Category: নারী ও শিশু

  • মেহেরপুরে ১০ বছরের শিশুকে রাতভর ধর্ষণ

    মেহেরপুরে ১০ বছরের শিশুকে রাতভর ধর্ষণ

    মেহেরপুর জেলা শহরের তাঁতি পাড়ায় (হঠাৎ পাড়া) ১০ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষিত শিশু (১০) তাঁতি পাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণির ছাত্রী। তার পিতার নাম কলিমউদ্দিন। একই পাড়ার কাসেদের ছেলে দাউদ তাকে ধর্ষণ করেছে বলে ধর্ষিতার পরিবার অভিযোগ করেছে।

    জানা যায়, সোমবার রাত ১০টার দিকে প্রতিদিনের ন্যায় ধর্ষিতা (১০) বড়চাচা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে ঘুমানোর জন্য বের হয়।  এসময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী দাউদ তাকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে তার বাড়িতে রাতভর ধর্ষণ শেষে সকালে ছেড়ে দেয়। সাবিনার পরিবারের লোকজন রাতভর অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে অবশেষে আজ সকালে সাবিনাকে তারা খুঁজে পায়।

    এদিকে, এঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে তাঁতি পাড়া। ধর্ষক দাউদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছে এলাকাবাসীরা।

    এ ব্যাপারে মেহেরপুর সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধর্ষিতার পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী মেহেরপুর সদর থানায় অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

    মেহেরপুর সদর থানার ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্ত দাউদকে এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি। আটকের চেষ্টা চলছে।

    এদিকে, অভিযুক্ত ধর্ষক দাউদের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি।  ধারণা করা হচ্ছে, অবস্থা বেগতিক দেখে সকলে পালিয়ে গেছে।

  • গর্ভে ৮ মাসের সন্তান নিয়েও খদ্দেরের বিছানায় রেশমা!

    গর্ভে ৮ মাসের সন্তান নিয়েও খদ্দেরের বিছানায় রেশমা!

    যৌনকর্মী। সমাজের মানুষের চোখে নিকৃষ্ট একটি পেশা কিন্তু এই পেশায় আসা মানুষগুলোরও পেছনে থাকে অজানা অনেক কথা। থাকে দুঃখ, কষ্ট। কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে আসে না এই পেশায়। স্বামীর নির্যাতন, যৌতুক, প্রতারণা আবার অনেকটা বাধ্য হয়েই অনেক আসেন এই পেশায়। তেমনই রাজধানীর ভাসমান যৌনকর্মী রেশমা (ছদ্মনাম)। তার পেশা পতিতাবৃত্তি।

    বিজয় স্মরণী এলাকায় প্রায় প্রতিরাতে খদ্দেরের অপেক্ষায় থাকে মেয়েটি। খদ্দের পেলেই তার পেটে খাবার পড়বে, দিতে পাড়বে তার মাথার উপর থাকা ছাদের ভাড়া। সে এ অনিশ্চিত জীবন আর টেনে নিতে পাড়ছে না, এবার মুক্তি চায়, সমাজে ভালো একটা পরিচয় নিয়ে বাঁচতে চায়। রেশমার ভাষ্য, ‘গর্ভে সন্তান নিয়েও গভীর রাতে এখানে এসেছি। আটমাসের সন্তান গর্ভে থাকার পর খদ্দেরের বিছানায় শুয়েছি। গর্ভবতী হওয়ার পর দুই-তিন মাস বাসায়-ই ছিলাম, কিন্তু আর চলছিলো না। পেটের ক্ষুদায় বাধ্য হয়ে গর্ভবতী অবস্থায়-ই এ কাজ করেছি। কিন্তু সে সন্তানকেই কাছে রাখতে পারলাম না।’

    রোজার দুই সপ্তাহ আগে তৃতীয় সন্তান জন্ম দিয়েছিল রেশমা। জন্ম দেয়ার পর একবার সন্তানের চোখে চোখ রাখার সুযোগ পেয়েছিল। এরপর আর খবর জানে না। আগে থেকেই দালাল ঠিক করা ছিল। বুকের দুধও আর খাওয়ানোর সুযোগ হয়নি। ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে জন্মের পর মুহূর্তেই। এ টাকাতেই রেশমার হিসেব শেষ। এরপর দালাল কার কাছে, কত টাকায় বিক্রি করেছে তাও জানে না রেশমা। কেন বিক্রি করতে হলো সন্তানকে, এসব জানতে চাইলে গলা ধরে আসছিল ওর।

    সিগারেটে ফুঁক দিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে, পেটের জ্বালায় বিক্রি করেছি। ওরে গর্ভে নিয়ে শেষের দুই মাস আর কাজ করতে পারছিলাম না। বাড়ি ভাড়া বাকি ছিল। দোকানেও বাকি ছিল। ২০ হাজার টাকা ঋণ হওয়ায় চোখে সরষে ফুল দেখছিলাম। উপায় না পেয়েই বিক্রি করেছি। বিক্রিই যদি করতে হয় তাহলে এত কষ্ট করে গর্ভধারণের দরকার কি? এমনটি জানতে চাইলে রেশমা বলেন, ইচ্ছা ছিল দেশে যাওয়ার। নেশাখোর স্বামীরে ভালো করে ময়মনসিংহ চলে যাব। অন্য কিছু করব। তা আর হয়নি। স্বামীর কারণেই হয়নি। সে চায় আমি রোজ রোজ সকালে গিয়ে তার হাতে টাকা দিই। শেষে বুঝলাম, এ কাজই করতে হবে। কোলে মাইয়া নিয়া তো রাস্তায় খাড়াতে পারমু না। খদ্দের পামু না। তাই বেচে দিলাম।

    মেয়েকে দেখতে মন চায় না? জানতে চাইতেই চোখ ছলছল করে উঠল রেশমার। ওড়নায় চোখ মুছতে মুছতে বলেন, ‘ওরে গর্ভে নিয়ে সাড়ে সাত মাস রাস্তায় কাজ করেছি। শীতের রাতের কষ্টের কথা মুখে বলা যায় না। স্বপ্ন ছিল অনেক কষ্ট হলেও আদর-যত্ন করে বড় করব। বড় মেয়ে মিমের সঙ্গে মিলিয়ে নামও রেখেছিলাম। জানিনা ওর নাম কি রাখা হয়েছে। শুনেছি পঙ্গু হাসপাতালের এক ডাক্তার কিনে নিয়েছে। কিন্তু তার ঠিকানা জানি না।’

  • শরীরের খিদে মেটাতে সন্তানকেও ব্যবহার করল এক নৃশংস মা!

    শরীরের খিদে মেটাতে সন্তানকেও ব্যবহার করল এক নৃশংস মা!

    দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ৷ নিজের স্তন্যপান করিয়ে স্নেহছায়ায় বড় করে তোলা৷ নিজের সন্তানের কাছে মা সবসময় মমতাময়ী৷ সেই মা এতো নোংরা হতে পারে? নিজের মা এতো নৃশংস হতে পারে? মা এতো কুৎসিত হতে পারে? কখনও সম্ভব? ‘কুসন্তান যদি বা হয়, কুমাতা নয়’৷ সন্তান খারাপ হয়, মা কখনও খারাপ হয় না৷ সমাজ তাই জেনে এসেছে, জানিয়ে এসেছে৷ কিন্তু নানা বিকৃত ঘটনা জন্ম দেয়ার ধারাবাহিকতায় এবারও সেই ঘটনাস্থল ভারত।

    দেশটির পুরুলিয়ার এক মায়ের নৃশংসতা, বর্বরতা সেই সব প্রবাদকে এক নিমেষে মুছে দিয়েছে৷ এক নৃশংস নোংরা মায়ের তার সাড়ে তিন বছরের বাচ্চার প্রতি লোম খাড়া করে দেবার ঘটনা নাড়া দিয়েছে গোটা বাংলাকে৷ লজ্জায়, ঘৃণায় মুখ ঢেকেছে গোটা সমাজ৷ গত মঙ্গলবার, পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা সন্তান৷

    শিশুটি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে তারই নিজের মা৷ চিকিৎসা করতে গিয়ে শিশুটিকে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান হাসপাতালের ডাক্তাররা৷ সরকারী হাসপাতাল, তাই দিনরাত আহত-মৃত শরীর নিয়ে থেকেও এই ফুলের মতো শিশুটিকে দেখে হতবাক হয়ে যান চিকিৎসকরা৷ সাড়ে তিন বছরের গোটা শরীরে কালসিটে৷ বুকে মোচড়ানোর দাগ৷ কামড়ানোর দাগ৷ গোটা শরীরে নখের আঁচড়৷ কান দিয়ে রক্ত পরছে৷ রক্তের ফোঁটা নেমে আসছে শিশুটির যৌনাঙ্গ দিয়ে৷ একনজরেই অভিজ্ঞ ডাক্তাররা বুঝে যান দুধের শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে৷ সম্ভবতঃ ধর্ষণও৷

    সঙ্গেই সঙ্গেই পুলিশকে খবর দেন হাসপাতালের ডাক্তাররা৷ পুলিশের কাছে শিশুকন্যার উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন তারা মৌখিক ভাবে৷ যদিও শিশুটির মা কিছু বলতে রাজী হননি গত ৩ দিন ধরে৷ পুলিশে কোন অভিযোগ করতেও রাজী হননি তিনি৷ ডাক্তারদের কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়ে আসরে নামেন সংবাদকর্মীরা৷ সংবাদকর্মীরা রিপোর্ট দেন চাইল্ড লাইন ও জুভেনাইল বোর্ডকে৷ তারপর সাংবাদিকরাই জেরা করেন অত্যাচারিত শিশুটির মা’কে৷ তখনই জানা যায়, এক মায়ের চরম নোংরামির ঘটনা৷

    ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার মফঃস্বল থানা এলাকার নদিয়াড়া গ্রামে৷ স্বামী পরিত্যক্ত ওই শিশুটির মা, সনাতন ঠাকুর নামে একজনের বাড়িতে পরিচালিকার কাজ করে৷ সেখানেই সে তার শিশুসন্তানকে নিয়ে থাকে গত ৪ মাস ধরে৷ ৬৫ বছরের বৃদ্ধ সনাতন ঠাকুর বিপত্নীক। তার ছেলে ও বৌমা থাকে দূরে। লোকটি আগে হোমগার্ডে চাকরি করত এখন সে এলাকায় কীর্তন করে বেড়ায়। এরপরই ওই মহিলা জানায় সেই চরম সত্য৷ লোকটির সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক চলতে থাকে৷ শুধু তাই নয়, গত একমাস ধরে লোকটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের সময় বাচ্চাটিকে উলঙ্গ করে তাদের পাশে শোয়ানো হতো।

    যৌনতার সময় শিশুটিকেও ব্যবহার করতো দুই প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষ৷ অনেক সময় মা ইচ্ছে করেই শিশুটিকে রেখে বাইরে চলে যেত দরজা বন্ধ করে। ছোট্ট শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করত অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুর৷ নৃশংস মা সব জেনে বুঝেও চুপ করে থাকতো৷ মঙ্গলবার শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলেই স্বীকার করে নেয় শিশুটির মা৷ তারপরেই শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়৷ তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে বাধ্য হয় মা৷

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মা জানায়, শিশুটির গোপনাঙ্গে কাঠি ঢুকিয়ে দিয়ে অত্যাচার করত সনাতন ঠাকুর৷ সাংবাদিকরা ও জুভেনাইল বোর্ডের প্রতিনিধিরা এবং চাইল্ড লাইনের প্রতিনিধিরা অভিযুক্তের বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নদীয়াড়া গ্রামে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় অভিযুক্তের বাড়ির দেওয়াল ভগবানের ছবির পাশাপাশি নগ্ন মহিলাদের ছবিতে ভর্তি। গ্রামের লোক জানায় লোকটি ভালো না, বাচ্চাটির মাও ভালো নয়।

    ঘটনায় যথারীতি নীরব দর্শক এর রোলে পুলিশ৷ তাদের বক্তব্য, অভিযোগ জমা না পড়লে কিছুই করা সম্ভব নয় তাদের পক্ষে। ডাক্তাররা সবটাই জানতে পারেন মায়ের প্রতি শিশুটির আচরণ দেখে৷ হাসপাতালেও ছোট্ট শিশুটির মা নিজের মেয়েকে কোলে নিতে যায়। দেখা যায়, মা কে দেখলেই বাচ্চাটি আঁতকে উঠছে, কাঁদছে, শিউরে উঠছে। মায়ের কোলে না গিয়ে শিশুটির আঁতকে ওঠা দেখে চিকিৎসকদেরই প্রথমে সন্দেহ হয় বাচ্চার যৌন নির্যাতনে মা এর হাত রয়েছে। এক মায়ের এই অবিশ্বাস্য নৃশংসতায় নির্বাক সংবাদমাধ্যম কর্মীরাও৷ বিস্ময়ে হতবাক চিকিৎসকরা৷ এক শিশুর প্রতি চরম নোংরামি দেখে ক্ষুব্ধ চাইল্ড লাইনের সদস্যরা৷ আঁতকে উঠেছেন জুভেনাইল বোর্ডের কর্তারাও৷

    শুধু নিশ্চুপ পুলিশ৷ কেউ অভিযোগ করে নি যে৷ অভিযোগ না করলে পুলিশ কি করবে? রাজ্যের পুলিশ কি এতটাই নিরক্ষর? এই শব্দগুলো নিশ্চয় পুলিশ কর্তারা পড়েছেন৷ ‘Suo motu’ meaning “on its own motion”৷ অভিযোগ না হলেও পুলিশ যে কোন ক্ষেত্রে নিজে থেকে FIR করে কেস চালু করতে পারে৷

    আসলে রাজনীতির চাপে, পুলিশ কর্তাদের এখন আর কোন সামাজিক বিষয়ই নাড়া দেয় না৷ পুরুলিয়ার শিশু নির্যাতনের ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ৷ শিশুটির মা শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করতে রাজী হয়েছে৷ অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবী উঠছে পুরুলিয়া জেলা জুড়ে৷ সেই সঙ্গে শিশুর মাকেও চরম শাস্তির দাবী উঠেছে৷

    প্রশ্ন উঠছে এক মাকে নিয়ে৷ নিজের সন্তানের প্রতি এতটা নিষ্ঠুর কোন মা হতে পারে? শরীরের চাহিদা এত বেশি? যা নিজের বাচ্চার প্রতি ভালোবাসাও নষ্ট করে দেয়? এ কেমন মা? নিজের পেটের সাড়ে তিন বছরের ফুলের মতো শিশুকে এক ৬৫ বছরের বুড়োর শয্যাসঙ্গিনী হতেও বাধা দেয় না? নিজের সন্তানকে এক বিকৃতকামী বুড়োর কাছে যৌন নির্যাতন হওয়া কোন মা দেখতে পারে? অবিশ্বাস্য এই প্রশ্নের উত্তর নেই কারোর কাছে৷ লজ্জায় মুখ ঢেকেছে ভারতের সমাজ৷ ওই ছোট্ট শিশুটিকে নয়, নষ্ট সমাজকেই যেন ফের ধর্ষণ করেছে এই সমাজেরই কিছু বিকৃতকামী মানুষরূপী পশু৷ আর সব দেখেও চুপ এই নষ্ট সমাজেরই শিরদাঁড়াহীন মানুষরা৷

  • বাপ-ছেলের সঙ্গেই যদি করতে পারি বাইরে করতে দোষ কী!

    বাপ-ছেলের সঙ্গেই যদি করতে পারি বাইরে করতে দোষ কী!

    আমার বয়স যখন ১২ বছর তখন আমার বাবা এক বাসায় কাজ করতে রেখে যায়। ঐ বাসায় যখন সাহেব-ম্যাডাম বাসার বাহিরে চলে যেত তখনই ছেলে জোর করে আমার সঙ্গে যৌন কর্ম করত। এভাবে চলতে থাকে দিনের পর দিন। আবার যখন সাহেব একা বাসায় থাকত তখন তিনিও আমাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে তার রুমে যৌনকর্ম করতে বাধ্য করত। আমি এসব বিষয়ে ম্যাডামকে কিছুই বলতে সাহস পেতাম না, কারণ উনিও আমাকে অনেক নির্যাতন করত।

    কথাগুলো একজন ভাসমান যৌনকর্মী রিমি আখতারের। রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় বসবাস করেন তিনি। বাপ-ছেলের যৌন লালসার শিকার হয়ে অবশেষে পেশা হেসেবেই বেছে নেন এই কর্মকে। বলেন, বাপ-ছেলে দুজনের সাথে এক কাজ করতে আমার খারাপ লাগতো। পরে ভেবে দেখলাম বাপ-ছেলের সঙ্গেই যদি এই কাজ করতে পারি, তাহলে পেশা হিসেবে নিতে আর দোষ কী? তাই এ পথে নেমে গেলাম।

    তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ আমাদের খারাপ বলে জানে। আসলে আমাদেরকে এ পথে কারা আনতে বাধ্য করে? কাদের কারণে আমরা এ পথ বেছে নিয়েছি এটি কেউ জানতে চায় না। আমরা অসহায়, চাইলেও এ পথ থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি না।

    রিমির সাথে থাকা আরেক যৌন কর্মী বলেন, আমার স্বামী নির্যাতন করত, খাবার দিতনা বাসায় বন্দী করে রাখত। একবার ইট দিয়ে মেরে আমার দুই পা থেঁতলে দিয়েছিল। তাই আমি দুটি সন্তান নিয়ে চলে আসি। আমার সন্তানদের মানুষ করতে এ পথ বেছে নিয়েছি।

    বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার শিশু ও নারী স্বামীর হাতে অথবা বাসা বাড়িতে কাজ করতে এসে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এর ফলে এদের অধিকাংশই যৌনকর্মী অথবা মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছে।

  • ভিডিও দেখা নিয়ে ঝগড়া:অত:পর ফিল্মি স্টাইলে খুন

    ভিডিও দেখা নিয়ে ঝগড়া:অত:পর ফিল্মি স্টাইলে খুন

    পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরে মুঠোফোনে ভিডিও দেখা নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে এক কিশোর আরেক কিশোরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অপর কিশোরকে আটক করেছে।
    নিহত কিশোরের নাম নয়ন মোল্লা (১৫)। সে পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় খান হোটেল নামের এক খাবার হোটেলের কর্মচারী ছিল।

    এ ঘটনায় কলাপাড়া থানার পুলিশ ওই হোটেলের আরেক কিশোর কর্মচারীকে (১২) আটক করেছে।

    নিহত নয়ন মোল্লার খালাতো ভাই আবদুল আলিম জানান, কলাপাড়া লঞ্চঘাট এলাকার খান হোটেলে নয়ন কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। তিনি (আবদুল আলিম) পাশের একটি মাছের আড়তে কাজ করেন।

    শনিবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর নয়ন দৌড়ে তাঁর কাছেই আসে। এমন অবস্থা দেখে তিনি দ্রুত নয়নকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়নকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থা সংকটজনক হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য নয়নকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রোববার সকাল আটটার সময় নয়ন মারা যায়।

    ঘটনার কারণ উল্লেখ করে আবদুল আলিম বলেন, নয়ন নিজের মুঠোফোনটি হোটেলের এক জায়গায় রেখে কাজ করছিল। অপর কিশোর কর্মচারী সে সময় নয়নের অগোচরে ফোনটি নিয়ে হোটেলের পেছনে গিয়ে ভিডিও দেখছিল। নয়ন এ ঘটনা দেখতে পেয়ে রাগান্বিত হয়। সে ওই কিশোরের কাছে জানতে চায়, কেন তার ফোন নিয়েছে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। ঘটনা ওখানেই শেষ হয়ে যায়।

    আবদুল আলিম আরও বলেন- ওই কিশোর যে সেই রাগ পুষে রেখেছিল, তা বোঝা যায়নি। রাতে হোটেল নয়ন ঘুমিয়ে গেলে ওই কিশোর তার গলায় ছুরি মারে। ছুরির আঘাতে নয়নের গলার বাঁ পাশ কেটে জখম হয়।

    কলাপাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে- কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের টুঙ্গিবাড়িয়া গ্রামে নয়নের বাড়ি। তাঁর বাবার নাম খোকন মোল্লা।

    আটক কিশোরের বাড়ি আমতলী উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের কলঙ্ক গ্রামে।

    কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে হোটেলের কিশোর কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে।

  • ভিড়ের মধ্যে চরমতম অশ্লীলতার নজির

    ভিড়ের মধ্যে চরমতম অশ্লীলতার নজির

    এক মাস কাটতে না কাটতেই ঘটল আরেকটি অশ্লীল ঘটনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে স্বাভাবিক ভাবেই। গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘হেদুয়ার বাস কাণ্ড’-এর প্রৌঢ়ের স্বমেহনের ভিডিও সারা ফেলে দিয়েছিল ফেসবুকে।

    এরকমই আরেকটি চরমতম অশ্লীলতার নজির পাওয়া গেল একটি মেলায়। নেট দুনিয়ার দাবি, এই ঘটনা হুগলীর চুঁচুড়ার একটি হস্তশিল্প মেলার। ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ভিড়ের মধ্যে এক প্রৌঢ়, এক কিশোরীকে একাধিকবার তার যৌনাঙ্গ দিয়ে অশ্লীল ভাবে স্পর্শ করছেন।

    কিশোরী অস্বস্তিবোধ করলে তার মাকে ব্যাপারটি বলছে। এরপরে মা ও মেয়ে দুজনের অবস্থান পরিবর্তন করলে ভদ্রলোক কিছু করার সাহস পাননি আর। সোশ্যাল মিডিয়ায়, প্রশ্ন উঠেছে ভিডিওগ্রাফারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে। কেন তিনি চোখের সামনে সবকিছু হতে দেখেও চুপ ছিলেন এবং ভিডিও তুলতেই ব্যস্ত ছিলেন?

    কিশোরীটিকে অসভ্যতার হাত থেকে একমাত্র বাঁচাতে পারলে সেই ব্যক্তিই বাঁচাতে পারতেন বলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়ও উঠেছে।

    তবে সেটা ছাপিয়েও যে প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠছে তা হল, একবিংশ শতকেও দেশের মেয়েরা এখনও সুরক্ষিত নয় কেন?

  • ভারতে স্ত্রীকে বাজি রেখে জুয়ায় হার, ধর্ষণের শিকার নারী

    ভারতে স্ত্রীকে বাজি রেখে জুয়ায় হার, ধর্ষণের শিকার নারী

    ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের বালেশ্বর জেলার এক বাসিন্দা বন্ধুর সঙ্গে জুয়া খেলতে নেমেছিলেন স্ত্রীকে বাজি রেখে। সেই জুয়া খেলতে গিয়ে হেরেও যান তিনি। আর খেলার শর্ত হিসাবে স্ত্রীকে তুলে দেন জয়ী ব্যক্তির হাতে। পরে জয়ী ব্যক্তি বন্ধুর সামনেই তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন।
    ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানান, ‘‘সেদিন রাত ১১টা নাগাদ স্বামী বাড়িতে ফেরে। বলে তার সঙ্গে যেতে হবে। অত রাতে কোথায় যেতে হবে, বাচ্চারা ঘুমোচ্ছে – এসব বলেছিলাম আমি। কিন্তু স্বামী শোনে নি। কোনও জবাব না দিয়ে একরকম জোর করেই নিয়ে যায় গ্রামের বাইরে। সেখানে তার এক বন্ধু আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল।’’
    ওই নারী আরো জানান, সেই ব্যক্তিকে স্বামীর বন্ধু হিসাবে তিনি ভাই বলে সম্বোধন করেন। সেই ব্যক্তি তার হাত ধরে টানছিল। অনেক মিনতি করেছিলেন নির্যাতিতা। শেষে তার স্বামীই ওই ব্যক্তির হাতে জোর করে তুলে দেয়। তারপরে স্বামীর সামনেই তাকে ধর্ষণ করে ওই ব্যক্তি, জানাচ্ছিলেন ওই নির্যাতিতা।
    ঘটনাটি গত সপ্তাহের হলেও সম্প্রতি সামনে এসেছে, যখন স্থানীয় থানা অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে আর জেলার পুলিশ সুপারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কিন্তু ততদিনে নির্যাতিতার স্বামী এবং ধর্ষণে অভিযুক্ত- দুজনেই পলাতক।
  • পরকীয়ায় ধরা, দৌড়ে বাঁচলেন জামায়াত নেতা

    পরকীয়ায় ধরা, দৌড়ে বাঁচলেন জামায়াত নেতা

    ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা শওকত হোসেন অসামাজিক কার্যকলাপের সময় এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। এ সময় তাদের ধাওয়া খেয়ে দৌড়ে পালিয়ে বাঁচেন তিনি। ঘটনার পর শুক্রবার বিকেলে ওই জামায়াত নেতার তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালা মেরে দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, উপজেলা জামায়াতের সাবেক কোষাধ্যক্ষ শওকত হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে তারাবির নামাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরে মোটরসাইকেলে এক বিধবা নারীকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী লোহারটেক গ্রামের জয়নাল সর্দারের বাড়িতে যান। ওই বাড়ির একটি ঘরে তারা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হন। এ সময় পাশের বাড়ির এক গৃহকর্ত্রী বিষয়টি দেখতে পেয়ে শওকতের স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে তার স্বামীর অপকর্মের কথা জানান। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শওকতের স্ত্রী রূপসানা আক্তার ও তার কলেজপড়ুয়া মেয়ে ফাতেমা বেগম ওই বাড়িতে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জামায়াত নেতা পালিয়ে যান।

    শুক্রবার দুপুরে শওকতের স্ত্রী রূপসানা তার স্বামীর বিভিন্ন কুকীর্তি ও একাধিক পরকীয়ার ঘটনা উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চরভদ্রাসন সদর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে শুক্রবার বিকেলে উপজেলা সদর বাজারের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাসান ট্রেডার্স নামে জামায়াত নেতার রড, সিমেন্ট ও ঢেউটিনের তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন চরভদ্রাসন সদর ইউপির চেয়ারম্যান আজাদ খান।

    জামায়াত নেতার বড় ভাই শেখ আবুল কালাম জানান, শওকতের এ রকম পরকীয়া সম্পর্কের বহু ঘটনা তাদের সামাল দিতে হয়েছে। তার একের পর এক অপকর্মে তারা অতিষ্ঠ।

    রূপসানা আক্তার বলেন, শওকত ওই বাড়ির মালিক জয়নাল সর্দারকে মাসিক টাকা দিয়ে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।

  • তালিকায় ২৫ নারী মাদক ব্যবসায়ী

    তালিকায় ২৫ নারী মাদক ব্যবসায়ী

    দেশে যে কোনো ধরনের অপরাধের তুলনায় মাদকের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংশ্নিষ্টতা পাওয়া যায় নারীর। মোট মাদক কারবারির ২০ থেকে ৩০ শতাংশই নারী। তবে তাদের মধ্যে মাদক বাহকের সংখ্যাই বেশি। বাকিরা মাদকের নারী গডফাদার। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ইয়াবা কারবারে জড়িত ৩৯ জন নারী। তারা প্রত্যেকে ১৫ থেকে ২০ নারী-পুরুষ বাহকের মাধ্যমে ইয়াবার চালান পাঠিয়ে আসছিল বিভিন্ন জায়গায়। রাজধানীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এসব চক্র। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় উঠে এসেছে রাজধানীকেন্দ্রিক এ রকম ২৫ নারী মাদক ব্যবসায়ীর নাম। তাদের মধ্যে ২২ জন পলাতক। বাকি তিনজন কারাগারে রয়েছে।

    পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা জানান, একসময় ইয়াবার সঙ্গে নিকিতার নাম শোনা যেত। এখন আর আলোচনায় নেই সে। তবে অনেক নারী অল্প সময়ে অনেক টাকা আয়ের সুযোগ হিসেবে শুরু করেছে ইয়াবা ব্যবসা। যারা এরই মধ্যে দখল করেছে নিকিতার জায়গা।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে নারী মাদক ব্যবসায়ীদেরও আইনের আওতায় নেওয়া হবে। তালিকা ছাড়াও যেসব নারী মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে তাদের ব্যাপারে।

    র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, অপরাধ কে করেছে, সেটা মুখ্য। এখানে কারও অন্য কোনো পরিচয় দেখার সুযোগ নেই। নারী মাদক ব্যবসায়ীদেরও কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের অন্তত ৩০ শতাংশই নারী। অনেকে আবার নারীকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে।

    পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের এডিসি মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, অল্প টাকার বিনিময়ে অনেকে মাদকের সঙ্গে নারীকে সম্পৃক্ত করছে। ইয়াবা আকারে ছোট। নারীকে দিয়ে বহন করালে ধরা পড়ার ভয় থাকে কম। আবার কোনো কোনো নারী নেপথ্যে থেকে নারীকে ব্যবহার করেই এ ব্যবসা চালাচ্ছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের এডিসি রহমত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, গত তিন মাসে কক্সবাজার থেকে মাদক ঢাকায় আনতে গিয়ে তাদের হাতে অন্তত সাত নারী বাহক ধরা পড়েছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে মাদক বহন করছিল। কখনও এসব নারীর সঙ্গে ছোট্ট শিশুও আনা হয়, যাতে কেউ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তাদের সন্দেহ না করে। উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে- এক নারী মাদক ব্যবসায়ী অন্তত ৬০টি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। একেকটি নম্বর সে একেক দিন ব্যবহার করে। বারবার স্থান ত্যাগ করে গা-ঢাকা দিচ্ছে। অনেকে আবার স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। কোনো নারী গডফাদার আবার প্রতি মাসে টাকার বিনিময়ে নারীকে ব্যবহার করে ইয়াবার কারবার করছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়লে ইয়াবা বহনকারী নারীর পরিবারের মাসিক ব্যয়ভার বহন করছে ওই সব নারী গডফাদার। এমনকি মামলার খরচও বহন করে তারা। অনেক সময় রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে অভিযানে গেলে নারী ইয়াবা বাহকরা ‘অশ্নীলতা’ প্রদর্শন করে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গ্রেফতার এড়াতে। হাইওয়েসহ দেশের অধিকাংশ জায়গায় পুলিশ চেকপোস্টে পুরুষ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সন্দেহভাজন নারীদের তাই সব সময় চেক করা সম্ভব হয় না। তাই নারী মাদক পাচারকারীরা এ সুযোগও নিয়ে থাকে।

    মাদক চক্রের নারী সদস্য :খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে সবুজবাগের সুফিয়া আক্তার শোভা (৫০)। স্বামীর নাম আইয়ুব আলী। মাদক ব্যবসায় তার রাজত্ব সবুজবাগের ওহাব কলোনি ঘিরে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১০টি মামলা রয়েছে।

    নারী মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছে শামসুন্নাহার চম্পা। স্বামীর নাম মো. বাবুল ওরফে ফর্মা বাবুল। সবুজবাগ ঘিরে চম্পাও দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চালিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৬টি।

    ধনাঢ্য নারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে গেণ্ডারিয়ার রহিমা। রহিমা বেগমের জন্ম গেণ্ডারিয়ার ছোবাপট্টি বস্তিতে। মাদক ব্যবসা করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি বাড়ির মালিক হয়েছে সে। তার রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। ব্যাংকেও নামে-বেনামে অনেক অর্থ রয়েছে তার। রহিমার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে ছয়টি।

    সায়েদাবাদ ওয়াসা কলোনিতে মাদক ব্যবসার নারী গডফাদার হলো সুফিয়া আক্তার সুফি (৪৫)। স্বামীর নাম আক্তার হোসেন। সুফির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদরের খাকুরীতে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ছয়টি। সুফিয়া বর্তমানে কারাগারে।

    কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন বস্তি এলাকায় মাদকের ব্যবসা করে জমিলা খাতুন। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সাতটি।

    সবুজবাগ এলাকার মাদকের আরেক নারী গডফাদার হলো তানিয়া বেগম। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে সাতটি। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের নারী গডফাদার হলো ফারহানা আক্তার পাপিয়া। স্বামীর নাম জয়নাল আবেদীন পাচু। স্বামীর সঙ্গে মিলেমিশে দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্পে রমরমা ব্যবসা করছে সে। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে চারটি। ভাসানটেক বস্তিতে মাদকের ব্যবসা করছে মোর্শেদা। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৩টি। রূপনগরের দুয়ারীপাড়ায় মাদকের ব্যবসা করছে সালেহা বেগম। তার বিরুদ্ধে রূপনগর থানায় মামলা রয়েছে ২২টি। কামরাঙ্গীরচরে মাদকের নারী গডফাদার শাহিনুর রহমান। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৫টি। কারওয়ান বাজার বস্তিতে মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে শিল্পী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সাতটি। সে বর্তমানে কারাবন্দি। কারওয়ান বাজারের আরেক নারী মাদক ব্যবসায়ী আকলিমা আক্তার। কাফরুলে মাদকের নারী গডফাদার জ্যোৎস্না বেগম। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির চন্দ্র সাগরদী গ্রামে। তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। ভাসানটেকের ধামালকোট এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছে স্বপ্না। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে আটটি। স্বপ্না বর্তমানে জেলে আছে। কলাবাগান এলাকায় মাদকের গডফাদার শাহানাজ। তার বিরুদ্ধে মামলা সাতটি। ঢাকার আরেক আলোচিত নারী মাদক ব্যবসায়ী খুরশিদা বেগম ওরফে খুশি। স্বামীর নাম মিজান ওরফে গোল্ডেন মিজান। মিরপুরের কালাপানি, পল্লবী, নিউমার্কেট ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় মাদক ব্যবসা করে সে। নিউমার্কেট এলাকার আরেক মাদক ব্যবসায়ী হাসি বেগম। হাজারীবাগের চিহ্নিত নারী মাদক গডফাদার হলো বীণা। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরায়। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১২টি। একই এলাকার আরেক নারী মাদক কারবারি হলো নূর নাহার নুন্নী। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে ১০টি। এ ছাড়া হাজারীবাগে মাদক ব্যবসা করছে জমিলা ওরফে জামেলা বেগম। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। রাজধানীর কোতোয়ালি এলাকায় মাদক ব্যবসা করছে পারুলী রানী। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে পাঁচটি। খিলক্ষেত এলাকায় মাদক ব্যবসা করছে নাজমা বেগম। তার বিরুদ্ধে মামলা ১৯টি। এ ছাড়া রাজধানীতে মাদকের নারী গডফাদার হলো ফারজানা ইসলাম স্বপ্না। উত্তর ধানমণ্ডিতে তার নিজের দামি ফ্ল্যাট রয়েছে। হাতিরপুলে টাইলসের ব্যবসার আড়ালে স্বপ্না দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার কারবার করে আসছে। আরও যারা নারী মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে- ঢাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইশতিয়াকের স্ত্রী পাখি বেগম, আসমা আহমেদ ডালিয়া, আনোয়ারা বেগম আনু, নার্গিস, পারভীন আক্তার, ইতি বেগম, মরিয়ম ওরফে কুট্টি, মিনা বেগম ও মাহমুদা খাতুন। এ ছাড়া কক্সবাজারের বাসিন্দা আয়েশা বেগম (৪২) বড় মাদক ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ‘বড় আম্মা’ বলে চেনে। তার সিন্ডিকেটের সদস্য হয়ে আরও যারা এ ব্যবসায় জড়িত তারা হলো- চট্টগ্রামের নূর আয়শা, বার্মার সুলতানা রাজিয়া, টেকনাফের মুন্নী তাহের ও মোহাম্মদ, নারায়ণগঞ্জের দেলোয়ার, টঙ্গীর আমিরুল, যাত্রাবাড়ীর বাবু, কুমিল্লার রবিন ও খোকন ও নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ার রিপন। নারী মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছে কক্সবাজারের সানজিদা বেগম, তার বোন লায়লা বেগম, স্থানীয় বাবুল মেম্বারের স্ত্রী সালেহা বেগম, শামসুননাহার। তাদের ব্যবসাও মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক।

  • ৩৬ বছরের যুবকের সাথে ৮ বছরের শিশুর বিয়ে, এলাকায় তোলপাড়

    ৩৬ বছরের যুবকের সাথে ৮ বছরের শিশুর বিয়ে, এলাকায় তোলপাড়

    সানজিদ আলম সিফাত :

    ঝিনাইদহে ৩৬ বছরের যুবকের সাথে ৮ বছরের শিশুর বিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই আজব বিয়ের ঘটনা ফাঁস হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিয়ের সাথে জড়িতরা। ইতিমধ্যে বাল্য বিয়েতে সহায়তার দায়ে ঝিনাইদহ নোটারি পাবলিকের আইনজীবী এড জাহাঙ্গীর কবির ও এড মীর আক্কাস আলীকে শোকজ করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে এই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়।

    ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের মোশারফ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেনির ছাত্রী মাসুরা খাতুনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে কোরাপাড়া গ্রামে জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে। শিশু মাসুরা খাতুন নতুন কোর্টপাড়ার ওমর আলীর মেয়ে। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর হোসেন কোরাপাড়া গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। সে পেশায় বাসের হেলপার।

    এদিকে ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবীরের হস্তক্ষেপে ২য় শ্রেনির ছাত্রী মাছুরাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। মাছুরার মা শাপলা খাতুন জানান, তার মেয়ের জন্ম তারিখ ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এতে তার বয়স হচ্ছে ৮ বছর। তিনি আরও জানান মেয়ে লেখা পড়ায় ভালো না। তাই বিয়ের কাবিন করে রেখেছিলাম। ১৬ বছর পূর্ন হলে তখন জামাই বাড়ি উঠায়ে দেব। পাগলাকানাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের দেওয়া জন্ম নিবন্ধন সনদেও মাছুরার বয়স সাড়ে ৮ বছর। তবে মেয়ের পিতা ওমর আলীর হলফনামায় মেয়ের বয়স ৮ বছরের কথা বলা হয়েছে। এদিকে মাছুরার পিতা ওমর আলী ৩ জন সাক্ষির উপস্থিতিতে এক হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, আইনসিদ্ধ না হওয়ায় তিনি এই বিয়ে বাতিল ও ছেলে পক্ষের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।

    খোজ নিয়ে জানা গেছে, বিয়ে হওয়ার পর বাসের হেলপারি শেষে নতুন বর জাহাঙ্গীর প্রতি রাতেই শ্বশুর বাড়ি এসে রাত যাপন করতো। এতে প্রতিবেশিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

    এদিকে বয়স গোপন করে নোটারী পাবলিক করায় জনমনে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সন্দেহ ও প্রশ্ন উঠেছে। কতিপয় আইনজীবী ও তাদের নিয়োজিত মহুরীরা এই অসৎ কাজের সাথে ব্যাপক ভাবে জড়িয়ে পড়ছে। বড় অংকের টাকা নিয়ে তারা এধরনের জাল জোচ্চুরিতে লিপ্ত হচ্ছে। যার জলন্ত প্রমান হচ্ছে ৮ বছরের শিশু মাছুরার বিয়ে। এ ব্যাপারে মোশারফ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, তাদের ছাত্রী মাছুরার বিয়ে হয়ে গেছে বলে আমরাও জানতে পেরেছি। তবে এটা অন্যায় কাজ হয়েছে।