Category: নারী ও শিশু

  • গাছে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন

    গাছে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন

    বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার আউলিয়াপুরে মুগ ডালখেতে গরু বাঁধায় রশি দিয়ে দুই হাত গাছের সঙ্গে বেঁধে আরাফাত আকন (১৩) নামে এক কিশোরকে নির্যাতন করা হয়েছে।

    রোববার এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতিত কিশোরের মা ফরিদা বেগম। আহত আরাফাত আকন উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের ইউনুস আকনের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের বাদল তালুকদারের গরু একই গ্রামের ইউনুস আকনের খেতের মুগ ডাল খায়। এ সময় মুগ ডালখেত থেকে গরুকে তাড়িয়ে দেয় আরাফাত আকন।

    এ ঘটনা নিয়ে বাদল তালুকদার ও ইউনুস আকনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে বাদল তালুকদার শনিবার বিকেলে আরাফাত আকনকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে দুই হাত বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে।

    আকনের মামা নয়ন খলিফা এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে বাদল তালুকদার তাকেও পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা আহত আরাফাতকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

    বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, ওই কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জড়িতদের ধরতে জোর প্রচেষ্টা চলছে।

  • বাবাকে বলো আমার সঙ্গে যেন এ রকম না করে

    বাবাকে বলো আমার সঙ্গে যেন এ রকম না করে

    পৃথিবীতে মেয়েদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় বাবা-মা। একমাত্র বাবা-রাই তার মেয়ে সন্তানদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে আগলে রাখতে পারেন। কিন্তু সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যা সত্যিই খুবই দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক। মাঝে মাঝেই এত বাজে ঘটনা মেয়েদের সাথে ঘটে যায় যা ব্যাখ্যাতীত।

    ব্যাখ্যাতীত মনে হবার কারণ হলো- পৃথিবীতে যে বুকটি সবচেয়ে নির্ভরতার হবার কথা ছিলো মেয়েটার জন্য, সেটাও আজ এক শ্রেণির পিশাচের জন্য কলঙ্কিত। বয়স মাত্র ১৩ বছর। আর এই বয়সেই সৎ বাবার যৌন লালসার শিকার হতে হল ছোট্ট মেয়েটিকে। ভারতের হায়দরাবাদে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

    জানা গেছে, ৮ বছর আগে এক বিধবা নারীকে বিয়ে করে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি। এদিকে, সেই নারীর আগের ঘরে দুইটি মেয়ে সন্তান ছিল। সেই নারীর আগের ঘরের দুটি সন্তানকে দত্তক নেয় অভিযুক্ত বাবা নাম ওই পিশাচ। প্রথম দিকে সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু এ বছরের এপ্রিল মাস থেকে এই দৃশ্য বদলাতে শুরু করে। নির্যাতিতা ১৩ বছরের ওই কিশোরীর ওপর অত্যাচার শুরু করে সে। পুরো ঘটনাটি নিজের মুখে জানিয়েছে ওই কিশোরী। এ ঘটনার দিন ওই কিশোর মা বাড়িতে না থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগায় সেই সৎ বাবা। এ সময় অভিযুক্ত সেই সৎ বাবা তার সঙ্গে ওই নারকীয় কাণ্ড ঘটায়।

    এখানেই শেষ নয়, এ ঘটনা তার মাকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার ভয়ও দেখায় সে। তাই ভয়ের কারণে মাকে কিছু না জানিয়ে চুপ করে থাকে ওই কিশোরী। কিন্তু ওই ঘটনার চারদিন পর তার মা যখন আবারো বাড়ি থেকে বের হতে যায়, তখন ওই মেয়েটি তার মাকে বলে, ‘বাবাকে বলো আমার সঙ্গে যেন এ রকম না করে।’

    নিজের মেয়ের মুখ থেকে এই জঘন্য ঘটনাটি শোনার পর সেই ব্যক্তিকে (স্বামী) জিজ্ঞাসাবাদ করেন ওই নারী। তখন অভিযুক্ত সেই ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। এরপরই নিজের মেয়েকে নিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন ওই মা। ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

  • ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শিশুকে ধর্ষণ : ২০ হাজার টাকায় ‘মিটমাট’

    ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শিশুকে ধর্ষণ : ২০ হাজার টাকায় ‘মিটমাট’

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আশ্রায়ণ কেন্দ্রে দরিদ্র পরিবারের এক শিশুকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে এক লম্পট। ওই শিশু একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। গুরুতর অবস্থায় তাকে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক উজ্জ্বল মিয়া পলাতক রয়েছে।

    জানা গেছে, শিশুটির পরিবার হত-দরিদ্র। চলতি বোরো মৌসুমে তারা হাওরে ধান কাটা শ্রমিকের কাজ করেন। প্রতিদিনের মতো গত ২ মে শিশুটিকে বাড়িতে একা রেখে বাবা-মা হাওরেযান। এ সুযোগে দুই সন্তানের জনক উজ্জ্বল মিয়া শিশুটির বাড়িতে গিয়ে চেতনানাশক মিশ্রিত জুস দেয়। শিশুটি জুস খেয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করে উজ্জ্বল। পরদিনে ফের একই কায়দায় শিশুটিকে ঘরে একা পেয়ে সে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন মা-বাবার কাছে সে বিষয়টি সম্পর্কে জানায়। এরই মাঝে বিষয়টি স্থানীয়রাও জেনে যান।

    এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ৪ মে চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজল মিয়া সালিশের উদ্যোগ নেন। তিনি ধর্ষিতা শিশুটির পরিবারকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যা হয়েছে তা ভুলে যেতে বলেন।

    এ ব্যাপারে সালিশকারী চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজল মিয়া বলেন, ‘মেয়ের পরিবার দরিদ্র। মামলা দিয়ে তারা কোনও ফায়দা পাবে না বলেই ঘটনাটি সালিশে মিটমাট করি। উজ্জ্বল মিয়ার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে তা শিশুটির চিকিৎসার জন্য তার বাবা-মাকে দেয়া হয়েছে।’

    চুনারুঘাট থানার ওসি কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভিকটিমের বাবা অভিযোগ করেছেন। আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • এবার মোহাম্মদপুরে ময়লার স্তূপ থেকে নবজাতক উদ্ধার

    এবার মোহাম্মদপুরে ময়লার স্তূপ থেকে নবজাতক উদ্ধার

    রাজধানীতে আবারও ময়লার স্তূপ থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার ভোর ৫টার দিকে মোহাম্মদপুরের জনতা হাউজিংয়ের পার্শ্ববর্তী কাঁচাবাজারের সামনে রাখা ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে এক মেয়ে নবজাতকের দেখা পান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) এক নারী পরিচ্ছন্নকর্মী (ঝাড়ুদার)। পরে তার দেয়া খবরে পুলিশ এসে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ জানান, ভোরবেলা ডিএনসিসির এক নারীকর্মী ময়লা পরিষ্কার করতে এসে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। কাছে গিয়ে দেখেন কাপড়ে পেচানো এক মেয়ে নবজাতক। তখনও শিশুটির শরীরে সদ্যজন্ম নেয়ার আভা স্পষ্ট।

    ওই নারীকর্মী বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন এক পরিদর্শককে জানালে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় অবহিত করেন। এরপর থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। তাকে চিকিৎসার জন্য মোহাম্মদপুর টেম্পুস্ট্যান্ড সংলগ্ন গ্লাস আরমান হেলথ কেয়ারে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির দেখভাল করছেন থানার অপর উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন।

    তিনি বলেন, ‘কে বা কারা শিশুটিকে রাস্তায় ফেলে গেছে তা জানা যায় নি। নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালের ৩ মার্চ রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেকশনের ২০/ডি রোডের ১৭ নম্বর বাড়ির সামনে ড্রেনের পাশ থেকে দুই মাসের একটি মেয়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    media

    এছাড়া ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মের পরেই ভবন থেকে নিচে ফেলে দেয়া নবজাতককে উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে রমনা থানা পুলিশ। রমনার বেইলি রোডের পিঠাঘর-সংলগ্ন একটি বাসার চারতলা থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ ওই ছেলে নবজাতকটিকে ফেলে দেন মা বিউটি। ২৬ দিন চিকিৎসাধীন থাকা পর ‘বেবি অব বিউটি’ মারা যায়।

    এরপর গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি খিলগাঁওয়ের ৪২৭/সি ভবনের সামনে থেকে এক নবজাতককে দেখতে পেয়ে ওই ভবনের ৫ম তলার বাসিন্দা শাহিনুর বেগম তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যান। পরে পুলিশকে খবর দিলে প্রথমে শিশুটিকে খিলগাঁও খিদমা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

    সর্বশেষ গত এপ্রিলেও জন্মের পরই আরেক নবজাতকের জায়গা হয় রাস্তায়। মা কিংবা বাবার নির্দয় আচরণের শিকার নবজাতক। মিরপুর স্টেডিয়াম গলির মুখে গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাচ্চাটির কান্নার আওয়াজ ও নড়াচড়া দেখতে পান নাফিসা ইসলাম অনন্যা। তার খবরে ছুটে আসেন স্বামী ইঞ্জিনিয়ার মেহেদি হাসান আহাদ। মাতৃস্নেহে বুকে নিয়ে বুঝতে পারেন নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভাল নয়। আসাদগেটের কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন নাফিসা-মেহেদি দম্পতি।

  • ঘর থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করলো মাদরাসাছাত্রীকে

    ঘর থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করলো মাদরাসাছাত্রীকে

    উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৪) ঘর থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা।

    শুক্রবার (০৪ মে) বিকালে পুলিশ কিশোরীকে তার নানির বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পলাতক রয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর মা সৌদি থাকেন। বাবার সঙ্গে তার মায়ের ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর সে নানির কাছে থাকে। একই এলাকার পান্না পঞ্চায়েত (৩২) মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করত। কিশোরীর নানি স্থানীয় গ্রাম পুলিশের কাছে নালিশও করেছিল।

    বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে পান্না পঞ্চায়েত ও তার সহযোগী রুম্মান পঞ্চায়েত কিশোরীকে নিজের ঘর থেকে মুখ চেপে পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

    কিশোরীকে ঘরে খুঁজে না পেয়ে নানি ও প্রতিবেশিরা বাগান থেকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে মুখ চেপে পান্না পঞ্চায়েত ও রুম্মান পঞ্চায়েত ঘর থেকে তুলে বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে।’

    মঠবাড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল বলেন, খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে

  • বাকেরগঞ্জে শিক্ষক কর্তৃক শিশু ধর্ষন- আটক

    বাকেরগঞ্জে শিক্ষক কর্তৃক শিশু ধর্ষন- আটক

    শেখ সুমন :

    নরপিশাচ শিক্ষকের লালসার শিকার হলো তৃতীয় শ্রেনির ছাত্রি আতিকা ইসলাম মিম(৭)। ঘটনাটি ১১ এপ্রিল বুধবার দুপুরে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের কামারখালি বাজারে।

    ঘটনাসূত্রে জানা যায় কামারখালি বাজারে ইলিয়াস মাওলানা পরিচালিত ইসলামিক প্রি ক্যাডেট কিন্ডারগার্ডেন এর শিক্ষক শহিদুল ইসলাম (৫০)’র লালসার শিকার হন ঐ স্কুলের তৃতীয় শ্রেনির ছাত্রী মিম, ঘটনার জানাজানি হলে স্থানীয় জনগন উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

    এ ব্যাপারে ঘটনার সত্যতা শিকার করে শর্শি ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: আনোয়ার হোসেন বলেন ধর্ষক শহিদুল ইসলাম কে আমরা হেফাজতে নিয়েছি তার বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন ও ধর্ষনের অপরাধে মামলা রুজু করা হচ্ছে।

  • চট্টগ্রামে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ

    চট্টগ্রামে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ

    চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা সদরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ১০ দিন আগের এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার বিকালে ওই ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

    মামলায় রুবেল দাশ (২৫) নামে এক তরুণকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

    আনোয়ারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব মিল্কী বলেন, ‘গত ২৪ মার্চ আনোয়ারা সদরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে তাদের পাশের বাসার বাসিন্দা রুবেল দাশ জোর করে ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। রবেলকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

    স্থানীয়রা জানান, ঘটনা জানাজানি হলে রুবেল স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ওই শিশুর বাবা রাজি না হয়ে মামলা করেন।

  • চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, অপারেশন থিয়েটার ভাঙচুর

    চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, অপারেশন থিয়েটার ভাঙচুর

    শেখ সুমন :

    বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় খাদিজা আক্তার নামে নয় মাসের অন্তঃসত্বা এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সাথে তার গর্ভে থাকা সন্তানটিরও মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার গাইনি ওটিতে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। এসময় রোগীর ক্ষুব্ধ স্বজনরা ওটির প্রবেশদ্বার ভাঙচুর করলে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্নি চিকিৎসকের সাথে মারামারি হয়।

    মৃত খাদিজা আক্তারের স্বামী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ শাকিল বলেন, ‘আগামী ২৬ মার্চ আমার স্ত্রীর ডেলিভারির তারিখ ছিল। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের কাছে একটি ইনজেকশন না থাকায় খাদিজাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুপুর ১২টার দিকে ভর্তি করা হয়। ওই সময় থেকেই খাদিজা গুরুতর অসুস্থ থাকায় আমি একাধিকবার চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাই। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত ও প্রয়োজনীয় ওষুধ জোগাড় করে রাখি। বিকাল ৩টায় থেকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার কথা বললেও তা নেয়া হয়নি।’

    তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টার দিকে খাদিজাকে অপারেশন থিয়েটারে নিতে বলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সেখানে গিয়েও কোনো চিকিৎসকের দেখা মিলেনি। অবস্থা বেগতিক হলে সেখানে থাকা সেবিকাদের বলা হলে তারা চিকিৎসকের কাছে যেতে বলেন। তৃতীয় তলায় গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে উপরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে তারা সিনিয়র চিকিৎসক ছাড়া যেতে পারবেন না বলে জানান। একপর্যায়ে চিকিৎসককে ধরে টান দিলে অন্য চিকিৎসকরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর শুরু করেন। পা ধরে অনুরোধ করার পরও তারা আমাকে অনবরত মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে আমার স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পাই। এসময় আমার শ্যালক রিয়াজ উদ্দিন ক্ষুব্ধ হয়ে অপারেশন থিয়েটারের সামনের একটি দরজার গ্লাস ভেঙে ফেলে। তারপর শত অনুরোধেও শিশু সন্তানটিকেও বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি চিকিৎসকরা।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পর থিয়েটারের মধ্যে কয়েকজন সেবিকার দেখা পাওয়া যায়। তাদেরকেও বলা হয় বিষয়টি। তবে তারা ব্যস্ত ছিলেন লুডু খেলায়।’

    তবে এসব বিষয় অস্বীকার করেছেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. নাহিদ হাসান। বলেন, রোগীটি মূমুর্ষ অবস্থায় এখানে ভর্তি হয়। তার প্রেশার বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে প্রেশার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। কিন্তু রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকলে জরুরিভিত্তিতে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। আর অপারেশন টেবিলে ওঠানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। ফলে বাচ্চাটিকেও বাঁচানো যায়নি। কিন্তু এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীর স্বজনরা অপারেশন থিয়েটার ভাঙচুর ও ইন্টার্নি চিকিৎসকদের মারধর করে।

    এই বিষয়ে শেবাচিম হাসাপাতালের গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফরিদা ইয়াসমিন জানান, খাদিজা এ্যাটলামসিয়ার রোগী। তার প্রেশার অত্যাধিক বেশি ছিল। এই ধরনের রোগীর অবস্থা একটু ক্রিটিক্যাল হয়। চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না।

  • গত ২০বছরে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা”

    গত ২০বছরে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা”

    রফিকুল হোসাইন ফিরোজ:

    মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ।

    প্রতি ছয়জনে একজন শিশু যুদ্ধ-সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বাস করছে। ফলে যুদ্ধের বলি হতে হচ্ছে তাদের। সম্প্রতি শিশু বিষয়ক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন নতুন এক রিপোর্টে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।

    গত ২০ বছরের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়গুলোতেই সংঘাতময় এলাকায় শিশুদের জীবন সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৩ কোটি ৫৭ লাখ শিশুসংঘাতপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে। ১৯৯৫ সালে এইসংখ্যা ছিল ২ কোটি। অর্থাৎ এই সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সিরিয়া, আফগানিস্তান এবং সোমালিয়াকে।

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশকেও শিশুদের জন্য অনিরাপদ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি ৫০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সংঘাত বা মারাত্মক হামলার শিকার হচ্ছে প্রতি পাঁচজনে দুইজন শিশু। এর মধ্যে আফ্রিকা তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ শিশু সংঘাতময় এলাকায় তীব্র বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বিশ্লেষণী তথ্য ব্যবহার করেই নতুন প্রতিবেদন তৈরি করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন।

    সংঘাতপূর্ণ এলাকায় হাসপাতাল এবং স্কুলে হামলার ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। ফলে এসব হামলায় শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিশুমৃত্যু বাড়ছে।হামলায় ব্যবহৃত কিছু অস্ত্র যেমন রাসায়নিক অস্ত্র, ল্যান্ডমাইন, ক্লাস্টার বোমা হামলা আগের চেয়ে কমলেও অন্যান্য হুমকি থেকেই যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে আত্মঘাতী হামলায় শিশুদের ব্যবহার করছে জঙ্গিরা। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আহত বা নিহত হওয়া ছাড়াও শিশুরা প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেসব এলাকায় বহু শিশু খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে।

  • শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা- বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার,আটক-২

    শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা- বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার,আটক-২

    কাশিপুরে ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিমা কাশিপুর ২ নং ইউনিয়নের গণপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংরক্ষিত কাউন্সিলার রাশিদা বেগমের বাড়ীর ভাড়াটিয়া।

    গতকাল গণপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২শ গজ পিছনে হাওলাদার বাড়ীর পারিবারিক গোরস্থান থেকে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বস্তাভর্তি শিমার লাশ উদ্ধার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোসামৎ লিমা আক্তার জানান, স্কুলের ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিমা আক্তার। রোল নং ২৫। তিনি আরো জানান, একই ক্লাসে পড়য়া শিমার ভাই আবু সায়েম ও স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে জানিয়েছেন গত সোমবার শিমা আক্তার টিফিন পিরিয়ডে পার্শ্ববতী দোকানে বসা ছিলেন। এর পরে আর শিমা স্কুলে আসেননি।

    শিমার ভাই আবু সায়েম বাড়ীতের গিয়ে বোনকে না দেখে মায়ের কাছে বলেন শিমা লেইজারের সময় ক্লাস থেকে বের হয়েছেন এরপরে আর ক্লাসে ফিরে নাই। শিমার মা স্কুলে এবং বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখোঁজি করে শিমাকে না পেয়ে স্কুলের পক্ষ থেকে বরিশাল এয়াপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গতকাল স্কুলের মাত্র ২শ গজ দূর থেকে শিমার বস্তা বন্দি লাশ স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থাল থেকে লাশ উদ্বার করে বরিশাল শের- ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত করার জন্য প্রেরণ করেন। এদিকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগে স্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা কালু ও পারভেজ নামে দুইজনকে আটক করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    আজ শিমা হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে কাশিপুর গণপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করবেন বলে জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিমা আক্তার। এদিকে স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে স্থানীয় এবং স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, কোন শিক্ষার্থীকে স্কুলের টয়লেট ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। স্কুলের টয়লেট তালা দিয়ে রাখে শিক্ষকরা। স্কুলের পাশে জনাজীর্ন টয়লেট ব্যবহার করার জন্য শিক্ষার্থীদের পাঠান। টয়লেট ব্যবহারের উপযুক্ত না বিধায় মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলের পার্শবত্বি বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে যেতে হয় আর প্রতিনিয়ত মেয়ে শিক্ষার্থীরা যৌনহয়রানীর শিকার হয়ে আসছেন।

    স্থানীয় এবং স্কুলের একাধিক অভিভাবকদের দাবী, শিক্ষকদের খামখেয়ালিপনার কারনেই শিমা প্রতিদিনের নেয় সোমবারও টিফিন পিরিয়ডের বিরতির সময় পাশ্ববর্তী বাড়িতে বাথরুমে যাওয়ার কারনেই আজ এই হত্যাকান্ড ঘটনা ঘটে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিবাবক ও শিক্ষার্থীরা জানালেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারনে মুখবুঝে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা।

    এ অভিযোগ প্রধান শিক্ষক অস্বিকার করে বলেন, স্কুলে পাশের মসজিদের টয়লেট বন্ধ থাকে; আর স্কুলের টয়লেট সব সময় খোলা রাখেন।