Category: রাজণীতি

  • শোক দিবসের অনুষ্ঠানে হামলা, সাবেক এমপিসহ ২২ জন আহত

    শোক দিবসের অনুষ্ঠানে হামলা, সাবেক এমপিসহ ২২ জন আহত

    অনলাইন ডেস্ক ::

    নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের পাশাপাশি সমাবেশ করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ইটপাটকেলে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ উভয় গ্রুপের প্রায় ২২ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) রুহুল আমিনের নেতৃত্বে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ১৩ রাউন্ড টিয়ালশেল ও ১৩ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীসহ অনেকেই জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টুকে দায়ী করছেন।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান বিএ, জলঢাকা থানা পুলিশের এসআই মামুনুর রশীদ, কনস্টবেল মেহেদী হাসান, রুবেল হোসেন, নাছির উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, পথচারী শাহিনুর রহমান (৪২), দুলাল হোসেন, সাংবাদিক সেফাউল ইসলামসহ ২২ জন।

    আহত উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ও বিভিন্ন কিনিকে চিকিৎসা চলছে।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে দুটি গ্রুপ পৃথকভাবে ১৫ আগস্ট পালন করে আসছে। জাতীয় শোক দিবসে বেলা সাড়ে ১১টায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে একটি গ্রুপ পৃথকভাবে শোক র্যালি শেষে উপজেলার জিরো পয়েন্টে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ শেষে সেখানে সমাবেশ করছিলেন।

    সেখানে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নলনি বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল গনি স্বপন, আওয়ামী লীগ নেতা একে আজাদ, জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র ইলিয়াস হোসেন বাবলুর বক্তব্য শেষে বক্তব্য রাখছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান বিএ। মঞ্চে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা। এমন সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টুর নেতৃত্বে শোক র্যালি ওই সমাবেশ স্থলে এসে বক্তব্যরত আব্দুল মান্নানকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে কিলঘুষি মারতে থাকে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলীর হাতে লাঞ্ছিত হন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা।

    এ সময় হামলাকারীরা সমাবেশের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করতে থাকে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হতে থাকে। এ সময় ৫ পুলিশসহ উভয় গ্রুপের ও পথচারীরা আহত হয়। পরে জেলা শহর থেকে পুলিশ গিয়ে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু চত্বরে জাতির জনকের জীবন কাহিনি নিয়ে আলোচনা করছিলেন দলের সাবেক উপজেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান বিএ। এ সময় বর্তমান উপজেলা সভাপতি আনসার আলীর মিন্টুর নেতৃত্বে জামায়াত শিবিরসহ লাঠি সোডা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয় আমাদের ওপর। তাদের হামলায় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আমরা এ ঘটনায় মামলা দায়ের করবো।

    তবে পাল্টা অভিযোগ করে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আনসার আলী মিন্টু বলেন, আগে থেকে নির্ধারিত দলীয় কর্মসূচির আলোকে শোক র্যালি নিয়ে যখন আমরা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাই ঠিক সেই মুহূর্তে সাবেক এমপি মোস্তফা, সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে আমাদের ওপর অতর্তিক হামলা চালানো হয়।

    তিনি বলেন, তারা জামায়াত শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ চালায়। আমি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করবো।

    এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমিন (নীলফামারী সার্কেল) বলেন, দুপরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের কারণে আমাদের ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা ১৩ রাউন্ড টিয়ার সেল ও ১৩ রাউন্ড রাবার বুলেট নিপে করি। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

  • বরিশালে শোক দিবসে দুস্থ শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

    বরিশালে শোক দিবসে দুস্থ শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    বরিশালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে ব‌রিশাল সি‌টি করপো‌রেশন (বি‌সি‌সি) উদ্যোগে ৩শ দুস্থ ও এতিম শিশুর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন-রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১ টায় বরিশাল ক্লাবে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

    শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, সরকারি শিশু পরিবার বালক-বালিকা, অপরাজেয় বাংলাদেশের দুস্থ ও এতিম শিশুরা এ চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

    প্রতিযোগিতার শুরুতে বি‌সি‌সি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এতিম শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি ঘুরে ঘুরে শিশুদের আঁকা ছবি পরিদরর্শন করেন।

    প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, শুধুমাত্র দুস্থ ও এতিম শিশু-কিশোরদের নিয়ে এতো বড় আয়োজন এ প্রথম। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দুস্থ ও এতিম শিশু-কিশোররা সবাই উচ্ছ্বসিত।

    প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন বিসিসি মেয়রের সহধর্মিণী লিপি আবদুল্লাহ।

    জানা গেছে, বি‌সি‌সি উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যে এবারে ভিন্নধর্মী এ চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। যেখানে দু’টি গ্রুপে রচনা প্রতিযোগিতা এবং তিনটি গ্রুপে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আয়োজনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের ক্রেস্ট, সনদ, পুরস্কার হিসেবে বই ও অর্থ দেওয়া হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সবার জন্য পুরস্কার ও খাবারের আয়োজন করা হয়।

    সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত হাসান বাবলু বলেন, প্রতিবার বরিশালজুড়ে জাতীয় শোকদিবসে নানা আয়োজন থাকে। তবে আমার জানা মতে এটাই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতা যেখানে দুস্থ ও এতিম শিশুদের অংশগ্রহণে করা হয়েছে। প্রতিযোগিরাও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নিয়েছে, যাদের প্রত্যেকের জন্য মেয়রের উদ্যোগে পুরস্কার ও খাবারের আয়োজন করা হয়।

  • শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

     

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি এ শ্রদ্ধা জানান তিনি।

    সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে বেঁজে ওঠে করুণ সুর। প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।

    এরপর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখান থেকে তিনি সরাসরি বঙ্গবন্ধু ভবনে যান।

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুহাম্মদ ফারুক খান, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী। এরপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    বেলা পৌনে ১১টার দিকে সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসের বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

    দোয়া মাহফিলে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা, সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এরপর বেলা ১১টা ৪০মিনিটে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া থেকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

  • যথাযথ মর্যাদায় বরিশালে জাতীয় শোক দিবস পালন

    যথাযথ মর্যাদায় বরিশালে জাতীয় শোক দিবস পালন

    রাতুল হোসাইন রায়হান:

    হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করল গোটা বরিশালবাসী। এই মহান নেতার ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস আজ বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) উপলক্ষে সকালে ৮টায় অশ্বিনী কুমার হল চত্বর এবং নগ‌রের সো‌হেল চত্বর, আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যাল‌য় চত্বরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতরা।

    এছাড়া সকাল ৭টায় নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    এর পর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ইয়ামিন চৌধুরী, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্ধ। 

    এরপর শহীদ সোহেল চত্ত্বরে দলীয় কার্যালয়ের পাশে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহান আরা বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সংযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

    এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে একটি শোক র‌্যালী বের করা হয়। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হওয়া র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    পাশাপাশি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় প্রেসক্লাবের সাংবাদিক মাইনুল হাসান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এর আগে প্রেসক্লাবের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

    অপরদিকে শোক দিবস উপলক্ষ্যে এতিম ও ছিন্নমুল শিশুদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। যা বেলা ১১টায় নগরীর শোহেল চত্ত্বরে পাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামেনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদ কর্মসূচি পালন করে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

    এছাড়াও বাদ জোহর নগরীর কালিবাড়ি রোডস্থ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর বাড়িতে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া-মোনাজাত এর আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া বাদ আসর একই স্থানে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

  • আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস

    আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধি// জান্নাতুল ফেরদৌস:

    আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাঙালি জাতির শোকের দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ৪৪ বছর আগে এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল। আজ যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী পালনের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির বাড়িতে তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাকে ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে ওই রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সংগ্রামী নেতা। শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ৬ দফার প্রণেতাও ছিলেন। সত্তরের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে এ দেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত করেন। পাকিস্তানের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলে ষাটের দশক থেকেই তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়কে পরিণত হন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উত্তাল সমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এ ঘোষণায় উদ্দীপ্ত, উজ্জীবিত জাতি পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে দেশের স্বাধীনতা। জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পুরুষ বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি এই স্বাধীন বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর গোটা বিশ্বে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। হত্যাকারীদের প্রতি ছড়িয়ে পড়েছিল ঘৃণার বিষবাষ্প। পশ্চিম জার্মানির নেতা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী উইলি ব্রানডিট বলেছিলেন, বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোনো জঘন্য কাজ করতে পারে। বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা এ দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত হতে থাকে। তারা এ দেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে নানা উদ্যোগ নেয়। শাসকদের রোষানলে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণও যেন নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল মোশতাক সরকার। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হলে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করা হয়। বিচার শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ললাটে যে কলঙ্কতিলক পরিয়ে দেয়া হয়েছিল, ৩৫ বছরেরও বেশি সময় পর ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি সেই কলঙ্ক থেকে জাতির মুক্তি ঘটে। বঙ্গবন্ধু হত্যার চূড়ান্ত বিচারের রায় অনুযায়ী ওই দিন মধ্যরাতের পর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তবে বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকায় আরও ছয় খুনির সাজা এখনও কার্যকর করা যায়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে স্বাধীনতার স্থপতিকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের পথও সুগম হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হতে থাকে। দিনটিকে সরকারি ছুটির দিনও ঘোষণা করা হয়। তবে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে এ ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটে। তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন বাতিল করে দেয়। পরে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ফলে জাতীয় শোক দিবস পালনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। আজ সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনগুলোয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোয়ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া দেশের সব সরকারি হাসপাতালে দিবসটি উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। চিকিৎসকরা আজ ব্যক্তিগত চেম্বারেও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেবেন। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ ছাড়া পোস্টার, সচিত্র বাংলাদেশের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজন করবে।

  • আগস্ট ট্রাজেডিঃ ১৯৭৫-২০০৪ একই সুতোয় গাঁথা

    আগস্ট ট্রাজেডিঃ ১৯৭৫-২০০৪ একই সুতোয় গাঁথা

    নোবেল পুরস্কার বিজয়ী উইলি ব্রানডিট বলেছিলেন, বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোনো জঘন্য কাজ করতে পারে। জাতির পিতাকে হত্যার পর যখন বিশ্বব্যাপী শোকের ছায়া নেমে এসেছিল তখন আর্ন্তজাতিক মূল্যায়নে এই কথা বলেন জার্মানির আলোচিত এই নেতা।

     

    শুধু বিশ্বাসঘাতক নয়, আমাদের রক্ত অন্তর্ঘাতমুখীও। যদিও কখনো কখনো পাল্টা আঘাত করতে সক্ষম হয়েছি। তবে সে দৃষ্টান্ত খুব বেশি নয়। পাল্টা আঘাতের চেয়ে অন্তর্মুখী অপঘাত বেশি হয়েছে। যে কারণে বাঙালী ও বাঙালীর স্বভাব পরস্পরায় অদ্ভুত সিনড্রোম কাজ করে। এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত। কারণ জাতীয় জীবনে আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধিত জাতি। এমন খেসারত বৈশ্বিক সামগ্রিক ইতিহাসে আছে বলে মনে হয় না। কারণ যে কাজ বাঙালীর শত্রুরা করবার সাহস পায়নি, সেই নারকীয় উল্লাস করল বাংলায় জন্ম নেয়া মানুষেরাই। এমনকি তার উনত্রিশ বছর পর আবারও একবার পুরানো উল্লাসে মেতে উঠতে চেয়েছিল অবিশ্বাসী বাঙালীরা (!!)

    বস্তুত পথের দীর্ঘতার চেয়ে অধিক গন্তব্য পেয়ে যাওয়ায় হয়তো বাঙালীত্বের রক্তের ভিতর ‘মীর জাফর’এর জিন বিলোপ করতে পারেনি। নয়তো জাতীয় জীবনে ১৫ ই আগস্ট ও ২১ আগস্টের ট্রাজেডির কোন কার্য-কারণ নেই। এই দিনগুলো বাঙালীর কলঙ্কের দিন ও কান্নার দিন। হয়তো পৃথিবীতে যতদিন পর্যন্ত একজন বাংলাদেশী বাঙালী থাকবে ততদিন পর্যন্ত এই অপরাধী বোধের কান্না ও অনুশোচনা থাকবে। দেশে কখনো কখনো লোমহর্ষক হত্যাকান্ডও সংঘঠিত হয়েছে।

     

    যেমন কর্ণেল তাহের বা কর্ণেল মঞ্জুর হত্যাকান্ড। এগুলো যতটা রাজনৈতিক বা ক্ষমতা দখলের কামড়া-কামড়ির কারণে ঘটেছে বস্তুত ১৫ই আগস্ট ও ২১ আগস্ট ঘটনা দু’টো ঠিক তার বিপরীত। ১৫ই আগস্ট এবং ২১ আগস্ট যে নারকীয় হত্যার উল্লাস চলেছে সেটা বাঙালীর পরিচয়ের বিবেচনায়। একটি স্বাধীন জাতিকে পরিচয়হীন ও থুবড়ে ফেলার জন্য ঘটনা দুটি ঘটানো হয়েছে। এর সাথে স্বাধীনতাবিরোধী মানুষগুলো যেমন সরাসরি জড়িত তেমনি রয়েছে আন্তর্জাতিক ফেনমেনাও।

     

    অর্থাৎ ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা, ১৯৭৫ সালে ১৫ ই আগস্টে জাতির জনকের বুকে বাঙালীর ছোঁড়া বুলেট আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ঘটনা জাতিস্বত্ত্বার প্রশ্নের সেক্যুয়াল ট্রাজেডি। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল আর ৬৮ হাজার গ্রামের যে মানচিত্রের বাংলাদেশ তার মাটি দিয়ে তাঁর রক্ত-মাংস-শরীর গড়া। আবার বাংলাদেশের মানচিত্রতো তার বুক, হৃদয়। সুতরাং সেখানে ঘাতক কাটা থাকবে তা ধারণার অতীত। এক রাতে বঙ্গবন্ধু, খন্দকার মোশতাক ও পরিকল্পনা পরিষদ প্রধান ড. নুরুল ইসলাম নাশতা খাচ্ছিল।

    হঠাৎ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘গত রাতে আমি অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখেছি। খন্দকার মোশতাক জানতে চাইলেন, কী স্বপ্ন?’’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম আল্লাহপাক আমাকে কোরবানির নির্দেশ দিলেন। তারপর ঘুম ভেঙ্গে গেল। এখন আমি কোরবানি দিতে প্রস্তুত। কোরবানি দিতে হয় সবচেয়ে প্রিয়জনকে। এই মুহুর্তে আমার সবচেয়ে প্রিয়জন হল খন্দকার মোশতাক। ভাবছি তাকেই কোরবানি দিব।’

    এই কথোপকথনকে শুধু রসাত্মক ভেবে ক্ষান্ত দেয়া ঠিক হবে না। এখানে সচ্ছতই বিদ্যমান বাঙালী বা তার মানুষদের জন্য কত দৃঢ় ভালবাসা ছিল জাতির জনকের। এখানে একটি কথা বলে নেয়া উত্তম যে ১৫ই আগস্ট এর ঘটনার বর্ণনা বা ২১ আগস্ট এর ঘটনার বয়ান দেয়া এই প্রবন্ধের লক্ষ্য নয়। আমরা এগোব বারবার একই কেন্দ্রে বিষাক্ত আঘাতের পুনরাবৃত্তি কেন? জাতির জনকের কাছে বাঙালীর বিরুদ্ধে কোন অনুযোগ দেয়াটাও ছিল তার চোখে অন্যায়ের সমান। তিনি সন্তানের স্নেহে দেশের প্রত্যেক মানুষকে ভালবাসতেন। আগলে রাখতেন। একটি ঘটনা প্রণিধানযোগ্য-RAW agents received information of a meeting between Major Rashid, Major Farooq and Lt. Col Usmani at Zia-ur-Rahman’s residence. The decision, among other things, had centered on the coup. During the three hour meeting one of the participants had doodled on a scrap of paper, which had been carelessly thrown into the waste basket. The scrap had been collected from the rubbish pile by a clerk and passed on to the RAW operative. The information finally reached New Delhi. Kao, Convinced that a coup was in the offing, flew into Dacca, under cover of a pan exporter. After his arrival at Dacca, he was driven to rendezvous arranged beforehand Mujib is reported to have the exercise highly dramatic and just could not understand why KAO could not have come to see him officially. The Kao- Mujib meeting lasted one hour. Kao was unable to convince Mujib that a coup was brewing and that his life was threatened, in spite of being given the names of those suspected to have been involved.

     

    অথচ উত্তরে শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘যাদের কথা আপনি বলেছেন তারা আমার সন্তানসম।’ বাঙালী জাতির সঙ্গে শেখ মুজিবের প্রচন্ড ভালবাসা চিরতরে যেদিন অবসান ঘটল সেই ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট শুক্রবার ধলপহর ৫টা ৩৯ মিনিটেও তিনি আক্ষেপে বলছিলেন, ‘তোমরা কি চাও? তোমরা কি আমাকে খুন করতে চাও? ভুলে যাও। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তা করতে পারেনি। তোমরা কি মনে করো, তা করতে পারবে? আমি বাঙালি জাতিকে ভালবাসি। বাঙালি আমাকে ভালবাসে। বাঙালি আমাকে মারতে পারে না।’

     

    এরপর তো সমস্তই ইতিহাস। তবে এই যে হত্যাকান্ড তার পিছনে লক্ষ্যছিল পুরানো ‘বন্ধু’র হাতে দেশকে ফিরিয়ে দেয়া। যদিও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। তবে স্ব-পরিবারে জাতির জনককে হত্যার নেপথ্যে বাঙালী পরিচয় দেয়ার সবচেয়ে বৃহৎ বটবৃক্ষটি উৎপাটনের সর্বত্রই বাঙালী জাতি ধ্বংস করা। স্বাধীনতা বিরোধীরা সর্বত্রই সক্রিয় ছিল। চূড়ান্ত বিজয়ের পর তারা মারণ কামড় দেয়ার জন্য অপেক্ষা করে। বেছে নেয় দেশ পুনর্গঠনের সময়। কারণ স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ যেমন অভিশাপ দিয়ে গেছে তেমনি রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষুধা, সন্ত্রাসবাদ হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

     

    দ্য ডেইলি স্টার-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ১৯৭১ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ থেকে অনেকগুলো অঙ্গসংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৭৪-৭৫ এ তা প্রকট আকার ধারণ করে জাতির জনককে বেকায়দায় ফেলে। অঙ্গসংগঠনের নেতারা একক দলটিকে পৃথক মতাদর্শে নিয়ে যেতে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। যে কারণে আওয়ামী লীগেই অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ওদিকে যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশে পরিস্থিতি সামাল দিতে একা জাতির জনককে হিমশিম খেতে হয়। পাশাপাশি সামরিক বাহিনীতে শুরু হয় আত্মস্বার্থসিদ্ধি। বঙ্গবন্ধু বিতৃষ্ণ হয়ে লেঃ কর্ণেল এম.এ. হামিদকে বলেছিলেন, কর্ণেল সাহেব কি বলবো, আপনার আর্মির কথা। অফিসাররা শুধু আসে আর একে অন্যের বিরুদ্ধে কমপ্লেইন করে অমুক এই করছে, সেই করছে। আমার প্রমোশন, আমার পোস্টিং। বলুন তো কি হবে এসব আর্মি দিয়ে? অফিসাররা এভাবে কামড়া-কামড়ি করলে ডিসিপ্লিন না রাখলে এই আর্মি দিয়ে আমি কি করবো? আমি এদের ঠেলাঠেলি সামলাবো, না দেশ চালাবো?

     

    বঙ্গবন্ধু বিতৃষ্ণ হয়ে লেঃ কর্ণেল এম.এ. হামিদকে বলেছিলেন, ‘কর্ণেল সাহেব কি বলবো, আপনার আর্মির কথা। অফিসাররা শুধু আসে আর একে অন্যের বিরুদ্ধে কমপ্লেইন করে। অমুক এই করছে, সেই করছে। আমার প্রমোশন, আমার পোস্টিং। বলুন তো কি হবে এসব আর্মি দিয়ে? অফিসাররা এভাবে কামড়া-কামড়ি করলে ডিসিপ্লিন না রাখলে; এই আর্মি দিয়ে আমি কি করবো? আমি এদের ঠেলাঠেলি সামলাবো, না দেশ চালাবো?’

     

    ‘বাঙালির স্বাধীনতার জন্য আমি কি-না করলাম। আইয়ুব খাঁ, ইয়াহিয়া খাঁর সাথে জীবনভর লড়াই করলাম। আমাকে কতবার জেলে দিল। বাঙালি সেনা পল্টনের জন্য লড়লাম। আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে। সবাই খাই খাই শুরু করেছে। কোথা থেকে আমি দেব, কেউ ভাবতে চায় না।’

    দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বলছে, যে কোন সমাজ দ্বন্দ্বময়। সমাজে দ্বন্দ্ব থাকবেই। এই তত্ত্বকে কিছু কিছু বিপথগামী বিষাক্ত বাঙালী ভুলভাবে প্রয়োগ করে জাতীয়ভাবে। যুদ্বিদ্ধস্ত বাংলাদেশের বয়স চার বছর হলেও অর্থনৈতিকভাবে, প্রশাসনিকভাবে, সামাজিকভাবে সমতা না আসার পিছনে জাতির জনককে দায়ী করেন এবং সেই রিউমার ছড়িয়ে দেন মাঠ পর্যায়ে। ফলে দ্বন্দ্ববাদপ্রিয় মানুষ ও অন্তর্ঘাতমুখী বাঙালীর সাথে জাতির জনকের মধ্যে কৌশলে দূরত্ব সৃষ্টি করা হয়। এটা করা সম্ভব হয়েছিল এ কারণে, তার বিশ্বস্তরা ক্ষমতার লোভে বাঙালীত্ব হাড়িয়েছিল। যার ফলে গোপনে পাকিস্তানীদের সাথে হাত মিলিয়েছিল। এই দুটি কারণে বাঙালী বিরোধী শক্তি ও অপবাঙালী এক স্থানে চলে আসে। বিষয়টি অল্প হলেও খুব ভালভাবেই উপলব্ধিতে আসে জাতির জনকের। ফলে তিনিও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বহুমুখী গণতন্ত্রের সুষম প্রতিষ্ঠার চেয়ে যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশে সবার আগে দরকার জীবনমান উন্নত করা। জীবনমান উন্নতকরণে শাসন চর্চা একমুখী করা সময়োপযোগী। তার আশপাশে কামড়া-কামড়ি করা লক্ষ্যহীন দূষিতমানুষের হাত থেকে রেহাই পেতেই হয়তো প্রতিষ্ঠা করলেন ‘বাকশাল’।

     

    কিন্তু মোশতাকসহ পরাজিত শক্তি জানতো মুজিব এর হাতে কর্তৃত্ব থাকলে তাদের স্বপ্নসিদ্ধি হবে না। ফলে চুড়ান্তভাবেই মুজিবকে হত্যার পথে এগোয়। এখানে স্মরণ করা উচিত, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের কথা। যেখানে নবাব এর বিশ্বস্ত সেনাপতি শুধুমাত্র নিজের কারণে নবাব এর বিরুদ্ধে মাঠে নামে এবং ব্রিটিশ বেনিয়ার হাতে তুলে দেয় সাম্রাজ্য। মৃত্যু হয় একটি জাতিসত্ত্বার। তদ্রুপ স্বাধীনোত্তর দেশে মুজিব এর কণ্ঠরোধ করা সম্ভব হলেই কেবলমাত্র বাঙালী ও স্বাধীনতা বিরোধী সম্প্রদায়ের সাথে সখ্যতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব। এর সুবাদে হয়তো কেউ কেউ ক্ষমতাবান হতে পারে, আর হত্যা ছাড়া মুজিব এর কণ্ঠরোধ অকল্পনীয়। এ সমস্ত সার্বিক হিংস্রতা ও পরাভব মানসিক টেনডন না ছিড়তে পারার কারণে রচিত হয় ১৯৭৫ সালের ভয়াবহ ও নৃশংস ১৫ই আগস্ট।

     

    এর মাধ্যমে পন্ড হয়ে যাবার ধারণা ছিল স্বাধীনতার, জাতিস্বত্ত্বার প্রশ্নে আপোস চলে আসবে বলে ধরে নিয়েছিল ঘাতকরা। আবার উচ্চকিত কণ্ঠে ‘নারায়ে তাকবির’বলে জননীর শরীর থেকে ছাড়িয়ে নিতে চেয়েছিল স্বকীয়তার কাপড়। এ কাজে তৎকালীন সময়ে সফল হয়েছিল জাতিস্বত্ত্বা বিরোধীরা। কারণ জাতির জনককে হত্যার পরপরই মাথাচড়া দিয়ে ওঠে পাকিস্তানের দোসর ও ইসলামভিত্তিক কয়েকটি সংগঠন। ইতিহাস বলছে, সামরিক বাহিনীর হাতে খুন হওয়া মুজিব পরিবারের বিরুদ্ধে অনেক কল্পকাহিনী নিয়ে মাঠে নামে তারা। দীর্ঘদিন বাহিনীর ভিতরে ঘাপ্টি মেরে থাকা এসব সৈন্যরা সেজে বসেন বাঙালীর ত্রাণকর্তা। স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ শত্রু জামায়াতে ইসলামী এবং রাজাকারদের আদর-আপ্যায়ন করেই দেশে ফিরানো হল।

     

    ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান যেমন বর্তমানে আওয়ামী লীগ এর নিজস্ব সম্পত্তি হয়ে গেছে, তদ্রুপ উগ্রবাদী দলের সম্পত্তি হয়ে গেছে ইসলাম। ফলে বাংলাদেশে স্বাধীনতাপ্রত্যাশী মানুষকে দাঁড় করানো হল একটি ধর্মের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ বাংলাদেশ পাকিস্তান বিরোধকে নামিয়ে দেয়া হল ভিন্ন ট্যানেলে। দখলী শাসনামলে তাই স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের গণমানুষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচয় করানো হয় নাস্তিক ও ইসলাম বিরোধী বলে। এখানে ইসলামও ছিল মৌনভাবে। এ সমস্ত কৌশলে বেশ ক’দিন সেনা শাসকদের হাতেই চলল দেশ। উল্টোপথে চলা শুরু ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডর দিন থেকেই।

     

    দ্য লাস্ট সিনড্রোম

    উনত্রিশ বছর পর। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট বিকেল। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে চলছিল তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর এর বিক্ষোভ মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশ। সিলেটে বোমা হামলার প্রতিবাদ ও যশোরে পুলিশি নির্যাতনে ছাত্রলীগ কর্মী তুষার হত্যার প্রতিবাদে আহুত এ সমাবেশ ছিল বিএনপি ও জামায়াতের জঙ্গিবাদ তোষণকারীদের বিরুদ্ধে। তৎকালীন দুঃসময়ে জনসাধারণ চাইছিল একটি যোগ্য নির্দেশনা। রাষ্ট্রযন্ত্রে বসে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে দেশকে তুলে দেয়ার যে টার্গেট ম্যাপ ছিল তা ফাঁস হয়েছিল জনতার সামনে। ফলে আওয়ামী লীগ ধরে এগোতে চায় দেশবাসী। সেই সূত্রে ২১ আগস্টের ঐ জনসভায় লাখ লাঘ মানুষের ঢল নামে। সেই জনসভায় সুক্ষ্ম ও সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় যদিও ২৪ জন নিহত হন, কিন্তু আহত ছিল কয়েকশ। তার চেয়ে ভয়ংকর কথা হল, নেতাকর্মী হত্যা করতে হামলা চালানো হয়নি, হয়েছিল শেখ হাসিনাকে খুন করতে।

     

    গণমাধ্যম ও অধিকতর তদন্ত রিপোর্ট বলছে, হামলার সাথে সম্পৃক্ত ছিল রাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ নেতারা। আর বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ছিলেন পরিকল্পক। বেগম জিয়ার বিখ্যাত ‘হাওয়া ভবন’এ হয় হামলার পরিকল্পনা। এমনকি হামলাকারীদের পালিয়ে যাবার ব্যবস্থা পর্যন্ত করে দেন তারেক ও বাবর। জাতিকে বুঝানো হয়েছিল ভুল ব্যাখ্যা। সাজানো হয় জজ মিয়া নাটক। আলোচনার এই পর্যায়ে চিহ্নিত করতে পারেন ভিন্ন আখ্যান। সাবেক এ.এস.পি. মোঃ আবদুর রশীদ, এ.এস.পি. মুন্সি আতিকুর রহমান ও সিআইডিতে মামলার সুপারভিশন কর্মকর্তা পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিন।

     

    আইন প্রয়োগের শীর্ষ পদে থাকা এরা নতুন গল্প ফাঁদে। লক্ষ্যণীয় যে শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার পিছনে জড়িত ছিলেন বলে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে লেঃ কমান্ডার (অবঃ) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মোঃ আশরাফুল হুদা, আইজিপি শহিদুল হক, আইজিপি খোদাবক্স চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর মত লোকেরা। যদিও শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পান, কিন্তু বিএনপির ‘খেলা’ শেষ হয় না। জাতির জনককে হত্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টাসহ গ্রেনেড হামলা বিশে¬ষণ করলে বেশ কয়েকটি কারণ অনায়াসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উভয় ঘটনার মধ্যে জোরালো মিল রয়েছে। প্রথমত, ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যার পর বাংলাদেশে ইসলামি দলগুলো ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।

     

    আর ২০০৪ সালে যখন শেখ হাসিনার উপর সর্বাত্মক হামলা হল তখনো ইসলামের ছদ্মবেশে সেই ইসলামিক দলগুলো সরকারী মদদে। দ্বিতীয়ত, বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অফিসাররা নেতৃত্ব ও হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। তেমনি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায়ও গোয়েন্দা সংস্থা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আ.ই.জি.পি ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সরাসরি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি মুজিব ও হাসিনাকে হত্যা করতে বেছে নিয়েছিল আগস্ট মাস।

     

    সুতরাং একথা বলা যায় উভয় ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু এক এবং অভিন্ন সূত্র থেকে ঘটনাগুলো ঘটেছে। তাহলে কি হতে পারে সেই সূত্রপাত? মনে রাখা জরুরী বাংলাদেশকে এক কথায় প্রকাশ করা যেতে পারে চিবিপ্লবী কণ্ঠস্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে। ফলে বাংলাদেশকে যে বা যারা মেনে নেয়নি তারা দেশকে ধ্বংস করতে চাইলে প্রথমেই বেছে নিবে দেশটির মূল কণ্ঠস্বর চেপে ধরতে। সেজন্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রচনা করেছিল জাতির অভিশপ্ত রাত। তখন হত্যাকারীরা ৩২ নম্বরে যে গণহত্যা করেছিল তার মাধ্যমে আশান্বিত হয় নব্য স্বাধীন দেশকে আবার সমর্পণ করতে পারবে পাকিস্তানের হাতে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় গণহত্যার মিশন সফল হয়নি। তাই ২০০৪ সালে বাঙালীর ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা শেখ হাসিনাকে কার্যত শেখ মুজিবের বংশ পরস্পরাকে স্তব্ধ করে দিতে ২১ আগস্ট হামলা চালায়। রচিত হয় আগস্ট ট্রাজেডি। এই হত্যা ও হত্যাচেষ্টা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয় জাতিগতভাবে ঘৃণার। চিহ্নিত সেসব হত্যাকারী আজন্ম সক্রিয় থাকতে চেষ্টা চালাবে, তবু ভয়াবহ আগস্ট পেরিয়ে আসা বাংলাদেশকে সেই নীল মুখোশওয়ালাদের শাস্তির বিধান করতে হবে। এ প্রজন্ম এটাই চায়।

  • কাশ্মীর সংকট নিয়ে যা বললো বিএনপি

    কাশ্মীর সংকট নিয়ে যা বললো বিএনপি

    ভারতের কাশ্মীর রাজ্যের বর্তমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।

    মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উপমহাদেশের অভিন্ন ইতিহাসের কারণে বাংলাদেশের জনগণ বরাবরই এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রত্যাশী। গণমাধ্যম সূত্রে অবহিত হয়ে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাশ্মীর রাজ্যের বর্তমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে নিবিড়ভাবে বিএনপি পর্যবেক্ষণ করছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম তথা সাধারণ জনগণের মাঝে নিরাপত্তা ও শান্তির দ্রুত প্রত্যাবর্তন বিএনপি কামনা করে। ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের যে আহ্বান জানিয়েছে, তা সময়োচিত আহ্বান হিসেবে বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান তৈরি করার যে প্রস্তাব জাতিসংঘ মহাসচিব দিয়েছেন, তাও বাস্তবসম্মত বলে মনে করে বিএনপি।

    ‘বিএনপি বিশ্বাস করে, যেকোনো সমস্যা সংশ্লিষ্ট পক্ষরাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারেন। ভারতের বর্তমান নির্বাচিত সরকার তার সংবিধানের অন্তর্নিহিত চেতনা অনুযায়ী সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেই চলমান সমস্যার সমাধান করবেন বলে বিএনপি বিশ্বাস করে। কাশ্মীর সমস্যা সমাধান এ অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়া তরান্বিত করবে’ বলেও বিএনপি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ওই বিবৃতিতে।

  • ডাকসু ভিপি নুরু’র উপর হামলা

    ডাকসু ভিপি নুরু’র উপর হামলা

    পটুয়াখালীর গলাচিপার উলানিয়া বন্দরে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরু’র উপর হামলা করেছে যুবলীগের কর্মীরা। হামলায় নুরুসহ কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুকে উদ্ধার করে গলাচিপা হাসপাতালে প্রেরন করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নুরু তার গ্রামের বাড়ি চরকাজলে চলে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে গলাচিপা থানা পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় আত্মীয় বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাবার জন্য ভিপি নুরু আজ সকালে তার গ্রামের বাড়ি চরকাজল থেকে গলাচিপা আসেন। সেখান থেকে মটর সাইকেলযোগে দশমিনা যাবার পথে উলানিয়া চৌরাস্তা এলাকায় পৌছলে উলানিয়া বন্দর যুবলীগ সাধারন সম্পাদক নাজমুলের নেতৃত্বে তার উপর হামলা চালানো হয়। এ সময় নুরুসহ তার দুই ভাই ও ভগ্নিপতি মসজিদের কাছে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে গলাচিপা হাসপাতালে প্রেরন করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নুরু বাড়ি চলে যায়।

    এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিন শাহ জানান,পনের আগষ্ট নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার কারনে স্থানীয় লোকজন তাঁকে চড় থাপ্পর দিয়েছে। তারা আসলে নুরুকে চিনতে পারেনি। আওয়ামী লীগের এলাকা হওয়ায় পনের আগস্ট নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার কারনে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী করেন তিনি।

    গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আকতার মোর্শেদ জানান, হামলার খবর শুনে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে গলাচিপা হাসপাতালে পাঠায়। তবে তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই বলে দাবী করেন তিনি। তিনি বলেন,তারা খেয়ে নুরু স্থানীয় একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলো।

  • বরিশালে মেয়র সাদিকের উদ্যোগে বাবাকে খুঁজে পেল হারিয়ে যাওয়া শিশু

    বরিশালে মেয়র সাদিকের উদ্যোগে বাবাকে খুঁজে পেল হারিয়ে যাওয়া শিশু

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা থেকে  লঞ্চযোগে বরিশাল আসে ছোট্ট মিম। কিন্তু লঞ্চ থেকে নেমে বাবাকে হারিয়ে ফেলে মেয়েটি। মধ্যরাতে বাবাকে হারিয়ে কান্না করতে দেখে মেয়েটিকে কাছে নিয়ে সব খোঁজখবর নেন বরিশালের সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    পরে এই ঘটনায় মেয়রের নির্দেশে মাইকিং করা হয়। এক পর্যায়ে মিমের বাবা ছুটে আসেন। কোলে তুলে নেন আদরের ধনকে। মিম ফিরে পায় তার প্রিয় বাবাকে।

    ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল লঞ্চঘাট এলাকায়। রবিবার ফেসবুক পোস্টে একথা জানান মেয়র নিজেই।

    ঈদে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বাড়ি ফেরার অন্যতম মাধ্যম লঞ্চ। প্রতি ঈদেই যাত্রীর চাপ থাকায় বাড়তি ট্রিপের আশায় স্বাভাবিকের থেকে বেশি গতিতে ঢাকা থেকে গন্তব্যে যায় লঞ্চগুলো। ফলে বরিশালের বিলাসবহুল লঞ্চগুলো কখনো মধ্যরাতে আবার কখনো শেষ রাতে ঘাটে নোঙর করে।

    কিন্তু নেমেই পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। কারণ ঘাট থেকে অটো, রিকশাসহ সব ধরনের পরিবহন নিয়মিত ভাড়া থেকে কয়েকগুণ টাকা নেয়। এ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। যে কারণে এবার অসাধু এসব মোটর শ্রমিকের হাত থেকে ঘরমুখো মানুষকে মুক্তি দিতে মাঠে নেমেছেন বরিশালের সিটি মেয়র সাদিক।

    নিজের ফেসবুকে পোস্টে মিমকে কোলে নিয়ে বসা একটা ছবি পোস্ট করেন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ। তাতে তিনি লেখেন, মধ্যরাতে লঞ্চ থেকে নেমে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায় মিম। কাঁদতে দেখে কোলে নিয়ে জিজ্ঞেস করলে শিশুটি তার বাবা-মায়ের নাম বলে। পরে বিসিসির কেন্দ্রীয় মাইকের ঘোষণা শুনে তার বাবা এলে দিয়ে দেয়া হয়।

  • বরিশাল নগর থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হবে

    বরিশাল নগর থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হবে

    রাতুল হোসেন রায়হান:

    বরিশাল নগরী থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সফল মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    আজ রোববার (১১ আগস্ট) বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে সদ্য চালু হওয়া স্বতন্ত্র ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীদের খোঁজ-খবর নেয়ার সময় তিনি এ কথা জানান।

    বিসিসি মেয়র সাদিক বলেন, আমরা বরিশাল শহরকে অন্য সব শহরের থেকে ৭০ শতাংশ বেশি পরিচ্ছন্ন রাখছি। ডেঙ্গুর প্রভাব বিস্তারের পর আমরা গোটা শহরে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, হাসপাতাল প্রশাসনসহ সবাই সমন্বিতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছি। যে কাজে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে।

    তিনি বলেন, আমি নগর সেবকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগসহ পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া নগরের সমস্ত ড্রেনগুলো পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করেছি। যাতে পানি জমে মশার বংশবিস্তার না হয়। আমাদের শহরে এখন মশার উপদ্রব নেই বললেই চলে।

    তিনি আরও বলেন, শেবাচিম হাসপাতাল যেহেতু দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম একটি হাসপাতাল। তাই এখানে পুরো বরিশাল বিভাগের রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। আমরা সে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করতে পেরেছি। এর ফলে রোগীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি চিকিৎসকরাও ভালোভাবে চিকিৎসা দিতে পারবেন।

    এরআগে, শেবাচিম হাসপাতালের চতুর্থ তলায় সদ্য চালু হওয়া ১০০ শয্যার স্বতন্ত্র ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীদের খোঁজ-খবর নেন মেয়র সাদিক। এ সময় ওয়ার্ডটিতে যাতে কেউ জুতা নিয়ে না প্রবেশ করেন সে জন্য হাসপাতাল পরিচালককে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নারীদের মেডিসিন ওয়ার্ডে যেসব রোগীরা বারান্দায় গরমে কষ্টে রয়েছেন। তাদের জন্য দ্রুত ফ্যানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন মেয়র সাদিক।

    পরিদর্শনকালে মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেনসহ হাসপাতাল প্রশাসন ও চিকিৎসকরা।