Category: রাজণীতি

  • বরিশালে প্রথমবারের মতো লঞ্চ যাত্রীদের জন্য মেয়রের ফ্রি বাস সার্ভিস

    বরিশালে প্রথমবারের মতো লঞ্চ যাত্রীদের জন্য মেয়রের ফ্রি বাস সার্ভিস

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    আসন্ন ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষদের যাত্রা নিরাপদ করতে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো ফ্রি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) মধ্যরাত থেকেই ২০টির মতো বাস বরিশাল নদী বন্দর এলাকা থেকে যাত্রীদের নিয়ে রুপাতলী ও নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছে দিচ্ছে। মেয়রের ফ্রি বাসে ঢাকা থেকে বরিশাল শহরে আসা যাত্রীরা পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে সড়কপথে যাচ্ছেন।

    এদিকে, ফ্রি সার্ভিসের আওতায় চলাচলরত বাসগুলোর কার্যক্রম সড়কে থেকে সরাসরি মনিটরিং করছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবাদুল্লাহ।

    মধ্যরাতে যাত্রীরা ফ্রি বাস সার্ভিস পেয়ে বেশ আনন্দিত।

    আয়শা আক্তার নামে অপর এক যাত্রী বলেন, প্রথমবারের মতো বরিশাল সিটি করপোরেশন এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছে। ফ্রি বাস সার্ভিসের কারণে যাত্রীরা অন্য পরিবহন চালকদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেলো।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০টির মতো বাস যাত্রী নিয়ে বরিশাল নদী বন্দর সংলগ্ন ডিসি অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে রুপাতালী ও নতুল্লাবাদের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাসগুলো আবার নির্ধারিত রুট দিয়ে পূর্বের জায়গায় আসছে। বাস আসা মাত্রই সেগুলোতে যাত্রীরা মুহুর্তের মধ্যে উঠে পড়ছেন। আর মেয়রের নেতৃত্বে কাউন্সিলর ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা তা মনিটরিং করছেন।

    এদিকে বন্দরে এলাকায় ফ্রি বাস সার্ভিসের প্রচারণা মাইকের পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যাত্রীরাও মেয়রের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন।

  • গণভবনে নেমেই প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলেন ডেঙ্গুর কথা

    গণভবনে নেমেই প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলেন ডেঙ্গুর কথা

    গণভবনে নেমেই প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গুর সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবেরর ৮৯তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ কমিটির ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, গণভবনে নেমে তার (প্রধানমন্ত্রী) প্রথম কথা হচ্ছে ডেঙ্গু। কে কি করছে, কার কী বক্তব্য। যে কোনো মূল্যে প্রাণঘাতী এডিস মশা মোকাবিলা করতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরিসর বাড়াতে হবে। তিনি চিকিৎসার জন্য যখন লন্ডনে ছিলেন তখনও প্রতিদিন ফোন করে করে খোঁজ রাখছিলেন। তার নির্দেশনা জানাচ্ছিলেন। সরকার, দুই সিটি কর্পোরেশন এবং আমরা কেউ-ই ডেঙ্গুকে হালকাভাবে নেয়নি। চিকিৎসকদের দিয়ে পর্যন্ত আমরা একটি মনিটরিং সেল করেছি। ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের পাশে আমরা আছি ২৪ ঘণ্টা। এগুলো আমরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি।

    এ সময় এডিস মশা প্রতিরোধে কাজের পরিসর আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। নিজ নিজ আঙ্গিনা, স্কুল-কলেজ, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যারা ঈদে দেশে ফিরছেন তারা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবেন। ডেঙ্গু মুক্ত এটা নিশ্চিত না হয়ে কেউ ঘরমুখো হবেন না। এতে আপনার জীবনের ঝুঁকি আছে। এটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা। তিনি গণভবনে নেমেই যে কথাগুলো বলেছেন, আমি সে কথাগুলো আপনাদের সামনে বললাম।

    বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দল হিসেবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় তারা কোথাও সাফল্য দেখাতে পারেনি। তারা শুধু সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনায় প্রেস ব্রিফিং করেছে। জনগণের জন্য কিছু করেনি। বিএনপি নেতাদের বলবো আগে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করুন। তারপর সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করুন।

    বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করুন, এখানে কোনো রাজনীতি নেই।

    উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে, রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৩২ হাজার ৩৪০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২৩। কিন্তু বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি।

  • ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে ব্যবস্থা নিন : ড. কামাল

    ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে ব্যবস্থা নিন : ড. কামাল

    দেশ থেকে ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা নিরসনে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

    বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান তিনি।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের এ সভাপতি বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে সমগ্র দেশবাসীর সঙ্গে আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সরকারি স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছিল, মে মাস থেকে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটবে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী মাসগুলোতে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। সম্প্রতি গবেষণায় বলা হয়েছে ঢাকা ইজ সিটিং অন এ ডেঙ্গু টাইমবোম্ব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে। অথচ সরকারি তথ্যমতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৩০ হাজারের ঊর্ধ্বে।’

    ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং মেয়রদের দায়িত্ব ছিল তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপ গ্রহণ। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যায়নি। বরং জনগণ লক্ষ্য করেছে ওষুধে ভেজাল, ক্রয়ে দুর্নীতি এবং ফগার মেশিন স্প্রে করার পদ্ধতিগত ত্রুটি। এমনকি ফগারম্যানদের স্প্রে করার যথাযথ প্রশিক্ষণ নেই,’ যোগ করেন কামাল।

    তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুর ব্যাপকতায় রোগীদের জন্য রক্তের চাহিদা বেড়েছে, ব্লাড ব্যাংকগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কিটও চাহিদা মতো পাওয়া যায়নি। সমগ্র দেশে ডেঙ্গু রোগী ও ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ জাতীয় দুর্যোগে যেখানে প্রয়োজন ছিল সমন্বিত জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও জনগণকে সম্পৃক্ত করা, কিন্তু সেই বাস্তব অবস্থা এখনও দৃশ্যমান নয়।’

  • খালেদার নিঃশর্ত মুক্তি ও ডেঙ্গু রোধে বরিশালে বিএনপির প্রচারপত্র বিলি

    খালেদার নিঃশর্ত মুক্তি ও ডেঙ্গু রোধে বরিশালে বিএনপির প্রচারপত্র বিলি

    প্রতিহিংসার বিচারে বন্দি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের আস্তার প্রতীক, বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও ডেঙ্গু জ্বর হলে করনীয় বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রচার পত্র বিলি করেছে বরিশাল মহানগর বিএনপি।

    আজ বৃহস্পতিবার (৮ই আগস্ট) বেলা ১২ টায় বরিশাল জেলা ওমহানগর বিএনপি দলীয় কার্যালয় থেকে বেড় হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কের পথচারী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গাড়ীতে এসব প্রচার পত্র বিলি করেন মহানগর বিএনপি ও যুবদল নেতৃবৃন্দ।

    এসময় ছিলেন বরিশাল মহানগর বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান খান ফারুক, মহানগর বিএনপি ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার, সাবেক মহানগর বিএনপি নেতা এ্যাড. মহসিন মন্টু, মহানগর সহ-সভাপতি এ্যাড. আখতার হোসেন মেবুল,জেলা শ্রমীকদল সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বসির আহমেদ, মহানগর শ্রমীকদল সাধারন সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ,মহানগর মহিলা দল নেত্রী সাবেক বিসিসি প্যানেল মেয়র তাছলিমা কালাম পলি, শামীমা আকবর, ফাতেমা-তুজ- জোহরা, মহানগর যুবদল সাধারন সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম রতন,সাজ্জাদ হেসেন, জেলা বিএনপি দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব মন্টু খান।

  • ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    আসন্ন ঈদ উল আজহা উপলক্ষে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন ও কোরবানির পশুর বর্জ অপসারন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনের হল রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়ল সেরনিয়াবত সাদিক আবদুল্লাহ।

    সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি মেয়র বলেন- ঈদ উল আজহা উপলক্ষে বরিশাল নগরবাসী এবং ঢাকা থেকে আসা ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তার জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার হয়েছে। যাত্রী সেবায় পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমান সদস্য মাঠে কাজ করবে।

    এসময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপচার্য, পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, বিএম কলেজের অধ্যক্ষসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জম্মু-কাশ্মীরে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয় : বাসদ

    জম্মু-কাশ্মীরে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয় : বাসদ

     

    ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরকে খণ্ডিত করা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান।

    বুধবার (৭ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সম্মতির মাধ্যমে স্বীকৃত সাংবিধানিকভাবে গৃহীত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও বিশেষত্ব ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসছিল। সেক্যুলার ঘোষিত ভারতকে হিন্দুত্ববাদী শৃঙ্খলে শক্ত-পোক্ত করে বাঁধার অংশ হিসেবে গেরুয়াধারী বিজেপি সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ৩৭০ ধারা ও ৩৫(ক) বাতিলের মধ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য মর্যাদার স্থান থেকেও জম্মু-কাশ্মীরকে নিচে নামিয়ে আনল।

    তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে জম্মু-কাশ্মীর অ্যাসেম্বলি বাতিল করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশে এই পরিবর্তনের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু ভারতবর্ষেই নয়, উপমহাদেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িকতার অশান্তির ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করে তুলতে পারে। জম্মু-কাশ্মীরকে খণ্ডিত করা এবং ১৪৪ ধারা জারি ও কারফিউ জারি করা, সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজনীতিকদের গৃহবন্দি করে যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো সেনা উপস্থিতির ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি ভারতের সেক্যুলার গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয়।’

    বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীরের সংখ্যাগুরু মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করা ও সম্পত্তির ব্যাপক হস্তান্তরের ভবিষ্যত নীল নকশা নিয়ে অগ্রসর হলে তা সংশয়, সংঘাত ও উগ্রবাদী তৎপরতাকে ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলবে। এমনকি সন্ত্রাসবাদী নানা অপশক্তির নাক গলানোরও সুযোগ করে দিতে পারে। কাশ্মীরের বিশেষত্ব বাতিল করে এক অভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংহতি বিধানের যুক্তি হাজির করা হলেও লুকানো উদ্দেশ্য অধীনস্ত করা। এর মধ্য দিয়ে দমন-পীড়ন অসমতা নতুন মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে এবং বহু রাজ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।

    আসাম পরিস্থিতি নিয়েও বাংলাদেশের জনগণের উদ্বেগের কারণ রয়েছে বলে জানান বাসদ সাধারণ সম্পাদক। তিনি ভারতের সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল জনগণের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি রেখে বাংলাদেশের জনগণকে সেক্যুলার গণতান্ত্রিক শক্তি-নির্ভর সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

  • দেশ পরিচালনা নিয়ে আমীর খসরুর প্রশ্ন

    দেশ পরিচালনা নিয়ে আমীর খসরুর প্রশ্ন

    কোনো রাজনীতিবিদ বা রাজনৈতিক চিন্তাধারা থেকে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মাকে জেলে রেখে, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে, আইনের শাসন কেড়ে নিয়ে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে তারা মনে করেছিল অব্যাহতভাবে দেশ পরিচালনা করবে। কিন্তু দেশ চলছে না।

    বুধবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়া পরিষদ আয়োজিত ‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি’র দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

    খসরু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের (আওয়ামী লীগ) দায়িত্ব দেয়নি। তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে জনগণকে বাইরে রেখে। তারপরও আজ যখন দেশ চলছে না, তখন গুজবের বাহানায়, বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র- এমন বাহানায় পার পাওয়ার চেষ্টা করছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু যে মহামারিতে পরিণত হয়েছে, এটা কি বিতর্কের কোনো বিষয়? নির্বাচন কমিশনের ফলাফল দেয়ার পরে বাংলাদেশে যে কোনো নির্বাচন হয়নি, এটা নিয়ে কি কোনো বিতর্ক আছে? বাংলাদেশে আজ আইনের শাসন নেই, এটা নিয়ে কি কোনো বিতর্ক আছে? একটি দেশের প্রধান বিচারপতির চাকরি জোর করে কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং জোর করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, এটা নিয়ে কি কোনো বিতর্ক আছে? বাংলাদেশে আজ যে বাকস্বাধীনতা নেই- এটা বিশ্ব জানে।

    দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে সংগ্রামে যেতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি-ঘরে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। তাদের নিয়ে কি এদের কোনো চিন্তা আছে? এই যে মিথ্যা মামলায় যারা মানবেতর জীবনযাপন করছে, তাদের নিয়েই আমাদের চিন্তা। দেশনেত্রীর মুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সুতরাং কোনো দলের ব্যাপার নয়, বিএনপির ব্যাপার নয়- এটা সব জাতির ব্যাপার। দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আমাদের সংগ্রাম করে যেতে হবে। সংগ্রামের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে।

    আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বাধীনতা না থাকলে আমার বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার কীভাবে

    স্বাধীনতা না থাকলে আমার বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার কীভাবে

    দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও অমানবিক কায়দায় অত্যাচারের গুরুতর অভিযোগ নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বিবিসি বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে ‘অপপ্রচার’ চালাচ্ছে একশ্রেণির মানুষ। তারা সেই মানুষ, যারা ‘সারাক্ষণ খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আমাদের পেছনে’ লেগেই আছে।

    বর্তমানে লন্ডন রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে গণতন্ত্র, ডিসেম্বরের নির্বাচন, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি, পদ্মা সেতুতে মাথা কাটা-সংক্রান্ত গুজব, বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা- এরকম নানা ইস্যুতে কথা বলেছেন।

    তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বাংলাদেশে হেফাজতে নির্যাতনের ইতিহাস দীর্ঘদিনের, যা সব সরকারের আমলেই দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার এটি বন্ধে কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

    জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমন মানসিকতা আমাদের নেই এবং আমরা সেটি করি না। ঘটনাচক্রে কিছু ঘটতে পারে। বরং আপনি যদি গত ১০ বছরে আমাদের অবস্থান দেখেন, আমরা কিন্তু অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পেরেছি।’

    তিনি বলেন, ‘আপনি আমার নিজের কথাই চিন্তা করেন, যখন আমি আমার বাবা-মা সবাইকে হারালাম, গুলি করে মারা হলো। কই আমি তো বিচার পাইনি। খুনিদের বিচার না করে তাদের ইনডেমনিটি দেয়া হলো। অর্থাৎ অপরাধকে প্রশ্রয় দিলেন। উল্টো তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশে অপরাধকে স্বীকৃতি দিয়েই একটা সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, সেই দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। হেফাজতে মানুষ হত্যা করার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী আমার দলের নেতাকর্মীরা।’

    কিন্তু নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধে কি করা হচ্ছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন ঠিক ওইভাবে হেফাজতে মৃত্যু হয় না। নির্যাতনও সেভাবে করা হয় না।’

    তবে আন্তর্জাতিকভাবে অপরাধীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে কিছু নিয়ম রয়েছে, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর বাইরে কিছু করা হয় না।

    আওয়ামী সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

    শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতিকে হত্যার ঘটনার পর থেকে অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়ার সংস্কৃতি শুরু হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসাংবিধানিক সরকারের সময় যারা বেশি সুযোগ ভোগ করেছে বা ক্ষমতাটা যারা উপভোগ করেছে, তারা কখনোই চায়নি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক।

    তিনি বলেন, ‘একটা শ্রেণি হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের মধ্যে কিছু আছে, যারা অসাংবিধানিক সরকার, জরুরি অবস্থা অথবা মার্শাল ল‘ বা মিলিটারি রুলার আসলে তাদের খুব দাম বাড়ে। কাজেই তারা সারাক্ষণ খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আমাদের পেছনে লেগেই আছে।’

    সম্প্রতি পুলিশি হেফাজতে আটক ব্যক্তিদের নির্যাতনের বিষয়ে জাতিসংঘের একটি কমিটির মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ।

    ২০ বছর আগে বাংলাদেশ এ সম্পর্কিত একটি কনভেনশনে সই করে। কিন্তু সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে মাত্র ক’দিন আগে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সুপারিশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

    বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে বিবিসি বাংলার প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

    তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যেসব দেশ দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, বাংলাদেশ তাদের একটি, কিন্তু এর সুফল সব পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না?

    ‘অবশ্যই পৌঁছাচ্ছে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    ‘সে ভাবেই আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। ২০০৫ বা ২০০৬ সালের দিকে আমাদের দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগের উপরে ছিল। আজকে সেটা ২১.৪ ভাগে নেমে এসেছে। মাত্র ১০ বছরের মধ্যে আমরা সেটা অর্জন করতে পেরেছি। মানুষের মাথাপিছু আয় যেখানে ৪০০-৫০০ মার্কিন ডলার ছিল, আজকে সেখানে প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলারে সেটি উঠে এসেছে। প্রবৃদ্ধি আমরা এখন ৮.১ শতাংশ অর্জন করতে পেরেছি।’

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এখন বেশ নাজুক অবস্থায় আছে এবং ঋণখেলাপিরা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছে না- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যতটা প্রচার হয় বিষয়টা ততটা নয়।

    ‘ঋণ নিয়ে সেটা ফেরত না দেয়া- এই কালচারটাও আমাদের এখানে শুরু হয় মিলিটারি ডিক্টেটরদের আমলে। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছি, আমরা চেষ্টা করেছি, আমরা অনেক টাকা উদ্ধার করেছি। তারপরও কিছু মানুষের প্রবণতা থাকে যে, টাকা নিলে মনে হয় সেটি আর ফেরত দিতে হবে না।’

    বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মান ও এর চর্চা কীভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এখন ৪৪টি প্রাইভেট টেলিভিশন আছে এবং তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

    ‘স্বাধীনতা না থাকলে তারা আমার বিরুদ্ধে বা সরকারের বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার করছে কীভাবে।’

    গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে এবং এ নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সেটা এখন কোনো কেন্দ্রে গোনার দিক থেকে হয়তো পেয়েছে। কোনো কেন্দ্রে হয়তো হতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের ট্রাইব্যুনাল আছে, সেখানে মামলা করতে পারে, কোর্টে মামলা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনেও মামলা করতে পারেন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যদি সত্যিই ভোট দিতে না পারতো, তাহলে তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ আন্দোলনে নামত এবং আমরা ক্ষমতায় থাকতে পারতাম না।’

    বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ডেঙ্গু। ডেঙ্গু রোগের জীবাণুর বাহক এডিস মশার বিস্তাররোধে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

    তবে সিটি কর্পোরেশনগুলো এডিস মশা সম্পর্কে একেবারেই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বা মশা নিয়ন্ত্রণকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করে সময়মতো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে- এমন অভিযোগ মানছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সংবাদমাধ্যমে ডেঙ্গুবিষয়ক খবর অনেক বেশি প্রকাশিত হচ্ছে এবং এর ফলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে, আর সেটাই সমস্যা সৃষ্টি করছে- বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘একটু উচ্চবিত্ত যারা, সেসব জায়গায়ই এর প্রকোপ বেশি। আমাদের সবসময় লক্ষ্য থাকে বস্তি এলাকা, ড্রেন এসব দিকে। মশা মারা কিন্তু নিয়মিত একটা ব্যাপার।’

    শুধু সিটি কর্পোরেশনকে দোষ না দিয়ে সব মানুষকে সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানান তিনি। মশার ওষুধ কেনায় দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তাও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘মশার ওষুধ কেনার ব্যাপারে টেন্ডার করা হয়। যারা টেন্ডারে উপযুক্ত হয়, তারা কিনে নিয়ে আসে এবং সেগুলো ব্যবহারও হয়। তবে কোন ওষুধ এডিস মশার উপরে কাজ করে, সে ব্যাপারে বিভক্তিকরণ করা হয়নি বা সেই ধরনের সতর্কতা ছিল না।’

    তাকে প্রশ্ন করা হয়ে যে, সরকারি হিসাবেই বলা হচ্ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং এর সংখ্যা আরও বড় হবে বলে অনেকে মনে করেন। তাই কীভাবে ভবিষ্যতে মশা নিয়ন্ত্রণ আরও সুষ্ঠুভাবে করা যায়?

    এর জবাবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং সরকারের পাশাপাশি তার দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে আহ্বান করা হয়েছে।

    ‘শুধু ঢাকা নয়, পুরো দেশেই একটা পরিচ্ছন্নতা অভিযান দরকার।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও ঘরের কাছে বা ঘরে কোথাও যদি পানি জমা থাকে এবং সেখানে মশার লার্ভা তৈরি হয়, তবে তাদের জরিমানা করা হবে। মানুষ যদি আগামীর জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি হবে না বলে মনে করেন তিনি।

    পদ্মা সেতুতে মানুষের কাটা মাথা লাগার গুজব এবং এর জেরে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে বেশ কজন মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    যারা গুজব ছড়াচ্ছে, এরকম কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

    ‘পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। আপনিই বলুন, আজকের দিনে, পদ্মা সেতুতে কাটা মাথা ও রক্ত লাগবে বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। রক্ত আর কাটা মাথা দিয়ে কি সেতু তৈরি হয়? এই গুজবটা যারা ছড়াচ্ছে, অপরাধী তো তারা।’

    পদ্মা সেতুর ব্যাপারে শুরু থেকেই একটা চক্রান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • শীঘ্রই রেল সংযোগের আওতায় আসছে বরিশাল বিভাগ

    শীঘ্রই রেল সংযোগের আওতায় আসছে বরিশাল বিভাগ

    অনলাইন ডেস্ক :

    সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নদী ঘেরা বরিশাল বিভাগের জনসাধারণকে রেল সুবিধার আওতায় আনতে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করেছিল রেল মন্ত্রণালয়। ভাঙ্গা-বরিশাল রেলপথটি প্রস্তাবিত পদ্মা রেল লিংক, পাটুরিয়া-ফরিদপুর-ভাঙ্গা রেল লাইন এবং খুলনা মোংলা রেল লাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

    এজন্য ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগের নতুন রেল লাইনের ম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি শুরু হয়েছে রেল লাইনের সার্ভের কাজ। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত তিনটি বেসরকারি সার্ভে কোম্পানি তাদের জরিপ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    শুক্রবার (২ আগস্ট) রাতে বেসরকারি সংস্থা ডেভেলপমেন্ট এন্ড সেফ গার্ড কনসালটেশন (ডিএসসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সার্ভে টিম উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামে পৌঁছেছেন। দলটি শনিবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে উপজেলার কুমারখালি এলাকার সুগন্ধা নদীর তীর থেকে সার্ভে কাজ শুরু করবেন বলে জানা গেছে।

    এ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ব্রডগেজ রেল লাইন নির্মাণ এবং বরিশাল থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল লাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ওই রেলপথে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ওপর দিয়ে পটুয়াখালির পায়রা বন্দর যাওয়ার রোড ম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। উপজেলার ভরতকাঠি গ্রামে বরিশালের আঞ্চলিক রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করার লক্ষে কাজ শুরু হচ্ছে।

    জানা গেছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে নয় হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যার মধ্যে সাত হাজার ৯৯২ কোটি টাকা বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া হবে। আর সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে এক হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর বরিশালের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ তৈরি হবে। ২০২১ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী বছরের জুলাইয়ে এ প্রকল্প শুরু করতে চায় রেল মন্ত্রণালয়।

  • ঈদের আগেই খালেদার মুক্তি দাবি

    ঈদের আগেই খালেদার মুক্তি দাবি

    ঈদের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান।

    তিনি বলেন, ঈদের আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলে দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

    শুক্রবার (২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘চেতনা বাংলাদেশের’ উদ্যোগে ঈদের আগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    সেলিমা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বলছেন গোটা জাতি ঐক্য বদ্ধ হন। ফ্যাসিস্ট সরকারকে পতন করে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করুন।

    তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে অস্থিরতা, গুম, খুন, ধর্ষণ, ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে। ক্ষমতার অপব্যবহার এমন পর্যায়ে গেছে যে একজন মানুষ মারা গেলেও সরকারের কিছু যায় আসে না।

    তিনি আরও বলেন, দেশে ডেঙ্গু মহামারি রূপ নিয়েছে কিন্তু সরকারের কিছুই যায় আসে না। যার কারণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিবার নিয়ে মালয়েশিয়ায় ঘুরতে যায়। এ সরকার জবাবদিহিতার সরকার নয়। তাই দেশে মৃত্যুর মিছিল হলেও এ সরকারের কিছু যায় আসে না।

    সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, দেশে গজব-গুজব দুটোই এসেছে। দেশের জনগণ ভালো নেই অন্যায় অত্যাচার সহ্য করতে করতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে, যার কারণে উপর থেকে গজব নেমে এসেছে।

    সময় আসছে বিএনপির আন্দোলন সফল হবে উল্লেখ করে সেলিমা বলেন, হাজার হাজার তরুণ দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় যেদিন ঝাঁপিয়ে পড়বে সেদিন ফ্যাসিস্ট এ সরকার ক্ষমতা ছেড়ে পালানোর পথ পাবে না।

    চেতনা বাংলাদেশের সভাপতি শামীম রহমানের সভাপতিত্বে, ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুন-অর-রশিদ, এলডিপি নেতা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, কৃষক দলের সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।