









পবিপ্রবি প্রতিনিধি//মো: ইমরান:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের( বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাস) এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ কে স্বতন্ত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর দাবীর আলোকে ও ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক বিষয়াবলি নিয়ে সৌজন্যে সাক্ষাতে আসেন বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস ফারজানা ওহাব, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ সদস্য সহ বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের প্রশাসনের আমন্ত্রণে বুধবার (১১ ই সেপ্টেম্বর) বেলা ৪ টায় ক্যাম্পাসে আসেন উক্ত নেতৃবৃন্দ। এসময় এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন এর প্রশাসন এর উদ্যোগে আগত নেতৃবৃন্দ নিয়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি ও ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অত্র অনুষদের ডিন জনাব ড. মোঃ মামুনুর রশিদ সহ অনুষদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকবৃন্দ।

: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অবস্থিত বরগুনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে । ১২ই সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাবেক সাধারন সম্পাদক আল-নাঈম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন কমিটিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ রাসেল মিয়াকে সভাপতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান দোলন কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা হলেন, সহ-সভাপতি আলামিন ইমন, রুবেল মিয়া, সাইফুল ইসলাম রাকিব, রেজাউল করিম, তাইফুর রহমান (তুহিন)।যুগ্ম-সাঃ সম্পাদক-মীর ইসরাত সৈকত, আব্রাহাম, দ্বিলীপ কুমার রুদ্র ও মেহেদী হাসান।সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন প্রদীপ কান্তী বেপারী,মুজাহিদুল ইসলাম সাগর,মাসুদরানা ও শেখর হালদার।এছাড়াও দপ্তর সম্পাদক তাজুল ইসলামসহ আরো অনেকে নেতৃত্বে আছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. নজরুল ইসলাম তামিজী ১৭ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির ববি শাখার সভাপতি হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সৈয়দ মুস্তাকিম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের খাজা আহমেদ কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ওবায়দুর রহমানকে।
কমিটির অনান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মো. শোভন মিয়া , জিএন নওরিন, সুমাইয়া আখতার তারিন, মো. ওবায়দুল্লা ও মো. রিয়াজুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক সাইমা অনন্যা , অর্থ সম্পাদক আবুল আসাদ, প্রচার সম্পাদক ইকবাল হাসান, নির্বাহী সদস্য নাজমুস সাকিব, রাবেয়া আক্তার ও মন্জুরুল ইসলাম।
কমিটিতে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে হাফিজুর রহমান ও মো. রাসেল ঘরামী কে রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষা কার্যক্রম বর্জনসহ প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এন্ড এ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের শিক্ষার্থীদের তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস এবং পরীক্ষা কার্যক্রম বর্জন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষার্থীরা পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে একত্র হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। শিক্ষার্থীদের দাবি না মানা পর্যন্ত তারা এই বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে এবং আগমী সাতদিনের মাধ্যে তাদের দাবি না মানলে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় আন্দলন গত শীক্ষার্থীরা।
বর্তমান বি,এসসি (অনার্স) ইন এলএমএ ডিগ্রির পরিবর্তে আইনের এলএল.বি অনার্স ডিগ্রি প্রদানের দাবি জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর গত ৫ সেপ্টেম্বর তারিখে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। এবং এই দাবিতে আজ পর্যন্ত তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে আসছে।
তারা আর জানায়, বর্তমান. বি.এসসি (অনার্স) ডিগ্রির পরিবর্তে আইনের এলএল.বি (অনার্স) ডিগ্রি না দেয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সকাল ধরনের কার্যক্রম বর্জন করার হুমকি দিয়েছে।
তাদের দাবি হলো, বাংলাদেশে অন্য তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এন্ড এ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের বর্তমান বি.এসসি (অনার্স) ডিগ্রির পরিবর্তে আইনের এলএল.বি (অনার্স) ডিগ্রি প্রদান করে তার অধীনে ক্লাশ এবং পরীক্ষা কার্যক্রম আরম্ভ করার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা, যদি তাদের এই দাবি না মানা হয় তা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া শিক্ষার্থীরা।

দফতরিকে দিয়ে চুল কেটে দেয়ায় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ২৯ নং ডিএম খালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাদেরী গোপকে সাময়িক বরাখাস্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক ইফতেখার হোসেন ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয় বলে জানায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য গেল বৃহস্পতিবার ২৯ নং ডিএম খালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে ৫ম শ্রেণির ১১ ছাত্রী চুল কেটে দেয় ওই বিদ্যালয়ের দফতরি। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর শিক্ষা অফিস এ ঘটনার তদন্ত করে এবং এর প্রমাণও পায়। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে উপ পরিচালক বরাবর পাঠিয়ে দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন,অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়ীক বরখাস্তের আদেশের একটি চিঠি বুধবার পেয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভেদরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সরকারি বিএম কলেজের ছাত্রাবাসে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক হিটারে রান্না করতে গিয়ে সম্প্রতি বিদ্যুতপৃষ্ঠ হয়ে মারা যায় মানিক নামে এক মেধাবী ছাত্র। এরপর থেকেই হোষ্টেল কর্তৃপক্ষ বৈদ্যুতিক হিটারের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে যায়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কলেজের ছাত্রাবাসগুলোতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বৈদ্যুতিক হিটার ধ্বংস করতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক হিটার ধ্বংস করা হয়।
এছাড়া সাধারন ছাত্রীদের অভিযোগ ছিল-ছাত্রী নিবাসের কয়েকজন নেত্রী ডাইনিং এ ফ্রি খাচ্ছেন। এসব নেত্রীরা ডাইনিং এ না এসে রুমে খাবার নিয়ে তাদের সহযোগীদেরও ফ্রি খাওয়াচ্ছেন। নেত্রীদের ফ্রি খাওয়া বন্ধে রুমে খাবার নেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া সন্ধার পরে ছাত্রী নিবাসের বাইরে আসা-যাওয়ার ও গভীর রাতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে হলে প্রশাসন।
হলে ফ্রি খাওয়া বন্ধ, বৈদ্যুতিক হিটার ধ্বংস এবং রাতে নির্ধারিত সময়ের পরে হালের বাইরে যাওয়া-আসায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় হোস্টেল সুপার ও সহাকারী সুপার উপর নাখোস হয় কতিপয় নেত্রী। অবৈধ সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে এসব কতিপয় নেত্রী তাদের কিছু সহযোগী নিয়ে হলে সহকারী সুপারের বিরুদ্ধে কলেজ প্রশাসনের কাছে নানা অভিযোগ করে। অভিযোগ করে আবার ছাত্রী নিবাসে বিক্ষোভও প্রদর্শন করে। ছাত্রী নিবাস সূত্রে জানা যায়, কলেজের নব্য এক ছাত্রলীগ নেতা ও এক শিক্ষকের ইন্ধনে এসব নেত্রীরা তাদের সহযোগীদেও নিয়ে আন্দোলন করে কলেজ প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখতে চায়। তবে কলেজ প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছেন-সাধারন ছাত্রীদের অধিকার রক্ষায় এসব কতিপয় অবৈধ সুবিধাভুগীদের বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ বিগত সময়ের মতো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসের সহকারী সুপার ও বিএম কলেজ শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম সরদার জানান, ছাত্রীদের জীবন রক্ষায় বৈদ্যুতিক হিটার ধ্বংস, ডাইনিং থেকে খাবার রুমে নেয়া বন্ধ এবং রাতে নির্ধারিত সময়ের পর ছাত্রী নিবাসে আসা-যাওয়ায় উপর কড়াকড়ি আরোপ করায় কিছু অবৈধ সুবিধাভুগী নাখোশ হয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষেও নিয়ম বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় একটি দুষ্টু চক্রের ইন্ধনে কিছু ছাত্রী উত্তেজিত হয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছে। এসব অভিযোগ অমূলক।
হল সুপার আবু সাদেক মো: শাহ আলম হাওলাদার বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চেস্টা করে যাচ্ছি। ডাইনিং এর পরিবেশ সুন্দর রাখতে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। আর এতে অনিয়মে অভ্যস্থ কিছু ছাত্রীর সমস্যা হতে পারে। সে কারনে হয়তো তারা এমন অভিযোগ তুলেছে। তদন্ত করলে সঠিক তথ্য বেড়িয়ে আসবে।
উল্লেখ্য-বিগত সময়ে ছাত্রী নিবাসের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে নৈতিক স্খলনজনিত কারনে নেত্রী পুতুলসহ অনেককে হল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তবে সাধারন ছাত্রীদের অভিযোগের কারনে এসব নেত্রীদের বিরুদ্ধে আবাররও কঠোর অবস্থান নিয়েছে হল প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ (বিএম) এর বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসের সহকারী হল সুপার ও কলেজের শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহিম সরদারের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানীসহ ২১ অভিযোগের প্রেক্ষিতে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
পাশাপাশি শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সকল মিথ্যা বলে বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসের আরেক দল ছাত্রী অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার তারা এই অভিযোগ প্রদান করেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই পৃথক দুইটি অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কলেজের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপিকা কল্পনা রানী নাগকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কলেজ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদারকে কল করা হলে তিনি জানান, ছাত্রীদের পক্ষ থেকে দুইটি পৃথক অভিযোগ পেয়েছি। এই দুইটি অভিযোগ শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে। একটি অভিযোগে শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে এবং অপরটি পক্ষে। বিপক্ষের অভিযোগটি আগে পাওয়া গেলেও আব্দুর রহিমের পক্ষে এক গ্রুপ শিক্ষার্থী লিখিত দিয়েছে যে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে তা সত্য নয়। তারা উল্লেখ করেছেন হিটার যারা হলে ব্যবহার করতো তারাই এই অভিযোগগুলো করেছে।
এই উভয় অভিযোগ তদন্তে কলেজের অধ্যাপিকা কল্পনা রানী নাগকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে এই বিষয়ে দ্রুত কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্তের যে দোষী সাব্যস্ত হবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাস একটি শৃঙ্খলার মধ্যে যাতে চলতে পারে তার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান কলেজ অধ্যক্ষ।

বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের সহকারী সুপার ও বিএম কলেজ শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে হলের ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হলের দেড়শতাধিক ছাত্রী সোমবার রাত ১১টার দিকে হল চত্বরে বিক্ষোভ করে।
পরে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীদের সাথে আলোচনায় বসেন কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদের নেতারা। কিন্তু সেখানে বসেও শিক্ষক নেতা আব্দুর রহিম ছাত্রীদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ছাত্রী নিবাসে। এসময় তারা শিক্ষক রহিমকে অপসারণের দাবী জানান।
জানা গেছে, মেয়েদের দিকে কু-নজর, রাত ১১টার পর মেয়েদের রুমে প্রবেশ করা, রাতে টয়লেট থেকে মেয়েদের ডাকা, ছাত্রীদের সাথে আপত্তিকর কথা বলা, ছাত্রীদের সার্চ করার নামে আপত্তিকর স্থানে হাত দেওয়া সহ কলেজ অধ্যক্ষর সাথে বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের আবাসিক ছাত্রীরা ২১টি অভিযোগ করেন সহকারী হল সুপার ও শিক্ষক নেতা আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। বিষয়টি হল সুপার আবু সাদেক মো: শাহ আলমকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি বিষয়টিতে কর্নপাত করেনি। এরপরেই কলেজ অধ্যক্ষ’র কাছে শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ২১টি অভিযোগ তুলে ধরে এর সমাধাণের জন্য ছাত্রীনিবাসের আবাসিক ছাত্রীরা দরখাস্ত প্রদাণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে কলেজ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলামিন সরোয়ার সহ অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন। সেখানে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হওয়ার পর শিক্ষক আব্দুর রহিম উত্তেজিত হয়ে ছাত্রীদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলে ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুনরায় কলেজ অধ্যক্ষ’র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে জানিয়েছেন বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের বেশ কয়েকজন ছাত্রী।
ছাত্রীনিবাসের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার হলের এক ছাত্রীর রুমে প্রবেশ করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা চালায় সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম। এরপরে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামা চাপা দিতে মীমাংসা বৈঠকে সোমবার রাতে ছাত্রীনিবাসে বসেন। সেখানে বসেও কলেজের শিক্ষকরা এই বিষয় কাউকে না বলার জন্য ছাত্রীদের জানান।
এই বিষয়ে জানতে সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিমকে কল করা হলে তিনি জানান, ছাত্রীরা রুমে রুমে হিটার ব্যবহার করতো। যারা রুমে রুমে রান্না করতো তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে এই অভিযোগগুলো করছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কলেজ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদারকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিএম কলেজের এক ছাত্রলীগ নেতার ভাইয়ের সাথে সু সম্পর্কের কারণেই আব্দুর রহিম বিএম কলেজ শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করেন। আর এই সূত্র ধরেই প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রীনিবাসের সহকারী হল সুপারের দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই তিনি ছাত্রীদের নানা ভাবে উত্যক্ত করে আসছিলো। সম্ভবত তিনি ওই ছাত্রলীগ নেতার ভাইর সাথে সু সম্পর্ক রেখে ছাত্রীনিবাসের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলো মেয়েদের সাথে অপ্রীতিকর সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষে। ওই ছাত্রলীগ নেতার ভাইর সাথে সু সম্পর্ক থাকায় ছাত্রলীগ নেতার ভয়ে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে এতদিন কেউ মুখ খোলেনি বলে দাবী শিক্ষার্থীদের।