাসের উৎস হিসেবে দেখা হয়। কারণ, একজন শ্রমিক নিয়োগ দিলে তাকে মজুরি দিতে হবে, বিপরীতে তাকে দিয়ে ইচ্ছেমতো কাজ করানোও যাবে না। এভাবে ক্রমাগত নারী পারিবারিক আয়ে ভূমিকা রাখার পরও তার কোনও মূল্যায়ন হয় না।

    মাসুদা ফারুক রত্না বলেন, ‘আইনের পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর গৃহশ্রমের পাশাপাশি অবৈতনিক শ্রমকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এই স্বীকৃতি তার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে।