Category: নারী ও শিশু

  • হিজলায় স্কুলছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে যুবক আটক

    হিজলায় স্কুলছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে যুবক আটক

    নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:

    বরিশালের হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ইন্দুরিয়া গ্রামে এক স্কুুল ছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় বখাটে মো. সোলায়মান (২৫) গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ওই ছাত্রীর মুখমন্ডলে এসিড নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ তার পরিবারের। এ ঘটনার পর পরই বখাটে সোলায়মানকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা।

    তবে স্থানীয় আরেকটি সূত্রের দাবি, এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ সত্য নয়। পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ওই ছাত্রীর মুখমন্ডলে অন্য কোন তরল পদার্থ মেখে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    ঘটনার শিকার ছাত্রীর নাম মুক্তা (১৬)। সে ইন্দুরিয়া গ্রামের আলী আহম্মেদ হাওলাদারের মেয়ে ও স্থানীয় মোস্তাফিজুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। মুক্তা হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আটক হওয়া সোলায়মান একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে।

    হিজলা থানার ওসি মাকসুদুর রহমান জানান, মুক্তা নামে এক স্কুল ছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে তার বাবা আলী আহম্মেদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মুক্তা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। অভিযুক্ত সোলায়মানকে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আলী আহম্মেদের অভিযোগ পুলিশ তদন্ত করছে।

  • জয় পেয়েছেন সেই নাদিরা বেগম

    জয় পেয়েছেন সেই নাদিরা বেগম

    ছেলে ভ্যান চালাত আর মা মাইকিং করে নিজের প্রচারণা করে ভোট চাইতেন। ভোটের মাঠে সবাই যখন দলবেঁধে ঘুরেছেন তখন ভিন্ন চিত্র ছিল নাদিরা বেগমের। পোস্টার টানিয়েছেন নিজ হাতে। ছেলেকে নিয়েই ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দরজায় দরজায় কড়া নেড়েছেন তিনি।

    নাদিরা বেগম এবার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৮নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে জয় পেয়েছেন তিনি। ওই ওয়ার্ডে ছয়জন প্রার্থীকে পেছনে রেখে জয় পেয়েছেন নাদিরা বেগম।

    বিয়ের কয়েক বছর পর স্বামীকে হারান নাদিরা। সেই থেকে একাই পথচলা তার। নাদিরা বেগম নগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকার মকবুল হোসেনের মেয়ে। তার একমাত্র ছেলে শাহারিয়ার আহমেদ স্বপ্নীল নগরীর ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র মডেল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    মাত্র ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছিলেন নাদিরা। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা বোনের কাছ থেকে ধার নিয়েছিলেন। নিজের রাজহাঁস বিক্রি করে বাকি টাকা জোগাড় করেছেন তিনি।

    স্থাবর সম্পত্তি বলতে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৮ শতাংশ জমি রয়েছে তার। নগদ ৬০ হাজার টাকা ছাড়াও তার ফ্যান, মোবাইল এবং দুটি খাট রয়েছে অস্থাবর সম্পত্তির ঘরে। প্রতি মাসে গড়ে তিন হাজার টাকা করে আয় করেন জীবন সংগ্রামী এই নারী।

    জানা গেছে, গত তিন সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে অংশ নিয়েছিলেন নাদিরা বেগম। কিন্তু একবারও নির্বাচিত হতে পারেননি। প্রতিবারই অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এ ব্যবধান গড়ে দিয়েছিল টাকা।

    নাদিরা বেগম বলেন, অর্থের অভাবে ভালোভাবে প্রচারণায় নামতে পারিনি। কিন্তু বরাবরই এলাকার মানুষের সমর্থন পেয়েছি। এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম।

  • নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ফার্মগেটে সড়ক অবরোধ

    নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ফার্মগেটে সড়ক অবরোধ

    সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের পদত্যাগ, নিরাপদ সড়ক ও ঘাতক জাবালে নূরের চালকদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসি দাবিতে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেটের সড়ক অবরোধ করেছেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) সকাল সোয়া ১০টার দিকে তারা এ সড়ক অবরোধ করেন। তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম সড়ক অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ফার্মগেট ওভারব্রিজের নীচে শিক্ষার্থীরা বসে পড়েন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

    অবরোধ থেকে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের পদত্যাগ, নিরাপদ সড়ক ও ঘাতক জাবালে নূরের চালকদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসি দাবি ছাড়াও বেশ কয়েকটি দাবি করা হয়েছে।

    দাবিগুলো হলো- নৌপরিবহন মন্ত্রী সকল সংসদীয় কমিটি, মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন ও মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ, ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের ন্যায্য দাবি পূরণ, পেশাদার লাইসেন্স প্রদানে স্বচ্ছতা, সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি, বিগত দিনের সকল দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় ওভারব্রিজ, সকল প্রকার দলীয় আচরণ ত্যাগ করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা, পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের বাস্তবসম্মত ক্ষতিপূরণ, গাড়ির ফিটনেস ও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর করা।

    Farmgate

    এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ওয়ান স্টেপ অবরোধের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

    গত রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী।

    চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যাওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

    ওই ঘটনায় জাবালে নূরের তিন গাড়ির দুই চালক ও দুই হেলপারকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১। এর আগে নিহত মিমের বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

  • ‘আমি আর বাস চালামু না’

    ‘আমি আর বাস চালামু না’

    দুপুরে মেয়েকে যেখানটায় বাস পিষে দিয়ে গেছে, সেখানটায় বসে মেয়ের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ছাতার অংশ বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। গত রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় বাস পিষে মেরেছে যে দুই শিক্ষার্থীকে, তাদের একজন দিয়া খানম ওরফে মীমের বাবা জাহাঙ্গীর।

    গতকাল সোমবার বাসায় গেলে জাহাঙ্গীর জানান, তিনি নিজেও বাসচালক। ২৭ বছর ধরে ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে বাস চালান। আজ পর্যন্ত তাঁর চালানো বাসের নিচে চাপা পড়ে কেউ মারা যায়নি। অথচ তাঁর মেয়েকেই কিনা বাসচালক পিষে মেরে ফেলল। অভিমান আর হাহাকার নিয়েই জাহাঙ্গীর বলছিলেন, ‘আমি আর বাস চালামু না। যেই বাস আমার মেয়েরে নিয়া গেল, সেই বাস আর ধরুম না আমি।’

    বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত দুজনই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। মীম ছাড়া আরেকজন হলো আবদুল করিম রাজীব। এক মাস আগে কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল দিয়া খানম মীম। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে অনেক বড় হবে। নোয়াখালীর একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান আবদুল করিম রাজীব সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিল শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত সে। সড়কে প্রাণ যাওয়া দুই শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা মেনে নিতে পারছে না তাদের মৃত্যু। গতকালও তারা রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে।

    রবিবার রাতেই দুই শিক্ষার্থীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ১টার দিকে মীমকে দাফন করা হয়েছে তেজগাঁও এলাকায়। আর রাজীবের লাশ রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। তার লাশ গতকাল দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    মীমের পরিবার রাজধানীর দক্ষিণ মহাখালীর জামে মসজিদ গলির জিপিক-৭৫ নম্বর বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকে। মীম ছাড়া আরেক মেয়ে রিয়া খানম ও ছেলে রিয়াদ, স্ত্রী রোকসানাকে নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের পরিবার। গতকাল ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও প্রতিবেশীরা গিয়ে মীমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো সান্ত্বনাই সন্তানহারা মা-বাবার হাহাকার থামাতে যথেষ্ট নয়।

    মেয়েকে হারিয়ে মুষড়ে পড়েছেন তার বাবা জাহাঙ্গীর, যিনি মেয়েকে অনেক বড় দেখতে চেয়েছিলেন। জানালেন, নিজে কষ্ট করে জীবন চালান, কিন্তু কোনো দিন মেয়েকে সেটা বুঝতে দিতেন না। তিনি চাইতেন মেয়ে অভাবের কথা জেনে যেন মন খারাপ না করে। জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার মেয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তার হত্যার বিচার চাই।’

    জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে আমি মেয়েকে বাসে তুইলা দেই। রবিবার সকাল সাড়ে ৬টায় তাকে বাসে উঠিয়ে দিছিলাম। কিন্তু কে জানত সেদিনই আমি শেষবার আমার প্রিয় মেয়েকে বাসে উঠিয়ে দিচ্ছি।’ তিনি জানান, একতা পরিবহনের বাস চালান তিনি। রবিবার দুপুর ২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল তাঁর। দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যান। বের হওয়ার সময় তিনি স্ত্রীকে বলে যান যে মীম বাসায় এলে যেন তাঁকে ফোনে জানানো হয়। কিছুদূর যাওয়ার পরই তাঁর ফোনে একটি কল আসে। তাঁকে জানানো হয়, মীমকে বাস চাপা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার হাত-পা ভেঙে আসে। কিভাবে সেখানে যামু ভাবতে পারছিলাম না। গিয়া দেখলাম আমার মেয়ে আর নাই।’

    জাহাঙ্গীর আলম তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, ঢাকায় যারা বাস চালায় তাদের ঠিকমতো গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেই। বেশির ভাগই বাসচালকের সহকারী। তাঁর ভাষায়, ‘দুই দিন বাস চালাইয়া ড্রাইভার হইয়া গেছে। তো এরা মানুষ মারব না তো কী? এদের কোনো ঠিকানা নাই।’ তিনি বলছিলেন, ‘আমি সারা জীবন বাস চালাইছি, সেই ছোট থাইকা; কেউ আমার গাড়িতে অ্যাকসিডেন্ট হয় নাই। আমি তো কাউরে মারি নাই। তাইলে আমার মতো মানুষের মেয়ের কপাল এমন হইলো ক্যান?’

    মীমের মা রোকসানা বেগম জানান, রবিবার সকালে বাসা থেকে যাওয়ার সময় মীম তাঁকে জানিয়ে যায়, দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাসায় ফিরবে। কিন্তু তার আর বাসায় ফেরা হলো না। আহাজারি করে তিনি বলছিলেন, প্রতিদিনের মতো সেদিনও মেয়েকে নাশতা তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নাশতা মেয়ে খেয়েছে কি না তা আর জানা হলো না তাঁর।

    মীমের এক খালা জানান, মীম খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। সবাই ওকে পছন্দ করত। ঘরে বসে নিজে নিজে গান-বাজনা করত। লেখাপড়ায়ও ভালো ছিল।

    অন্যদিকে রাজীবের বোন নাজমা বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মেধাবী রাজীব ভর্তি হয়েছিল ক্যান্টনমেন্টের এই কলেজে। তাঁদের বাবা নেই। ঢাকার আশকোনায় খালাতো ভাইয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা করত সে।

  • ধর্ষকের বিচারের দাবীতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন জননী

    ধর্ষকের বিচারের দাবীতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন জননী

    বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাসের পর প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকার করায় ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন দুই সন্তানের জননী। তিনি এখন ধর্ষকের বিচারের দাবীতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রেমিকের প্রলোভনে স্বামীকে তালাক দিয়ে দু’কূলই হারিয়েছেন অসহায় ওই নারী। বর্তমানে ওই নারী তার প্রেমিক মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের চরকমিশনার এলাকার আঃ রশিদ ওরফে হিরা সরদারের পুত্র সাইফুল সরদারের পাশ্ববর্তী বাড়িতে অবস্থান করে বিভিন্ন মানুষের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু কেহই ওই নারীর বিষয়ে সমাধান দিতে পারছে না।

    থানা পুলিশও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না বলে জানিয়ে দেওয়ায় ওই নারীর আদালতে শরনাপন্ন হওয়া ছাড়া কোনো উপায় দেখছে না কেউ। কিন্তু আদালতে সমাধান পাওয়া সময় সাপেক্ষ হওয়ায় ধর্ষিতা নারী স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছেন। কিন্তু ধর্ষক প্রেমিক প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এছাড়া প্রেমিক দুই সন্তানের জননীকে অব্যহত হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    দুই সন্তানের জননী জানান প্রায় দের বছর আগে মুলাদী উপজেলার দক্ষিণ কাজিরচর গ্রামের হুমায়ুন সিকদারের মাধ্যমে চরকমিশনার গ্রামের আঃ রশিদ ওরফে হিরা সরদারের পুত্র সাইফুল সরদারের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাইফুল বিয়ের আশ্বাসে ওই গৃহবধুকে দিয়ে তার স্বামীকে তালাক দেওয়ায়। পরে সাইফুল ওই নারীকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। তিন মাস ধরে সাইফুল বরিশাল সদরের কাউনিয়া এলাকায় বাসা ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তাকে নিয়ে বসবাসও করে। গত এক সপ্তাহ ধরে সাইফুল বিয়ে নিয়ে তালবাহানা শুরু করে এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

    সাইফুলের খোঁজে ওই গৃহবধু মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কাজিরচর ইউনিয়নের চরকমিশনার গ্রামের আলহাজ্ব আবুল সরদারের বাড়িতে আসলে সে তাকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে আসে। ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মন্টু বিশ্বাস তাকে মুলাদী থানায় পাঠায়। থানা পুলিশ মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে ওই গৃহবধু পুনঃরায় কাজিরচর এলাকায় গিয়ে প্রেমিক সাইফুল সরদারের সহযোগী হুমায়ুন সিকদারের বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরির্পোট লেখা পর্যন্ত ওই নারী চরকমিশনার এলাকায় অবস্থান করছিলো।

  • অবশেষে বাড়ি ফিরেছে সেই খুদে ফুটবলাররা

    অবশেষে বাড়ি ফিরেছে সেই খুদে ফুটবলাররা

    থাইল্যান্ডের চিয়াং রাইয়ের থেম লুয়াং গুহায় আটকে পড়া সেই ১২ খুদে ফুটবলার ও তাদের কোচ আজ বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। ফিরে গেছেন তাদের মা-বাবার কাছে। আর বিকেলে সংবাদ সম্মেলন শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তারা বাড়ি ফিরেছে।

    বুধবার ওই ফুটবল দলকে নিয়ে ‘থাইল্যান্ড মুভ ফরোয়ার্ড’ নামের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য থাই সরকার ৪৫ মিনিট সময় বরাদ্দ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

    এর আগে হাসপাতালে কিশোরদের সামনে ডুবুরি সামানের একটি ছবি রাখা হয় বলে জানা গেছে। তাদের জানানো হয়, ইনি হলেন সেই ডুবুরি যিনি তোমাদেরকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। এ কথা শোনার পর নিজেদের আর দমিয়ে রাখতে পারেনি কিশোর ছেলেরা। ছবির সামনে দাঁড়িয়েতারা কান্নায় ভেঙে পড়ে।

    উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডের চিয়াং রাইয়ের থেম লুয়াং গুহায় ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ওই ১২ কিশোর ফুটবলার ও ২৫ বছর বয়সী তাদের কোচ প্রবল বর্ষণ ও বন্যার কারণে আটকে পড়ে। আর্ন্তজাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা প্রায় ২ সপ্তাহ পর তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়ার পর তারা চিয়াং রাইয়ের একটি হাসপাতালে ছিল।

  • সন্তানকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না পিতা, আদালতে মায়ের মামলা

    সন্তানকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না পিতা, আদালতে মায়ের মামলা

    পিতা সন্তানকে স্বীকৃতি না দেয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেছেন সন্তানের মাতা। এমন ঘটনায় শহরে মূল আলোচনার বিষয়ে রূপ নিলেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় অসহায় হয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন ওই নারী।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালে ওই নারী গোপালগঞ্জ জেলার কাশীয়ানি উপজেলার ফুকরা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। মামলার আসামি মুন্সি রুহুল আসলাম একই উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। চাকুরি চলাকালীন আসামি আসলাম বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষিকাকে ডেকে তার ভাড়া বাসায় সহবাসে লিপ্ত করতে বাধ্য করে। পরে শিক্ষিকা তাকে বিভিন্নভাবে বিয়ের চাপ দিলে ২০১২ সালে বিয়ের কয়েক দিন পর কাবিন করার কথা বলে হুজুর ডেকে ধর্ম মোতাবেক বন্ধুর বাসায় বিবাহ করে আসলাম।২০১৪ সালে পুত্র সন্তান জন্ম নেয় তাদের।

    কিন্তু পরে আর বিয়ের কাবিন করেননি আসলাম। উল্টো সময়-অসময়ে নির্যাতন ও যৌতুকের জন্য চাপ সৃস্টি করা হয়। কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দেয়া না হলে বৌ হিসেবে মেনে নিবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়।

    স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা না হওয়ায় ৯ এপ্রিল আদালতে মামলা করেন বাদী শাবিহা শারমিন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও টাকার জোরে প্রকাশ্যে গোলাপগঞ্জ জেলার মকসদপুদ উপজেলায় শিক্ষা অফিসার হিসেবে রয়েছেন। পরে ৩ জুলাই আদালত ডিএনএ টেস্ট পর্যন্ত আসামীকে জামিন দেন।

    বাদি পক্ষের দাবি, আসামি মুন্সি রুহুল আসলাম টাকা দিয়ে সব কাজ করিয়ে নেয়। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ডিএসএ টেস্টটি যেন সঠিকভাবে হয়। এ ছাড়া আসামির বিরুদ্ধে নারীঘটিত একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এ বিষয়ে মুন্সি রুহুল আসলামের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্নভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

    মকসদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়ার কারণে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

  • সাঁতরাতে শিখছে থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া ফুটবল টিম

    সাঁতরাতে শিখছে থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া ফুটবল টিম

    থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া তরুণ ফুটবল টিমের ১২ সদস্যের কাছে পৌঁছেছে দেশটির নৌ-বাহিনীর সিল টিম। তারা ওই তরুণ ফুটবলারদের শেখাচ্ছে কিভাবে পানির নিচে সাঁতরাতে হয়। গুহা থেকে বের হওয়ার জন্য একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের জন্যই তাদেরকে এমনটা শেখানো হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
    খবরে বলা হয়, থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে একটি গুহায় ১১ দিন আগে আটকা পরে ওই ফুটবল দল ও দলের কোচ। বাইরের বৈরি আবহাওয়ার কারণে গুহা থেকে তাদের একমাসের আগে উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
    আটকে পরা বালকদের কেউই সাঁতরাতে জানে না। তাই,তাদেরকে বের করে আনতে সাঁতরানো শেখাচ্ছে নৌবাহিনীর সিল টিমের সদস্যরা। আপাতত তাদের উদ্ধার করার সবচেয়ে সম্ভাব্য উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এই পদ্ধতিকে। কেননা, সপ্তাহান্তে বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তাদের বের করে আনা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠবে।
    বর্তমানে তারা সাঁতরানোর জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবহার শিখছে। কিন্তু কেউই সাঁতরে বের হওয়ার চেষ্টা করেনি। কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে গুহার ভেতর থেকে পানি সেঁচে তাদের বের হওয়ার রাস্তা সুগম করতে। যাতে করে তারা বেশিরভাগ পথ হেটে বের হতে পারে। তবে তা সত্ত্বেও কিছুটা পথ তাদের সাঁতরেই পাড়ি দিতে হবে।
    সোমবার রাতে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়। আপাতত তারা উঁচু জায়গায় আছে। তাই বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু শুক্রবার ব্যাপক আকারে বৃষ্টি ও ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাদের বের হওয়া কঠিন হয়ে ওঠবে।
    নৌবাহিনীর সিল টিম তাদের ফেসবুক পেজে বালকদের নিয়ে নতুন একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। তাতে দেখা যায়, তারা এখনো সুস্থ ও নিরাপদ আছে। একজন থাই চিকিৎসক আহতদের চিকিৎসা করছেন। তাদের কাছে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।
    এছাড়া, তাদের কাছে মুঠোফোন পাঠানোর চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের কাছে মুঠোফোন পাঠানো হলে, তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারবে। এতে অনেকটা চাপ কমে যাবে।
  • শিশু ধর্ষণের ক্ষোভে উত্তাল ভারতের মধ্যপ্রদেশ

    শিশু ধর্ষণের ক্ষোভে উত্তাল ভারতের মধ্যপ্রদেশ

    ভারতের মধ্যপ্রদেশে সাত বছর বয়সী এক কন্য শিশুকে ধর্ষণ ও পরে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল দেশটির রাজ্য। শিশুটি বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। মঙ্গলবার তাকে স্কুলের বাইরে থেকে অপহরণ করে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করা হয়। রাজ্যের মধ্যাঞ্চলে এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুটির জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে রাস্তায় রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। ধর্ষকদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও।

    এ ব্যাপারে বিবিসি অনলাইনে বলা হয়েছে, ধর্ষণের দায়ে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সাংবাদিকদের বলেছেন, যেসব পশু এমন হায়েনার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে পৃথিবীর জন্য তারা বোঝা। তাদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। গ্রেফতারকৃত দুই অভিযুক্তর পক্ষে আদালতে আইনি লড়াইয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে রাজ্যের আইনজীবীদের ইউনিয়ন।

    বুধবার শিশুটিকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। এ ব্যাপারে চিকিৎসকরা বলছেন, সে এখন বিপদমুক্ত। তবে তার যে ক্ষত হয়েছে তা সেরে উঠতে সময় লাগবে।

    এদিকে পুলিশ বলেছে, তারা স্কুলের কাছ থেকে ধারণ করা সিসিটিভির ফুটেজ ব্যবহার করে ওই দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তারা প্রথমে ওই শিশু কন্যাকে মিষ্টি খেতে বলছে। এরপর তাদের সঙ্গে করে শিশুকে নিয়ে যায়।

  • বরিশালে ধর্ষণের লজ্জায় আত্মহত্যা : ৩ আসামিকে বাদ দিয়ে চার্জশিট

    বরিশালে ধর্ষণের লজ্জায় আত্মহত্যা : ৩ আসামিকে বাদ দিয়ে চার্জশিট

    বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ধর্ষণের লজ্জায় শরীরে কোরোসিন ঢেলে স্কুলছাত্রী সোনিয়ার (১৩) আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৫ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে তিন আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মাসুদুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

    শুধু তাই নয়, অর্থের বিনিময়ে চার্জশিটে ধর্ষণ মামলার ধারা পাল্টে সম্ভ্রহানির ধারা দিয়ে শুধুমাত্র এক আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে বলেও মামলার বাদী ওই স্কুলছাত্রীর মা শিউলি বেগম অভিযোগ করেছেন।

    সোনিয়া বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের মধ্য চরাদি গ্রামের দুলাল খানের মেয়ে ও চরাদি বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

    মামলার বাদী শিউলি বেগম জানান, ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের মধ্য চরাদি গ্রামের মোশারফ হোসেন পান্নু খানের ছেলে সেনা সদস্য আসাদ খান নিকটাত্মীয় তারেক খানসহ অন্য আসামিদের সহযোগিতায় তার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ূয়া মেয়েকে ধর্ষণ করে। এতে লজ্জায়-ঘৃণায় মেয়েটি নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেলের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠান চিকিৎসকরা। ঘটনার পাঁচদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনিয়ার মৃত্যু হয়।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করলেও পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ২ জানুয়ারি ধর্ষক আসাদ খান, সহায়তাকারী তারেক খান, হুমকিদাতা আরিফ খান ও মোশারফ হোসেন খান পান্নুসহ চারজনের নামে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নেয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. ইউসুফ আসামি গ্রেফতারে গড়িমসি শুরু করেন। বিষয়টি তিনি ওসি মাসুদুজ্জামানকে জানালে পরে মামলাটি তদন্তের ভার তিনি নিজে নেন।

    সোনিয়ার বাবা মো. দুলাল খান জানান, মামলার পর অন্যতম আসামি এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আরিফ খান প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে বাদীসহ তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করে। বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি ও তার স্ত্রী মাস খানেক আগে মামলার চার্জশিট দেয়ার বিষয়ে জানতে থানায় গেলে তদন্ত কর্মকর্তা ওসি মাসুদুজ্জামান চার্জশিট তাদের পক্ষে দেবেন বলে তাদের নিকট ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় ওসি আসামিদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে মামলা থেকে তিন আসামির নাম বাদ দিয়েছেন এবং ধর্ষণের ঘটনাকে সম্ভ্রমহানি উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন। তিনি ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেবেন বলেও জানান।

    তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর গুরুত্ব দিয়ে আসামি সেনা সদস্য আসাদ খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ধর্ষণের আলামত না পাওয়ায় চার্জশিটে সম্ভ্রহানির ধারা দেয়া হয়েছে। তদন্তে বাকি আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তারপরও বাদীপক্ষের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা পুনরায় তদন্তের জন্য আদালতে নারাজি দেবেন।