Category: নারী ও শিশু

  • ডেঙ্গুতে ফ্যাকাশে অদ্রিতার জীবনের আলো

    ডেঙ্গুতে ফ্যাকাশে অদ্রিতার জীবনের আলো

    ভোরের আভায় চোখে-মুখে যেন উচ্ছ্বাসের ছটা। হাসপাতালের বিছানা থেকে মুক্তি মিললেই খেলার মাঠে আলো ছড়াবে অদ্রিকা। কিন্তু নিদারুণ যন্ত্রণায় সমস্ত আলো যেন ফ্যাকাশে হয়ে আছে তার। চোখ লাল, দুর্বল শরীর, হাতে ক্যানোলা। প্রায় অনাহারে থাকা শিশুটি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে। সর্বনাশা ডেঙ্গু অদ্রিকার সমস্ত সুখ যেন কেড়ে নিয়েছে।

    রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে এমন চিত্র দেখা মেলে। ভিকারুন্নেসা স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে অদ্রিকা। গত বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় সে। ২২ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরের পর সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অদ্রিকার মা তাকে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু সে খেতে চাচ্ছে না। কান্না আসছে কিন্তু কাঁদতে পারছে না।

    অদ্রিতার মা জানালেন, মাঝে হঠাৎ প্রচুর গরম পড়েছিল। বাসায় এসি ছেড়ে দিয়ে মশারি না টানিয়েই ঘুমাতে বাধ্য হয়েছি। ফলও পেলাম। ফুলের মতো ফুটফুটে মেয়েটা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলো।

    একই হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে ডেঙ্গু রোগী ইসমাইল হোসেনের দেখা মেলে। বয়স ৩১। রাজধানীর মিরপুরে বাসা। একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। এখন তিনি নিজেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি। গত এক সপ্তাহ ধরে এখানে, এর আগে ছিলেন আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে।সেখানে ‘তেমন ভালো’ চিকিৎসা না পেয়ে এখানে আসা।

    mosha2

    ইসমাইল হোসেন  বলেন, প্লাটেলেট (অণুচক্রিকা) অনেক কমে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে চার ব্যাগ রক্ত দিয়েছি। এখন প্লাটেলেট বেড়েছে, কিন্তু পেট ফুলে গেছে। বসে থাকতে কষ্ট হয়। বাধ্য হয়ে শুয়ে আছি, শরীরে ব্যথাও আছে। দু-তিনদিন জ্বর আসেনি। তবে একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছি।

    জানা গেছে, হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১৮ জন বিভিন্ন বয়সী ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রন্ত রোগী আসছেন। তবে রোববার মাত্র একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু নিয়ে রিপোর্ট করেন অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম। তিনি  বলেন, এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বৃষ্টি শুরুর পর থেকে সাধারণত এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ বছরের জুনে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ৫০ জন, জুলাইয়ে ৭৩ জন, আগস্টে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ জনে। এর মানে ওই তিন মাসে ২১৩ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গত জুনের ২৫ তারিখে ৭০ বছর বয়সী এক রোগী মারা যান।

    এ বিষয়ে হাসপাতালের মেট্রন (সেবা, তত্ত্বাবধায়ক) গোলাপী হালদার  জানান, সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ৫১ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা নিয়েছেন। জ্বর নিয়ে অনেকেই ভর্তি হন, কিন্তু আমরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে রিপোর্টে লিপিবদ্ধ করি না। কোন রোগীর কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, সেটাও রিপোর্টে লিপিবদ্ধ হয়।

    হাসপাতালটির রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভর্তি হওয়া প্রায় সবারই হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর, শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা, খাবারে অরুচি, বমি বমি ভাব এবং পেটে যন্ত্রণা ছিল। অনেক শিশুর সারা শরীরে হামের মতো ফুসকুড়িও দেখা যায়। বড়দের অনেকের ত্বকে কালচে দাগ, নাক, মুখ, মাড়ি থেকে রক্ত বের হওয়ারও রেকর্ড রয়েছে।

    এ বিষয়ে হাসপাতালটির উপ-পরিচালক প্রফেসর ড. স্বপন কুমার বর্মণ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রোগীরা খুব দুর্বল অনুভব করেন। এই দুর্বলতা দীর্ঘ সময় থাকে। তাই খাবার ও চলাফেরায় সচেতন হতে তাদের পরামর্শ দেয়া হয়।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালের আশপাশ থেকেই বেশি রোগী আসে। নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল কোন স্থানের লোক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আমার মনে হয়, সবাই কাছাকাছি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন।

    চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। বাড়ির পানির ট্যাংক, চৌবাচ্চা, এয়ার কুলার এবং বাড়ির অনান্য জলাধারের পানি সপ্তাহে একদিন খালি করে শুকিয়ে নিতে হবে এবং সর্বদা ঢেকে রাখতে হবে। এছাড়া সারা শরীর ঢাকা থাকে এমন পোশাক পরতে হবে এবং রাতে ও দিনে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারির ব্যবহার জরুরি।

    কিন্তু এসব নিয়ম মেনেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার নজির মিলছে। রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে রোববার সকালে জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু নিয়ে কমপক্ষে ছয়জন রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে একজন ২৩ বছর বয়সী ইমরান খান।

    mosha2

    পাশে থাকা তার ভাবি ঝুমুর বলেন, শাহজাদপুরের বাসায় আছি সাত বছর ধরে। বাসায় কখনও মশার উপস্থিতি ছিল না। কেউ মশা বাহিত জ্বর বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্তও হয়নি। এরপরও ইমরান ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলো। আজ পাঁচদিন ধরে হাসপাতালে। তার প্লাটেলেট ৪৮ হাজারে নেমে গিয়েছিল।

    তিনি বলেন, ইমরান চাকরি করে গুলশানে। আমার মনে হয় অফিসেই মশায় আক্রান্ত হয়েছে সে।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. শ্রাবনী বলেন, প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী আসছে। গড়ে ৮-১০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

    আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মাহমুদা হাসান  বলেন, গত মাসে এ আর রিজন নামে দুই মাসের এক শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখানে ভর্তি হয়। অনন্যা নামের ১৩ মাসের এক বাচ্চাও এই মাসে ভর্তি হয়। তবে তারা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছে।

    তিনি বলেন, অনেক শিশুই আসছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা খারাপ ছিল। কিন্তু বড় কোনো ইনসিডেন্ট হয়নি। মারা যাওয়ার কোনো রেকর্ড এখানে নেই।

    বাচ্চাদের বিষয়ে মা-বাবাকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে হাসপাতালটির শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘বাচ্চাদের শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি গরম অনুভূত হলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পরামর্শ ব্যতীত কোনো ওষুধ সেবন করানো যাবে না। এখন যেহেতু ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি, তাই এটাই এখন সবচেয়ে বড় পরামর্শ। এর বাইরে শিশুদের তরল খাবার দিতে হবে। নিয়মিত ফলোআপ করতে হবে।’

  • মোনালিসা হত্যা মামলার আসামিকে আনা হলো দুবাই থেকে

    মোনালিসা হত্যা মামলার আসামিকে আনা হলো দুবাই থেকে

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্কুলছাত্রী মোনালিসা আক্তারকে (১২) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু সাঈদকে (২৮) সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে দেশে আনা হয়েছে। দীর্ঘ আট মাস পর গ্রেপ্তার করে আজ রোববার দুপুরে তাঁকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। আবু সাঈদ ফতুল্লা পশ্চিম দেওভোগের বড় আমবাগান এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে।

    নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, মোনালিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু সাঈদ দেশ ছেড়ে পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এনসিবি শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ।

    ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের বলেন, ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের পর আসামি আবু সাঈদের সব প্রক্রিয়া শেষে আজ রোববার তাঁকে দেশে নিয়ে আসা হয়। তাঁকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড প্রার্থনা করা হবে।

    মামলার এজাহার, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আবু সাঈদ বিয়ে করার জন্য দুবাই থেকে দেশে আসেন। পরে পাশের বাড়ির ফতুল্লার কাশিপুর আমবাগান এলাকার ব্যবসায়ী শাহীন ব্যাপারীর মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রী মোনালিসাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় সাঈদের পরিবার।

    কিন্তু মেয়ের বয়স অল্প হওয়ায় সাঈদের পরিবারের প্রস্তাবে রাজি হয়নি মোনালিসার পরিবার। পরে সাঈদ পাশের এলাকার এক মেয়েকে বিয়ে করেন। ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের লোকজন নরসিংদীতে বেড়াতে গেলে মোনালিসাকে একা বাড়িতে পেয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মোনালিসার লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ মোনালিসার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ দিকে ঘটনার পর আবু সাঈদ দুবাই পালিয়ে যান।

    ওই সময় মোনালিসার ছোট ভাই শাহেদ বলেছিল, সাঈদ নামে এলাকার এক ছেলে পানি খাওয়ার কথা বলে তাঁদের ঘরে যান। খেলার কথা বলে তাকে বাইরে পাঠিয়ে দেন সাঈদ। পরে সে ঘরে এসে দেখেন তার বোন ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে মোনালিসাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। মোনালিসা হাজী উজির আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

  • বোনের ছেলের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক স্কুলছাত্রীর গর্ভপাত ঘটালেন খালা

    বোনের ছেলের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক স্কুলছাত্রীর গর্ভপাত ঘটালেন খালা

    বোনের ছেলের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক স্কুলছাত্রীর গর্ভপাত ঘটালেন খালা। বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর পাতারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    ধর্ষক সোলায়মান রাঢ়ি (২৩) উত্তর পাতারচর গ্রামের আ. ছালাম রাঢ়ির ছেলে। ধর্ষণে সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সোলায়মান রাঢ়ি ও তার খালা।

     স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একই এলাকার কিশোরী এবং চরপদ্মা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছে সোলায়মান রাঢ়ি। ধর্ষণে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। সোলায়মানকে বাঁচাতে তার প্রভাবশালী বাবা এবং স্থানীয় একটি মহল ছাত্রীর বাবাকে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য চাপ দেয়। সেই সঙ্গে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে সোলায়মানের খালা নাজমা বেগম স্কুলছাত্রীর গর্ভপাত ঘটায়। গর্ভপাত ঘটানোর পর স্কুলছাত্রী সুস্থ ও নিরাপদে আছে বলে জানালেও কোথায় আছে তা জানায়নি নাজমা বেগম।

    এ ব্যাপারে সোলায়মানের বাবা আ. ছালাম রাঢ়ি বলেন, আমার ছেলের ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। এ বিষয়ে স্থানীয়রা যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা আমি মেনে নেব।

    এ বিষয়ে নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর প্রতিবন্ধী বাবা বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে আমার মেয়েকে তারা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। কোথায় আছে আমার মেয়ে তা আমাকে জানানো হয়নি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

    এদিকে, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ কিংবা কোনো মামলা করা হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুলাদী থানা পুলিশের ওসি জিয়াউল আহসান বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • আমার স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ওসি

    আমার স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ওসি

    দীর্ঘ ৯ মাস ধরে আমার স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম করছেন গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশের ওসি একেএম এনামুল কবীর। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে আমাকে নির্যাতন করা হয়। ওসির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ইয়াছিন শেখ (৩৫) নামের এক যুবক।

    ইয়াছিন শেখ বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস ধরে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশের ওসি একেএম এনামুল কবীর আমার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেম করে আসছেন। সবশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কাজে আমি ঢাকায় যাই। ঢাকা থেকে ওইদিন গভীর রাতে ফিরে আসি। ঘরে ঢুকে দেখি ওসি এনামুল কবীর আমার স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত। এ সময় আমি চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে ওসি ঘর থেকে বের হয়ে আমাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলে। সেই সঙ্গে পাগল আখ্যা দিয়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালায় ওসি।

    ইয়াছিন আরও বলেন, এ ঘটনার পর থেকে ওসি আমাকে হয়রানি করে চলছেন। আমাকে মাদক মামলার আসামি করার হুমকিও দিয়েছেন। ইতোমধ্যে আমাকে বাগেরহাট থানার একটি মাদক ও ব্যাংক চেক প্রতারণার মামলার আসামি করা হয়েছে। আমার স্ত্রীর সঙ্গে ওসির পরকীয়া নিয়ে আমি গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। গোপালগঞ্জের এএসপি (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বিষয়টি তদন্ত করছেন। আমার সংসারের সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনতে আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবি করছি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশের ওসি একেএম এনামুল কবীর পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ইয়াছিন ও তার স্ত্রীকে চিনি না। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইয়াছিনকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এমন কাজ করাচ্ছে। আমি তাকে কখনো মামলা দেয়ার হুমকি দিইনি। আমার জানামতে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তবে চাকরি দেয়ার কথা বলে ইয়াছিন বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে বলে শুনেছি।

    এ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জের এএসপি (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, এ নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ইয়াছিন। পুলিশ সুপার আমাকে ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ইয়াছিন তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও গাজীপুরের এক হুজুরের মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করছি আমি।

  • পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন: পুলিশ

    পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন: পুলিশ

    রাজবাড়ীতে পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে রাজবাড়ী পুলিশ। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এসব খুনের ঘটনায় রাজবাড়ীতে পদ্মা সেতু নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে তা ভিত্তিহীন।

    রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।

    আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, সামনের দিনগুলো আরও কঠিন হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ যেন এ রকম আর কোনো গুজব ছড়াতে না পারে সে জন্য সাংবাদিকদের সজাগ থাকার অনুরোধ জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, আগস্ট মাসে ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাশাপাশি তিনটি ইউনিয়নে (মুলঘর, আলীপুর ও বানীবহ) তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকে ওইসব এলাকায় নানা ধরণের গুজব ছড়াতে থাকে।

    শুরুতে পুলিশ বিষয়টি আমল না দেয়ায় গুজব ডালপালা মেলে আরও ছড়িয়ে যায়। অনেকেই গলাকাটা আতঙ্কে এলাকায় পাহারা দিতে শুরু করে। অবশেষে আমরা হত্যাগুলোর রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি।

    পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৬ আগস্ট দিনগত রাতে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামে হাজেরা বেগম (৪৮) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী তমিজউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে রাজবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। একমাস ধরে এই হত্যা মামলা তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    এসপি বলেন, তদন্তে আমরা জানতে পারি ওই গৃহবধূর ছেলে হাফিজুল প্রবাসে থাকেন। হাফিজুলের স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে (২৫) অনেক ভালোবাসতেন তার মা হাজেরা বেগম। এ কারণে হাজেরা মাঝেমধ্যেই ছেলের বউয়ের কাছে ঘুমাতেন। কিন্তু ছেলের বউ স্বপ্নার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল স্থানীয় সোহেল মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে।

    রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন রাতে সোহেল তার সহযোগী কবির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে স্বপ্নার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হতে আসে। এসময় স্বপ্না ও তার চার বছর বয়সী ছেলে সানী এবং শাশুড়ি হাজেরা একই বিছানায় শুয়েছিলেন। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে ছেলের বউয়ের পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলেন হাজেরা। আর এতেই সোহেল, কবির ও স্বপ্না মিলে গলাকেটে হত্যা করে হাজেরাকে। শুধু তাই নয়, কেউ যাতে স্বপ্নাকে সন্দেহ করতে না পারে এজন্য সোহেল স্বপ্নার দুই হাতে কোপ দিয়ে জখম করে দিয়ে যায়।

    পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে হাজেরার লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি তার ছেলের বউ স্বপ্নাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ওইসময় মিথ্যা নাটক সাজিয়ে স্বপ্না জানান, ওইদিন রাতে খাবার খেয়ে সে তার ছেলেসহ শাশুড়ি একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান ঘরের আলো নেভানো এবং তার শাশুড়ির শরীরে রক্ত। এসময় তিনি চিৎকার দিলে পাশের ঘরে থাকা শ্বশুরসহ অন্যান্যরা ছুটে এসে দেখেন হাজেরা বেগমের গলাকাটা লাশটি খাটের ওপর পড়ে আছে।

    কিন্তু গত ৭ সেপ্টেম্বর হত্যার মূলহোতা সোহেল ও তার সহযোগী কবিরকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের শাশুড়িকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন স্বপ্না।

    এর আগে ৭ আগস্ট দিনগত রাতে সদর উপজেলার বানীবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া গ্রামে নিজ বসত ঘরে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ আদুরী আক্তার লিমাকে (২৫) গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন গত ৮ আগস্ট নিহতের স্বামী রড মিস্ত্রি মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে রাজবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    এ হত্যার বিষয়ে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, পিলার থেকে ম্যাগনেট সংগ্রহ চক্রের সদস্য ছিলেন আদুরী বেগম। তার আপন দুই দেবর এবং এক ফুফাতো দেবরও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই ম্যাগনেট ব্যবসার দ্বন্দের কারণেই তিন দেবর মিলে গলাকেটে হত্যা করে আদুরীকে। আদুরীর তিন দেবর বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। তারা পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

    এছাড়া গত ২ আগস্ট দিনগত রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মুলঘর গ্রামে দাদী শাহিদা বেগম (৪৫) ও নাতনী লামিয়া আক্তারকে (৭) গলা কেটে হত্যা করা হয়। জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩ আগস্ট নিহত শিশু লামিয়ার বাবা গার্মেন্টেস কর্মী শহিদুল ইসলাম (৩২) বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

    এ হত্যার বিষয়ে সংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, দাদি-নাতনি হত্যার ঘটনায় আসামি গ্রেফতার রয়েছে। এ হত্যার রহস্যটিও আমরা ইতিমধ্যে উদঘাটন করেছি। কিন্তু, আমাদের কিছু টেকনিক্যাল বিষয় আছে। আশা করছি ওই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে শিগগিরই এ হত্যার বিষয়ে আপনাদের জানাতে পারবো।

    সাংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খাঁন, সিনিয়ন সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মো. ফজলুল করিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. কামাল হোসেন ভূইয়া ও পরিদর্শক মো. জিয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • ধর্ষণের দায়ে কিশোরীকে গ্রেফতার খালু

    ধর্ষণের দায়ে কিশোরীকে গ্রেফতার খালু

    নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে খালুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতের নাম মো. জামিল (২৮)। সে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার দক্ষিণ সতানন্দপুর গ্রামের মৃত সামছুজ্জামানের ছেলে। এ বিষয়ে আজ রবিবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ধর্ষিতা ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিতা ওই কিশোরীর মা সাত-আট বছর পূর্বে দাউদকান্দি নিজ গ্রামে মারা যায়। পরে তার খালা সোনিয়া আক্তার ওই সময় কিশোরীকে লালন-পালনের জন্য তার কাছে সিদ্ধিরগঞ্জে নিয়ে আসে। তখন থেকে কিশোরীটি তার খালা সোনিয়া ও খালু জামিলের সংসারে বড় হতে থাকে। এদিকে কিশোরিটি বড় হতে থাকলে তার দিকে কু-নজর পরে খালু জামিলের। বিভিন্ন সময় সে কিশোরীকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিত।

    বিষয়টি ওই কিশোরীর বাবা জানতে পেরে গত ঈদুল আযহার কিছুদিন পূর্বে মেয়েকে তার গ্রামের বাড়ি দাউদকান্দি নিয়ে যায়। পরে গত বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ কিশোরীটিকে বাসায় খুজে পাচ্ছিলোনা তার বাবা। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে কিশোরীটিকে তার খালু জামিল ফুসলিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা এলাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে। ওইদিন সন্ধ্যায় কিশোরীটির খালা সোনিয়া বাড়িতে ছিল না। এই সুযোগে জামিল কিশোরীটিকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরে ওই রাতেই আবার কিশোরীটিকে গাড়িতে তুলে দেয় জামিল এবং ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কিশোরীটিকে।

    এদিকে বাড়ি ফেরার পর গত শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কিশোরীটি ধর্ষণের ঘটনাটি তার বড় বোনকে জানায়। পরে ওইদিনই কিশোরীর বাবা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এসে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ জামিলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

    এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আজিজুল হক জানায়, স্ত্রীর বড় বোনের কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আমরা ধর্ষক খালুকে গ্রেফতার করেছি। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিুশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে

  • তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার আদালত স্থানান্তর

    তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার আদালত স্থানান্তর

    তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যার পর মরদেহ গুমের ঘটনায় ছাত্রলীগের চার নেতাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলা বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন। এর আগে, ১২ আগস্ট সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশ (ডিবি)।

    অভিযোগপত্রে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. মাহমুদ, পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহি আনান দানিয়াল ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্ট, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান এবং পাথরঘাটা কলেজের নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আরো দুই জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে, নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন, ছাত্রলীগের চার নেতা কারাগারে আছেন এবং বাকি দুই জন পলাতক রয়েছেন।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি দীর্ঘ এক বছর তদন্ত শেষে পাথরঘাটা উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের চারনেতা, পাথরঘাটা কলেজের নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীরসহ আরও দুই জনকে অভিযুক্ত করে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে ডিবি পুলিশ। বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে স্থানান্তর করেন।

    এদিকে, দীর্ঘ এক বছর পর তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ওই তরুণীর পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি ডিবি পুলিশ।

    এ বিষেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. বশির উদ্দিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওই তরুণীর গলিত মরদেহের ছবি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। এমনকি রিমান্ডে বারবার চেষ্টা করেও আসামিদের মুখ থেকে ওই তরুণীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট পাথরঘাটা কলেজের পশ্চিম পাশের পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১১ ও ১২ নভেম্বর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদ ও নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীর।

  • কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ ‘র‍্যাম্প মডেল’ গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ ‘র‍্যাম্প মডেল’ গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ইয়াবাসহ এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার ওই তরুণী নিজেকে র‍্যাম্প শোর মডেল হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

    গ্রেপ্তার তরুণীর নাম কান্তা আক্তার (২৪)। তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদরের নয়াপাড়া এলাকায়।

    কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, তাঁর কাছ থেকে ২০০ পিচ ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই তরুণী বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি হাতব্যাগে করে কৌশলে এসব ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করছিলেন।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় তল্লাশিফটকে ধরা পড়েন ওই তরুণী। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়। সোমেন মণ্ডল জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার কান্তা আক্তারকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

    গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

    বরিশাল নগরীর কাশিপুরের ইছাকাঠীতে গলায় ফাঁস দিয়ে তৃপ্তি বাড়ৈ (২১) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। তিনি কাশিপুরের ইছাকাঠী কলোনির বাসিন্দা দানিয়াল বাড়ৈর মেয়ে ও বরিশালে একটি কলেজ থেকে এইচএসএসি পাশ করেছেন।

    মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, তৃপ্তির প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা পিটারের ছেলে চন্দনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এর কিছুদিন পর তাদের আবার সখ্যতা গড়ে উঠলে এ নিয়ে তাদের পারিবারের মধ্যে বিরোধ বাধে। এর জের ধরে মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তৃপ্তি।

    পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম জানান, তৃপ্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • সিরাজগঞ্জে নেপালি ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, প্রভাষক কারাগারে

    সিরাজগঞ্জে নেপালি ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, প্রভাষক কারাগারে

    বিয়ের প্রলোভনে নেপালি মেডিকেল কলেজ ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ নর্থবেঙ্গল মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা.তুহিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার রাতে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এর আগে মেডিকেল ছাত্রীর অভিযোগে শহরের ধানবান্ধি মহল্লা থেকে তাকে আটক করা হয়। ডাঃ তুহিন নর্থবেঙ্গল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাড়ি নেপালে।

    অভিযোগে জানা যায়, ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন অধ্যাপক ডা. তুহিন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে যৌন নিপীড়নও করেন। কিন্তু বিয়ের জন্য চাপ দিলে ডা.তুহিন বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে শুক্রবার দুপুরে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

    এরপর রবিবার বিকেলে আবারও ওই ছাত্রী বিয়ের জন্য ডা. তুহিনের বাড়ি যায়। তখন দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এরপর ওই মেডিকেল ছাত্রী বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষকে জানিয়ে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

    সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগের পরই ডা. তুহিনকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মেয়েটির অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ ডা. তুহিনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের অধ্য প্রফেসর ডা.এসএম আকরাম হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাবার পরই ডা. তুহিনের বিরুদ্ধে কলেজের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।