Category: শিক্ষাঙ্গন

  • আবারো উত্তপ্ত বনমালী গাঙ্গুলী, হল সুপার ও শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

    আবারো উত্তপ্ত বনমালী গাঙ্গুলী, হল সুপার ও শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসের সহকারী সুপার ও বিএম কলেজ শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে হলের ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হলের দেড় শতাধিক ছাত্রী সোমবার রাত ১১টার দিকে হল চত্বরে বিক্ষোভ করে।

    পরে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীদের সাথে আলোচনায় বসেন কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদের নেতারা। কিন্তু সেখানে বসেও শিক্ষক নেতা আব্দুর রহিম ছাত্রীদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ছাত্রী নিবাসে। এসময় তারা শিক্ষক রহিমকে অপসারণের দাবী জানান।

    জানা গেছে, মেয়েদের দিকে কু-নজর, রাত ১১টার পর মেয়েদের রুমে প্রবেশ করা, রাতে টয়লেট থেকে মেয়েদের ডাকা, ছাত্রীদের সাথে আপত্তিকর কথা বলা, ছাত্রীদের সার্চ করার নামে আপত্তিকর স্থানে হাত দেওয়া সহ কলেজ অধ্যক্ষর সাথে বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের আবাসিক ছাত্রীরা ২১টি অভিযোগ করেন সহকারী হল সুপার ও শিক্ষক নেতা আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। বিষয়টি হল সুপার আবু সাদেক মো: শাহ আলমকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি বিষয়টিতে কর্নপাত করেনি। এরপরেই কলেজ অধ্যক্ষ’র কাছে শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ২১টি অভিযোগ তুলে ধরে এর সমাধাণের জন্য ছাত্রীনিবাসের আবাসিক ছাত্রীরা দরখাস্ত প্রদাণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে কলেজ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলামিন সরোয়ার সহ অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন। সেখানে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হওয়ার পর শিক্ষক আব্দুর রহিম উত্তেজিত হয়ে ছাত্রীদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলে ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুনরায় কলেজ অধ্যক্ষ’র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে জানিয়েছেন বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের বেশ কয়েকজন ছাত্রী

    ছাত্রীনিবাসের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার হলের এক ছাত্রীর রুমে প্রবেশ করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা চালায় সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম। এরপরে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামা চাপা দিতে মীমাংসা বৈঠকে সোমবার রাতে ছাত্রীনিবাসে বসেন। সেখানে বসেও কলেজের শিক্ষকরা এই বিষয় কাউকে না বলার জন্য ছাত্রীদের জানান।

    এই বিষয়ে জানতে সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিমকে কল করা হলে তিনি জানান, ছাত্রীরা রুমে রুমে হিটার ব্যবহার করতো। যারা রুমে রুমে রান্না করতো তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে এই অভিযোগগুলো করছেন।

    বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কলেজ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদারকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিএম কলেজের এক ছাত্রলীগ নেতার ভাইয়ের সাথে সু সম্পর্কের কারণেই আব্দুর রহিম বিএম কলেজ শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করেন। আর এই সূত্র ধরেই প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রীনিবাসের সহকারী হল সুপারের দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই তিনি ছাত্রীদের নানা ভাবে উত্যক্ত করে আসছিলো।

    সম্ভবত তিনি ওই ছাত্রলীগ নেতার ভাইর সাথে সু-সম্পর্ক রেখে ছাত্রীনিবাসের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলো মেয়েদের সাথে অপ্রীতিকর সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষে। ওই ছাত্রলীগ নেতার ভাইর সাথে সু-সম্পর্ক থাকায় ছাত্রলীগ নেতার ভয়ে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে এতদিন কেউ মুখ খোলেনি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

  • ছাত্রীকে মারধর করে নগ্ন ছবি তুললেন প্রধান শিক্ষক

    ছাত্রীকে মারধর করে নগ্ন ছবি তুললেন প্রধান শিক্ষক

    অনলাইন ডেস্ক ::

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নির্যাতন করে নগ্ন ছবি তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মন্তাজ আলীকে গ্রেফতার করে রোববার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে শনিবার রাতে কুলাউড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর ফুফু।

    মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ জুলাই ওই ছাত্রীকে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফি প্রদানে বিলম্বের কারণ জানতে চেয়ে অফিস কক্ষে ডেকে নেন প্রধান শিক্ষক মন্তাজ আলী। এ সময় প্রধান শিক্ষক অফিসের দরজা বন্ধ করে বেত দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করলে ছাত্রীর পিঠে ও হাতের বিভিন্ন স্থান ফুলে যায়।

    ঘটনার তিনদিন পর বুধবার স্কুলছাত্রীর পিঠের জখম দেখার কথা বলে পরনের জামা খুলে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন প্রধান শিক্ষক। সেই সঙ্গে মোবাইলে কয়েকটি আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন তিনি। এসব কথা কাউকে না বলার হুমকি দিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, কাউকে কিছু বললে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হবে। পরে বিষয়টি জেনে থানায় মামলা করে ছাত্রীর পরিবার।

    এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আইয়ুর উদ্দিন বলেন, একজন সহকারী শিক্ষা অফিসারকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

  • পবিপ্রবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার

    পবিপ্রবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার

    অর্থ আত্মসাতের মামলায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইউনুছ শরীফকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে পটুয়াখালীর দুমকিবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    দুদক উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৯০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ইউনুছের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের ২১ জুন থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এই টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৭৭(ক) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা হয়েছে।

    দুদক জানায়, সোমবারই ইউনুছের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালীতে মামলা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালীর উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার।

    মামলার এজাহারে ইউনুছের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি প্রকল্পের দরপত্র নিয়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতিতে সর্বস্তরে চালু হচ্ছে জিপিএ-৪

    পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতিতে সর্বস্তরে চালু হচ্ছে জিপিএ-৪

    পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতি সংস্কার করা হচ্ছে। পুরোনো পদ্ধতি জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে নির্ধারণ করা হয়েছে জিপিএ-৪। এতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেএসসি পর্যন্ত একই গ্রেডিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে।

    রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রেড পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

    পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পরিবর্তন কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন নতুন গ্রেড পদ্ধতি উপস্থাপন করেন। এরপর সকলের সম্মতিতে খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়। তবে এ সংক্রান্ত আরও দুই-একটি সভা করা হবে বলে সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন।

    গ্রেড পরিবর্তন প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, জেএসসি-জেডিসি, এসএসসি-সমমান, এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় নম্বরের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ জিপিএ-৪ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ৯০-১০০ পর্যন্ত এ প্লাস জিপিএ-৪, ৮০-৮৯ পর্যন্ত ‘এ’ ৭০-৭৯ বি প্লাস, ৬০-৬৯ ‘বি’ ৫০-৫৯ ‘সি’ প্লাস, ৪০-৪৯ ‘সি’ ৩৩-৩৯ ‘ডি’ এবং শূন্য থেকে ৩২ ‘এফ’ গ্রেড বা ফেল নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন জিপিএ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বহির্বিশ্বের সঙ্গেও সমন্বয় থাকছে।

    তিনি বলেন, সভায় নতুন গ্রেড সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবনা প্রকাশের পর এ নিয়ে উপস্থিত সকলের মতামত চাওয়া হলে সকলে তাতে একমত প্রকাশ করেন। পুরোনো পদ্ধতি জিপিএ-৫ বদলে চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি-জেডিসি) পরীক্ষা থেকে জিপিএ-৪ পদ্ধতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে চলতি বছর নভেম্বরে আয়োজিত জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা থেকে নতুন পদ্ধতি কার্যকর হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ-৪ এর সঙ্গে সমন্বয় করে নিচের স্তরের সকল পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৪ করা হচ্ছে।

    সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটি একটি বড় কর্মযজ্ঞ, তাই এটি চূড়ান্ত করার আগে আরও দুই-একটি সভা করা প্রয়োজন। বিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্রেড পদ্ধতি পরিবর্তন করা হচ্ছে। কোনো পরিবর্তনের ফলে কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে একই গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়টি সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে গ্রেড পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

    তিনি বলেন, অনেক দেশে আমাদের গ্রেডিং পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় না থাকায় শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যায় পড়ে। নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে সে সমস্যার নিরসন হবে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. সৈয়দ গোলাম ফারুক, শিক্ষাবিদ, মাদরাসা অধিদফতরের মহাপরিচালক সফিউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক. মু. জিয়াউল হক, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা প্রমুখ।

  • অবশেষে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করলো বুয়েট

    অবশেষে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করলো বুয়েট

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন অনুষদের অধীনের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবরের ভর্তি পরীক্ষা ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

    রোববার (০৮ সেপ্টেম্বর) বুয়েটের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৭ সেপ্টেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলের ৪৪৭তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন অনুষদের অধীনে বিভিন্ন বিভাগে লেভেল-১, টার্ম-১ এর ভর্তি পরীক্ষা ৫ সেপ্টম্বরের পরিবর্তে আগামী ১৪ সোমবার অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    এতে আরো বলা হয়, পরিবর্তিত তারিখের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ফলাফল ঘোষণার তারিখেও পরিবর্তন আনা হবে।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মেডিকেল ও বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা পরপর দুই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে বিপাকে পড়ে শিক্ষার্থীরা। আগামী ৪ অক্টোবর মেডিকেলের এবং ৫ অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হওয়া এ নিয়ে বিপাকে পড়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এছাড়া দুর্গাপূজার সময়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এবার দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিনে মেডিকেল এবং সপ্তমীর দিনে বুয়েটের পরীক্ষা থাকায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরে গত শনিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করে বুয়েট।

    এর আগে, ৫ অক্টোবর বুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ জন্য অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ ও জমা নেওয়া শুরু হয়েছে গত ৩১ আগস্ট থেকে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনপত্র পূরণ ও জমা দেওয়া যাবে বলে জানানো হয়।

  • ২০২০ সাল থেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

    ২০২০ সাল থেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

    দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০ সাল থেকেই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে সংসদকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

    রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হারুনুর রশীদের এক মৌখিক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার ড, শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

    মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে সরকার কর্তৃক দেশের পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করার কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি শিক্ষা প্রাধান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা যায়, ২০২০ সাল হতে সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাংক ড্রাফট বিষয়ে করা নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে গ্রহণীয় অর্থ মওকুফ করার কোনও পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই।

  • বরিশালে কলেজ অধ্যক্ষের নারী কেলেঙ্কারি ফাঁস

    বরিশালে কলেজ অধ্যক্ষের নারী কেলেঙ্কারি ফাঁস

    নিজস্ব প্রতিবেদক :

    বরিশালে নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগে বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারি সৈয়দ বজলুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মিজানুল ইসলাম মুকুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতদিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জবাব চেয়েছে কলেজের গভর্নিং বডি।

    গত শনিবার দুপুরে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানার সভাপতিত্বে গভর্নিং বডির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, নারী কেলেঙ্কারি ছাড়াও অধ্যক্ষ কাজী মিজানুল ইসলাম মুকুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ ২১টি অভিযোগ রয়েছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি তাকে তিন দফা শোকজ নোটিশ দেয়া হয়।

    এসবের কোনো জবাব না দেয়ায় তাকে বরখাস্ত করে অভিযোগের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

  • স্কুলে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন বহন নিষিদ্ধ

    স্কুলে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন বহন নিষিদ্ধ

    অনলাইন ডেস্ক :

    ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলে স্মার্টফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে খুলনায়।

    রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে খুলনা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সেপ্টেম্বর মাসের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    এ নিয়ে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাইবার অপরাধের একটি বড় মাধ্যম হলো স্মার্টফোন। তাই ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলে স্মার্টফোন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    এছাড়াও জেলার অপরাধ দমনে বেশকিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় সভায়। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গণধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধে কোনো শালিস বিচার করা যাবে না। এক্ষেত্রে ৯৯৯ এ ফোন করে আইনগত সহায়তা নিতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।

    একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে স্কুলে সমাবেশে এবং মসজিদগুলোতে খুতবার সময় মাদকাসক্তির কুফল নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এছাড়াও মাদকের মামলার আসামিরা যেন সহজে জামিন না পায় সে দিকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে।

  • বরগুনায় একসঙ্গে ৩ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, শিক্ষকের পা ধরে কান্না

    বরগুনায় একসঙ্গে ৩ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, শিক্ষকের পা ধরে কান্না

    বরগুনা প্রতিনিধি ::

    বরগুনার বামনা উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া তিন ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দুই স্কুল শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উত্তর রামনা গ্রামের খলিলুর রহমান খানের ছেলে ও রামনা শের-ই বাংলা সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মিলন খান (১৬) এবং একই গ্রামে খালেক হাওলাদারের ছেলে ও হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম (ভোকেশনাল) শ্রেণির ছাত্র সুজন হাওলাদার (১৬)।

    এ ঘটনায় শনিবার রাতে নির্যাতিত এক ছাত্রীর অভিভাবক বাদী হয়ে বামনা থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন।

    শনিবার সকাল নয়টা দিকে উপজেলার রামনা লঞ্চঘাট এলাকার সিকদার বাড়ীর একটি পরিত্যক্ত বাড়ীতে একই বিদ্যালয়ের তিন স্কুল ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে আটকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই দুই স্কুল ছাত্র ।

    স্কুল ছাত্রীরা জানায়, তারা তিনজনে মিলে গোপনে একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো। এ ঘটনাটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মিলন খান জানতে পারে। পরে বিষয়টি মিলন খান তার বন্ধু সুজন হাওলাদারকে জানায়। তারা গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ছুটির পরে ওই ছাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। ওই ফোনটি ফিরে পেতে মিলন ও তার সহযোগী সুজন ছাত্রীদের কাছে এক হাজার টাকা দাবী করেন।

    ছাত্রীরা ওই টাকা দিতে রাজি হলে তাদেরকে টাকা নিয়ে রামনা লঞ্চঘাট এলাকার সিকদার বাড়ীর একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে আসতে বলে। ছাত্রীরা তাদের মোবাইল ফোন ফেরত পেতে শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেখানে যায়। সেখানে ওৎ পেতে থাকা মিলন ও সুজন তাদের কাছ থেকে দাবীকৃত টাকা নিয়ে তাদেরকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ছাত্রীরা সংখ্যায় তিনজন হওয়ায় তারা ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হন।

    ছাত্রীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, ওরা ধর্ষণ করতে না পারলেও আমাদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় ও তাদের ফোন দিয়ে কয়েকটি ছবি তোলে। এই ঘটনাটি কাউকে জানালে ওই ছবি বিকৃত করে ইন্টারনেটে প্রকাশ দেওয়া হুমকিও দেয় বখাটেরা। পরে আমরা সেখান থেকে পালিয়ে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কাজে বিষয়টি জানাই।

    বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম জানায়, তিনি বিদ্যালয়ে আসলে তিন শিক্ষার্থী এসে তার পা ধরে কান্নাকাটি করে। পরে তাদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে ঘটনার সাথে জড়িত দশম শ্রেণির ছাত্র মিলন খানকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে আটক করে এবং বামনা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

    বামনা থানা পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত ওই স্কুল ছাত্র মিলন খানকে বিদ্যালয় থেকে গ্রেফতার করে। অপর অভিযুক্ত সুজন হাওলাদার পালিয়ে যাওয়ার সময় রামনা খেয়াঘাট থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীরা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

    বামনা থানার ওসি এসএম মাসুদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে পুলিশ তাৎক্ষনিক গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রীদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার গ্রেপ্তারকৃতদের বরগুনা আদালতে সোপর্দ করা হবে।

  • বরগুনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকই ভয়ের কারণ ছাত্রীদের!

    বরগুনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকই ভয়ের কারণ ছাত্রীদের!

    বরগুনা প্রতিনিধি:   

    এ পর্যন্ত যতগুলো স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেছেন, প্রায় প্রতিটি স্কুল থেকেই তার বিরুদ্ধে উঠেছে যৌন হয়রানির অভিযোগ। বরগুনার একটি স্কুলের ছাত্রীরা এখনও তাকে নিয়ে বিপদে।

    বর্তমানে তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের নুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। ইতোমধ্যে ওই স্কুলের অন্তত ২০ জন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে আবদুল হালিম নামের বিরুদ্ধে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ।

    এমন অভিযোগ ওঠার পরও তিনি ওই স্কুলেই স্বপদে বহাল থাকায় অভিযোগকারীসহ অনেক ছাত্রীই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। অভিভাবকরাও ছাত্রীদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না।

    গত ২৮ জুলাই এক ছাত্রীর মা এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে পাথরঘাটার উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

    অভিযোগের সূত্র ধরে নূরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বৃহস্পতিবার কথা হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে। ৫ম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রী জানান, প্রধান শিক্ষক নানা অজুহাতে তাদের গায়ে হাত দেন এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলেন। প্রতিদিনই তিনি কাউকে না কাউকে লাইব্রেরিতে ডেকে নেন। কোচিং-প্রাইভেট পড়ানো কালেও চলে তার অসভ্যতা। অন্তত ২০জন ছাত্রী তার এমন বাজে আচরণের শিকার হয়েছে। আর এসব জানাজানি হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক নিজে ও তার অনুগত ডলি রাণী নামের একজন শিক্ষককে দিয়ে ছাত্রীদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও জানান তারা।

    এইদিন দুপুর সাড়ে বারটার দিকে ডলি রানী নামের ওই শিক্ষককে স্কুলে পাওয়া যায়নি। বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষক হাজিরা খাতায় দেখা যায়, ডলি রাণীর আগমন সকাল ৯টায় থাকলেও ৪.৩০ মিনিট লিখে ওইদিন তিনি ছুটির আগেই স্কুল ত্যাগ করেছেন। অথচ নিয়মানুসারে বৃহস্পতিবার ২.৩০ মিনিটে স্কুল ছুটির কথা। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাচ্চা অসুস্থ থাকায় ছুটির আগেই তিনি প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে চলে এসেছেন।

    একজন নারী অভিভাবক বলেন, ‘আমার নাতনী আমার কাছে থেকে লেখাপড়া করে, ওর বাবা মা চট্টগ্রামে থাকে। একদিন নাতনী স্কুল থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে আসে। জানতে চাইলে আমার নাতনী বলে, হেডমাস্টার স্যার আমার গায়ে হাত দিয়েছে। পরে বিষয়টি আমি ওই স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষককে জানাই। পরের দিন নাতনী স্কুলে গেলে প্রধান শিক্ষক নাতনীসহ অন্যদের লাইব্রেরিতে ডেকে কথা কাউকে বললে পিটিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার ভয় দেখান।

    ওই বিদ্যালয়ের পিটিআই সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানার পর প্রধান শিক্ষক হালিমের সাথে কথা বলি। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তিনি আমার হাতে পায়ে ধরেন। টাকার প্রলোভনও দেখান। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের কারণে অভিভাবকদের অনেকেই বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না, বাচ্চারাও স্কুলে আসতে চায়না, আমরা বুঝিয়ে শুনিয়ে তাদের স্কুলে আনার চেষ্টা করছি।’

    নুরুল ইসলাম ধলু, আহমেদ মোল্লা, বাদশা মিয়াসহ কয়েকজন অভিভাবক বললেন, ‘হেড মাস্টার সাহেবের স্বভাব চরিত্র ভালো নয়। এর আগেও তিনি যে সব স্কুলে ছিলেন সেখানেও একই ধরণের অভিযোগ ওঠায় থাকতে পারেননি’।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগে ৭০ নং হরিদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাথরঘাটা মডেল, পাথরঘাটা আদর্শ,বাদুরতলা, টেংরা, গাববাড়িায় ও পূর্ব ঘুটাবাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ওই সব স্কুলে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ও পূর্ব কালীবাড়ি হাসানিয়া, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন সময়ে যৌন হয়রাণীর অভিযোগ ওঠায় তিনি বদলি হয়ে বর্তমান স্কুলে আসেন।

    নূরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রিয়াজ উদ্দীনের এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার দুপুরে তিনি মুঠোফানে বলেন, অভিভাবকদের অভিযোগের ব্যাপারটি উর্ধতন কর্তপক্ষ তদন্ত করছেন। তার (প্রধান শিক্ষক) বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) মিজানুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেই। তদন্তে হালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমি (বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তা) স্যারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেছি।’