Category: শিক্ষাঙ্গন

  • ৩ ছাত্রীকে একসঙ্গে ধর্ষণের চেষ্টা, শিক্ষকের পা ধরে কান্না

    ৩ ছাত্রীকে একসঙ্গে ধর্ষণের চেষ্টা, শিক্ষকের পা ধরে কান্না

    অনলাইন ডেস্ক :

    বরগুনায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে দুই স্কুলছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে বামনা উপজেলার রামনা লঞ্চঘাট এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে তিন স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    এরা হলো- উপজেলার উত্তর রামনা গ্রামের বাসিন্দা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৬) এবং একই গ্রামের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় শনিবার রাতে নির্যাতিত এক ছাত্রীর অভিভাবক বাদী হয়ে বামনা থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন।

    মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, অভিভাবকদের অজান্তে গোপনে একটি মোবাইল ব্যবহার করতো তিন স্কুলছাত্রী। তাদের মোবাইল ব্যববহারের বিষয়টি জানতে পারে একই বিদ্যালয়ের এক ছাত্র। এরপর বিষয়টি তার বন্ধুকে জানায় সে।

    পরে দুই বন্ধু মিলে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ছুটির পর ওই ছাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয়। মোবাইলটি ফিরে পেতে ছাত্রীদের কাছে এক হাজার টাকা দাবি করে তারা।

    ছাত্রীরা ওই টাকা দিতে রাজি হলে তাদেরকে টাকা নিয়ে রামনা লঞ্চঘাট এলাকার শিকদার বাড়ির একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে আসতে বলা হয়। ছাত্রীরা তাদের মোবাইল আনতে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে যায়।

    সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা দুই বন্ধু ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ছাত্রীরা সংখ্যায় তিনজন হওয়ায় ধর্ষণের হাত থেকে বেঁচে যায়।

    মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রীদের মারধর করে তাদের ফোনে ছবি তুলে রাখে; সেই সঙ্গে ঘটনা কাউকে জানালে ওই ছবি বিকৃত করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় দুই বন্ধু। পরে নির্যাতিত তিন ছাত্রী স্কুলে এসে ঘটনাটি শিক্ষকদের জানায়।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, আমি বিদ্যালয়ে আসার পর তিন শিক্ষার্থী আমার পা ধরে কান্নাকাটি শুরু করে। পরে তাদের কান্নার কারণ জানতে চাইলে ঘটনা খুলে বলে। বিষয়টি জেনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দশম শ্রেণির ছাত্রকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে আটক করি। পরে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। বামনা থানা পুলিশ বিদ্যালয়ে এসে অভিযুক্ত ওই ছাত্রকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। অপর অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার সময় রামনা খেয়াঘাট থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে দেয়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বামনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রীদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। রোববার সকালে গ্রেফতারকৃতদের বরগুনা আদালতে পাঠানো হবে।

  • এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে না প্রেসে

    এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে না প্রেসে

    অনলাইন ডেস্ক:

    # কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বল্পসময়ে প্রশ্নপত্র তৈরি হবে

    # প্রশ্নপত্র প্রিন্ট দেয়ার সময় হাতেগোনা চার-পাঁচ জন থাকবেন

    # যত পরীক্ষার্থী তত সেট প্রশ্ন প্রিন্ট হবে

    # প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র হবে ভিন্ন ভিন্ন

    এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এখন থেকে আর প্রেসে ছাপা হবে না। কম্পিউটারে বিশেষ ধরনের সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও প্রিন্ট দেয়ার সময় বাইরের কোনো লোক থাকবে না।

    শুধু প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কমিটির হাতেগোনা চার-পাঁচজন লোক সে সময় উপস্থিত থাকবেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আবেদনকারীর প্রত্যেকের জন্য এক সেট করে প্রশ্ন প্রণয়ন করা হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর প্রশ্ন হবে ভিন্ন। ১০০টি প্রশ্ন থাকলেও কোন প্রশ্ন যে কোথায় বা কত নম্বরে থাকবে তা কোনো পরীক্ষার্থী বুঝতে পারবে না।

    আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এমবিবিএস প্রথম বর্ষের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গ্রহণের জন্য প্রেসে প্রশ্নপত্র না ছাপানোসহ সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, প্রশ্নপত্র প্রেসে ছাপানোর বদলে কম্পিউটারের বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরি ও প্রিন্ট দেয়ার বিষয়টি এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় এবার প্রথম হলেও তারা ইতোমধ্যে ডেন্টাল, মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) ভর্তি পরীক্ষায় এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে সফলতা এসেছে।

    গত বছর এমবিবিএস পরীক্ষা এ পদ্ধতি প্রবর্তনের কথা থাকলেও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রেসেই প্রশ্নপত্র ছাপা হয়।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসে প্রশ্নপত্র ছাপা হলে বাইরের কমপক্ষে ১০-১৫ জন লোক প্রশ্নপত্র ছাপা, বাঁধাই ও সেলাইয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন।

    সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা সত্ত্বেও তাদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। এ সব কারণেই আমরা প্রেসের বদলে কম্পিউটার সফটওয়্যারে প্রশ্নপত্র ছাপানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

    প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ছাপা হবে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, আগে প্রতি বছর চার সেট প্রশ্ন প্রণয়ন করা হতো। চার সেট প্রশ্ন ভিন্ন হলেও যেকোনো একটি সেটের প্রশ্ন ও উত্তর একই হতো।

    কিন্তু এ বছর যতসংখ্যক পরীক্ষার্থী তত সেট প্রশ্ন ছাপা হবে। ১০০টি প্রশ্ন একই থাকলেও এক পরীক্ষার্থীর ১ নম্বর প্রশ্ন অন্য পরীক্ষার্থীর ৯৯ নম্বরে থাকতে পারে। বিশেষ ধরনের সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশ্ন প্রণয়ন হবে।

    আগামী ৪ অক্টোবর দেশের ১৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাধারণ জ্ঞানে ১০ নম্বর থাকবে।

    এ ভর্তি পরীক্ষার জন্য গত ২৭ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। আবেদন গ্রহণ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনকারীর সংখ্যা ৬১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

    পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের জন্য ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে সব ধরনের মেডিকেল কোচিং সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত বিশেষ বার্তায় বলা হয়, শতভাগ স্বচ্ছতা, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ। সুষ্ঠু পরীক্ষা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল সজাগ রয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও তৎপর। প্রতারকচক্রের অনৈতিক প্রলোভনে সাড়া না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।

    পরীক্ষার দিন অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীকে সকাল সাড়ে ৯টার আগে কেন্দ্রে প্রবেশপত্র এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষার প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং রিফিল দেখা যায় এমন কালো বলপেনসহ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে।

    সাড়ে ৯টার পর কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না এবং ঘড়ি ও মোবাইলসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    ওই বার্তায়, প্রতারকচক্রের কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুমের টেলিফোন নম্বর (০২-৯৮৫৫৯৩৩) ও মোবাইল নম্বরে (০১৭৫৯-১১৪৪৮৮ এবং ০১৭৬৯-৯৫৪১৩৭) এবং নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

    এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার্থীদের গুজবে বিশ্বাস না করে, প্রতারণার জালে পা না দিয়ে নিবিড়ভাবে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করে নিজ যোগ্যতা প্রদর্শনের জন্য উপদেশ দেয়া হয়েছে।

    প্রেসে প্রশ্ন ছাপার বদলে কম্পিউটারে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণীত হবে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রেসে প্রশ্ন না ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দেখা গেছে, অধিকতর স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে অল্প সময়ে প্রশ্নপত্র ছাপা যাবে। প্রশ্নপত্রও হবে ভিন্ন ভিন্ন। খুব বড় কোনো জটিলতা না দেখা দিলে এবার এমবিবিএসের প্রশ্ন প্রেসে ছাপা হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • বরিশাল জম জম ইনিস্টিটিউটের ছাত্রদের গ্রেফতারের প্রতিবাদসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

    বরিশাল জম জম ইনিস্টিটিউটের ছাত্রদের গ্রেফতারের প্রতিবাদসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::
    বরিশাল জম জম আই এইচটি ছাত্রদের ৫ দফা দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধ করেছে নার্সিং ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। জম জম আই এইচটি ও নার্সিং ইনিস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ও এমডি’র সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডসহ ছাত্রদের উপর নির্যাতন ও গ্রেফতারে নিন্দা এবং বিচারের দাবিতে মানববন্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শুক্রবার বিকেল ৩ টার দিকে হাতেম আলী কলেজ চৌমাথায় এ মানববন্ধ করেন।
    এসময় মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, অন্যায়ভাবে আমাদের নির্যাতন ও গ্রেফতার, থানায় মিথ্যা অভিযোগ ও সাময়িক বহিষ্কারাদেশ  প্রত্যাহার, স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগসহ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতেহবে। চেয়ারম্যান ও এমডির (বাবা+ পুত্র) সরকার বিরোধী সাম্প্রদায়িক (জামাতি) কার্যক্রম বন্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরন, শ্রেণি কক্ষের সংকট নিরসনসহ ব্যাবহারিক উপকরন নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি জানান।
    এসময় আরো বলেন, দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাশ-পরীক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দিয়েছে তারা।
  • ববিতে রোহিঙ্গা সংকট শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

    ববিতে রোহিঙ্গা সংকট শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি)“রোহিঙ্গা সংকট: ঐতিহাসিক শেকড় সন্ধান ও সমকালীন বাস্তবতা”শীর্ষক সেমিনারঅনুষ্ঠিত হয়েছে । বৃহষ্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স কমপ্লেক্সেবিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ও জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ মুহসিন উদ্দীন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, শিক্ষকমন্ডলীসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে শুরুতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত ) অধ্যাপক ড.এ কে এম মাহবুব হাসান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বলেন,বর্তমান রোহিঙ্গা সমস্যা একটি বড় সমস্যা যা দেশের অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে এবং এই সমস্যা নিরোসন করতে না পারলে দেশের ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে ।বর্তমান সরকার এই রোহিঙ্গা সমস্যা নিরোসন করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যা প্রশংসার দাবিদার।

    প্রধান বক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড.মেসবাহ কামাল বলেন,রোহিঙ্গা সমস্যা পৃথিবীর একটি বড় সমস্যা।কারণ ১৮লক্ষ রোহিঙ্গা বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান তার মধ্যে বাংলাদেশে ১১-১২ লক্ষ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।রোহিঙ্গারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের যে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিলো মায়ানমারে, সেটি পরে প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে বিতাড়িত করার জন্য হত্যা,ধর্ষণ,ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন নির্যাতন করে আসছে। তিনি আরও বলেন,মায়ানমার সরকারের উদ্দেশ্য সংখ্যালঘু (অধিকাংশ মুসলিম) রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করে ভূমি দখল করা। পাকিস্তান যেমন আমাদের উপর খুন,ধর্ষণ ও নির্যাতন চালাতো তারা ভূমি দখল করার জন্য ঠিক তেমনি রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন করেছে।তিনি বলেন একটি দেশে নানা জাতি,ধর্মের মানুষ বসবাস করতেই পারে তাতে সাম্প্রদায়িকতার স্থান দেওয়া ঠিক না,অসম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।তিনি সকল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সকল সমস্যা নিরোসন করার জন্য ছাত্রদের গবেষণা ও সচেতন হতে হবে তাহলে সমস্যার সমাধান করার প্রত্যয় গ্রহণ করা যাবে। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড.মুহাম্মদ মুহাসিন উদ্দীন,ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হাবিবুল্লাহ মিলন ও সুরাইয়া আক্তারসহ প্রমুখ।

    সেমিনারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মৃত্তিকা কামাল নির্মিত “Escape” এবং “Home Away from Home” ও উজান রহমান নির্মিত ‘‘Arson, Rape”, “Brutal Murders” ডকুমেন্টারিসমূহ প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের প্রভাষক সুরাইয়া আক্তার ।

  • কলাপাড়ায় কোচিং বানিজ্য বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান শুরু

    কলাপাড়ায় কোচিং বানিজ্য বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান শুরু

    কলাপাড়া প্রতিনিধি:

    শিক্ষা ব্যবস্থায় ’কোচিং’ বন্ধে তৈরী করা নীতিমালা বৈধ বলে মহামান্য হাইকোর্ট রায় দেয়ার পরও পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নীতি মালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শহরের অলি গলিতে অবাধে চলছে একাধিক কোচিং সেন্টার। সরকারের দেয়া সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও কোচিংবাজ এসব শিক্ষকরা তাদের নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে যত্নবান না থেকে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন নিজেদের পরিচালিত প্রাইভেট টিউশনে ও কোচিং সেন্টারে যেতে। শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে কোচিংবাজ এসব শিক্ষকরা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও এদের বিরুদ্ধে এতদিন কোন পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    এরপর দেরীতে হলেও এসব কোচিং বন্ধে অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে কোচিং বানিজ্য বন্ধে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ইউএনও, শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং কমিটি থাকার পরও সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রনালয় নির্দেশনা অনুসারে প্রতি স্কুলে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন ও কোচিং বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এরপরও প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এসব কোচিংবাজ শিক্ষকরা নিজেদের বাসায় ব্যাচ করে প্রাইভেটের আদলে কিংবা বাড়ী ভাড়া করে সকাল থেকে রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে কোচিং বানিজ্য।

    এ সকল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে না পড়লে শ্রেনী কক্ষে শারিরীক-মানসিক নির্যাতন সহ পরীক্ষার খাতায় ও ব্যবহারিক বিষয়ে নম্বর কমিয়ে দেয়ার।সরেজমিনে জানা যায়, কলাপাড়া পৌরশহরের নাচনাপাড়া এলাকায় মর্নিং সান কোচিং সেন্টার, উম্মুলকুরা কোচিং সেন্টার, এডুকেশন সেন্টার, এতিমখানা এলাকায় রোজ গার্ডেন কোচিং সেন্টার, সমাজকল্যান রোডে হলি চাইল্ড স্কুল কোচিং সেন্টার, ইসলামপুর রোডে প্রতিভা কোচিং সেন্টার, কুমারপট্রি এলাকায় কলাপাড়া কোচিং সেন্টার ছাড়াও রহমতপুর, নজরুল ইসলাম সড়ক, চিংগড়িয়া, আখড়াবাড়ি সড়ক, কর্মকার পট্টি, কুমার পট্টি, সবুজ বাগ, কলেজ রোড, অফিস মহল্লা সহ শহরের বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের একাধিক শিক্ষক হাইকোর্টের রায়ের পরও শিক্ষা কোচিং বানিজ্য চালিয়ে আসছেন। একই চিত্র মহিপুর থানা শহর ও কুয়াকাটা পৌরশহরে।

    এসকল কোচিং সেন্টারে কিংবা শিক্ষকদের বাসায় সকাল ৬টা থেকে ৭টা, ৭টা থেকে ৮টা, ৮ট থেকে ৯টা, বিকেল ৩টা থেকে ৫টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নীতিমালা ও হাইকোর্টের রায়ের তোয়াক্কা না করে স্বস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। এমনকি অতিরিক্ত ক্লাশের নামে দু’একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও চলছে কোচিং বানিজ্য।

    এতে দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়ছে। মেয়েরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে বাল্য বিয়ের শিকার হচ্ছে। এছাড়া শহরের আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা-দশটা পর্যন্ত চলমান এসকল কোচিং সেন্টারের উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা যথাযথ নজরদারীর অভাবে ক্রমশ: বিপথগামী হয়ে পড়ছে। অপরদিকে বানিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা শহরের কয়েকটি কিন্ডার গার্টেনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোচিং পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে। এসকল কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাশের কথা বললেও মাথাপিছু আদায় করে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

    এদিকে কিন্ডার গার্টেনের পাশা পাশি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জড়িয়ে পড়ছেন কোচিং বানিজ্যে। তারাও বাড়ী ভাড়া নিয়ে কিংবা নিজেদের বাসা-বাড়ীতে গড়ে তুলেছেন টিচিং হোম। যদিও কোচিং বানিজ্য বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ২০১২ এর নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১৩ এর (ক)এ কোচিংবাজ শিক্ষকদের এমপিও স্থগিত, বাতিল, বেতন ভাতাদি স্থগিত, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, বেতন এক ধাপ অবনমিতকরন, সাময়িক বরখাস্ত, চূড়ান্ত বরখাস্ত, অনুচ্ছেদ ১৩ এর (খ)এ এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বিহীন কোচিংবাজ শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত বেতন ভাতাদি স্থগিত, সাময়িক বরখাস্ত, চূড়ান্ত বরখাস্ত, অনুচ্ছেদ ১৩ এর (গ)এ এমপিও বিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোচিংবাজ শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত বেতন ভাতাদি স্থগিত, সাময়িক বরখাস্ত, চূড়ান্ত বরখাস্ত, অনুচ্ছেদ ১৩ এর (ঘ)এ কোচিং বানিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থা গ্রহন না করলে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়া সহ প্রতিষ্ঠানের পাঠ দানের অনুমতি, স্বীকৃতি, অধিভুক্তি বাতিল, অনুচ্ছেদ ১৩ এর (ঙ)এ সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক কোচিং বানিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ১৯৮৫ এর অধীন অসদাচরন হিসেবে গন্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হলেও এর প্রয়োগ না থাকায় কলাপাড়ায় এখনও বেপরোয়া গতিতে চলছে কোচিং বানিজ্য। এর আগে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কোচিং বানিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের নামের তালিকা মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়েছে।

    প্রেরিত ওই তালিকায় সরকারী খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গনিত, ইংরেজী ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক, বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজী, গনিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক, লালুয়া জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শরীর চর্চা শিক্ষক, নুর মোহম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক, চাকামইয়া বেতমোর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গনিত বিষয়ের শিক্ষক, শিশু পল্লী একাডেমীর গনিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক, লালুয়া নয়াপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক, নেছার উদ্দীন ফাজিল মাদ্রাসার কয়েক কোচিংবাজ প্রভাষক, কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রী কলেজের ইংরেজী ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক, সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস ডিগ্রী কলেজের ইংরেজী, গনিত, রসায়ন বিষয়ের শিক্ষকদের নাম রয়েছে।

    এছাড়া রহস্যজনক কারনে তালিকাভুক্ত করা হয়নি ধানখালী ডিগ্রী কলেজের তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষক, মহিলা ডিগ্রী কলেজের হিসাব বিজ্ঞান শিক্ষক, সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ছাড়াও বেশ কিছু মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইংরেজী, গনিত, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের কোচিংবাজ শিক্ষকদের নাম। যারা বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছেন কোচিং বানিজ্য।

    উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান জানান, ’শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুসারে কোচিং বানিজ্য বন্ধে শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয় গুলোর প্রধান শিক্ষকদেরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। যে সমস্ত শিক্ষক কোচিং বানিজ্যে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নামের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।’

    কলাপাড়া ইউএনও মো: মুনিবুর রহমান জানান, ’আমি ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রধান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করেছি এবং ওই সভায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী তাদের স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনতিবিলম্বে কোচিং থেকে নিবৃত্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

    এরপরও সরেজমিনে দেখলাম রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা স্কুল ব্যাগ কাধে নিয়ে ঘুরছে, যা নিতান্তই দু:খজনক।’ইউএনও আরও জানান, ’রবিবার রাতে এসিল্যান্ড কে সাথে নিয়ে অভিযানে গিয়ে দেখি এডুকেশন সেন্টার নামের একটি কোচিং সেন্টারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং করাচ্ছে। ইতোমধ্যে সেই সংক্রান্ত ডকুমেন্ট জব্দ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে বিধি ও আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবং এ কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে সমগ্র কলাপাড়ায় চলবে।’

  • পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে পাটের ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা?

    পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে পাটের ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা?

    স্কুল শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ দিতে চায় সরকার। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পাটের ব্যাগ দিতে সম্মত হয়েছে। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পাট বিষয়ক সমন্বয় কমিটির সভায় পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে পাটের ব্যাগ দেয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈকত চন্দ্র হালদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সমন্বয় কমিটির সভায় বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে পাটের ব্যাগ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বই প্রদানকারী শিক্ষা এবং প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।’

    বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে বিনামূল্যের বই পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। এত বিপুল সংখ্যক ব্যাগ দেয়ার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মত হওয়াটাও জরুরি। প্রয়োজনে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি স্থানে ব্যাগ দিয়ে দেখা যেতে পারে। ভালো সাড়া মিললে এরপর সারাদেশে চালু হোক।

    মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় ইডিএফ ফান্ডের ন্যায় পাটশিল্প উন্নয়নের জন্য ২ ভাগ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল তৈরি করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও পাটপণ্যে রফতানি ভর্তুকী বৃদ্ধি, বাংলাদেশ জুট গুডস অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত (বিজেজিইএ) রফতানিকারকদের রফতানি করা পণ্যের মূল্যের উপর ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা প্রদান, জুট ব্যাচিং অয়েলের দাম আগের মত নির্ধারণ করা বিষয়ে আলোচনা হয়।

    jute

    সভায় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে সোনালী আঁশের দেশ হিসেবে রূপান্তর করে পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। কৃষকের পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) মাধ্যমে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

    ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ সুষ্ঠুভাবে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়াও সব ধরনের কাঁচা পাটের রফতানি উন্মুক্ত রয়েছে। ১৯টি পণ্য মোড়কীকরণের ক্ষেত্রে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’

    গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের অভ্যন্তরে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে এবং ঢাকার বড় বড় সপিং মলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বহুমুখী পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনী (ডিসপ্লে) সেন্টার ও বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে।’

    সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, বিজেএমসি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ নাসিম, পাট অধিদফতরের মহা পরিচালক মো. শামসুল আলম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিকল্পনা কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং পাট বিষয়ক সমন্বয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখ্যান ববি শিক্ষক সমিতির

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখ্যান ববি শিক্ষক সমিতির

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত  বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রস্তাবিত অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখান করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

    সোমবার ২রা সেপ্টেম্বার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো সিরাজিস সাদিক ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া  স্বাক্ষরিত  এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।

    বিবৃতিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানতে পেরেছি যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অভিন্ন নীতিমালার খসড়াটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে যা একটি অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ ও বৈষম্যপূর্ণ  নীতিমালা।

    এ নীতিমালাটি অনুমোদন দেয়া হলে উচ্চ শিক্ষার পরিবেশ ও গবেষণা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের মাঝে অসুস্থ ও অসম প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করবে। তাই , এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য নীতিমালাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানাচ্ছে ববি শিক্ষক সমিতি এবং একই সাথে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসন অধ্যাদেশ-১৯৭৩’ এর আলোকে পূর্ণরূপে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট জোর দাবি জানান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ।”

  • উজিরপুরে ছাত্র হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে ছাত্রদের বিক্ষোভ, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির রহস্যজনক ভূমিকা

    উজিরপুরে ছাত্র হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে ছাত্রদের বিক্ষোভ, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির রহস্যজনক ভূমিকা

    উজিরপুর প্রতিনিধি:

    বরিশালের উজিরপুরে গুঠিয়া দোসতিনা আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র মাহফুজ হাওলাদার (১৪)  হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি গ্রেফতার শাস্তির দাবিতে হেফাজতে বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে।  মামলার দায়েরের ৬দিন অতিবাহিত হলেও আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির রহস্যজনক ভূমিকায়  এলাকাবাসীর অসন্তোষ।

    উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের  তেরদ্রন গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে মাহফুজকে গত ২৭ আগষ্ট রাতে মাদ্রাসা শিক্ষকের ল্যাপটপ চুরি করতে  প্রস্তাব দেয়  দোসতিনা এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে ভুলু(৩০)ও তার সহযোগীরা। এতে রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রকে মাদ্রাসা পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে নির্যাতন করে ও মৃত ভেবে কাঁদায় পুঁতে রাখে। পরে শিক্ষক সহপাঠিরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বানাড়িপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পরে স্থানীয়রা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।

    এঘটনার প্রতিবাদে হামলাকারীদের গ্রেফতার পূর্ব বিচারের দাবিতে গত ২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) হেফজ বিভাগের ছাত্ররা মাদ্রাসার অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে।

    উল্লেখ্য, এঘটনায় মাহফুজের পিতা সাইদুর রহমান বাদী হয়ে ২৮আগষ্ট ১জনের নাম উল্লেখ ৫/৬ জন অজ্ঞাত নামা আসামি করে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী সুত্রে জানাগেছে গত ২৭আগষ্ট মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক খালিদুর রহমানের  নির্দেশে এশার নামাজের আযান দেয়ার উদ্দেশ্যে  আবাসিক হল থেকে বের হয়ে মসজিদে য়ায়। আযান শেষে হলরুমে ফেরার পথে মাদ্রাসার পেছনের গেটের কাছে আসলে গেট টপকে লাফিয়ে পড়ে ভুলূ পথরোধ করে মাহফুজের।  সামনে দাঁড়িয়ে জানতে চায়  হুজুর (হেফজ বিভাগের শিক্ষক খালিদুর রহমান রুমে আছে কিনা। এবং তার (শিক্ষকের) ল্যাপটপটি গোপনে  আনতে বলে। এনে দিলে টাকা দিবে বলে ভুলু প্রস্তাব দেয় মাহফুজকে। তার কথায় রাজী না হয়ে  বিষয়টি হুজুর (শিক্ষক) কে বলে দেওয়ার কথা বললে ভুলু মাহফুজের গলা মুখ চেপে ধরে ও আগে থেকে অন্ধকারে ওত পেতে থাকা আরো ৫/৬ জন সহোযোগীদের সহায়তায়  মাহফুজকে হাত পা বেঁধে পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে ছাত্র মাহফুজ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তারা তাকে মৃত ভেবে কাদা মাটিতে পুতে রেখে চলে যায়। তবে মুখ চোখ চেপে ধরায় বাকি ৫/৬জনের  চেহারা দেখিনি বলে জানায় মাহফুজ।

    এব্যাপারে মাহফুজের শিক্ষক খালিদুর রহমান জানান, ওই দিন এশার নামাজের আযান দেয়ার জন্য ছাত্র মাহফুজ ও আশিককে নির্দেশ দেই আযান শেষে  আশিক একা ফিরে আসলে তার কাছে মাহফুজ কোথায় জানতে চাইলে বলে ওযু করার জন্য ঘাটলায় আছে। কিন্তু নামাজ শেষে মাহফুজ না ফিরলে ডাকাডাকি করে না পেয়ে খুঁজতে যাই। পরে মাদ্রাসার পেছনের গেটে জুতা টুপি পরে থাকতে দেখে গেট খুলে বাইরে বেরিয়ে ডাক দিলে গোঙানির আওয়াজ পেয়ে বাগানে কাদায় পোতা অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। আমাদের ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

    এঘটনার একদিন পরে ছাত্রের বাবা সাইদুর রহমান বাদী হয়ে উজিরপুর থানায়  মামলা দায়ের করে কিন্তু মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে কোন আইনি পদক্ষেপ না নেয়ায় এলাকায়  বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি মাদ্রাসা সামনে জড়ো হয়ে ক্ষোভে প্রকাশ করে এলাকাবাসী।

      একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন  ইতিমধ্যে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও  কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।  মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির যোগসাজশে মাদ্রাসার জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে জটিলতার সৃষ্টি হলে প্রকাশ পায় যে মাদ্রাসার রেজূলেশন রেজিষ্টার বই চুরির ঘটনা।

    এছাড়া বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কথা তুলে ধরে এলাকাবাসী এবং ওই সকল  অনিয়মের জন্য বর্তমান পরিচালনা কমিটি ও মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে দ্বায়ী করেন এলাকাবাসী। অবিলম্বে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি বাতিল করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

    স্থানীয় মকবুল হোসেন,নজির আহমেদ, নান্নু , বাচ্চু খান ,সবুজ খান সহ অনেকে জানান ছাত্র নির্যাতন করে হত্যা চেষ্টার বিষয়ে  মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরে দায়সারা ভাবে কাজ করছে । আমরা এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে গেলে  মাদ্রাসার  অধ্যক্ষ বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে তাতে বাধা দেয়। রাজনৈতিক নেতাদের দোহাই দিয়ে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেয়।

    এবিষয়ে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা সিদ্দিকুল্লা একাধিক চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানান, মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসার কতৃপক্ষ কোন মামলা করার প্রয়োজনীয়তা নেই বলেন ,ছাত্রের বাবা মামলা করেছে  তাতেই হবে,সব কিছু তিনি নজরদারি করেছেন এবং এমপি(সংসদ সদস্য) এর কাছে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানান।

    এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ সগীর মিয়া বলেন, বাদী ৩২৩,৩০৭,১৪৩ ধারায় মামলা দায়ের করেছে আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • কলাপাড়ায় ছাত্রীদের যৌন হয়রাণী, শিক্ষক বরখাস্ত

    কলাপাড়ায় ছাত্রীদের যৌন হয়রাণী, শিক্ষক বরখাস্ত

    কলাপাড়া প্রতিনিধি :

    একাধিক ছাত্রীদের যৌন হয়রাণীর ঘটনা প্রমানিত হওয়ায় কলাপাড়ার উমেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    গত ১ সেপ্টেম্বর বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) এস এম ফারুক সাক্ষরিত এ বরখাস্তের আদেশ কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। যার স্মারক নম্বর ১১২৬/৬।

    উমেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রাণীর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসী গত ২৪ আগষ্ট বিদ্যালয় ঘেরাও করে শিক্ষক রেজাউল করিমের শাস্তি দাবি করে।

    এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল বাসার পরদিন বিদ্যালয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পান।

    এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন গত ২৮ আগষ্ট পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করেন। যার প্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা ,২০১৮ এর ১২ ধারা মোতাবেক মো. রেজাউল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল বাসার এ বরখাস্তের আদেশ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনে লড়বে ৩৯ জন

    ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনে লড়বে ৩৯ জন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর পাঁচটি ইউনিটে মোট ৭ হাজার ১১৮টি আসনের বিপরীতে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯১ জন শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করেছেন। এ হিসাবে পাঁচ ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বদ্বিতা করবেন। অনলাইনের মাধ্যমে প্রার্থীদের ভর্তির আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া গত ৫ আগস্ট শুরু হয়ে ২৭ অগাস্ট শেষ হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ১ হাজার ৭৯৫টি আসনের বিপরীতে ৮৮ হাজার ৯৭০ জন, কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের ২ হাজার ৩৭৮ আসনের বিপরীতে ৪৫ হাজার ৩ জন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটে ১ হাজার ২৫০ আসনের বিপরীতে ২৮ হাজার ৯৫৮ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটে ১ হাজার ৫৬০ আসনের বিপরীতে ৯৭ হাজার ৪৬৪ জন এবং চারুকলা অনুষদের আওতাধীন ‘চ’ ইউনিটে ১৩৫ আসনের বিপরীতে লড়বেন ১৫ হাজার ৯৯৬ জন ভতিচ্ছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
    এ বছরের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর গ ইউনিট দিয়ে শুরু হবে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ক-ইউনিট, ২১ সেপ্টেম্বর খ-ইউনিট এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ঘ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও চ-ইউনিটের সাধারণ জ্ঞান অংশের পরীক্ষা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর এবং অংকন অংশের পরীক্ষা ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

    উল্লেখ্য, এবারই প্রথম ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষাও দিতে হবে। মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে এমসিকিউয়ের জন্য থাকবে ৭৫ নম্বর ও লিখিত পরীক্ষার জন্য থাকবে ৪৫ নম্বর। ৯০ মিনিটের পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ মিনিট ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪০ মিনিট। তবে চ-ইউনিটে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য এক ঘণ্টা এবং ৭০ নম্বরের অংকন পরীক্ষায় ৯০ মিনিট বরাদ্দ করা হয়েছে।

    ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীকে নৈর্ব্যক্তিক অংশে ৩০ এবং লিখিত অংশে ১২ নম্বরসহ মোট ৪৮ নম্বর পেতে হবে। বিষয়ভিত্তিকভাবেও পরীক্ষার্থীদের পাস করতে হবে।