Category: রাজণীতি

  • বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ

    বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ

    বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সহধর্মিণী বীর মুক্তিযোদ্ধা বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ  বরিশাল শহরের কাউনিয়া এলাকায় অভিজাত কাজী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর  পিতার নাম কাজী মোখলেসুর রহমান। ছাত্র জীবন থেকেই বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি বরিশাল মহিলা কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন। একই ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বেগম আরজু মনি সেরনিয়াবাত, আওয়ামী যুবলীগের সম্মানিত চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের মাতা।  পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। তিনি পঁচাত্তরের ট্র্যাজেডির বেচে যাওয়া গুলিবিদ্ধ একজন প্রত্যক্ষ দর্শী । সেদিন ঘাতকের গুলিতে তাঁর চার বছরের শিশু পুত্র সুকান্ত বাবু, শ্বশুর আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ননদ বেবী সেরনিয়াবাত, দেবর আরিফ সেরনিয়াবাত, এবং ভাসুর শহিদ সেরনিয়াবাত নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

    বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ  একজন মহীয়সী নারী হিসেবে সমাজ ও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন নিজ গুণাবলীতে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যেমন যুক্ত ছিলেন, তেমনি ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। তিনি বরিশালের অন্যতম নাট্য সংগঠন শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটারের উপদেষ্টামণ্ডলীর চেয়ারম্যান ছিলেন। যুক্ত ছিলেন প্রান্তিকের সাথেও।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা বেগম সাহান আরা  আব্দুল্লাহ ৭ জুন ২০২০ইং (রবিবার) রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্বামী, তিন পুত্র, এক কন্যা এবং নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।  বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ  বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ এর আপন বড় মামী। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    আওয়ামী যুবলীগ এর পক্ষ থেকে সবার দোয়া কামনা করা হচ্ছে।

  • মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা আব্দুল্লাহ’র কবর জিয়ারত করলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা আব্দুল্লাহ’র কবর জিয়ারত করলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর স্ত্রী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদেক আবদুল্লাহর মা মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা আব্দুল্লাহ’র কবর জিয়ারত করেছেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি।

    সোমবার (৮ জুন) দুপুরে তিনি বরিশাল মুসলিম গোরস্থানে গিয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং কবর জিয়ারত করেন। এরআগে তিনি শহীদ জননী সাহান আরা আব্দুল্লাহ’র প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে সমাধিতে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জুলি নিবেদন করেন।

    এসময়ত তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি’র পরিচালক ও আওয়ামীলীগ নেতা আলমগীর হোসেন আলো, আওয়ামীলীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুন, জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি জোবায়ের আব্দুল্লাহ জিন্নাহ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতা মাহাদুর রহমান মাহাদ।

  • অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিতে বেহাল স্বাস্থ্য খাত

    অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিতে বেহাল স্বাস্থ্য খাত

    আমাদের এখানে কোভিড–১৯ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, এর তিন মাস আগে ধরা পড়ে চীনের উহানে। ইতিমধ্যে আরও তিন মাস পার হয়েছে। আগের তিন মাস এবং পরের তিন মাসের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে বলা যায়, আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। হয় তাদের এই সংক্রমণের ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা ছিল না, অথবা তারা বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। এই ভাইরাস রোদে পুড়ে যাবে, বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে—এমন ধারণা কারও কারও ছিল। আর এসবের ফলটা হচ্ছে, করোনা এখন সামনে দৌড়াচ্ছে, পেছন থেকে ধাওয়া করে আমরা ধরার চেষ্টা করছি। কিন্তু সময়টা কাজে লাগালে আমাদের সুযোগ ছিল করোনাকে ধাওয়া করা।

     কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ তো বারবার বলছে, তারা প্রস্তুত। আপনি ঘাটতি দেখলেন কোথায়?

    ইহতেশামুল হক: প্রথম তিন মাস আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি তো পাত্তাই দেয়নি। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলল, টেস্ট টেস্ট এবং টেস্ট। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) দুই হাজার কিট নিয়ে বলল, ‘আমরা প্রস্তুত’। এই যে হিরোইজম দেখাল, তা কিসের ভিত্তিতে? ওই ইনস্টিটিউটের কাজ তো গবেষণা করা, তারা তো রিসার্চ ল্যাবরেটরি বা সার্ভিস ল্যাবরেটরি নয়। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) বা সেন্ট্রাল ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) কোথায়? এটা তো তাদেরই কাজ।

    আমাদের কত হাসপাতাল আছে, কোন কোন জেলায় সংক্রমণ বেশি হতে পারে, কোভিড ও নন-কোভিড চিকিৎসার ধরন কী হবে, সেসব নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ভাবতে শুরু করল এই কিছুদিন আগে। সেই ভাবনা এখনো শেষ হয়েছে বলা যাবে না। এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার অনেক গরমিল রয়েছে। আমরা শুধু আওয়াজ দিয়ে গেলাম, বিষয়টি দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।

    স্বাস্থ্য বিভাগ তাহলে কী কী করতে পারত?

    ইহতেশামুল হক: প্রথম কথা টেস্টের ব্যবস্থা করতে পারত। এখন ৫২টি ল্যাবে পরীক্ষা করছেন, এটা আগে করলেন না কেন? তিন মাস সময় পেলেন, ৬৪ জেলায় ৬৪টি ল্যাব বসালেন না কেন? দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার মেশিন ছিল, এগুলো কাজে লাগালেন না কেন? তারা তা জাতির এই ক্রান্তিকালে কাজ করতে প্রস্তুত ছিল। এখন একেকটি মেশিন (আরটিপিসিআর) তিন গুণ দামে কিনছেন। আবার ২০২০ সালে এসে ২০০৯ সালের মেশিন কিনছেন। এই পুরোনো মডেলের মেশিনে ভালো ফল পাচ্ছেন না। তখন যদি আধুনিক মেশিন কিনতেন, কম দামেই কিনতে পারতেন। আবার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় পেতেন।

    একজন মানুষ আড়াই থেকে তিনজনকে সংক্রমণ করতে পারে। আমরা যদি এক্সকে আটকাতে পারতাম, তাহলে ওয়াই বা জেড আক্রান্ত হতো না। তাদের থেকে অন্যরাও আক্রান্ত হতো না। স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং অংশীজনদের অনেকেই শুরু থেকে একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, এতে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা গেছে। কখনো শ্রমিকদের ঢাকায় ডেকে আনলাম, আবার কখনো বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। বিদেশফেরতদের নিয়েও শুরু থেকে নাটকীয় সব ঘটনা ঘটেছে। যখন সরকারের শীর্ষ পর্যায় হস্তক্ষেপ করেছে, তখন পরিস্থিতি একটু বদলেছে। কিন্তু ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে।

     কোভিড, নন–কোভিড হাসপাতাল বিতর্কের শেষ কোথায়? কী করা উচিত ছিল?

    ইহতেশামুল হক: উহানের শিক্ষা হচ্ছে, ৪১ শতাংশ মানুষ হাসপাতাল থেকে কোভিডে আক্রান্ত হয়। বিদেশে কিছু হাসপাতালে কোভিড, নন–কোভিড রোগীদের ব্যবস্থা আছে, এটা সত্য। কিন্তু সেখানে তো হাসপাতাল বানানো হয় হাসপাতালের ডিজাইনে। সুতরাং তারা চাইলে কোভিড ও নন-কোভিড একই হাসপাতালে চিকিৎসা করতে পারে। কিন্তু আমাদের এখানে অনেক হাসপাতাল বানানো হয়েছে সাধারণ বা বাণিজ্যিক ভবনে, পরে সেটিকে হাসপাতালে রূপ দেওয়া হয়েছে। এসব বাস্তবতা মাথায় না রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ যাকে–তাকে চিঠি দেওয়া শুরু করল। ওটা কোভিড হাসপাতাল করতে হবে, ওখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপন করতে হবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। এসব নির্দেশ পর্যালোচনা করে দেখা গেল, আসলে সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য বিভাগ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দূরে থাক, কারও কারও আংশিক ধারণাও নেই। একটি হাসপাতাল কোভিড ডেডিকেটেড করলে সেখানে আইসিইউ লাগে, অক্সিজেন প্ল্যান্ট লাগে, তিন গুণ না হলেও দ্বিগুণ জনবল লাগে, তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ লাগে এবং এ রকম আরও নানা প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ মনে করল, চিঠি পাঠালেই বুঝি সবকিছু হয়ে যাবে। এখনো সেই অবস্থার খুব বেশি উন্নতি হয়েছে, তা বলা যাবে না।

    এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের মনোভাব কী?

    ইহতেশামুল হক: শুরু থেকে চিকিৎসকেরা খুবই বিরক্ত ছিলেন। তাঁদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর (পিপিই) নামে রেইনকোট পরানো হয়েছে। ওটা পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘামে ভিজে চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন করেছেন। নকল এন–৯৫ মাস্ক দেওয়া হয়েছে। থাকার জায়গা নিয়ে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব নিয়ে কথা বলায় কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একদিকে তাঁদের ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধা বলছি, অন্যদিকে তাঁদের সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া নিয়ে টালবাহানা করেছি। এর ফলে যা হওয়ার তা–ই হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় তিন হাজার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত, এদের এক হাজারই ডাক্তার।

    সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার পর এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। আসলে এসব বিষয় তো প্রধানমন্ত্রীর দেখার কথা নয়। তাহলে মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, সচিব, মহাপরিচালক, পরিচালকসহ শত শত কর্মকর্তার কাজটা কী?

     স্বাস্থ্য ক্যাডারে জনবল, পদায়ন, পদোন্নতি—এগুলোর কী অবস্থা?

    ইহতেশামুল হক: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কারা চাকরি করবে, তাদের যোগ্যতা কী হবে, তা পরিষ্কার বলা আছে। সেখানে দু-চারটি পদ ছাড়া বাকিদের অবশ্যই মাঠ প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু ন্যূনতম প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা না থাকা অধ্যাপকদের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগে এমন প্রায় ২২টি পরিচালকের পদ আছে, যেগুলোর মধ্যে ১৫-১৬ জনেরই এমন অবস্থা। এর ফলে ক্ষতিটা হচ্ছে দুই দিকে; তাঁরা প্রশাসনেও ভালো করতে পারছেন না, আবার তাঁদের পড়ানো থেকে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

    এসব কর্মকর্তা তো নিজের ইচ্ছায় আসেননি। কারা, কেন তাঁদের এনেছে?

    ইহতেশামুল হক: এঁরা এসেছেন ‘মাই মেন’ (আমার লোক) হিসেবে কোটারি স্বার্থ সংরক্ষণ ও নিজেদের ব্যক্তিগত ‘ইগো’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে। কেউ মন্ত্রীর লোক, কেউ সচিবের, কেউবা মহাপরিচালকের। আমার বক্তব্য হচ্ছে, আপনার পছন্দের লোক প্রশাসনিক দায়িত্ব আসবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার সেই লোকটা যেন ওই কাজের যোগ্য হন। স্বাস্থ্যের কাজটি হয় সিঁড়ি বেয়ে। এই সিঁড়ি যিনি পার হননি, তাঁর পক্ষে মাঠে একটি চিঠি পাঠানো ছাড়া আরও কিছু বোঝা সম্ভব নয়।

     আপনি কি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবেন, প্রশাসনিক যোগ্যতায় কাদের ঘাটতি আছে?

    ইহতেশামুল হক: এখনকার যিনি মহাপরিচালক, তিনি বায়োকেমিস্ট্রির অধ্যাপক। তাঁর মাঠের কাজ সম্পর্কে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। এরপর পরিচালক (হাসপাতাল) স্বাস্থ্য অর্থনীতি এবং পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এপিডেমিওলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। এমন আরও অনেক উদাহরণ আছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় হাজার কোটি টাকার কাজ হয়। সেখানে প্রি-ক্লিনিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল বিষয়ের অধ্যাপকেরা এসব কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একজন অধ্যাপক তো অধ্যাপনা করবেন, গবেষণা করবেন, রোগী দেখবেন, প্রয়োজনে মেডিকেল কলেজগুলোতে অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ হবেন, এটাই স্বাভাবিক এবং কাম্য ছিল।

    অধিদপ্তর তো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে, মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা তাহলে কী?

    ইহতেশামুল হক: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোন কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত, অনেক সময় তা বুঝতে পারি না। তবে এটা বুঝতে পারি যে সেখানকার কাজকর্মের গতি মন্থর। এখনকার সংকটময় পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয় পেশাজীবীদের কাছ থেকে পরামর্শ নেবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আগ্রহ নেই, ফলে পেশাজীবীরা ধারেকাছেও যান না। অথচ প্রতিটি দেশেই জাতীয় মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কাজ সেই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে পরামর্শ দেওয়া, সহায়তা করা। কিন্তু এখানে সেই সুযোগ বা পরিবেশ নেই।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটা মানেই অনিয়ম, দুর্নীতি—এমন একটি ধারণা হয়ে গেছে। আপনারা কী দেখেন?

    ইহতেশামুল হক: দুর্নীতি তো আর দেখা যায় না। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়—এটা পারসেপশন। এই পারসেপশন এখন বাস্তবতার চেয়ে বিশ্বাসযোগ্য। স্বাস্থ্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অসম্ভব টেকনিক্যাল খাত। গত কয়েক বছর শুধু কেনাকাটাই যেন ছিল মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ। সিভিল সার্জন অফিস কিংবা ছোট-বড় হাসপাতালগুলোতে কী কী কেনাকাটা হবে, কোথায় অবকাঠামো নির্মিত হবে—এগুলো নিয়েই মন্ত্রণালয় ব্যস্ত ছিল। সরকারি কেনাকাটার কিন্তু নিয়মনীতি আছে। মাঠ থেকে চাহিদা আসবে, অধিদপ্তর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ঠিক করবে। এরপর মন্ত্রণালয় আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী অনুমোদন দেবে। কিছু কেনাকাটা করবে প্রতিষ্ঠানে, বড় কেনাকাটা হবে সিএমএসডির মাধ্যমে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বেশির ভাগ কেনাকাটা ওপর থেকে নিচে যায়। ঠিকাদার গিয়ে মেডিকেল কলেজকে বলে, অমুক যন্ত্রপাতি কিনতে হবে, অধিদপ্তরে তালিকা পাঠান, না পাঠালে মন্ত্রণালয় ফোন করে তালিকা চায়। মন্ত্রণালয় ও ঠিকাদারের কথা না শুনলে বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত। কোনো কোনো কর্মকর্তা চাপ মেনে নেয়, কেউবা ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজে কিছু সুবিধা নেয়। এরপর কেনাকাটা ও ঠিকাদারের বিল নেওয়া শেষ। কোনো কোনো ঘটনায় তৎপর হয় দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক। তখন কিন্তু মন্ত্রণালয়ের ফোন করা বা চাপ দেওয়া সেই ব্যক্তিকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ঠিকাদারও দেখায় সে দরপত্র অনুযায়ী কাজ করেছে, যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে এবং বিল নিয়েছে। ফেঁসে যান হাসপাতালের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা। টেলিফোনে কাজ দেওয়ার পর এখন দুর্নীতি দমনের মামলায় জেলে কিংবা বিচারের অপেক্ষায় আছেন বেশ কয়েকজন। আর যাদের হুকুমে কাজটি হয়েছে, তারা যেন ধোয়া তুলসীপাতা।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি কারা করেছে, এটা গণমাধ্যম, দুদক, মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দাসহ সবাই কমবেশি কিন্তু জানে। আফজাল নামের একজন কেরানি একা কীভাবে দুই হাজার কোটি টাকা লুটপাট করতে পারে? তার গডফাদার কে? সে কাকে, কাকে ভাগ দিয়েছে—এসব তো অজানা নয়। এত বড় ঘটনা ঘটেছে স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক, পরিচালক—এঁরা কি কিছুই জানতেন না? কীভাবে সে দেশের বাইরে পালিয়ে গেল? স্বাস্থ্যের শীর্ষ কয়েকজন ঠিকাদারের ধনসম্পদের খোঁজ নেন, আর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নেন। এগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করেন, দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করেন। অন্যথায় বলে দেন, কিছুই হয়নি। সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু এভাবে আর চলতে পারে না।

    দুর্নীতি ঠেকাতে মন্ত্রণালয়ের কি কোনো ভূমিকা নেই?

    ইহতেশামুল হক: একটি উদাহরণ দিই, তাহলে বুঝবেন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা। নকল মাস্ক দেওয়া হলো। এ নিয়ে কত হইচই। মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি করল একজন অতিরিক্ত সচিবকে দিয়ে। অভিযোগ কিন্তু তাঁর চেয়ে বড় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এরপর তিনি প্রতিবেদন দিলেন। একটা ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করা হলো। কার দায়, কে দুর্নীতি করেছে—সেসব কিন্তু আর জানা গেল না। বালিশ–কাণ্ড, পর্দা–কাণ্ড, এখন মাস্ক–কাণ্ড—এসব ঘটনা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, এই মন্ত্রণালয়ের অনেকে হয় হতাশ, না হয় দুর্নীতিবাজ।

    বলা হয়ে থাকে, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ—স্বাচিপ বা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন—বিএমএ এবং সরকারসমর্থক চিকিৎসক নেতারা বদলি, পদোন্নতি, কেনাকাটাসহ নানা ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। এর সত্যতা কতটুকু?

    ইহতেশামুল হক: আসলে স্বাচিপ বা বিএমএর নামে যত কথা বলা হয়, বিষয়টা তেমন নয়। এটা নিজেদের ব্যর্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা। আরও স্পষ্টভাবে বললে আমলাতন্ত্রের কৌশল। বাংলাদেশে তদবির জীবনের অংশ। বিচ্ছিন্নভাবে দু–একজন তদবির যে করে না, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। যদি কেউ তদবির করেও থাকে, আপনি তা শুনবেন কেন? আপনার দায়িত্ব তো নিয়মনীতির মধ্যে কাজ করা। কেউ নিজে যদি দুর্নীতিবাজ হয়, তাহলে সে অন্যের ওপর দায় চাপাবে, অন্যকে জড়ানোর চেষ্টা করবে। গত ১০-১৫ বছরে স্বাস্থ্য খাতে কত রকম দুর্নীতি হয়েছে, দুদক অনেকগুলো মামলাও করেছে। কিন্তু স্বাচিপের কোনো নেতার নাম তো আসেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাইরে এবং মহাপরিচালকের কক্ষের বাইরে লেখা আছে, ‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’। এই দেশে কেউ কি এটা বিশ্বাস করে, সেখানে দুর্নীতি হয় না?

     স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টির কি কোনো জায়গা নেই?

    ইহতেশামুল হক: অবশ্যই আছে। আসলে এখনকার এই পরিস্থিতির কারণে নেতিবাচক বিষয়গুলো সামনে চলে এসেছে। আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা আছে। প্রাইমারি হেলথ কেয়ার আর ইপিআই বিশ্বের নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে। পোলিও নির্মূল হয়েছে। ম্যালেরিয়া প্রায় নির্মূলের পথে। আমরা টিবি ও এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছি। ধনুষ্টংকার, হাম—এগুলো কদাচিৎ দেখা যায়। কমিউনিটি ক্লিনিক আজ বিশ্বের রোল মডেল। মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু হ্রাসে এমডিজির সফল বাস্তবায়নের পর এসডিজির সঠিক লক্ষ্যমাত্রায় চলমান।

    সরকারের কাছে চিকিৎসক সমাজের নেতা হিসেবে আপনার প্রত্যাশা কী?

    ইহতেশামুল হক: করোনা–পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো দুর্নীতি দেখতে চাই না। দুর্নীতির পক্ষে না থাকার কারণে কোনো কর্মকর্তার শাস্তিমূলক বদলি বা ওএসডি দেখতে চাই না। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান চাই। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়াতেই হবে। হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিপুল পরিমাণে জনবল নিয়োগ করে জনগণের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে, এটাই মূল চাওয়া।

  • বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শোক ও সমবেদনা প্রকাশ

    বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শোক ও সমবেদনা প্রকাশ

    বরিশাল জেলা বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এবায়দুল হক চাঁন ভাইয়ের ছোট ভাই জিয়াউল হক নাদের ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন, বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাবের আব্দুল্লাহ সাদী, সহ-সভাপতি এডভোকেট জাহিদুল ইসলাম পান্না, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মাজেদ সিকদার সুজন, সহ সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, আসাদুজ্জামান সজল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, আরিফুর রহমান হেলাল, কোষাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মিঠু আহমেদ, তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক কাওছার হোসেন রহিম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান বাপ্পী, শিশু বিষয়ক সম্পাদক নোমান উর রহমান নোমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক হানিফ হাওলাদার রিয়াজ,সহ শিশু বিষয়ক সম্পাদক মাসুম মৃধা প্রমুখ।। নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।।

  • করোনা ‘নেগেটিভ’ নাসিম

    করোনা ‘নেগেটিভ’ নাসিম

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের দ্বিতীয় দফা করোনা (কোভিড-১৯) পরীক্ষায় ফল ‘নেগেটিভ’ এসেছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তিত হয়নি। ৯ জুন, মঙ্গলবার সকালে তার চিকিৎসকরা এই তথ্য জানান।

    এর আগে গুরুতর অবস্থায় মোহাম্মদ নাসিমের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

    এ বিষয়ে দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার ৮ জুন, সোমবার মোহাম্মদ নাসিমের স্যাম্পল নেয়া হয়েছিল। আজ রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে ওনার অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন তিনি।’

    প্রসঙ্গত, গত ১ জুন জ্বর ও কাশির উপসর্গ নিয়ে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। এরপর পরীক্ষায় তার দেহে করোনা শনাক্ত হন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার সকালে তার ‘ব্রেইন স্ট্রোক হয়। এরপর ওই হাসপাতালেই তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

  • করোনায় আক্রান্ত যশোরের এমপি রনজিত রায়

    করোনায় আক্রান্ত যশোরের এমপি রনজিত রায়

    এবার নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যশোর- ৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) রণজিত কুমার রায়। গতকাল ৮ জুন, সোমবার রাতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে নমুনা পরীক্ষায় তার ফলাফল পজিটিভ এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন করেছেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন।

    তিনি জানান, সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে জিনোম সেন্টার থেকে তাকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে সংসদ সদস্য রনজিৎ কুমার রায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে এমপির পরিবারে খবরটি জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

    এর পরপরই তাকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে উল্লেখ করে সিভিল সার্জন বলেন, ‘সেখানে তার চিকিৎসা চলবে।’

    তিনি আরো জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়। সোমবার সকালে তার নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল।

  • আক্রান্ত মন্ত্রী-এমপিসহ ৬

    আক্রান্ত মন্ত্রী-এমপিসহ ৬

    বাংলাদেশের মন্ত্রী-এমপিসহ মোট ছয়জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। আর ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় দুই নেতা, এমপিদের ঘনিষ্ট কয়েকজন আত্মীয়স্বজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন একজন এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা। মারা গেছেন দলের সাবেক দুই সংসদ সদস্য।

    করোনায় আক্রান্ত সংসদ সদস্যরা হলেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিরাজগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ নাসিম, বান্দরবানের এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ এর এবাদুল করিম বুলবুল, জামালপুর-২ এর ফরিদুল হক খান, চট্টগ্রাম-১৬ এর মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এবং নওগাঁ-২ এর এমপি শহীদুজ্জমান সরকার।

    এছাড়া দলীয় নেতাদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও তার স্ত্রী আসমা কামরান, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মা হাসিনা মহিউদ্দিন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাবেক এমপি হাজী মকবুল হোসেন করোনায় মারা গেছেন এবং বগুড়ার সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদক কামরুন্নাহার পুতুল করোনা উপসর্গে মারা গেছেন।

    নওগাঁ-২ এর এমপি শহীদুজ্জমান সরকার এবং শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বর্তমানে সুস্থ। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে ‘আশঙ্কাজনক’ অবস্থায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি এখনো ‘ডিপ কোমায়’ রয়েছেন। অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা নাসিমের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ভেন্টিলেশন সাপোর্টে প্রথমে ৪৮ ঘণ্টা এবং পরে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া গতকাল জানিয়েছেন, করোনা রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসলে মোহাম্মদ নাসিমকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।

    করোনা আক্রান্ত হয়ে অবনতির দিকে গেলে গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে বিমান বাহিনীর একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার নিয়ে আসা হয়।

    প্রথম করোনা আক্রান্ত হন নওগাঁর শহীদুজ্জামান সরকার। গত ১ মে সাবেক হুইপ শহীদুজ্জামান সরকারের আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। শুরু থেকেই ন্যাম ভবনে নিজের ফ্ল্যাটে ‘আইসোলেশনে’ ছিলেন তিনি। দুই দফা পরীক্ষার পর রিপোর্ট আসে তিনি সংক্রমণমুক্ত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, আমি করোনাভাইরাস থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে এখন স্বাভাবিক কাজ করছি।

    সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে প্রথম আক্রান্ত বীর বাহাদুর উশৈসিং। ৬০ বছর বয়সী বীর বাহাদুর আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার ডায়াবেটিসও রয়েছে। সংসদ সদস্যদের মধ্যে পুরো পরিবারসহ আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তার পরিবারের ছয় সদস্যসহ তার বাড়ির মোট ১১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ রহমান নগর এলাকার বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল জানিয়েছেন। এমপি মোস্তাফিজুর, তার স্ত্রী, তিন মেয়ে, এক নাতনি ও এক জামাতা, তিন গৃহপরিচারিকা ও তার নিজের কভিড-১৯ পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ এসেছে।

    জামালপুরের এমপি ফরিদুল হক খানের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় ৪ জুন। ৬৭ বছর বয়সী ফরিদুল আপাতত জামালপুরে নিজের বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুলের আক্রান্ত হওয়ার খবর আসার পর তার বড় ভাই ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম জানিয়েছেন, নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসার পর থেকে বাসাতেই তার ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে।

    এর বাইরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাসার চারজন কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এদিকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে চট্টগ্রামের আরেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর আক্রান্তের খবর এলেও তিনি জানিয়েছেন, তিনি নমুনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তিনি সুস্থ আছেন। করোনা আক্রান্ত হবার পর সুস্থ হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। কয়েকদিন আগে তার করোনা নেগেটিভ এসেছে। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় আইসোলেসনে রয়েছেন।

  • বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, বরিশাল মহানগর এর  শোক প্রকাশ”

    বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, বরিশাল মহানগর এর শোক প্রকাশ”

    দক্ষিণ বাংলার রাজনৈতিক অভিভাবক, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মাননীয় মন্ত্রী, বরিশাল ১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এর সহধর্মিণী,বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এর মা, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ এর সিনিয়র সহ সভাপতি বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন, (ইন্না-নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)

    মরহুমার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, বরিশাল মহানগর।

    সোমবার বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, বরিশাল মহানগর এর সভাপতি পলাশ চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক সাফিন মাহমুদ তারিক এর সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ শোক প্রকাশ করেন এবং বিদেহী আত্তার মাগফিরাত কামনা করেন।

  • শেরেই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডা. বাকির হোসেন এর শোক প্রকাশ”

    শেরেই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডা. বাকির হোসেন এর শোক প্রকাশ”

    দক্ষিণ বাংলার রাজনৈতিক অভিভাবক, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মাননীয় মন্ত্রী, বরিশাল ১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এর সহধর্মিণী,বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এর মা, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ এর সিনিয়র সহ সভাপতি বেগম সাহান আরা আব্দুল্লাহ হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন, (ইন্না-নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)

    মরহুমার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন বরিশাল শেরেই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডা. মোহাম্মদ বাকির হোসেন।

    বরিশাল শেরেই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডা. মোহাম্মদ বাকির হোসেন তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ বিভিন্ন বার্তায় এ শোক প্রকাশ করেন।

  • সাহান আরা আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুতে শায়েখে চরমোনাই’র শোক

    সাহান আরা আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুতে শায়েখে চরমোনাই’র শোক

    পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়ক, মন্ত্রী ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর স্ত্রী ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মাতা, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতের প্রত্যক্ষদর্শী সাহান আরা আবদুল্লাহ’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও শায়েখে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম।

    এক শোক বিবৃতিতে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।

    মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ৩ ছেলে ও ১ কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সোমবার তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বরিশালে সমাহিত করা হবে।