Category: শিক্ষাঙ্গন

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর গোপন ভিডিও ফাঁস, ছাত্রীসহ গ্রেপ্তার ২

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর গোপন ভিডিও ফাঁস, ছাত্রীসহ গ্রেপ্তার ২

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই শিক্ষার্থীর একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাঁস হয়ে গেছে। প্রেমিকের সাথে ছাত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওটি চুরি করে তাদের দুই সহপাঠী ফেসবুকে প্রকাশ করেছে। ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে পুলিশ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞানের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সেলিম রেজা এবং সাবিকুন নাহার অমিকে গ্রেপ্তার করেছে।

    তাদের রোববার রাতে ববির হোস্টেল থেকে ধরে নিয়ে যায় বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) থানা পুলিশ।

    পুলিশ জানায়- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞানের চতুর্থ বর্ষের দুই শিক্ষার্থী প্রেম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁরা শারীরিক সম্পর্কেও জড়ান। সেই বিশেষ মুহূর্তের একটি চিত্র নিজেরাই মুঠোফোনে ধারণ শেষে তা ল্যাপটপে রেখে দেন। ওই ভিডিওটি সহপাঠী সাবিকুন নাহার অমি চুরি করে নিয়ে অপর শিক্ষার্থী সেলিম রেজাকে দেন। সাম্প্রতিকালে সেলিম রেজা ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে শুরু হয় তোলপাড়।

    বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) মো. ফয়সাল আহম্মেদ জানান, এই ঘটনায় রোববার বিকেলে প্রেমিক শিক্ষার্থী একটি লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই শিক্ষার্থীকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা অপরাধ স্বীকার করেন। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে পর্নগ্রাফি আইনে একটি মামলা পরবর্তীতে তাদেরকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • গোপন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ায় ববির ২ শিক্ষার্থী পুলিশ হেফাজতে!

    গোপন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ায় ববির ২ শিক্ষার্থী পুলিশ হেফাজতে!

    ব্যক্তিগত গোপনীয় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    রবিবার বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। তারা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

    ববি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সবুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এক মেয়ের ব্যক্তিগত গোপনীয় ভিডিও ভাইরাল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ২ জন শিক্ষার্থীকে বেশ কয়েকজন মিলে মারধর করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তার জন্য আমরা তাদের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। তবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।

    তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরকে ঘটনাটি জানিয়েছি। তারা ভিকটিম ও পুলিশি হেফাজতে থাকা ২ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন। ভিকটিম যদি অভিযোগ করে মামলা দায়ের করেন তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

    সন্ধ্যায় ভিকটিম সহ অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন‍্য বন্দর থানায় নেওয়া হয়। সেখানে ভিকটিম শিক্ষার্থী গোপন ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে বন্দর থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে বন্দর থানা সূত্রে জানা যায়।

  • সন্তানের পরীক্ষা ভীতি কাটানোর উপায়

    সন্তানের পরীক্ষা ভীতি কাটানোর উপায়

    বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় চলছে। দুই মাস পরেই শুরু হবে স্কুল পরীক্ষা। এই পরীক্ষা নিয়ে ভীতিতে থাকে অনেক শিশু। তবে এই ভীতি শুধু ছোটদের বেলায় নয়, একটু উঁচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরাও পরীক্ষা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগে ভোগে।

    তবে তাদের ভয়ের কারণ ও মাত্রা ছোটদের মতো নয়। আর এই ভয়ের জেরে ফলাফলও খারাপ হয়। যেটুকু সময় বাকি আছে, ভয়ের চোটে তাকেও ব্যবহার করা হয়ে ওঠে না। সিলেবাস শেষ হয়নি বা তেমন করে মন দেওয়া হয়নি সারাবছর, এমন সমস্যাও নতুন নয়।

    কোন ভাবে যদি আপনার সন্তানও এমন সমস্যায় পড়ে, তাহলে সেই ভয় কী ভাবে দূর করবেন? হাতে যেটুকু সময় আছে, মন দিয়ে ও বুদ্ধি খাটিয়ে সেটুকু সময়কে কাজে লাগাতে পারলে কিন্তু অনেকটাই সামলানো যায়৷ তাহলে তা কী ভাবে করবেন? এবার তা জেনে নিন-

    * ঠাণ্ডা মাথায় বসে কয়েকটি জিনিস পর পর ভাবুন৷ অনেকেই নানা কারণে পরীক্ষার কয়েক মাস আগে পড়া শুরু করে এবং মোটের উপর ভালও করে৷ কাজেই অকারণে উদ্বিগ্ন হবেন না। সন্তানের ভয়ের জায়গাটাও দূর করতে হবে। এ সময় পাশে থাকতে হবে, যাতে মনে জোর পায় সন্তান। বাকি সময়টা ভালভাবে ব্যবহার করতে শেখান।

    * ভাল করে রুটিন বানিয়ে দিন৷ কতক্ষণ পড়বে, গোসল–খাওয়া–ঘুমে কত সময় লাগবে, সব হিসেব করে নিন৷ তবে ঘুমের সময়টা ঠিক রাখবেন। কারণ ঠিক মতো না ঘুমলে পড়ায় মন বসবে না৷ পড়া মনে রাখতেও অসুবিধা হবে৷ আধ ঘণ্টা রাখুন আড্ডা, বেড়ানো ইত্যাদির জন্য৷ পড়া মনে রাখতে গেলে এটুকুর দরকার আছে৷

    * কী ভাবে পড়বে তার প্ল্যান করে দিন৷ যেসব বিষয়ে সে দুর্বল সেগুলো বেশি করে পড়তে দিন৷ দরকারে কয়েক বছরের প্রশ্ন গেঁটে একটা সাজেশন করে দিন। সাজেশন ভিত্তিক পড়াশোনার অভ্যাস ভাল নয়, তবু দুরবস্থা কাটাতে কিছুটা হলেও কাজে আসবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বার বার পড়তে বলুন৷ ওই সময় পড়ার বিষয়টি ছোট ছোট পয়েন্টে লিখে বা গল্পের ছলে আলোচনা করুন ওর সঙ্গে ৷ যে অধ্যায় পড়া হল সেটা পর দিন আবার পড়া এবং সেই সংক্রান্ত প্রশ্ন সমাধান করাও জরুরি৷

    * টেনশন–স্থিরতার অভাবে প্রথম দিকে মন বসাতে অসুবিধা হবে৷ কাজেই উত্তেজনা না বাড়িয়ে স্থির থাকুন। সন্তানকে সাহস দিন এবং কিছু পারলে ধন্যবাদও দিন।

    * টেনশন কমাতে খাওয়া-দাওয়ার দু’-চারটে নিয়ম মেনে চলুন৷ যেমন, উঁচু ক্লাসে পড়লেও কফি বেশি খাবেন না৷ কোল্ড ড্রিঙ্কও না খাওয়াই ভাল৷ চা খেতে পারেন। হালকা খাবার আর দিনে অন্তত ৭–৮ গ্লাস পানি খান৷ সুরের প্রভাবেও মন শান্ত হয় আমাদের৷ কাজেই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে গান শোনা যায়।

    * হঠাৎ টেনশন মূলত একটু উঁচু ক্লাসে হয়। উদ্বেগ বাড়লে মন অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করুন৷ অনেক সময় পড়তে বসে দেখা যায়, কিছুই মাথায় ঢুকছে না৷ মনে হয় নির্ঘাত ফেল করবেন৷ তৎক্ষণাৎ পড়া ছেড়ে উঠে সিনেমা দেখে আসুন বা যা করলে ভাল লাগবে তাই করুন৷ অশান্তি কেটে যাওয়ার পর আবার বই নিয়ে বসবেন৷

    মৌখিক পরীক্ষার ভয় কাটাতে কয়েকটি পদ্ধতি মেনে দেখুন, কাজ হতে পারে৷ যেমন—

    * প্রশ্ন এবং উত্তর কথ্য ভাষায় লিখে আয়নার সামনে বলুন৷

    * কাউকে বলুন প্রশ্ন করতে আর আপনি উত্তর দিন খাতা না দেখে৷

    * পরের ধাপে বাড়ির কয়েকজনকে প্রশ্নোত্তর পর্বে থাকতে বলুন।

    * বিষয়ের বাইরেও কিছু প্রশ্ন করতে বলুন৷ ভেবে-চিন্তে উত্তর দেওয়া ও অজানা প্রশ্ন মোকাবিলা করা সহজ হবে৷

    * কোন বিষয়ে দু’-তিন মিনিট বলা অভ্যাস করুন৷ প্রথমে লিখে আয়নার সামনে, তারপর না দেখে কয়েক জনের সামনে৷ কোন কোর্সে ভর্তি হতে পারেন৷

    এগুলো মানলে ভয়ভীতি কাটবে পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হবে। পরের বছরের জন্য এই নিয়মগুলো প্রথম থেকেই ফলো করুন।

  • যে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগন সরকারের উদ্যোগ

    যে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগন সরকারের উদ্যোগ

    পলিটেকনিক প্রতিনিধি//রাতুল হোসেন রায়হান:

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) বিএসসিতে ভর্তির ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যদের চিঠি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

    চিঠিতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে সরকারি/প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছেন তিনি।

    বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়/প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলে অধিকসংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবে।

    শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াস, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুর রহমান সংবাদমাধ্যমে বলেন, এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা বলছি, তা হলে তাদের (ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী) কেন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় বাধা থাকবে।

    তিনি বলেন, সরকারের ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে উল্লেখ আছে, কারিগরি ডিপ্লোমা পর্যায়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে যোগ্যতা যাচাই করে ক্রেডিট সমন্বয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্নাতক পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা কোর্সে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু মাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সুযোগ আছে। এটি নিয়েও একটা টেকনিক্যাল ত্রুটি আছে। সেটি হচ্ছে, ডিপ্লোমাধারীরা ৪ বছরের কোর্স সম্পন্ন করেছে। এর পর আবার বিএসসি করতেও যদি ৪ বছর লাগে তা হলে তার দুই ডিগ্রি শেষ করতে ৮ বছর ব্যয় হচ্ছে। এ জন্য তাদের ক্রেডিট ছাড় দেওয়া দরকার।

    ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ডুয়েট), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইউনিভার্সিটি, বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে খুব সীমিতসংখ্যক ডিপ্লোমাধারী বিএসসি সম্পন্ন করার সুযোগ পায়। অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সুযোগ নেই। এর বাইরে কিছু প্রাইভেট ভার্সিটি রয়েছে, যেখানে ৩ বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি। এর সংখ্যাও খুব কম। আবার অনেক প্রাইভেট ভার্সিটি রয়েছে যেখানে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রেডিট কম। ভার্সিটিগুলোয় এ ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী নেবে, কিন্তু তা ৪ বছর মেয়াদি এবং এইচএসসি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই ব্যাচে। আবার আইইবি অন্তর্ভুক্ত ভার্সিটিগুলোয় ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে; কিন্তু তারা এ ক্ষেত্রে কোনো ক্রেডিট ছাড় পাবে না এবং কোর্স সময়সীমা ৪ বছর।

    কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংকে অবশ্যই ডিগ্রি/অনার্সের (ইঞ্জিনিয়ারিং) মান দেওয়ার দাবি তাদের। তারা বলেন, এইচএসসি শিক্ষার্থী মাত্র ১০ থেকে ১৫টি বই পড়ে ২ বছরে। আর একজন পলিটেকনিক শিক্ষার্থী ৪ বছর ৬০ থেকে ৬৫টি বই পড়ে। এসএসসি পাস করার পর একজন শিক্ষার্থীর অনার্স পাস করতে সময় লাগে, এইচএসসি ২ বছর আর অনার্স ৪ বছর মিলে ৬ বছর। অনার্স পাস করার পর একজন শিক্ষার্থী ১ বছর মেয়াদি এমএ, এমকম, এমএসসি (মাস্টার্স) কোর্সে ভর্তি হতে পারে। একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের ডিগ্রির মান কি এখনো নিরূপণ করা হয়নি বলেই উচ্চশিক্ষায় তাদের নানাবিধ সমস্যার উদ্ভব হয়।

    সমগ্র বিশ্বেই ডিপ্লোমা শেষ করে পাবলিক/প্রাইভেট যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা করে ভর্তি হওয়া যায় যা বাংলাদেশে সমন্বয়ের অভাবে হচ্ছে না। এর ফলে প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারীরা যার আশু সমাধান দরকার।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাল থেকে ভর্তির আবেদন গ্রহণ

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাল থেকে ভর্তির আবেদন গ্রহণ

    খুলনা প্রতিনিধি//জান্নাতুল ফেরদৌস:

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন কাল রোববার থেকে অনলাইনে নেওয়া শুরু হবে। এটি চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি স্কুলের অন্তর্ভুক্ত ২৯টি ডিসিপ্লিনের ২০১৮ অথবা ২০১৯ সালে এইচ এসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবে। আগামী ২ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    আজ শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সূত্র জানায়, ২ নভেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘এ’ ইউনিটের অধীন বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল এবং জীববিজ্ঞান স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা দেড়টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ‘বি’ ইউনিটের অধীন কলা ও মানবিক স্কুল, সামাজিক বিজ্ঞান স্কুল, আইন স্কুল এবং শিক্ষা স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ‘সি’ ইউনিটের অধীন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ‘ডি’ ইউনিটের অধীনে চারুকলা স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ভর্তিসংক্রান্ত যে কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট স্কুলের ডিন অফিস থেকে জানা যাবে।

    ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় ০১৫৩৪২৯৬৪৩০, ০১৭৪০৬৭৩২৪৫, ০১৫৫৬৩২৭৪০৬, ০১৫১৫২৩৭৮৪৩, ০১৬৭৭১২৪৭৭৩ অথবা ০১৫১৫২৩৭৬৮৮ নম্বর মোবাইল ফোনে অফিস চলাকালে (সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত) যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এস এম আতিয়ার রহমান জানান, পরীক্ষার সময় মোবাইলসহ অন্যান্য ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না। আনলে তাকে বহিষ্কার করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভর্তিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.Ku.ac.bd) এ পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

  • এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    আগামী বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা ১ এপ্রিল শুরু হতে যাচ্ছে। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৪ মে পর্যন্ত চলবে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি পরীক্ষা। আর ৫ থেকে ১৩ মের মধ্যে এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

    বুধবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করা হয়।

    পরীক্ষা শুরুর আধ ঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীদের হলে উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

  • স্নাতক ছাড়া প্রাথমিকের সভাপতি নয়

    স্নাতক ছাড়া প্রাথমিকের সভাপতি নয়

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি হতে যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক পাস নির্ধারণ করা হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রস্তাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    জানা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে কমিটির সভাপতি হিসেবে নিরক্ষর ব্যক্তিকে নির্বাচন করায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও শিক্ষার মান বাড়াতে তারা কোনো ধরনের সহায়তা ও দিক-নির্দেশনা দিতে পারেন না, বরং বিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ বিভিন্ন অর্থ হাতিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকেন। অনেক সময় শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকেন। সভাপতিরা স্থানীয় ব্যক্তি ও ক্ষমতাবান হওয়ায় নানা ধরনর অনিয়ম করলেও শিক্ষকরা ভয়ে তাদের বাধা দেন না। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে আসায় যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি নির্বাচন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মঞ্জুর কাদির বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিরা বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য তাদের অনেক সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ বাস্তবায়ন করা হয়। যদি সভাপতি অযোগ্য হয় তবে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাকে সভাপতি হতে হলে স্নাতক বা ডিগ্রি পাস হতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি কার্যকর করতে মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবনা তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবনা তৈরি ও তার যৌক্তিকতা তুলে ধরে দ্রুত এ প্রস্তাব পাঠানো হবে। এটি কার্যকর করতে মন্ত্রণালয়ে সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

    মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১১ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক সদস্যসচিব, একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, নিকটবর্তী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, জমিদাতার একজন প্রতিনিধি, কাউন্সিলর বা ইউপি সদস্য, শিক্ষানুরাগী দুইজন, অভিভাবক প্রতিনিধি চারজনসহ মোট ১১ জন সদস্য নির্বাচন করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে সভাপতি ও একজনকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

  • বরিশালে বিতর্কে চ্যাম্পিয়ান শহীদ আরজু মনি বিদ্যালয়

    বরিশালে বিতর্কে চ্যাম্পিয়ান শহীদ আরজু মনি বিদ্যালয়

    বরিশাল ডিবেটিং সোসাইটির আয়ােজনে ৮ম বিডিএস বিতর্ক প্রতিযোগিতা -২০১৯ নগরীর উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ ও ২৪ ই আগস্ট এই দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় এই বিতর্ক প্রতিযোগীতা। এতে অংশগ্রহণ করে বরিশালের ১৬ টি বিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক বিতার্কিক।

    সংসদীয় বিতর্কে ফাইনালে উঠে উদয়ন মাধয়মিক বিদ্যালয় ও শহীদ আরজু মনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ফাইনালে প্রস্তাব ছিল, এই সংসদ মনে করেঃ দিনে দিনে বাংলাদেশ উন্নতির পথেই হাটছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয় শহীদ আরজু মনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয় উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় বিরোধী দলীয় নেতা মোঃ তাওসিফ হোসেন।বারোয়ারী বিতর্কে মোট ৩৬ জন অংশগ্রহণ করে তাদের মধ্য প্রথম পাঁচ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

    সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন চীফ ইনেস্টক্টর নজরুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক এম এম আইয়্যুব হোসেন। সভাপতিত্ব করেন উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক ব্রাদার প্রভাত ক্লাসিক পিউরিফিকেশন, সিএসসি। অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবু জাফর মোঃ সালেহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বরিশাল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মোঃ শামীম মাহমুদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিডিএসের সাধারন সম্পাদক অব্দুল্লাহ আল মাসুমসহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।

    অপরদিকে গত শুক্রবার বেলা ১১টায় নগরীরর উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দুইদিনের ওই বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।

    উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রাদার স্যামুয়েল সবুজ বালা সিএসসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান বরিশাল ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা আক্তারুজ্জামান খান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি রেজিস্ট্রার বাহাউদ্দিন গোলাপ, কাশিপুর স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মামুন-অর-রশীদ, বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক জেসমিন নাহার, দুইদিনের বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমন্বয়ক মো. আবু জাফর, বরিশাল ডিবেটিং সোসাইটির চীফ মডারেটর ফিরোজ মোস্তফাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক প্রতিনিধিগন ।

  • আবারো প্রশ্নবিদ্ধ পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন

    আবারো প্রশ্নবিদ্ধ পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন

    এবার এইচএসসি পরীক্ষায় খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদনের পর ফলাফলে ব্যাপক পরিবর্তনে আবারো প্রশ্নের মুখে পড়েছে পাবলিক পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়ন ব্যবস্থা। পরীক্ষকরা যেমন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন, তেমনি প্রশ্নের মুখে পড়েছেন খাতা নিরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকরাও। একজন পরীক্ষক খাতা পরীক্ষার পর তা নিরীক্ষা করেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আরেকজন শিক্ষক। এরপর তা জমা দেয়া হয় প্রধান পরীক্ষকের কাছে। তারও এটি নিরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। এভাবে কয়েক স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফল তৈরি করা হয়। কিন্তু এসবই যে নামকাওয়াস্তে দায়সারাভাবে চলছে তা প্রকটভাবে ফুঠে উঠেছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ব্যাপক ফল পরিবর্তনে।

    এ বিষয়ে পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকদের সথে আলাপ করলে অনেক অপ্রীতিকর তথ্য জানিয়েছেন তারা। একজন প্রধান পরীক্ষক জানান, তার কাছে খাতা জমা দেয়ার পর তিনি ব্যাপকভাবে খাতা পরীক্ষা করেন। অনেক খাতা পুনরায় মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের কাছে পাঠান তিনি। এতে তার ওপর ক্ষুব্ধ অনেক পরীক্ষকরা। পুনরায় খাতা মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের কাছে পাঠালেও তারা তখনো সঠিকভাবে খাতা দেখেন না। অনেকে পুনরায় খাতা মূল্যায়নের জন্য নিতেই চান না।

    আবার অনেক পরীক্ষক জানিয়েছেন, খাতা মূল্যায়নের জন্য সময় এবং পারিশ্রমিক দুইÑ খুব সীমিত। যেখানে খাতা মূল্যায়নের পারিশ্রমিক বাড়ানো দরকার ছিল সেখানে বর্তমানে শতকরা ১০ ভাগ হারে পারিশ্রমিক কেটে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে গত বছর থেকে। এতে করে পরীক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ এবং হতাশা বিরাজ করছে। এ ছাড়া খাতা দেখার জন্য বরাদ্দকৃত সময়ও যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন অনেক পরীক্ষক। অনেক বিষয়ে রয়েছে তীব্র পরীক্ষক সঙ্কট। খুবই স্বল্প সময়ে অনেক বেশি খাতা দেখতে হয় তাদের। এতে করেও অনেকে খাতা দেখার প্রতি সুবিচার করতে পারেন না। এ ছাড়া এসএসসির ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে যাদের প্রধান পরীক্ষক করা হয় তাদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক নন। প্রধান পরীক্ষক হয়তো গণিতের শিক্ষক কিন্তু তার অধীনে যারা পরীক্ষক থাকেন তারা দেখা যায় ইংরেজির পরীক্ষক। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ করে পরীক্ষকেরা জানিয়েছেন, গণিতের শিক্ষক হয়ে তিনি কিভাবে ইংরেজির খাতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন? খাতা দেখা আর নিরীক্ষার ক্ষেত্রে বিরাজমান এ ধরনের অনেক ভুলের শিকার হচ্ছেন দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষক ও খাতা নিরীক্ষার সাথে জড়িতদের অবহেলা, অমনোযোগ, প্রধান পরীক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুল নিয়ম আর বিদ্যমান ব্যবস্থার নানা অনিয়মের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর জীবন তছনছ হয়ে যাচ্ছে।

    বর্তমানে খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদনে পুরো খাতা মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। শুধু নম্বর যোগে ভুল আছে কি না, খাতা থেকে নম্বর ঠিকমতো তোলা হয়েছে কি না, খাতায় সব উত্তরের পাশে নম্বর দেয়া আছে কি না এবং ওএমআর শিটে ঠিকমতো বৃত্ত ভরাট হয়েছে কি না এসব বিষয় দেখা হয়। আর এতে করেই প্রায় প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হচ্ছে। এটা পরীক্ষক ও খাতা নিরীক্ষার সাথে যারা জড়িত সম্পূর্ণরূপে তাদের অবহেলা আর অমনোযোগিতার ফল। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে, যদি পুরো খাতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকত তাহলে ফলাফলে আরো ব্যাপক পরিবর্তন আসত। কিন্তু বর্তমান আইনে পুরো খাতা পুনরায় মূল্যায়নের সুযোগ নেই। অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মতে এটি থাকা উচিত। অনেকের আশঙ্কা, এতে করে নৈরাজ্য দেখা দিতে পারে ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে। লাখ লাখ শিক্ষার্থী আবেদন করবে প্রতি বছর।

    কিন্তু এ বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী জানান, খাতা মূল্যায়নের পর যদি বড় ধরনের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ধরা পড়ে তাহলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষক ও এর সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার। তাহলে প্রতিটি পর্যায়ে তারা সতর্ক থাকতে বাধ্য হবেন। ভুলের পরিমাণ কমে আসবে। আর ভুলের পরিমাণ কমে এলে খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদনও কমে আসবে পর্যায়ক্রমে।

    এর আগে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় খাতা পুনঃমূল্যায়নের পর ব্যাপকভাবে ফল পরিবর্তন হয়েছিল। ২০১৫ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০ শিক্ষা বোর্ডে ফল পরিবর্তন হয় ২ হাজার ৯১ শিক্ষার্থীর। এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৪১ জন। ২০১৬ সালে ১০ বোর্ডে ফল পরিবর্তন হয় ৪ হাজার ১৫২ জনের। এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৮১১ জন।
    অপর দিকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় খাতা পুনঃমূল্যায়ন আবেদনের পর ৪ হাজার ৩১২ জন পরীক্ষার্থীর নম্বর গণনার ক্ষেত্রে ভুল ধরা পড়ে এবং তাদের ফল পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে ৬৪৭ জন নতুন করে জিপিএ ৫ পায়। আর ৬১৯ জন শিক্ষার্থী ফেল করা থেকে পাস করে।
    প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, সর্বশেষ এইচএসসি পরীক্ষায় ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদনের পর ১০টি শিক্ষা বোর্ডে ২৬৬ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ ৫ পায়। ফল পরিবর্তন হয়েছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর।

    বর্তমানে মাত্র দুই মাসের মাথায় এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এটি খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অবিচারের বড় একটি কারণ বলে জানিয়ছেন পরীক্ষকরা। খাতা গ্রহণের মাত্র ৯ দিনের মাথায় তাদের প্রথম কিস্তির খাতা জমা দিতে হয়। ২০০ থেকে ৫০০ খাতা দেখার জন্য মাত্র ১৫ থেকে ১৮ দিন সময় পান বলে জানান এইসএসএসির একজন প্রধান পরীক্ষক। খাতা মূল্যায়নের পর আরো অনেক কাজ করতে হয়। সময়ের অভাবে এসব কাজ অনেক সময় বাইরের লোক দিয়েও পরীক্ষকরা করান বলে জানিয়েছেন অনেকে। এ কারণে অনেক ভুলভ্রান্তি হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার করা হয়। তা ছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণীতে আরেকটি পাবলিক পরীক্ষা যোগ হওয়ায় শিক্ষকদের ব্যস্ততা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

    ঢাকা বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এইচএসসির একজন প্রধান পরীক্ষক বলেন, গত বছর থেকে তাদের খাতা দেখার বিল থেকে সরকার শতকরা ১০ টাকা করে কেটে রাখছে। এইচএসসি থেকে ডিগ্রি, অনার্স সব পর্যায়ে এ নিয়ম করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে এইচএসসিতে খাতা প্রতি ৩৫ টাকা, এসএসসিতে ২৫ টাকা ও জেএসসিতে ১৬ থেকে ২০ টাকা দেয়া হয় ১০০ নম্বরের একটি খাতা দেখার ক্ষেত্রে। শিক্ষকরা জানান, এটি খুবই অপ্রতুল বিশেষ করে জেএসসির ক্ষেত্রে।

    শিক্ষকরা জানান, তাড়াহুড়া করে ফল প্রকাশ প্রথা বাতিল করা দরকার। ফল প্রকাশের সময় আগের মতো অন্তত তিন মাস করা দরকার। পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের জন্য আরো সময় দেয়া দরকার।

    ঢাকা বোর্ডের এসএসসির একজন পরীক্ষক বলেন, তারা জানা মতে খাতা দেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে প্রধান পরীক্ষক অন্য বিষয়ের হলে। তিনি বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক হলেই তাকে প্রধান পরীক্ষক করা হয়। কিন্তু দেখা যায় প্রধান পরীক্ষক হয়তো বাংলা বা ইংরেজির শিক্ষক। আবার তার অধীনে পরীক্ষকরা থাকেন গণিতের। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার পক্ষে কিভাবে অন্য বিষয়ের খাতা নিরীক্ষা করা সম্ভব? তিনি বলেন, প্রধান পরীক্ষকের শতকরা ১২ ভাগ খাতা নিজের দেখার কথা।
    গত কয়েক বছর শিক্ষার মানের ধস আর শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। কয়েক বছর আগে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ব্যাপকভিত্তিক পাসের পেছনে প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষার হলে নৈরাজ্যসহ নানা বিষয় ছাড়াও একটি ছিল খাতা মূল্যায়নে নৈরাজ্য। খাতায় যাই লেখা থাক না কেন ওপর মহল থেকে হাত খুলে নম্বর দেয়ার নির্দেশের কথা তখন জানান অনেক পরীক্ষক।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার মানের সাথে জড়িত সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন। প্রকৃত মেধাবীদের বের করে আনা ও তাদের প্রতি সুবিচার করতে হলে সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে কারণে খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সব ধরনের অব্যবস্থাপনা, সমস্যা দূর করার দাবি জানিয়েছেন অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

  • প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড করার প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

    প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড করার প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

    বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ড হলে তার অধীনে এই পরীক্ষা নেয়া হবে। এ প্রস্তাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলবে। যেহেতু প্রতি বছর বিপুল শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, তাই শুধু অধিদপ্তরের পক্ষে এই পরীক্ষা নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে অধিদপ্তরের অন্যান্য কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    এ ছাড়া প্রাথমিকের চেয়ে অনেক কমসংখ্যক পরীক্ষার্থী নিয়েও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে বেশ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা বিবেচনা করেই ‘প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড ’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটকে’ বিলুপ্ত করে এর জনবল ‘প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডে’ একীভূত করা হবে। এরই মধ্যে দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড করার জন্য আইন করতে হবে। সেটির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

    অভিভাবকেরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার নামে শিশুদের ওপর ‘বোঝা চাপিয়ে’ দেয়া হয়েছে। কোচিং-প্রাইভেট টিউশন ও সহায়ক বইয়ের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে।

    বর্তমানে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে প্রায় ৬৬ হাজার। প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ২০০৯ সালে অনকেটা আকস্মিকভাবেই সারা দেশে পঞ্চম শ্রেণি শেষে কেন্দ্রীয়ভাবেই সমাপনী পরীক্ষা চালু হয়। কিন্তু শুরু থেকেই এই পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এমনকি ২০১০ সালে করা জাতীয় শিক্ষানীতিতেও কেন্দ্রীয়ভাবে এই পরীক্ষা নেয়ার সমর্থন করেনি।