Category: রাজণীতি

  • দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতে বেশি সময় লাগবে নাঃ শামীম ওসমান

    দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতে বেশি সময় লাগবে নাঃ শামীম ওসমান

    নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের দুর্গ নারায়ণগঞ্জকে নিয়ে কাউকে খেলতে দেব না। অনেক দুশ্চরিত্র, দুর্নীতিবাজরা ভালো মানুষের মুখোশ পরে আছে, এ সব মুখোশ উন্মোচন করতে আমার বেশি সময় লাগবে না। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

    শামীম ওসমান বলেন, আমরা কারও কাছে মাথা নত করিনি, কারও সঙ্গে কোনো আপোষ করব না। এখন তো পুলিশ ডাক্তার প্রশাসন সবাই আওয়ামী লীগ করে, তাই তাদের কারণে আসল আওয়ামী লীগ পেছনে পড়ে গেছে।

    তিনি বলেন, আমার কাছে কেমন কেমন ষড়যন্ত্র লাগে। আমি একটু ষড়যন্ত্রের গন্ধ বেশিই পাই। কারণ আমি নিজে ১৬ জুনের বোমা হামলার ভিকটিম ছিলাম।

    শামীম ওসমান বলেন, এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মতো ঘটনা এখনও ঘটতে পারে। এখন দেখি সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। পুলিশ, ডাক্তার সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, আমাকে দুইবার মন্ত্রী করা হয়েছিল, মন্ত্রী হয় নাই। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি করা হয়েছিল, সেক্রেটারি হই নাই। আমরা রাজনীতি করি দেশকে ভালোবেসে, রাজনীতি করি সত্যকে উঁচু করে তোলার জন্য, রাজনীতি করি সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলার জন্য। এখন সবাইকে মুক্তিযুদ্ধ মনে করলে সমস্যা, সবাইকে আওয়ামী লীগ মনে করলে সমস্যা।

    তিনি আরও বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ধাক্কায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা চলে যায়। চরম দুশ্চরিত্র দুর্নীতিবাজরাও দুর্নীতিমুক্ত করার কথা বলছে। এ সিমটম ভালো না।

  • সাতশ সাত কোটি টাকার প্রকল্প ঠেকল ৯১০ কোটিতে

    সাতশ সাত কোটি টাকার প্রকল্প ঠেকল ৯১০ কোটিতে

    অনলাইন ডেস্ক :

    জাতীয় গ্রিডে ৭৫ মেগাওয়াট সরবরাহের প্রত্যাশা নিয়ে ‘সিলেট গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্ল্যান্ট ও কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট’ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। কিন্তু দুই দফায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১০ কোটি ৬০ লাখ টাকায়। শুরুতে ৭০৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে বাড়ছে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদও। আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ব্যয় বৃদ্ধির জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রাকৃতিক গ্রাসকে দক্ষভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এ জন্য সিলেট ১৫০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুকেন্দ্রকে ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উন্নীত করতে এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পটি ইসলামিক ডেওভলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়নে মোট ৭০৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। পরে ব্যয় না বাড়ালেও প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

    এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প শক্তি বিভাগের সদস্য শাহীন আহমেদ চৌধুরী পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দক্ষতা ও ক্ষমতা বাড়বে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এদিকে প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ভূমি অধিগ্রহণ অংশে ৪ একর জমির অধিগ্রহণ বাবদ ৮০ কোটি টাকার সংস্থান ছিল। দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে ৩ দশমিক ৯১ একর জমির অধিগ্রহণ বাবদ ১৯ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ভূমি উন্নয়ন অংশে ১৬ হাজার ১৯২ ঘন মিটারের জায়গায় ৩১ হাজার ২৭৫ ঘনমিটার ও বিদ্যুৎ বিভাগের রেট শিডিউল ২০১৪ অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলন করায় ভূমি উন্নয়ন ব্যয় ৩৯ কোটি ১৯ লাখ টাকার জায়গায় ১৭৩ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে ব্যয় বেড়েছে পেয়েছে ১৩৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। পূর্ত কাজ অংশের আওতায় বেড়া ও সীমানা দেয়াল কাজের জন্য পিডব্লিউডির রেট শিডিউল ২০১৮ অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলন করায় এ খাতে ৩৭৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকার জায়গায় ৪০৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ৩০ কোটি টাকা।

    এ ছাড়া পূর্ত কাজ অংশে আওতায় অফিসারদের ডরমিটরি কাম ক্লাব নির্মাণকাজে ৬০০ বর্গমিটারের জায়গায় ৯০০ বর্গমিটার ও স্টাফ ডরমিটরি ১৫০ বর্গমিটারের জায়গায় ৩৪০ বর্গমিটার এবং পিডব্লিউডির রেট শিডিউল ২০১৮ অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলন করায় এ খাতের ব্যয় ২১৫ কোটি টাকার জায়গায় ৪৪৯ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই খাতে ব্যয় বেড়েছে ২৩৪ কোটি টাকা।

    সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল মূল প্রকল্পের। পরে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই আড়াই বছর সময় বাড়িয়ে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এতেও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবেও দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়। বর্তমানে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত প্রকল্পটি প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ১৯ জুন প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

    প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মূল্যায়িত দরপত্র নিয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে বাস্তবায়নকারী সংস্থার মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় প্রকল্প ঋণ সহায়তার পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন ফান্ডে রক্ষিত বিপিডিবির নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে চলতি বছরের ১৯ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। পিইসি সভার সুপারিশ অনুযায়ী মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১০ কোটি টাকা।

    প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে মার্কিন ডলার ও ইউরোর বিনিময় হার যথাক্রমে ৭৮ টাকা ৫০ পয়সা ও ৮৪ টাকা ৭৭ পয়সা ছিল। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ৮৪ দশমিক ১২ টাকা ও ইউরোর বিনিময় হার ৯৫ দশমিক ১৬ টাকা হারে নির্ধারণ করায় টার্নকি চুক্তির ব্যয় বেড়েছে ৫১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এসব কারণে প্রকল্পটির ব্যয় ফের বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

  • বরিশালে ছাত্রলীগ ও আ.লীগের দুইগ্রুপে সংর্ঘষ, আহত ১০

    বরিশালে ছাত্রলীগ ও আ.লীগের দুইগ্রুপে সংর্ঘষ, আহত ১০

    নিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুকের অনুসারী দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এতে উভয়গ্রুপের অন্তত ১০ নেতা-কর্মীরা আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ৩১ আগস্ট (শনিবার) সন্ধ্যায় শহরের কাশিপুর বাজার এলাকায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    জানা গেছে, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শনিবার বিকেলে রাজধানীর উদ্দেশে বরিশাল বিমানবন্দরে যান। এসময় তার সাথে শতাধিক মোটরসাইকেলযোগে নেতাকর্মী সেখানে যান। প্রতিমন্ত্রীকে বিদায় দিয়ে ফেরার পথে কাশিপুর এলাকায় বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা নূর আল আহাদ সাঈদী এবং ১২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারিয়ার সাচিব রাজিবের কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

    একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় উভয়গ্রুপের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন।

    তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

    এ বিষয়ে নূর আল আহাদ সাঈদী বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন কিছু জানি না। তাছাড়া শাহারিয়ার সাচিব রাজিব তো ছাত্রলীগ নন। তার সাথে ঝামেলা হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। মূলত তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

    সাঈদী বলেন, শুনেছি ব্যান্ডেজ করে ঢাকা গেছে-আমার বিরুদ্ধে নালিশ দিতে। এ বিষয়ে শাহারিয়ার সাচিব রাজিবের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব উল ইসলাম জানান, সংঘাতে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই সকলে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    মূলত, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা প্রতিমন্ত্রীর রেস্ট হাউজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রবেশদ্বারে হাতাহাতি করে। পরে শুক্রবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহরে নতুন বাজার এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    তখন প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেয়। সর্বশেষ এই ছাত্রলীগের গ্রুপ দুটি শনিবার সন্ধ্যায় সংঘাতের মাধ্যমে রক্তপাত সৃষ্টি করল।’

  • জেনারেল ওসমানীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ

    জেনারেল ওসমানীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ

    অনলাইন ডেস্ক :

    মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন ওসমানী।

    ১৯৭০ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে ’৭০-এর নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

    মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ওসমানী সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেন। ওই ভাষণে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবকাঠামো গঠনের কথা উল্লেখ করে এম এ জি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারে ওসমানীকে করা হয় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।

    ওসমানীর নির্দেশনা অনুযায়ী সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। রণনীতির কৌশল হিসেবে প্রথমেই তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনা করে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে নেন এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে সেক্টরগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন।

    পাকিস্তানি বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানী অনুপস্থিত ছিলেন। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানী উপস্থিত না থাকার কারণ ছিল আর্মি প্রটোকল। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্ব ফ্রন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সৈন্যবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজী। এরা দুজনেই ছিলেন আঞ্চলিক প্রধান। অন্যদিকে, ওসমানী ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান। তাই সেনাবাহিনীর প্রটোকল রক্ষার্থে কোনো সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক প্রধানের সঙ্গে তিনি কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেন না। ওসমানি নিজেই এ বিতর্কের জবাব দিয়ে গেছেন।

    ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান করা হয় এবং তিনি নব দেশের প্রথম সশস্ত্র বাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্তি পান। ১৯৭২ সালের ১২ এপ্রিল তিনি তার এ দায়িত্ব থেকে অবসর নেন, মন্ত্রিসভায় যোগ দেন অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে।

    ১৯৭৩ সালের মার্চে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ওসমানী তার নিজের এলাকা থেকে অংশ নেন এবং নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য লাভ করেন। তিনি ডাক, তার, টেলিযোগাযোগ, অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন।

    ১৯৭৪ সালের মে মাসে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে তিনি সংসদ সদস্যপদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্যপদ ত্যাগ করেন। সে বছর ২৯ আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পান, তবে ৩ নভেম্বর জেলহত্যার ঘটনার পর পদত্যাগ করেন।

    ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওসমানী ‘জাতীয় জনতা পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

    ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এম এ জি ওসমানী মৃত্যুবরণ করেন। তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে সমাহিত করা হয়।

    ওসমানীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ৯টায় বঙ্গবীরের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বেলা ১১টায় সিলেটের প্রবেশদ্বারে বঙ্গবীর ওসমানী সরণিতে ওসমানীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।

    সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে খতমে কোরআন, বাদ জোহর হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার মসজিদে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা ও মিলাদ মাহফিল। পরে জাতীয় নেতার কবর জিয়ারত।

  • বড় ঘটনা ঘটানোর জন্য এটা ‘টেস্ট কেস’ হতে পারে

    বড় ঘটনা ঘটানোর জন্য এটা ‘টেস্ট কেস’ হতে পারে

    অনলাইন ডেস্ক ::

    রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাকে বড় ধরনের ঘটনার জন্য জঙ্গিদের ‘টেস্ট কেস’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    রোববার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ব্যাপারে জোরদার তদন্ত চলছে, আশা করি পুলিশ এই চক্রকে অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে সফল হবে।’

    ‘তাদের হয়তো ছোট ধরনের ঘটনা নিয়ে টেস্ট কেস হতে পারে। বড় ধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্য। এই বিষয়ে সতর্কতা আছে’ বলেন ওবায়দুল কাদের।

    মন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। তারা দুর্বল হয়েছে হয়তো।’

    পুলিশ বলছে আইএস নেই। কিন্তু পুলিশের ওপর হামলার পর আইএস এর দায় স্বীকার করছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মোটরযান আইনের নামে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এটাও তেমন একটা বিষয় কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    আসামের ১৯ লাখ মানুষ নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। এটা তাদের নিজস্ব বিষয়।’

  • হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচন ৫ অক্টোবর

    হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আসনে উপ-নির্বাচন ৫ অক্টোবর

    অনলাইন ডেস্ক : 

    জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শূন্য ঘোষিত রংপুর-৩ আসনে আগামী ৫ অক্টোবর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার ইলেক্ট্রনিক্স ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ওই আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

    রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনেরর মিডিয়া সেন্টারে রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান নির্বাচনের এ তফসিল ঘোষণা করেন।

    তিনি বলেন, শূন্য আসনটিতে ০৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।

    ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৯ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১১ সেপ্টেম্বর। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    সাবেক সামরিক শাসক এইচএম এরশাদ গত ১৪ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। পরে ১৬ জুলাই সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করে।

  • অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ শ্রমিকলীগ নেতা গ্রেফতার

    অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ শ্রমিকলীগ নেতা গ্রেফতার

    অনলাইন ডেস্ক :

    র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ জহির সর্দার নামে এক শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেফতার হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে রায়পুর পৌরসভার পীর ফয়েজ উল্যাহ সড়ক থেকে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ সময় জহিরের কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি, এক রাউন্ড গুলি ও ১০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

    জহির রায়পুর পৌর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেনায়েতপুর এলাকার আবদুর করিম বেপারীর ছেলে।

    র‌্যাব-১১ এর লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক নরেশ চাকমা বলেন, জহির সর্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • জামালপুরের ডিসির ভিডিওটি ছড়ানো ঠিক হয়নি

    জামালপুরের ডিসির ভিডিওটি ছড়ানো ঠিক হয়নি

    অনলাইন ডেস্ক ::

    জামালপুরের ডিসির আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। তার মতে, ভিডিওটি ছড়িয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মাত্রা অতিক্রম করা হয়েছে।

    শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ‘নুসরাত হত্যার সঠিক বিচার নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে আনবে’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই মত ব্যক্ত করেন তিনি।

    তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের খাস কামরায় সংঘটিত ঘটনায় কারও দোষ থাকলে বিচার প্রত্যাশিত হলেও ওই ভিডিওটি যারা ছড়িয়েছেন, তারা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মাত্রা অতিক্রম করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘যারা এটাকে ভাইরাল করেছে, খুব একটা সুরুচির পরিচয় দেয়নি। সংস্কৃতিবান ব্যক্তি কিন্তু সংযমী হন। কতখানি সে করতে পারে, কতখানি সে করতে পারে না। কার প্রাইভেসিতে যুক্ত করতে পারে আর কতটুকু পারে না সেটাও। আমাদের সংস্কৃতি হয়ে গেছে, কে কাকে কীভাবে জব্দ করবে। প্রযুক্তির ব্যবহারেও জব্দ করার প্রবণতা এসেছে।’

    দেশের নারী নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুলতানা কামাল বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার যারা হন, তাদের পরিবর্তে নির্যাতনকারীরা আইনের আশ্রয় পান। নারী নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা গেলে নির্যাতনের হার কমে আসবে।’

    সম্প্রতি জামালপুরের ডিসি আহমদ কবীরের সঙ্গে তার কার্যালয়েরই একজন নারী কর্মচারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে জামালপুরসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়। নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইয়ে যায়।

    ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় কেলেঙ্কারির মুখে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে ওএসডি করে প্রশাসন।

  • দেশে নারী নির্যাতন ভয়াবহ পর্যায়ে: সুলতানা কামাল

    দেশে নারী নির্যাতন ভয়াবহ পর্যায়ে: সুলতানা কামাল

    সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী নির্যাতন ভয়াবহ পর্যায়ে এসেছে, যা উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। তিনি আরো বলেন, এর থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার যারা হন, তাদের পরিবর্তে নির্যাতনকারীরা আইনের আশ্রয় পান। তবে সঠিক বিচার হলে অবশ্যই নারী নির্যাতন কমে আসত।

    আজ শনিবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘ইউসিবি পার্লামেন্ট’ শিরোনামে ‘নুসরাত হত্যার সঠিক বিচার নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে আনবে’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সুলতানা কামাল বলেন, প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে মূল্যবোধের ভিত্তিতে। তা নাহলে রাজনীতি, পারিবারিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রশ্ন চলে আসবে। অনেক সময় স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া মানে নির্যাতন বলা হয়। কিন্তু প্রকৃত বিষয় হলো- আমার অসম্মতিতে আমার হাতটিও যদি কেউ স্পর্শ করে, সেটাও নির্যাতন। এক জেলা প্রশাসকের (ডিসি) ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এটাতে যেই দোষী হোক, তার বিচার হতে হবে। আবার যারা ভিডিও ভাইরাল করলো, তারাও কী সঠিক কাজ করেছেন?

    তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। নিরব থাকলে নির্যাতন আরও বাড়বে। আমাদের মনে রাখতে হবে- প্রতিবাদহীন সমাজ কখনও সামনে এগোতে পারেনা। প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে, এটা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা দায়িত্বশীল হলে দেশের রাজনীতিবিদরাও দায়িত্বশীল হতে বাধ্য।

    সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসের মধ্যেই আলোচিত নুসরাত হত্যাকাণ্ডের রায় হবে। এ মামলার বিচার শুরু হওয়ার পর প্রায় প্রত্যেক কর্মদিবসেই বিরতিহীনভাবে শুনানি হচ্ছে।

    হাসান আহমেদ চৌধুরী আরও বলেন, বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির প্রত্যেকেই নুসরাত হত্যায় কোনো না কোনোভাবে জড়িত এবং আদালত তা প্রমাণ করতে সমর্থও হয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়ার ধারাবাহিক কার্যক্রম দেখে বোঝা যাচ্ছে, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে।
    আয়োজিত এ বিতর্ক প্রতিযেগিতায় সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়া ও লালমাটিয়া মহিলা কলেজ অংশ নেয়। বিতর্ক শেষে লালমাটিয়া মহিলা কলেজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

  • অবৈধভাবে সিম ব্যবহার করে সংগঠিত হচ্ছে রোহিঙ্গারা

    অবৈধভাবে সিম ব্যবহার করে সংগঠিত হচ্ছে রোহিঙ্গারা

    রোহিঙ্গাদের জন্য আইন অনুসারে মোবাইল ফোন ব্যবহার অবৈধ হলেও তারা প্রশাসনের লোকদের সামনে প্রকাশ্যেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। রোহিঙ্গাদের আগমনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা ২৫ আগস্ট হঠাৎ করে জমায়েত হয়ে জনসভা করে।

    বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, অবৈধভাবে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সংগঠিত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আশ্রয় গ্রহণের সময় টেকনাফের এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের কাছে সিম বিক্রি করে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সরকার কর্ণপাত করেন নাই।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই বছর আগেও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা পরিবারগুলো ছিল পরস্পর বিচ্ছিন্ন। সেখানে সভা-সমাবেশ তো দূরের কথা, গ্রামের বাইরে বের হতেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হতো। মিয়ানমার বাহিনীর হামলা থেকে প্রাণে বাঁচতে এ দেশে ছুটে আসে। গত রোববার সেই রোহিঙ্গারা এক বিশাল সমাবেশে বলেছে, একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ছাড়া তাদের কেউই কখনো ফিরবে না।

    প্রশ্ন উঠেছে, যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি তারা মাত্র দুই বছরে এখানে এত সংগঠিত কীভাবে হলো? শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীকে ইংরেজিতে লেখা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার কারা সরবরাহ করেছে? বিশাল আকৃতির ব্যানারগুলোই বা তারা কোথায় পেয়েছে?

    বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ৩৪টি ক্যাম্পে আশ্রিত ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ব্যবহার করছে মোবাইল ফোন। শরণার্থী আইন অনুসারে উদ্বাস্তুরা অবৈধভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারলেও কয়েকটি এনজিওর কারণে এ পর্যন্ত ক্যাম্পে মোবাইল ফোন উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়নি। নানা অপরাধ দমন করতে সরকার রোহিঙ্গা শিবিরে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেও এ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

    নেটওয়ার্ক বন্ধকরণ সিদ্ধান্তের বিরোধিতাকারী কয়েকটি এনজিও’র কারণে ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ব্যবহার করছে মোবাইল ফোন। রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা মোবাইলের নেটওয়ার্ক বন্ধ না হওয়ায় শিবিরে প্রতিনিয়ত নানা অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয় শিবিরে ইতিপূর্বে মোবাইল ফোনে বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটছে মর্মে নিশ্চিত হয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যেন মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা না পায়, সেজন্য অপারেটরগুলোকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠিও পাঠিয়েছিল। তবে এ পর্যন্ত তারা ওই চিঠির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এছাড়াও বিভিন্ন অপারেটরের ফ্রিকোয়েন্সি সীমান্তের ওপারে বিস্তৃত হওয়ায় এদেশের সিম মোবাইল ফোনে ও ইন্টারনেটে ব্যবহার করছে মিয়ানমারের নাগরিকরা।

    এমনকি দেশটির সরকারি বাহিনীর সদস্য অনেকে বাংলাদেশের সিম ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অপারেটর কোম্পানির ফ্রিকোয়েন্সি মিয়ানমারের অন্তত ৫ কিলোমিটার ভেতরেও পাওয়া যাচ্ছে। এতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

    ইতিপূর্বে দেয়া বিটিআরসির চিঠিতে জানানো হয়, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সিম বিক্রি ও অপব্যবহারের তথ্য পেয়েছে। চিঠিতে অপারেটরগুলোকে মোবাইল নেটওয়ার্ক যেন মিয়ানমার পর্যন্ত না পাওয়া যায় এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু অপারেটরগুলো সরকারের ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে চলেছে।

    ২০১৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশি অপারেটরদের সিম ব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। কিছু বাংলাদেশি নিজেদের বায়োম্যাট্রিক তথ্য ব্যবহার করে নিবন্ধিত সিম রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিক্রি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ সিম ব্যবহার বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

    রোহিঙ্গাদের সিম ব্যবহার বন্ধে জেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্যও চিঠি দেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের কাছে সিম বিক্রি না করার জন্য মোবাইল অপারেটরদেরও সতর্ক করে দেয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে গত দুই বছরেও কার্যত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

    বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় সরকার রোহিঙ্গাদের টেকনাফে সাময়িক সময়ের জন্য আশ্রয় দান করে। আশ্রয় গ্রহণের সময় টেকনাফের এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের কাছে সিম বিক্রি করে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সরকার কর্ণপাত করেন নাই।

    তিনি বলেন, গত সপ্তাহে রোহিঙ্গা আগমনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা হঠাৎ করে জমায়েত হয়ে জনসভা করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রীও বলেন সরকার এ বিষয়ে কিছুই জানতো না। আমরা গত দুই দিন টেলিভিশনের পর্দায় রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহর সাক্ষাৎকারে দেখলাম তিনি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভিডিও গণমাধ্যম কর্মীদের দেখাচ্ছিলেন এবং সেই নেতা অনলাইন টেলিভিশনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খবর প্রচারের কথা স্বীকারও করেন।

    মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে দেখতে পেরেছি রোহিঙ্গারা কথা বলা ছাড়াও থ্রিজি-ফোরজি সেবা গ্রহণ করছে। সীমান্তের ওপারে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত থাকায় বিষয়টি উদ্বেগজনক। সরকার যদি দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গারা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ ইন্টারনেটের গ্রুপ চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে দ্রুতই তারা লক্ষ লক্ষ লোক সমবেত হতে পারে।

    এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ উপজেলার জাদিমুরা, শালবন, নয়াপাড়া, আলীখালী ও লেদায় আরও ৩টি নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার আওতাধীন কক্সবাজার জেলা পুলিশ সরাসরি এ ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে।

    গত ২২ আগস্ট যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে তাদের নিয়ন্ত্রণে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এজন্য ২৯ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত এসপি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল টেকনাফ উপজেলার জাদিমুরা, শালবন, নয়াপাড়া, আলীখালী ও লেদা শরণার্থী ক্যাম্প এলাকা এবং যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেন।

    কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও উদ্বিগ্ন। একটি স্থানে এত মানুষ একসঙ্গে থাকতে পারে না। তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা আইন প্রয়োগকারি সংস্থার পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছে।

    তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এখানে নতুন তিনটিসহ ১০টি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নয়টি স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। রয়েছে পুলিশের ১২টি বিশেষ মোবাইল টিম। ক্যাম্পে নানা সংকট থাকলেও তারা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলেছে।